৬১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২৯, ২০১৫ । ১১.১৮ পি.এম

আজকে অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight) এর ২য় পর্ব লিখসি। ভাবসিলাম এই পর্বে শেষ কইরা দিব। কিন্তু লেখার পর দেখি ২য় পর্ব ওয়ার্ড ফাইল এর ৬ পেজ হইসে 😀 তাই ঠিক করসি এইটা ২য় পর্ব থাক। শেষ করি ৩য় পর্বে গিয়া।

আমরা ১৯৭১ এর টাইমলাইন ধইরা আগাইতাসিলাম। আর আগের লেখার অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight) এর ব্যাকগ্রাউন্ড বনর্না করা হইসে। এখন এক্সিকিউশন এর দিকে আমরা চইলা আসছি।

২০ – ২৫ মার্চ, ১৯৭১

পাকিস্তানীরা তাদের সাফল্যে নিশ্চিত করতে বাঙ্গালী সেনাদের ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্বের বাইরে পাঠিয়ে এবং পাকিস্তানী সেনাদের বাইরে থেকে শহরের মধ্যের ইউনিটগুলোতে এনে জড়ো করতে থাকেন। ২৫ পাঞ্জাব এবং ২০ বালুচ রেজিমেন্টের নিয়মিত স্থানান্তর দীর্ঘায়িত করা হল এবং এর বাইরে ১৩ ফ্রন্টিয়ার ফোর্স এবং ২২ বালুচ রেজিমেন্টকে ২৫ মার্চের আগেই পূর্ব পাকিস্তানে স্থানান্তরিত করা হল।

গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য ২৫ মার্চের আগে ঢাকার বাইরে কোন গ্যারিসনে রিইনফোর্সমেন্ট পাঠানো হলনা। চিটাগাং এ সোয়াত নামের সেই বিখ্যাত জাহাজে মজুত ছিলো প্রায় ৮০০-৯০০ টন গোলাবারুদ, যা এই অপারেশনের জন্যই প্রেরন করা হয়। ২৫শে মার্চের আগেই আরো একটি ব্রিগেডকে সাফল্য নিশ্চিত করবার জন্য পুর্ব পাকিস্তানে নিয়ে আসা নয়।

বাঙ্গালী কর্মকর্তাদের ব্যাপক হারে ছুটিতে প্রেরন করা হতে থাকলো যদিও ২১ ফেব্রুয়ারীর পর থেকে সকল ধরনের ছুটি বাতিল ঘোষনা করা হয়েছিলো। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দায়িত্বে থাকতে বলা হল। তাদের পরিবারকে যতটা সম্ভব পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়া হল। বেসামরিক পাকিস্তানী কর্মচারীদের পরিবারকেও যতটা সম্ভব শহরে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হল।

অপারেশন শুরুর আগে বাঙ্গালীদের পুরপুরি নিরস্ত্র করবার অনুমতি না পেয়ে পশ্চিম পাকিস্তানীরা ভিন্ন কৌশন অবলম্বন করলো যাতে বাঙ্গালী ইউনিটগুলোর থেকে তেমন হুমকীর মুখোমুখি না হতে হয়। তাদের নানা অযুহাতে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে পাঠানো হল, অথবা ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ করে নানা কাজে ব্যস্ত রাখা হল। আর এক বাঙ্গালী ইউনিট যেন অপর বাঙ্গালী ইউনিটের থেকে দূরে থাকে সে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হল।

১ ইস্ট বেঙ্গলকে অনুশীলনের নামে চৌগাছায় পাঠানো হল। ২৯ মার্চ পর্যন্ত তারা সেখানে থাকে।
২ বেঙ্গলকে বিভিন্ন অযুহাতে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয় এবং তাদের রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়।
৩ বেঙ্গলকে সৈয়দপুর এবং রংপুরের আসেপাশে নানা গ্রুপে ভাগ করে পাঠানো হল।
৪ বেঙ্গলকে শমসেরনগর আর ব্রাক্ষনবাড়িয়ায় পাঠানো হল ২৬ মার্চ স্যাবোটাজের উদ্দেশ্যে।

কেবলমাত্র চট্টগ্রামে বাঙ্গালী ইউনিটগুলো যথাস্থানে রয়ে গিয়েছিলো। কারন সেখানে বাঙ্গালীরা সংখ্যায় পাকিস্তানীদের চেয়ে অনেক বেশি ছিলো এবং এতো বড় মাত্রায় স্থানান্তর সম্ভব ছিলোনা। সেখানে খুব দ্রুত আঘাত করে বাঙ্গালীদের নির্মূল করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। এর বাইরে নৌবাহিনীর ঘাঁটি থেকে নৌসেনা ও নৌবাহিনীর জাহাজসমূহের মাধ্যমে পাকিস্তানী সেনা ইউনিটগুলোকে সাপোর্ট দেবার পরিকল্পনা করা হয়। চট্টগ্রামে বাঙ্গালী নৌসেনার সংখ্যা কম ছিলো, এবং তাদের ২৫ মার্চের আগেই নিস্ক্রিয় করে ফেলা হয়।

২৫ মার্চ রাত ১ টা ১০ মিনিটে অপারেশন সার্চ লাইট শুরু হবার সময় নির্ধারিত ছিল পরিকল্পনা মোতাবেক। অন্যান্য গ্যারিসনগুলোকে জিরো আওয়ারেই তাদের তৎপরতা শুরু করবার জন্য ফোনে নির্দেশ দেবার কথা। জেনারেল ফরমান নিজেই ঢাকা এলাকার পাকিস্তানী বাহিনীর কমান্ড গ্রহন করলেন। বাকী গ্যারিসন এবং অন্যান্য অঞ্চলের দায়িত্ব মেজর জেনারেল খাদিম নিজের ঘাড়ে নিলেন। লেঃ জেনারেল টিক্কা খান অপারেশন তদারকি করবার জন্য এবং যেকোন জরুরী দরকারে সাহায্যের জন্য ১৪ নং ডিভিশনের ৩১তম ফিল্ড কমান্ড সেন্টারে উপস্থিত থাকলেন। অল্প কিছু সময় পরেই শুরু হবে নিজের দেশের মানুষকে হত্যা করবার জন্য ইতিহাসের নিকৃষ্টতম সামরিক অভিযানের।

মূল অপারেশন
২৫ মার্চ, ১৯৭১, পূর্ব পাকিস্তান
রাত ১১:৩০ মিনিট

রাত ১ টা ১০ মিনিটে শুরু হবার কথা থাকলেও পাকিস্তানি বাহিনী রাত ১১ তা ৩০ মিনিটেই বেরিয়ে পরে ক্যান্টনমেন্ট থেকে। ফিল্ড লেভেলের কমান্ডারদের দাবী অনুযায়ী বাঙ্গালীদের পাল্টা আঘাত হানার আর সতর্ক হতে পারার সুযোগ না দিতে সময় এগিয়ে আনা হলো। তাদের ৬ ঘন্টা সময় দেয়া হলো পুরো অপারেশন শেষ করবার জন্য। অপারেশন শুরুর আগে ঢাকা থেকে দেশের বাইরে এবং অন্য যে কোন যায়গায় যোগাযোগ করবার সকল ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া হলো।

ঢাকার জন্য নিম্নরুপ পরিকল্পনা করা হয়েছিলো যা অনুসারে অভিযান এগিয়ে চলবেঃ

১। ১৩ ফ্রন্টিয়ার ফোর্স ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তার জন্য আর রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে থাকবে।
২। ৪৩তম লাইট এক এক রেজিমেন্ট তেজগাও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
৩। ২২ বালুচ রেজিমেন্ট ইপিআর কে নিরস্ত্র করবে এবং পিলখানা সদর দপ্তরের ওয়ারলেসের নিয়ন্ত্রন হাতে নেবে।
৪। ৩২ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট রাজারবাগ পুলিশ লাইন নিয়ন্ত্রনে আনবে।
৫। ১৮তম পাঞ্জাব রেজিমেন্ট নবাবপুর এবং পুরান ঢাকায় তল্লাশী চালাবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
৬। ৩১ ফিল্ড রেজিমেন্ট ঢাকার সুরক্ষায় থাকবে। এবং মোহাম্মদপুর ও মিরপুর দখল করবে।
৭। ৩ নং স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের একটি কমান্ডো প্লাটুন শেখ মুজিবুর রহমানকে বন্দী করবে। (অভিযানে অংশ নেবে ৩ নং এসএসজির একটি কোম্পানী তিনটি দল বা প্লাটুনে বিভক্ত হয়ে, একটি প্লাটুন মুল অপারেশনের জন্য, আর বাকী দুটো সাপোর্ট পার্টি)
৮। ২২ বালুচ এবং ৩২ পাঞ্জাব ঢাকা ভার্সিটির “বিদ্রোহীদের” দমন করবে। প্রধান টার্গেট হবে জগন্নাথ হল।
৯। সবশেষে ২২ বালুচ পিলখানায় রিইনফোর্সমেন্ট হিসেবে গমন করবে।

২য় পর্ব এ পর্যন্তই থাক। আগামী পর্বে এই লেখা শেষ করব ইনশাল্লাহ। আর সেইখানে থাকবে এই রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে গ্রেফতার অভিযান।

আগামী পর্বে সমাপ্য (এইবার শিউর সমাপ্য :D)

৬০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২৮, ২০১৫ । ১০.৪৬ পি.এম

আজকে লিখতে বসছি অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight) নিয়া। আমি এত এক্সাইটেড যে এখনো গুজ বাম্প হইতাসে। পুরা ব্যাপার টা নিয়া রিসার্চ করার পর আমার মনে হইসে আমি যদি টাইম লাইনের মত ডেট ধইরা ধইরা ঘটনার প্রগ্রেস লিখি তাইলে ব্যাপার টা ভাল মত ব্যাখ্যা করা যাবে। আর একটা লেখায় এত বিশাল ঘটনা লেখার ক্ষমতা আমার নাই । তাই আজকে প্রথম পর্ব আর আরেকদিন ২য় পর্ব লেখার প্ল্যান করসি।

এর আগের লেখা গুলায় বলসি যে ১৯৭০ এর নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ মেজরিটি আসন পাওয়ার পরও পাকিস্তানী সামরিক শাসক এবং ভুট্টো সহ অন্যান্য পশ্চিম পাকিস্তানী নেতাদের কারোই ইচ্ছা ছিল না বাঙ্গালি দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর এর। এদিকে দেশের মানুষও ক্রমেই ফুঁইসা উঠতাসিল এই অন্যায় এর বিরুদ্ধে। ২২শে ফেব্রুয়ারি প্রণীত অপারেশন ব্লিটজ (Operation Blitz) এর কথা আগের লেখায় বলসি। কিন্তু ঘটনা এত দ্রুত মোড় নিচ্ছিল যে পাকিস্তানী রা আরো হিংস্র একটা প্ল্যান এর দিকে আগায় যাচ্ছিল। যার নাম অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight).

১৫ মার্চ, ১৯৭১

সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবের সাথে আলোচনার জন্য ঢাকা আসেন। তার সফরসঙ্গী হন তার উচ্চ পদস্থ সামরিক সহকরমী রা

১৬ ও ১৭ মার্চ, ১৯৭১

ইয়াহিয়া এবং শেখ মুজিবের মধ্যে অফিসিয়াল মিটিং হয় ।
১৭ই মার্চ সন্ধ্যায় মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এই মিটিং এর রেজাল্ট জানতে লিউটেনেন্ট জেনারেল টিক্কা খান এর কাছে জান। টিক্কা খান তারে বলেন, “তুমি যা জান, আমি তত টুকুই জানি”। খাদিম হোসেন রাজা বলেন, “But sir, as a man on the spot, it is your right to know the progress of the discussion so that you don’t fall into any situation without any alert”। টিক্কা খান এর মনে হয় ঠিক ই তো। সে সন্ধ্যায়ই টিক্কা খান এর গাড়ি প্রেসিডেন্ট হাউজে প্রবেশ করে। জানা যায়, ইয়াহিয়া খান তাকে বলেন, “বেজন্মাটা (মুজিব) ঠিক মত আচরণ করছে না। তুমি তৈরি হউ ”। টিক্কা খান রাত দশটায় খাদিম হোসেন রাজা কে বলেন, “Khadim, Go Ahead”

১৮ই মার্চ, ১৯৭১

জিওসি’স অফিসে মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী আর মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা বসলেন খুব ভোরেই।অপারেশনের কোডনেম ঠিক করা হয়েছে অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight) । রাও ফরমান আলী নিজ হাতে ১৬ প্যারায় , ৫ পৃষ্ঠার একটি নীল কাগজের অফিস প্যাডে সামান্য একটি লিড পেন্সিল দিয়ে অপারেশনের খসড়া পরিকল্পনা তৈরী করলেন।

২০শে মার্চ, ১৯৭১

রাও ফরমান আলী অপারেশন সার্চলাইটের মূল উদ্দেশ্য আর পরিধি ঠিক করে দিলেন মেজর জেনারেল খাদিমকে। জেনারেল খাদিম এর মধ্যে ডিটেইলিং করেন। জেনারেল খাদিম ধরে নিলেন অপারেশনের শুরুতেই বাঙ্গালী মিলিটারী ইউনিটসমূহ অন্যান্য প্যারামিলিটারী ইউনিট সমূহের সাথে বিদ্রোহ করতে পারে, তাই তাদের যেকোন মূল্যে নিরস্ত্র অথবা দরকার হলে অপারেশন শুরুর আগেই নির্মূল করতে হবে। সেই সাথে রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করতে হবে প্রেসিডেন্টের সাথে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক চলাকালেই। খসরা পরিকল্পনা থেকে ডিটেইল সহ তৈরি হয় অপারেশনাল অর্ডার।

বিকালে ঢাকা সেনানিবাস এর ফ্ল্যাগ স্টাফ হাউজে অপারেশনাল অর্ডার টি চীফ অফ স্টাফ আব্দুল হামিদ খান এবং লিউট্যানেন্ট জেনারেল টিক্কা খান কে পড়ে শোনানো হয়। বেশ কিছুক্ষন আলোচনার পর জেনারেল হামিদ বাঙ্গালী ইউনিট সমূহকে নিরস্ত্র করবার পরিকল্পনা বাদ দিলেন, এর বদলে তাদের যথাসম্ভব নিস্ক্রিয় করে রাখবার আয়োজন করতে বললেন। আর প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ফোনে তার সাথে বৈঠক চলাকালে রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতারের পরিকল্পনা বাদ দিতে বললেন। ঠিক হল অপারেশনের শুরুতেই রাজনৈতিক নেতাদের যাকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখান থেকেই যতজনকে পারা যায় গ্রেফতার করতে হবে।

২০ – ২৫ মার্চ, ১৯৭১

পরিকল্পনা মোতাবেক ২৪ এবং ২৫ মার্চ জেনারেল হামিদ, জেনারেল মিঠঠা, কর্নেল সাদউদ্দীন এবং আরো অনেকে হেলিকপ্টারে করে নানা গ্যারিসনে গেলেন এবং অপারেশনে সংশ্লিষ্ট নানা কমান্ডারদের ব্রিফিং দিলেন এবং অন্যান্য পশ্চিম পাকিস্তানী অফিসারদের অপারেশন সম্পর্কে জানালেন। জেনারেল ফরমান যশোর সেনানিবাসে গেলেন। জেনারেল খাদিম কুমিল্লা আর চট্টগ্রাম সেনানিবাসে গেলেন অপারেশনের কোঅর্ডিনেশনের জন্য।

সম্পূর্ন গোপনীয়তা বজায় রাখা হল অপারেশন শুরুর আগ পর্যন্ত। কেবল মাত্র অল্প কিছু পশ্চিম পাকিস্তানী লেঃ কর্নেল পর্যায়ের কর্মকর্তা ২৫ তারিখের মধ্যে সম্পূর্ণ অথবা আংশিক পরিকল্পনা জানতে পারলেন কিন্তু তাও কেবলমাত্র জরূরী দরকার বোধ হলেই। যদিও অনেক বাঙ্গালী কর্মকর্তা সম্পূর্ণ পশ্চিম পাকিস্তানী সেনাকর্মকর্তাদের নিয়ে ব্রিফিং এর ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে পড়েন, কিন্তু ব্রিফিং রুমের ভেতরের কথা একবিন্দুও কেউ জানতে পারলেননা চূড়ান্ত আঘাত আসার আগ পর্যন্ত।

বঙ্গবন্ধু ২৪শে মার্চ তার সাথে দেখা করতে আসা প্রথম সারির নেতাদের সবার সাথেই আলাদা আলাদাভাবে সংক্ষেপে কথা সারেন এবং তাদের ঢাকার বাইরে সরে যেতে নির্দেশ দেন। এ থেকে অনুমান করা যায় উনি এ ব্যাপারে কিছুটা হলেও আঁচ করতে পেরেছিলেন। এছাড়াও গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার, যিনি বিমান বন্দরের ডিরেক্টর অপারেশন্স ছিলেন, উনার ভাষ্যমতে উনি ২৫শে মার্চ সন্ধ্যার দিকে একটি বিমানে ইয়াহিয়া খানকে পশ্চিম পাকিস্তান চলে যেতে দেখেন কেবল ২-৩ জন সহযাত্রী সহ। যা উনার বর্ননামতে উনি সেই তথ্য আওয়ামী লীগের কার্য্যালয়ে পৌছে দিয়েছিলেন। যা উনার কাছেও পৌছাবার কথা।

প্রথম পর্ব শেষ। আগামী পর্বে সমাপ্য।

তথ্য সূত্রঃ

বইঃ

বিট্রেয়াল অফ ইস্ট পাকিস্তান – এ এ কে নিয়াজী
ইস্ট পাকিস্তানঃ দ্যা এন্ড গেম- ব্রিগেডিয়ার রেহমান সিদ্দিকী
দ্যা ওয়ে ইট ওয়াজ – ব্রিগেডিয়ার জেড এ খান
বিহঙ্গের ডানা – মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া
ট্রিবিউট টু মিট্টি মাসুদ – ইকতেদার খান
উইটনেস টু সারেন্ডার – সিদ্দিক সালিক
এ নেশন্স শেম – ভাইস এডমিরাল আহসান
ম্যাসাকার- রবার্ট প্যাইন
ট্রাজেডি অফ এররস-ইস্ট পাকিস্তান ক্রাইসিস-(১৯৬৮-৭১)
বাংলাদেশ এট ওয়ার – জেঃ শফিউল্লাহ
এ টেল অফ মিলিয়ন্স- মেজর রফিকুল ইসলাম
এ কে খন্দকারের আত্মজীবনী
বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী

ইন্টারনেট

http://en.wikipedia.org/wiki/Operation_Searchlight
http://en.wikipedia.org/wiki/1971_Bangladesh_genocide

Genocide


http://bangladeshcontinual.blogspot.com/2011/03/operation-searchlight-dark-night-of.html

৫৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২৭, ২০১৫ । ১১.০০ পি.এম

আজকে আমি দুইটা অপারেশন নিয়া পড়সি। ১) অপারেশন ব্লিটজ (Operation Blitz ) ২) অপারেশন সার্চ লাইট (Operation Searchlight)। ২য় টার কথা আগে শুনলেও ১ম টার কথা আগে জানতাম না। ১৯৭১ এর ২৫ শে মার্চ এর রাত্রে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যেই গন হত্যা চালায় এই দেশে, সেইটাই অপারেশন সার্চ লাইট। আর এই অপারেশন সার্চ লাইট ছিল অপারেশন ব্লিটজ এর সিকুয়েল। আজকের লেখাটা এই অপারেশন ব্লিটজ নিয়াই।

অপারেশন ব্লিটজ এর উদ্দেশ্য ছিল এই দেশে সামরিক আইন পুনঃ প্রতিষ্ঠা করা আর অপারেশন সার্চ লাইট এর উদ্দ্যেশ্য ছিল সামরিক ক্ষমতা প্রয়োগ কইরা এদেশের মানুষ রে জন্মের মত সুজা কইরা দেওয়া। আফসুস, আমরা সরল হইলেও বোকা না। আমাদের সুজা করতে আইসা নিজেরাই ব্যাকা হয়া ফেরত গেসে। এই লেখার সব তথ্যের সূত্র লেখার শেষে দিয়া দিসি।

১৯৬৯, ১৯৭০ আর ১৯৭১ এই তিনটা সাল মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে গেলে আসবেই। ১৯৬৯ এ সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় আসেন। তিনি জনগণ রে মুখে বলেন নির্বাচন হবে, গণতন্ত্র আসবে। কিন্তু তলে তলে নিজের জেনারেল দের ঠিক ই বলেন, “Gentlemen, we must be prepared to rule this unfortunate country for the next 14 years or so.”। ইয়াহিয়া খান নির্বাচন এর ঘোষণা দেন। এইটা উনি অনেক মহান ওই জন্য না। তার গোয়েন্দারা তারে রিপোর্ট দিসিল, “নির্বাচনে কোন পক্ষই সরকার গঠনের মত অবস্থায় থাকবেনা যার কারনে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকলেও তারা ১২০ দিনের নির্ধারিত সময়ে একটি সর্বসম্মত সংবিধানের ব্যাপারে সম্মত হতে পারবেননা। যেই ব্যর্থতার দায়ে নতুন নির্বাচনের দিকে দেশ এগিয়ে যাবে এবং ক্ষমতাও সেনাবাহিনীর কাছেই কুক্ষিগত থাকবে।” এই ভরসায় বয়স আমার বাড়ে না গাইতে গাইতে তাই ইয়াহিয়া খাল ইলেকশন এর ডাক দিলেন।

কিন্তু ১৯৭০ এর ৭ ই ডিসেম্বর এর নির্বাচন এর ফলাফল তার সব হিসাব উলটা পালটা কইরা দ্যায়। তিনি ভাবতেও পারেন নাই শেখ মুজিবুর রহমান এর দল এমন নিরংকুশ মেজরিটি পায়া যাবে। শুরু হয় বাংগালিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়া টালটি বালটি।

অপারেশন ব্লিটজ নিয়া বলার আগে একটা ঘূর্ণিঝড় এর গল্প বলি। ১১ই নভেম্বর ১৯৭০ মাঝরাতের ইতিহাস এর সবচেয়ে প্রলয়ংকারি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে দেশের উপকূলীয় জেলা গুলো তে। পরদিন কেবল তিনটি নেভাল বোট এবং একটি হসপিটাল শিপ হাতিয়া, সন্দীপ এবং অন্যান্য এলাকার উদ্দেশ্যে উদ্ধার কাজে গমন করে। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান নভেম্বরের ১৬ তারিখ চীনে রাষ্ট্রীয় সফর স্থগিত করে পূর্ব পাকিস্তানে এসে দূর্গত এলাকার উপর দিয়ে বিমান থেকে উড়ে উড়ে দেখে যান। তিনি দূর্গতদের উদ্ধারে ঘোষনা দেন, “no effort to be spared”। তিনি সকল জায়গায় রাষ্ট্রীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিলেন, সেই সাথে শোক দিবস পালনের ঘোষনা দিলেন ২১ শে নভেম্বর। সাইক্লোন আঘাত হানার ৭ দিন পর!!

প্রায় ৪০ টি দেশের উদ্ধারকারী দল এদেশে এসে পৌছায় সাইক্লোনের ২ সপ্তাহের মধ্যে, জাপানী পার্লামেন্টে সমালোচনা হয় যথাযথ সাহায্য না পাঠাবার জন্য। যে কারনে আবারো জাপানী উদ্ধারকারী দল ত্রান এবং বিমান সহ এদেশে এসে পৌছায় ২ সপ্তাহের মধ্যেই। কিন্তু পাকিস্তানী বিমান বাহিনীর কোন বিমান প্রথম ত্রান কাজের জন্য উড্ড্যন করে সাইক্লোনের তিন সপ্তাহ পার হবার পর!!এজন্য বলা হয়, এটা বিশ্বের ইতিহাসের প্রথম সাইক্লোন যেটা একটা দেশের স্বাধীনতার আন্দোলনে স্ফুলিঙ্গের মত কাজ করেছিলো।

এই ঝড় এর পর দেশে পাকিস্তানি সামরিক আইন শিথিল ছিল। কিন্তু এদিকে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়া টাল বাহানায় জনগণ এর ক্ষোভ দিন দিন বাড়তেসিল। পাকিস্তানি জেনারেল রা এইটা উপলব্ধি করতে পারতাসিলেন যে শেখ মুজিব কে ক্ষমতা না দিয়া পার পাওয়া যাবে না।

ইয়াহিয়া খান সামরিক বাহিনীর সিনিয়র অফিসারদের নিয়া ২২শে ফেব্রুয়ারী Generel Head Quarter (GHQ) , রাওয়াল পিণ্ডি তে এক সভা ডাকেন। সেইখানে তিনি বলেন, “Kill three million of them and the rest will eat out of our hands.” এই সভাতেই ডিসিশন হয়, পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ এর জায়গায় পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার এর নিয়ন্ত্রণ ফিরায় আনতে হবে এবং এই কাজ করবে সেনাবাহিনী। এই সব নীতিগত সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি কইরা দেওয়া নির্দেশ অনুসারে ঢাকার হেডকোয়ার্টার ১৮ ডিভিশন একটা অপারেশন প্ল্যান করে, যার নাম দেওয়া হয় “অপারেশন ব্লিটজ (Operation Blitz )”। এই প্ল্যান এ বলা হয় , যদি শেখ মুজিবুর রহমান এর সাথে সমস্যা নিরসন না করা যায় তাহলে কিভাবে কিভাবে সামরিক শক্তি প্রয়োগ কইরা পুরা দেশে সামরিক আইন এর প্রতিষ্ঠা করা হবে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী অপারেশন ব্লিটজ কে “ইন এফেক্টিভ” স্টেট এ আনার সময় আর পান নাই। ঘটনা এত দ্রুত আগাইতে থাকে যে এর চেয়ে কয়েক গুন ভয়ংকর অপারেশন সার্চ লাইট এর প্ল্যান করা হয়া যায়। অপারেশন সার্চ লাইট এর ডিটেইল প্ল্যানটা একটা সোর্স থেইকা পাইসি। ইনশাল্লাহ আগামী একটা লেখা এইটা নিয়া লিখত হইব।

তথ্য সূত্রঃ

বইঃ

উইটনেস টু সারেন্ডার – সিদ্দিক সালিক
বিহঙ্গের ডানা – মেজর কামরুল হাসান ভুঁইয়া
বিট্রেয়াল অফ ইস্ট পাকিস্তান – এ এ কে নিয়াজী

ইন্টারনেট এবং ব্লগঃ

http://en.wikipedia.org/wiki/Operation_Blitz
http://www.somewhereinblog.net/blog/snatcher/30024621
http://en.wikipedia.org/wiki/Operation_Searchlight

৫৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২৬, ২০১৫ । ১১.৩০ পি.এম

আমাদের কেমন মনমরা একটা টাইম জাইতাসে। নেপাল এর এত বড় একটা দুর্যোগ। ওই খানে আমাদের বন্ধু, আত্মীয় রা কি অবস্থায় আসে না আসে। বাংলাদেশেও ভূমিকম্প প্রতিদিন জানান দিয়া যাইতাসে, আমি কিন্তু আসি, এখন চুপচাপ কিন্তু সাউন্ড বাড়াইলে কিন্তু খবর আসে তোগো। আবার পরশু দিন ভোট যেখানে কোন প্রার্থী সম্পর্কেই আমরা তেমন কিছু জানি না অথচ এদের উপরেই তুইলা দিতে হবে ঢাকার দায়িত্ব। সব মিলায় আমাদের মন ভাল নাই। আমার তো আরো আগে থেইকাই নাই।

নিজেরে নিজে মোটিভেট করার অভ্যাস বসতঃ এই সব সময়ে আমি ইন্সপাইরেশন খুউজা নেই এইখান ওইখান থেইকা। আমার আজকে মনে হইল আমি আর রাশা যখন আড্ডা দেই তখন ওর কাছে অনেক মিউজিসিয়ান দের গল্প শুনি। ওগুলা কিছু কিছু লিখা রাখা দরকার। তাইলে অন্য রাও ইন্সপায়ার্ড হইতে পারবে। এই গল্প গুলার তথ্য সূত্র মূলতঃ রাশা । তবে আমি গুগল সার্চ কইরা ভেরি ফাই কইরা নিসি যে রাশা এগুলা কফি খাইয়া হাইপার হয়া কয় নাই।

শুরু করি লেড জেপ্লিন (Led Zeppelin) এর গিটারিস্ট রে দিয়া। জিমি পেইজ (Jimmy Page)জম্নাইসেন পশ্চিম লন্ডনের একটা সাব আরবান এলাকায়। তার বাপ একটা ফ্যাক্টরি তে এইচ আর ম্যানেজার ছিলেন, আর মা ছিলেন এক ডাক্তার এর এসিস্ট্যান্ট। খুবি ছা পোষা জীবন। জিমি পেজ এর যখন ৮ বছর বয়স তখন তারা একটা নতুন বাসায় শিফট করেন। নতুন বাসায় আইসা জিমি পেজ আগের লোকজন এর রাইখ্যা যাওয়া একটা গিটার পান। তিনি ভাবসিলেন, হুর এই বাতিল মাল লয়া আমি করিব। কিন্তু উনার স্কুল এর কিছু পোলাপানের গিটার বাজানি দেইখা উনি ভাবলেন , আরি আমার বাসা তেও তো এ জিনিষ টা আসে। স্কুলের পোলাপান গুলারে ধইরা উনি গিটার শেখা শুরু করলেন। আর তখন থেইকাই গিটার এর সাথে তার সখ্যতা।

জিমি পেজ তার গিটারিস্ট ক্যারিয়ার এর শুরুর দিকে কয়েকটা ব্যনড এর সাথে বাজাচ্ছিলেন। কিন্তু একটা টুর এর পর তিনি হটাত অসুস্থ হয়া পরেন। তাই ব্যান্ড ছাইরা দেন। তার উনি ভর্তি হন আর্ট স্কুল এ যে তিনি সব সময় চাইসেন। এই স্কুল এ পড়ার সময় ই তিনি নিয়মিত ভিত্তি তে স্টুডিও আর্টিস্ট এর কাজ করতেন মিউজিক এল্বাম গুলা তে। আর্ট স্কুল এ পড়তে পড়তে তার মনে হইল অনেক আর্ট হইসে। আর না থাক। তখন আরো কয়েক জন এর সাথে মিইশশ্যা Led Zeppelin বানায় ফেলেন আর লিজেন্ড হয়া যান।

কুইন ব্যান্ড এর গিটারিস্ট ব্র্যায়ান মে (Brian May) যে গিটার টা ব্যাবহার করেন সেইটা উনি আর বাবা মিল্লা হাতে তৈরি করসিলেন ছোট বেলায়। গীটার তা তৈরি হইসিল তাদের এক পারিবারিক বন্ধু এর ফালায়া দেওয়া ফায়ারপ্লেস এর কাঠ দিয়া। সে জন্য আদর কইরা উনি এই গিটার টারে কখনো কখনো “ফায়ার প্লেস” ডাকেন ।ব্রায়ান মে যে সারাদিন গিটারই বাজাইতেন তা না। পড়ালেখাও করতেন। তিনি একজন এস্ট্রো ফিসিজিস্ট। এস্ট্রো ফিসিক্সে পি এইচ ডি করার জন্য স্কলার শিপ ও পাইসিলেন। কিন্তু মিউজিক করার জন্য সেইটাই ড্রপ আউট করেন।

ব্ল্যাক সাবাথ (Black Sabbath) এর গিটারিস্ট টনি আইওমি (Tonny Iommi). তার বাম হাতের আঙ্গুল সবগুলাই অর্ধেক এর নিচ থেকে কাটা। টনি তখন কাজ করতেন একটা ফ্যাক্টরি তে। যেদিন এই কাজ ছেরে মিউজিক শুরু করতে যাবেন সেই লাস্ট ওয়ারকিং ডে তে তার আঙ্গুল্কের উপর দিয়া মেশিন চলে যায় আর আঙ্গুল সব কেটে যায়। কিন্তু তাতেও উনার গীটার বাজানো বন্ধ হয় নাই। উনি গিটার এর তার গুলাকে উনার মত করে টিউন করে নিসিলেন যাতে পুল করা যায় সেগুলা কে।

আজকে এই ৩ জন এর গল্পই থাকুক। এত ঘুম পাইসে। ঘুমের মদ্যে কি কি যে লিখতাসি আণ্ডা গুনদা

৫৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২৫, ২০১৫ । ১১.৪৩ পি.এম

আধুনিক চিত্রকলার একটা গুরুত্বপূর্ণ মুভমেন্ট/স্টাইল হইল ইম্প্রেশনিজম (Impressionism) । কিন্তু মজার জিনিষ হইল ইম্প্রেশনিস্ট কথাডা প্রথম বার ব্যাবহার করা হইসিল একটা গালি হিসাবে। ইম্প্রেশনিজম টার্ম টা প্রথম ব্যবহার করেন লুইস লি রয়(Louis Leroy) নামের এক সমালোচক। তিনি ক্লদ মনেএ (Claude Monet) এর ইম্প্রেশন সানরাইজ (Impression, Sunrise (Impression, soleil levant)) ছবি টা লয়া Le Charivari পত্রিকায় লেখেন যে, এই ছবি একটা ইমপ্রেশন ছাড়া আর কিছু না। আমার বাসার ওয়ালপেপার ও এর চেয়ে বেশি ভাল।

“Impression—I was certain of it. I was just telling myself that, since I was impressed, there had to be some impression in it … and what freedom, what ease of workmanship! Wallpaper in its embryonic state is more finished than that seascape”

ইম্প্রেশনিজম এমন একটা সময় জন্ম নিসিল যখন পেইন্টিং মানেই মানুষ বুঝতো খুবি পরিশীলিত, সাইজা গুইজা আর্টিস্ট এর সামনে বইসা করানো পোরট্রেইট অথবা ধর্মগ্রন্থ থেইকা উইঠা আসা কোণ ঘটনার পেইন্টিং। ফ্রেঞ্চ একাডেমী অফ ফাইন আর্টস ও এই রিয়ালেস্টিক আর ক্লাসিকাল ঘরানার পেইন্টিং রেই প্রমোট করত আর পোলাপান রে শিখাইত। ল্যান্ডস্কেপ আর স্টিল লাইফ ছবি রে ভাবা হইত নিচু জাত এর আঁকা আঁকি। আর পোড়ট্রেইট আর হিস্টোরিকাল ছবি বিশাল দাম এ বেচা হইত।

ওইসময়ের চার তরুণ আর্টিস্ট ক্লদ মনেএ (Claude Monet), পিয়েরে রেনোয়া ( Pierre-Auguste Renoir) আলফ্রেড সিস্লি ( Alfred Sisley) আর ফ্রেড্রিক বেজিইল (Frédéric Bazille) এর চিন্তা ভাবনা ফ্রেঞ্চ একাডেমি থেইকা পুরাই আলাদা ছিল। ইনারা যেই ক্যাফে তে আড্ডা দিতে যাইতেন সেইখানে আরেকজন আর্টিস্ট ছিলেন এডওয়ার্ড মেনেএ (Édouard Manet) তিনিও আসতেন। ইনারে ওই তরুণ চারজন বেশ শ্রদ্ধা ভক্তি করতেন। তাদের লগে আরো আসিলেন Camille Pissarro, Paul Cézanne, আর Armand Guillaumin এর মত আর্টিস্ট রাও।

এই মেনেএ এর ছবি ফ্রেঞ্চ একডেমি রিজেক্ট কইরা দিসিল। কইসিল যে এইডা আমাগো একজিভিশন এ দেখানি যাইব না। কারন ইডা উঁচা জাত এর পেইন্টিং হয় নাই। ফ্রেঞ্চ একাডেমী অফ মডার্ন আর্ট এর এই নাক উঁচা এলিট জাজমেন্ট এ মেনেএ এর অনুসারী সেই তরুণ আর্টিস্ট রা খুবি বিরক্ত ছিলেন কারন তাদের ছবিও একাডেমী বাতিল কইরা দিসিল । আস্তে আস্তে দানা বাধতেসিল নতুন রেভোলিউশন এর ।

অবস্থা বুইঝা সম্রাট ৩য় নেপোলিয়ন কইলেন এই বাতিল গো লয়া একটা আলাদা একজিভিশন হইব (The Salon of the Refuse)। পাব্লিক ই ঠিক করুক, কুনটা ভাল আর কুনটা খারাপ। পাবলিক এর তো এই নতুন ইস্টাইল দেইখা মাথা মুথা খারাপ। ১৮৮৩ থেইকা ১৮৮৬ এই তিন বছর নিয়মিত ভাবে এই বাতিল দের একজিবিশন চলল আর ইম্প্রেশিনজম এর জায়গাটা পাকা পোক্ত হয়া গেল মডার্ন আর্ট এর দুনিয়ায়।

এতো খন যা কইসি তা তো ইম্প্রেশনিজম এর ইতিহাস। কিন্তু একটা পেইন্টিং রে ইম্প্রেশনিজম আর্ট কখন বলা যাবে এইডা বুঝাও তো জরুরি। ইম্প্রেশনিজম আর্ট সেইটাই যেইটা দেখলে মনে হবে যিনি আক্সেন তিনি ঘটনার দিকে হঠাত এক নজর তাকাইসেন আর আইক্কা ফালাইসেন। ওই সময় উনার মনের উপরে ঘটনা টার, দৃশ্য টার যেই ছাপ পরসে উনি সেটাই আক্সেন।

ছোট ছোট ব্রাশ স্ট্রোক ব্যাবহার কইরা আঁকা ইম্প্রেশনিজম আর্ট এর ছবি গুলায় মানুষ বা অন্য কিছুর কিছুর একটা ধারনা বা ইম্প্রেশন দেয়া হয় কিন্তু খুব ডিটেইলে না। এমন না যে মানুষ বা গাছ একদম ফটো রিয়ালিস্টিক কইরা আঁকা হয় যাতে এক্কেরে চেহারার ডিটেইল, নাকের লুম কিংবা গাছের গায়ে জরিনা+কুদ্দুস সব দেখা যায়। কিন্তু বুঝা যায় কুন টা গাছ আর কুনটা মানুষ।

খেয়াল করলে দেখবেন ইম্প্রেশনিস্ট আর্টিস্টরা তাদের আঁকা ছবিতে রঙ গুলা আনব্লেন্ডেড মানে একটার সাথে আরেকটা মিশা যায় নাই এমন রাখে। এমনে ছবি তে বেশ একটা ডাইনামিক কালার এফেক্ট আসে। কারন আমাদের চোখ আর মস্তিষ্ক আলাদা আলাদা কালার রিকগ্নাইজ করতে পাইরা খুবি খুশি হয় আর আমরা ভাবি আহা কি সুন্দর কালার ছবি টার।

ইম্প্রেশনিজম আর্টিস্ট দের সাবজেক্ট নির্বাচন করা তাদের টেকনিক এর মতই আলাদা ছিল। বেশির ভাগ ইম্প্রেশনিস্ট আর্টিস্ট ই শহুরে মানুষের দৈনন্দিন জীবন কে তাদের ছবির সাবজেক্ট হিসাবে বাইছা নিসেন।

ইম্প্রেশনিজম আর্ট এর আরেকটা লক্ষ্যনিয় জিনিষ হইল ছবি তে ন্যাচেরাল লাইট এর প্রভাব। এক্টু যদি কস্ট কইরা গুগল কইরা ক্লদ মনেএ (Claude Monet) এর Woman with a Parasol ছবি টা দেখেন তাইলে বুঝতে সুবিধা হইব কি কইতে চাইতাসি। এই ছবি টাতে মনেএ উনার বউ আর পিচ্চি রে আকসেন। খুবি সাধারণ একটা দৃশ্য। উনার বউ কেমেলি একটা বড় ছাতি (Parasol) লইয়া দাড়ায় রইসেন। পিছনে টুপি পরা উনার ছেলে জিন মনেএ। কিন্তু ছাতাটার উপর সূর্যের আলো, টুপির উপর সূর্যের আলো আর পায়ের কাছের হলুদ ঘাস ফুল গুলায় সূর্যের আলোর খেলা টা খেয়াল করেন। আর পিছনে মেঘের সাথে আকাশের মেলামেশা তো মন ভাল কইরা দেয়ার মত নীল। এইখানে কোথাউ কিন্তু তাদের দুইজন এর চেহারা ডিটেইল এ বুঝা যাইতাসে না। কিন্তু ছবি টা যে আর্টিস্ট এর সাথে সাথে আমরা যারা দেখতাসি তাদের মনেও একটা ইম্প্রেশন তৈরি করে তাতে কোনই সন্দেহ নাই।

আরেকজন আর্টিস্ট ছিলেন মনেএ এর সাথে রেনোয়া। রেনোয়া এবং মনেএ টানা দুই মাস এই নতুন স্টাইল টা পারফেক্ট করার কাজে লাইগা থাকেন। যা পরবর্তী তে আর্টিস্ট রা ইম্প্রেশনিজম বইলা ফলো করে। রেনোয়ার প্রথম দিক কার কাজ এ দেখলে বোঝা যায় উনার পোরট্রেইট এর প্রতি একটা বিশাল দুর্বলতা ছিল। যেইটা পরে ইম্প্রেশনিজম আর্ট শুরু করার পরেও হারায় যায় নাই। অনেকে বলেন, পোরট্রেইট থেইকা আয় করা টাকা পয়সাই তারে স্বাধীনতা দিসিল ইম্প্রেশনিজম এর মত স্টাইল নিয়া কাজ করার। এই বিষয় টা যারা বিয়ার ফটোগ্রাফি করেন তাদের ইন্সপায়ার করব বইলা আমি মনে করি। রেনোয়ার একটা ছবি আসে Dance at Le Moulin de la Galette। এইটারে তখন কার ক্রিটিক রা পছন্দ করে নাই মোটেও। এখন এইটা রে ইম্প্রেশনিজম এর একটা অন্যতম মাস্টার পিস হিসাবে গণ্য করা হয়।

ইম্প্রেশনিজম দিয়া প্রভাবিত হইসিলেন সিজেন ও । আগের লেখায় বলসি তার আঁকা ছবি আবার প্রভাবিত করসিল পিকাসো আর জর্জেস ব্রক রে কিউবিজম কনসেপ্ট টা শুরু করতে। ইম্প্রেশনিজম যে শুধু পেইন্টিং এ থাকে তা না। ইম্প্রেশনিজম প্রভাবিত করসিল কবিতা আর সংগীত কেও। আগ্রহ থাকলে Charles Baudelaire এর কবিতা নিয়া আর Claude Debussy এর কম্পোজ করা মিউজিক নিয়া পইড়া দেখতে পারেন। আরো একটা জিনিষ আসে যেইটার নাম পোস্ট ইম্প্রেশনিজম। এইটা লওয়াও পড়তে পারেন যদি মুঞ্ছায় জানতে।

লেখাটা শেষ করি একটা রেফারেন্স দিয়া। Edgar Degas এর ব্যালেরিনা দের উপর করা কাজ গুলা দেইখেন। আমার অনেক ভাল্লাগসে উনার ব্যালেরিনা দের উপর করা কাজ গুলা।

৫৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২৪, ২০১৫ । ১১.১৭ পি.এম

সময়টা এক্টু দাঁড়াক। রাস্তা টা, মানুষ গুলা, আকাশটা সবাই চুপ চাপ তাকিয়ে থাকুক আমার দিকে। কোন উত্তর চাওয়া যাবে না। আমি একটু ভাবি, আচ্ছা? মাথার ভেতর ফাকা হয়ে যাচ্ছে দ্রুত। কিছু এক্টা ভেবে ফেলতে হবে এখনি। এই বিষন্নতা ডায়েট কন্ট্রোল জানে না। বিষন্নতার ওজন বেড়েই যাচ্ছে প্রতিদিন। আমার মনে হচ্ছে কোন কিছুর কোন মানে নেই। আমি ধীরে ধীরে একটা কাল রং এর স্পঞ্জ হয়ে যাচ্ছি। শুষে নিচ্ছি সব। বের করছি না কিছুই। ফলাফল, সব কিছু থেকে সব চেয়ে খারাপ টা আশা করা অভ্যাস হয়ে যাচ্ছে। কিছু যদি ভাল হয়ে যায়, ভাগ্য না হয় করুনাময় এর করুনা, ভেবে নিই সাথে সাথেই। তারপর আবার সোয়াচ অফ নো ল্যান্ড। কুল নাই, কিনার নাই। আপ্নারা আরেক্টু থেমে থাকুন। আমার ভাবনা আরো বাকি আছে। ফুটপাথে একটু বসলাম। ফুটপাথে হঠাত বসে পরার মধ্যে বেশ একটা সাহসি ব্যাপার আছে কিন্তু। তখন আর কাউকে তেমন বড় কিছু মনে হয় না। মনে হয়, তোমরা তোমাদের কাজ এ যাও। ভিড় বাড়াও, সমস্যা বাড়াও। তোমার জন্য বানানো মানুষ টাকে খুজে পাবার আনন্দে আট টুকরা হও। আমি অস্বীকার করলাম সব। আমি এই মেনে নেয়া, মনে নেয়া অস্বীকার করলাম। আমার সব অভিমান দিয়ে মেঘ বানিয়ে ঢুকে গেলাম তার ভিতর। চাদর মুরি দিয়ে ভুলে গেলাম সব। আমি প্লাগ খুলে দিলাম মন এর। দরকার নেই আর আমার কিছুর। প্রয়োজন নেই অনুভুতির গ্যাস জ্বলে জ্বলে ফুরানোর। থাক।

৫৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২৩, ২০১৫ । ১১.৩৭ পি.এম

আমি ভাবসিলাম আজকে লিখুম ইম্প্রেশনিজম নিয়া। কিন্তু এই বিষয়ে আমার পড়া লেখা ডা ঠিক যুইতের লাগতাসে না। আরো পড়তে হইব, ভীডু দেখতে হইব, পেইন্টিং এর দিকে হা কইরা তাকায় থাইকা লুল ফালায় ল্যাপটপ এর কি বোর্ড ভাসায়া লাইতে হইব। খালি দিন এর কোটা পুরণের জন্য লিখলে এইডা একটা চানাচুর মার্কা লেখা হইব। এর চেয়ে আরেকটু ঘাটাঘাটনি (খাটা খাটনি + ঘাটা ঘাটি) করি। নাইলে শান্তি পামু না লিখখা।

আমার একটা জিনিষ মনে হয়। যদিও শিক্ষক সম্প্রদায় এই ধারনার বিরুদ্ধে এক যোগে প্রতিবাদ করতে পারেন। কিন্তু আমার মনে হয় আমরা আমাদের স্কুলিং এ যেভাবে শিখি তার মধ্যে বিশাল একটা ঘাপলা আসে। আমাদের একটা কিছু শিখানোর সময় জিনিষটার ডিটেইল এত কিছু বলা হয় যে এই সব ডিটেইল শিখতে শিখতে আমরা যখন মুল বিষয় টা শিখতে পারি ততক্ষণে আমাদের মুল বিষয়টার প্রতি ইন্টারেস্ট গেসে গা। এক্টু খুইলা কই ( উইথ ক্লোদস অন 😛 )

জিনিষটা এমন যে আমাদের বলা হইল তোমাকে A থেইকা B তে যাওয়া শিখতে হইব। এ থিকা বি পর্যন্ত একটা হাই ওয়ে আসে ডাইরেক্ট। আর প্রতি ২ কিলো পর পর একটা সাইড গলি আসে। ওই গলির আরো শাখা প্রশাখা আসে। আমরা যেভাবে শিখি তা হইতাসে এ থিকা বিশাল এন্থুজিয়াজম নিয়া হাটা শুরু করি। মনে খুব আনন্দ বি তে যামু। দুই কিলো যাওয়ার পর আমাগো সিস্টেম আমাদের ঘার ধইরা গলি তে ঢুকায়া দ্যায়। আরে এই গলি না চিনলে তো কিছুই চিনলা না মিয়া । আমরা গলি, পাতি গলি, উপ গলি ঘুইরা ঘুইরা আবার হাইওয়ে তে ফিরা আসি। আবার মনে আনন্দ, আহা বি তে যামু। ২ কিলো পর আবার গলি, আবার ঢুকো, আবার কাহিল হউ। এই ভাবে গলিতে গলিতে গলিত হয়া আমরা যখন বি তে পৌছাই তখন আর আমাগো এ থিকা বি তে আসার রাস্তা শিখার কোন আগ্রহ থাকে না। বি তে পৌছাইসি এই বেশি। ফলাফল চাকরি তে ঢুকতে ঢুকতে বা ভার্সিটি পাস দিতে দিতে আমাদের পড়ালেখার ছোট খাট গলি যেমন কিছু কিছু সূত্র যা মুখস্ত করসিলাম, অমুক টার্ম টা , অমুক বই এ এইটা লেখা ছিল এই টাইপ এর জিনিষ মনে থাকে কিন্তু আসল জিনিষের খবর ই নাই।

কিন্তু এমনটা হওয়ার উচিত ছিল না। আমার মনে হয় উচিত ছিল প্রথমেই হাইওয়ে ধইরা এ থিকা বি তে পৌঁছানো। অনেক কিছু হয়ত ক্লিয়ার হবে না, অনেক গলি তে ক্যান ঢুকলাম না আফসোস থাইকা যাবে। তাদের কে মধুসদন দত্তের মত বলতে হবে, “তিষ্ট ক্ষণকাল”। এইভাবে একটা ক্লাস এর সবাই এট লিস্ট মুল ব্যাপার টা জানবে । তারপর সবাইকে বলা হবে এই বার আমরা আবার এ তে যাবো এবং প্রথম গলিতে ঢুকবো, তারপর আবার বি তে চইলা আসবো। কিছু স্টুডেন্টের কাছে এই গলিটাও অনেক কঠিন লাগবে। তারা বি তেই থাকলো। যারা দেখতে চায় প্রথম গলি তে কি আছে তারা গেলো। ২য় গলির ক্ষেত্রেও সেম। দেখা যাবে ১ম গলির মুখে কিছু পোলাপান দাড়ায় আসে। এরা অদ্দুরি জানতে চায়। এরা ওই খানে থাকুক। আমরা বাকি দের নিয়া বাকি গলি তে ঢুকি।

এই ভাবে শেষ গলি থেইকা হাসি মুখ নিয়া বাইর হবে তারাই যারা আসলেই জানতে চাইসে কি আসে ভিতরে। কিন্তু না। আমরা সবাইকে সব গলি শিখাইতে চাই। যারা সব গলি ঘুইরা বি তে আইসা পুরা রাস্তার ধুলা বমি করতে পারে তারা ফার্স্ট। আর বাকিরা, মেএহ, চলে আরকি। এই ধারনার পরিবর্তন করতে হবে আমাদের কেই। আমাদের শিক্ষক দের কে বলতে হবে, স্যার, চিনির অণু বিশ্লেষণ এ পরে ঢুইকেন, আগে চা বানানো শেখানো শেষ কইরা লন।

আর্ট এর হিস্টোরি, ইজম, মুভমেন্ট ইত্যাদি নিয়া পড়তে গিয়া আমার মনে হইসে অনেক অনেক গলি আস্তাসে। আর খুবি আকর্ষণীয় সব গলি। ঢুকলে অনেক গভীর পর্যন্ত ঢুকা যায়। কিন্তু আমি চাইতাসি আগে রাজপথে হাইটা গলি গুলার প্রবেশ পথ গুলা চিন্না রাখি। পরের বার আইসা একটা একটা কইরা ভিতরে ঢুকবো নে।

৫৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২২, ২০১৫ । ১১.৪৫ পি.এম

সেকেন্ড ইয়ার এ উঠনের পর আমি যখন পাঠশালা ড্রপ আউট করি তখন অনেক কষ্ট লাগতো। বন্ধুরা পাঠাশালায় ক্লাস করত আর আমি বড় বড় দীর্ঘ শ্বাস ফালাইতাম। ওগোরে খুটায় খুটায় জিগাইতাম আইজকা ক্লাস এ কি পড়াইসে। তাই ওগোরে যখন ক্লাস এ আর্ট এর ঈজম গুলা পড়ানো শুরু করল তখন আমার আফসুস এর সীমা ছিল না। আমি ভাবসিলাম, থাক, গুগল আসে না। সব এক সার্চ মাইরা জাইনা ফালামু। কিন্তু কিয়ের কি। আর জানাই হয় নাই অগুলা।

এখন আমিই আবার আর্ট এর ইজম গুলা নিয়া পড়া শুরু করসি। পড়তে গিয়া বুঝলাম, এই গুলার মধ্যে সবচেয়ে ইনফ্লুএনশিয়াল ধরা হয় কিউবিজম রে। তার আগে এক্টু পরিষ্কার কইরা লই ইজম জিনিশ টা কি। মিউজিক এর মধ্যে যেরুম জনরা (Genre) আসে , লাইক মেটাল, অল্টারনেটিভ, ব্লুজ, জ্যাজ এরুম আর্ট এর মধ্যেও ইজম আসে। ইজম গুলা আসলে শুরু হইসিল এক এক টা মুভমেন্ট হিসাবে পরে সেইটা একটা স্টাইল হয়া গেসে। । কোন একটা সময়ের কিছু আর্টিস্ট ঠিক করসে নাহ চালু ট্রেন্ড এর মায়েরে বাপ, আইজা থিকা আমি আমার মত আকুম । এই রকম এক রকম ভাবে আঁকা পেইন্টিং গুলা একটা মুভমেন্ট এর অংশ। একটা প্রচলিত স্টাইল রে চ্যালেঞ্জ কইরা আরেকটা স্টাইল তৈরি করার ব্যাপার গুলারেই আর্ট হিস্টোরিয়ান রা এক এক টা ইজম বইলা নাম দিসে। এরম অনেক অনেক ইজম আসে যেরুম, রিয়ালিজম, সুরিয়ালিজম, দাদাইজম, ইম্প্রেশনিজম এরুম। তয় ওই ডি লয়া আলাদা আলাদা ভাবে লিখুম নে সামনের কিছু লেখায়।

কিউবিজম এ ফেরত আসি। কিউবিজম মুভমেন্ট টা প্রথম শুরু করেন দুই জন আর্টিস্ট। এক জন বহুল প্রচারিত পাবলো পিকাসো (Pablo Picasso) আরেকজন জর্জেস ব্রক (Georges Braque)। এরা প্যারিস এ ১৯০৭ থেইকা ১৯১৪ সাল এর মধ্যে যেই ছবি গুলা আঁকেন সেগুলা কিউবিজম এর স্টাইল এই আঁকেন। তাদের সাথে এই মুভমেন্ট এ যোগ দেন, Jean Metzinger, Albert Gleizes, Robert Delaunay, Henri Le Fauconnier, Fernand Léger and Juan Gris। এটাও বলা হয়া থাকে সিজ্যান (Paul Cézanne) এর শেষের দিককার কিছু কাজ দিয়াও কিউবিজম প্রভাবিত হইসিল।

এত গেলো ভুং ভাঙ। এহন আসল ব্যাপার এ আসি। কিউবিজম এ আর্টিস্ট প্রথমে তার সাবজেক্ট কে ভেঙ্গে ফেলেন। একদম যারে কয় টুরকা টুরকা কইরা ফালানি। তারপর আলাদা পারট কে এনালাইজ করেন। শেষে আবার সব পারট কে জুড়া লাগান।কিন্তু আগের মত না। দেখলে মনে হইব প্রত্যেকটা পার্ট আলাদা আলাদা জায়গা থেইকা দেখতাসি। ফর এক্সাম্পল, হয়তো ছবির সিঁড়ি টা এক দিক থেকে আঁকা হইসে তো টেবিল টা পুরাই অন্য ভিউ থেইকা দেখা মনে হইতাসে। আবার এই জোড়া লাগানো টা একেবারে টু/থ্রি ডাইমেনশনাল এর মধ্যে ঘরের ছবি আইকা দেওয়ার মত না। আমার মনে হইসে কিউবিজম শিল্পী কে ওই স্বাধীনতা দ্যায় যে সে তার নিজের মত কইরা একটা ধারনা, একটা অনুভূতিকে ইচ্ছা মত ফর্ম দিতে পারেন।

কিউবিজম এই ধারনা প্রথমেই বাতিল কইরা দ্যায় যে আর্ট বানাইতে হইলে সেইটা প্রকৃতি তে যেমন দেখা যায় এমন একদম পারস্পেক্টিভ মাইনাই বানাইতে হবে। কিউবিজম এ আলাদা আলাদা ভাবে অবজেক্ট গুলারে ঠিক ই বুঝা যায় কিন্তু একটা জ্যামাতিক আঁকার আকৃতির মধ্যে চইলা আসে। কিছু কিছু পেইন্টিং এ অবশ্য দেখলেও বুঝা যায় না যে এইডা আসলে কি আকসে। সেই ক্ষেত্রে আর্টিস্ট বিভিন্ন ক্লু দিয়া দ্যান ছবি তে। সেইটা কালার দিয়া হইতে পারে, ফর্ম দিয়া হইতে পারে আবার শুধু ক্যাপশন দিয়াও হইতে পারে।

কিউবিজম দিয়া যে শুধু পেইন্টিং ই হয় তা না। কিউবিজম ইন্সপায়ারড অনেক অনেক ভাস্কর্য আসে, বিল্ডিং এর ডিজাইন আসে, পটারি, ফারনিচার এমন কি মিউজিকও আসে।

আমি কিউবিজম নিয়া লিখলাম কিন্তু একটা ছবিও দিলাম না। ইচ্ছা কইরাই দেই নাই। যার আগ্রহ হইব সে নিজেই এখন গুগুলে আস্তে আস্তে কইরা লিখব Cubism. তার পর রেজাল্ট এ আসা ছবি গুলা দেইখা উত্তেজিত হয়া যাইব। আর মিলাইয়া দেখবে যা কইসি তা ঠিক কইসি কিনা।

৫৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২১, ২০১৫ । ১০.০৭ পি.এম

আবারো বিয়া বাড়ি নোট। অল মোস্ট সিমিলার অবস্থা। অইদিন বিয়া ছিল। আজকে বৌভাত। অফিস থিকা আসছি। আম্মা আমার জন্য পাঞ্জাবি নিয়া আসছিল। অনেক কষ্টে ওই টা পরা ঠেকানো গেসে। যেই কাজিন এর বিয়া উনি তাব্লিগ করেন। উনার সাথি ভাই দিয়া ভরপুর সেন্টার। আমাদের কিছু করা লাগতাসে না। ইনারাই সব দায়িত্ব নিয়া করতাসেন।

এই কাজিন পাঞ্জাবি পায়জামা পরসেন। আর গেস্ট দের মধ্যে এক বেকুব এই গরমের মধ্যে থ্রি পিস স্যুট পিন্দা আসছে। হেরে দেইখা আমারি গরম লাগতাছে। লুকজন ঢুইক্কা কনফিউজ হয়া যাইতাসে কুন্টা আসলে জামাই। কিছু লোকজন হে হে করতে করতে গিয়া অই স্যুট আলার লগে হেন্ডশেক কইরা ডজ খাইতাসে।

স্পিকিং অফ দা ডেভিল, স্যুট অলা আইসিল এক্টু আগে আমার কাছে। আইসা বল্ল ব্রো কি বিয়া তে আসছেন? আমি হাসি হাসি মুখ কইরা বল্লাম জি না। সে আবার জিগাইল আপ্নি কি মেয়ে পক্ষের? আমি আবারো কইলাম জি না। এইবার সে এক্টু ডিফেন্স এ গেল আমি ঝামেলা বাজ কিনা। কইল ব্রো তাইলে আপ্নাকে তো ঠিক চিন্তে পারলাম না। আমি বলসি, আমিও না। স্যুটমারানি ব্রো আর ঝামেলা করে নাই। টাই ঠিক করতে করতে গেসে গা।

আজকে ছেলে পক্ষের অনুষ্ঠান হওয়াতে আমাদের সাইড এর অনেক আত্মিয় সজন আসছে। এদের কয়েকজন আইসা আমারে ইথুউউ কেরম আসো? আমারে চিনসোওওও? ছোটবেলা কত কোলে নিসি তোমারে বইলা গেসেন। আমি কাউরেই হতাশ করি নাই। হ্যা হ্যা চিন্সি তো, আপ্নি আগের মতই আছেন বলসি। ওরা খুশি হয়া গেসে। একবার ইচ্ছা হইসিল বলি, আবার কোলে নিবেন? পরে ভাবলাম। থাক। রাজি হয়া গেলে আবার সমস্যা।

কেরফা লাগাইসে বড় মামা। আমারে এক্লা এক্লা বইসা থাক্তে দেইখা ঝাপ দিয়া পড়ল উনার ব্যারিটোন ভয়েস নিয়া।

“ওই তুই একলা একলা বয়া কি করস!”।

কিছু করি না মামা।

“খালি হারাদিন মুবাইল টিপাটিপি, খাইসস?”

না মামা পড়ে খাব।

“তাইলে এই যে আত্মিয় সজন রা খাইতাসে এগো ছবি তুল”

মামা খাওয়ার ছবি তুলবো?

“আরে এইটাই তো স্মৃতি, তুল তুল”

রান চিবানির স্মৃতি তুলতে ইচ্ছা করতাসে না।

৫২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২০, ২০১৫ । ১১.৩৫ পি.এম

আমি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়তে পড়তে এতই এক্সাইটেড যে আমার ইচ্ছা করতাসে এত গুলা পিচচি রে সামনে নিয়া ওদের এই সব গল্প শুনাই। বড় রা বাদ। বড় রা একটু পড়ে হাই তুলবে। বলবে এহ জানি এই সব। একি প্যান প্যানানি। ছোটদের ওই রিস্ক নাই। ওরা মজা পাইলেই হইল। সময় নষ্টের হিসাব করে না। যদি সত্যি সত্যি কিছু পোলাপাইন এর মুক্তিযুদ্ধ ১০১ ক্লাস নিতে পারতাম, তাইলে এরকম কিছু হইত হয়ত।

: ১৯৭১ সালে কি হইসিল বলতো?

–যুদ্ধোওওওওওওও।

: কি যুদ্ধ কে বলতে পারবে?

–মুক্তিযুদ্ধোওওওওও, আমি আগে বলসিইইই সার।

: হ্যাঁএএ , তুমি ফার্স্ট। আচ্ছা বলতো তার আগের বছর কি হইসিল?

–আগের বছর মানে?

: মানে ১৯৭০ সালে কি হইসিল

— অ। কি হইসিল? ঈদ? হি হি হি

: হ্যাঁ , ঈদ তো হইসিলোই, আরেকটা জিনিষ হইসিল?

— কি? কি?

: ১৯৭০ সালে ইলেকশন হইসিল

— তখনো ইলেকশন হইত?

: হ্যাঁ, হইতো তো

— কে জিতসিল? হাসিনা? নাকি খালেদা জিয়া? না এরশাদ? হি হি হি

: না না, তখন তো উনারা ছিলই না

— তাইলে কি হইসিল স্যার?

: আমারে স্যার বলবানা। ইথার ভাই বলতে পারো।

— হি হি এত বড় ব্যাডা রে ভাই বলব? হি হি। আঙ্কেল বলি?

: আচ্ছা বল

— ইলেকশন এ কি হইসিল আংকেল? কে জিতসিল?

: তখন তো দুইটা পাকিস্তান ছিল। পূর্ব পাকিস্তানে ইলেকশন এ জিতসিল শেখ মুজিবুর রহমান এর আওয়ামী লীগ আর পশ্চিম পাকিস্তানে জিতসিল জুলফিকার আলীর ভুট্টো এর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)

— আয় হায়, দুইজন জিতসিল? তাইলে মারামারি লাগে নাই?

: লাগসিল তো, মারা মারি ই তো লাগসিল। ওই মারা মারি তেই তো ১৯৭১ এর মুক্তি যুদ্ধ হইল।

— কেমনে মারামারি হইসিল ইথার আঙ্কেল? রেস্লিং এর মত? শেখ মুজিব আর ভুট্টোর মধ্যে রেস্লিং?

: হ, সেরম হইলে তো কত মানুষ বাইচা যাইত। কিন্তু না। পশ্চিম পাকিস্তান চায় নাই পূর্ব পাকিস্তান দেশ চালাক। তখন তো সংসদ ছিলনা। ছিল জাতীয় পরিষদ। এই পার্লামেন্ট এ মোট সিট ছিল ৩০০ টা। কয়টা?

— তিন শ টা সাআআআর, থুক্কু ৩০০ টা আংকেএএএল

: গুড। এই তিনশটার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের সিট ১৬২ টা আর পশ্চিম পাকিস্তান এর সিট ১৩৮ টা। তাইলে মুট কয়টা হইল?

— এই কাম সারসে। অংক। এ এ এ আট আর দুই দশ, হাতে থাকলো এক… এ এ এ স্যার, মুট ৩০০ হয় স্যার।

: আবার স্যার! আচ্ছা যাই হোক। এই ১৬২ এর মধ্যে আওয়ামি লীগ পাইসে ১৬০ সিট আর ১৩৮ এর মধ্যে পিপিপি পাইসে ৮১ টা সিট।

— আংকেল একটা প্রশ্ন?

: হ্যাঁ হ্যাঁ, বল কি প্রশ্ন?

— আমি আংকেল আপনি বলার লগে লগে যোগ কইরা ফালাইসি। ১৬০ আর ৮১ যোগ করলে হয় ২৮১। সিট তো ৩০০, তাইলে বাকি গুলা কারা? মহিলা, শিশু ও প্রতিবন্ধী কোটা?

: হি হি ভাল প্রশ্ন করসো তো? আমি খুব খুশি হইসি। বাকিরা ছিল অন্যান্য দল আর সতন্ত্র । এখন বুঝসো?

— বুঝসি সাআআ… থুক্কু। আংকেএএল । তার পর কি হইল?

: ৩০০ এর মধ্যে ১৬০ ই আওয়ামী লীগ এর। তাইলে নিয়ম অনুসারে এরাই গভমেন্ট বানাইবো। কিন্তু কেরফা লাগাইলো ভুট্টো।

— ভুট্টো জানি কে?

: ভুট্টো হইল পিপিপি এর চেয়ারম্যান । পশ্চিম পাকিস্তান এর লোক

— এই লোক ক্যান কেরফা লাগাইল?

: বাংলাদেশ মানে তখন কার পূর্ব পাকিস্তান রে ছোট চোখে দেখা পশ্চিম পাকিস্তানের রক্তে মিশা গেসিল। ওদের শিখানোই হইসে অমনে যে পূর্ব পাকিস্তান মানে নিচু জাত। ভুট্টো ভাবলো, নিচু জাত আমাদের গভমেন্ট হবে? আমাদের শাসন করবে? কভি নেহি।

— কিরম হিংসুইট্যা লোক ভুট্টো । আমরা জিতছি আর আমাগো দিব না? এই হিংসুইট্যা কইল আর সবাই তার কথায় নাচলো?

: নাহ, খালি পশ্চিম পাকিস্তানী নেতারা আর সামরিক বাহিনী লোকেরাই নাচসিল।

— কি হইল তারপর?

: আওয়ামী লীগ এর “৬ দফা দাবী” বইলা একটা জিনিষ ছিল। তারা বলসিল তারা এই “৬ দফা”য় যা যা আসে তার উপর বেজ কইরাই দেশ চালাবে। আর ভুট্টো বলসিল, “৬ দফা” য় পশ্চিম পাকিস্তান রে কোন বেইল দেওয়া হয় নাই। তাই এই ৬ দফা লওয়া পুরা দেশ চালানির কথা ভাবলে, শেখ মুজিব কে ক্ষমতা দেওয়া হবে না

— এহ ক্ষমতা দিবে না মানে। এইটা কি ওর আব্বুর টাই যে দিবে না

: সেটাই তো । আর চিন্তা কর এতদিন পশ্চিম পাকিস্তানে বইসা উনারা পূর্ব পাকিস্তান চালাইসেন, তখন কিন্তু এই সব যুক্তি বলে নাই কিছু। এখন যেই ক্ষমতা নিয়া টান পরসে তখন এই সব ভুং ভাঙ বলতাসে।

— জি ইথার আংকেল ঠিক বলসেন। ক্ষমতা লওয়া চুদুর বুদুর শুরু করসে ভুট্টো।

: হ। ঠিক। কিন্তু এই সব ব্যাপার তো আর গলার জোরে হয় না। তাই অনেক অনেক চেষ্টা চললো মীমাংসা করার। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান দুই দল এর সাথে অনেক বার আলোচনায় বসলেন। কিন্তু কোণ সমাধান আসলো না।

— ছার, ইয়াহিয়া খান ক্যাডা? শাহরুখ খান এর দাদা?

: না না

— শাহরুখ খান এর নানা?

: আরে না ব্যাডা, হপ । শুন আগে। ইলেকশন এর আগের বছর মানে ১৯৬৯ সালের ২৫ শে মার্চ আইয়ুব খান রে সরাইয়া ইয়াহিয়া খান আসছিল ক্ষমতায়। উনি আইসা দেশে মিলিটারি শাসন চালু করসিল। কিন্তু বলসিল মিলিটারি শাসন স্থায়ী কিছু না। সামনে নির্বাচন হবে। তারপর জনগণের প্রতিনিধি দের কাছে ক্ষমতা বুঝায় দিয়া উনি বিদায় লইবেন।

— ওহ, আংকেল, এডি শুইন্ন্যা যুইত পাইতাসি না। যুদ্ধের গল্প কন

: আজকে এক্টু যুদ্ধ লাগার আগের গল্পটা বলি। আরেকদিন যুদ্ধের সময়ের গল্প বলব নে।

— হয় হয়। কন। আপনের যেমনে সুবিধা। আমরা তো এম্নেও ইমাজিনারি ইস্টুডেন্টস। তারপর কি?

: ভুট্টো বিভিন্ন টালটি বালটি করতাসিল যাতে পার্লামেন্ট এর অধিবেশন না বসতে পারে। কারণ বসলেই তো হের লস। বিরোধী দলীয় নেতা হইতে হবে। ইয়াহিয়া খান ও আলোচনা কইরা যে কোন সুবিধা করতে পারতাসে না এই টা পশ্চিম পাকিস্তান এর সামরিক শাসক রা ঠিকই বুঝতাসিলেন। তাই তারা নিজেরা নিজেরা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ দের মিলিটারি দিয়া ক্যামনে টাইট দেওয়া যায় তার প্ল্যান ফাইনাল করার কাজ শুরু করলেন।

এর পরে যেদিন মুক্তিযুদ্ধ নিয়া লিখবো সেদিন দুইটা মিলিটারি অপারেশন এর প্ল্যানিং এর কথা বলব। দুইটাই পাকিস্তান আর্মির করা। একটা হইল Operarion-Blitz যেইটার প্ল্যান ফাইনাল করা হইসিল ২২শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ আর ইতিহাসের অন্যতম গণহত্যার পরিকল্পনা ওরফে Operation-Search Light যেইটার প্ল্যান ফাইনাল হইসিল ২০শে মার্চ, ১৯৭১।

আজকে এই পর্যন্তই থাক। তোমরা বাসায় যাও গিয়া। আমি কিছু করতে বলতাসি না তোমাদের। নো হোম ওয়ার্ক। যদি এগুলা সত্যি ই বুকের ভিতর আগুন ধরায় তাইলে এর পর থেইকা দেশ কে বুকের মধ্যেই অনুভব করতে পারবা, এত কষ্টে পাওয়া দেশ এমনি এমনি অন্যদের হাতে তুইলা দিবা না, দেশ নিয়া আর ডিপ্রেশন এ ভুগবা না আর জাতীয় সংগীত শুনলে এমনেই দাঁড়াইয়া যাবা। কারোর জন্য অপেক্ষা করা লাগবে না।