৮১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১৯, ২০১৫ । ১১.১৯ পি.এম

ইদানীং স্কেল মডেলিং নিয়া পড়াশুনা শুরু করসি আর বেপারটা বিরাট ইন্টারেস্টিং লাগতাসে। স্কেল মডেল জিনিশ টা হইল মুল জিনিশ টার একটা ছোট স্কেল এর রেপ্লিকা। এই রেপ্লিকা যত হুবুহু হবে, স্কেল মডেল তত সুন্দর হবে। যে কোন কিছুর স্কেল মডেল হইতে পারে। আরকিটেক্ট রা ডিজাইন এর পর যে মডেল বানায়, সেইটাও একটা স্কেল মডেল। মুল স্থাপনা টার ছোট আকারের প্রতিকৃতি। কিন্তু আমরা যারা আর্কিটেকচার পড়ি নাই তাদের কি উপায় হবে? আমাদের মত শখ আসে এমন কনজিউমার দের জন্য এই ক্ষেত্রে আগায়া আসছে Airfix, Revell এর মত কোম্পানি গুলা। ইনারা করসে কি, বিভিন্ন স্কেল মডেল কিট বাজারে ছারসে। এই কিট এর মধ্যে থাকে যেই জিনিষের মডেল কিট তার ছোট ছোট পার্টস, রঙ, ডিক্যাল, ইন্সট্রাকশন ম্যানুয়াল । এই গুলার ব্যাপারে একটু আলাদা আলাদা কই।

মডেল পার্টস আর ইন্সট্রাকশন ম্যানুয়াল

ধরেন এইটা একটা প্লেন এর স্কেল মডেল কিট। তাইলে এই মডেল কিট এ প্লেন টার ককপিট, ডানা, বডি (যাকে আমরা বলি ফিউজালাজ / Fuselage ), ল্যান্ডিং গিয়ার ইত্যাদি বিভিন্ন রকম পার্টস। প্লাস্টিক মডেল কিট এ এগুলা প্লাস্টিক এর থাকে আর মেটাল মডেল কিট হইলে মেটাল এর। এই গুলা সব একসাথে লাগানো থাকে সেট এর মত যেগুলা বানানো আগে ছুটাইয়া নিতে হয় আলাদা আলাদা কইরা। কিভাবে কোন টার পর জোড়া লাগাইতে হবে তার নির্দেশনা দেওয়া থাকে ইন্সট্রাকশন ম্যানুয়াল এ। ইন্সট্রাকশন ম্যানুয়াল এ আরো থাকে কোন যায়গায় কি রঙ বসবে আর কি ডিক্যাল বসবে । রঙ আর ডিক্যাল এর বেপারে একটু পরেই বিস্তারিত বলতাসি।

মনে রাখতে হবে যে এই ভাবে ইন্সট্রাকশন মাইনা পার্টস একটার পর একটা জোড়া লাগানো শেষ করলেই সেটা স্কেল মডেল হয়া যায় না। কারন পার্টস গুলা সাধারণত এক রঙ এর থাকে। যেমন সব সাদা অথবা সব নীল বা সবুজ এমন। বানানোর পর জিনিষ টা দেখলে মনে হবে মাত্র ফ্যাক্টরি থেইকা বানায়া বের করা হইসে, এখনও রঙ করা হয় নাই। আসল জিনিশ টার সাথে মিলাইয়া ঠিক ঠিক জায়গা মত ঠিক শেড এর রঙ দেওয়া এবং সকল রকম সাইন, ফ্ল্যাগ, মারকিং ইত্যাদি ঠিক ঠাক মত বসাইলেই সেইটা একটা স্কেল মডেল হয়া উঠে।

রঙ আর ডিক্যাল

রঙ আর ডিক্যাল ব্যাপার দুইটা স্কেল মডেল এর অনেক ইম্পরট্যান্ট একটা বিষয়। পার্টস জুড়া লাগাউয়া মডেল বানাইতে যত সময় লাগে রঙ আর ডিক্যাল এর পিছনে তার চেয়ে চারগুন বেশি সময় দিতে হয়। যে জিনিশটার স্কেল মডেল বানানো হইতাসে শুরুতেই সেইটার যত বেশি সংখ্ক ছবি আর ডিটেইল খেয়াল করা যায় স্কেল মডেল তত ভাল হয়। অরিজিনাল টায় যেইখানে যেই রঙ ব্যাবহার করা হইসে সেই রঙ এর শেড ব্যবহার না করলে ওইটা একটা ভুয়া স্কেল মডেল ছাড়া কিছু হয় না। আমাদের চোখ অনেক সেনসিটিভ। আমরা এক নজর দেখলেই একটা ভাল স্কেল মডেল আর আর একটা বাজে স্কেল মডেল এর পার্থক্য ধইরা ফালাইতে পারি।

রঙ ঠিক ঠাক করার পর আসে ডিক্যাল এর ব্যাপার । ডিক্যাল হইল আমরা যাকে স্টিকার নামে চিনি ওইরকম একটা জিনিষ। কিন্তু এইটার পিছনে আঠা থাকে। না। মডেল কিট এর সাথে যেই ডিক্যাল গুলা আসে অগুলা পানি এক্টিভিটেড। অর্থাৎ পানি তে ভিজাইয়া গ্লু লাগাইয়া জায়গামত বসাইতে হয়। তারপর ঘসা দিলে নিচের সাদা অংস উইঠা আসে আর স্টিকার এর মত ডিক্যাল টা জায়গা মত লাইগা যায়। স্কেল মডেল এর গায়ে লোগো, সাইন, লেটার বা নাম্বার মারকিং ইত্যাদি ফন্ট, সাইজ, কালার ঠিক রাইখা দেখাইতে হইলে ডিক্যাল এর বিকল্প নাই। কারণ এগুলা হাতে আঁকতে গেলে জীবনেও অরিজিনালটার মত ভাল হইব না, উনিশ বিশ হইবই। ইভেন অরিজিনাল জিনিষ টাতেও অনেক জায়গায় কম্পুটার ডিজাইন্ড ডিক্যাল ব্যাবহার করা হইসে।

রঙ আর ডিক্যাল সফল ভাবে বসানোর পর আমার মত বিগিনার মডেল প্লেন হবিইস্ট রা ইয়েই পারসিইই, পোস্ট, পোস্ট, অখনি ফেসবুকে পোস্ট করলেও, ওস্তাদ মডেলার রা আবার এই জিনিষ এর উপর ওয়েদারিং করেন। তাতে জিনিষ টা আরো রিয়ালেস্টিক হয়। যেমন আমি যদি কন দিন তুরাগ বাস এর স্কেল মডেল বানাই তাইলে বাস বানানো আর রঙ করা শেষ কইরা তুরাগ পরিবহন যাত্রাবাড়ি-আব্দুল্লাহপুর লেখা ডিক্যাল টা লাগায় দিয়াই বগল বাজাইতে বাজাইতে ফেস বুকে পোস্ট দিতাম। কিন্তু ওস্তাদ মডেলার রা এইটার গায়ে ঘইসা ঘইসা আসল তুরাগ বাস এর মত দাগ বানাইতে। ওয়েদারিং কইরা জায়গায় জায়গায় রঙ এর জইলা যাওয়া দেখাইত, হয়ত রিয়ার ভিউ মিরর দুইটা প্রথমেই ভাইঙ্গা ফালায় দিত। সব মিলায় ইট অন্ট বি আ প্রিটি মডেল, বাট ইট উড বি এ অসামলি রিয়ালিস্টক মডেল।

স্কেল মডেল বানানোর পূর্ব প্রস্ততি

একজন সিরিয়াস স্কেল মডেলার এর কাছে অনেক কিছু থাকে। একটা ডেস্ক থাকে, অনেক গুলা রঙ এর ডিব্বা থাকে, গ্লু থাকে, একটা মডেল বানানির স্কেল আঁকা সবুজ রঙ এর বোর্ড থাকে। একটা সুন্দর ডেস্ক থাকে যার সাথে ম্যাগ্নিফাইয়িং গ্লাস আর টেবিল ল্যাম্প থাকে। ম্যাগ্নিফাইং গ্লাস টা রঙ করার সময় সুক্ষ যায়গা গুলাও ঠিক ঠাক রঙ করতে হেল্প করে। রঙ গুলা আলাদা কইরা কিনা রাখে মডেলার রা কারন মডেল কিট এর সাথে যেগুলা ডিফল্ট কালার হিসাবে আসে সেগুলা অনেক সময় ই ইনাদের পছন্দ হয় না। আরো রিয়ালেস্টিক কালার এর জন্য ইনারা তিন চার রকম কালার মিক্স কইরা পারফেক্ট শেড ও তৈরি করে।

কিছু টুলস লাগে। যেমন কাটা কুটির জন্য হবি নাইফ, ঘসা ঘসির জন্য সেন্ড পেপার, জুরা জুরির জন্য গ্লু। কিন্তু খুবি বেসিক এগুলা। যে কোন ষ্টেশনারী দোকান এ পাওয়া যায়। মুল চ্যালেঞ্জ টা হইল স্কেল মডেল কিট যোগার করা। বাইরে থেইকা আনাইতে পারলে সবচেয়ে ভাল। বাংলাদেশে শুধু মাত্র বসুন্ধরা সিটির মোস্তফা মারট এ পাওয়া যায় দেখসি আমি। আর কোথাউ যায় কিনা জানি না। তবে দাম বেশি। অবশ্য কোন শখ এর জিনিষটার দাম বেশি না। টাকার মূল্যমান এ দাম এর কোথা বলি নাই। কষ্ট আর ধৈর্য এর দাম দেওয়া লাগে অনেক

এইটা লেগো সেট দিয়া বানানো জিনিশ না। লেগো আরেকটা অসাম দুনিয়া যেইটা নিয়া হয়তো আরেকদিন লিখব। স্কেল মডেল বানানো কোন খেলা না। এইটা একটা আন্তর্জাতিক লেভেলের শখ আর এইটা ১২ বছর এর পিচচি থেইকা শুরু কইরা ৮০ বছরের মানুষ টাও করে। তাই কেউ যদি বলে “আরে আপনি এত বড় হয়া গেসেন, আপনের কি এগুলা নিয়া খেলার বয়স আসে নাকি” তাইলে আপনার রাগ করার পূর্ণ অধিকার আছে। যদিও রাগ প্রকাশ করার দরকার নাই। শুধু তারে বলবেন,

প্যাকেট এর গায়ে লেখা আছে মিনিমাম এজ লিমিট ১০+। কোন ম্যাক্সিমাম এজ লিমিট নাই। আই এম ১০+।

৮০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১৮, ২০১৫ । ১০.৩২ পি.এম

আমি জীবনে প্রথম লিরিক্স লিখি নটরডেম কলেজ এ পড়ার সময়। আমি তখন ফার্স্ট ইয়ার এ। ঋজু (আইকন্স এর ভোকাল) এর সাথে তখন মাত্র পরিচয় হইসে আর আমি অল্প অল্প গিটার বাজাই। খুবি অল্প কিছু মেজর মাইনর কর্ড পারি। ফার্স্ট ইয়ার এ আমাদের ক্লাস হইত সকালে। নটরডেম এ হোস্টেল/অডিটোরিয়াম এর সামনে একটা বকুল তলা আছে। দুপুর থিকা দুইজন দুইটা গিটার নিয়া বয়া থাকতাম বকুল তলায়। আর বিরামহীন গান গাইতাম। পারি না পারি তবু গাইতাম। আমাদের সাথে অনেক এই আইসা বসতো গান গাইত। বাচ্চু ভাই এর গান, ওয়ারফেজ এর গান থেইকা শুরু কইরা ওরে নীল দরিয়া আর অঞ্জন দত্ত পর্যন্ত।

তখন আমি কবিতা লিখতাম অনেক। ব্যাপক সিরিয়াস কবি ছিলাম। ক্লাস পালায়া পাবলিক লাইব্রেরি গিয়া কবিতার বইএ ডুইবা থাকতাম এমন কবি। জাতীয় কবিতা উৎসব এ দুদু বার করে স্টেজ এ কবিতা পড়তে সিলেক্ট হইসি এমন কবি 😛 কিন্তু গান ও যে লেখা যায় আবার সেইটাতে সুর ও বসে এইসব নিয়া ধারনা ছিল না। তখন অঞ্জন দত্ত হঠাত ঢাকা আসলো শো করতে।

প্রিয় একজন শিল্পী ক্যাসেটের ফিতা থেইকা বাইর হয়া ঢাকা আসছে সেইটা আমার শিশু 😛 মনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। শো এর টিকিট কাটার সামরথ তো ছিল না, বাপ এর কাসে কন্সার্ট এ যাওয়ার টাকা চাইলে লাত্তি মাইরা ফালায়া দিত তিন তালা থেইকা। তাই অপেক্ষা করলাম আর অঞ্জন দত্ত এর ঢাকা নিয়া একটা ক্যাসেট বাইর হইল ওইটা কিন্যা লাইলাম লগে লগেই। ওই খানে একটা গান ছিল “বেইলি রোড এর ধারে আমি দেখেছি তোমায়, আমার বউ বাজারে আমি দেখেছি তোমায়, ডলার এর দাম কমলে তাদের দর বদলায়, চোখের জল কিংবা পানি, সে তো নোনতাই থেকে যায়”

এই গান আমাদের এতই ভাল লাগতো যে টানা তিন চারদিন আমরা এই গান ই গাইলাম খালি বকুল তলায়। তারপর যখন একি গান এত বার গাইতে গাইতে পচাইয়া ফালাইলাম তখন ঋজু একদিন বলল, তুই গান্টার সুর ঠিক রাইখা কথা গুলা পালটায় ফেল। আমি তো পুরাই উড়ন্ত প্লেন থেইকা পরলাম। খাইসে, এমন ও করা যায়, কিন্তু দোস্ত এইডা নকল হইব না? ঋজু বলল আরে বেটা আমরা কি এই গান এর ক্যাসেট বাইর করুম? নিজের জন্য তো। লিখা ফেল।

আমার ঘুম খাওয়া দাওয়া সব হারাম হয়া গেল। সারাদিন এই গান এর সুর গুন গুন করি আর আর শব্দ বসাই। রিকশায় বসলে রিকশা ওলা রে গান সুনাই। নামার পর এতক্ষণ শাস্তি দেওয়ার জন্য ২ টাকা বেশি চায়া বসে। গান এর পুরাটাই রিক্সায় বইসা ঢাকা শহর হুদাই ঘুরতে ঘুরতে লিখসিলাম।

এই টা ১৯৯৯ সাল এর কথা। তখন তো আমরা স্মার্ট ছিলাম না, তাই আমাদের স্মার্ট ফোন ও ছিলনা। লেখা লেখি সব কাগজে কলমে । অনেক কাটা কুটি পাতা ছিরা ছিঁড়ির পর একটা মোটামুটি গান দাঁড়াইল। কি লিখসিলাম পুড়াটা এখন মনেও নাই। এখন পড়লে অনেক দুর্বল লিরিক্স লাগে। আমি এতো সরাসরি কিছু লিখিনা এখন আর। কিন্তু তখন নিজের লেখা শব্দে সুর এর জুরে যাওয়া টা প্রেম এ ইতিবাচক সারা পাওয়ার মত একটা অনুভূতি ছিল। এই টা যে কি এক নেশা। যেই নেশা তা পরেও ছারে নাই আর ফলাফল আইকন্স এর পুরা এলবাম এর লিরিক্স

প্রথম লেখা লিরিকস টা ছিল এমন (সুরঃ অঞ্জন দত্ত এর বেইলী রোড গানটার)

বলে দিও তারে
আর দিন দুই পরে
আসবে পূর্ণিমা
ওই আকাশ টাকে ভরে।
সে যেন আসে
তার বাড়ির ছাদে
সে যেন তাকায়
ওই চোখ রেখে চাঁদে।

দেখবো আমি তার দু চোখে
চাঁদের মধ্য দিয়ে
চাঁদ আসবে মোদের বাড়ী
মেঘের গল্প নিয়ে ।

[১৯৯৯]

৭৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১৭, ২০১৫ । ১১.৩০ পি.এম

আজকে আবার কিলো ফ্লাইট নিয়া লেখার মুড আসছে। তিন বছর আগে এই দিনে মানে ১৭ই মে, ২০১২ আমি কিলো ফ্লাইট নিয়া পড়া শুরু করসিলাম। আল্লাহর রহমতে এত দিনে আইসা কিছুটা গুছায়া লেখার সাহস করতে পারতাসি। সমস্যা টা হইল ইনফরমেশন পাওয়া নিয়া আর পাওয়া গেলেও এত ছড়াইয়া ছিটাইয়া গেসে পিস গুলা যে আমার মত বেসামরিক লোক এর পক্ষে মুল ঘটনা বুইঝা অনুধাবন করা অনেক কঠিন ছিল। আর যতই দিন যাইতাসে আরো ছড়ায়া যাইতাসে কুচি করা কাগজের মত।

আগের লেখা গুলায় লিখসিলাম বাংলাদেশ বিমানবাহিনী কিভাবে গঠিত হইসিল আর কিলো ফ্লাইট ই বা কিভাবে আসছিল। আজকে কিলো ফ্লাইট এর অপারেশন শুরুর আগ পর্যন্ত ঘটনা গুলার একটা সামারি দেয়ার চেষ্টা করব আর পরের লেখা টা হবে বিমান গুলার আলাদা আলদা মিশন এর বর্ননা নিয়া।

যে কোন বিমান আকাশে উড়ার আগে তার একটা রেজিস্ট্রেশন নাম্বার লাগে। সেইটা মিলিটারি ই হোক আর সিভিল। এই রেজিস্ট্রেশন টা নিয়ন্ত্রণ করে ICAO (International Civil Aviation Organization). যেহেতু বাংলাদেশ তখনো স্বাধীন না তাই আমাদের কোন সিভিল এভিয়েশন অথারিটি ও ছিল না। তাই কিলো ফ্লাইট এড় বিমান গুলার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দ্যায় ভারত। অর্থাৎ রেজিস্ট্রেশন এ ভারতীয় প্রি ফিক্স ব্যাবহার করা হয়। গাড়ির ক্ষেত্রে যেমন যেখানে রেজিস্ট্রেশন হয় তার একটা প্রি ফিক্স থাকে লাইক ঢাকা মেট্রো, চট্ট মেট্রো ইত্যাদি, ওই রকম প্লেনেরও থাকে। বাংলাদেশের জন্য S2, S3 , আমেরিকার জন্য N, ব্রিটেনের জন্য G, ভারতের জন্য VT এরকম। আর ICAO এর বিধি নিষেধ না থাকায় ইচ্ছা মত রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয় যেমন একই রেজিস্ট্রেশন দুই বিমান এর দেয়া হয়। কিলো ফ্লাইট এর বিমান গুলার রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হইসিল এমনঃ

১। DC-3 Dakota এর জন্য: VT-EBA
২। DHC-3 Otter এর জন্য: EBR
৩। Alouette-III হেলিকপ্টারের এর জন্য: VT-EBR

EBR/EBA ক্যান সেইটা নিয়া অনেকে অনেক কোথা বলেন। তবে সব চেয়ে গ্রহণযোগ্য হইল East Bengal Regiment আর East Bengal Army থেইকা EBR আর EBA.

রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার পর এখন শুধু বাকি থাকে অপারেশন এর দিন খন আর স্ট্রেটেজি ঠিক করা। এই ক্ষেত্রেও মূল ক্ষমতা ছিল ভারতের হাতে। কারণ বিমান গুলার মেইন্টেনেন্স করত ভারত। জ্বালানি, রকেট, বোমা, ফ্লাইট ট্রেইনিং সব ই দিতাসিল ভারতীয় বিমান বাহিনী। তাই প্লানিং এর দায়িত্ব ও আসে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হাতে। ঠিক করা হয় প্রথম অপারেশন চালানো হবে ৩ রা নভেম্বর।

২রা নভেম্বর, ১৯৭১। সকালে অপারেশন এর প্ল্যান অনুসারে Alouette-III হেলিকপ্টার টা কৈলাশহর গিয়া অবস্থান ন্যায়। সবার মধ্যে টান টান উত্তেজনা। পরের দিন প্রথম অপারেশন। কিন্তু এই দিন সকাল সাড়ে দশটায় একটা মেসেজ আসে দিল্লী থেইকা। সেইখানে বলা হয় , DC-3 Dakota বিমানটা কোনো অপারেশন চালানো যাবে না। সেইটা শুধু মাত্র বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ এর পরিবহন এর কাজে ব্যাবহার করা হবে। আরো ব্যাড নিউজ হইল, ৩ রা নভেম্বর এর অপারেশন পোস্টপন বা স্থগিত করা হইসে। এই খবর পায়া কিলো ফ্লাইট এর পাইলট রা অনেক টাই হতাশ হন কিন্তু কিছু করার ছিল না। পরবর্তী অপারেশন এর তারিখ এক মাস পিছায় দ্যায় ভারত। ঠিক হয় পরবর্তী অপারেশন এর তারিখ ৩রা ডিসেম্বর।

৬ই নভেম্বর, ১৯৭১। DC-3 Dakota বিমানটা ব্যারাকপুর বিমান ঘাটিতে নিয়া যাওয়া হয়। কিলো ফ্লাইট এ এখন শুধু ২ টা বিমান আছে। Alouette-III হেলিকপ্টার আর DHC-3 Otter। এই দুইটা বিমান দিয়াই আমদের বিমান বাহিনী ডিসেম্বর এর ৩ তারিখ থেইকা ১১ তারিখ পর্যন্ত একটা না , দুইটা না মোট ৪৬ টা মিশন কমপ্লিট করে। যার প্রত্যেকটাই ছিল সুইসাইডাল মিশন।

আগের লেখার বলা হইসে যে বিমান বাহিনীর প্রথম ঘাটি ঠিক করা হইসিল ডিমাপুরে। কিন্তু এইটা ঘাটি হইলে দূরত্ব একটু বেশি পরে তাই শমশেরনগর বিমানবন্দর থেইকা মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে পরিত্যাক্ত বিমানঘাঁটি কৈলাশহর এ কিলো ফ্লাইট এর বেজ শিফট কৈরা নিয়া যাওয়া হয়।

আমি তো মিলিটারি স্ট্রেটেজি বুঝি না, কিন্তু পইড়া মনে হইসে ভারত অনেক কনফিউজড ছিল বাংলাদেশ নিয়া। তারা ভাবতেসিল যদি বাংলাদেশের কোন বিমান পাকিস্তানী রা গুলি কইরা ফালায় দ্যায় তাইলে তারা রেজিস্ট্রেশন দেইখা শিউড়লি মনে করব এগুলা ভারত দিসে। তখন তারা এই টা মিডিয়া তে দেখাইয়া সারা বিশ্বের সাপোর্ট পাইব। দেখাইব যে ভারত কত খারাপ, তাই ভারত কে আক্রমণ করা ফরয ইত্যাদি।

সৌভাগ্য ক্রমে ৩রা ডিসেম্বর পাকিস্তানি বিমান বাহিনী ভারতের ৭ টা বিমান ঘাটিতে আক্রমণ করে। কিলো ফ্লাইট এর নির্ধারিত অপারেশন এর ডেট ই ছিল ৩রা ডিসেম্বর দিবাগত রাত্রে। পাকিস্তান এই আক্রমণ করার পর এখন ভারতীয় বিমান বাহিনী স্ট্রং কারন খুইজা পায় আরো। শুরু হয় কিলো ফ্লাইট এর অপারেশন।

কিলো ফ্লাইট এর বিমানগুলা তাদের রকেট আর মেশিন গান এর গুলি শেষ কইরা ফিরা আসতো কিলো ফ্লাইট এর বেজ ভারতের কৈলাশহরে। তারপর আবার রিলোড কইরা, মেইটেনেন্স এর ক্লিয়ারেন্স নিয়া ফিরা যাইত আক্রমণে। এই ভাবে রাত দিন অমানুষিক পরিশ্রম কইরা আমাদের কিলো ফ্লাইট এর সদস্যরা দুইটা মাত্র বিমান আর মাত্র ৮ দিনে ৪৬ টা মিশন সফল ভাবে শেষ করেন।

কিলো ফ্লাইট যে সব জায়গায় পাকিস্তানী বাহিনীর উপর হামলা চালাইসিল সেগুলা হইল,

চট্টগ্রাম, সিলেট, ফেঞ্চুগঞ্জ, শমসেরনগর, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, শেরপুর, সাদিপুর, কুমিল্লা, দাউদকান্দি, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, কুলাউড়া এবং ভৈরব বাজার।

আগামী লেখায় DHC-3 Otter আর Alouette-III হেলিকপ্টারের করা আলাদা আলাদা মিশন গুলার ডিটেইল নিয়া লেখার ইচ্ছা রাখি। যদি আপনার এই গর্ব করার ইতিহাস পড়তে আমার মতই দমবন্ধ করা ভাল্লাগে তাইলে দয়া কইরা বাসার ছোট দের এই জিনিশ গুলা জানায়েন। নাইলে এই ইতিহাস গুলা হারায় যাবে, অলরেডি হারাইয়া যাইতাসে ভয়াবহ রেট এ।

৭৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১৬, ২০১৫ । ১১.৪৯ পি.এম

আমরা শুধু জায়গার নাম টা জানতাম। আর জানতাম এয়ারপোর্ট এর বাতিল করা প্লেন এই সব লোহা ব্যাবসায়ী রা কাটে। গুগুল ম্যাপ থেইকা দেইখা দেইখা আমি আর কারিব ভাই অনেক খন ভাবলাম , হুম্মম, এই জায়গাটায় হইতে পারে? উহু এক্সেস রোড অনেক ছোট। যেহেতু এয়ারক্র্যাফট কাটে তাইলে অদের একটা বড় ভেহিকল ঢুকতে পারে এমন এক্সেস রোড অলা জায়গার দরকার হবে। আচ্ছা চলেন যাই, গিয়া খুইজা বাইর করুম নে।

রউনা দিলাম দুইজন সি এন জি দিয়া। ভিজুয়াল ন্যাভিগেটর কারিব ভাই আর গুগুল ম্যাপ্স দেইখা ন্যাভিগেটর আমি। ডাইনে জান, বাইয়ে জান , আবার বায়ে গিয়া ডাইনে মোচর দেন এরম ডিরেকশন দিতে দিতে সি এন জি আগাইতে লাগলো। ঝামেলা হইলে একটা জায়গায় আইসা। গুগুল ম্যাপ্স এ যেখানে সোজা রাস্তা দেখানো হইসে ওই রাস্তায় আসলে সি এন জি যাবে না। কারণ ওইটা দুই বাসার চিপা দিয়া যাওয়া একটা রাস্তা। সি এন জি ছাইড়া দিয়া হাঈট্টাই রউনা দিলাম। গু এর সমুদ্র পাড়ি দিয়া , বাসা থেইকা ফালানো ময়লা রে ডোজ মাইরা, এলাকার মাতবর লোক জন এর “এই সামনেই” এর ফলস ইলিউশন এর আশা বুকে নিয়া অবশেষে পৌঁছাইলাম গন্তব্যে।

জায়গাটা পুরাই একটা তিন গোয়েন্দার পাতা থেইকা উইঠা আসা সেল্ভেজ ইয়ার্ড। কি নাই। জাহাজের প্রপেলার , বিশাল বিশাল লোহার শিট, অসংখ্য লোহার আর মেটাল এর জিনিষ পাতির পাহাড়। এর মধ্যে আমরা আবিষ্কার করলাম একটা এয়ারক্র্যাফট ইঞ্জিন এর। কারিব ভাই একবার দেইখাই বইলা দিল এইটা একটা L-1011 Tristar এর ইঞ্জিন। আমরা জানতাম যে কয়দিন আগে স্কাই ক্যাপিটাল কারগো এর বিমান টা স্ক্র্যাপ করা হইসে। তাই বুঝলাম যে জায়গা মত আইসা পড়সি।

এর অর সাথে কথা বইলা মালিকের খোজ বাইর কইরা তার সাথে দেখা করলাম। লোকটা বেশ ভাল । আমাদের পেলেন পাগলামি দেইখা অনেক খুশি হইল। আমাদের কোক আর সল্টেস্ট বিস্কুট খাওয়াইসে। তারপর আমাদের লোহা কাটাকুটির জায়গায় নিয়া গেল। জিজ্ঞেস করসিল আমরা ইঞ্জিন এর ব্লেড নিতে চাই নাকি কোন টা। বইলা আসছি আগামী সপ্তাহে আবার যাব তখন নিব 😀

চইলা আসবো এমন সময় উনি বললেন চলেন আপনাদের একটা মজার জায়গায় নিয়া যাই। আমরা তো, শিট আরো মজার জায়গা আসে? চলেন চলেন। উনি উনার ই ভাই বেরাদর এর এক দোকানে নিয়া গেলেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী কয়দিন তাদের অনেক স্ক্র্যাপ মালামাল , স্পেয়ার পার্টস বিক্রি কইরা দিসে। লাইক F-6 এর স্পেয়ার পার্টস, C-130 এর বাতিল যন্ত্রাংশ আরো অনেক হাবি যাবি। গিয়া মাথা খারাপ হয়া গেল। মনে হইল সব নিয়া আসি ট্রাক এ ভইরা। রকেট পড ছিল অনেক গুলা। ইচ্ছা করলে আনা যাইত। দরজায় লাগায় রাখলে মজা হইত। আন বিলি ভেবল।

আমি একটা অল্টিটিউড মিটার ওরফে অলটি মিটার নিয়া আসছি যেখানে এখনো ৭১০ ফ্লাইট লেভেল ইন্ডিকেট করতাসে। এইটা একটা সত্যিকার এর ফাইটার প্লেন এর ককপিট এ ছিল । এখন আমার বিছানার পাশে। কি যে খুশি লাগতাসে। দাঁত সব গুলা বাইর কইরা বইসা আসি।

আই এম গ্ল্যাড দ্যাট আই ওয়ান্টেড টু বিকাম এ প্লেন স্পটার। ধন্যবাদ এভিয়েশন, এত অসাম হওয়ার জন্য।

৭৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১৫, ২০১৫ । ১০.৪৬ পি.এম

আমি ঠিক শিউর না। কিন্তু স্কুল এ থাকতে যখন মাঝে মাঝে অনেক বেশি ইন্সপায়ারড হই আমরা, তখন হয়তো সবাই ই ভাবে যে আমি এই দেশ টাকে পালটায় ফালামু। আমিও ভাবতাম। যেইখানে আমি জানি সমস্যা গুলা কোথায়, এই যে বই ভর্তি কত রচনা তাইলে ওই জায়গায় বিশেষ “গুরুত্ব” দিয়া কাজ করলেই হয়। স্কুলে থাকতে কেন জানি গুরুত্ব কথাটা অনেক বেশি লেখা লাগতো রচনায়। খুবি গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ ভাবে গুরুত্ব পূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ভাষনে তিনি বলেন এইরম। তখন খুব ভাব গাম্ভীর্য ওলা লাগলেও এহন আর গুরুত্বপূর্ণ শুনলে বেশি গুরুত্ব দিতে মুঞ্চায় না। আই গেস গুরুত্ব হ্যাস লস্ট ইটস গুরুত্বনেস।

যাউকগা, আমি অনেক ভাবতাম কেমনে দেশ পালটায় ফেলা যায়। মাথায় রাখতে হবে যে এই গুলা একটা ক্লাস থ্রি এ পড়া ছেলের চিন্তা ভাবনা। এইটা করা যায় , ওইটা করা যায়, এই প্ল্যান সেই প্ল্যান। কিন্তু সব কিছু থামতো আইসা টাকা আর ক্ষমতায়। কিন্তু এইটা করতে তো অনেক টাকা লাগবে, কিন্তু এইটা তো পুলিশ করতে দিবে না, কিন্তু এইটা তো সারা দেশ এর মানুষ জানবেই না এইরকম প্রব্লেমগুলায় আইসা ঠেকতাম। তখন ঠিক করসিলাম, না দেশের প্রেসিডেন্ট হইতে হবে। তাইলে আমি যা বলি তাই হবে আর বাংলাদেশ এর চেহারাই পালটায় যাবে যদি এই সব করতে পারি।

ওই সময় ই স্কুল এর ক্লাস এ স্যার এর মনে হয় পড়াইতে ইচ্ছা করতেসিল না অর সামথিং, উনি সবাইরে জিজ্ঞেস করলেন তোমরা কে কি হইতে চাও বড় হয়া এক জন এক জন কইরা সামনে আইসা বল। আমার পালা যখন আসলো , আমি গেলাম। আর খুবি স্বাভাবিক ভাবে বললাম, আমি বড় হয়া এরশাদ হইতে চাই। বলার সাথে স্যার ঠা ঠা ঠা কইরা হাসতে হাসতে চেয়ার থেইকা পইড়া গেল। আর সেইটা দেইখা ক্লাস এর পোলাপান ও হাসতে হাসতে ক্লাস ফাটায়া ফালাইল। আমি বেকুবের মত দাঁড়ায় দেখলাম। আমার অনেক কান্দা আস্তাসিল, কিন্তু কান্দি নাই। কাম ওন। আমি ক্লাস থ্রি তে পড়ি। আমি কেমনে জানুম যে এরশাদ একটা নাম, পোস্ট না। আমি জানতাম বাংলাদেশের এরশাদ, ইন্ডিয়ার এরশাদ, আমেরিকার এরশাদ এমন হয় মনে হয়।

এই দেশ রে নিয়া কিছু করার চিন্তার ভুত টা ঘাড় থেইকা আর নামেই নাই। এমন না যে আমি একদম অনেক কিছু করতাসি । আমি মহান দেশ প্রেমিক টাইপ কিছু । এমন কিছু। আমার শুধু মনে হয় জিনিশ গুলা করা অত কঠিন ও না। আমাদের শুধু একজন নেতা দরকার। এমন একজন নেতা যার কথা শুনলে মনে হবে, না এই টা নেতার ইচ্ছা না, এইটা আমার ইচ্ছা। অফিস করতে করতে একটা জিনিশ শিখসি যে আপনি কার জন্য কাজটা করতাসেন সেইটা খুব ইম্পরট্যান্ট। সেইটার উপর কাজ এর বাউন্ডারি, কোয়ালিটি আর এফরট চেঞ্জ হয়া যায়। আমাদের এক জন নেতা দরকার যার জন্য কাজ কইরা আমরা ভাল ফিল করব। তাইলেই দেশ চেঞ্জ হয়া যাবে। এজ সিম্পল ইজ দ্যাট।

আন্ডার গ্র্যাড এ পড়ার সময়ের এরকম একটা আইডিয়ার কথা দিয়া শেষ করি। খুবি শিশুতোষ আইডিয়া। খুব বেশি ডিটেইল চিন্তা করি নাই। বাট এরকম কিছু হইলে ভাল হইতো ভাইবা আই ফেলট গুড।

আমি তখন দেখতাসিলাম যে ভার্সিটির আর কলেজের পোলাপান এর হাতে প্রায় ই কিছু ফ্রি টাইম থাকে। যখন নতুন সেমিস্টার এর ক্লাস শুরু হয়, যখন সেমিস্টার ফাইনাল শেষ হয়, সন্ধ্যার পর, কিছু কিছু ছুটির দিনে এমন। আবার আমরা প্রায় ই শুনি সরকারি কাজ এ অনেক দেরি হয়, লোকজন এফিসিয়েন্ট না এরকম। তো আমি চিন্তা কইরা দেখলাম এমন হইলে কেমন হয় যে সব সরকারি অফিসে সেকেন্ড শিফট চালু হবে। সন্ধ্যা ৬ টা থেইকা রাত ১০ টা। এই সময় কাজ করবে এই সব আন্ডারগ্র্যাড পোলাপান। সিনিয়রিটি দেখা যাইতে পারে লাইক থার্ড/ফোরথ ইয়ার এর স্টুডেন্ট রা মোর ম্যানেজেরিয়াল রোল এ আর ফাস্ট/সেকেন্ড ইয়ার এর পোলাপান হবে মুল ওয়ারকফোরস। এদের কে ট্রেইন আপ করবে ওই পজিশন এ যে দিন এর বেলা কাজ করতেসে সেই মানুষ টাই।

কি পরিমাণ পেস আসবে কাজে চিন্তা করা যায়। ২য় শিফট এর লোকজন অভিয়াস্লি অনেক নতুন নতুন আইডিয়া নিয়া আসবে কাজ এ, যেগুলা ১ম শিফট এর লোকজন কে অনেক অনেক হেল্প করবে। আর পাস করার পর ছেলে মেয়ে গুলা অলরেডি অভিজ্ঞতা নিয়া বাইর হইতাসে। দেখা যাবে ওই অফিসের বস ই হয় তো খুশি খুশি গলায় বলতাসে, ইয়ে কুদ্দুস, তোমার তো গ্রেজুয়েশন শেষ, অমুক সাহেব ও আগামী মাস থেকে এলপিআর এ যাচ্ছেন, হয়াই নট ইউ কাম টুমরো এট দা ডে শিফট? তারপর দেখা যাবে অনেক বাসায় বাবা গম্ভীর মুখে মেয়ে কে সেমিস্টার ফি এর টাকা জমা দেওয়ার ডেট জিজ্ঞেস করতে গেসেন, আর মেয়ে টা সব গুলা দাত বাইর কইরা বলতাসে, এএএহ, তুমি এত দিনে জিজ্ঞেস করতে আসছো বাবা? সেমিস্টার ফি আমি কঅঅবে দিয়া দিসি। আমি তো এখন পারি দিতে, ভুইলা যাও ক্যান? ইভেন সরকার এর দেখা দেখি প্রাইভেট কোম্পানি গুলা যদি এই কাজ শুরু করে, আর কত জোস হবে ব্যাপার টা।

আমি জানি অনেক লুপ হোলস আছে এই আইডিয়ায়, কিন্তু সেগুলা দূর করার জন্য আমাদের অনেক মাথা ওলা লোকজন ও তো আছেন। এই দেশ এর খালি একটা ভাল বস দরকার। ব্যাস তারপর সব সল্ভ হয়া যাবে।

৭৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১৪, ২০১৫ । ১১.৪২ পি.এম

এই অনিচ্ছাকৃত মাধ্যাকর্ষণ এর জন্য দুঃখিত
একদিন অবশ্যই তোমার কাছে যাবো
আর দেখবো তুমি অপেক্ষা করছো না

আমার নিজের কবিতা কখনো মনে থাকে না। লেখার আগ পর্যন্ত মাথার ভিতর শব্দ গুলা অনেক দৌড়া দৌড়ি করে। এক সপ্তাহ পর এক্টা লাইন মনে থাকে। একবছর পর নিজের কবিতা নিজেই চিন্তে পারি না।

উপরের কবিতা টা মনে আছে কেম্নে যানি। এইটার গল্প টা হইল একদিন অফিস থেইকা বাইর হইসি আট টা বাজে। অফিস খুবি পেস এর জায়গা। পেস মানে Positive Energy Sucker (PES). আবার স্পিন ও আসে। স্পিন মানে Social Psychopaths INside (SPIn). এই সব পার কইরা দিন শেষে কাব্য করা একটা অসম্ভব ব্যাপার। তবু রিকশায় উইঠা আকাশের দিকে তাকায় দেখি এত্ত বড় একটা চাঁদ।

চাঁদ দেইখা আমি অনেক থতমত খায়া গেলাম। কেন? এই অন্ধকার জীবনে হঠাৎ চাঁদ একটা কেন? অদ্ভুত ব্যাপার। কেমন একটা আকর্ষন করতাসে মনে হইল। টাইন্যা নিয়া জাইতাসে টাইপ। তখন মনে হইল আমি নিশ্চই একা এই টান টা ফিল করতাসি না। সারা পৃথিবীর কতগুলা জানি মানুষ এই চাঁদ দেইখা আমার মত মনে করতাসে, দৌড় দেই, চাঁদের দিকে একটা দৌড় দেই। তখন প্রথম লাইন দুই টা মাথায় আসে,

“এই অনিচ্ছাকৃত মাধ্যাকর্ষণ এর জন্য দুঃখিত
একদিন অবশ্যই তোমার কাছে যাব”

তারপর মনে হইল এইটা আসলে নিজের জীবনের গল্পই লিখা ফালাইসি দুই লাইনে। আমি ধুপ ধাপ প্রেমে পইড়া যাই অথবা পইড়া যাইতে চাই। কিন্তু পৃথিবীর সব ভাল মেয়ে টেকেন, গিভেন আর বাকি রা সাইকো। তাই কাছে যাওয়ার পর মনে হয়, সরি ভুল হয়া গেসে। থাকেন, গুডলাক উইথ দা রিলেশনশীপ। তখন শেষ লাইন টা মাথায় আসে,

“আর দেখবো তুমি অপেক্ষা করছো না”

৭৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১৩, ২০১৫ । ১১.৪৪ পি.এম

“কিলো ফ্লাইট” নিয়া লেখা কন্টিনিউজ। আগের লেখায় বলসি কিভাবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আর কিলো ফ্লাইট এর অফিসিয়াল যাত্রা শুরু হইল। এই টাও বলা হইসে যে কিলো ফ্লাইট এর তিনটা এয়ারক্র্যাফট এর একটাও যুদ্ধ বিমান ছিল না। সব ই ছিল বেসামরিক বিমান যেগুলা ইভেন যুদ্ধের জন্য ডিজাইন্ড ও ছিল না। কিন্তু আমরা তাতে হাত পা গুটাইয়া বইসা থাকি নাই।

“কিলো ফ্লাইট” এর অধিনায়ক করা হয় স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ কে। এই লোক টা একটা বেশি জোস লোক। মুক্তিযুদ্ধের আগে তিনি পাকিস্তান এয়ারফোরস এ ছিলেন। তার বেজ ছিল করাচীর একটু দূরে মাসরুর, মৌরিপুর এ । যখন যুদ্ধের মেঘ জমা হচ্ছিল পূর্ব পাকিস্তান এর আকাশে তখন উনি আগেই বুঝতে পারেন যে দেশ এর জন্য তাকে দরকার। ৮ই মার্চ তিনি কর্মস্থল থেইকা ছুটি নিয়া শ্রীলঙ্কা হয়া ঢাকা চইলা আসেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হইলে স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ ২ নম্বর সেক্টরে সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেন। পরে উনাকে হাই কমান্ড থেইকা ১ নম্বর সেক্টর এ দেয়া হয়। ১ নম্বর সেক্টর এ সম্মুখ যুদ্ধে তিনি অনেক গুলা অপারেশন এ যোগ দেন। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য হইল তিনি কাপ্তাই এর মদনাঘাট বিদ্যুৎ কেন্দ্র উড়ায় দেন এবং তাতে পুরা চট্টগ্রাম এর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়া গেসিল। এই অপারেশন এর সময় তার পায়ে গুলি লাগে। তারপরও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠন হইসে খবর পায়া তিনি রউনা দেন ডিমাপুর এর দিকে। ১৪ই অক্টোবর ডিমাপুরে তিনি অফিসিয়ালি “কিলো ফ্লাইট” এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এই রকম একজন ইন্সপায়ারিং অফিসার ইন কমান্ড পায়া সবার মধ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা আইসা পরে। ডিমাপুরে বিমান সেনা দের শুরু হয় ঘাম ঝরানো ট্রেইনিং। এই টা শুরু হইত প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগে ৪ মাইল দৌড় আর এক্সারসাইজ এর মাধ্যমে। একি সাথে চলতে থাকে কিলো ফ্লাইট এর বিমান তিনটা কে যুদ্ধের জন্য কাস্টোমাইজ করার কাজ।

Dc-3 Dakota বিমানে একটাই দরজা থাকে পিছনে। এইটারে খুইলা ফালানো হয়। বিমানের ভিতরে মোট ১০০০ পাউন্ড ওজনের বোমা ক্যারি করার জন্য সেলফ বা র‍্যাক লাগানো হয়। দরজার সামনে দুইটা স্টিল এর পাত দিয়া বোম্ব বে বানানো হয়। এমন ভাবে লাগানো হইসিল যাতে এই পাত এর উপরে বোমা রাখলে গড়ায়া সামনে গিয়া দরজার বাইরে চইলা যাবে। পুরাই বাংলা নিয়মে DC-3 Dakota এর মত পরিবহন বিমান টাকে বোম্বার বানায় ফেলা হয়। উদ্দ্যেশ্য ছিল ঢাকা এয়ারপোরট এ বোমা ফেলা।

DHC-3 Otter বিমান আর Alouette-III হেলিকপ্টারে লাগানো হয় রকেট পড। এই জন্য Otter টার ডানার নিচে আর Alouette টার দুই পাশে স্টিলের স্ট্রাকচার বা Truss বানায়া এক এক পাশে ৭ টা কইরা মোট ১৪ টা রকেট বহন করার ব্যাবস্থা করা হয়। এই রকেট গুলা ছিল ফ্রান্সের তৈরি ৫৭ মি. মি. MATRA । DHC-3 Otter বিমান আর Alouette-III হেলিকপ্টার দুইটার সামনেই টার্গেট সেট করার জন্য ছোট বৃত্তের মধ্যে + চিনহ ওলা জিনিষ টা যারে বলে Aiming Site লাগানো হয়। ৩৬০ ডিগ্রি ঘুইরা গুলী করতে পারে এমন একটা কইরা কইরা মেশিন গান লাগানো হয় DHC-3 Otter বিমান আর Alouette-III হেলিকপ্টারে। অপারেশন চলাকালীন সময় গোলাগুলি তো হবেই। তাই Alouette-III হেলিকপ্টারে পাইলট দের পায়ের নিচে ১ ইঞ্চি পুরু স্টিলের প্লেট বিছানো হয়।

বিমান তিনটার জন্য ভারতের পক্ষ থেইকা তিন জন ইন্সট্রাক্টর পাইলট দেয়া হয়। এদের অবদান বাংলাদেশ সারা জীবন শ্রদ্ধা নিয়া স্মরণ করবে। ইনারা ছিলেন,

১। DC-3 Dakota এর জন্য: স্কোয়াড্রন লীডার সঞ্জয় কুমার চৌধুরী
২। DHC-3 Otter এর জন্য ফ্লাইট লেফটেনেন্ট ঘোষাল
৩। Alouette-III হেলিকপ্টারের এর জন্য ফ্লাইট লেফটেনেন্ট কে সি সিংলা।

ইনাদের মধ্যে সঞ্জয় কুমার চৌধুরীর কথা বিশেষ ভাবে স্মরণীয়। তিনি শুধু ইন্সট্রাক্টর পাইলট হিসবে দায়িত্ব পালন কইরাই থাইমা যান নাই। কখনো ওটার বিমানের মেশিন গানার হিসাবে কখনো হেলিকপ্টারে আইসা মুক্তিযোদ্ধা দের সাথে সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।

ডিমাপুর এর পাহাড় আর জঙ্গলের মধ্যে শুরু হয় ফ্লাইং ট্রেইনিং। কখনো পাহাড়ের উপর গাছ কাইটা পরিষ্কার কইরা, কখনো গাছের উপর প্যারাসুট বিছায়া টার্গেট বানানো হয়। রাডার কে ফাকি দেওয়ার জন্য অনেক লো তে ফ্লাই করার ট্রেনিং নিতে হইতেসিল আমাদের পাইলট দের। দেশে তখন মুক্তিযুদ্ধ চলতাসে পুরা দমে। দিনে রাতে কখন অপারেশন চালাইতে হয় ঠিক নাই। তাই পাইলট দের কে নাইট ফ্লাইং এর ট্রেনিং ও নিতে হইতাসিল।

এই ভাবে দিন রাত এক কইরা ভারতীয় ইন্সট্রাক্টর, বিমান, ফুয়েল, গোলা বারুদ ইত্যাদির সহযোগিতায় বাংলাদেশ এর পাইলট রা আকাশ পথে দেশ মা কে মুক্তো করার প্রশিক্ষণ নিতে থাকেন। আগায়া আস্তে থাকে চূড়ান্ত অভিযান গুলা শুরু করার দিন। সেই কাহিনী যে কত এক্সাইটিং, আমি হয়ত আমার দুর্বল লেখা দিয়া পুরাপুরি বুঝাইতে পারবো না।

তবু, আমি মনে করি, আমাদের যা জানানো হয় নাই, জানতে দেয়া হয় নাই, আমাদের দায়িত্ব সেইটা পরের জেনারশন কে জানায় যাওয়া। আমার জন্য একটু দুয়া কইরেন যাতে এই ইতিহাস গুলা লিখা যাইতে পারি ঠিকমত। কেউ না কেউ তো পড়বেই। আগামী লেখায় কিলোফ্লাইট এর অপারেশন নিয়া লেখার ইচ্ছা রাখি।

৭৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১২, ২০১৫ । ৯.৫২ পি.এম

আজকের লেখা টা একটু বড়, কিন্তু বিষয় টা আরো বেশি বড়। আগের একটা লেখায় আমি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় কিভাবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠনের প্রসেস টা শুরু হইসিল সেইটা নিয়া লিখসিলাম। আজকে লিখতে বসছি কেমনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অফিসিয়াল ডিক্লেয়ারশন হইল আর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম ইউনিট “কিলো ফ্লাইট” নিয়া। “কিলো ফ্লাইট” মুক্তি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে আকাশ পথে। আমি জানি না এই এত গর্বের এত এক্সাইটিং সব ডিটেইল ক্যান একদম জনগণ লেভেলে জানানো হয় নাই। আজকের সকল তথ্যের সূত্র মেজর কামরুল হাসান ভুইয়া , সেন্টার ফর বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজ, বাড়ী# ৪৪৮/এ , রোড# ৭ (পূর্ব), বারিধারা ডি ও এইচ এস, ঢাকা – ১২০৬

আগের লেখাটায় আমি বলসিলাম কিভাবে ভারতীয় বিমান বাহিনীর কাছ থেইকা বিমান সংগ্রহের চেষ্টা চালাইতেসিল বাংলাদেশ। অনেক দেন দরবার আর কূটনৈতিক কলা কৌশল, পারিবারিক চাপ প্রয়োগ ইত্যাদির পর ভারতীয় বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠনের জন্য দুইটা প্লেন আর একটা হেলিকপ্টার উপহার হিসাবে দেওয়া হয়। এগুলা হইল,

ফিক্সড উইং এয়ারক্র্যাফটঃ
১। আমেরিকার MacDonnell Doglas এর তৈরি DC-3 Dacota
২। কানাডার de Havilland এর তৈরি DHC-3 Otter
আর
রোটারি উইং এয়ারক্র্যাফটঃ
৩। ফ্রান্স এর Alouette-III হেলিকপ্টার।

মজার জিনিশ হইলে উনারে তিনটা বিমান দিসেন বইলা ভাব সাব নিলেও ১ নম্বর এ যেইটা লিখসি সেইটা ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিমান ই ছিল না। একটু ঘাটাঘাটি কইরা পাইসি DC-3 Dacota টা ছিল যোধপুর এর মহারাজার ব্যক্তিগত বিমান। উনি বাংলাদেশ কে বিমান টা উপহার দিতে চাইসিলেন। কিন্তু আইনগত জটিলতার কারনে বিমান বাহিনীর মাধ্যমে দিসিলেন। ভারতীয় বিমান বাহিনী এতই বিমান যে অন্যের বিমান নিজেদের নাম এ চালায় দিয়া শুধু মহান ই হন নাই, “কিলো ফ্লাইট” এর প্রথম অপারেশন এর জন্য যখন প্ল্যানিং শেষ , হাড় ভাঙ্গা খাটুনি দিয়া বিমান গুলা কে কাস্টমাইজ করা শেষ , ঠিক এমন সময় , অপারেশন এর আগের দিন ভারতীয় বিমান বাহিনীর পক্ষ থেইকা বলা হয় ডাকোটা বিমান দিয়া কোন অপারেশন চালানো যাবে না। এইটা শুধু ট্রান্সপোর্ট বিমান হিসাবে ব্যাবহার করা যাবে। এই ঘটনা পরের লেখায় বিস্তারিত বলা হবে। আপাতত মুল গল্পে ফেরত যাই।

সেপ্টেম্বর ১৯৭১। এই বিমান তিনটা কে নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর এ ২য় বিশ্বযুদ্ধে ব্যাবহরিত একটা পরিত্যাক্ত এয়ার স্ট্রিপ এ নিয়া যাওয়া হয়। এই খানে অবকাঠামো বলতে কিছুই ছিল না। ৫০০০ ফিট এর একটা রানওয়ে ছিল (টু কম্পেয়ার, আজকের ঢাকা এয়ারপোর্ট এর রানওয়ে ১০৫০০ ফিট) আর রানয়ের পাশে একটা দোতলা কাঠের ঘর ছিল। ব্যাস এই। কোন রাডার, রানওয়ে লাইট, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার ইত্যাদি কিছুই নাই। পাইলট দের মনে মনে আল্লাহ মেহেরবান বইলা সুরা পরতে পরতে নিজ দায়িত্তে টেকঅফ আর ল্যান্ডিং করা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। তবু আমরা মাইনা নিসিলাম। মা কে স্বাধীন করতে হবে যে।

একটু চিন্তা করেন, আজকে আশে পাশে একটা ভূমিকম্প হইলে আমরা এই বিমান বাহিনী দিয়া ত্রাণ পাঠাই। বিদেশের বিমান পেটের ভিতর কইরা আমাদের বিমান বাহিনীর জন্য হেলিকাপ্টার নিয়া আসে। ভিক্ষা পাওয়া হেলিকাপ্টার না, নগদ টাকায় কিনা হেলিকপ্টার, শান্তি মিশনে কাজ কইরা পাওয়া হেলিকপ্টার। দেশ যে আগাইসে এইটা ফিল করাও জরুরি কিন্তু।

যাই হোক, বিমান তো পাওয়া গেল। এখন পাইলট? আর ক্রু? আর এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ার? এগুলাও তো লাগবে। কিন্তু চারপাশে তখন পাকিস্তানী চর। কোন মতে যদি পাকিস্তান জানতে পারে যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠন করতে যাইতাসে তাইলে তারা স্যাবোটাজ চালাবেই। কে না জানে পাকিস্তানী গুলার ঘরে ঘরে বোমা বানানির কুটির শিল্প আছে।

২৪ শে সেপ্টেম্বর,১৯৭১। গ্রুপ ক্যাপ্টেন আব্দুল করিম খন্দকার এর নির্দেশে ফ্লাইং অফিসার বদরুল আলম কলকাতা থেইকা আগরতলা আসেন পাইলট, ক্রু, ইঞ্জিনিয়ার, গ্রাউন্ড স্টাফ, এটিসি এগুলা সংগ্রহ করার জন্য।

২৬ শে সেপ্টেম্বর,১৯৭১। মাত্র ২ দিন এ চরম গোপনীয় তায় রাত দিন খাটা খাটনি কইরা তিনি ক্যাপ্টেন শরফুদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন আব্দুল মুকিত এবং ৫৭ জন বিমান সেনা সহ ডিমাপুর বেজ এ ফেরত আসেন। তখন এরা জানতেন না বিমান বাহিনীর কথা। জানতেন যে কিছু একটা হচ্ছে, দেশের জন্য।

২৭ শে সেপ্টেম্বর , ১৯৭১। গ্রুপ ক্যাপ্টেন আব্দুল করিম খন্দকার এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শামসুল আলম কলকাতা থেইকা ডিমাপুর বেজ এ আসেন। তখন ই সবাই জানতে পারেন যে পরের দিন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠিত হইতে যাইতাসে। আর সেইটা এই খানে , ডিমাপুর বেজ এই।

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ১৯৭১। সকাল ১১ টায় এক্টা DC-3 তে কইরা ডিমাপুরে আসেন ভারতীয় বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল “পিসি লাল”, এয়ার অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ ইস্টার্ন এয়ার কমান্ড মার্শাল “হরি চান্দ দেওয়ান”, জোড়াসাঁকোর ঘাঁটির স্টেশন কমান্ডার গ্রুপ ক্যাপ্টেন “চন্দন সিং”। ভারতীয় এয়ার চিফ কে একটা ছোট গার্ড অফ অনার দ্যায় বাংলাদেশ এর বিমান সেনা রা। গ্রুপ ক্যাপ্টেন আব্দুল করিম খন্দকার এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দ্যান। বাংলাদেশ সরকার এর পক্ষ থেকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন আব্দুল করিম খন্দকার কে বিমান বাহিনীর প্রধান হিসাবে নিযুক্তি দেয়া হয়। ভারতের ডিমাপুরে উড়ল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম পতাকা।

বিমান বাহিনীর গঠনের পর এইবার কাজ আসে ইউনিট গঠনের। একটা বিমান বাহিনী তে বিভিন্ন ধরনের ইউনিট থাকে। ফাইটার ইউনিট, রাডার ইউনিট, রিকনিসেন্স ইউনিট, বোম্বার ইউনিট ইত্যাদি। আমাদের যেহেতু বিমান ই ছিল মাত্র তিনটা তাই খুব বেশি বিলাসিতা করার সুযোগ ছিল না। প্রত্যেক বিমান এর জন্য ৩ জন কইরা মোট ৯ জন পাইলট ঠিক করা হয়। এই ৯ জন পাইলট আর ৩ টা বিমান নিয়া গঠিত হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম ইউনিট “কিলো ফ্লাইট”।

নাম টা “কিলো ফ্লাইট” হইল ক্যান এইটা একটু ব্যাখ্যা করি। এইটা মনে হয় সবাই জানে যে মুক্তিযুদ্ধে স্থল বাহিনী গুলার নাম দেওয়া হইসিল তাদের অধিনায়ক এর নাম অনুসারে । যেমন লেফটেনেন্ট কর্নেল জিয়াউর রহমান এর জেড ফোরস, লেফটেনেন্ট কর্নেল কাজী মোহাম্মদ শফীউল্লাহর এস ফোরস, লেফটেনেন্ট কর্নেল খালেদ মোশাররফ এর কে ফোরস এই রকম। তো বিমান বাহিনীর ইউনিট এরও এরকম একটা নাম দেওয়া দরকার ছিল। যেহেতু বিমান বাহিনী প্রধান এর নাম আব্দুল করিম খন্দকার তাই খন্দকার এর প্রথম অক্ষর K কে বাইছা নেওয়া হয়। এভিয়েশন এ এই অক্ষর গুলা কে উচ্চারণ করার জন্য একটা নিয়ম আসে। যেমন a কে বলা হয় আলফা, c কে চার্লি, M কে মাইক, J কে জুলিয়েট এরকম একদম z পর্যন্ত (আল্লাহর রহমতে প্লেন এর রেজিস্ট্রেশন এমনে মনে রাখতে রাখতে আমার এক্কেরে A থিকা z পুরাডা মুখস্ত হয়া গেসে) । এই নিয়মে K কে বুঝানোর জন্য বলা হয় কিলো। সেইখান থেইকা নাম হইসে “কিলো ফ্লাইট”।

কিলো ফ্লাইট এর ৯ জন পাইলট এর মধ্যে ৬ জন ই ছিলেন বেসামরিক পাইলট আর ৩ জন প্রাক্তন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর। এই ৬ জন বেসামরিক পাইলট এর মধ্যে ৪ জন এক্স পি.আই.এ (পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স) পাইলট, একজন বিমান থিকা ক্রপ ডাস্টিং করত অর্থাৎ ওষুধ দিত এরকম পাইলট (ইয়েস, আই রিমেম্বার ডাস্টি ফ্রম দা মুভি প্লেন্স) আর একজন ওষুধ কোম্পানি “সিবা গেইগী” ( এইট্টিজ এর কিডজ ইউল নো, সিবা গেইগি কি জিনিশ, বিষণ্ণতা একটি রোগ এর বিজ্ঞাপন দেখাইত যে কোম্পানি, সেই সিবা গেইগি) ।

কিলো ফ্লাইট এর ৯ জন পাইলট এর নাম আর তাদের কারা কোন বিমানে ছিলেন সেইটাও যোগাড় করসি। ছবিও যোগাড় করসি/করতাসি কিছু। ইনাদের নাম গুলা দিয়া আজকের লেখা শেষ করি

Alouette-III হেলিকপ্টার
১। স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ (প্রাক্তন পাকিস্তান এয়ার ফোরস)
২। ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দিন আহমেদ (প্রাক্তন পি আই এ)
৩। ফ্লাইং অফিসার বদরুল আলম (প্রাক্তন পাকিস্তান এয়ার ফোরস)

DHC-3 Otter বিমান
১। ফ্লাইট লেফটেনেন্ট শামসুল আলম (প্রাক্তন পাকিস্তান এয়ার ফোরস)
২। ক্যাপ্টেন আকরাম আহমেদ (প্ল্যান্ট প্রোটেকশন ডিপারটমেন্ট)
৩। ক্যাপ্টেন শরফুদ্দিন আহমেদ (ওষুধ কোম্পানি সিবা গেইগির পাইলট)

DC-3 Dakota বিমান
১। ক্যাপ্টেন আব্দুল খালেক (প্রাক্তন পি আই এ)
২। ক্যাপ্টেন আব্দুল মুকিত (প্রাক্তন পি আই এ)
৩। ক্যাপ্টেন কাজী আব্দুস সাত্তার (প্রাক্তন পি আই এ)

আগামী লেখায় কিভাবে এই বিমান গুলাকে যুদ্ধ বিমানে কাস্টমাইজ করা হইল আর আমাদের বৈমানিক দের যুদ্ধে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হইতাসিল তা লেখার ইচ্ছা রাখি।

৭৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১১, ২০১৫ । ১০.৫২ পি.এম

আজকে ১১ই মে, সালভাদর ডালির জন্মদিন। আমার ইচ্ছা ছিল ডালি আর সারিয়ালিজম(Surrealism) নিয়া একটা লেখা লেখার। কিন্তু এখন উত্তরা আইসি আর ডালির উপর যেই ভটকা মারকা বইটা পড়সিলাম ওইটা বাসায় থুইয়া আইসি। তাই আইজকা অল্পের উপ্রে দিয়া চালাই দেই।

সারিলিয়াজম এর বাংলা হইল পরাবাস্তবতা। এইখানে বাস্তবতার সাথে কল্পনার এক্টা ফটো রিয়ালেস্টিক মিশ্রন ঘটান শিল্পি রা। মানে হইল গিয়া সারিয়ালিস্টিক ছবি দেখলে দেখবেন অইখানে যে এলিমেন্ট গুলা ব্যাবহার করা হইসে তার এক্টাও কিউবিজম এর মত ভাইইংগা তারপর জুরা লাগানো না, ইম্প্রেশিনজম এর মত কিছুটা আলোর আর মুহুর্তের খেলা আছে কিন্তু এইখানে মানুষ এর মুখ বুঝা যায়। চেহারা গুলা ওই রকম সাটল না। আবার দাদা ইজম এর মত ভাংচুর এন্টি আরট ও না যে দেখলে কিছু বুঝা যাইবো না। যদিও সারিয়ালিজম এর উতপত্তি দাদা ইজম থেইকাই বলা যাইতে পারে।

সারিয়ালিজম এর উদ্ভব ঘটে ১৯২০ সালে। দাদা ইজম এরর অনুসারি কিছু শিল্পি। এরা এমন এক্টা স্বপ্ন দৃশ্য তৈরি করেন যা দেখলে মনে হবে একদম পরিচিত এক্টা দৃশ্য কিন্তু কিজানি পাল্টায় গেছে ভিতরে। যেই জিনিষ্টা যেখানে থাকার কথা সেখানে নাই। আর হয়তো জিনিশটা এমন এক জায়গায় ব্যবহার হইসে যেইটা অই জিনিষের সাথে কনো সম্পরকই নাই।

যেমন আমরা যদি সালভাদর ডালির সব চেয়ে বিখ্যাত ছবি The Persistence of Memory দেইখা সারিয়ালিজম বুঝার চেষ্টা করি তাইলে দেখবো এইখানে উনি কিছু ঘরি আকসেন যা একদম নরম আর গইলা গইলা পরতাসে। আরেক সাইডে এক্টা ঘড়ির রে কিছু পিপড়া ঘিরা ধরসে। এই খানে উনি সরাসরি এই ধারনা রে অস্বিকার করসেন যে সময় আসলে শক্ত ধরাবাধা কিছু না। এইটারে বাকানো মানুষের হাতেই। এইধারনা রেই সাপোর্ট করসে ওয়াইড এংগেলে আকা লেন্ডস্কেপ আর ব্লাণ্ট কিছু কালার এর ব্যাবহার।

এই রম ব্লান্ট, মরবিড কালার এর ব্যবহার সারিয়ালিস্টিক ছবি তে প্রচুর দেখা যায়। আর খেয়াল করবেন যে কয়েক্টা এলিমেন্ট দিয়া এক্টা দৃশ্য তৈরি করা হইসে যেইখানে এলিমেন্ট গুলারে তাদের অরিজিনাল লুক থেইকা ব্রেকাপ করা হয় নাই। হয়তো কোন এক্টা অসম্ভব কিছু ঘইটা গেসে (ঘড়ির গইলা যাওয়া) কিন্তু আমাদের স্বপ্নেও কি তাই ঘটেনা?

ডালির কথা দিয়া শেষ করি। শুধু আন্দাজ কইরা লিখতে কষ্ট লাগতাসে মোবাইল এ। ডালি কিউবিজম আর দাদাইজম নিয়াও এক্সপেরিমেন্ট করসিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সারিয়ালিজম এই স্থির হন। ১৯২৬ সালে ডালি যখন প্রথম বার এর মত প্যারিস যান তখন তার পাবলো পিকাসো এর সাথেও দেখা হয়।

ডালির উপর অনেক অনেক ডকুমেন্টরি আছে ইউটিউব এ। সব দেখতে পারি নাই। জয়নুল আবেদিন, ভ্যান গগ এর পর ডালি আমার ৩য় প্রিয় শিল্পি। তার এক্টা ডায়লগ আমার অনেক পছন্দ,

The only difference between me and a madman is that I’m not mad.

৭২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১০, ২০১৫ । ১০.৪৮ পি.এম

– আম্মা, কই তুমি?
: আমি তো রাস্তায়, আশতাসি
– আচ্ছা আশো। আইশা ফোন দিও
: হ্যালো ইথার, আমি তো আইসা পরসি এপলো তে। তুই আসতে পারবি?
– হ পারবো তো। আশতাসি
: দেখিস, অফিসে ঝামেলা হইব না তো? নাইলে থাক, আমি একলাই পারুম রিপোর্ট দেখাইতে
– আরে না, অলরেডি তো সাড়ে চাট্টা বাজেই। আশতাসি। চিন্তা কইর না
: তারাহুরার দরকার নাই বাবা, আস্তে আস্তে আয়
– আম্মা, আসছি।
: তোর বস বকব না?
– আরে না হুর। কিসু হইব না। তুমি নাম লেখাইস?
: হ বলসি তো কেয়া দিদির কাসে। তুই গিয়া দেইখা আয় তবু কয়জন বাকি
– কেয়া দিদি আবার কেডা?
: আরে ওইজে রিসিপশন এর মেয়েটা। গিয়া বল্লেই হবে। আমারে চিনে।
– তুমি তো যেখানেই যাও সব ফ্রেন্ড বানায় ফালাও। বস, আমি খোজ নিয়া আসি
: এই কাগজ নিয়া যা, দেখাইলেই বুঝবে। আই ডি দেয়া আসে।
– দেইখা আসছি আম্মা। দেরি আসে, বিশাল সিরিয়াল। খাবা কিছু? নরথ এন্ড কফি শপ খুলসে দেখস? কফি খাবা?
: নারে বাবা, খামাখা টাকা খরচ করিস না। আম্রার বাংলা চা ই ভাল। তুই ওই যে চা মেশিনের পাশে যে মেয়ে টা, অর নাম বিথি। ওরে গিয়া বল্লেই দুইটা নেস টি দিবে। যা নিয়া আয়।
– চা মেশিনের মেয়েরেও চিন? তুমি তো ব্যপক। এই যে আনসি। গরম কিন্তু, রাইখা নাও ইক্টু।
: তোর কাপ দে, ফু দিয়া দেই
– আরে না না, কি কর, লজ্জা লাগে। আমি ফু দিতে পারি তো। খাবা কিছু?
: হ, আম্রা এখন খাওয়া শুরু করি আর ডাক্তার ডাকুক আর আমরা চাবাইতে চাবাইতে ডাক্তার এর সাম্নে যাই? তুই এত বেক্কল ক্যান? খাইতে হইলে ডাক্তার দেখার পর খাব নে
– ইয়ে মানে, আচ্ছা আসো ডাক্তাসে। আমাদের সিরিয়াল আসছে।
: এই মেয়ে কি নাম জানি তোমার? মালতি না কি জানি? সব ফুলের নামে নাম। মনেও থাকে না। তোমার বাচ্চাটা ভাল আসে? না। আজকে তোমার আংকেল আসে নাই। এইটা আমার ছেলে। ওরে আজকে অফিস থেইকা ধইরা নিয়া আসছি। সালাম ডাক্তার ভাই।
– আম্মা, শেষ তো দেখানি। চল কোথাউ খাইতে যাই
: ক্যান, কি দরকার, শুধু শুধু টাকা খরচ।
– আরে তোমারে টাকার কথা কে ভাবতে বলসে আচ্ছা চল মেহেদি মারট এ যাই।
: অইখানে কি আসে?
– সুপার শপ। অইযে আগোরা, স্বপ্ন অই টাইপ আরকি। চল রিকশা দিয়া ঘুইরা আগে তোমারে বসুন্ধরা দেখাই। দেখসো রাস্তা গুলা কত আরাম এর? এই যে আইসা পরসি মেহেদি মারট।
: এইটা কিনবো? না থাক। ওইটা? না থাক, কত দাআম!!
– কি শুরু করলা আম্মা। দাম দেখ ক্যান। খালি পছন্দ কর। নিজের জন্য কিছু নাও। কি নিতাসো এগুলা।
: এই যে নিসি তো। দ্যাখ কত কিসু নিয়া ফালাইসি।
– আলু বোখারা, জয়ত্রি, এরোসোল, সার্ফ এক্সেল এগুলা নিজের জন্য? এগুলা তো বাসার জন্য।
: আরে তোরা তো কেউ থাকস না। বাসা মানেই আমি। বাসার জন্য নেওয়া মানেই আমার জন্য নেওয়া। আচ্ছা দেখ এই যে নিজের জন্য নিলাম। হইসে?
– পেস্ট? নিজের জন্য পেস্ট? এইডা নিজের জন্য কিছু?
: আরে আমার তো সাদা পেস্ট দেখলে বুমি আসে, তাই জেল পেস্ট নিসি। নিজের জন্য হইল না?
– আচ্ছা বুঝসি। চল ছাদে যাই
: ছাদে ক্যান? চল বাসায় যাইগা, কিনাকাটি লাগতো না আর। তর কত্ত টাকা খরচ করায় লাইসি।
– আরে চল না। খিদা লাগসে
: এই তর বাপ রে ফোন লাগায় দে। এই শুনেন, ইথার আমাকে খাওয়াইতে আন্সে। এই তোর খালা রে ফোন লাগায় দে। কিরে কি করস, আমি তো ইথারের সাথে খাইতে আসছি। এই তোর বইন রে ফোন লাগা অস্ট্রেলিয়ায়। হেলো মা, কি কর? ওহি মিহি কি করে? এই তো ইথার আমাকে খাওয়াইতে আনসে, পরে কথা বলি।
– আম্মা আরেক্টু খাও না। পরে কথা বইল। ভাই আমাদের বিল টা দিয়েন
: বাবা তোমার নাম কি? দেশের বাড়ি কই? এই হোটেলে কয়দিন ধইরা কাজ কর? আমার ছেলে আমারে খাওয়াইতে নিয়া আসছে। আমাদের এক্টা ছবি তুইলা দাও তো। আমারে কম দেখাইও ছবি তে। আমি দেখতে সুন্দর না তো। ছবি ভাল আসে না।
– আম্মা, কি যে বল এগুলা তুমি। চল। সব বিল দেওয়া শেষ। ব্যাগ গুলা আমি নিতাসি। সি এন জি ঠিক করসি। চল বাসায় যাই।
: তুই আবার এতদুর বাসাবো যাবি? তুই সুভাস্তু নাইম্মা যা। আমি যাইতে পারবো
– এত ব্যাগ বুগ নিয়া তোমারে এক্লা এক্লা ছারবো নাকি। কিছু হবে না। কাল্কে অফিসে আইসা পরব বাসাবো থেইকা।
: আমার ছেলেটা বড় হয়া গেসে। আমার কত গর্ব লাগে
– দুরু আম্মা। চুপ কর তো। চশমাটা ঝাপ্সা হয়া গেসে পাল্টানো দরকার…