৭১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ৯, ২০১৫ । ১১.৪৩ পি.এম

একাত্তুর নাম্বার নোট এ একাত্তুর নিয়া লিখুম না এইটা হয় নাকি। একাত্তুর নিয়া আমার আগ্রহ এর পিছনে সবচেয়ে বেশি অবদান প্লেন এর। আমি শুধু এইটুক জানতাম যে মুক্তিযুদ্ধে দুইটা বিমান আর একটা হেলিকাপ্টার নিয়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠিত হইসিল। তারপর যখন দি এমেজিং ডিসি-৩ বিমান টা আগারগাও এ বিমান বাহিনী যাদুঘর এ আসলো আর আমি আর কারিব ভাই গিয়া টুইন ওটার বিমান টার ককপিট এ বসলাম, ডিসি-৩ টার ককপিট এ বসলাম, কেমন একটা ইলেকট্রিক শক লাগলো শরীর এ । তারপর শুনলাম “কিলো ফ্লাইট” এর কথা। আর দেন ইট অল স্টারটেড মেকিং সেন্স।

ঠিক করলাম , নাহ আমাকে এগুলার ইতিহাস জানতে হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে কি বিমান, কারা চালাইসে, ওগুলার রেজিস্ট্রেশন কি ছিল এইটাই যদি না জানি তাইলে কিয়ের প্লেন স্পটার হইসি।

প্রথমে একটু বাংলাদেশ বিমান বাহিনী কেমনে তৈরি হইল তার ইতিহাস টা কই। তারপর লিখুম বিমান বাহিনীর প্রথম তিন টা বিমান নিয়া গঠিত ইউনিট “কিলো ফ্লাইট” নিয়া। আর তারপরে এই তিনটা যুদ্ধ অনুপযোগী বিমান রে কিভাবে অসম্ভব টেলেন্টেড এভিয়েটররা কাস্টোমাইজ করল আর মুক্তিযুদ্ধের অপারেশন এ নামাইল সেই সুপার এক্সাইটিং গল্প। এক দিন এ তো সব লিখতারুম না, তাই কিস্তি কিস্তি কইরা লিখুম।

১৯৭১ সাল। আগস্ট মাস এর মাঝা মাঝি। কলকাতায় মিটিং বসে ভারত এবং বাংলাদেশ সরকার এর। ভারতের পক্ষ থেইকা আসছেন ডিফেন্স মিনিস্টার জগজীবন রাম আর ডিফেন্স সেক্রেটারি কে বি লাল। বাংলাদেশ এর পক্ষ থেইকা আছেন, প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমেদ, কমান্ডার ইন চীফ মোহাম্মদ আতাউল হক ওসমানী আর ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ গ্রুপ ক্যাপটেন আব্দুল করীম খন্দকার।

কয়েকটা অন্যান্য বিষয় নিয়া আলোচনার পর বাংলাদেশ এর পক্ষ থেইকা বলা হয়,

“আমাদের বিভিন্ন ধরনের পাইলট আছে। বিমানের বিভিন্ন ট্রেড এর টেকনিশিয়ান ও আছে। কয়েকটি বিমান যদি ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ কে দেওয়া হয় তাহলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠন করা যেতে পারে। এটা হলে স্থল বাহিনীর সাথে বিমান বাহিনীও অবদান রাখতে পারে। ”

জবাবে ভারতের ডিফেন্স মিনিস্টার জগজীবন রাম বলেন,

“দেখেন, আমাদের হয়ত খুব তারাতারি ই পাকিস্তান এর সাথে যুদ্ধে জড়ায় পরতে হবে। আবার চীন যদি এই যুদ্ধে পাকিস্তান এর মিত্র হিসাবে যোগ দ্যায় তাহলে আমাদের অতিরিক্ত যুদ্ধ বিমান থাকবে না আপনাদের দেয়ার মত”

আমার মনে হইসে একজন ডিফেন্স মিনিস্টার হিসাবে এই পর্যন্ত বলা উনার ঠিক ই ছিল । কিন্তু এরপর উনি যা বলেন তা আমার কাসে একটু বেশি বেশি ই লাগসে। ইটস লাইক কেউ আপনার কাছে সাহায্য চাইতে আসছে আর আপনি বললেন, ঠিক আসে সাহায্য করুম তয় একটু নাচো তো দেখি। তিনি বলেন,

“আপনাদের পাইলট রা যদি বিমান চালনা করতে চান, সেক্ষেত্রে তাদের ভারতীয় বিমান বাহিনীর পাইলট হিসাবে পরিচয় দিতে হবে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর ইউনিফর্ম পরতে হবে, ভারতীয় বিমান এর ল অনুসারে চলতে হবে এবং বিমান এর পিছনে ভারতের পতাকা আঁকা থাকবে”

আমরা বীর এর জাতি। এই সব ইন্সাল্ট হজম কইরা চইলা আসা আমাদের স্বভাব না। তাই ওই মিটিং এও আমাদের বাঘের বাচ্চা রা চুপ কইরা থাকেন নাই। গ্রুপ ক্যাপটেন আব্দুল করীম খন্দকার ভারতের এই প্রস্তাব এর জবাবে শুধু দুইটা লাইন বলেন,

“We are at war for an independent country. Our motive is not to fly planes only”

ভারতের এই দুইজন ব্যুরোক্র্যাট বাংলাদেশ কে হতাশ করলেও সাহায্য আসে অন্য দিক থেইকা। ১৯৭১ এ ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রধান ছিলেন এয়ার চিফ মার্শাল প্রতাপ চন্দ্র লাল। তিনি ভারতীয় হলেও তার শিকর আর এক্সটেন্ডেড শিকর ছিল বাংলাদেশে। উনার মা ছিলেন ময়মনসিংহের আর স্ত্রী লীলা লাল ছিলেন ফ্রম কুমিল্লা। গ্রুপ ক্যাপটেন আব্দুল করীম খন্দকার তার সাথে দেখা করে বিমান এর জন্য রিকোয়েস্ট করেন। তিনিও প্রথমে ডিফেন্স মিনিস্টার এর সুর এই কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু মা আর বউ এর প্রচণ্ড চাপ এ শেষ পর্যন্ত বলেন,

“ আমি আপ্রাণ চেষ্টা করব আপনাদের কয়েকটি বিমান দিতে। তবে শিওর থাকেন সেগুলা যুদ্ধ বিমান হবে না। সেগুলো হবে বেসামরিক বিমান। নামের খাতিরে বিমান বাহিনী গঠন করা যাবে শুধু”

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠনের প্রসেস টা এই খান থেইকাই শুরু হয়। তারা তাদের কথা রাখসিলেন। বাংলাদেশ কে তিনটা বিমান দিসিলেন। যার একটাও যুদ্ধ বিমান না। কিন্তু তাতে কি আমরা থাইমা গেসিলাম? তিনটা বিমান রে সুকেশে সাজাইয়া রাইখা মুক্তিযোদ্ধা দের খবর পাঠাইসিলাম যে আমাগো বিমান বাহিনী কাগজে আসে আকাশে নাই, মনোযোগ দিয়া যুদ্ধ কর? না। আমরা এই তিনটা নরমাল সিভিলিয়ান বিমান কে কাস্টোমাইজ কইরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করসিলাম। তৈরি হইসিল “কিলো ফ্লাইট”। সেই গল্পটা আরেকদিন বলি। আজকে থাক।

এই কাহিনী আমেরিকায় হইলে এত দিনে হলিয়ুড ডজন খানেক সিনামা বানায় ফালাইতো। আফসোস আমাদের কেউ এই গল্প গুলা কোনদিন বলেই নাই।

৭০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ৮, ২০১৫ । ১১.২২ পি.এম

আমি গত চার দিন রাত্রে নিজে রান্না কইরা খাইসি। রবি, সোম, মঙ্গল আর বুধ। রান্না করসি শুনলেই যেমন বিশাল কিছু কইরা লাইসি মনে হয় আসলে ঘটনা তেমন না। ছোট বেলায় যেমন পায়ের পাতা একটু উঁচা কইরা শইল্ডা আলগাইলেই মনে হয় লাফ দিয়া হিমালয় পার কইরা ফালাইসি এরম আরকি। জীবনেও রান্না না করা লুকের আত্ম আস্ফালন।

আমি তিনটা জিনিশ প্রেক্টিকালি রান্না করতে পারি এখন আর একটা জিনিশ থিউরিটিকালি। ভাত, ডাইল আর ডিম ভাজি রানসি চাইর দিন। আর আজকে আম্মার কাছে মুরগির মাংস রান্না করা শিখসি। মুরগির মাংস রান্না করাডা খালি দেখসি কেমনে কি কিন্তু এখনো নিজে রান্ধি নাই একবারও। তাই এখনো ঠিক রানতে পারি বলতে পারতাসি না।

রানতে গিয়া নতুন নতুন সব অভিজ্ঞতা হইতাসে। এইটা একটা ভাল দিক। মূলত এই জিনিষ টা পাইতেই রান্না শিখা শুরু করসি। যেমন আমার প্রথম দিন ডাইল রান্নার এক্সপেরিয়েন্স কই । আমি বাসায় দেখসি ডাইল রান্নার আগে আম্মা ডাইল ধয়। তাই আমি ঠিক করলাম আমিও ধুমু। একজন মানুষের জন্য রান্না তো, তাই বেশি না, মাত্র এক কাপ ডাইল লইলাম একটা বাটিতে। পানি দিলাম। হাত দিয়া লারাচারা করলাম। পানিডা ঘোলা হয়া গেল একটু পরে। এইবার সিঙ্ক এ নিয়া বাতি ডা কাইত কইরা দিলাম পানি ফালাইতে। বিয়াদ্দপ ডাইল গুলা সব পানির লগে ভাইস্যা গেলগাঁ। পুরাই “চেয়ে চেয়ে দেখলাম, তুমি চলে গেলে অবস্থা”। এরপর আবার ডাইল লইয়া, ধুইয়া , এইবার হাত দিয়া ডাইল ধইরা রাইখা পানিডা ফালাইসি।

আমি মনে করসিলাম বড় একটা ছাকনি কিনুম। এর পর পানি ফালানির সময় ছাকনি দিয়া ফালামু, তৈলে ডাইল আর ভাইসা যাইব না। আম্মা রে জিগাইসি, আর আম্মা বলসে আমি আমার বাপ এর মতই বেকুব। তারপর ডাইল ধোউনের সিস্টেম শিখায় দিসে। বলসে ডাইল তিন ধোয়া দিবি, চাউল ও তিন ধোয়া। আর মাছ ধৌনের আগে মাছ গুলায় লবণ মাখায় লবি। তাইয়ে মাছগুলার তেল তেলা আশটে ভাব টা যাইব গিয়া আর খস খসা হইব। তিন ধোয়া কেমনে এই প্রশ্নের জবাবে মহান আম্মা বলেন, একটায় ডাইল আর পানি নিয়া ধুবি, তারপর পানিটা ফালায় দিয়া ডাইল টা আরেক টা পাত্রে রাখবি। তারপর আবার পানি দিইয়া ধুইয়া ডাইল টারে আগের পাত্রে রাখবি। এমনে আবার। এই হইল তিন ধোয়া।

আমি আরেকটা সমস্যায় পরসিলাম পিয়াজ কাটা নিয়া। পিয়াজ ছিলতে গেলে দেখি সিস্টেম লস বেশি হয়। ছুল্কা সহজে না ছিল্লে জিদদের চুটে জুরে জুরে খাবলা মারি আর প্রায় অর্ধেক পিয়াজ উইঠা যায়। তারপর যা থাকে তা পুরাই বদখত দেখতে। অথচ বাসায় দেখসি কত সুন্দর কইরা পিস পিস কাটা। আম্মারে বললাম আম্মা পিয়াজ কাটা শিখায় দাও। আম্মা দেখাইল ফাস্ট এ পিয়াজের মুখ টা কাইটা লইতে তারপর ছুরি দিয়া ঘসা দিয়া দিয়া পিয়াজ টা ঘুরাইলেই কত সুন্দর ছিলা হয়া যায়। ছিলা পিয়াজ টা রে রাখতে হইব একটা পানি ভর্তি পাত্রে। পানি ভর্তি পাত্রে ক্যান রাখতে হইব এই ধরনের গুরুত্তপূর্ণ প্রশ্নের জবাবে মহান আম্মা জান বলেন, কারন এর পর যহন পিয়াজডি কুচি কুচি করবি তখন আর চোখ জ্বলব না। কত সহজ অথচ কাজের টিপস। আমি অবশ্য আরেকটা জিনিষ দেখসি। পিয়াজ কাটার সময় মুখ দিয়া শ্বাস নিলে চোখ জলে না। কিন্তু আম্মার সিস্টেম টা মোর ইজি।

আম্মা আমারে আজকে মুরগির মাংস রান্নার প্রেক্টিকাল ডেমো দেখাইসে। কি কি লাগবো সব নোট কইরা আনসি। বেশি কঠিন লাগে নাই। কালকে বাজার করুম আর রাইন্ধা লামু। কি আছে দুনিয়ায়।

যদিও আজকে শুক্রবার ছিল কিন্তু অফিস ডে এর অভ্যাস বসত অনেক সকাল বেলা ঘুম থিকা উইঠা জোম্বির মত বাসার মধ্যে হাটতাসি আর সামনে পরসে আম্মা। আমি হুদাই “হ্যাপি মাদারস ডে আম্মাআআআ” বইলা আম্মারে জরায় ধরসি। তারপর নিজেই লজ্জা পায়া যখন আইসা পরসি তখন শুনি যে আম্মা বলতাসে, তুই তো আমারে একটুও ভালবাসস না। মাইনসের পুলাপান অগো আম্মাগো লগে কত আল্লাদ করে। আর তুই বছরে একটা জাবরানি দ্যাস তাও আবার লজ্জা পাস।

আমি আরো লজ্জা পায়া বালিশে ডুইবা গেলাম।

 

৬৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ৭, ২০১৫ । ১১.৪৯ পি.এম

আগের লেখার সিকুয়েল বলা যাইতে পারে এইটারে। বলসিলাম মুক্তিযুদ্ধের দুই জন অগীত (unsung), অজ্ঞ্যাত বীর এর গল্প বলব। এদের নিয়া পড়তে পড়তে ভাবতাসিলাম এরকম যদি প্রত্যেক্টা অন ফিল্ড, অফ ফিল্ড মুক্তিযোদ্ধার কাহিনী সংকলন করা যাইতো, তাইলে আমাদের জন্য ইন্সপাইরেশন এর কত বড় এক্টা ভান্ডার হইত সেইটা।

আগের কিছু লেখায় আমি ব্যাখ্যা করসিলাম যে কেন পাকিস্তান এর বিমান গুলিকে ভারতের উপর দিয়া না আইসা কলম্বো হয়া আস্তে হইত। এই দীর্ঘ আকাশ পথে পশ্চিম পাকিস্তান থেইকা পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্য আনার কাজ টাকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এক্টা অপারেশন আকারে বিবেচনা করে যার নাম ছিল অপারেশন গ্রেট ফ্লাই ইন Operation Great Fly In.

Operation Great Fly In এ শুধু সামরিক বিমান ব্যাবহার করা হইত তা না। পাকিস্তানের ন্যাশনাল এয়ারলাইন্স পি আই এর বিমান গুলাতে যাত্রি বেশে সৈন্য দের নিয়া আসা হইত যাতে কেউ বুঝতে না পারে কিন্তু প্লেন স্পটার এর চোখ রে ফাকি দিতে পারে নাই। ততকালিন মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং প্লেন স্পটার আর্চার কে ব্লাড এর রিপোর্ট এ তেজগাও বিমান বন্দরে এই সৈন্য আসার ততপরতার খবর উল্লেখ পাওয়া যায়। এই সব ই আগের লেখা গুলায় বলা হইসে।

২৫ শে মার্চ এর গণহত্যার পর আবার Operation Great Fly In শুরু হয়। শুরু হয় পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য আনা। পি আই এর একজন বাংগালি ক্যাপ্টেন ছিলেন। উনার নাম নিজাম আহমেদ চৌধুরি। তিনি যে বিমানটা চালাইতেন সেইটা এক্টা Boeing 707. তার এক্টা রেগুলার ফ্লাইট ছিল করাচি টু ঢাকা। ফ্লাই করার আগে রেগুলার প্রসিডিউর অনুসারে ক্যাপ্টেন একবার লোড শিট এ চোখ বুলান। লোডশিট এ লেখা থাকে যাত্রি সংখ্যা, লাগেজ, ফুয়েল ইত্যাদির হিসাব।

সেদিনের লোড শিট দেখে ক্যাপ্টেন নিজাম আহমেদ চৌধুরির সন্দেহ হয়। এত যাত্রি তো করাচি টু ঢাকা যায় না ঈদ ছাড়া। একবার যাত্রি দের নিজ চোখে দেখে এসে তিনি বুঝে গেলেন এরা সাধারন যাত্রি না। প্রত্যেক্টা মানুষ মিলিটারি সদস্য। তার কেবিন ক্রু রাও ভয়ে আধমরা হয়ে ছিল। কিন্তু কিছু করার সাহস ছিল না কারো।

ক্যাপ্টেন নিজাম আহমেদ চৌধুরি এবার এমন কিছু করলেন যা তাকে এক ধাক্কায় একজন পাইলট থেকে একজন মুক্তিযোদ্ধায় রুপান্তরিত করল। তিনি এই ফ্লাইট নিয়ে ফ্লাই করতে অস্মীকার করলেন। মিলিটারি লিডার এর হাজারো হম্বি তম্বির পরও তিনি সীদ্ধান্ত থেকে এক চুল নড়লেন না। আর ক্যাপ্টেন না বললে কারো পক্ষে সম্ভব না এই প্লেন কে আকাশে ওঠানোর।

গ্রেফতার করা হলো নিজাম আহমেদ চৌধুরিকে। অন্য একজন পাকিস্তানি ক্যাপ্টেন কে দিয়ে উড়িয়ে নেয়া হলো সেই সৈন্য ভরতি বিমান। আর নিজাম আহমেদ চৌধুরিকে গুম করে ফেলা হলো। উনার স্ত্রী ছিলেন একজন জার্মান নাগরিক এবং সেই সময় উনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্থানে। উনি অনেক কষ্টে জার্মান দুতাবাসের মাধ্যমে, জার্মান সরকার এর মাধ্যমে পাকিস্থানের উপর চাপ সৃষ্টি করে নিজাম আহমেদ চৌধুরিকে জীবিত ফেরত পান। কিন্তু তাকে পি আই এ থেকে বরখাস্ত করা হয় দ্বায়ীত্বে অবহেলা(!)র কারনে।

নিজাম আহমেদ চৌধুরির এই অসীম সাহসিকতা অন্য পাইলট দের অনেক অনুপ্রানিত করে। পাকিস্তানী রা এইটা বুঝতে পারতেসিল যে যেই আগুন নিজাম আহমেদ চৌধুরি জালাইসেন তা দাবানল এর মত জইলা ওঠা সময়ের ব্যাপার মাত্র। পি আই এর চারজন পাইলট তখনো ঢাকা ত্যাগ করতে পারেন নাই। পাকিস্তানি মিলিটারি এপ্রিল এর প্রথম সপ্তাহে এদের গ্রেফতার করে এবং ৩য় সপ্তাহে এদের সবাইকে হত্যা করে। এরা হলেন:

১) ক্যাপ্টেন সিকান্দার আলী (সেক্টর চীফ পাইলট, ইস্ট পাকিস্তান)

২) ক্যাপ্টেন আবু তাহের মোহাম্মদ আলমগীর (F-27 চালাতেন)

৩) ক্যাপ্টেন এন এস হায়দার (F-27 চালাতেন)

৪) ক্যাপ্টেন আমিনুল ইসলাম (F-27 চালাতেন)

এই সব অকুতোভয় সামরিক এবং বেসামরিক পাইলট দের অনেক অনেক শ্রদ্ধা মনের গভীর থেকে।

৬৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ৬, ২০১৫ । ১০.১৬ পি.এম

মুক্তিযুদ্ধে প্লেন রিলেটেড জিনিশ গুলা ঘাইটা বাইর করতে আমার দুর্দান্ত উত্তেজনা লাগে। মনে হয় সাগরে ডুব দিয়া মনি মুক্তা তুলতাসি। আর আহা কি সাইজ সেই সব মনি মুক্তার। নিজের একটা পবিত্র দায়িত্ব মনে হয় এই সব লিখা যাওয়ার। এইটা পইড়া যদি একজন মানুষ ও ইন্সপায়ার হয়, মনে করে আরে উনি দেশের জন্য এত অসুবিধার মধ্যেও এত কিছু কইরা ফালাইল আর আমি তো স্বাধীন দেশে থাকি। আমি পারুম না ক্যান। তাতেই অনেক।

আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমরা একটা জয়ী জাতি। আমরা যুদ্ধ কইরা জিতসি, আম্পায়ার এর পারশিয়াল্টি দিয়া না। আমাদের যতই বাক্সে রাখা হোক আমাদের ভিতরের আগুন জ্বালাইয়া দেয়ার জন্য একজন এর জইলা উঠাই যথেস্ট। আমাদের মাটিতে পুঁইতা ফালায় ওরা। ভুইলা যায় আমরা বীজ। আমরা মাথা উঁচা কইরা দাঁড়াইলে ওদেরকেও ছাড়ায়া যাবো।

আজকে দুই জন মানুষের গল্প বলব। এদের নিয়া কোথাউ কোন গল্প উপন্যাস, নাটক, গান লেখা হয় নাই। এরা অগীত (Unsung e এর বাংলা কি জানিনা, তাই নিজেই একটা বানায় নিসি), অজ্ঞাত বীর। এরা সম্মুখ সমরে যোগ দেন নাই কিন্তু দেশের জন্য তার চেয়ে কম কিছুও করেন নাই।

প্রথম জন একজন সামরিক লোক। উনার নাম জাফর মাসুদ। উনি ছিলেন ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ঢাকা বেস এর বেস কমান্ডার এবং একজন এয়ার কমডোর। বেস এ সবাই তাকে ডাকতো মিঠঠি মাসুদ। ইনি এক মাত্র সামরিক অফিসার যিনি ঢাকার মাটিতে ইয়াহিয়া খান এর চোখে চোখ রেখে সরাসরি তার পরিকল্পনা কে ভুল বলে উচ্চারণ করার সাহস করেন। সেই ঘটনা টা একটু বলি।

আগের লেখা গুলাতেও বলসি ১৫ মার্চ পাকিস্তান এর সামরিক শাসক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকা আসেন শেখ মুজিবুর রহমান এর সাথে পাকিস্তান এর ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়া তৈরি হওয়া ডেড লক সিচুয়েশন নিয়া মিটিং করতে। বিমান বন্দর থেইকা তিনি প্রেসিডেন্ট হাউজ (বর্তমানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধা) এ যান । সেইখানে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন অফিসার রা উপস্থিত ছিলেন। বিমান বাহিনীর বেস কমান্ডার হিসাবে জাফর মাসুদ ও সেখানে ছিলেন। ইয়াহিয়া তাদের সাথে মিটিং এ যা বলেন তা বাংলায় লিখলে দাড়ায়

“চিন্তা করো না। মুজিবকে আগামীকাল আমি সোজা করে ছাড়ব। আমার ধারনাও খানিকটা তাকে দেব। তার প্রতি আমার শীতল মনোভাবও পৌঁছে দেব এবং দুপুরে খাবার জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানাবো না। তারপর পরশু দিন তার সাথে দেখা করবো এবং দেখবো তার প্রতিক্রিয়া কি। যদি তার আচরণ না বদলায় তাহলে তার উত্তরও আমার জানা আছে। ”

সবাই নিশ্চুপ । কারো কিছু বলার সাহসও নাই। এমন সময় লম্বা, জিম করা ফিট শরীরের একজন অফিসার এটেশন হয়া দাঁড়াইয়া কিছু বলার পারমিশন চাইলেন। ইয়াহিয়া অনুমতি দিলে এই অফিসার বললেন , “স্যার সিচুয়েশন খুবি সেন্সেটিভ। এই সাবজেক্ট টা একটা পলিটিকাল সাবজেক্ট আর পলিটিকালি ই এইটা সল্ভ হওয়া উচিত। আদারওয়াইজ থাউজেন্ডস অফ ম্যান, উইমেন এন্ড চিলড্রেন উইল বি এক্সটিঙ্কট।“

ইয়াহিয়া এরকম সরাসরি কনফ্রন্টেশন এর জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি শুধু বললেন,

“আমি জানি, আমি জানি”

সেদিনের এই সাহসী অফিসার ই জাফর মাসুদ। ২৭শে মার্চ তিনি বেজ এর সব বাঙ্গালি অফিসার দের ডাকলেন । অফিসার রা তার কাছে তাদের নিরাপত্তা নিয়া টেনশন এর কথা বলল। তিনি ওইদিন বলসিলেন

“No One will Touch My Men or Officers Before They Kill Me”

এইটা শুধু কথার কথা ছিল না। তার ঠিক দুই দিন পর ২৯ শে মার্চ, ১৯৭১। চট্টগ্রামের কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্রে বিমান হামলা চালানোর জন্য লিউট্যানেন্ট জেনারেল টিক্কা খান বিমান বাহিনীর সাহায্য চেয়ে পাঠান। এয়ার কমোডোর জাফর মাসুদ সাহায্য দিতে অস্বীকার করেন। তিনি রিপ্লাই পাঠান

“This is a civilian area and my pilots cannot pick up military targets”

৩০শে মার্চ তিনি বেজ এর সবাইকে ডাইকা বলেন ,

“তোমরা জান যে সেনাবাহিনী তৎপরতা চালাচ্ছে। আমি এয়ার সাপোর্ট দিতে অস্বীকার করেছি। কিন্তু এটা কতদিন ঠেকিয়ে রাখতে পারবো জানি না। সকল বাঙ্গালী পাইলট কে সব মিশনে যাওয়া থেকে অব্যাহতি দিচ্ছি এবং যে সমস্ত বাঙালি টেকনেশিয়ান এ সমস্ত বিমানে কাজ করতে চায় না তারা অনিদ্রিস্ট কালের জন্য ছুটিতে যেতে পারে।“

এপ্লিলের ৩/৪ তারিখে প্রথম বিমান হামলা চালানো হয় পাবনার আশে পাশে। কিন্তু এয়ার কমোডোর এর নির্দেশ ছিল কোথাও যদি লোক জমায়েত দেখা যায় প্রথমে যেন ওয়ার্নিং শট ফায়ার করা হয় যাতে জনতা ছত্রভঙ্গ হওয়ার সুযোগ পায়। এই ভাবে উনি হাজার হাজার মানুষের প্রান বাঁচান।

এ সবের জন্য ইয়াহিয়া খান এর বিশেষ নির্দেশে এয়ার কমোডোর জাফর মাসুদকে বদলী করে পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং পরে চাকরী থেকে বরখাস্ত করা হয়।

আজকে এই পর্যন্ত থাক। আমি মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আরেকজন বেসামরিক পাইলট এর ব্যাপারেও ইনফরমেশন যোগার করসি। উনার বীরত্ব নিয়াও আজকে লিখব ভাবসিলাম। কিন্তু লেখা টা বড় হয়া যাবে তাই লিখলাম না। পরের কোন লেখায় লিখব নে।

তথ্যসূত্রঃ

বইঃ

বাংলাদশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলীল পত্র, ৯ম খন্ডে এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ খাদেমুল বাসার এর সাক্ষাতকার
Witness to Surrender by Sidduqe Salik, University Press Ltd.
বিহঙ্গের ডানা – মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া

ইন্টারনেট

আজকে ইন্টারনেট ঘাটতে পারি নাই। কিউবির ব্যালেন্স শ্যাষ।

৬৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ৫, ২০১৫ । ১১.৫২ পি.এম

আজকে একটু আবার আর্ট হিস্টরি তে মুভমেন্ট গুলা বা ইজম গুলা নিয়া কথা বলা যাক। এর আগে কিউবিজম আর ইম্প্রেশিনিজম নিয়া প্যাঁচাল পারসিলাম। ইচ্ছা ছিল এর পর সারিয়ালিজম(Surrealism) নিয়াও কথা কমু। কিন্তু পড়তে গিয়া দেখলাম সারিয়ালিজম (Surrealism ) মুভমেনট টা আসছে দাদাইজম (Dadaism) থিকা । তাই বুঝলাম যে দাদাইজম না পইড়া সারিয়লিজম বুঝতে যাওয়াটা ইশকুলে না পইড়া এক্কেরে কলেজে ভর্তি হউনের মত হইব। তাই আজকের আলু”ভরতা”চনার বিষয় দাদাইজম (Dadaism) ।

আমি ফাস্ট এ মনে করসিলাম কি, দাদাইজম মুনে লয় কারো দাদা থিকা ইন্সপায়ার হয়া আইসে । আই মিন কুনু বুইরা আরটিশ দাদায় কৈসে ওই অখন থিকা এমনে আঁকবি। আর শুরু হয়া গেসে দাদাইজম। কিন্তু আসল ঘটনা তা না। দাদা ইজম এর লগে দাদা, পরদাদা কারোরই কুনু সম্পর্ক নাই।

আগে একটু ইতিহাস কই, তারপর দাদাইজম কি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করতাসি। দাদা শব্দটার আসলে কোন মানে নাই। অনেকে বলেন এইটা দাদা ইজম এর দাদাজ অর্থাৎ রোমানিয়ান আর্টিস্ট ত্রিস্তান যারা (Tristan Tzara) আর মারসেল জেকো (Marcel Janco) এর রোমানিয়ান ভাসায় হ হ অর্থাৎ দা দা বলা থিকা আসছে। আবার কেউ কেউ বলেন এক দল লোকের মিটিং এর সময় একটা পেপার নাইফ আতকা একটা ফ্রেঞ্চ টু জার্মান ভাষার ডিকশনারি তে আটকায় গেসিল দাদা শব্দ টার উপর, একটা জার্মান শব্দ যার অর্থ শখের ঘোড়া।

দাদাইজম এর উৎপত্তি হয় ১৯১৬ সালে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হইসে তখন। আর্টিস্ট দের মনে তখন যুদ্ধের ভয়াবহতার ছাপ। এত নিষ্ঠুরতা দেখার পর স্বাভাবিক ভাবেই আর্টিস্ট দের বাস্তবতা কে আর বাস্তবতা মনে হইতাসিল না। তাদের মনে হইতাসিল কি হবে এই সব নন্দন তত্ত দিয়া , কি হবে এই সব সুন্দর সাজানো গোছানো আর্ট দিয়া যদি শেষ পর্যত্ন সবই ধ্বংস হয় মানুষের হাতে। তাই তারা এই ধ্বংস কে , এই সব নিয়ম, এই সব যুক্তি কে ভাইঙ্গা ফেলা নিয়া আসা শুরু করলেন তাদের সৃষ্টি তে। আর এই নিয়ম কে বুড়া আঙ্গুল দেখানো আর্ট মুভমেন্ট এর নাম ই হইল দাদাইজম।

দাদাইজম একটা নেগেটিভ প্রতিক্রিয়া সব ভয়াবহতার বিরুদ্ধে। এই খানে শিল্পী প্রতি ধাপে আর্ট অবজেক্ট তৈরির প্রচলিত ধারনা কে ভাঙ্গেন। দাদাইজম “কারন” এবং “যুক্তি” কে বাতিল কইরা দ্যায়। বরং অর্থহীনতা, অযৌক্তিকতা আর মনের স্বাধীনতা কে মাথায় তুলে রাখে। দাদাইজম মুভমেন্ট এর ছবি দেখলে মনে হয়, শিল্পীর মনে হয় মাথা খারাপ। এরম ভাইঙ্গা লামু চুইরা লামু ছবি আক্সে ক্যারে?

কিন্তু দাদা ইজম এইটাই। ভাঙ্গা নিয়ম রে “কচুডাহ” দেখায়া নিয়ম ভাঙ্গা। দাদাইজম স্টাইল এ কয়েকটা জিনিষ খুবি প্রমিনেন্টলি দেখা যায়। একটা হইলে কোলাজ (Collage)। দাদাইস্ট রা প্রায় ই অনেক ছবি কাইটা টাইটা জুরা লাগাইয়া একটা নতুন ছবি বানান। আরেকটা হইল মন্টাজ(Montage) । দাদা ইস্টরা তুলি আর রঙ খুবি কম ব্যাবহার করে । বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় দাদা ইস্ট রা রঙ তুলির বদলে কুড়াইয়া পাওয়া জিনিশ , কাগজ কাটা , ছবি কাটা ইত্যাদি দিয়া একটা মন্টাজ তৈরি করেন। ওইটাই তাদের আর্ট এর প্রচলিত ধারনা ভাঙ্গার চেষ্টা।

দাদা ইজম এর আরেক নাম তাই এন্টি আর্ট। যাদের হাত ধইরা দাদা ইজম এর পথ চলা শুরু তাদের কিছু নাম দিয়া এই লেখা শেষ করি। পারলে গুগুলে সার্চ দিয়া তাদের কাজ দেইখেন। Hugo Ball যিনি দাদা ইজম এর বাপ বলা যায় , Emmy Hennings, Tristan Tzara, Jean Arp, Marcel Janco, Richard Huelsenbeck, Sophie Täuber, আর Hans Richter।

৬৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ৪, ২০১৫ । ১১.৪৩ পি.এম

আমি কেন জানি অপরিচিত কারো কাছ থেইকা প্রথমেই তুমি বলা সহ্য করতে পারি না। কেমন আছো ব্রো শুনলে আমার তার প্রতি অর্ধেক আগ্রহ যায় গিয়া। আমি কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করি না। সুন্দর কইরা, জি আছি, আপনি ভাল? বলি । কিন্তু তার লগে কথা বার্তা চালায় যাওয়ার কোন কারন আর পাই না। অনেক বড় কেউ হইলে অন্য ব্যাপার। আমার ফ্রেন্ডের বাপ মা বা আমার বড় মামা, বড় চাচা আমারে কেমন আছো বাবা বলতেই পারে। কিন্তু যার লগে আজকে প্রথম কথা বলতাসি সে তুমি কইরা বললে আমি নিতে পারি না জিনিষ টা।

আমার সাথে যারা ইন বক্স এ কথা বলেন তারা হয়তো রিকগ্নাইজ করতে পারবেন যে এই বেপারটা অনেক বার হইসে অনেক এর সাথে

— ভাইয়া আমি আপনার অনেক ছোট, তুমি কইরা বলেন
কিন্তু আমি তো সবাইকে আপনি কইরা বলি
— তবু ভাইয়া, আপনি বললে বুড়া বুড়া লাগে
আচ্ছা ঠিকাছে। চেষ্টা করবো তুমি বলতে।

অনেকে ঢং মনে করেন। কিন্তু আমি আসলেই পারি না। রিকশাওয়ালারেও তুমি বলতে পারি না, হোটেল এর মামাকেও না, স্কুল এ পড়া ফেসবুক এর পিচ্চি বন্ধু টাকেও না।

কিন্তু আমার মনে হয় আমাদের ভিতর জিনিষ টা বেশ জোরে সোরেই ঢুকায় দেওয়া হইতাসে যে তুমি বলা ইজ ওকে। তুমি বলা ইজ ফ্রেন্ডলি। মোবাইল ফোন কোম্পানির বিজ্ঞাপনে , বন্ধুরা তোমাদের জন্য নিয়ে এলাম দারুণ এক অফার কিংবা রেডিও তে পাকনা আর জে এর এই মাত্র আমাদের সাথে জয়েন করলে অমুক, সাথে আছো সাতক্ষিরা থেকে অমুক, চট্টগ্রাম এর বন্ধু তমুকও আছো সাথে, তোমাদের মনের কথা পাঠিয়ে দাও এই নম্বরে এখুনি। তোমাদের জন্য এখন আছে গান…

এগুলা আমার আমার ভাল্লাগে না। যত যাই হোক ওরা আমার কাছে একটা জিনিশ বেচতে আসছে। সেইটা সিম ই হোক আর রেডিওকে দেওয়া আমার টাইম ই হোক। আমার কাছে জিনিষ বেইচা ওরা পয়সা পাইতাসে। তাইলে আমারে সম্মান দিয়া কথা বলতে ওদের সমস্যা কি? কখনো কি দেখসেন মার্কেট এ গেসেন আর দোকানদার , এই আসো, আসো, তোমার জন্য অমুক অফার আছে বলসে আর আপনি ওই দোকানে ২য় বার গেসেন? তাইলে বিজ্ঞাপনে ক্যান আমারে তুমি বলবে?

আমি জানি, আমারে অনেক বার অনেকে বলসে, তুমি আপনি কি আবার সব ই ত ইউ। কিন্তু আমরা তো ইউ বলতাসি না। বলতাসি তুমি আপনি। যদি ইউ বলেন তাইলে ইউ তেই থাকেন। কিন্তু যখন তুমি আপনি তে নামবেন তখন চেষটা করেন অপর পক্ষের মনে একটা ইম্প্রেশন ক্রিয়েট করতে যে আপনি তারে সম্মান দেন। তার থিকা আপনি অনেক হেডম এইটা প্রমান কইরা আখেরে আপনের কোনই লাভ নাই।

প্রথম কথা তেই কেমন আছো ব্রো শুনতে বেশি ভাল্লাগে নাকি কেমন আছেন ভাই শুনতে বেশি ভাল্লাগে একটু ভাইবা দেখেন। বিজ্ঞাপন আর রেডিও টিভির শিখাইয়া দেওয়া রেস্পেট এর ধারনা দূরে সরাইয়া একটু কমন সেন্স দিয়া রেস্পেক্ট এর ধারনা পাওয়ার চেষ্টা করেন।

ট্রাস্ট মি, অনুমুতি নিয়া তুমি বলার ফিলিংস অনেক অনেক বেটার।

৬৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ৩, ২০১৫ । ১১.৩৯ পি.এম

আমার কাজ কারবার দেখলে মনে হইতে পারে আমি আসলে অনেক কিছু পারি। কিন্তু সত্যি টা হইল আমি অনেক কিছুই পারি না। আমি অনেক কিছু করার চেষ্টা করি। এইটারও একটা ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। আমার যখন মন খারাপ হইতে হইতে একদম সব অবশ হয়া যায়, মনে হয় সারাদিন শুইয়া থাকি, তখন আমি বুঝি যে আমার নতুন কিছু একটা করা লাগবো। নতুন কিছু একটা শুরু করার যা অপেক্ষা, আর সাথে সাথে থাইমা থাকা মন তার নিজের মত দৌড়ানো শুরু কইরা দ্যায়।

হয়তো নতুন কিছু একটা নিয়া পড়া শুরু করলাম, মুক্তিযুদ্ধ বা জয়নুল আবেদিন, ছোট একটা সূত্র থেইকা কই কই চইলা যাইতে চায় মন। গভীরে যায়, মহাকাশে যায়। মুল জিনিষ টা মোটামুটি বুইঝা যাওয়ার পর শুধু ডিটেইল জানতে চায় আরো।

হয়তো নতুন একটা বাজনা শেখার চিন্তা করলাম। মন নিজে নিজেই চালায় আমারে দিয়া গুগল সার্চ, ইউটিউব সার্চ। কেমনে বাজায় অন্যরা, সব চেয়ে সোজা গান কি আছে? যা বাজাইলে মনে হবে, বাহ, মজা তো। আরো শিখা লাগবে।

আচ্ছা একটু রান্না কইরা দেখি কেমন লাগে। কত বড় একটা দুনিয়া রেসিপির দুনিয়া। এখনো দেখলাম ই না তার কিছু। আর ফলাফল তো পেট এ যায় সরাসরি।

আচ্ছা প্লেন ব্যাপার টা এত অদ্ভুত ক্যান। কেমন জীবন্ত লাগে সবকয়টারে। এক একটার ব্যাক্তিত্য আবার এক এক রকম। কেমনে ওড়ে এই লোহার সিন্দুক আকাশে?

এই ভাবে মনের ট্রেন গাড়ি নিজেই লাইন খুইজা নিয়া চলতে থাকে । আমার শুধু ইঞ্জিন টা লাগায় দিতে হয় আমার এই মন খারাপ করা বগিটার সাথে। আমি এইটা চোখ বন্ধ কইরা বলতে পারি, নতুন কিছু শুরু করার শ্রেষ্ঠ সময় যখন মন খারাপ থাকে। আমার যা কিছু করার চেষ্টা সব অসম্ভব মন খারাপের সময়ে।

মন খারাপ এক সময় ফিটকিরির মত তলানি তে যাইবো কাইল হোক পরশু হোক কিন্তু লাভের মধ্যে হাতে থাকবো এই নতুন শুরু করা জিনিষ টা। পেন্সিল এর সেই সবাই জানে গল্প টা আছে না?

বলত বাবুউউ, ১৯ আর ১১ যোগ করলে কত হয়? সোজা তো। দাঁড়াও আমি হেল্প করি। প্রথমে যোগ কর ৯ আর ১। ৯ আর ১ এ হইল ১০। ১০ এর ০ বসাও। এইতো গুড। এবার হাতে থাকলো কি থাকলো বল তো?

ফ্যালফ্যাল দৃষ্টি শেষ হইলে উত্তর আসলো, স্যার, হাতে তো থাকলো , পেন্সিল।

এই ভাবে মন খারাপের শূন্য টা বসে যাক। সমস্যা নাই। জগত সংসার অন্ধকার কইরা দেক। মইরা যাইতে ইচ্ছা হোক। সমস্যা নাই। কিন্তু এই সময় টায় একটা নতুন কিছু শুরু করলে মন খারাপের ঝড় টা থামলে হাতে থাকবে পেন্সিল।

আমার পেন্সিল অনেক গুলা। এই ই। আর কিছু না।

৬৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ২, ২০১৫ । ১১.৪৯ পি.এম

মুক্তিযুদ্ধ নিয়া আমরা এত আজিব সব ধারনা নিয়া বড় হইসি। আমাদের কাছে এত পচানি হইসে এত পচানি হইসে মুক্তিযুদ্ধ কে যে আমাদের আর মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনতে ভাল্লাগে না। মুক্তিযুদ্ধ শুনলেই মনে হয় কিছু সাদাকালো ছবি, কিছু লাশের ছবি, আর কে আসল হিরো এই যুদ্ধের তা নিয়া কামরা কামড়ি। আমাদের কামরা কামড়ি দেখতে ভাল্লাগে না তাই আমরা মুক্তিযুদ্ধ রে একটা বিতর্কিত বিষয় বইলা এরায়া যাই।

ঠিক যেমনে এরায়া যাই ধর্ম নিয়া বিতর্ক গুলারে ঠিক অমনে। আমাদের ভাবনা এমন যে, থাক বাবা পরে বঙ্গবন্ধু রে ভাল লাগলে মাইনসে কইব আওয়ামী লীগ আর জিয়া রে ভাল্লাগ্লে মাইনসে কইব বি এন পি । থাক বাবা, আমি ভোট ও দিতে যাই না গেঞ্জাম এর ডরে, আমার এসব ক্যাচাল এ পইরা লাভ নাই। আমার মহান মুক্তিযুদ্ধ লেখা টি শার্ট আসে, রিষ্ট ব্যান্ড আসে। ব্যাস, আর কিছু লাগতো না।

আরো ঝামেলা হইসে আমাগো এক পক্ষ আয়া শিখাইসে মেজর জিয়া ই সব। আরেক পক্ষ আইসা শিখাইসে আরে জিয়া ক্যাডা আবার, ভারত হেল্প না করলে তো আমরা জিততেই পারতাম না। মাঝখান দিয়া আমরা ভাবসি হুর এই ভেজাল এ যামুই না, এই সব কি “মুক্তিযুদ্ধ ফুদ্ধ”, এর চেয়ে গেম অফ থরন দেহি। মানুষ ইস্মারট বলবে।

মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান আমি অস্মীকার করতাসি না। কিন্তু আমাদের জানানোই হয় নাই যে এই ভারত মুক্তিযুদ্ধের শুরু তে কি করসিল। ১৯৭১ এ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অফ স্টাফ ছিলেন মেজর জেনারেল জে,এফ,আর জ্যাকব। উনার লেখা একটা বই আসে, Surrender at Dacca . এই বইটা ইউনিভার্সিটি প্রেস থেইকা প্রকাশিত হইসে। এই বই এর পেজ ৪৭ এ উনি কি বলসেন তা জানা দরকার।

কংগ্রেস সরকারের ভুল বিশ্লেষণ এর ফলে ২৫ শে মার্চ এর পরে গঠিত মুক্তিযোদ্ধা দের আশ্রয়, সাহায্য, সহযোগীতা এবং বাংলাদেশ স্বাধীন করে দেবার দায়িত্ব দেয়া হয় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী কে (BSF – Border Security Force)। চিন্তা করসেন অবস্থা? এক টা দেশে যুদ্ধ লাইগা গেসে, মিলিটারি মানুষ মারতাসে, আর প্রতিবেশী দেশ আমাদের উদ্ধার করতে দায়িত্ব দিসে তাদের বি এস এফ রে, মিলিটারি রে না।বি এস এফ এর ডাইরেক্টর জেনারেল খসরু ফারামুরজ রুস্তমজী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কে বোঝাতে সক্ষম হন যে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে বি এস এফ বাংলাদেশ স্বাধীন করে দেবে। কত বড় বেকুব চিন্তা করেন।

এপ্রিলের মাঝা মাঝি ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা করার জন্য মন্ত্রীসভার এক বৈঠক ডাকেন। সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ জেনারেল এস এইচ এফ জে মানেশক কে এই সভায় ডাকা হয়। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাকে তখনি বাংলাদেশে সৈন্য পাঠাতে নির্দেশ দেন। কিন্তু জেনারেল মানেকশ হাবি যাবি যুক্তি দিয়া বাংলাদেশে ভারতীয় সামরিক অপারেশন শুষ্ক মৌসুম পর্যন্ত মানে শীতকাল পর্যন্ত বিলম্বিত করাতে সক্ষম হন।

ভারত কে জাজ করার অবস্থায় আমি নাই। ওদের দেশ, ওদের মিলিটারি। ওরা যখন ইচ্ছা পাঠাবে। কিন্তু খারাপ লাগে যে এই সাহায্য টা ওরা আগে করলে মুক্তিযুদ্ধ হয়তো আরো কিছুটা শরটার হইত। আরো অনেক গুলা প্রাণ বাচতো মানুষের। আর গর্ব লাগে যে ভারত এর বিএসএফ না আসুক বা মিলিটারি না আসুক, ডিসেম্বর আসার আগে আমরা কিন্তু হাইরা যাই নাই, আত্মসমর্পণ করি নাই। আমরা লইড়া গেসি শেষ রক্ত বিন্দু পর্যন্ত।

এই খানে একটু বইলা রাখি, আমার মুক্তিযুদ্ধা নিয়া পড়ালেখা শুরু মূলত প্লেন বিষয়ক আগ্রহ থেইকাই। আমি মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইতিহাস আর ডিটেইল জানতে পড়ালেখা শুরু করসিলাম। আস্তে আস্তে এই নিয়াও লিখব ইনশাল্লাহ। কিন্তু আগে পইড়া বুইঝা লই বেপারটা। তবে একটা কথা প্রথমেই পরিষ্কার জানা দরকার যে

১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীই সর্বপ্রথম বাংলাদেশের ভিতরে পাকিস্তানি অবস্থানের উপর আক্রমণ করে, ভারতীয় বিমান বাহিনী না।

৬৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১, ২০১৫ । ১১.২৫ পি.এম

বাসায় বইসা বোরড হইতে হইতে তক্তা হয়া যাইতাসিলাম, তাই রাইত ৮ টার দিকে বাইর হইলাম খাইতে। হুটেলে খাইয়া দায়া ফিরতাসি, হঠাত পাশে পড়লো একটা চুলার দুকান। বাইরে বিভিন্ন সাইজ এর চুলা সাজানি। এক বুইরা ব্যাটা বইসা খুবি উদাস মুখে কান চুল্কাইতাসিল। আমি জিগাইলাম আঙ্কেল চুলা কত? উনি ততধিক উদাস গলায় বললেন, কুনটা? ধরেন। আমি কইতাসি। আমি হালিম এর বাটি এর মত একটা একটা কইরা চুলা ধইরা এইডা কত এইডা কত কইলাম আর উনি দাম মনে করার ট্রাই করতে থাকলেন। একটারও কইতে পারলেন না। বুইরা পুরা হুদাই।

পরে উনার ছেলে আইসা উদ্ধার করল। আমারে একটা ক্যাটালগ ধরায়া দিয়া কইল “সবি দেইকা মডেল চয়েস করেন”। আমি তো মডেল এর ক্যাটালগ শুইনা খুশি হয়া গেসিলাম। আমি ভাবসি না জানি কত সেক্সি মঠেল বিতরে পোজ দিয়া ছবি তুলসে। কিয়ের কি। খালি আখাস্তা চুলার ছবি আর মডেল নাম্বার।

বিমর্শ মনে একটা মুটামুটি দেখতে চুলা চয়েস করলাম। জিগাইলাম, এইডা লাগাইতে কি মেস্তুরি লাগবো? ব্যাডা আমারে কইল, “আপনি কি বাইরে থাকতেন আগে?” আমি তো থতমত। জি না। বাইরে তো থাকতাম না। ভিত্রেই থাকতাম। ব্যাডা কইল, না বাইরে মানে বিদেশে থাকতেন? আমি কইলাম, নাহ দেশেই। উনি কইল, তাইলে একাই পারবেন। আর কুনু অসুবিধা হইলে, এই যে ইঞ্জিনিয়ার এর নাম্বার, এরে ফুন্দিবেন।

চুলার মেস্তুরিও ইঞ্জিনিয়ার, আমিও ইঞ্জিনিয়ার। খুবি মে দিবস পালন করা হইসে। এখন নিজের চুলা নিজেই লাগাইতাসি। বেশ পরিশ্রম হইতাসে। চুলার লগে সেলফি ও তুলসি। দুজনেই ঘেমে অস্থির স্টাইল এর সেলফি। লাগানি শেষ হইলে “ছোটদের চুলা লাগানি শিক্ষা” এল্বাম আপলোড করা হবে (ছবি সহ)।

৬২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৩০, ২০১৫ । ৯.৫৮ পি.এম

অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight) এর শেষ পর্ব আজকে। এই খানে বইলা রাখা বলা ভাল যে এই লেখার কিছুই আমার নিজের লেখা না। বই থেইকা, ইন্টারনেট থেইকা সরাসরি তুইলা দেওয়া। আমি শুধু নিজের যেমনে বুঝি অমনে ধারাবাহিক সাজাইসি ঘটনা গুলা। লেখার তথ্য সূত্র গুলা আমি উল্লেখ করসি প্রথম পর্বের পরেই। আমার শুধু অবাক লাগে, আমাদের কত কিছু জানতে দেওয়া হয় নাই। এগুলা না জাইনাই আমরা বড় হয়া গেসি।

শুধু এই ঘটনা দিয়াই একটা সিনামা বানায়া ফালানো যাইত। কিন্তু আমাদের সেই সিনেমা আজও দেখার সৌভাগ্য হয় নাই।

বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার অভিযান, রাত ১ টা ৩০ মিনিট
ধানমন্ডি ৩২ নং সড়ক, ঢাকা, পূর্ব পাকিস্তান

শেখ মুজিবর রহমানের বাড়ির এবং বাড়ির আশেপাশের রুটের একটি নকশা তৈরী করা হলো। ৩ নং এসএসজির একটি কোম্পানীকে তিনটি প্লাটুনে ভাগ করা হলো। একটি ক্যাপ্টেন সাঈদ, একটি ক্যাপ্টেন হুমায়ুন এবং একটি মেজর বেলালের নেতৃত্বে। যদিও মধ্যরাতে অভিযানের পরিকল্পনা ছিলো, কিন্তু ক্যাপ্টেন হুমায়ুনের রেকী পার্টি ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর সড়কে রোডব্লক তৈরী করা হচ্ছে খবর আনলে সময় এগিয়ে এনে রাত ১১ টায় করা হয় যাতে ঠিক সময় মত সব বাধা পেরিয়ে পৌছানো যায়।

ক্যাপ্টেন হুমায়ুনের প্লাটুন বঙ্গবন্ধুর বাড়ীর পাশের বাড়ীর ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে .দেয়াল টপকে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে প্রবেশ করে। কেউ একজন গুলি করে এবং কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে জানা যায় যে সে ছিলো বাড়ির গার্ড, যাকে মুহুর্তেই হত্যা করা হয়। পুর্ব পাকিস্তান পুলিশের গার্ড তার ভারী তাবুর পোল সহ তুলে নিয়ে নিজেকে আড়াল করে লেকের পানিতে ঝাপিয়ে পরে।

তল্লাশী দল এরপর বাড়িতে প্রবেশ করলো। শেখ মুজিবের এক গার্ডকে পাশে একজনের পাহারায় ভেতরে গাইড করে নিয়ে যাবার জন্য বলা হলো। কিছুদুর যাবার পরেই সে হুট করে রামদা নিয়ে আক্রমন করতে যায়, কিন্তু পেছন থেকেও যে তাকে লক্ষ্য করা হচ্ছে সেটা সে জানতোনা। তাকে গুলি করে থামিয়ে দেয়া হল, যদিও সাথে সাথে হত্যা করা হয়নি। এরপর তল্লাশী দল নীচতলা এবং উপরতলার সব কক্ষ সার্চ করে এবং সব ফাকা পায়। কেবল উপরতলার একটি কক্ষ ভেতর থেকে বন্ধ পায়। মেজর খান মেজর বেলালকে কক্ষের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকতে বলেন এবং ক্যাপ্টেন সাঈদের দলের কাছে লোকজন জড়ো হবার কোন খবর আছে নাকি জানতে পাঠান। হুট করে তিনি একটি পিস্তল ফায়ারের শব্দ পান এবং এরপর গ্রেনেড বিস্ফোরণের। তিনি ধরে নেন কেউ না কেউ শেখ মুজিবকে হত্যা করে ফেলেছে। দৌড়ে তিনি উপরে যান।

এরপর অথবা ওই সময়ে কি হয়েছিলো তা মেজর জেড এ খান তার, ‘The Way It Was’ বইতে ঠিক এভাবে উল্লেখ করেন,

‘I later learnt that after telling Major Bilal to break down the closed door upstairs when I went to check on the vehicles, someone had fired a pistol shot into the room where Major Bilal’s men were collected, luckily no one was hit. Before anyone could stop him a soldier threw a grenade into the veranda from where the pistol shot had come and followed it with a burst from his sub-machine gun. The grenade burst and the sub-machine gun fire made Sheikh Mujib call out from behind the closed room that if an assurance was given that he would not be killed he would come out. He was given an assurance and he came out of the room. When he came out Havaldar Major Khan Wazir, later Subedar, gave him a resounding slap on his face.’

এর পরের ঘটনার বর্ননায় মেজর খান বলেন,

“I asked Sheikh Mujib to accompany me, he asked me if he could say goodbye to his family and I told him to go ahead. He went into the room where the family had enclosed themselves and came out quickly and we walked to where the vehicles were. I sent a radio message to inform the Eastern Command that we had got Sheikh Mujib.”

এর বাইরে এই সাধারন বর্ননা উল্লেখ করা যেতে পারে,

“Sheikh Mujib then told me that he had forgotten his pipe. I walked back with him and he collected his pipe. By this time Sheikh Mujib was confident that we would not harm him and he told me that we had only to call him and he would have come on his own.”

কয়েকঘন্টার মধ্যেই বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০ পরিবহন বিমানে করে শেখ মুজিবকে পশ্চিম পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে নিয়ে যাওয়া হবে এটিসি অফিসার স্কোঃ লীঃ খাজা, সিনিয়র অপারেসন্স অফিসার উইং কমান্ডার খাদিমুল বাশার, ডিরেক্টর অব এয়ারপোর্ট এবং ফ্লাইট সিকিউরিটি স্কোঃ লী হামিদুল্লাহ খানের নাকের সামনে দিয়েই, তারা কিছু বুঝতেও পারেননি কি হচ্ছে, বুঝলেও সে মুহূর্তে করবার কিছুই ছিলোনা। পশ্চিম পাকিস্তানে অবতরনের পর শেখ মুজিব জীবিত শুনে তার ব্রিগেড কমান্ডার তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি একে প্রথমেই হত্যা করলেনা কেন?”

কোন রকম অসুবিধা ছাড়াই। সি-১৩০ বিমানটি উড়ে যাবার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই জেনারেল হেডকোয়ার্টার সহ প্রায় সমস্ত ইউনিটে বার্তা পৌছে গেলো,

The Big Bird is in the Cage, I repeat, The Big Bird is in the Cage
“বড় পাখিটি খাঁচায় বন্দী হয়েছে”।