৯১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২৯, ২০১৫ । ৮.৫৬ পি.এম

দুপুর ১.৪৫

শ্রীমংগল থেইকা রউনা দিসি। ট্রেন যদিও ৫ টায় কিন্তু কয়েকজন কলিগ এক্টা গাড়ি ভাড়া কইরা আগেই রউনা দিয়া দিসে। আমারে বস জিগাইল জাবা? আমি লাফ দিয়া রাজি হয়া গেলাম। এই স্যাড প্লেস থেইকা যত তাড়াতাড়ি ভাগা যায়। আমি পুল এ নামসিলাম শেষ মেষ। সিন্থেটিক শর্টস পইরা। বুদবুদাইন্না পানি তেও বয়া আসিলাম। নিজেরে বড়লুক বড়লুক লাগে নাই।

বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি। চা বাগানে বৃষ্টির শব্দ কেমন আলাদা। মনে হয় চা গাছে মুখ ডুবায়া ভুলুলুলুলু কইরা মাথা নারাই।

আমরা মাঝখানে এক্টা জায়গায় থামাইসিলাম গাড়ি। পিচ্চি পিচ্চি আনারস কিন্সি। কিউট আসে দেখতে। খাইতে নাকি ভাল।

সন্ধ্যা ৬.৩৫

ঢাকায় ঢুকসি। পুরবাচল এর রাস্তা টায় এর আগে জীবনেও আসি নাই। শর্টকাট এ তারাতারি আইসা পরসে বসুন্ধরার পিসে দিয়া। আসতে আসতে দেখতাসিলাম আরবানাইজেশন। কত বিশাল বিশাল জায়গায় খালি প্লট, আর খাম্বা বসায়া রাখসে। এইখানে একদিন বাড়ি ঘর হয়া ভইরা যাবে। আরো কত মানুষ এর সুখ দুঃখ আর ভালবাসার গল্প তৈরি হবে, ভাংবে, পাল্টাবে। কি লাভ এই সবে, কি দরকার এই সব এর?

আকাশটা পুরাই অন্য গ্রহের আকাশ মনে হইতাসিল আজকে। আর দা লাইট। আহা চিতকার কইরা “কি সুন্দর” বলার মত সোনালী সোনালী আলো। কেমন হিপ্টনাইজ হয়া তাকায় ছিলাম আকাশের দিকে।

এই আকাশ দেখতে দেখতে আজকে ভাবসি, ডিসিশান ফাইনাল। চান্নি পসর রাইতে মরতে চাই না। ঘুম ঘুম সূর্য ওঠার টাইম এও না। এইরকম এক্টা হলুদ বিকালে মইরা গেলে জোস হইত। আত্মা আকাশে উঠবে না পাতালে নাম্বে তো জানিনা, যেদিকেই যাউক, হলুদ আলো দেখতে দেখতে যামু।

রাত ৯.৪০

বাসায় ঠিক ঠাক মতই পৌছাইসি পৌনে ৮ টার দিকে। এহন খিদা লাগসে। তারাতারি গাড়িতে উঠনের তারা থাকায় লাঞ্চ ও করি নাই গ্রেন্ড সুলতান এ। তয় আজকে ব্রেকফাস্ট এত খাইসি, এত খাইসি যে অসুবিধা হয় নাই। কত যে আইটেম আসিল ব্রেকফাস্ট এ। সে এক এলাহি কারবার সারবার।

এই নোট পোস্ট দেই তারাতারি। রান্তে যামু।

৯০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২৮, ২০১৫ । ৯.০৯ পি.এম

সকাল ৭.৫৫

টেরেনে বয়া বয়া এই নুট লিখতাসি। আমাগো টেরেন ভুর ৬ ডা পাচ পঞ্চাশ বাজে ছারসে। অপিশ থিকা আমরা শ্রীমংগল এর গ্রেন্ড চুল টান রিছর্ট এ মুজমাস্তি করতে যাইতাছি। বাংলাদেশ রেলওয়ে এর পক্ষ থিকা আমাগো তিন্ডা বগি দিছে। ভেচেলর গো লিগা এক বগি, যারা বউ পুলাপান লয়া যাইতাসে তাগো লিগা এক বগি আর ভচ মচ আর খাউন দাউন এর লিগা এক বগি। আমি ভেচেলর বগিতে বয়া খাউন দাউন এর বগির দিকে তাকায়া বয়া আসি।

আমাগো এক্টু আগে নাস্তা দিসে খাইতে। সুইস বেকারির পেকেট ধরায় দিসে একটা। আমি অতি দ্রুত নিজের টা শেষ কইরা “নাস্তা কি?” মুখ কইরা বয়া রইসি। তাই আমারে আরেক্টা দিসে। নাস্তার পর কলা মলা লিচু মিচু দিসে। একজন জিগাইতাসিল এই কে কে কলা পায় নাই কে কে কলা পায় নাই। এট্টু পরে অন্য বগি থিকা বাইরের পাব্লিক ও আয়া পরসে আমি পাই নাই আমি পাই নাই করতে করতে। নিঃস্বার্থ কলা বিতরন, হুয়াটিজ বানানা পোগ্রাম অইখানেই শ্যাষ।

দুপুর ৩.২০

রুম এ গইড়াই। লাঞ্চ বেশি মজা লাগে নাই। তাই খাইতারিনাই বেশি। আম্রা ঠিক করসি রইদ টা এট্টু কইম্মা আইলে ৪ টার দিকে পুলে নামুম। তিন জন এর রুম এইটা। দুই কলিগ বিশাল নাক ডাকায়া ঘুমাইতাসে। আমি জানলার দিকে খাট লইসি। ছুমিং পুল দেহা যায়, চা বাগানের পাহাড় দেখা যায়। কেমেরা আন্সি কিন্তু ছবি তুলতে ইচ্ছা করতাসে না। ইচ্ছা করতাসে চুপি চুপি পাহাড়ে গিয়া আসে পাসে কেউ আছে কিনা দেইখা নিয়া আ আ আ আ আ আ আ আ আ আ আ আ এবং আ বইলা চিল্লায়া সব রাগ অভিমান অশান্তি বাইর কইরা দেই।

রাত ৮.৪৬

বিকালে নিচে গেসিলাম। ইচ্ছা ছিল পুল এ নামার। মাত্র পা নামাইসি আর কইত্তে এক ব্যাডা আইসা কইল, সরি স্যার, পুলে কটন এর কিছু পইরা নামা যাবে না স্যার। আপ্নাকে সিন্থেটিক এর কিছু পড়ে নামতে হবে। আমি বড়লোকি জায়গায় গিয়া খুবি জড়সড় হয়া থাকি। এম্নেই ভাল্লাগতাসিল না কিছু। অইলোক তার যা দায়িত্ব তাই করসে, কিন্তু আমার অভিমান অদের পুলের চেয়েও বড়। আমার রুমে শর্টস ছিল, সিন্থেটিক এর ট্রাউজার ও ছিল। কিন্তু আমি ঠিক করলাম ধুর, আর নাম্বই না পুল এ। বাকি সবাই আগেই নাইমা গেসিল। আমিও জোর কইরা নাইমা গেলে হয়তো কিছুই বলত না। কিন্তু আমার মনে হইল, আমার লগেই খালি এডি হইব। আমি আচ্ছা ঠিকাছে বইলা চুপচাপ চাইত্তালার রুমে আইসা পড়লাম। আর জানলার ধারের এক্টা বরডার এর মত জায়গা আসেসে অইহানে পা উডায়া বয়া অদের ঝাপা ঝাপি দেখলাম।

দুই ঘন্টা পর একজন ফোন করল, পয়শাল, আমাদের এক্টু তোয়ালে দিয়া যাবা এক্টা? কিছু বলি নাই। দিয়া আসছি চুপ চাপ। ফেসবুকে সবার জ্যাকুযি তে বসা ছবিও পোস্ট করসি এক্টা। থাকুক। সবার এক্টা সুখের ছবি থাকুক।

দিস হেস ওলয়েজ বিন মাই স্টোরি। গেটিং রিজেক্টেড এভ্রিহয়ার। আই শুড বি গেটিং ইউজড টু ইট বাই নাউ। বাট এভ্রি টাইম, ইট জাস্ট কাটস এ লিটিল ডিপার। এন্ড ইয়েস ইট হার্টস।

ঠিকাছে আল্লাহ, ঠিক আছে। ইফ ইউ থিনক ইটস বেস্ট ফর মি। ঠিক আছে।

৮৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ২৭, ২০১৫ । ১০.৩৬ পি.এম

মহান রাশা ধইরা এক্টা গায়ে হলুদ এ লয়া আসছে। আর এখন অরে এক্লা থুইয়া যাইতেও পারতাছি না। পুরা অনুষ্ঠানে খালি রাশা রে চিনি আর জামাইটারে ক্লাস থ্রি তে আইডিয়াল ইস্কুল এ দেখসিলাম। এই শেষ। তার উপ্রে নট এট অল ড্রেসড ফর দা হলুদ। অপিশ থিকা ধইরা লয়া আইসে। এক্টু পরে লুকজন ভাই, বোরহানি নিয়া আসেন তো বল্লেও অবাক হউনের কিছু থাকবো না।

আম্রা বয়া বয়া মাইন্সের দিকে অকয়ারড স্টেয়ার করি। এক স্কারফ পরা আণ্টী ডিজের লগে লগে মাথা বেং করতাসে। মজা লাগতাসে দেখতে। কিছু থতমত আত্মীয় সজন এক্কেরে কুনার টেবিল এ দল পাকায়া বয়া রইসে। অনেক দিন পর কুন বিয়া শাদি রিলেটেড। অনুষ্ঠান এ আসলাম। আর শিউর হইলাম, আই স্টিল হেইট ইট।

কাল্কে ভুর বেলা আমার ট্রেন। ৬.৩০ বাজে। অপিশের লুকজন এর লগে শ্রিমংগল জাইতাসি। গ্রেন্ড সুলতান রিজোরট নামে এক খান বড়ুলুকি জায়গা আসে। অইখানে দুই দিন এর প্রোগ্রাম। আল্লায় বাচাইলে শুক্কুর বার রাইতে ঢাকা আয়া পরুম। আমি জাই না এইসব আউটিং এ। এইবার কি ভাইবা জানি রাজি হইলাম।

বন্ধুর দিকে তাকায়া খালি বয়া রইসি। এট্টু পরে ঘুমায় যাওয়ার বেপক চান্স আসে। জামাই বউ এর দিকে তাকায়া আলা জিব্বা বাইর কইরা বিকট হাই তুলাডা ঠিক হইব কিনা বুঝতাসি না।

কি যে হইতাসি দিন দিন। মানুষ ই ভাল্লাগে না আর। জংগলে জামু গা। লেংটি পইরা পাহাড়ের কিনারায় বয়া সুর‍যাস্ত দেখুম। দি প্রাউড এপিটোম অফ সোশাল অকওয়ারডনেস হয়া সুখে শান্তিতে বসবাস করুম।

৮৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ২৬, ২০১৫ । ১১.৩৪ পি.এম

আমার একটা খালাত ভাই আছে। তারিক ইকবাল অভি। আম্রিকায় পি এইচ ডি করে এহন। আমার এক বছরের ছোট। কিন্তু সার্টিফিকেটে আমার চেয়ে বড়। আমি আর ও একই ক্লাস এ পড়তাম, কিন্তু আলাদা স্কুল এ। ও বড় হইসে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ এ। আমি ঢাকায়। ছোট বেলায় ও ছিল আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। আমি চিঠি লিখখা পোস্ট কইরা খালার অফিসের ঠিকানায় পাঠাইতাম। অইভ্যা আবার সেই চিঠির জবাব দিত ( আমরা তখন “মেইল” এর “রিপ্লাই” দেওয়া টার্ম গুলাই জানতাম না, আমরা জবাব দিতাম, রিপ্লাই না)। মোহনগঞ্জে জাফর ইকবাল এর নতুন বই পাওয়া যাইত না বইলা আমি “জারুল চৌধুরীর মানিক জোড়” বই টা প্রায় অর্ধেক টা অর কাছে চিঠি তে লিখা পাঠাইসিলাম। বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হইলে ও ঢাকা আসতো নাইলে আমি যাইতাম মোহনগঞ্জ। হে আসিল বিরাট ভাল স্টুডেন্ট। জীবনে সেকেন্ড হয় নাই এরম। আর আমি মিডীওকার। আমার আম্মার কাছে প্রায়ই শুনা লাগতো “অভি কি পুলাউ কুরমা খায়? আর তুই ভাত খাস? তাইলে ও ফার্স্ট হয় আর তুই পারস না ক্যান?”

এস এস সি এর পর আমরা কেমনে কেমনে জানি দুইজন ই নটরডেম এ চান্স পায়া গেলাম। আমরা তখন মাত্রই বাসাবো তে মুভ করসি। আমার বাপ চাইত্তালা বাড়ী কিনসে একটা বাসাবো তে। আমরা থাকতাম তিন তালায়। বাবা কইল, তোমাদের পাঁচ তালায় ছাদের এক পাশে একটা রুম কইরা দেই, দুই জন এ থাকো, পড়ালেখা কর, নিচে তো গেঞ্জাম, মেহমান আসে খালি। উপরে থাকো নিরিবিলি। আমরা তো পারলে বাপ এর সামনেই ঢেন্স শুরু কইরা দেই। কিন্তু মুখ খুবি গম্ভীর কইরা বললাম, জি, আপনি যা ভাল মনে করেন। তারপর আবার দুইজন মনে মনে হাই ফাইভ করলাম।

নটরডেম এ থাকার টাইম টা ওয়াজ দি বেস্ট একাডেমিক লাইফ আই এভার হ্যাড। ইভেন দো আমি জীবনেও ফাটাফাটি ভালছাত্র ছিলাম না। কিন্তু নটরডেম এর মত মজা আমি ভার্সিটি তেও পাই নাই। আমি আর অভি পাঁচতালায় থাকা শুরু করলাম। ক্লাস এ যাই, আসি , সব স্যার এর বাসা আমাদের কমন , খালি বায়োলজি বাদ এ। কারন অইভ্যার বাপ অরে মেডিকেল এ পড়াইবই আর আমি বায়োলজি ভয় পাইতাম, কারন আমি ছবি আঁকতে পারি না। তাই কম্পিউটার নিসিলাম।

পাঁচতালায় থাকতে যে কত মজা হইসে সেইটা এই নোট এ লিখা শেষ করন যাইব না। কিছু কাহিনী কই তাইলে হয়ত কিছু টা আন্দাজ করন যাইব।

আমাদের ঠিক নিচের তালায় মানে চার তালায় একটা ছোট ফ্যামিলি থাকতো। জামাই বই দুই জন ই চাকরি করে। খায়াদায়া রাইত সাড়ে দশটা বাজতেই গভীর রাত ওদের। আর আমাদের তখন পারটি শুরু হউনের টাইম হইসে। ওদের বাসায় টি এন টি ফোন ছিল। আর লাইন টা গেসিল, ঠিক আমাদের পাঁচ তালার জানালার সামনে দিয়া। আমরা করলাম কি, একটা ফোন সেট কিনলাম। তামার তার কিনলাম কয়েক গজ। তারপর এক রাতে ওই তার টারে কাইটা আবার জুরা লাগাইয়া রাখলাম।

প্রত্যেক দিন আমরা ওয়েট করতাম চার তালার ফ্যামিলি ঘুমাইসে কিনা। ঘুমাইলেই ওদের লাইন ডিস্কানেক্ট কইরা আমাদের রুম এ নিয়া আসতাম লাইন। তার পর এর ফোন ওরে ফোন। অইভ্যার এখন বউ, তখনকার গারলফ্রেন্ড থাকতো ময়মনসিংহ। আমরা ময়মনসিংহ এন ডাব্লিউ ডি কলও করসি। হোস্টেল এ ফোন কইয়া খুব জরুরি দরকার বইলা , অইভ্যা আলাপ করত, ভাত খাইস? কিদ্দিয়া খাইস? মশা বেশি? তোমাদের ওইখানে কয়টা বাজে এখন? তারপর সারা বাংলাদেশে যত পরিচিত অপরিচিত আছে সবাইরে ফোন কইরা তোমাদের ওই খানে গরম কেমন টাইপ আলাপ সালাপ চলতো।

পরের মাস এ আমরা নিচে গেসি ভাত খাইতে দেখি চাইর তালার আনটি আম্মার সাথে আলাপ করতাসে দরজায় দাঁড়ায়া, “বুঝসেন ভাবি, কি যে ভুতুড়ে বিল আসা শুরু করসে, আমরা তো বাসায় ই থাকি না। আমরা নাকি সারা বাংলাদেশে ফোন করি” । আমি আর অভি একে অন্যের দিকে তাকায় ও নাই, যদি বুইঝা যায় ওই চিন্তা কইরা।

আমাদের পাঁচ তালার ছাদ থেইকা সামনের বাসার ড্রইং রুম দেখা যাইত। ওই খানে একটা মেয়েও দেখা যাইত। যার নাম আমরা জানতাম না। আমাদের খুব শখ হইল, ওই মেয়ের নাম জানতে হবে। অভি আবার দুই দিন এর মাথায় অই বাসার টি এন টি নাম্বার যোগার কইরা ফালাইল।

ঈদের দিন আগের দিন রাতে আমরা ছাদে বইসা ফোন দিলাম ওই বাসায়। দেখলাম মেয়েটার মা ধরল ফোন। আমি বললাম, আমরা একুশে টিভি থেকে বলছি। আমাদের নতুন অনুষ্ঠান এর নাম হেলো হেলো ক্রিং ক্রিং। আমরা আপনাকে তিনটা প্রশ্ন করব, যদি পারেন তো এরোমেটিক কস্মেটিক্স এর সৌজন্যে আপনার জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। বইসা বইসা দেখলাম ওই বাসায় দৌড়া দৌড়ি পইড়া গেসে। ওই তোর বাপেরে ডাক। ওই সাউন্ড কমা টিভির এই সব শোনা যাইতাসে।

ফোন এ আসল ওই মেয়েটা আর বলল, জি আমরা রেডি বলেন বলেন। এই বার অভি বলল, টাইটানিক এর পরিচালকের নাম কি? মেয়েটা চাষি নজরুল ইসলাম টাইপ কি জানি একটা বলল। অভি তো সাথেই সাথেই হ্যাঁ হ্যাঁ উত্তর সঠিক হয়েছে। এবার ২য় প্রশ্ন, বাংলাদশের জাতীয় পশু কি? মেয়েটা গরু, খাসি, কাচ্চি, বোরহানি কি কি জানি বলসিল, অভি আরো উৎসাহ নিয়া বিলকুল সঠিক হয়েছে , দুর্দান্ত জবাব। এইবার ৩য় প্রশ্ন, সোডিয়াম বেঞ্জয়েট এর রাসায়নিক সূত্র কি? আমি তো অভীর দিকে হুয়াদ্দাফাক লুক দিলাম। এইডা কি জিগাইসস হালা। অইভ্যা দেখি নির্লিপ্ত, কয় আরে সুজা তো NaC7H5O2 । আমি ফিসফিস কইরা কইলাম, আব্বে হালা সবাই কি তোর মত বিজ্ঞানী নাকি? অয় কইল দেখনা মজাডা।

আমরা দেখলাম ওইদিকে আবারো দৌড়া দৌড়ি শুরু হয়া গেসে, ওই কেমিস্ট্রি বই আন, ওই খুঁজ তারাতারি এইসব চলতাসে। অভি আবার কইল, আমাদের সময় বেশি নেই, আর এক মিনিট। ওই মেয়েটা হাঁপাইতে হাঁপাইতে ভাই একটু একটু, তারপর ABCDEFG টাইপ কি জানি একটা কইল। অভি শেষ হওয়ার আগেই, উত্তর সঠিক, আমাদের আজকের বিজয়ীর নাম… (কি নাম বলসিল আজকে আর মনে নাই… ধরি নাম ছিল ব্লা ব্লা)। মেয়েটা বলল ব্লা ব্লা। হ্যাঁ দর্শক মণ্ডলী আমাদের আজকের বিজয়ীর নাম ব্লা ব্লা। আপনার ঠিকানায় পৌঁছে যাবে আকর্ষণীয় পুরশকার। তারপর লাইন কাইটটা দিলাম। তার পর আমরা ওদের বাসার ঠিকানায় এক্টা সুন্দর কইরা লেখা চিঠি আর একটা ইকোণো ডি এক্স কলম পাঠাইসিলাম, কলম এ কালি ছিল না, ইউজড। চিঠি তে লিখসিলাম যে আমরা আসলে ভুয়া কিন্তু আপনার গলা সুন্দর, জীবনে উন্নতি করবেন যদি সাধারণ গিয়ান বাড়ান আরেট্টু।

আরেকটা ছোট ঘটনা দিয়া এই অইভ্যা বিষয়ক সৃতি চারণ থামাই আজকের মত। আমি আর অভি ফিরতাসিলাম নটরডেম থেইকা রিকশায়, আমাদের রিকশা অলা বেশ জোয়ান, ইয়ং পোলা ছিল একটা। হঠাত পাশে দিয়া আরেকটা রিকশা গেল। রিকশায় ভিকারুন্নিসা কলেজের তিনটা মেয়ে। খিল খিল কইরা হাসতে হাসতে পাশে দিয়া গেল গা। ওদের রিকশা ওয়ালা ছিল বুইড়া এক বেডা। অইভ্যা আমাদের রিকশা ওলা রে বলল, হুর মিয়া তুমি জোয়ান হয়া আমাদের দুই জন রে নিয়া পারো না, আর ওই বেটা বুইড়া তোমার আগে গেল গা। রিকশা ওলা কিচ্ছু কইল না তখন। বাসায় আসলাম। নামলাম। ভাড়া দিলাম। যাওয়ার সময় রিকশা ওয়ালা গম্ভীর মুখে বলল,

“ওই তিন জন হইলে আমিও পারতাম”

৮৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ২৫, ২০১৫ । ১১.০৭ পি.এম

আগের কয়েকটা লেখায় আমি মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী কেমনে গঠিত হইল বলসি, কেমনে বিমান বাহিনীর জন্য বিমান সংগ্রহ হইল বলসি আর বলসি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম ইউনিট যা মুক্তিযুদ্ধে অংশ ন্যায় সেই কিলো ফ্লাইট এর কথা। আজকে কিলো ফ্লাইট এর প্রথম মিশন অর্থাৎ বাংলাদেশ এর সীমার ভিতরে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর স্থাপনার উপর, আমাদের প্রথম বিমান আক্রমণ এর কাহিনী বলার চেষ্টা করব।

সকল তথ্যের উৎস আগের লেখা গুলায় বলসি অনেক বার। তাই শুধু শুধু আর ক্লাটারড করলাম না লেখা টা। তথ্য সূত্র আগের বই আর ইন্টারনেট এর লিঙ্ক গুলাই। ভাল হয় যদি ব্যাকগ্রাউন্ড এ চল চল চল গান টা ছাইড়া নেন। না ছাড়লেও ক্ষতি নাই। পইড়া আমার লিখার সময়ের মত গুজবাম্প হইসে কিনা জানায়েন 🙂

আগের লেখায় বলসি যে কিলো ফ্লাইট এ বিমান ছিল তিনটা । তার মধ্যে যে Alouette-III হেলিকপ্টার টা ছিল সেইটাকে ২ রা ডিসেম্বর, ১৯৭১ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অস্থায়ী ঘাটি ডিমাপুর থেইকা কইলাশহর নিয়া আসা হয়। এই দিনেই হেলিকপ্টার এর পাইলট দুইজন হেলিকপ্টার টাকে আগরতলা থেইকা ৭০ কি,মি পূর্বে তেলিয়ামুড়া তে নিয়া যান। হাই কমান্ড এর ডিসিশন ছিল পরের দিন অর্থাৎ ৩ রা ডিসেম্বর রাত এ দুইজন বৈমানিক হেলিকপ্টার টা নিয়া উড়বেন এবং প্রাইমারি টার্গেট এ আক্রমণ চালাবেন। প্রাইমারি টার্গেট নির্ধারণ করা হয় নারায়ানগঞ্জের গোদনাইল তেলের ডিপো। বিমান টি পরিচালনার দায়িত্তে ছিলেন স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ এবং ফ্লাইং অফিসার বদরুল আলম জিডি (পি)। সাথে থাকবেন মেশিন গান চালানোর জন্য একজন গানার। গানার এর কাছে এক বস্তা মুক্তিযোদ্ধা আর দেশের মানুষদের উজ্জীবিত করতে লিফলেট দেওয়া হইল। বলা হইল লিফলেট ফেলার সময় জাতে বস্তার গিট্টু খুইলা তারপর ফালায়। গানার মিয়া এই বস্তা কি করসিল সেই বেপারে এই কাহিনীর শেষে জানতে পারবেন। আমি অনেক ট্রাই করলাম গানার এর নাম জানতে কিন্তু কোথাও কোন রেকর্ড নাই। তাই আপাতত আমরা তাকে গানার ই বলবো।

আমাদের পাইলট রা প্রস্তুত হইতে থাক মুক্তিযুদ্ধের প্রথম এরিয়াল মিশনের জন্য এই ফাকে দুই জন সম্পর্কে একটু সংক্ষেপে বইলা রাখি।

স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ একজন অসাধারণ মুক্তিযোদ্ধা। কিলো ফ্লাইট এর অধীনায়ক ছিলেন তিনি। কিলো ফ্লাইট এ যোগ দেয়ার আগে তিনি পশ্চিম পাকিস্তান থেইকা প্রায় শূন্য হাতে পালায় চইলা আসেন আর সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরে যোগ দেন। চট্টগ্রাম এর মদনাঘাট এর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস কইরা দিয়া পূরা চট্টগ্রাম ব্ল্যাক আউট কইরা দেন এই সুলতান মাহমুদ। এই অপারেশন এ তার পায়ে গুলি লাগে। কিন্তু তারপর ও তিনি বিমান বাহিনী গঠিত হওয়ার খবর পাইয়া চইলা আসেন আর কিলো ফ্লাইট এর অধিনায়ক এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ফ্লাইং অফিসার বদরুল আলম জিডি (পি) পাকিস্তান বিমান বাহিনীর অন্যতম টেলেন্টেড ফাইটার পাইলট ছিলেন। তিনি প্রথম বাঙালি যিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সুপার সনিক স্কোয়াড্রন এ সিলেক্টেড হন। এয়ার টু সার্ফেস রকেট আক্রমণে তার রেকর্ড কয়েকবছর পুরা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর কেউ ভাঙতে পারে নাই। তিনি ছিলেন F-6 বিমান এর স্কোয়াড্রন এ। মজার জিনিশ হইল এই স্কোয়াড্রন নিয়া পড়তে গিয়া আমি পাইসি ২৫নং স্কোয়াড্রন এর মটো ছিল “চির উন্নত মম শীর” । তিনি চাইলেই ফাইটার স্কোয়াড্রন এর অনেক উপরের পোস্ট এ যেতে পারতেন। কিন্তু ১৯৭০ সালের উপকূলীয় জলচ্ছাস এর পর পাকিস্তান বিমান বাহিনী দুইটা H-19 হেলিকপ্টার পাঠায় উদ্ধার কাজে। তিনি দেশের সেবা করার জন্য এই হেলিকপ্টার এর বৈমানিক হিসাবে চইলা আসেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হইলে তাকে পশ্চিম পাকিস্তান এ বদলী করা হয়। কিন্তু তিনি অনেক কষটে পালায়া আইসা যোগ দেন কিলো ফ্লাইট এ, Alouette-III হেলিকপ্টার এর পাইলট হিসাবে।

মুল কাহিনী তে ফেরত আসি। ৩রা ডিসেম্বর, ১৯৭১। রাত বারোটার একটু আগে হেলিকপ্টার স্টার্ট দেওয়া হইল। ইতিমধ্যে এই সাধারণ লাইট ট্রান্সপোর্ট হেলিকপ্টার কে কাস্টমাইজ কইরা যুদ্ধের উপযোগী করা হইসে। এর সাথে লাগানো হইসে দুই পাশে ৭+৭ ১৪ টা রকেট সহ রকেট পড, মেশিন গান আর পাইলট দের নিচে পুরু ইস্পাতের পাত যাতে গোলাগুলির সময় গুলি আইসা না লাগে। আবার নেয়া হইসিল লিফলেট এর বস্তা।

এত কিছু লাগানোর ফলে হেলিকপ্টার এর সেন্টার অফ গ্রাভিটি গেল চেঞ্জ হয়া। টেক অফ করতে পারতেসিল না দুই পাইলট এর অনেক চেষ্টার পর ও । তাইলে কি এত দিনের সব প্রশিক্ষণ, এত ত্যাগ সব ব্যারথ হয়া যাবে? প্রথম মিশন এবরট করা লাগবে শেষ মেষ টেক অফ না করতে পারার কারণে?

এত সোজা? আমরা তো বাঘ। বাঘ রে কে আটকায়ে রাখতে পারসে বাধা দিয়া? স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ আর ফ্লাইং অফিসার বদরুল আলম জিডি (পি) সেই অসম্ভব কে সম্ভব করলেন। এই ওয়েট নিয়াও আকাশে উড়ল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর Alouette-III হেলিকপ্টার।

উড়ার পর দেখা দিল আরেক সমস্যা। দিনের বেলা হইলে এই হেলিকপ্টার এ সাধারণত ভিজুয়াল ফ্লাইট করা হয়। অর্থাৎ নিচের নদী নালা, মাঠ ঘাট দেইখা চালানো যায়। কিন্তু ডিসেম্বর এর শীত এর রাত। ঘন কুয়াশা। কিচ্ছু দেখা যাচ্ছিল না। বেশি নিচু দিয়ে উড়তে গেলেও গাছ এর সাথে ধাক্কা লাগতে পারে। সুলতান মাহমুদ স্যার বলসেন, ওই দিন পূর্ণিমা ছিল। চাঁদ আর মুখস্ত বিয়ারিং ( অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ) এর উপর ভরসা কইরা তারা হেলিকপ্টার নিয়া বাংলাদেশের সীমানায় ঢুকলেন।

স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ জানতেন যে তিনি যখন ২নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করছিলেন তখন ক্যাপ্টেন হায়দার দাউদকান্দি-কুমিল্লা রোড এর উপর ইলিয়ট গঞ্জ ব্রিজ উড়ায় দিসিলেন। একটু খুঁজতেই উপর থেইকা পায়া গেলেন সেই ভাঙ্গা ব্রিজ । এইবার এই মার্কার ধইরা আরেকটু আগাইলেন।

২য় বাধা আসলো দাউদকান্দির কাছে শহিদ নগর জায়গাটা তে। এই খানে একটা চিকন রেডিও রিলে টাওয়ার ছিল । পাইলট রা সতর্ক না থাকলে আরেকটু হইলেই এই টাওয়ার এ ধাক্কা লাগতো আর প্রথম মিশন ওই খানেই শেষ হয়া যাইত।

পাইলট দুইজন বুদ্ধি কইরা ঢাকার দিকে যাওয়ার হাইওয়ে ফলো করতে করতে আগাইতে থাকলেন। হেলিকপ্টার পৌঁছাইল শীতলক্ষা নদীর কাছে। তার পর ই নারায়নগণ্জ আর তারপর ই টার্গেট তেলের ডিপো। এই খানে আসলো ৩য় বাধা টা।

স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ আর ফ্লাইং অফিসার বদরুল আলম জিডি (পি) হঠাত খেয়াল করলেন যে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর দিয়া গেসে ৩৩,০০০ কেভির হাই টেনশন বৈদ্যতিক তার। সেই তার এর উপর দিয়ে অথবা নিচ দিয়া হেলিকপ্টার নিয়া পার হইতে হবে। চিন্তা করার সময় কয়েক সেকেন্ড। সুলতান মাহমুদ ডিসিশন নিলেন নিচে দিয়ে পার হবেন (যেহেতু লোডেড হেলিকপ্টার তাই উপর দিয়ে যাইতে গেলে যদি এনাফ লিফট না পাওয়া যাইত তাইলে প্রব্লেম হইত)। রুদ্ধশ্বাস কয়েক সেকেন্ড পার হইল। গানার মিয়া শিউর লিফলেট এর বস্তা জড়াইয়া ধইরা দুয়া পরতাসিল। তারা নিরাপদে হেলিকপটার নিয়া পার হয়া আসলেন তার এর নিচ দিয়া।

কয়েক মিনিট এর মধ্যে তারা গোদনাইলে তেলের ডিপোর কাছে আইসা পরলেন। কুয়াশা নাই। পূর্ণিমায় আলোয় দেখা যাইতাসে টার্গেট। দুই পাইলট হেলিকপটার টাকে এক চক্কর ঘুরাইয়া আইনা এক জোড়া রকেট ফায়ার করলেন টার্গেট এর দিকে। কয়েক সেকেন্ড এর জন্য সময় থমকায় গেল। আর একদম বুলস আই। প্রথম শট এই লক্ষ ভেদ করলেন আমাদের দুই বৈমানিক। ৩০ ফুট উঁচা পর্যন্ত উঠসিল আগুনের শিখা।

আরেক টা সার্কেল ঘুইরা আসলেন তারা। হেলিকপ্টার টাকে এইবার আরো একটু লো তে নামায় আনলেন। সামনে আবারো টার্গেট। ১৪ টার থেইকা রকেট বাকি ১২ টা। তারা ১২ টা রকেট এই বার এক সাথে ফায়ার করলেন টার্গেটের দিকে। এইবারও সব গুলা রকেট লক্ষ্যভেদ করল। আগুনের শিখা এত বড় হইসিল যে আরেকটু হইলে হেলিকাপ্টার টাই আগুনের মধ্যে পড়ত। মিশন সাকসেসফুল। টার্গেট টারমিনেটেড। এইবার আবারো সব বিপদ মাথায় নিয়া ফল ব্যাক টু বেজ।

ফেরার সময় গর্বে আনন্দে ভরপুর পাইলট রা গানার কে জিজ্ঞেস করলেন,

— কিরে লিফলেট ফালাইসিলি ঠিক মত?
>> জি স্যার
— বস্তার মুখ খুইলা নিসিলো তো
>> ইয়ে মানে উত্তেজনায় বস্তার মুখ খুলতে ভুইলা গেসিলাম স্যার
— আয় হায়। আচ্ছা বস্তা টা ফালাইসিলি তো জায়গা মত? পাকিস্তানী আর সাধারণ মানুষ বুঝবে তো যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আসছিল?
>> জি স্যার। এক্কেরে আগুনের মধ্যে ফালায় দিসি স্যার।

সেদিন পাইলট দের হাসির শব্দ মনে হয় হেলিকপ্টার এর শব্দ কেও ছাড়ায়া গেসিল।

৪টা ডিসেম্বর ভোরের আলো ফোটার আগেই তারা নিরাপদে তেলিয়ামুড়ায় ল্যান্ড করেন। শেষ হয় কিলো ফ্লাইট এর বহু দুঃসাহসিক অভিযান এর প্রথম টা। বাকি অভিযান গুলা নিয়াও একে একে লিখার আশা রাখি। দুয়া কইরেন জাতে শেষ করতে পারি লিখা। অনেকে জানেই না যে মুক্তিযুদ্ধে আমাদের একটা এয়ার ফোরস ছিল। কি অদ্ভুত। তাই আমার মনে হয় এক জন কে ইন্সপায়ার করতে পারলেও আমার অর্জন ওই টাই।

এই বারুদ জাতির জন্য একজন মানে একটা দেশলাই । আমাদের শুধু সেই দেশলাইটা খুইজা বাইর করা লাগবে।

৮৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ২৪, ২০১৫ । ১১.৩৯ পি.এম

রাইত দশটা বাজলে কি জানি একটা হয় মাথার ভিতর। এক দিকে আমি ফ্রিক আউট করতে থাকি এইটা ভাইবা যে, আয়হায়, দশটা তো বাইজ্জা গেসে। আর মাত্র দুই ঘণ্টা। আজকের লেখা তো লিখলাম না। তইলে কি প্রজেক্ট ৩৬৫ ফেইল করব? এই যে এত দূর যে আইলাম, এই যে ৮৫ বার এর মত নিজেরে বাধ্য করলাম লিখতে, এইটার কি কোন দাম ই নাই তাইলে? ইতিহাস কি জানবে যে ইথার ভালই লেখা শুরু করসিল কিন্তু ৮৫ এর পর হেতের ঘুম পাইসে তাই আর লেহে নাই?

আরেকদিকে ঘুমে দুনিয়া আন্ধাইর হয়া আসে। মাথা কাজ করা বন্ধ কইরা দ্যায়। চোখের পাতা ভারি হয়া লাইগ্যা যাইতে থাকে আর নিজেরে এত দুর্বল লাগে যে একটু পরে আবিষ্কার করি রাইত ১০ টার সময় লিখতে লিখতে যে একটু চোখ বন্ধ করসিলাম চিন্তা ব্রেক নিতে ঐটা আসলে আমার ব্রেন আমার লগে চিটিং করসে। একটু খানির চোখ বন্ধ করা মানে এখন রাইত ১১ টা ২০ বাজে আর আমার হাতে মাত্র ৪০ মিনিট আসে আজকের লেখা টা লেখার। পুরাই পরীক্ষার হলে লাস্ট ১০ মিনিট এ ২৫ মার্ক্স এর রচনা লেখার মত অবস্থা (৮০/৯০ দশকের পোলাপান উড আন্ডারস্ট্যান্ড রচনা লেখা কি জিনিষ, সৃজনশীল পদ্ধতি তে রচনা লিখতে হয় কিনা আমি জানি না)।

আজকেও এই জিনিষ হওয়াতে আমি ভাবা শুরু করলাম কি আজিব, এরম হইতাসে ক্যান। আমি মনে হয় নিজেরে বেশি স্ট্রেস দিয়া ফালাইতাসি। লেখা লেখি করাটা এত রুটিন কইরা ফালাইসি যে এখন শুধু লিখতে হইব, দিন এর কোটা পুরা করতে হইব তাই লিখতাসি। এরম কিছু? এরম যদি আসলেই সত্যি হয় তাইলে আমার উচিত লেখা লেখি ই বাদ দিয়া দেওয়া। কারন আর যাই হোক আমি কোন রুটিন মাফিক ফরমায়েশি লেখার লেখক হইতে চাই না। আমি লিখি আমার ভাল লাগে তাই আর যা ভাল লাগে তাই নিয়া। যখন এই ভাল লাগা টা চইলা গিয়া কোটা পুরন করার দায়িত্ব বোধ চইলা আসবে তখন ই আমার উচিত থামায়া দেওয়া।

কিন্তু আমি ভাইবা দেখলাম জীবনের আর সব যুদ্ধের মত এইটাও আমার ব্রেইন এর একটা কৌশল যাতে লেখা লেখি বাদ দিয়া আরাম করি তার জন্য। আমাদের ব্রেইন একটা আদুরে বিড়াল এর মত। নতুন একটা কিছু করা মানে অরে দিয়া আমরা হাল চাষ করাইতাসি। সুযোগ পাওয়া মাত্র এইটা নিজেরে রেস্ট দিতে চায়। আর জীবনেও যাতে হাল চাষ করতে না হয় তাই আমাদের বিভিন্ন ভুং ভাঙ বুঝানো শুরু করে। । কিন্তু আমি দেখসি যে যারা আসলেই জীবনে কিছু করসে তাদের ব্রেইন টগবগে ঘোড়ার মত। তারা আদুরে বিড়াল টারে ট্রেইনিং দিতে দিতে এমন অবস্থায় নিসে যে এই টা এখন যে কোন অবস্থায় দৌড়াইতে প্রস্তুত।

আমিও তাই চেষ্টায় আসি আমার সুপার আইলসা সেলফ টারে অলসতা কাটানির ট্রেনিং দিতে। আইলসামি সবার ই আসে, কম আর বেশি। এইটা পুরাপুরি আমাদের উপর যে আমরা কতখন আইলসামি টারে এঞ্জয় করুম আর কখন এইটারে ঘরের কোনায় ছুঁইরা ফেলায়া দিয়া কর্মে আত্মনিয়োগ করুম।

নাইলে সারা জীবন নায়িকা শাবানার মত আচল মুখে গুইজা দিয়া কান্তে হবে আর বলতে হবে, আমি তো অনেক কিছুই করতে চাইসিলাম লাইফে কিন্তু আমার সামি আমারে করতে দ্যায় নাই । এই সামির নাম আইল-সামি।

৮৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ২৩, ২০১৫ । ১০.৩৯ পি.এম

আজকের লেখার টপিক সেলফ ইম্প্রুভমেন্ট এবং এইটাতে স্টিক থাকার তরিকা । মানুষ যখন বলে “জাস্ট বি ইউরসেলফ” তখন আসলে সে বলতে চায় “আমি আসলেই জানি না তোমারে আর কি বলব”। “জাস্ট বি ইউরসেলফ” হইল দা ওরস্ট উপদেশ এভার। আপনি যদি সত্যি চান কাউরে ভাল উপদেশ দিতে তাইলে তার উপরে দিয়া উড়া উড়ি না কইরা তারে সরাসরি বইলা দেন যে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব তয় তার আগে তার নিজের কিছু কিছু জিনিষ বদলাইতে রাজি আছে কিনা? শিউর থাকেন তার যেই মনের অবস্থা তাতে সে “হ হ ১০০ বার” কইবই। কিন্তু সেইটা এক্টা “আমার নতুন বছরের রেজুলিউশন” এর মতই মিথ্যা কথা। ৮০ ভাগ মানুষ জানুয়ারি শেষ হউনের আগেই নিউ ইয়ারস রেজুলিউশন ভুইলা গুইলা খাইয়া বয়া থাকে। তাই তার দুঃখ একটু কমলে সেও যে সেলফ ইম্প্রুভমেন্ট এর এই উদ্যোগ টা তে স্টিক থাকবে সেইটা সবার আগে শিউর করতে হইব।

এখন এই শিউর টা করবেন কেমনে? আগেও হয়তো সে অনেক বার কইসে, এইবার আমি বদলায় যামু দোস্ত, এক্কেরে নতুন মানুষ হয়া যামু। কিন্তু কিয়ের কি, দুইদিন পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরত গেসে। সেলফ ইম্প্রুভমেন্ট এর কোনই শর্টকাট ক্র্যাশ কোর্স টাইপ কিছু নাই। যদি বেটার লাইফ চান তাইলে আপনের ঘটনার গভীরে ঢুকতেই হইব আর জিনিস গুলা নিয়া কামের কাম কিছু করতে হইব। কিন্তু , হ, আমি আমার জীবন থিকা শিখসি যে এই কঠিন কামডা সুজা আর কম স্ট্রেস্ফুল করনের কিছু তরিকা আছে। আজকে এডি লয়াই লিখতে বইসি।

১। সবার প্রথমেই বিশ্বাস করতে হইব, “নিজেকে বদলানো সম্ভব”

এই টা শুনতে এত অভিয়াস লাগে যে মনে হয় এইডা কউনের কি আছে। কিন্তু বাস্তব জীবনে দেখবেন যে যেসব মানুষ আপনের কাছে সেলফ ইম্প্রুভমেন্ট এর উপদেশ চাইতে আইসে তারা আসলে উপদেশ বা সাহায্য চাইতে আসে নাই। অবচেতন ভাবে তারা চাইতে আইসে “ভ্যালিডেশন”। তারা আসলে শুনতে আইসে, “হ এইরম আসলে আগে কখনো ঘটে নাই, তোমার ক্ষেত্রেই পরথম, সিস্টেমটাই আসলে আনফেয়ার, দুনিয়াটাই আসলে খারাপ, তোমার আসলে কিছুই করার নাই” এই সব ব্লা ব্লা ব্লা। তারা আসলে বুঝতাসে নিজের কিছু একটা চেঞ্জ করন দরকার। কিন্তু আপনের কাছে পারমিশন চাইতে আইসে যাতে চেঞ্জ না হউন লাগে।

ঠিক আসে। যদি সে চেঞ্জ হইতে না চায় তাইলে ঠিক আসে। থাকুক এমনি। কিন্তু সে যদি তাই করে যা সে অলওয়েজ কইরা আসছে, তাইলে তো তার লগে তাই হইব যা অলওয়েজ হয়া আসছে তাই না? কিছু একটা তো আছেই যা চেঞ্জ করা দরকার। তারে বলা দরকার যে, যাই হোক, প্রেম ভাইঙ্গা যাক, বস বকুক, শ্বশুর কথা হুনাক সব কিছুর শেষে তার জীবন এর কন্ট্রোল তাগো কারো হাতে না, তার নিজের হাতে। তারে কইতে হইব, দ্যাখ, এইডাই সবচেয়ে কঠিন স্টেপ, তার পরের গুলা রিলেটিভ্লি সুজা। নিজেকে বদলানোর দায়িত্ব টা নিজের ঘারেই নিতে হইব কেউ আইসা চুম্মা দিয়া, ফু দিয়া বা জাদুর কাঠি দিয়া পোক কইরা নিজেরে বদলাইয়া দিয়া যাইব না। নিজেই নিজেকে বদলানো সম্ভব। চাইলেই সম্ভব।

২। যে সব চেঞ্জ মাপা যায় সেটার উপর ফোকাস করা প্রথমে

সেলফ ইম্প্রুভমেন্ট ইনিশিয়েটিভ নিলে বেশিরভাগ মানুষ একটা কমন ভুল করে তা হইসে ইম্প্রুভমেন্ট এর চেয়ে রেজাল্ট এর দিকে বেশি ফোকাস করে। “আমি শুকামু” এর অর্থ কি অথবা “আমি অরে পটামু” এর অর্থ কি? যদি কোন প্ল্যান না থাকে যে আপনে কেমনে বুঝবেন আপনে শুকাইতাসেন অথবা হ সে আপনের দিকে ইন্টারেস্টেড হইতাসে তাইলে কেমনে বুঝবেন এগুলা আসলেই হইতাসে কিনা? নিজেরে প্রথমেই জিগাইতে হইব কুন সময় আমি আসলেই কইতে পারুম “হ শুকাইসি” বা “হ পটাইসি (সাবাস)” ।

যখন নিজের ভাল ভার্সন টা বানানোর কাজে কেউ মাঠে নামতাসে তখন তার উচিত
মাপা যায় এরম চেঞ্জ এর দিকে ফোকাস করা । “আমি শুকামু” টাইপ এর হাওয়া হাওয়া গোল এর দিকে ফোকাস করলে খুব তারাতারি হতাশ হয়া যাওয়া লাগবে। যদি মাপা যায় এরম ইম্প্রুভমেন্ট গুলা দেখতে দেখতে আগানো যায় তাইলে দেখা যাইব এই ছোট ছোট রেজাল্ট গুলা, ছোট ছোট ডেটা গুলা পরের স্টেপ টা নিতে ইন্সপায়ার করতাসে।

এই ২ লম্বরটা ১ লম্বর তরিকারও সাপোর্ট হিসাবে কাজ করবে। কারন তখন তো একজন “নিজেরে বদলানো সম্ভব” এই ধারনা পাকা পোক্ত করতে মনের লগে হেভি যুদ্ধ করতাসে। যখন ছোট ছোট ইম্প্রুভমেন্ট গুলা তার কাছে ভিজিবল, মেজারেবল হবে তখন সেই যুদ্ধ টা করা আরো সহজ হবে। দিন শেষে সে লুজার হয়া ফেরত আসবে ঠিক ই, কিন্তু চোখখের সামনে এই আগানো গুলা থাকলে পরের দিন কিন্তু জাইগা উঠবে একজন উইনার ই। যখন বদ লোক টা বলতাসে “আমি পাহাড়ে এক লাফে উইঠা গেসি” তখন না হয় সে বলল “ আমি আজকে এক পা উঠসি পাহাড়ে, কালকে আরেক পা উঠবো” । এটলিস্ট সে তো কমিটেড হইল নিজের গোল এর ব্যাপারে।

৩। একবারে শুধু একটাই, সব একবারে না

আমাদের ধৈর্য কম। আমরা সব কিছু মাল্টি টাস্কিং করতে চাই। এইটাতে আমাদের স্ট্রেস বাইরা যাওয়া ছাড়া আর কিছু লাভ হয় না। সেলফ ইম্প্রুভমেন্ট এর ক্ষেত্রেও আমরা এত গুলা বিষয় নিয়া এক বারে কাজ করতে যাই যে শেষ মেষ আমাগো মস্তিষ্ক সব কিছুর শর্টকাট শিখা ছারা আর কিছু শিখে না। একটা দিনে অনেক গুলা ঘণ্টা থাকে। একটা সপ্তাহে কত্তগুলা দিন। এক মাসে কত্ত গুলা সপ্তাহ। মাস ও তো মাশাল্লা কম না একটা বছর এ। সব আজকেই কইরা লাইতে হইব, সব এখনি দেইখা লাইতে হইব, সব বই এই মাসেই পইড়া শেষ কইরা লাইতে হইব তা তো না। জীবনের মজা টা ই এই খানে। লিমিটেড টাইম, অনেক অনেক কিছু করার আছে যা সারা জীবন করলেও শেষ হবে না। তাইলে কেননা আমরা একটা একটা কইরা ইম্প্রুভ করি নিজেদের। যদি নতুন একটা ল্যাঙ্গুয়েজ শিখা শুরু করি তাইলে এই মাসে ওইটাতেই ফোকাস করি, সাইকেল শিখা টা না হয় দুই মাস পিছায় দেই। যদি এই মাসে আমার ওজন কমানো শুরু করার জন্য হাটাহাটি শুরু করার প্ল্যান থাকে তাইলে নতুন কম্পোজিশন এর কাজ না হয় পরের মাস এ করলাম। একটা নতুন জিনিষ শুরু করার সময় আমাদের অনেক উৎসাহ থাকে আর অনেক আনন্দ ও থাকে। কেন না আমরা এই আনন্দটাকে সারা বছর জুইরা ছড়াইয়া দেই রেদার দ্যান সব যাইত্তা যুইত্তা “এখন” এর মধ্যে ঢুকায় দেওয়া।

সময় এর মত “ফোকাস” ও কিন্তু একটা লিমিটেড রিসোর্স। আসেন আমরা ব্রেইন রে একটা লিমিটেড র‍্যাম কম্পিউটার এর মত চিন্তা করি। একই কম্পিউটার এ একই সময় এ ফটোশপ আর আফটার এফেক্ট আর ত্রিডি ম্যাক্স তো আপনে চালাইতেই পারবেন কিন্তু আউটপুট পাইতে হারাজীবন লাইগা গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবো না। আপনার সেলফ ইম্প্রুভমেন্ট এর মন্ত্রে উত্তেজিত ফ্রেন্ড রে খালি বলেন “ওয়ান এট এ টাইম বেবি, ওয়ান এট এ টাইম”

৪। পচ্চুর পচ্চুর এবং পচ্চুর ব্যারথতা আসবে কিন্তু ব্যাপার না

এইটার মুল কারণ হইল অনেক উৎসাহ নিয়া শুরু করার পর আমাদের মনে হয়, এহ হে, এইডা তো যত সুজা ভাবসিলাম অত সুজা না। আমাদের মনে হয়, আইচ্চা আমি তো আর এক্সপার্ট হইতে যামু না। আমার মুটামুটি পারলেই চলব। কিন্তু করতে গিয়া যখন দেখি ওই মুটামুটি লেভেলে যাওয়াও কঠিন আসে তখন মনে হয়, দুরু, আই সাক, এইটা আমার জন্য না আসলে।

আমরা এইটা খুব রেয়ারলি বুঝতে পারি যে ব্যারথতাও শিখার একটা অংশ। “আমি পারি না” এই ধারনা টা আমরা নিতে পারি না। আমাদের নিজেদের লুজার লাগে যদি আমরা ভাবি “আমি পারি না”। কিন্তু ঘটনা হইল আমরা তো জীবনেও করি নাই এরম একটা জিনিষ ই করতে আইসি তাই না। এইডা তো জানা কথাই যে ফেইল করুম। একদম সুজা সুজা বেসিক গুলাও আমাগো কঠিন মনে হইব। কিছু কিছু কেস এ দিন দিন অবস্থা আরো খারাপ হইব।

কিন্তু দিন দিন অবস্থা খারাপ হইব এই কারনেই যাতে দিন দিন অবস্থা ভাল হয়।হাটতে শিখার সময় কি আমরা ধুপ ধাপ পইড়া যাই নাই? কত বার পরসি ? কত দিন লাগসে হাটা শিখতে । তহন যদি ধুর আমারে দিয়া হইব না ভাইবা বয়া থাকতাম তাইলে এত দিনে কত হট পোলা মাইয়া হামাগুড়ি দিয়া ভার্সিটি আর অপিশে যাইত চিন্তা করেন?

আপনে ফেইল করবেনই। এইটা মাইনা লন। ভুল করবেন, ভুল থেইকা শিখবেন, আর আবার ট্রাই করবেন। এই ভাবেই সব কিছু হয়া আসছে আর হবেও। শুরুর দিকের ফেলিউর গুলা দেইখা ভয় পাওয়া মানে এইটা মেক শিউর করা যে আপনে জীবনেও বেটার কিছু করতে পারবেন না। ব্যর্থতা মাইনা নিলেই দেখবেন যে যেসব তরিকায় কাজ করলে কাজ হয় না তা এভয়েড কইরা নতুন তরিকা খোজা শুরু করসেন আর তা হয়ত শেষ মেশ কাজ ও কইরা যাইতে পারে।

৫। আল্লাহ যখন কারো জন্য একটা দরজা বন্ধ কইরা দ্যায়, তারে চুপিচুপি দেয়াল ভাইঙ্গা ভিত্রে ঢুকার শক্তিও কিন্তু দিয়া দ্যায়

এইটা মাইনা নিতেই হইব যে কিছু জিনিষ কখনোই বদলানো সম্ভব না। আপনি নিজের চেহারা রাতারাতি চেঞ্জ কইরা ফেলতে পারবেন না। আপনে যদি ইন্ট্রোভারট হন তাইলে কালকেই পারটি এনিমেল হয়া যাইতে পারবেন না। কিছু মানুষ জীবনে কোনদিন ই ম্যারাথন শেষ করতে পারবেনা। আপনার হয়তো কোনদিন ও সেই রকম টাকা পয়সা হবে না যাতে খুব অসম্ভব একতা ইচ্ছা পুরন করতে পারেন। হয়তো যতই চেষ্টা করেন কোন একটা ব্যাপারে গিয়া ইউ উইল অলওয়েজ সাক।

আমি আপনারে বলতেসি এইগুলা মাইনা নিয়াও সব কিছুই করা যায়। যখন একটা কিছু তে আটকায় যান তখন আপনের সামনে দুইটা রাস্তা খোলা থাকে। এক, আপনে হাল ছাইরা দিয়া চইলা আস্তে পারেন আর দুই, আপনে বাধাটার পাশে দিয়া ঘুইরা যাওনের একটা রাস্তা খুইজা বাইর কইরা ফালাইতে পারেন।

ম্যারাথন যে শেষ করতে পারে সে হয়তো সাইকেল চালাইয়া চিটাগাং চইলা যাইতে পারে। কেউ হট লুকিং মডেল টার মত না হইতে পারলেও সে হয় তো তার ব্যাক্তিত্য কে এমন কইরা ফালাইতে পারে যাতে মানুষ তার দিকে আগুনের দিকে আগায় যাওয়া পোকার মত হা কইরা লুল ফালাইতে ফালাইতে ছুইটা আসে।

হয়তো পুরাই উলটা রাস্তায় হাটসেন এতদিন। আপনের জন্য যা না তার পিছনেই দোউরাইসেন। ভুল পথে যাওয়াটা বোকামি না। বোকামি হইল পথ টা ভুল বুঝতে পাইরাও সামনে নিশ্চয়ই ঠিক পথ আছে ভাইবা চলতেই থাকা। থামেন, ঘুরেন, উলটা পথে শুরুর যায়গায় ফেরত আসেন, তারপর আবার চলতে শুরু করেন। হয়তো ফটোগ্রাফি আপনার জন্য না, হয়তো আপনে ভিডিও গ্রাফিতে দুনিয়া কাঁপায় ফেলতে পারবেন, অথবা আপনার জন্য যা ঠিক সেই টাইপ এর ফটোগ্রাফি আপনে এখনো ট্রাই ই করেন নাই। অথচ ভাবতাসেন ইউ সাক এত ফটোগ্রাফি। কম্পিউটার জিনিষ টা আপনের কোনদিন ই ভাল লাগে নাই অথচ বাপ মা ভর্তি করাইসে আইনা সি.এস.সি তে। আপনার যদি অল্প একটুও ভাল লাইগা যায় প্রোগ্রামিং আর আপনে মনে করেন যে পারবেন চেষ্টা করলে তাইলে স্টিক টু ইট। নাইলে বাইর হইয়া আসেন এখনি, নিজের রাস্তাটা বাইর করেন তাড়াতাড়ি।

প্রিয় বন্ধু আমার, লাইফ ইজ টু শর্ট টু গেট স্টাক ইন এ রং প্লেস 🙂

৮৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ২২, ২০১৫ । ১১.৪৮ পি.এম

এইটারে আমার লিরিসিস্ট হউনের এর ইতিহাস এর ২য় পর্ব বলা যাইতে পারে। আগের লেখায় বলসিলাম নটরডেম এর ফার্স্ট ইয়ার এ আমার সাথে পরিচয় হইসিল ঋজুর। এস এস এসি এর পর আমি আর পিয়াস বাফার গিটার টিচার সনেট ভাই এর কাছে গিটার শিখা শুরু করসিলাম। নটরডেম এ পিয়াস আর ঋজু ছিল একি গ্রুপ এ। গ্রুপ ওয়ান এ। আমি ক্লাস এর ব্রেক এ পিয়াস এর সাথে দেখা করতে গেসি তখন ক্লাস এর সামনে পিয়াস পরিচয় করায় দিল এই যে এইটা ঋজু , ও অনেক ভাল গিটার বাজায়। আমি চোখ বড় বড় কইরা ভাল গীটার বাজাইন্যা ঋজু রে দেখলাম। তারপর থেইকাই আমাদের বকুল তলার আড্ডা গুলা শুরু হইল।

বকুল তলায় গিটারাড্ডা গুলায় একদিন আসলো তিয়াশ ভাই। তিয়াশ ভাই দুর্দান্ত গিটার বাজাইত আর আমি হা কইরা তাকায় থাকতাম। এই আড্ডায় প্রায় ই আসতো ঋজুর ইশকুলের ফ্রেন্ড হিমেল । ওরা দুইজন গভমেন্ট ল্যাব এ একসাথে পড়ত। হিমেল এর গানের গলা বেশ ভালো ছিল আর ও গিটার ও বাজাইতো। এখনকার পোলাপান যেমন স্বপ্ন দ্যাখে ডি এস এল আর কিনার তখন আমাদের কাছে গিটার বেশ কুল ব্যাপার স্যাপার ছিল। তাই দেখা গেসে সবাই কোন না সময় গিটার শিখা শুরু করসিল।

এর মধ্যে ঋজু দের বাসায় প্রায় ই যাইতাম। ওরা থাকতো পল্টনে আর নটরডেম থেইকা যাওয়া অনেক ইজি ছিল। প্রায় ই আমার বিজ্ঞানী কাজিন অভি রে সার এর বাসায় পড়তে পাঠায় দিয়া আমি ঋজুর বাসায় গিয়া বইসা থাকতাম । নিজেদের কয়েকটা গান ও হইল। বিশাল আবেগে ভরপুর সব লিরিক্স লিখতাম আর ঋজু এত মেলোডি আনতো সব গানে। ওই সময় মানে ১৯৯৯ তে লেখা কিছু লিরিক্স ছিল এমন,

“ প্রিয়তমা, শোন গল্প এক
যখন আকাশ ডেকে বলে স্বপ্ন দ্যাখ
তুমি কাঁদবে বলে তাই
এই চোখ ঢেকে যায়
মেঘের রঙ”

অথবা

“ এখনো হয়নি যে সময়
আধারে কান্না এখনো বাজে
এখনো কষ্টের দিন কাল
সবাই ভোলায় চেনে রূপকথা দিয়ে
অশান্ত মন যুদ্ধের সাজ সাজে
আমার হৃদয়ে নীল কান্না বাজে”

ঋজু আর হিমেল এর করা একটা গান আমার অনেক প্রিয় ছিল তখন যার কোরাস টা ছিল,

“আর জীবন যদি শূন্য লাগে তবে ডেকো আমাকে
আর মন টা যদি ব্যারথ লাগে তবে ডেকো আমাকে”

আমরা কিছু গান বানাইতাম। অগুলা তিয়াস ভাই শুনতো আর গিটারে কোন জায়গায় কি হবে সাজেস্ট করতো। এইটা দেওয়া ঠিক হবে, ওই টা হবে না এই সব নিয়া ঋজুর সাথে তর্ক চলতো। তিয়াশ ভাই এর একটা ক্লাস ফ্রেন্ড ছিল আকিক। কি বোর্ড বাজাইত। কি বোর্ড তো ইলেকট্রিক জিনিশ, কলেজে নিয়া আসা যাইত না। একদিন আকিক, তিয়াশ ভাই, হিমেল, ঋজু আমার বাসাবো বাসায় আসলো।

তখন আমি পাঁচ তালায় থাকতাম আর আম্মারা তিন তালায়। কত রকম মজা যে হইসে পাঁচ তালায় কিন্তু সেই গল্প আরেকদিন। আকিক কি বোর্ড নিয়া আসছিল। প্রথম বার এর মত সবাই সেদিন এক সাথে জ্যাম করা হইল। কথায় কথায় উইঠা আসলো যে আমাদের একটা ব্যান্ড ফর্ম করা উচিত যেহেতু সবাই এক সাথে মিউজিক করতাসি ই। আমি লিরিক্স, ঋজু গিটার আর ভোকাল, হিমেল গিটার আর ভোকাল, তিয়াশ ভাই গিটারস আর আকিক কি বোর্ড । তাইলে ড্রামার? ড্রামস কে বাজাবে? তিয়াশ ভাই বলল উনার পরিচিত একটা ছেলে আছে, নাম জনাথন, ওরে বললে ও বাজাবে। ব্যাস হয়া গেল ব্যান্ড। কিন্তু একটা নাম যে দরকার। তিন দিন চিন্তা কইরা ঋজু একটা নাম নিয়া আসল। X দের ব্যান্ড। The X’s .

নীল খেত এর আই সি এম এ এর অডিটরিয়াম এ তখন নিয়মিত আন্ডার গ্রাউন্ড কন্সার্ট, ব্যাচ ইউনিয়ন গুলার কন্সার্ট হইত। এইরকম একটা কন্সার্ট এ X’s এর প্রথম শো হইল। আমি বাসায় এক হাজার টা মিথ্যা কথা বইলা সন্ধ্যা ৬ টা থেইকা রাত ৮ টা পর্যন্ত কন্সার্ট দেইখা এক টা অদ্ভুত অনুভূতি নিয়া বাসায় ফিরলাম।

আমার বার বার ই মনে হইতাসিল, আমার বারান্দায় বইসা লেখা গান, আমার ঋজুর রুমের ফ্লোরে চিত হয়া শুয়া লেখা গান , আমার ওয়াক ম্যান এ রেকর্ড কইরা আইনা ঋজুর করা সুর শুনতে শুনতে পদার্থ বিজ্ঞান প্রথম পত্র খাতার চিপায় মোমবাতির আলো তে লেখা গান আজকে কয়েক শ ছেলে মেয়ে গাইসে একটা অডিটোরিয়াম এ, আমাদের ব্যান্ড এর সাথে সাথে। আমি এখন আর শুধু কলেজের ফার্স্ট ইয়ার এ পড়া একটা কনফিউজড টিনেজার না, আমি একটা ব্যান্ড এর লিরিসিস্ট। কি অদ্ভুত ব্যাপার।

৮৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ২১, ২০১৫ । ৯.৩৩ পি.এম

আজকে কোন লেখা নাই। শরীর অনেক খারাপ লাগতাসে হঠাত। সাভার থেইকা বাসাবো আসছি। রাস্তা তেই অনেক খারাপ লাগতাসিল। এখন মনে হইতাসে আংগুল নারানির ও শক্তি নাই। কিসু খাইতে ইচ্ছা করতাসে না। অনেক দুরবল লাগতাসে। বমি আইতাসে হমানে আর পেট খারাপ। ডি হাইড্রেশন হয়া গেসে বেশি। থাক আজকে আর কিছু না লিখি।

৮২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ২০, ২০১৫ । ৮.৫২ পি.এম

ঢাকা শহরের বাইরে বইসা লেখা ৩৬৫ সিরিজের প্রথম নোট। এখন সাভার আসি। ব্র্যাক সিডিএমএ তে। অপিশের ট্রেইনিং ২ দিনের। কাইলকা ঢাকা ফিরুম। আজকের মত ট্রেনিং শেষ হইসে, রুম এ আইলাম একটু আগে। ডিনার দিব ৯ টায়। খায়া টায়া পরে ঘুম আয়া পরতে পারে, আবার ভুত এর ডর টরও আসে। দুই রুম পরের সুন্দরী আপায় যদি ভয় পায়া আমাগো রুম এ আয়া পরে, তখন তারে বসাইয়া রাইখা নোট লিখতে বসা টা কত বিয়াদ্দপি হইব না? তাই অখনি লিখতে বইসি। এসি মেসি ছাইরা নরম বিছানায় শইল্ডা হান্দায়া দিয়া গদ্দি লাগানি খাট এর রেলিং এ হেলান দিয়া আবসা আবসা আলোয় কোলের উপরে ল্যাপটপ রাইখা লিখা লিখি করতাসি। নিজেরে খুবি বড়লুক বড়লুক লাগতাসে।

এক সপ্তাহ আগে কারিব ভাই আমারে একটা বই পড়তে দিসে। বইটার নাম Boeing : The Complete Story . ইতিহাস এর বই আর আই লাআআআভ ইতিহাস। বিশেষ কইরা এভিয়েশন রিলেটেড ইতিহাস। এই বইটা লিখসেন Alain Pelletier। ২৫৮ পৃষ্ঠার। খুব বেশি পুরানা বই না। ২০১০ সালে প্রকাশিত Heynes Publishing থেইকা। বইটা এখনো শেষ হয় নাই পড়া। মাত্রই দুই দিন হইল শুরু করসি। কিন্তু মনে হইল পইড়া যা যা মজা লাগতাসে ভুইলা যাওয়ার আগে লিখা রাখা উচিত নিজের জন্যই।

বোয়িং কোম্পানি কেমনে শুরু হইল এই কাহিনী টা অনেক মজার। William Edward Boeing (যাকে আমি এই লেখায় মিস্টার বোয়িং বলব) এর জন্ম ১৮৮১ সালের ১লা অক্টোবর আমেরিকার মিশিগান এর ডেট্রয়েট এ। মা অস্ট্রিয়ান আর বাবা জার্মান। আট বছর বয়েসে বাবা মারা যাওয়ার পর মিস্টার বোয়িং এর মা তাকে সুইটজারল্যান্ড এ পাঠায় দেন। নানা বাড়ির পাশের ইশকুলে ভর্তি করায় দেওয়ার মত বেপার আরকি 😛 । মিস্টার বোয়িং আমেরিকায় ফিরত আসেন ১৯০০ সালে। ১৯০৩ সালে তিনি বাপের মতই কাঠের ব্যাবসা শুরু করেন।

চিন্তা করতে কেমন লাগে, বোয়িং কোম্পানির মালিক গাছের গুড়ির গায়ে বিদেশি পানের পিক মুছতে মুছতে কইতাসে, আব্বে ওই জামাইল্লা, গুড়িডা আজকে টেরাকে তুইলা ফালা, পাট্টী আইবো নিতে। কিন্তু আল্লায় বাচাইসে এরম কিছু হয় নাই। তাইলে আমরা জীবনেও 747 জাম্বো জেট এ উঠতে পারতাম না। পৃথিবীর কোটি কোটী এভিয়েশন এন্থুসিয়াস্ট এর শুরু টা যেমন হয়, অমনে মিস্টার বোয়িং রেও পেলেন পোকায় কামড়াইল ২৯ বছর বয়সে।

সময় টা জানুয়ারি ১৯১০। মিস্টার বোয়িং লস এঞ্জেলেস এ আসলেন এয়ার শো দেখতে। দি ফাস্ট বিগ আমেরিকান এয়ার শো। তখন চলতাসে বাই প্লেন এর যুগ। ডাবল পাখা ওলা আর একদম ই বেসিক ইঞ্জিন ওলা প্লেন গুলা দেইখা মিস্টার বোয়িং এর মাথা মুথা খারাপ হয়া গেল। আপনি যদি পেলেন পাগলা হন আপনি বুঝতে পারবেন দ্যাট ফিলিং। প্লেন্স ওয়ার এমেজিং দেন, প্লেন্স আর এমেজিং নাও।

মিস্টার বোয়িং ভীর ঠেইলা এয়ার শো এর এক পাইলট এর কাছে গিয়া আবদার করলেন তারে যেন একবার একটু প্লেন এ উঠানো হয়। Farman Biplane এর পাইলট Louis Paulhan এই ২৯ বছর এর ব্যাডার আবদার শুইনা বেশি পাত্তা পুত্তা দিলেন না। অনেক অনেক মন খারাপ নিয়া সিয়াটল এ ফিরা গেলেন মিস্টার বোয়িং।

উনি যদি সাধারণ কেউ হইতেন তাইলে কয়দিন পর মন খারাপ টা ভুইলা যাইতেন। কিন্তু লিজেন্ড রা মন খারাপ করা মানে পৃথিবী নতুন কিছু একটা পাইতে যাইতাসে। মিস্টার বোয়িং এরোনেটিক্স নিয়া পড়া শুনা শুরু করলেন। সিয়াটল ইউনিভারসিটি ক্লাব এ মিস্টার বোয়িং এর সাথে পরিচয় হইল আরেক পেলেন পাগলার। ইনি MIT থেইকা এরোনেটিক্স এ পাশ কইরা আসছেন আর সদ্যই ইউ এস নেভি তে যোগ দিসেন। ইনার নাম Conrad Westervelt । পেলেন নিয়া আড্ডা দিতে দিতে দুই জন এর মধ্যে খুব দোস্তি হইল।

১৯১৪ সালে Terah Meruni নামে এক পাইলট একটা Curtis Seaplane নিয়া লেক ওয়াশিংটন এ আসলেন স্বাধীনতা দিবসের উৎসবে যোগ দিতে। পেলেন দেইখা তো মিস্টার বোয়িং এর ১৯১০ সালের সেই পুরানা দুখখ আবার চাগার দিয়া উঠল । তিনি ভয়ে ভয়ে গিয়া জিগাইলেন, বাই, আপনের পেলেনে এট্টূ উটতে দিবাইন? এই পাইলট ভাল ছিল। তিনি প্রথমে মিস্টার বোয়িং রে নিয়া একবার উড়লেন। তারপর তার দোস্ত মিস্টার Westervelt নিয়াও উড়লেন। এই বোয়িং লোক টা কি পরিমান কুল ছিল চিন্তা করেন, এত ঝামেলা কইরা ৪ বছর অপেক্ষা কইরা প্লেনে জীবনে প্রথমবার উইঠা আসার পরও তার বন্ধু মিস্টার Westervelt রে বললেন, “মেহ, এইডা কিছু হইল। এই পেলেন বেশী সুবিধার না। তুই আর আমি মিল্লা এর চেয়ে ভালা পেলেন বানাইতে পারুম না?” মিস্টার Westervelt বললেন অবশ্যই পারুম। শুরু হইল দি গ্রেট বোয়িং এডভেঞ্চার। তারা একটা প্লেন বানানই শুরু করলেন যার নাম এই দুই দোস্ত এর নাম এর ইনিশিয়াল দিয়া রাখসিলেন, B & W.

কিন্তু এজ ইউ জুয়াল বাধা আসল। ১৯১৫ সালে মিস্টার Westervelt রে ইউ এস নেভি বদলি কইরা দিল অন্য জায়গায়। মিস্টার বোয়িং কি তাতে থাইমা গেলেন? না। তিনি একলা চল রে গান টা না শুইনাই এইটাতে বিশ্বাসী ছিলেন।

১৯১৬ সালের জুন মাসে B & W বানানি শেষ হইল। মিস্টার বোয়িং একটা পাইলট খুইজা বাইর করলেন যে কিনা তার হয়া প্লেন টারে টেস্ট কইরা দিব। পাইলট এর নাম Herb Munter. ঠিক হইল ১৫ই জুন, ১৯১৬, এক মহান শুভ দিনে এই প্লেন টেস্ট করা হবে।

১৫ই জুন, ১৯১৬। মিস্টার বোয়িং লেক ওয়াশিংটন এর পাশে দাঁড়ায় আসেন তো আসেন ই। পাইলট মিয়ার আর খবর নাই। বিরক্ত হয়া মিস্টার বোয়িং ভাবলেন ধুত্তুরিকা, পাইলট এর মায়েরে বাপ। আমি নিজেই চালামু পেলেন। কারন তিনি ১৯১৫ সালে শিখসেন অলরেডি পেলেন চালানি। পাইলট চান্দু যখন বিদেশি লুঙ্গির গিট্টু সুজা করতে করতে লেকের পারে আইল, সে দেখল যে মিস্টার বোয়িং প্লেন নিয়া অলরেডি টেক অফ এর জন্য চলা শুরু করসেন। B & W আকাশে উড়ল এবং সফল ভাবে নাইমাও আসল।
তারপর আর যাত্রা থামে নাই। মিস্টার বোয়িং এর সেকেন্ড প্রজেক্ট ছিল একটা C-4 বিমান। সেইটাও সফল ভাবে শেষ হয়। ১৯১৭ সালে তিনি কোম্পানির নাম চেঞ্জ কইরা The Boeing Company রাখেন আর ৯০ ডলার মাস বেতন এ ইউনিভারসিটি অফ ওয়াশিংটন এর থিকা পাস করা দুইজন ইঞ্জিনিয়ার নেন। Claimont L Claire আর Philip G Johnson নামের এই দুই জন ইঞ্জিনিয়ার কে বোয়িং কোম্পানির পিলার বলা হয় যারা পরে বোয়িং এর চেয়ারম্যান হইসিলেন।

প্লেনে উঠতে না পাইরা ১৯১০ সালে মন খারাপ হইসিল যে ছেলেটার, হি এন্ডেড আপ ডিজাইনিং হিজ ওন প্লেন আর আলটিমেটলি স্টারটিং আপ দি বিগেস্ট কোম্পানি ইন দি হিস্টোরি অফ এভিয়েশন। পরের বার মন খারাপ হইলে এইটা একটু মনে কইরেন।