৫১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১৯, ২০১৫ । ১০.৫৯ পি.এম

এই নোট লিখতাসি একটা বিয়া বাড়িতে বইসা বইসা। বিয়া বাড়ি একটা অদ্ভুত জায়গা। কত রকম মানুষ, কত রকম অনুভুতি, কত কত গল্প। রাইটার্স ব্লক এর সময় লেখকদের বাইরে কোথাউ ঘুরতে না গিয়া একটা বিয়া বাড়িতে ঢুইকা যাওয়া উচিত।

আমি আসছি একটু আগে। অফিস থিকা আইসা পরসি। খালাত ভাই এর বিয়া। হল ভরতি কোটি কোটি মানুষ। আমি ঢুইকা এক্টু হচকচায়া গেলাম। সব চক চকা জামা পড়া ঝক ঝকা লোকজন। আর আমি জিনিশের পেন্ট আর মেন্দা মারা কালারের হাতার বুতাম লাগানো শার্ট পইড়া আয়া পরসি।

আম্মা আর বাবা আগেই পৌছাইসিল। আমার মনে হইল আমি ভিড়ে হারায়া যাওয়া পিচ্চির মত আম্মা আম্মা বইলা চিক্কুর পারি। কিন্তু সেরম কিসু করি নাই। আস্তে আস্তে মেয়েদের অংশে গিয়া আম্মারে খুইজা বাইর করলাম। আম্মাও এত মানুষের মধ্যে আইসা কেমন জানি থতমত খায়া গেসে। আমারে দেইখা হাসি দিয়া হ্যান্ড শেক করল। তারপর শুরু করল পরিচয় করানি। খুবি বিব্রতকর অবস্থা। ভাবি, এইটা আমার ছেলে। ভাই, এই যে এইটা আমার ছেলে, অফিস থেইকা আসছে। সামনে দিয়া এই বিয়ার ফটোগ্রাফার যাইতাসিল, তারে ডাইকা বল্লো, এই ছেলে এই, এই দেখো এইটা আমার ছেলে। ও ও ফটোগ্রাফার। ছেলে গুলারে চিন্তাম আগে। ওরা তো আরে ইথার ভাইইইইই, এইসব লাগায় দিল। আর আম্মা খুশি তে শেষ।

এদিক সেদিক হুদাই মাইন্সের কনভারসেশন শুনলাম। জীবনেও চিনি না এরম এক আন্টি ডাক দিয়া কইল, আমাদের এক্টা সেল্ফি তুলে দেন তো। সবাই হাসি টাসি দিয়া রেডি। হা কইরা লোডিং…. লোডিং…. লুক দিয়া তাকায় থাকলাম আর আন্টি বিরক্ত হয়া আরেকজন রে বললো সেল্ফি তুইলা দিতে।

একটা সময় ছিল বিয়া তে যাইতে বিরক্ত লাগতো। হাজার দাওয়াত এও জাইতাম না। কি এক্টা বিরক্তিকর জিনিষ। রেডি হউ, যাউ, বোরড হউ। তার পর শুরু করলাম বিয়ার ফটোগ্রাফি। দিন এর পর দিন বিয়া বাড়িতে যাওয়া। তখন কাজ এর মধ্যে থাকতাম তাই কিছু লাগতো না। এখন আবার অই ফেজ টা ফেরত আসছে।

কাজিন রে দেখতে অনেক ভাল্লাগতাসে। বিয়ার খুশি তে ঝলমল করতাসে একদম। ভাবি কে দেখতে উপ্রের তালায় গেলাম। এজ ইউজুয়াল ভজগট লাগাইলাম একটা। কাজিন এর আম্মা পরিচয় করায় দিল, এই যে এইটা ছেলের ভাই। আমি সালাম দিসি আর দেখি উনিও সালাম দিসে। সালামে সালামে সংঘরষ। তারপর আবার দুইজন ই অয়ালাইকুম সালাম ভাব নিয়া মাথা লারাইলাম। আবারো ভঝগট অবস্থা।

হঠাত কইরা মনে হইল টেক্সাস এর এক অজ পাড়া গায়ে দাড়ায়া এক বিয়ার শাড়ি পড়া মহিলার সাথে ডুয়েল লরতাসি। মহিলা স্মার্ট আসে। উনি দ্রুত সাম্লায়া নিলেও আমি গুলি খায়া পালায়া আয়া পরসি।

আমার উপ্রে ভবিষ্যতে “ছোটদের আন সোশালিজম ও সোশাল অকওয়ারডনেস শিক্ষা” টাইপ বই লেখা হবে শিউর।

৫০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১৮, ২০১৫ । ৯.৪৩ পি.এম

আজকে ৫০ তম পোস্ট। যখন শুরু করসিলাম ভাবিও নাই ১০ টা পোস্ট ও লিখতে পারুম। কেমনে কেমনে জানি ৫০ টা লেখা হয়া গেসে। এই ৫০তম লেখাটা তাই লিখতে চাই মুক্তিযুদ্ধ নিয়া। টু বি স্পেসিফিক , মুক্তিযুদ্ধের আগে এই দেশে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়া।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কুনো আতকা ঘটনা না। এমন না যে ১৯৭১ এর ২৫ শে মার্চ এর রাইতে পাকিস্তানি জেনারেল খাদিম হোসেন রাজার মনে হইসিল, নাহ শইল্ডা জুইত লাগতাসে না। ড্রাইভার ! ট্যাংক বাইর কর। গ্যাস ভরা আসে তো? রাজারবাগ পুলিশ লাইন আর ঢাকা ইনুভারসিটি যাবো।

যুদ্ধ যে একটা হবে এইটা বোঝা যাইতাসিল অনেক আগে থেইকা। আর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর লুকজন সেইটার জন্য প্রস্তুতিও নেয়া শুরু করসিল আগেই। এই গল্পটা একটু আগে থেইকা শুরু করি তাইলে বুঝতে সুবিধা হবে।

১৯৬৯ সালের ২৫ শে মার্চ গন অভ্যুথানের মাধ্যমে ফিল্ড মার্শাল আউউব খান কে সরাইয়া দিয়া পাকিস্তান এর কমান্ডার ইন চিফ হিসাবে ক্ষমতায় আসেন জেনারেন ইয়াহিয়া খান। এই সময় গন আন্দোলন দমনে পূর্ব পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর অন্যান্য ইউনিট এর সাথে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর ব্যাটেলিয়ান গুলো কেও (জানা ভাল যে একটা ব্যাটেলিয়ান এ ৩০০ থেকে ৮০০ সৈন্য থাকে।) নিয়োগ দেয়া হয়।

এই দেশে অবাঙ্গালী সৈন্যরা যেমনে জনগণের উপরে ঝাপায়া পরসিল তখন, বাঙ্গালি সৈন্য রা তা করে নাই । তারা ডাইরেক্ট অর্ডার অমান্য কইরা বাঙ্গালিদের উপর গুলি চালানো থেইকা বিরত থাকে। ১৯৬৯ এর বিহারি-বাংগালি দাঙ্গা দমনেও বাঙ্গালী সৈন্যদের নিয়োগ করা হয়। পাকিস্তানি সামরিক লিডার রা তখন রিপোর্ট করে যে এইখানেও সৈন্য রা বাঙ্গালি দের পক্ষ ন্যায়।

এই দুই ঘটনায় আর অসংখ্য গোয়েন্দা রিপোর্ট এর ভিত্তিতে সামরিক নীতিনিরধারক রা বুঝতে পারেন যে গেঞ্জাম যদি একটা লাগে পূর্ব পাকিস্তান এর বাঙ্গালি সৈন্য রা পাকিস্তানি সৈন্য গোরে পিডায়া ফাডায়া লাইবো। তাই এগোরে চোখে চোখে রাখনের ডিসিশান সেই ১৯৬৯ সালেই নেওয়া হয়া যায়।

১৯৬৯ সালে জেনারেল ইয়াহিয়া ক্ষমতায় আসলেন । এই মিচকা চালাক লুক টা ভাবলেন এখন জনগণ যেমনে হট হয়া রইসে তাতে আমিও যদি আইয়ুব খান এর মত ভাব ধরি তৈলে আমারেও লাত্তি মাইরা বাইর কইরা দিবে। তার চেয়ে মহান হউনের ভাব সাব লই। তিনি ২৮শে জুলাই ১৯৬৯ রেডিও তে দেওয়া এক ভাষণে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তে বাঙ্গালি দের বর্তমান সংখ্যা দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিলেন।

তিনি ভাবসিলেন আমরা ব্যাক্কল। তিনি ভাবসিলেন তার ঘোষণায় ওই মাই ঘোট ডাবল অফার ভাইবা বাংলার ঘরে ঘরে তার পোস্টার লাগাইয়া তার সামনে সেলফি তুলা হবে। কিনতু আমরা জানতাম , পাকিস্তান এর মোট জনসংখ্যার অনুপাতে আমরা ছিলাম ৫৬%। যদি ইয়াহিয়া খান এর কথা মত সেনাবাহিনী তে এই দেশের মানুষের পারটিসিপেশন ডাবল ও করা হয় তবুও তা দাঁড়ায় মাত্র ১৫%। ৫৬% এর দেশ থিকা সৈন্য হইব ১৫%। আমরারে কি পাগলে পাইসে যে খুশি হমু?

আমরা খুশি হই নাই। কিন্তু এই সব সৈন্য লারাচারায় সব চেয়ে বেশি ভয় পায় যে কুতুব, সেই আম্রেকিরার মনে হইল, উহু ঘটনার তো সুবিধার লাগতাসে না। ব্যাপারটাতে আমার নাক গলাইয়া দেখতেই হবে। ওই সময় আমেরিকার দূতাবাস এ কোন মিলিটারি এটাশে ছিল না। তারাতারি কইরা তখন কার বাংলাদেশে আমেরিকার কন্সাল জেনারেল আরচার কে ব্লাড এর অনুরোধে ইসলামামাবাদ থিকা বিমান বাহিনীর কর্নেল রবার্ট নোলান কে ঢাকায় পাঠানো হয়।

এই যে কন্সাল জেনারেল, আরচার কে ব্লাড (Archer K. Blood) উনি একটা বই লিখসিলেন পরে। যেইটা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড থেইকা ২০০২ সালে প্রকাশিত হয় ( ইউ পি এর শো রুম আমার সুভাস্তুর বাসার উলটা পাশে :D) । বইটার নাম The Cruel Birth of Bangladesh – Memories of an Americans Diplomat। উনার কাজ কারবার পইড়া আমার মনে হইসে উনি ডেফিনেটলি এক জন প্লেন স্পটার ছিলেন। অথবা প্লেন স্পটিং এর দুর্দান্ত সুবিধা গুলা উনি জানতেন। উনি আমেরিকায় পাকিস্তান এর ট্রুপ মুভমেন্ট এর উপর যেই রিপোর্ট পাঠান সেইখানে লেখা আসে যে এই টার অধিকাংশরই ভিত্তি হইল তেজগাঁও বিমানবন্দরে প্লেন স্পটিং কইরা পাওয়া। প্লেন স্পটার হিসাবে হেবি প্রাউড লাগসে এইটা পড়তে পাইরা 🙂

উনি এই বই তে লিখসেন যে এই সময় ঢাকায় পাকিস্তান এয়ার ফোরস এর একটা ফাইটার স্কোয়াড্রন ছিল। এই স্কোয়াড্রন এ ১৬ টা F-86 বিমান ছিল। (F-86 বিমান এয়ার ফোরস এর জাদুঘরে আসে আই ডি বি এর উলটা পাশে। আমি হাত দিয়া ধইরা দেখসি। )

মনে আসে? আগের একটা লেখায় একটা বিমান ছিনতাই এর কথা লিখসিলাম যেইটার কিনা মুক্তিযুদ্ধের মোড় ঘুরাইতে বিশাল অবদান ছিল? উনি সেইটার কথাও লিখসেন বইটা তে। উনি লিখসেন, বেশির ভাগ ট্রুপ মুভমেন্ট হইতেসিল জাহাজ দিয়া, সমুদ্র পথে। শুধু অফিসার এবং গুরুত্ব পূর্ণ ব্যাক্তিদের আকাশ পথে পাঠানো হইত। করাচী থেইকা চিটাগাং পোর্ট এ জাহাজ আস্তে লাগতো ৭ থেইকা ৮ দিন। উনি আমেরিকায় রিপোর্ট পাঠাইসেন, যদি ভবিষ্যৎ এ বড় ধরনের সৈন্য ট্রান্সফার হয় অথবা ভারি সামরিক যানবাহন পাকিস্তান থেকে এই দেশে পাঠাইতে হয় তাইলে সেইটা সমুদ্র পথেই হবে।

আরচার কে ব্লাড উনার বই তে লিখসেন, লম্বা রুট এর কারনে পাকিস্তান এয়ার ফোরস এবং পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ার লাইন্স (PIA) এর সৈন্য ট্রান্সপোর্ট করতে ব্যাপক অসুবিধা হইতাসিল। ওই যে বিমান ছিনতাই টার কথা বলসিলাম, তার কাড়নে ভারত তো তাদের উপর দিয়া সব সামরিক আর বেসামরিক বিমান চলাচল বন্ধ কইরা দিসিল। তাই পাকিস্তানি সব বিমান রে ঘুইরা আস্তে হইত শ্রীলঙ্কা হয়া। ভারতের উপ্রে দিয়া আইলে তাদের পারি দিতে হইতও মাত্র ১০০০ নটিকাল মাইল। কিন্তু এরুম ঘুরতি পথে আহনের কারণে তাদের পারি দিতে হইত ১২৬০০ নটিকাল মাইল।

এই টা পড়তে পড়তে আমি ভাবলাম আইচ্ছা তাইলে একটু তখনকার পাকিস্তান এয়ার ফোরস এর ট্রান্সপোর্ট প্লেন কয়ডা আসিল একটু দেখা যাক। প্লাস PIA এর তখনকার ফ্লীট টাও। কারণ যদি লাগে পাকিস্তান তার সব ট্রান্সপোর্ট প্লেন আর PIA এর প্লেন লাগায় দিবো এই দেশে সৈন্য পাঠাইতে।

আমি যা তথ্য যোগার করসি তাতে দেখা যায় ১৯৭১ সালে পাকিস্তান এয়ার ফোরস এর ট্রান্সপোর্ট প্লেন হিসাবে C-130B বিমান ছিল ৫ টা, C-130E (C-130B এর এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ ভার্শন ) বিমান ছিল ১টা। C-130 বিমান এর পক্ষে কলম্বো তে রিফুয়েল না কইরা পাকিস্তান থেইকা ঢাকায় আসা পসিবল ছিল না। একটা C130-B /C130-E তে সৈন্য নিতে পারে ৯২ জন।
অন্যদিকে পাকিস্তান যদি PIA এর বিমান দিয়া সৈন্য আননের চিন্তা করে তাইলে তখন PIA এর লঙ রেঞ্জ ফ্লীট এ ছিল সাত টা Boeing 707 আর ৪ টা Boeing 720B বিমান। একটা Boeing 707 এ যাত্রী ন্যায় ২০২ জন আর Boeing 720B তে ১১২ জন।

এখন যদি ক্যালকুলেটর দিয়া হিসাব করি তৈলে দেখা যাইব, পাকিস্তান সব ট্রান্সপোর্ট বিমান আর PIA এর সব লঙ রেঞ্জ বিমান কইরা যদি এই দেশে সৈন্য পাঠাইতে চায় তাইলে ৭৫% বিমান যান্ত্রিক গোলযোগ ছাড়া থাকবো ধইরা নিলেও প্রায় ২০০০ জন সৈন্য পার ট্রিপ এ আসতে পারে। এই সংখ্যা টা পরের ট্রিপ গুলায় কমবে কারণ বিমান এর মেইন্ট্যানেন্স এর ব্যাপার আসে।

আবার ফিরা আসি আরচার কে ব্লাড এর বই তে। উনি ওইখানে লিখসেন যে ফেব্রুয়ারি ১ থেইকা মার্চ এর ৩ পর্যন্ত মোট ১৪ টা জাহাজ ( ১০ টা কারগো জাহাজ, তিনটা কারগো+প্যাসেঞ্জার জাহাজ, একটা প্যাসেঞ্জার জাহাজ) করাচী থেইকা পূর্ব পাকিস্তান এ আসে। এগুলা দিয়া মূলত সৈন্য আর সাঁজোয়া যানবাহন ই আনা হয়।

লেখাটা শেষ করি আরচার কে ব্লাড যে একজন প্লেন স্পটার ছিলেন তার প্রমান দিয়া। নিচের অংশ টা সরাসরি উনার বই থেইকা তুইলা দিলাম,

“Because of all was going on in Dacca , we at the Consulate General were unable to develop much by way of solid information on troop movements by sea to Chittagong. We could, however, vouch for a sudden influx of troops by air through the Dacca Airport. On Severel occasions I personally watched as about one hundred young men debarked from a PIA aircraft. They were dressed identically in short sleeved white shirts and Chino trousers, and after having been lined up, were marched away very smartly. As March wore on, the number of such flights increased markedly.”

৪৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১৭, ২০১৫ । ১১.৩১ পি.এম

চ্যানেল ২৪ এ খবর চোখে পরসিল। রিপোর্টার গেসে বাংলাদেশ জিতসে তাই আপ্নের অনুভুতি কি জান্তে। রিপোরটার খালি বলা শুরু করসে, হ্যা হ্যা আপ্নাকে শুন্তে পাচ্ছি। আর লগে লগে লুকজন বন্যার পানির লাহান আওয়া শুরু করল। আমরা দেখলাম ভিডিওগ্রাফার পিছাইতে পিছাইতে রাস্তায় গেল গা। রিপোরটার এর মাইক উচা হাতটা এক্টু দেখা গেল। তারপর আবার লুকজন কেমেরার সাম্নে ঝাপায় পরলো টাটা দিতে। একজন আবার এক্টা টোকাই রে হাত দিয়া কেমেরার সাম্নে তুইলা ধরল। টোকাই পিচ্চি জিব্বা বাইর কইরা ক্যামেরার লেন্স চাইটা দেওয়ার ট্রাই করল। তারপর স্ক্রিন অন্ধকার। সংবাদ পাঠক ভাইজান কইলেন, দুঃখিত। উনাদের আম্রা হারিয়ে ফেলেছি। বইলা আবার এক্টা মিচকি হাসিও দিলেন।

গুলশান এর নান্দুস এর চিপায় যে Barrista আছে বিকালে আমরা গেসিলাম ওই টায় কফি খাইতে। গিয়া দেখি পরিবার এর পক্ষ থেইকা মেয়ে দেখা দেখি হইতাসে। পোলাটা লজ্জা লজ্জা মুখ কইরা বইসা রইসে আর মেয়েটা কনফিডেন্ট। এক্টু পর শুনলাম একজন বলতাসে, ভাইসাহেব আজকে যদি বাংলাদেশ ৩০০ এর উপ্রে করে তাইলে বিয়া ফাইনাল, যান।

আমরা আরেক্টা ইউকেলেলে কিন্সি আজকে। দুকানের সবাই খেলা দেখতাসিল। আমরা গিয়া ইউকে নামায়া টিউন কইরা বাজায়া যখন বলসি, এইটার দাম কত, তখন দোকান্দার চমকায় বলল, ওহ আপ্নারা কখন আসলেন। আমাদের কম্পলিমেন্টারি পান খাওয়াইসে বাংলাদেশ ফার্স্ট ইনিংসে ৩২৯ করসে তাই। ইউকির দাম ও কমায়া রাখসে।

৪৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১৬, ২০১৫ । ১১.৪০ পি.এম

আমাদের প্রতিবাদ শেখানো হয় না। আমাদের অন্যায় দেখানো হয়, অন্যায় এর শাস্তি দেখানো হয়, শাস্তি পাবার বিচার দেখানো হয় কিন্তু প্রতিবাদ টা আর দেখানো হয় না। একটা ঘটনা যখন ঘটে তখন তার ছবি সহ বর্ণনা ছাপা হয়। অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু প্রতিবাদ এর ব্যাপারটা এক লাইনে শেষ “অমুক ঘটনার প্রতিবাদে এগিয়ে এলে… “ ব্যাস শেষ। এই এগিয়ে আসা টা কেমন? কি বলসিল? কি করসিল? তার কোন ডিটিএইল থাকে না। আমরা তাই ধর্ষণের ডিটেইল জানি, যৌন হয়রানির ডিটেইল জানি কিন্তু একটা প্রতিবাদ যে হইসিল ভিক্টিম বা আসে পাশের এক জন এর থেইকা সেইটার ডিটেইল আর জানি না ।

তাই চোখের সামনে একটা ঘটনা যখন ঘটে আমরা হ্যাং করি। আমরা ওই ওই বইলা নরপশু গুলার উপর ঝাপাইয়া পরি না। আমরা বুঝি না কি করতে হবে। আর ওরা ভাবে আমরা ভয় পাই। আমরা আসলেও ভয় পাই। কি করুম না করুম তারপর কি হইতে কি হবে তা বুঝতে না পারার ভয়। আমাদের যদি এগজাম্পল থাকতো যে অমুক সেম ঘটনায় অমুক এইভাবে আগায় আসছিল তাইলে আমরাও তার মত আগায় আসতাম।

কিন্তু আমরা কি শিখি? আমাদের টিভি, সিনেমা আমাদের কি শেখায়? প্রতিবাদ করতে হইলে নায়ক হইতে হয়। প্রতিবাদ করতে হইলে ইয়া বড় বড় মাসল থাকতে হয়। আর দশটা গুণ্ডা কে এক হাতে উঠাইয়া ফিক্যা মারতে হয়। আর আক্রান্ত হইলে বলতে হয়, ছেড়ে দে শয়তান, তর ঘরে কি মা বোন নাই। সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে গেলে প্রথমে যে মাইর খায় তার কোন কিছু আমরা দেখি নাই। মাইর খাইয়াও যে উইঠা দাঁড়ানো যায় আর তখন যে আরো মানুষ আগায়া আসে তাও আমরা কিছু কিছু শুনসি কিন্তু দেখি নাই কখনো। তাই আমাদের সামনে ইভ টিজিং ঘটলে আমাদের প্রসেসর হ্যাং করে। আমরা প্রসেস করতে করতে ঘটনা শেষ।

আমাদের আম্মারা আমাদের শিখাইসে, বাবা গন্ডগুল এ যাবা না। গন্ডগুল এ যায় খারাপ ছেলে রা। তাই আমরা একটা ছেলে আরেকটা মেয়েরে রাস্তায় টানাটানি করতাসে দেখলে মাথা নিচু কইরা পাশ কাটায়া যাই। না না, ঝামেলায় জড়ানো যাবে না। অদের সমস্যা ওরাই সল্ভ করুক। বোঝার চেষ্টাও করি না, এইটা তার পরিচিত, না ইভ টিজার, না ছিনতাইকারী। আম্মার ভাল ছেলে হয়া আমরা বড় হই। এই ঘটনার প্রতিবাদ করি নাই দেখলে আমার আম্মা খুশি হইত না আমারে ঘিন্না করত ওইটা ভাবার মত টাইম নাই আমাদের।

আমরা ইভ টিজিং শব্দটা ব্যাবহার করি অনেক। শুনলেই মনে হয় দুই টা মেয়ে হাইটা যাইতাসে আর কিছু আশির দশকের রক স্টার মার্কা পোশাক পরা পোলাপান শিষ মারতাসে। আমাদের এইটাই ইভ টিজিং। এইটটুক কি। আর কিছু না। আমার বন্ধুটাই যখন পাশে দিয়া হাইটা যাওয়া মেয়েটারে উপরে নিচে দেখতে দেখতে মনে মনে বিবস্ত্র করে অথবা বাসে পাশের সিট এর লোক টা যখন জানালা দিয়া পাশের রিকশায় যাওয়া মেয়েটার উদ্দেশ্যে কমেন্ট পাস করে, আমাদের তাদের ইভ টিজার মনেই হয় না। কারণ আমাদের তো কেউ শিখায় নাই কোন কোন গুলা ইভ টিজিং, কোন কোণ গুলা যৌন হয়রানী।

এগুলা নিয়া আমরা অনেক ফিস ফাঁস করি। ভদ্র করে করে বলি, গায়ে হাত দিসে। কিন্তু আমার মনে হয় কত রকম ভাবে যে ইভ টিজিং হয় এইটা সরাসরি বলা উচিত। চোর চুরি করলে আমরা তো বলি না, “লোকটা আসলে না জিজ্ঞেস করে জিনিষ নিয়ে গ্যাসে”। তাইলে পুরুষ দের করা নারীর প্রতি চরম অবমাননাকর কাজ গুলাকে একটা সুন্দর শব্দ ইভ টিজিং দিয়া আমরা জেনারেলাইজ করি ক্যান? এইটা নিয়া দরকার হইলে পোলাটার ছবি দিয়া সরাসরি বলা উচিত যে এই হারামজদায় এই এই করসে। তবে অবশ্যই অবশ্যই সব ক্ষেত্রে মেয়েটার নাম পরিচয় ছবি গোপন রাইখা। নাইলে এইটা পর্ণ এর আরেকটা উৎস হয়া যাবে কারো কারো কাছে।

মানুষের প্রতি করা মানুষের এই সব পশুত্ব বন্ধ হইতে হবে। যখন যেখানে পারা যায় প্রতিবাদ করতে হবে। আমরা প্রতিবাদ না করলে ওরা ভয় পাবে না। ওরা ভয় না পাইলে এইটা থামবে না। ওরা ভাবতেই থাকবে ওরা সংখ্যায় অনেক, আর পাবলিক খালি তামশা দেখার জন্যই রাস্তায় নামে। আমাদের রক্ষার জন্য আমাদেরকেই এইটা করতে হবে এই রকম মাইন্ডসেট বানায় ফেলতে হবে। কোন নায়ক ভাই আইসা সব গুণ্ডাকে একলা পিটাবে না। সব গুলা হাত এক লগে হয়া ওদের বাংলা মাইর এর প্রেক্টিকেল ক্লাস নিতে হবে।

৪৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১৫, ২০১৫ । ১০.১৩ পি.এম

মন খারাপের কোন মা বাপ নাই। মন খারাপ একটা এতিম বাবু। মন খারাপ হঠাত কইরা জন্ম ন্যায় আর তারপর তারে কেউ কোলে নিতে চায় না। তাই সে কান্তেই থাকে কান্তেই থাকে। তার মুখে ফিডার গুইজা দেওয়ার ও কেউ নাই, তার সামনে ঝুন ঝুনি নারানির ও কেউ নাই, তারে কান্দে ফালায়া ও ও বইলা ঘুম পারানির ও কেউ নাই।

এক সময় বিরক্ত লাগে। আরে ব্যাডা থামস না। আর কত। কিন্তু হে তবু থামে না। মন খারাপ হইতে থাকলে হইতেই থাকে হইতেই থাকে। মাঝে মাঝে মন খারাপের বাপ বা মা কিছু একটা পাওয়া যায়। বুঝা যায় যে, হ এই কারনে মন খারাপ হইসে। কিন্তু বেশির ভাগ সময় ই ঠিক কখন থেইকা যে মন খারাপ টা শুরু হইল চিন্তা কইরাও পাওয়া যায় না।

হয়তো সারাদিন ভাল খারাপ মিলায় যেম্নে হোক গেসে, নিজেরে সাম্লায়া রাখা গেসে। বাসায় ফিরনের সময় রাস্তা পার হইতাসি। মাঝ রাস্তায় আইসা ওই পাশের গাড়ি আসা আর থামেই না। ব্যাস। গেল মন খারাপ হয়া। আমি জীবনেও পার হইতে পারুম না। সবাই তো পার হয়া গেলো। আমিই ই খালি পারলাম না। আমার লগেই ক্যান এরম হয়। গাড়ি গুলার ক্যান কুনু ফিলিংস নাই। আমারে ক্যান কেউ পার করায়া দিতাসে না। ইতং বিতং ঘ্যান ঘ্যান আর প্যান প্যান। মানে অসহ্য। মন খারাপের গালে একটা চড় দিয়া সব দাত ফালায়া দিয়াও লাভ হয় না। কেলাইতে কেলাইতে আবার ফিরা আসে।

মন খারাপ হইলে প্রথমেই এটাক করে সেলফ পিটিনেস। আমি কত অসহায়। আমি কত মাসুম, কত ইনোছেন্ট, আমার কি দোষ, আমি ক্যাম্নে বুঝুম এক্সপেক্টেশন এত বেশি ছিল, আমি না হয় নাবুঝ কিন্তু সে ক্যান অবুঝ। এই সব মনে হয়া হয়া অবস্থা আরো খারাপ কইরা দ্যায়। মানে মন ই মন রে আরো খারাপ করে। আমি না।

মন খারাপ হইলে আমি পুরাই হ্যাং করি। আমার শরীর এর কিছু কিছু প্রসেস ও হ্যাং করে। যেমন খিদা লাগে না। ঘুম এর কুন অসুবিধা নাই কিন্তু খিদা লাগে না। বা লাগ্লেও আমার লগে এরুম হইল ক্যান, খামুই না যাহ ভাইবা বুঝ দিতে পারি। ঘুম এর কুন অসুবিধা হয় না। চোখ বন্ধ করলেই ঘুম।

ঠিক হয়ার জন্য আমি অপেক্ষা করি। আমার মনে হয় কিছু একটা হবে আর আমার মন ভাল হয়া যাবে। এই কিছু টা অনেক ছোট কিছু। হয়তো প্রথম চেশটা তেই রিক্সা পায়া যাওয়া বা অফিসের সাম্নের রাস্তার সাদা কুকুর টার মাথায় হাত বুলায় দিতেই ওর লেজ নারানো। ওর বিস্কুট খুব পছন্দ। রুটি খায় না। রুটি দিলে মুখে কইরা ওর গারলফ্রেন্ড এর জন্য নিয়া যায়।

যেহেতু মন খারাপ হইলে আমি হ্যাং করি তাই আমার জন্য কারো মন খারাপ হইলেও আমি হ্যাং করি। আমি জানি না কিভাবে মন ভাল করতে হয়। আমার আহারে বইলা মাথায় হাত বুলাইতে ইচ্ছা করে। কিন্তু তাতে যদি আবার কিছু মনে করে। তাইলে কি সরি সরি বলতে বলতে মাটিতে গড়ায় গড়ায় ওলট পালট খামু? তাইলে আবার পাগল ভাইব্বা উলটা দিকে দৌড় দিতে পারে।

আমি তাই পারি খালি ডাইভারশন ক্রিয়েট করতে। হুদাই অন্য কিছু লয়া আলাপ শুরু করতে। হয়তো প্রেম ভালবাসা নিয়া কারো মন খারাপ, আমি তখন বিটিভি টাইপ ঈদগড়ে শশা ও বেগুনের বাম্পার ফলন নিয়া আলাপ করলাম। কেউ হয়তো অফিস টফিস লয়া হতাশ তারে জিগাইলাম, ভাই নোরা জোন্স এর গান আপ্নের কেরুম লাগে? এ ছাড়া আর কিছু পারি না।

অনেক সময় লুকজন মন খারাপ এর কারন কইতেও চায় না। খালি কয় হমমমম, আচ্ছা, এম্নেই, ইচ্ছা করতাসে না ইত্যাদি। তখনা আরো বিপদে পরি । ক্যামনে কি করতাম? আইচ্চা থাক, বইলেন না? অনেকে আবার আশা করে আমি চাপা চাপি করুম জানার জন্য, তাইলেই কয়া দিব। আমি এইডা বুঝলে চাপা চাপি করি বলার জন্য। কিন্তু বেশির ভাগ সময় ই আমার বুদ্ধি সুদ্ধি অইত্যাধিক কম হওয়ার কারনে আমি কয়েক বছর পরে গিয়া বুঝি যে অ অ , অয় আসলে চাইতাসিল আমি অমুকটা করি। এরুম প্রায় ই হয়। আই সাক এট মানুষের মন ভাল কইরা দেওয়া।

মন খারাপ এর সময় আমার ক্ষেত্রে দুইটা জিনিস খালি কাজ করে। এক, আমি নিজেরে বিজি কইরা ফালাই। যাতে মন খারাপ এর মুম্বাতি জলতে জলতে এক সময় নিভ্যা যায় অটো।

আর দুই, ইন্সপাইরেশন খুঁজি। যেইখানে যেইখানে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে সব খানে। বই এর ভিতর, ইন্টারনেট এ, গান এর ভিতর, পেইন্টিং এ এরম আরো জায়গায়। একটা না একটা জায়গায় কিছু একটা ক্লিক করেই। আর আমি ওইখানেই দাঁড়ায় যাই। কিছুক্ষণ খেলি ওইটাকে নিয়া মাথার ভিতর। তারপর আমি ইন্সপাইরেশন টাকে এক্সপ্রেস করি। সেইটা লেখা হইতে পারে, ছবি হইতে পারে, কাগজে দাগাদাগি হইতে পারে, একটা স্ট্যাটাস ও হইতে পারে, এনিথিং।

পয়েন্ট টা হইল ইন্সপাইরেশন টা আমাকে ঠেইলা একটা কিছু সৃষ্টি করার ঠিক আগের জায়গাটায় নিয়া যায়। এই খানে আমি কিছু সৃষ্টি করতে পারি, অথবা পিছায় “থাক কি দরকার” ভাইবা চইলা আস্তে পারি। কিন্তু আই অলওয়েজ গো ফর দি ফার্স্ট ওয়ান। কারন আমার মনে হয় কিছু একটা সৃষ্টি করার ইচ্ছা মানেই একটা এক্সাইটমেন্ট তৈরি হওয়া। আর যেখানে উত্তেজনা, সেখানে মন খারাপ থাকে না, কখনোই থাকতে পারে না।

৪৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১৪, ২০১৫ । ৮.৩৯ পি.এম

শেষ হইল। কারো পহেলা বৈশাখ, কারো ১লা বৈশাখ। তবু আসা করতাসি দুই দল এরই দিন শেষে মাথার উপর ছাদ আছে, পেটে ভরপেট খাবার আছে, নিউজফিড ভরতি লুকজন এর ছবি আছে।

আমি সারাদিন বাসাবো বাসায় খাটের এক কুনায় বালিশ দিয়া এক্টা পাহাড় বানায়া পাহাড়ে হেলান দিয়া ছিলাম। ফেসবুক নামের জানালা টায় উকি দিসি। লোকজন দেখসি। বেড়াইতে বাইর হইসে, ঘুম থেইকা উঠসে, কুন্টা আসল নববর্ষ জানানোর সময় তা নিয়া গিয়ান বিতরন করতাসে, কষ্টের স্টেটাস, আনন্দের স্ট্যাটাস।

আমার যেই বন্ধুর প্ল্যান কেন্সেল হইসে বইলা মন খারাপ ছিল তাদের দেখলাম দুপুরের পর আবার ঠিক ঠাক হয়া গেল, ওরা এখন লজ্জা লজ্জা মুখে ঘুরাঘুরি করতে বাইর হইসে সন্ধ্যাবেলা।

আমি মুক্তিযুদ্ধ নিয়া পড়া শুরু করসি। সারাদিন অইটাই পড়সি। আমাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ ব্যাপারটা কচলাইতে কচলাইতে এত বোরিং বানায় ফেলা হইসে। আমরা সবাই মোটামুটি জানি মুক্তিযুদ্ধে কি হইসিল। কিন্তু এর আগে এবং পরে যে কত এক্সাইটিং সব ডিটেইল আছে, অগুলা আমাদের জানানোই হয় নাই।

আমি মাত্র ৩য় অধ্যায়ে আসি বইটার (বিহঙ্গের ডানা-মুক্তিযুদ্ধে বিমান বাহিনীর ইতিহাস) কিন্তু তাতেই এক্টু পর পর রক্ত গরম হয়া যাইতাসে। আমি জানতাম না ৭ই মার্চ এর ভাষনে বার বার আলোচিত লাইন গুলা ছাড়াও আরো অনেক এক্সাইটিং লাইন আছে, যেমন বংগবন্ধু পাকিস্তানী শাসক দের নীতি নিয়া বলসেন, “আমরা গুলি খাই, দোষ আমাদের, আমরা বুলেট খাই, দোষ আমাদের”

আমি জানতাম না ১৯৭১ এর ১৪ই মার্চ শেখ মুজিব দেশের শাষন ভার নিজ হাতে তুইলা ন্যান। বহুত হইসে, পাকিস্তান মুরি খাউ, আমাদের দেশ আমরাই চালাবো এই এটিচিউড নিয়া উনি ৩৫ টা স্পেসিফিক নির্দেশ দ্যান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি করবে, ব্যাংক কি করবে, বন্দর কি করবে, পুলিশ রা কি করবে, এইরকম ৩৫ টা আদেশ। বংগবন্ধু কে এগুলা প্রনয়োন করে দেন তাজউদ্দিন আহমেদ। আর এইটা নিয়া কোন আজাইরা ফাপর কেউ ন্যায় নাই। সবাই এক হয়া মাইনা নিসিলেন।

আমি জানতাম না, তখন বলা হইসিল পাকিস্তান সরকার কে আমরা কোন ট্যাক্স দিব না। দেশ এর এক টাকাও আর পাকিস্তান এ যাবে না। এমন কি বিদেশি প্রতিষ্ঠান গুলাকে বলা হইসিল, সরি, ইউ আরন্ড ইট হেয়ার, ইউ উইল স্পেন্ড ইট হেয়ার। ( এই বাক্যটা আমি বানায় লিখসি, আসলে বলা হইসিল, বিদেশি প্রতিষ্ঠান এর আয়কৃত অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হবে)

যদি সুযোগ থাকতো আমি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে এক্টা মাস্টার্স কোর্স এ ভর্তি হয়া যাইতাম। কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়া কোন সাব্জেক্ট ই নাই কোথাউ।

পুরা ইতিহাস টাকে গেম এর মত লেভেল এ ভাগ কইরা ফালানো যাইতো। প্রত্যেক লেভেল এর পর এক্টা পরীক্ষা আর পাস করলে পরের লেভেল এ পড়ার সুযোগ।

আর এইটা অবশ্যই একাডেমিক শিক্ষার বাইরে থাকবে। যার ইচ্ছা হবে পড়বে, ইচ্ছা না হইলেও ব্যাপার না। কিন্তু পাশের বন্ধু যখন মুক্তিযুদ্ধ লেভেল টেন কোয়ালিফাইড ব্যাজ লাগায় ঘুরবে তখন নিজেই গিয়া চুপি চুপি ভর্তি হয়া আসবে।

৪৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১৩, ২০১৫ । ১১.২৪ পি.এম

মোবাইল দিয়া লিখতাসি তাই ভং চং কথা বার্তা কম। আমি বাসাবো আসছি। নববর্ষ আমার মনে খুব বেশি “ইয়েই আনন্দ” টাইপ কিসু দিতাসে না। গ্রাম্পি ক্যাট এর মত মুখ কইরা ঘুইরা বেড়াইতাসি। অন্যের আনন্দ দেইখা ভাল লাগানোর ট্রাই করতাসি। কিন্তু সুবিধা হইতাসে না।

এই সব উৎসব মানুষের মনে অনেক এক্সট্রা প্রেসার ক্রিয়েট করে। খুশি থাকতে হবেই, মজা করতে হবেই। আমার খুব কাছের দুইটা মানুষের কাল্কের প্ল্যান কেন্সেল হইসে। ওদের মন টন খারাপ। কিন্তু আরো বেশি খারাপ লাগতাসে কারন ওরা ভাবতাসে, সবাই কত মজা করবে, আর আমি…

এই সব মন খারাপ দের পক্ষে আমি। ভাইয়েরা আমার, বইনেরা তোমার, কালকে সবাই ভাল থাকবে না। যে এই বছর ভাল আছে সে হয়তো গত পহেলা বৈশাখ এ বালিশে মাথা গুইজা ছিল সারাদিন। যে আজকে পাঞ্জাবি পইড়া লজ্জা লজ্জা মুখে প্রিয় মানুষ টার সাথে দেখা করতে যাইতাসে সে হয়তো গত মাসেও আকাশের দিকে তাকায় ভাবসে আল্লাহ, আর কত?

সবাই ভাল থাকে কিন্তু একি সময়ে না। আগে পিছে হয়। আমার কাছে মনে হয় সুখ ব্যাপারটা ফিজিক্স এর এন্ট্রপির মত। পুরা পৃথিবীতে সুখের পরিমান আসলে লিমিটেড। সবাইরে একি সময় এ সুখি করার মত সুখ পৃথিবীতে নাই। কেউ কম থাকে, কেউ বেশি থাকে কিন্তু টোটাল এমাউন্ট অফ সুখ একই থাকে। কনস্টেন্ট এন্ট্রপি।

এক্টা গফ কই। আমার এক দোস্ত এক কম্পানির ইন্টারনাল কমিউনিকেশন এর অফিসার। হে গতকাল জিগাইতাসিল, দোস্ত, এম্পলয়িদের নববর্ষ এর উপহার কি দেওয়া যায়? আমি অনেক অপশন কইলাম, পাঞ্জাবি, শাড়ি, মিষ্টি, পিঠা, হাবি, জাবি, ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু হালার কিছুই বাল্লাগে না। কয় যে, দোস্ত এডি আগের অরা কইরা গেছে, নতুন কিছু ক, ক্রিয়েটিভ কিছু, যাতে বস খুশি হয়া যায়।

আমি অনেক চিন্তা কইরা কইলাম, এক কাম কর। সবাইরে তোগো কম্পানির ছাপ অলা পায়জামা বানায় দে। তয় পশ্চাত দেশের এক পাশে লেখা থাকব,

ঝড় আইসে হে হে,

আরেক পাশে লেখা থাকবো

শুভ নববর্ষ।

কাল বৈশাখি আইবো, পাঞ্জাবির পিছন্টা পত পত কইরা উড়বো আর গুরুত্তপুর্ন মেসেজ দেহা যাইব। ওই বন্ধু মেসেজ সিন কইরা আর কথা কয় নাই। ভিম্রি খায়া রইসে মুনে লয়।

আগামি কাল এর নববর্ষ ১৪২২ এর শুভেচ্ছা।

৪৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১২, ২০১৫ । ১১.৪২ পি.এম

আবার জয়নুল চর্চায় ফেরা যাক। আগের লেখায় লিখসিলাম জয়নুল আবেদিন এর কলকাতা আর্ট কলেজে পড়ার সময়কাল এর কথা। পাশ করার আগেই উনি আর্ট কলেজে শিক্ষক হিসাবে জয়েন করার অফার পাইসিলেন। তাই পাশ করার পর পরি উনি কলকাতা আর্ট কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন।

শিক্ষক অবস্থায় উনার পার করতে হয় উনার শিল্পী জীবনের সবচেয়ে গুরুত্তপুর্ণ সময় এর। দুর্ভিক্ষের সময় টা। তার আগে মনে হয় বইলা নেওয়া ভাল দুর্ভিক্ষ টা ক্যান হইসিল। নাইলে মনে হবে উঠতি ফটোগ্রাফার দের মত উনি কিছু গরীব লোকের ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট ফটো তুইলা আইনা হিট হয়া গেসেন।

১৯৩৯ সাল। ২য় বিশ্ব যুদ্ধের শুরুর সাল। আস্তে আস্তে সব দেশ ই কোন না কোন ভাবে জড়ায় পরতাসিল যুদ্ধে। ভারত তখন ব্রিটিশ কলোনি। তাই মিত্র বাহিনী ই বলা যায় ভারত কে। জাপানিরা যখন বার্মা তেও বোমা ফালাইল তখন ইংরেজ সরকার ভাবলো কাম সারসে, শত্রু তো এক্কেরে উঠানে আয়া পরসে। ইংরেজ সরকার ভাবলো এর পর নিশ্চই জাপানিরা চিটাগাং এর দিক থেইকা অথবা পূর্ব মানে সিলেটের দিক থেইকা আক্রমন চালাবে বাংলায় তথা ভারতবর্ষে।

ইংরেজ বেকুব গুলা করলো কি বাংলা প্রদেশ অর্থাৎ পশ্চিম বাংলা আর বাংলাদেশর সব খাদ্য গুদাম থেইকা খাদ্য শস্য প্রায় সব ট্রান্সফার কইরা দিল ভারতের উত্তরপ্রদেশে। কিন্তু পাঠাইসে ঠিকইকিন্তু এগুলা মেইন্টেনেন্স এর কোন ব্যাবস্থা করে নাই। কিপটামি কইরা ফিরিজে থয় নাই আরকি। তাই যা হোয়ার হইল। সব খাদ্য শস্য গেল নষ্ট হয়া। জিনিষ পত্রের অপ্রাপ্যতার সুযোগে দাম বাইড়া গেল অনেক। যারা এক্টূ সচ্ছল ছিল তারা এক বেলা আধাবেলা খাইতে লাগলো যাতে বেশি খরচ না হয়।

ঝামেলায় পড়ল গরীব রা। দেশে কাজ নাই। ঘরে খাবার নাই। যাদের খাবার আছে তাদের নিজেদেরি হয় না, অন্যরে দিবে কি। একটু ভাত এর ফ্যান এর জন্য কারাকারি পইড়া যাইতে লাগলো। ডাস্টবিল এ কুকুর মানুষ আর কাক উচ্ছিষ্ট খাবার এর জন্য কারাকারি করা শুরু হইল। রাস্তায় পইড়া থাকতে লাগলো কংকাল সার মানুষের অভুক্ত দেহ। শুরু হইল বাংলা ১৩৫০ এর দুর্ভিক্ষ।

এক্টা ইস্যু ঘটলে আমরা যেমন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়া আমি আর কি বা করতে পারি, অনেক কিছু কইরা লাইসি ভাবি, তেমন শিক্ষক জয়নুল আবেদিন এর এই সুযোগ তখন ছিল না। অবশ্য থাকলেও ফিলিং ছেড, ওয়াচিং পুর পিপল টাইপ ফাইজলামি করত কিনা সন্দেহ আসে।

উনি তাই করলেন যা একজন প্রকৃত শিল্পী মাত্রই করবেন। উনি ভাব্লেন আমি তো দুর্ভিক্ষ দূর করতে পারবো না। কিন্তু যারা পারবে তাদের মনে নাড়া দিতে পারবো এই সমস্যা সল্ভ করার জন্য। তিনি একজন আর্ট কলেজের শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও রাত, দিন, দুপুর ক্লান্তিহীন ঘুরে বেরাতে লাগলেন আর ক্ষুধার্ত মানুষের ছবি আঁকা শুরু করলেন। এভাবে তিনি প্রায় কয়েকশ স্কেচ করেন। আমাদের একটা ভুল ধারনা যে আমরা জয়নুল আবেদিন এর আঁকা দুর্ভিক্ষের যেই ছবি গুলা দেখি সেগুলাই এই স্কেচ । কিন্তু তা আসলে না। সারাদিন স্কেচ করার পর উনি ১৪ নম্বর, সারকাস রোড এর বাসায় ফিরা গিয়া স্কেচ গুলোকে ড্রয়িং এ কনভার্ট করতে বসতেন।

জয়নুল ছবি গুলা আকসিলেন বাদামী রঙ এর মোটা মোড়কের কাগজে। কালো কালি দিয়ে একটু মোটা রেখায় ড্রয়িং করা। তুলি হিসাবে ব্যাবহার করেছেন তেল রঙ এর চ্যাপ্টা তুলি।

জয়নুল আবেদিন এর এই ছবি গুলা নিয়া প্রথম ১৯৪৪ সালে ভারতীয় কম্যুনিস্ট পার্টির উদ্যোগে কলকাতা কলেজ স্ট্রিট মার্কেটে প্রদর্শনী হয়। প্রদর্শনীর নাম ছিল “দুর্ভিক্ষ ১৩৫০”

মুটা মুটা শিল্প রসিক, শিল্প বোদ্ধা এমন কি আমার মত হাভাইত্যা দর্শক ও এই ছবিগুলা দেইখা প্রচন্ড বিষ্মিত ও বিমোহিত হন। সিমপ্লিসিটির জন্য এত সাধারন রেখা দিয়াও যে এত ইমোশনাল কাজ করা যায় তা জয়নুল সবাইকে দেখায় দিলেন। এই প্রদর্শনী এত বিখ্যাত হয় যে কলকাতা ছড়ায়ে এই একই প্রদর্শনী আবার দিল্লি তেও করতে হয়। সেইখান থেইকা ছড়ায়া পরে সারা বিশ্ব। এই দেশের মানুষ দের প্রতি ইংরেজ শাসক দের চরম অবহেলার প্রতিক হয়া থাক্লো এক একটা ছবি।

এই প্রদরশনীর সাফল্যে জয়নুল আবেদিন ছাত্র শিক্ষক সবার কাছে প্রিয় পাত্র হয়া উঠেন। কলকাতা কেন্দ্রিক বুদ্ধিজিবি সমাজেও জয়নুল আবেদিন এর হেভি পপুলারিটি দেখা যায় এই সময়।

২য় বিশ্ব যুদ্ধ শেষ হয় ১৯৪৫ সালে। ১৯৪৬ সালে জয়নুল আবেদিন বিয়ে করেন মিরপুরের জনাব তৈয়ব ইদ্দিন এর কন্যা জাহানারা বেগম কে। তারপর কলকাতার ১৪ সার্কাস রোড এর একলা থাকার এক কাম্রার বাসা টা ছাইরা দিয়া নতুন বাসা ভাড়া নিলেন ঢাকার লেক সার্কাস এ।

৪৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১১, ২০১৫ । ১১.৪৮ পি.এম

আজ জয়নুল চর্চা এক্টু অফ থাক। আজকে রাশার বাসায় আছি। বেচারার মন মেজাজ খারাপ। অনেক হাইপার হয়া আসে। অরে ঠান্ডা করার চেষ্টায় আসি।

অয় ত ব্লুজ গিটারিস্ট, তাই অয় এখন বাজায় আর আমি মাথা লারাই।

ব্লুজ জিনিশ টা অনেক ভাল্লাগে। আফ্রিকান কৃতদাস যারা আমেরিকার মিসিসিপি নিউ অরলিন্স এর তুলার বাগানে কাজ করত তাদের থেইকা উইঠা আসছে এই ব্লুজ। তারা ত বিদ্রোহ করতে পারতোনা, তাই ইমশোন চেনেলাইজ করার মাধ্যম ছিল ব্লুজ।

সেই হিসাবে এইটারে ফোক মিউজিক ও বলা যায়। এখন যেমন এলিট লুকজন পয়সা দিয়া ব্লুজ নাইট এ গিয়া প্রগতিশীল ভাব ন্যায়, তখন আমার কাসে অনেক হাস্যকর লাগে। ব্লুজ অয়াজ নেভার মেন্ট ফর দা এলিটস। গন মানুষের কষ্টের গান ছিল ব্লুজ।

ব্লুজ এর সাথে গসপেল মিউজিক এরো একটা বড় যোগাযোগ আছে। কারণ আমরা কষ্টে থাক্লেই সবচেয়ে বেশী ঈশ্বর কে স্মরণ করি।

একটা সময় ছিল যখন আমেরিকাতেও ব্লুজ এত টা রিকগনাইজড ছিল না। মাডি ওয়াটার্স, এলবারট কিং রা আমেরিকা থিকা ইংল্যান্ড গিয়া ইংল্যান্ড এর আন্ডারগ্রাউন্ড সিন এ ব্যাপক হিট খায়। পরে ইংল্যান্ড এর মেইনস্ট্রিম ও সাদরে গ্রহন করে ব্লুজ কে। ততদিন এ আমেরিকার মেইনস্ট্রিম প্রডিউসার, রেকর্ড লেবেল বুঝতে পারে এইটার চাহিদা আছে আর শুরু হয় ব্লুজ এর অগ্রযাত্রা।

তথ্য সুত্র: মহান রাশারে ডাইভারট করার উদ্দ্যেশ্যে বুলুজ বিষয়ক আড্ডা

৪২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১০, ২০১৫ । ১১.৫৬ পি.এম

জয়নুল আবেদিন কে নিয়ে মুগ্ধতা আমার অনেক বেশি। আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় আমার সবচেয়ে প্রিয় আর্টিস্ট কে। আমি বলব জয়নুল আবেদিন, তারপর সালভাদর ডালি আর তারপর ভ্যান গগ। আপাতত জয়নুল এ ডুবে আছি। তারপর ওই দুইজন কে নিয়াও লেখার ইচ্ছা রাখি।

আমার মনে হয় তথ্য সুত্র গুলা এইখানে লেইখা রাখা ভাল। আমার জয়নুল আবেদিন কে নিয়া লেখার মূল তথ্য সুত্র আরেকজন প্রিয় শিল্পি হাশেম খান এর একটা বই। নাম “জয়নুল আবেদিন এর সারা জীবন”। প্রকাশিত হইসে সময় প্রকাশনী থেইকা। তারপর এর উৎস বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত “Great Masters of Bangladesh: Zainul Abedin”. এই ২য় বইটা মুলত ছবি দিয়া ভরপুর একটা বই। সাল অনুসারে ভাগ করা, জয়নুল আবেদিন এর সব ছবি দেখা যাবে বইটাতে। দুর্দান্ত বই একটা। তারপর এর তথ্য সুত্র ইণ্টারনেট। সন তারিখ আর নাম গুলা উইকি পেডিয়া থেকে মিলায় নিসি মাঝে মাঝেই।

এইবার লেখায় ফেরত আসি। গত দুই পর্বে লিখসিলাম, জয়নুল এর শৈশব আর কৈশোর নিয়া। এইবার তার কলকাতা আর্ট কলেজে পড়ার সময়কার কথা লেখার চেষ্টা করি।

কলকাতা আর্ট কলেজে জয়নুল আবেদিন এর পড়া লেখা শুরু হয় ১৯৩৩ সালে। সেই সময় একটা মুসলমান ছেলের আর্ট স্কুলে পড়া টা একটা বিশাল ব্যাপার ছিল। সবার একটা ধারনা ছিল, আর্ট, চিত্রকলা এই সব হিন্দুয়ানি ব্যাপার। জয়নুল আবেদিন এর আগে মাত্র একজন মুসলমান ছাত্র পাস করসিলেন আর্ট কলেজ থেইকা। উনার নাম আব্দুল মঈন।

জয়নুল আবেদিন আর্ট কলেজে কিছুদিন এর মধ্যেই “স্টার স্টুডেন্ট” হয়া গেসিলেন। এত ভাল আঁকতেন যে ছাত্র শিক্ষক সবার মধ্যেই তার নাম ছড়ায়া গেসিল। আমার মনে হয় এইটা খুব দরকার। তিনি শুধু নিজের ট্যেলেন্ট নিয়াই পইড়া থাকতেন তা না, অনেক কে ইন্সপায়ার করতেন আর্ট কলেজে পড়ার জন্য। তার দেখা দেখি আরো কয়েকজন মুসলমান ছাত্র কলকাতা আর্ট কলেজে ভর্তি হন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন শফিকুল আমীন, আনোয়ারুল হক, শফিউদ্দিন আহমেদ, কামরুল হাসান, হবিবর রহমান প্রমুখ। এই নাম গুলা এই জন্যু উল্লেখ করলাম কারন পরে যখন বাংলাদেশ চারুকলা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার গল্প বলব, তখন এই নাম গুলা কিছু কিছু আবার আসবে।

জয়নুল আবেদিন এত প্যাশনেট ছিলেন আঁকা আঁকির ব্যাপারে যে ক্লাস এর পর তিনি কাগজ, তুলি, কলম নিয়ে কলেজের আশে পাশে চইলা যাইতেন। আর কাগজের পর কাগজ ভইরা আইকা নিয়া আসতেন মানুষের ছবি, প্রকৃতির ছবি। তার এই প্যাশন কে অনেক পছন্দ করতেন শিক্ষক রা। সবাইরে বলতেন জয়নুল এর মত হউ। জয়নুল আবেদিন এর শিক্ষক, কলকাতা আর্ট কলেজের বসন্ত গাঙ্গুলি বলেছেন, তার অভিজ্ঞতায় জয়নুল এর মত সেরা ছাত্র আর্ট স্কুলে আর আসে নি।

এখন যেমন ফটোগ্রাফার রা দল বাইন্ধা ফটো ওয়াক, ফটো সাফারি তে যায় সেরকম জয়নুল আবেদিনও একা একা চলে যেতেন বিভিন্ন জায়গায়। তার প্রিয় জায়গা গুলোর মধ্যে ছিল কোল্কাতার বাইরে সাওতাল পরগনার দুমকা আর বাংলাদেশে ময়মনসিংহ এর পাশে ব্রহ্মপুত্র আর ময়ুরাক্ষি নদীর পার ( নদীর নাম টা কি সুন্দর, ময়ুরাক্ষী)।

জয়নুল আবেদিন এর শিক্ষা টা আস্তো ক্লাস রুম থেকে নয়, সরাসরি প্রকৃতি থেইকা আর এই দেশ এর সহজ সরল মানূষ গুলার থেইকা। একটা ঘটনা বলি, একবার তিনি ব্রহ্মপুত্র এর তীরে পানির ছবি আকছেন, এক মাঝি আইসা বলল, “এখান কার পানি আর কি নীল, চলেন আপনাকে দেখাই নীল পানি কারে বলে”। মাঝির সাথে তিনি গেলেন নদীর আরো গভিরে। বিমোহিত হয়ে দেখলেন আকাশ আর নদীর নীল। তিনি যখন ভাবছিলেন এরকম নীল ও কি আঁকা সম্ভব, তখন মাঝি বলল, “কর্তা, আপনার ছবি আঁকার রঙ দিয়া এই নীল হইব না, দোয়াতের কালি ঢাইল্লা দ্যান” । চমকালেন জয়নুল। আসলেই তো। দোয়াতের কালী দিয়েও তো এই নীল আনা যায়। এরকম অনেক টেকনিক উনি উনার আকায় উঠায় নিয়া আসছেন একদম সাধারন মানুষদের কাছে থেকে শুনে।

অনেকেই হয়তো জানেনা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন কিছুদিন কার্টুনিস্ট হিসাবেও কাজ করেছেন। কলকাতা আর্ট কলেজে পড়ার সময় তার বাসা থেকে যে খরচ আসতো, তাতে তার আর্ট সাপ্লাই এর খরচ চালানো কঠিন হয়া যাইতো। তাই তিনি “হানাফি” নামক পত্রিকায় যান কাজ এর জন্য। “হানাফি” এর সম্পাদক ইস্কান্দার গজনবী তাকে “হানাফি”র জন্য কার্টুন আঁকতে বলেন। জয়নুল কার্টুন আকেন তৎকালীন সমাজের অনাচার, রাজনীতি আর সাধারন মানুষের কষ্ট নিয়ে। তার কার্টুন এর নিচে নাম এর বদলে লিখে দিতেন আরবিতে “জিম”। অর্থাৎ জয়নুল।

কলকাতা আর্ট কলেজে জয়নুল আবেদিন এর রিপোর্ট কার্ড দিয়ে আজকের লেখা শেষ করি।

প্রথম বর্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষঃ প্রথম স্থান
দ্বিতীয় বর্ষ থেকে তৃতীয় বর্ষঃ প্রথম স্থান
তৃতীয় থেকে চতুর্থ বর্ষঃ প্রথম স্থান
চতুর্থ থেকে পঞ্চম বর্ষঃ প্রথম স্থান
পঞ্চম বর্ষঃ প্রথম স্থান এবং “গভরনরস গোল্ড মেডেল” (অল ইন্ডিয়া আর্ট কম্পিটিশন এ)