১০১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ৮, ২০১৫ । ১১.২১ পি.এম

আজকে একটু প্লেন এর গল্প করি। এত দারুণ সব প্লেন দুনিয়া তে । তাদের কথা কিছু তো সুজা কইরা লেইখা যাওয়া উচিত কারো। আমি কিছু কিছু কইরা ট্রাই করব সামনেও কিছু বিখ্যাত প্লেন এর সাথে পরিচয় করায় দিতে। বইলা রাখা ভাল যে আমি অনেক কিছুই জানি না, কিন্তু যত টুকু জানি তা দিয়া যদি অন্য একজন এর মধ্যে জানার আগুন টা জালায় দিতে পারি, তাইলে এক সময় সে আমার থেইকাও অনেক বেশি জানবে। এই টাই উদ্দ্যেশ্য।

আমি ফিল করসি এই গুলা জানার মধ্যে একটা অন্যরকম আনন্দ আছে। তাই সেই আনন্দময় জগত টারে আরেকজন এর সাথে পরিচয় করায় দিইতে চাইতাসি। সবার যে ভাল্লাগবো এমন কোন কথা নাই। আমি তা আশাও করি না। যার ভাল্লাগবো তার জানার আগ্রহও থাকব শুধু এই টা জানি।

আর একটা কথা বইলা রাখা ভাল যে আমি লেখার সময় প্রথমে মুল ব্যাপার টা বলব তারপর প্রচুর বেসিক টার্ম ব্যাখ্যা করতে করতে যাব। কারন আমি এমনেই পড়সি জিনিশ গুলা। পরা শুরু করসি। একটা নতুন টার্ম আসছে যা জীবনেও হুনি নাই। তখনি ওইটা জানার জন্য ঝাপ দিয়া পরি নাই। প্রথমে মুল ব্যাপার টা বুঝসি, তারপর নতুন টার্ম গুলার ডিটেইল এ ফেরত গেসি। লেখার ট্রাই করতাসি ও এমনেই।

আজকের প্লেন বোয়িং ৭৭৭।

আমি খেয়াল করসি সবাই মোটামুটি বোয়িং, এয়ারবাস এই টার্ম দুইটা জানে। একেবারেই প্লেন নিয়া ইন্টারেস্ট নাই এরম বিদেশ ফেরত মানুষ রে যখন জিজ্ঞেস করসি, কি প্লেন এ আসছেন? তখন অনেকেই জবাব দিসে, বোয়িং। আবার কেউ কেই জবাব দিসে, প্লেন এর সিট গুলা ছোট ছোট ছিল, বাস এর মত, ওইটা মনে হয় এয়ারবাস ছিল। সবার জানা থাকা উচিত যে , বোয়িং আর এয়ারবাস এই দুইটা কোন এয়ারক্র্যাফট এর টাইপ না। প্রস্তুতকারক কোম্পানি। যেমন আপনের দোস্ত যদি জিজ্ঞেস করে দোস্ত নতুন গাড়ি কি কিন্সস শুনলাম? কি গাড়ি কিনলি? আপনে ভেবাচেকা খাইয়া ভাবলেন খাইশে গাড়ির আবার রকম কি। বড় গাড়ি, ছোট গাড়ি, চুখখা গাড়ি, ভুতা গাড়ি এ তো। তার পর আমতা আমতা করতে করতে বন্ধু রে কইলে … আমমমমমম … টয়োটা গাড়ি দোস্ত।

এহন টয়োটা তো পিক আপ ট্রাক ও বানায়। তৈলে যে প্রশ্ন করসে হে কেমনে বুঝব যে এইটা টয়োটা গাড়ি মানে পিক আপ না সেডান না অন্যকিছু? সেই রকম এইডা বোইং বললে বুঝন যাইব না এইডা আসলে কি প্লেন। বোয়িং এরও অনেক মডেল এর প্লেন আসে। তার মদ্যে সর্বাধিক বিক্রিত মডেল হইল বোয়িং ৭৭৭।

বোয়িং ৭৭৭ রে অনেকে আদর কইরা আরেকটা নামে ডাকে। ট্রিপল সেভেন বা টি সেভেন। একটা বিমান ব্যখ্যা করতে তার ফিচার গুলা বলা লাগে। আর যেহেতু এখন সেই ফিচার গুলা বলব , তাই তার আগে কুনটার মানে কি বইলা নেয়া ভাল।

রেঞ্জঃ প্লেন এর ক্ষেত্রে রেঞ্জ হইল এই প্লেন এক বারে কত টুক যাইতে পারে উইদাউট এনি রিফুয়েলিং। বিভিন্ন রেঞ্জ এর প্লেন আসে। শর্ট রেঞ্জ, লঙ রেঞ্জ, এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ এরম। বোয়িং ৭৭৭ এর রেঞ্জ হইল ৯৬৯৫ থেইকা ১৭৩৭২ কিলো মিটার। এই জন্য ট্রিপল সেভেন রে লঙ রেঞ্জ/ এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ এয়ারক্রাফট হয়।

ওয়াইড বডিঃ যেই বিমান গুলায় এক এর অধিক আইল (সিট গুলার পাশে দিয়া হাটার রাস্তা) থাকে তাদের কে বলে ওয়াইড বডি এয়ারক্রাফট। টি৭৭৭ একটা ওয়াইড বডি এয়ারক্রাফট। একটা টি৭৭৭ প্রায় ৪৫১ জন পর্যন্ত যাত্রী নিয়া ফ্লাই করতে পারে।

টুইন ইঞ্জিন জেট প্লেনঃ টুইন ইঞ্জিন মানে হইল গিয়া এই পেলেন এ দুই খান ইঞ্জিন আসে আর এই ইঞ্জিন দুইটাই জেট ইঞ্জিন। সেই হিসাবে টি সেভেন একটা টুইন ইঞ্জিন জেট প্লেন। টি সেভেন এর ইঞ্জিন এর বেপারটা মজার।

ট্রিপল সেভেন ৩০০ইআর এ ব্যাবহার করা হয় জিই ৯০ ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন এর মুখটা এত বড় যে এইটা দিয়া আরেকটা বোয়িং ৭৩৭ এর ফিউজালাজ (পেলেন এর বডি রে বলে ফিউজালাজ) ঢুইকা যাইতে পারে। আর ট্রিপল সেভেন এর ইঞ্জিন এর (জিই ৯০) এর সাউন্ড টা এত ইউনিক যে অফিসে যখন আকাশ এর দিকে তাকাইতে পারি না, তখনো জিপি হাউজের উপর দিয়া ট্রিপল সেভেন গেলে বুঝতে পারি ট্রিপল সেভেন যাইতাসে।

তারমানে দাড়াইল গিয়া ট্রিপল সেভেন একটা লঙ রেঞ্জ, ওয়াইড বডি, টুইন ইঞ্জিন জেট প্লেন। এখন মনে হয় টার্ম গুলা বুঝতে অসুবিধা হয় নাই। এই ভাবে সব এয়ার ক্রাফট কে এই টার্ম গুলা দিয়া ব্যখ্যা করা যায়। খালি সংখ্যার কম বেশি হইব।

ট্রিপল সেভেন হইল বোয়িং এর প্রথম “ফ্লাই বাই ওয়ার – Fly By Wire” প্লেন। ফ্লাই বাই ওয়ার কি? এর আগে প্লেন চালানো হইত মেকানিকালি। পেলেন এর স্টিয়ারিং বা প্লেন এর ক্ষেত্রে যেইটার নাম কন্ট্রোল কলাম, তা ধইরা টান দিলে সেইটার সাথে লাগানো মেকানিকাল জিনিষ গুলা কাজ কইরা একটা কিছু করত (রাডার, এলেরন নাড়াইতো, যা ডানার আর লেজ এর মধ্যে থাকে, আর প্লেন কে উপরে উঠতে আর নিচে নামতে আর ডাইনে বামে কাইত হয়া যাইতে হেল্প করে)। ফ্লাই বাই ওয়ার এ সব টাচ স্ক্রিন টাইপ ফিচার চইলা আসলো। গাড়ির পাওয়ার স্টিয়ারিং টাইপ এর।

এই সিস্টেম এ বিমান এর স্টেয়ারিং ধইরা টান দিলেই বিমান লারা চারা শুরু করে না। আগে কম্পিউটার এর কাছে খবর পৌছায় যে টান দেওয়া হইসে, তখন কম্পিতার ডিসিশন ন্যায়, কোন অংশে এই বার্তা পৌঁছাইতে হবে।

ট্রিপল সেভেন এখন পর্যন্ত ওয়াইড বডি দের মধ্যে সব চেয়ে বেশি সেল হওয়া এয়ার ক্র্যাফট। ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত বোইং এর কাছে মোট ১৮২৭ টা অর্ডার প্লেস করা হইসে। তার মধ্যে বোয়িং সফল ভাবে ডেলিভারি করতে পারসে ১২৬৩ টা। এর মধ্যে আবার সব চেয়ে বড় ক্রেতা হইল অ্যামিরেটস। ইনাদের মোট ১৩৮ টা বোউইং ৭৭৭ আছে।

বাংলাদেশ ও কিন্তু পিছায় নাই। আমাদের মোট ৬টা ট্রিপল সেভেন আসে। এর মধ্যে ৪ টা একেবারেই আমাদের কেনা ৭৭৭-৩০০ইআর। আর দুইটা ইজিপ্ট এয়ার থেইকা ধার নেওয়া ৭৭৭-২০০। এই দুইশ আর তিনশ মানে কি তা এখন ব্যাখ্যা করার ট্রাই করুম।

ট্রিপল সেভেন এর ভেরিয়েন্টঃ

ভেরিয়েন্ট মানে হইল গিয়া একটা বিশেষ মডেল এর বিমান এর প্রকারভেদ। যেমন কোরবানির গরু যদি মেইন মডেল হয়, তাইলে তার ভেরিয়েন্ট হইল গিয়া কালা গরু, সাদা গরু, লাল গরু, হাল্কা গুলাপি গরু ইত্যাদি। আইফোন যদি মেইন মডেল হয়, তাইলে তার ভেরিয়েন্ট হইল আইফোন টু , ত্রিজি, ফোর এস ইত্যাদি। এরম ট্রিপল সেভেন এরও ভেরিয়েন্ট আছে।

একদম প্রথমে রিলিজ পাইল Boeing 777-200, যা অপারেশন এ আসছিল ১৯৯৫ সালে।

১৯৯৭ তে অপারেশন এ আসল Boeing 777-200ER।ই আর মানে হইল এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ। মানে এই টা আগের টার চেয়ে বেশি দূর যাইতে পারতো।

১৯৯৮ সালে ট্রিপল সেভেন লম্বায় আরেকটু বাইরা গেল আর বাজারে আসল Boeing 777-300

২০০৯ এ ট্রিপল সেভেন এর কারগো ভার্শন রিলিজ পায় যার নাম Boeing 777F. এইখানে F স্ট্যান্ডস ফর Freighter. সাধারণ জনগণ যারে কারগো বলে ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্ল্ড এ সেইটার নাম ফ্রেইটার।

২০১৩ তে Boeing 777-200ER এর রেঞ্জ আরো বাড়ায়া আনা হইল Boeing 777-200LR

২০১৩ তে বোয়িং কোম্পানি দুইটা ভেরিয়েশন এর ঘোষণা দ্যায় যারা কিনা ২০২০ সালে বাজারে আসবে, এগুলা হইল 777-8X আর -9X। যেগুলারে এক লগে Boeing 777X বইলা বুঝানো হয়।

২০০৪ তে Boeing 777-300 এর রেঞ্জ বাড়ায়া রিলিজ পাইল Boeing 777-300ER. এইটা বর্তমানে সব চেয়ে জনপ্রিয় ট্রিপল সেভেন ভেরিয়েন্ট।

এছাড়া আরো দুই রকম ভেরিয়েশন আসে ট্রিপল সেভেন এর। ট্রিপল সেভেন এর বিজনেস জেট ভার্সন, যা কিনা ভি আই পি দের জন্য কনফিগার কইরা দেওয়া Boeing 777-300ER আর Boeing 777-200LR।

আরেকটা ভেরিয়েন্ট হইল Boeing 777 Tanker বা KC-777 যা কিনা অখনও অপারেশন এ আসে নাই। এইডা ইউ এস এয়ার ফোরস তাদের এয়ার টু এয়ার রিফুয়েলিং এর কাজে ব্যবহার করবে।

এই হইল ট্রিপল সেভেন এর কাহিনী। আমি খুবি সংক্ষেপে লিখসি। আর অনেক ডিটেইলও বাদ দিসি। আগ্রহী রা একটু নেট ঘাটাঘাটি কইরা আনন্দ খুইজা নিবেন বইলা ধইরা নিতাসি।

১০০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ৭, ২০১৫ । ৯.২৫ পি.এম

আমার টোস্টার টা নষ্ট হয়া গেসিল। রুডি হান্দায়া চাপ দিলে রুডি নিচে যাইত ঠিকই কিন্তু গরম হইত না। টোস্টার হালার জীবনে কুনু উত্তেজনা নাই কেন, বুঝতে পারতাসিলাম না। টোস্টার কেমনে কাম করে তা দিয়া সার্চ দিলাম।

বুঝলাম যে টোস্টার এর বিত্রে একটা সার্কিট থাকে, যেই খানে একটা ক্যাপাসিটর থাকে। যখন রুডি নিচের দিকে নামানি হয় তহন এই ক্যাপাসিটর এর বিত্রে দিয়া কারেন্ট যায় টোস্টার এর নাইক্রম এর তার এর জালি তে। আঁর কিছু কারেন্ট যায় তলে লাগানি ইলেক্ট্রো মেগনেট টা তে। নাইক্রম এর তার এর জালি গরম হয় আর ইনফ্রারেড রেডিয়েশন দিয়া রুডি ও গরম হয়। আর অন্যদিকে ক্যাপাসিটর এ ভোল্টেজ একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় পৌঁছাইলে অইডা মেগনেট এ কারেনট পাডানি অফ কইরা দ্যায়। এর ফলে রুডি গুলা ফাল মাইরা উইঠা পরে।

টোস্টার টা খুইল্লা টুরকা টুরকা করলাম। দেখলাম এক জায়গায় ঝালাই নষ্ট হয়া তার খুইলা রইসে, ওই জন্য নাইক্রম এর তার এর জালি তে কাড়েন যাইতে পারতাসে না। কিনত ক্যাপাসিটর এ ঠিকই যাইতাসে। বাসায় তাতাল নাই যে তার ঝালাই কইরা লাগামু। অখন তাইলে কি করুম? পরে এট্টু বুদ্দি বাইর করলাম। দুধের টিন এর থিকা টিন কাইটা নিয়া তারের মাথায় পেঁচাইলাম। তারপর স্টেপ্লার মাইরা লাগায় দিলাম সার্কিট এর লগে। টিন আর এলুমিনিয়াম দুইডাই বিদ্যুৎ পরিবাহী। তাই কারেন যাইতে আর সমিস্যা হইব না। সব আবার ঠিক ঠাক জুরা লাগাইয়া রুডি ভইরা টিপা দিয়া দিলাম। মাশাল্লাহ, মস মসা রুডি টোস্ট হয়া বাইরইসে।

এই সব করতে করতে একটা চিন্তা মাথায় আসলো। আমরা ইশকুল কলেজে যে কি কি সব পইড়া আইসি, তার কয়ডা আমাগো বাস্তব জীবনে কামে লাগতাসে? আমার মনে আসে আমি ক্লাস এইট এর কৃষি শিক্ষা তে যমুনা পারি ছাগল লালন পালন শিখসি, গরু মোটা তাজা করন শিখসি, আধুনিক ভুট্টা চাষ শিখসি। এখন আমার যমুনা পারি ছাগল কই? মোটাতাজা করন এর গরু কই? পপ করন খামু, আমার ভুট্টা খেত কই? তৈলে ওই সময়ডা আমার থিকা চুরি করল না আমাগো এডুকেশন শিশটেম?

আমার মনে হয় ক্লাস ফাইভ থিকা ক্লাস টেন এই পাঁচ বছর এ অন্তত দশ টা লাইফ স্কিল শিখানো উচিত। যাতে পোলাপান অন্তত পড়ে কইতে পারে, নাহ, ইশকুল এ যাওন ডা ভালা ডিসিশন হইসে। যেমন কত জোস হইত যদি আমরা এমনে শিখতাম,

ক্লাস ফাইভ – সুইমিং আর সাইক্লিং

ক্লাস সিক্স – খালি ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বিবিএ ছাড়াও যে জীবনে আরো অনেক কিছু হয়া যায় তার সাথে পরিচিতি।

ক্লাস সেভেন – রান্না করা, সেলফ ডিফেন্স

ক্লাস এইট – ইন্টারনেট এর আচরণ বিধি, বেসিক ফার্স্ট এইড, সিনেমা-মিউজিক-আর্ট এপ্রিসিয়েশন

ক্লাস নাইন – ব্যাঙ্ক এ একাউন্ট খোলা, ইউটিলিটি বিল দেওয়া, কিভাবে ভোটার আইডি কার্ড, পাসপোর্ট করতে হয়

ক্লাস টেন – ইনকাম ট্যাক্স , ড্রাইভিং , বেসিক ইলেকট্রনিক্স, মুক্তিযুদ্ধের উপর এসাইনমেন্ট

তয় এই ক্লাস গুলা ডিজাইন করনের সময় বাস্তবতা মাথায় রাখতে হইব। নম্বর পাওয়ার লগে জুইরা দিলে হইব না। নাইলে সাইন্স এর প্রেক্টিকাল ক্লাস এর মত স্যার এ বেঙ কাটসে, আমরা দেখসি টাইপ অবস্থা হইব।

আমার ১০০ টা নোট হয়া গেসে বাই দা ওয়ে। কি অদ্ভুত। এই মহা আইলশা বেডায় ১০০ ডা নুট লিখতে পারসে। আরো ২৬৫ টা বাকি। এট্টু ফিস ফিস কইরা হাত তালি দেন আমি ল্যাপটপ উঁচা কইরা দেখাই।

আম্মা, চেঞ্চুরি করসি আম্মা :’D

৯৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ৬, ২০১৫ । ১১.৪৭ পি.এম

হুর হইল না। ভাবসিলাম নোট লেখার টাইম ডা চেঞ্জ করুম। কিয়ের কি। আবার হেই ১১ ডা বাজেই লিখতে বইসি। অবশ্য বেপারটা লজিকাল। হারাদিন এর পর কি হইসে না হইসে নিয়া লিখতে বসা। যদি দিনের বেলাতেই লিখা ফালাইতাম আর তারপরে সন্ধ্যা বেলা একটা ইউ.এফ.ও আইসা জিজ্ঞেস করল, “বাইজান, মঙ্গল গ্রহ ডা কুন্দিকে?” তৈলে এগরে যে চাঁদ বরাবর হাইট্টা গিয়া ডাইনে মুর লইতে কইসি এইডা কুন নোট এ লিখতাম? নোট লম্বর ৩৬৫/৯৯.৫ এ ?

আইজকা দিন ভালাই গেসে আল হাম দু লিল্লাহ। কথা ছিল সকালে উইঠা মোদী এর পেলেন এর ফটুক তুলতে যামু। কিন্তু ঘুমেত্তে উইট্টা দেহি ৯ ডা বাজে । কুন মতে পেন্ট পইড়া বাইর হইলাম। ফ্লাইওবার এর তলে আইসা পুলিশ দিল আটাকায়া। উত্তরার দিকে যাউনের রাস্তা বন্দ। কি আর করা। ঘুইরা বসুন্ধরায় আইসা বাজার করলাম। তারপর আকাশ বাতাস দেখতে দেখতে বাইত আয়া পরলাম। এসি কিন্না এই এক অসুবিধা হইসে। বেশ ঘরে নতুন বউ ফালায়া আইসি টাইপ অনুভূতি হয় হঠাত হঠাত। মনে হয় কহন বাসায় যামু। গরম শরীর এর জালা মিটামু। ইচ্ছাটা যদিও খুবি নন অশ্লীল । খালি এনালজি টা দুষ্টু।

বাসায় আইসা দুপুর পর্যন্ত গইরাইলাম। ইউটিউব দেইখা দেইখা আজকে একটা নতুন গান উঠাইসি ইউকিলেলে তে। জন ডেনভার এর কান্ট্রি রোড। মজা আসে বাজাইতে। ইউকেলেলে ব্যাপার টা দিন দিন বেশ মজাদার হয়া যাইতাসে। কেমেরা কেনার পর যেমন সারাক্ষণ সাথে লয়া ঘুরতে ইচ্ছা করত, ওই রকম। মনে হয় অফিসে লয়া যাই সাথে কইরা। আর ব্রেক এর সময় নতুন গান উঠাই।

কিন্তু আমাগো লোকজন যেই , স্টেরিও টাইপিং করতে ওস্তাদ সব। অলরেডি আমারে ফটোগ্রাফার হিসাবে লোকজন চিনে বেশি, টেকনিকাল লোক হিসাবে কম চিনে দেইখা নাকি লজ্জায় মাথা কাটা যায়। আবার ইউকিলেলে লয়া গেলে কইব, ও তো নাচ-গান করে। শিল্পী। অর প্রমোশন সবার পরে।

এইটা নিয়া একটা কাহিনী মনে পরসে। তখন নতুন নতুন জয়েন করসি। ২০০৭ এর কথা। আমার তখন কার বস যিনি ছিল তার জগত টা ছিল খুবি ক্ষুদ্র একটা জগত। নিজের জানার বাইরে কিছু যে থাকতে পারে তাতে উনিই বিশ্বাসী ছিলেন না। যাই হোক (“যাই হোক” বলা আমি একজন এর থিকা শিখসি, আহা সে বললে কত কিউট লাগে), উনি এক দিন দৌড়াইতে দৌড়াইতে আমার কাছে আইসা বললেন, পয়শাল, তুমি নাকি ভেন্ড কর? তুমি নাকি গান লেখ? তুমি কি তাইলে কবি? এই প্রশ্নের জবাব কি দিমু বুঝতে না পাইরা ভেবা চেকা খাইয়া গেলাম। আমি “না মানে, ইয়ে মানে, লিখি আরকি, লিখলেই লিখা হয়” এই টাইপ এর কি কি জানি ভগিচগি জবাব দিলাম। উনি বললেন, তাইলে আমাদের ডিপার্টমেন্ট নিয়া একটা ছড়া কবিতা লিখা দাও। আমি ঢোক গিল্লা উনার দিকে তাকায় থাকলাম।

কাউরে না বলতে আমার আসমান জমিন কষ্ট হয়। তার উপরে আবার উনি বস। আমাদের ডিপার্টমেন্ট এর নাম ছিল তখন Transmission Planning ওরফে TP. এরে নিয়া আবার কি লিখুম? আমারে চুপ কইরা থাকতে দেইখা উনি বললেন, “বেশি আবেগি কবিতার দরকার নাই, ধর এরকম লিখতে পারো যে,

এই আমাদের জি পি,
আমরা সবাই টিপি,
ফ্রিকোয়েন্সি মাপি,
আমরা ইঞ্জিনিয়ার,
আমাদের ভিতরে আছে ফায়ার”

এই ধরনের কিছু লিখা দাও। নাও, আমি তো প্রথম কয়েক লাইন লিখাই দিলাম। বাকি টা তুমি লিখে বিকালে আমাকে দিও। আমি এক ঘণ্টা পর উনার কাছে গিয়া বললাম, ভাইয়া লেখা তো আগাইতাসে না। আপনার টাই ভাল বেশি , আপনি লিখলেই ভাল হবে। উনি সাথেই সাথেই কাগজ কলম নিয়া বইসা পড়লেন। শেষ মেষ কি আউটপুট দাড়াইসিল আর দেখার সুযোগ হয় নাই।

বিকালে গেসিলাম উত্তরা। আমি, রাশা আর কারিব ভাই গেসিলাম আর্কিটেক্ট সেতু ভাই এর অফিসে। উনার অফিস টা মজার অনেক । নিজের অফিস তো। উনার অফিসে অনিমেষ কুণ্ডু ভাই এর সাথে পরিচয় হইসে। নিতুন কুণ্ডুর ছেলে। অটবির মালিক। ভাল্লাগসে উনাকে।

সেতু ভাই এর অফিসে অনেক গুলা গিটার, বেজ গিটার, কি বোর্ড, পার্ল এর ড্রামস সেট, গিটার এম্প, বেজ এম্প সবই আসে। এক সাইড এর অফিসের লোকজন এর কাজ করার ডেস্ক।অন্য সাইড এ এগুলা। আমরা ফাটায় বাজাইসি সব কিছু। বেশ জম জমাট গান বাজনা হইসে। আমি অনেক দিন পর বেজ বাজাইসি। মজা লাগসে অনেক। হারমোনিকাও বাজাইসি। কেমেরা কুনায় রাইখা ভিডু ও করসি কিছু। আপলোড করতে হইব সময় পাইলে।

৯ টার দিকে বাইর হইসি উনার বাসা থিকা। তারপর হেঁসেল বইলা একটা চাপ এর দোকান হইসে উত্তরা তে, ওইটাতে চাপ চুপ আর নান রুডি মুডি খায়া হাওয়া খাইতে খাইতে বাইত আয়া পরসি।

যাই হোক, ৯৯ লম্বর নোট শেষ করি। ১০০ তম নোট কালকে। অদ্ভুত। ১০০ তম নোট লিখা এর পর কি করুম? ব্যাটসম্যান গো মত ল্যাপটপ উঁচা কইরা দেহামু সবাইরে?

৯৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ৫, ২০১৫ । ১১.০৮ পি.এম

জিনিষটা আবার রুটিন হয়া গেসে। প্রত্যেকদিন রাত ১১ টা থেইকা ১২ টার মধ্যে নোট পাবলিশ করা। দিস হ্যাড টু চেঞ্জ। এইটা রে প্রতিদিন এর দাঁত মাজার মত রুটিন বানাইতে চাই না। রাইত ১১ টা বাজলেই নাইলে কেমন মনে হইতে থাকে, কি জানি করি নাই, কি জানি করি নাই।

আজকে হারাদিন বাসা তেই। বাসার বাইরে এক পা ও দেই নাই। আমি গত পরশু এক খান এসি খরিদ করসি। আমি আর রাশা নর্থ এন্ড থিকা বাইর হয়া পাশের এল জি এর দুকানে ঢুক্সিলাম এমনেই। এ সি ধইরা টিপা টুপা রাশা বলল, কিন্না লা। তাইলে তোর বাসায় হ্যাং আউট করন যাইব। আমি কইলাম আইচ্চা, কিন্না লাই, কি আছে দুনিয়ায়। বাই ইডা প্যাকেট করেন। দুকান্দার খুবি বিরক্ত। হে কি কি জানি স্পিচ রেডি করতাসিল, এই এসি তে এই আসে সেই আসে, পুষ্টিকর উপাদান, ভিটামিন হাবি যাবি কি কি জানি কইতাসিল। মাঝখান দিয়া থামায়া দিয়া জিগাইসি, বাই, ইডা দিয়া কি রুম ঠাণ্ডা হইব? বেডা আরো বিরক্ত। পরে যহন কিনসি তহন খুশি হইসে। ওই দিন মেস্তুরি আসিলো না শবে বরাত এর বন্ধ তাই। গতকাল রাইতে আইসা লাগাইয়া দিয়া গেসে। অখন সুইচ টিপ মারলেই শীত করে। কি তামশা। এসি দেখতে সুন্দর।

আজকে সারাদিন আইস টি ছাড়া কিছু খাই নাই। তাই অখন রান্না করতাসি। মাংস হয়া গেসে। জীবনের এই পরথম মুরগির মাংস রানলাম। চামুচ দিয়া খাইয়া দেখসি লবণ ঠিক আছে। অখন খিচুরি আর ডিম ভাজি রান্ধুম। লগে আম্মার দেওয়া কাশ্মীরি আচার। এসি ডা ছাইড়া “হাউ আই মেট ইউর মাদার” এর চার নাম্বার সিজন এর চইদ্দ লম্বর পর্ব ডা ছাইড়া খাইতে বমু। খাওয়ার পর এক গেলাস আইস টি ও বানায় খাইতারি। আমি দুনিয়ার টিভি সিরিজ ডাউনলোড করসি। আর অশিক্ষিত থাকপো না। সব দেইখা ফালাবো।

জাইগা । খানা লাগাই ।

৯৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ৪, ২০১৫ । ১০.৫২ পি.এম

আমাদের আশে পাশে অনেক গিক (Geek) লোকজন আছে। এদের আমরা বেশি পাত্তা পুত্তা দেই না। এরা নিজেগো মত থাকে। প্যাশন এর বিষয় টা নিয়া অনেক গবেষণা করে আর অনেক জানে। বন্ধুরা এদের সাথে কথা বলতে গিয়া “ধুর ব্যাটা তোর লেকচার অফ করবি” বইলা ঝারি মারে। এদের বন্ধু/বান্ধবী ভাগ্য খুবি খারাপ, যদিও এদের প্রায় ই ক্লাস মেট ছেলেটার/মেয়েটার এসাইন্মেন্ট কইরা দিতে দেখা যায়। এদের ঠিক আতেল বলা যায় না, কারন এরা বোরিং টাইপ না। এদের সেন্স অফ হিউমার ভাল। কিন্তু এদের কুউল বইলা মাইনা নিতে চায় না কেউ।

গিক রা সারা রাত জাইগা থাইকা দুনিয়া খুইলা টুকরা টুকরা করে। যাতে পরের দিন ওরা আবার সেইটারে জুরা লাগাইতে পারে। যেসব জিনিষ নষ্ট কিনা আমরা জানতাম ই না তার সেই সব জিনিষ ও ঠিক কইরা ফালায়। তারা দুনিয়া রে এক রকম পরিত্যাগ ই করে, কারন তারা তখন নতুন একটা দুনিয়া বানাইতে ব্যাস্ত। তারা ভাল লাগার বিষয় টা নিয়া অবসেসড থাকে এবং শেষ মেষ কষ্ট পায় অনেক।

আমি পৃথিবীর যাবতীয় গিক দের ভালা পাই। ইন ফ্যাক্ট আই এনভি দেম। সেইটা ফটোগ্রাফি গিক ই হোক, আর এভিয়েশন গিক ই হোক, আই ট্রাই টু ফলো দেম। এদের লাইফ নিয়া স্টাডি করতেও মজা অনেক। আজকে আমি যার কথা লিখব, তিনি আমার চোখে সর্বকালের সেরা গিক দের একজন।

একশ বছর এরও বেশি আগে, নিকোলা টেসলা নামে একজন সারবিয়ান-আমেরিকান লোক সেই সব জিনিষ ঠিক করে দেন, যা আমরা জানতাম ই না যে সেগুলা ব্রোকেন। এমন একটা সময় এর কথা বলতাসি যখন দুনিয়ার বেশিরভাগ জায়গা মোমবাতি দিয়া আলোকিত ছিল, এসি কারেন্ট (Alternating Current) নামে এইটা জিনিষের আবিষ্কার হয়। যা কি না আজ পর্যন্ত মানব সভ্যতা কে পাওয়ার দিয়া যাইতাসে।

তাইলে এই আবিষ্কার এর জন্য আমরা কাকে ধন্যবাদ দিব? অবশ্যই নিকোলা টেসলা। কিন্তু “আমি তো থমাস আল্ভা এডিসন কে মডার্ন ইলেকট্রিক টেকনোলজি এর জনক বইলা জান্তাম।“ – বাকি সবাই।

কিন্তু না। এই কৃতিত্ব অবশ্যই পাবেন নিকোলা টেস্লা। এডিসন এর কথা যখন আসলই এডিসন কে আমরা কি হিসাবে চিনি? লাইট বাল্বের আবিষ্কারক? আমি একটু ঘাইটা দেখতে গিয়া আবিষ্কার করলাম যে, এডিসন এর আগে আরো ২২ জন এর ২২ রকম এর বাল্ব তৈরির পেটেন্ট অলরেডি ছিল। এডিসন যা করসেন তা হইসে তিনি তার আবিষ্কার করা বাল্ব বেচার একটা ভাল তরিকা ফলো করসেন।

নিকোলা টেস্লা কিনতু এডিশন এর আন্ডারে কাজ ও করসেন। তখন তার ক্যারিয়ার এর শুরুর দিকের কথা। তার ট্যালেন্ট দেইখা এডিসন টেস্লাকে গিয়া বললেন, তুমি যদি আমার ডিসি মটর আর ডিসি জেনারেটর এর প্রবলেম সল্ভ কইরা দিতে পারো, তাইলে আমি তুমারে ১ মিলিয়ন ডলার দিমু।

টেসলা তার অসাধরন মেধা দিয়া এডিশন এর কাজ গুলা কইরা দিলেন। যখন টাকা চাইতে গেলেন এডিশন এর কাছে, এডিশন বলন, “টেস্লা , তুমি দেহি আমাগো আমেরিকান গো ফাইজলামি কথা বুঝতে পারো না” তিনি বলসিলেন,

“Tesla, you don’t understand our American Humor”

এডিশন শুধু এই কইরা থামেন নাই, নিকোলা টেসলা রে এডিসন বেতন দিতেন সপ্তাহে ১০ ডলার। তিনি অফার করেন, “তুমার বেতন বাড়ায়া দিলাম যাও। ১০ ডলার থেইকা ১৮ ডজলার পার উইক দেয়া হবে তোমারে” টেসলা এই অফার প্রত্যাখ্যান করেন এবং রিজাইন করেন লগে লগে।

আজকে আর না লিখি। ঘুম ধরসে অনেক। আরো অনেক কিছু লেখার আছে নিকোলা টেসলা নিয়া। আশা করি আগামী নোট গুলায় সেগুলা লিখতে পারবো। খালি একটা লেখায় টেসলা নিয়া লিখা শেষ করা যাবে না।

৯৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ৩, ২০১৫ । ১১.৩৬ পি.এম

আমি কখনই কফি লাভার ছিলাম না। আমি সব সময় ই টি ড্রিংকার এর দলে। চা না কফি জিগাইলে আমি চা ই কই বেশির ভাগ সময়। কফি জিনিশ টা আমার কাছে ঠিক রেগুলার পান যোগ্য পানীয় না। শখ কইরা খাওয়ার মত জিনিষ। এর মুল কারন অভ্যাস না থাকা আর দুই নম্বর কারন কফি সম্পর্কে খুব ই কম জানা। এইডা কি তিতা কইরা খাওন লাগে? না মিশটি কইরা। দুধ কি বানানির সময় মিশানি লাগে নাকি পরে? চা এর লগে যেরম আমি এক গামলা চিনি মিশাই অইরম কফির লগে মিশাইলে কি মাইনসে হাসবো? এই সব চিন্তা করতে করতে শেষ মেষ না বাবা আমরার চা ই ভাল। এই চা লাগা দুই কাপ, দুধ চিনি বেশী।

কিন্তু কফি ব্যাপার টা সব সময় ই একটা রহস্য হয়া থাক্সে ওই জন্য। চা এর যেমন খুব বেশি হইলে তিন চার রকম এর ভেরিয়েশন দেখা যায়। ওই লাল চা, দুধ চা, লেবু চা, আদা চা, মাল্টা চা এই শেষ। এহন আবার কি কি জানি বাইর হইসে গ্রিন টি, ব্ল্যাক টি হাবি যাবি। কিন্তু নাম শুইনাই বুঝন যায় যে এই ভেরিয়েশন গুলা মোর ফোকাসড অন দা এডেড ফ্লেভার, রেদার দ্যান দা টি ইটসেলফ। মানে কি না চা এর লগে হাবি যাবি মিশাইয়া ভেরিয়েশন বানানির চেষ্টা, কিন্তু মুল চা ওই এক রকম ই। কিন্তু কফির ক্ষেত্রে দেখলাম কত্ত রকম এর ভেরিয়েশন । কই জন্মাইসে তার উপরে ভেরিয়েশন। বানানির পর কেমনে রোস্ট করসে তার উপরে ভেরিয়েশন। আবার কফি বিন গুরা করনের সময় কেমনে গুরা করে তার উপরে ভেরিয়েশন। মানে ভুং ভাঙ এর শেষ নাই। তাই ঠিক করলাম এই অজানা কে জয় করতে হবে। পড়ালেখা করলাম একটু আর মহান রাশা তো আসেই। ইশকুল এর দোস্ত রা কত ভাল ভাল জিনিশ শিখায়। সিগারেট খাওয়া শিখায়, পর্ণ দেখা শিখায়, মেয়ে পটানির তরিকা শিখায়। আর এই দোস্ত আমারে শিখাইসে কফি আর ব্লুজ মিউজিক।

পড়ালেখা কইরা যা জানলাম তা হইসে কফির আবিষ্কার হয় আফ্রিকান অঞ্চলে। লিজেন্ড বলে ইথিওপিয়ার রাখাল রা একদিন দ্যাখে যে তাদের ছাগল গুলা কফি বিন খায়া পাগলের লাগান নাচা নাচি করতাসে। এইডা দেইখা হেরা বুঝসে যে হুমম কফি গাছে যেই বিন হয় তা দিয়া উত্তেজক জিনিষ পাতি বাননি যায়। প্রথম দিকে আরব রা হুদা হুদাই কফি খাইত চাবায়া। আরব এর লোকেরা করত কি চর্বির লগে কফি বেরি মিশাইয়া বল এর মত বানাইয়া খাইত।

ইসলাম ধর্মের প্রসারের সাথে কফির প্রসার এর একটা বিরাট যোগাযোগ আছে। ইসলাম ধর্মে মদ খাওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার পর লোকজন এর মধ্যে কফি সেবন করা বাইরা যায়। এই সব দেইখা অনেক চার্চ আবার কফি খাওন নিষিদ্ধ ও করসিল। কারন মুসলমান রা খাইত। ১৭শ শতাব্দী তে তুরস্কের অটোমান সাম্রাজ্য তেও কফি নিষিদ্ধ করা হইসিল পলিটিকাল কারণে। ১৬৭৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা সব কফি হাউজ রে নিষিদ্ধ করসিল। কারন উনি মনে করসিলেন কফি হাউজ গুলা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা লাইগা মানুষ ব্যবহার করতাসে। তাই কফি আসক্তি রে কেউ যদি এখন বড়লোকি ব্যাপার সেপার বা পাশ্চাত্যের অনুকরণ ভাইবা এভয়েড করে তাইলে সেইটা ভুল হবে।

কর্কট কান্তি রেখা আর মকর ক্রান্তি রেখা বইলা দুইটা কাল্পনিক রেখা আসে যা পৃথিবীরে পাক দিসে। ইংরাজি তে যারে বলে ট্রপিক্স অফ ক্যান্সার আর ট্রপিক্স অফ কেপ্রিকরন। এই দুই রেখার মাঝে যে সব এলাকা পরসে তারে নাম দেওয়া হইসে বিন বেল্ট। দুনিয়ার সব কফি এই বিন বেল্ট এর দেশ গুলাতেই জন্মায়। উইকিপেডিয়া পইড়া জানসি সব চেয়ে বেশি কফি প্রডিউস করে ব্রাজিল। সারা দুনিয়ার কফির ৩৩.১% মানে তিন ভাগের এক ভাগ ব্রাজিল থিকাই আসে। আমেরিকার কফি উৎপাদনকারি একমাত্র স্টেট হইল হাওয়াই।

কফি রে মূলত দুই রকম ভাগে ভাগ করন যায়। এরাবিকা আর রোবাস্তা। দুনিয়ায় যত কফি খাওয়া হয় তার ৭০ ভাগ ই এরাবিকা আর ৩০ ভাগ রোবাস্তা। এরাবিকা কফি মাইল্ড হয় কিন্তু অনেক এরোমেটিক মানে সুন্দর গন্ধ ওলা হয়। রোবাস্তা কফি তিতা বেশি কিন্তু এরাবিকা কফির চেয়ে ডাবল কেফিন থাকে এর মধ্যে।

কফি কিন্তু গাছে ধরে। কফি গাছ প্রায় ৩০ ফিট পর্যন্ত বড় হয়। কিন্তু যখন বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করা হয় তখন কফি গাছ রে ১০ ফিট এর বেশি বারতে দেওয়া হয় না। কফি একটা লাল রঙ এর চেরির মত দেখতে ফল এর ভিতর এ হয়। এই লাল রঙ এর চেরির মত ফলটার ভিতরে থাকে আটি বা বীজ এর মত থাকে কফি বিন। এই লাল রঙ এর চেরির মত ফল গুলারে পাইরা আইনা শুকানো হয় তারপর ছিল্লা বিচিডা বাইর করা হয়। যা কিনা দেখতে সবুজ। এইবার এই বিচি গুলারে পাঁচশ ডিগ্রি ফারেনহাইট এ রোস্ট করা হয়। কয়েক মিনিট এর মধ্যে এই বিচি গুলা পপ কইরা ফুইলা ডাবল সাইজ এর হয়া যায়। আরো কয়েক মিনিট রোস্ট করলে আরেকবার পপ কইরা ফুটে। এই ২য় বার পপ করা মানেই হইল কফি বিন রেডি। এইবার এই কফি বিন রে দরকার মত গুড়া কইরা কফির গুরা বানানি হয়।

ইনস্ট্যান্ট কফি বা নেস্কাফে আমরা যেইটা খাই অইডা আবিষ্কার করেন জর্জ ওয়াশিংটন নামে এক ব্যাডায়। আম্রিকার প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন না। বেলজিয়াম এর জর্জ ওয়াশিংটন নামের ব্যাডা যিনি গুয়াতে মালায় থাকতেন তিনি আবিষ্কার করেন ইনস্ট্যান্ট কফি । বাণিজ্যিক ভাবে প্রস্তুত এই কফি তে পুরাপুরি আসল কফির মত টেস্ট পাওন যায় না। কাছাকাছি একটা টেস্ট পাওয়া যায়। রাশার লগে নর্থ এন্ড এ নিয়মিত একদম অরিজিনাল রোস্টেড এরাবিকা কফি খাওনের পর আমার আর নেস্কাফে ইনস্ট্যান্ট কফি ভাল্লাগে না।

কফি শপ নানান জাতের বাহারি নাম এর অপশন দেখন যায়। লাতে, এস্প্রেসো, কেপাচিনো ইত্যাদি হাবি যাবি। পরথম পরথম অনেক শরম লাগতো । ভাবতাম যদি কফি উলা ব্যাডা রে জিগাই , বাই, এস পেরেসো কিতা? তাইলে যদি বাইর কইরা দ্যায়। এর চেয়ে অবু দশ বিশ কইরা আন্দাজি একটা চুজ কইরা তিতা মুখ কইরা খাইয়া লাই। কিন্তু যে কোন কিছুর ভয় দূর করতে সেই জিনিশ লওয়া পড়া লেখার কোন বিকল্প নাই। তাই এখন আমি জানি কুনটা কি।

প্রথম জানতে হইব এস্প্রেসো (Espresso) কিতা। এইডা কুন কফি বিন এর টাইপ না। এইডা হইল একদম মিহি কইরা গুরা করা কফি বিন এর মধ্যে গরম পানি ঢাললে যেই যম তিতা কালা লিকুইড টা তৈরি হয় সেইটা। এহন এই কালা লিকুইড এস্প্রেসো টাই হইল সব কিছুর বেজ। এর লগে এইডা সেইডা মিশাইয়া সব ভেরিয়েন্ট গুলা বানানি হয়। শিশুদের সহজ কফি শিক্ষার জন্য কুণ্ডা কি নিচে লিখা দিলামঃ

কফির লগে পানি মিশাইয়া তৈরি ঘন লিকুইড = এস্প্রেসো
এস্প্রেসো + অনেক দুধ + ফোম = লাতে / Caffe Latte
এস্প্রেসো + দুধ + অনেক ফোম = কেপাচিনো / Cappuccino
এস্প্রেসো + চকলেট সিরাপ + দুধ + হুইপড ক্রিম = মোকা / Mocha (এইডা আমি খাই)
এস্প্রেসো + অনেক পানি = আমেরিকানো / Americano (এইডা রাশা খায়, উইথ মিল্ক অন দা সাইড। অনেক বেক্কল দোকানদার জানেও না যে আমেরিকানো তে মিল্ক অন দা সাইড নেওয়া যায়। আমরা কেপ্টেন্স ওয়ার্ল্ড এ গিয়া আমেরিকানো নিসি, আর জিজ্ঞেস করসি, ভাই আমাদের কি সাইডে মিল্ক দেওয়া যাবে? ওই লোক রুডলি বলসে , “না, যাবে না, আমেরিকানো তে দুধ মিশানই থাকে”)
আমেরিকানো নিয়া আরেক খান গল্প আছে। এই টার্ম টা জন্ম হইসে ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময়। আমেরিকান সৈন্য রা কফি অর্ডার করার সময় কইত এস্প্রেসো দেন তয় পানি পুনি মিশায় দিয়েন, বেশি কড়া কফি ভাল্লাগে না। সেই থেইকা এই পানি মিশাইন্না এস্প্রেসো কফি এর নাম হইসে আমেরিকানো। আমেরিকানো রে “কাপ অফ জো” ও বলা হয়। কারন আমরিকার জি আই জো রা এই কফি বেশি খাইত।

কফি খাইলে আমাগো এরম উত্তেজনা ক্যান লাগে হেইডা লয়া পড়ালেখা কইরা যা পাইসি তা দিয়া আজকের লেখা শেষ করি। আমাগো ব্রেন এ এডেনোসাইন (Adenosine) বইলা একটা জিনিশ থাকে যেগুলা কিনা খালি রিসিপ্টর (Receptor) নামের জিনিষ এর লগে ঘুরা ঘুরি করতে চায়। এই দুই জিনিশ যখন এক হয় তখন আমাগো ঝিমানি আহে। কফি তে থাকে কেফিন। এই কেফিন যখন আসে তখন সব রিসিপ্টর এই কেফিন এর উপরে ক্রাশ খাইয়া তার দিকে দউর দিয়া আয়া পরে এডেনোসাইন রে একলা থুইয়া। এদিকে পিটুইটারি গ্ল্যান্ড যহন দেখে যে এডেনোসাইন এরম এতিম এর লাগান ঘুরা ঘুরি করতাসে, তখন তার মাতা মুতা খারাপ হয়া যায় আর মনে করে কাম সারসে ইমারজেন্সি সিচুএশন। সে তখন এড্রেনাল গ্ল্যান্ড রে বেশি কইরা এড্রেনালিন উৎপাদন করতে বলে। ফলাফল কফি খাইয়া আমাগো শইল্যে জুস আয়া পরা।

আমার ক্ষেত্রে উলটা টা হয় অবশ্য। কফি খাইলে আমার ঘুম বেশি ধরে। মাথার তার তুর তো আগেই ছিরা রইসে। তাই উলটা পালটা সিগন্যাল পায় মুনে লয়। উত্তেজনার হরমোন ছাড়নের বদলে আমার ব্রেইন “ঘুম পাড়ানি হট মাসি পাশী মোদের বাড়ি এসো, আর কই বসবা খাট ছাড়া, মু হা হা” এই টাইপ এর অশ্লীল গান শুরু করে।

৯৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ২, ২০১৫ । ১১.৩৫ পি.এম

উনার সাথে আমার এক সময় সম্পর্ক বেশ ভাল ছিল। উনার সাথে কথা বার্তা হইত। উনার ফ্রেন্ড দের কথা বারতা শুন্তাম। উনার কথা ত শুন্তাম ই। উনার অনেক কথা মুখস্ত ও ছিল। কেম্নে উনারে খুশি করা যায় সেই ব্যাপারে অনেক বেশি ই মনোযোগি ছিলাম। উনি মনে মনে হাসতেন। আমাকে দিতেন খুব কম, কিন্তু তাতেই আমার খুশির সীমা থাকত না। অপেক্ষা করতাম আবার কবে খুশি করা যাবে উনাকে।

তারপর কি জানি হইল। উনি খুশি না বেজার বুঝতে পারি না। উনার উপর বিশ্বাস হারাই নাই কখনো কিন্তু উনি ব্যাস্ত হয়া গেলেন অন্যদের নিয়া। যাদের মনে হইত অহংকারি, নিষ্ঠুর, স্বার্থপর, লোভি তারা কেম্নে কেম্নে জানি উনাকে খুশি কইরা ফালাইল। উনার সব উপহার দেখি তাদের জন্যই।

তারপর শুরু হইল আমাকে ভাইংগা গুরা গুড়া করার প্রজেক্ট। প্রত্যেকবার আমি উইঠা দাড়াই আর উনি হাতের এক ইশারায় আমাকে ধুলায় ফালায় দিয়া দেখান উনি ইচ্ছা করলেই সব পারেন।

আমার হয়তো কথা ছিল উনার দিকে পিছন ফিরা উল্টা দিকে হাইটা চইলা যাওয়া। কিন্তু পারি নাই। রাগ এর বদলে আসলো অভিমান। সাগর সমান অভিমান। উনাকে কিছুই বলি নাই। উনার বেশির ভাগ কথা বারতাই আগে যেমন শুন্তাম তেমন ই শুনি। শুধু উনার সাথে কথা বার্তা বন্ধ হয়া গেল। উনি তো আমাকে আমার চেয়েও ভাল চেনেন, তাই উনাকে মুখে কিছুই বলতে হয় নাই। উনি জানেন যে আমি ধুলায় পইড়া থাইকাও উনারে বলসি,

ঠিক আছে আল্লাহ, ঠিক আছে। ইফ ইউ থিনক ইটস বেস্ট ফর মি, ঠিক আছে। তোমার উপরে তো কথা নাই। আমি না হয় হাইরাই যাই সব জায়গায়। শুধু যাদের তুমি জিতায় দিচ্ছ, আই হোপ তারা জানে যে তারা আসলে জিতসে। লেট দেম নো। দে নিড ইট। আই ডোন্ট।

৯৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ১, ২০১৫ । ৯.৫১ পি.এম

এপোলো হাসপাতালের বেড এ শুইয়া শুইয়া নোট লিখতাসি। আমার কিছু হয় নাই। আম্মার শরীরে পটাসিয়াম কইমা গেসিল। শনিবার দুপুরে আমি আর অভি যখন ঘুরাঘুরি কইরা উত্তরা ফিরতাসিলাম তখন হঠাত ফোন আসলো বাবার। রুটিন চেকাপ ছিল এপোলো তে। ডাক্তার বলসে ভরতি করতে।

তখন থেইকা এপোলো তেই ভরতি আছে আম্মা। কাল্কে রিলিজ দিয়া দিতে পারে। এখন দুইটা ইঞ্জেকশন চলতাসে সেলাইন এর সাথে। শেষ হবে রাইত ১১ টায়। বাবা গত দুই রাত ছিল। আমারে থাক্তে দ্যায় নাই। বাসায় পাঠায় দিসে। আজকে আমি বাবা রে বাসায় পাঠায় দিসি। আম্মার পাশে থাক্তাসি আজকে এপোলো তে।

এই খানে চিকিতসা অনেক ব্যায়বহুল। গ্রামীন ফোন এর চাকরি টা না থাকলে এই খানে চিকিতসা এফোরড করা সম্ভব ছিল না আমাদের পক্ষে। অফিস এর হেলথ ইন্সুরেন্স থেইকাই পুরা ব্যায় কাভার করতাসে। আমার তেমন কিছু দিতে হইতাসে না। আমার ভাল্লাগতাসে যে আমি এমন এক্টা যায়গায় পৌছাইসি যেখানে আমি আমার বাবা মার চিকিতসার খরচ যোগাইতে পারি। এ ছাড়া নাইলে টাকা পয়সা দিয়া কি করুম আর।

আম্মা খাইসে এক্টু আগে। এখন টিভি দেখে। আর আমার সাথে গুটুর গুটুর আলাপ করে। আমারে বিয়া দেওয়ার জন্য পাগল হয়া গেসে। বলসে তুই যারে আইন্না বলবি তার সাথেই বিয়া দিব। কুন অসুবিধা নাই। আর বলসে তুই তারে নিয়া ভাল বাসা নিয়া থাকিস। বাসাবো থাকা লাগবে না।আমি কিচ্ছু বলব না। তবু বিয়া কর বাপ, তর বউ নাই চিন্তা কইরা আমারি একা একা লাগে, তোর যে কেমন লাগে তা তো বুঝি ই। আমি কয়েকবার বল্লাম আম্মা চুপ কর। কি কউ এগুলা হুদাই। কিন্তু ঘুরায় ফিরায় অই বিয়ার আলাপ ই। আজিব।

হাসপাতালের রাত গুলা অদ্ভুত। আম্মার সাথে আগেও কাটাইসি হাসপাতালে। হাসপাতাল কখনো ঘুমায় না। কোথাউ না কোথাউ এক্টা অসুখে কষ্ট পাওয়া মানুষ জাইগা থাকে। অপেক্ষা করে ভোর হওয়ার। আমার মনে হয় এদের সাথে গল্প করি গিয়া। সবার ই অনেক গল্প থাকে বলার। শুন্তে চায় না কেউ। আমার মনে হয় আমি যদি সেই কান টা হই।

আজকে এক্টা অন্যায় এর প্রতিবাদ করসি। এক্টা লাল গাড়ি সাম্নের গাড়ি কেন আগায় না অইজন্য সমানে হরন বাজাইতেসিল। সবাই বিরক্ত হয়া লুক দিতাসিল আর কানে আংগুল দিতাসিল। কিন্তু কেউ কিছু বলে নাই। আমি গিয়া গাড়ির ছাদে দুইটা থাবা দিয়া বল্লাম, এত হরন বাজান ক্যান। সবার কান ফাটায় ফেলতাসেন। অই লোক উল্টা কি কি জানি বল্লো। আমি কোন উত্তেজনা দেখাই নাই। বলসি আরেকবার হরন দিলে আপ্নাকে দার করায় শুনাবো কেমন লাগে শুন্তে। আশে পাশের লোক ও ততখনে আগায় আসছে আর গালি দেওয়া শুরু করসে। অই লোক চুপ কইরা মাথা নিচু কইরা গাড়ি চালায়া গেল গা।

৯৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৩১, ২০১৫ । ১১.০৪ পি.এম

সাইফুল আযম। সমরবিদদের দেয়া নাম ‘লিভিং ঈগল’। বন্ধুরা ডাকেন ‘টপ গান’ নামে। বিশ্বের বিমান বাহিনীগুলোর কাছে নামটি এখনো এক বিস্ময়। নিখুঁত নিশানার জন্য শত্রু বিমান আর বৈমানিকের কাছে তিনি সাক্ষাৎ যম।

বিস্ময়কর এই ব্যক্তিত্ব চারটি দেশের বিমান বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনটি দেশের হয়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। দুটি দেশের যুদ্ধবিমান ধ্বংসের বিরল কৃতিত্বের অধিকারী এই বৈমানিক সর্বাধিক ইসরাইলি বিমান ধ্বংসের রেকর্ডেরও মালিক।

এই জীবন্ত কিংবদন্তির জন্ম ১৯৪১ সালে পাবনার ফরিদপুর উপজেলার সাগরবাড়িয়াতে। বাবার কর্মসূত্রে চলে যান কলকতায়। এরপর ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে আসে তার পরিবার। সেখানে থেকে ১৯৫৫ সালে পাড়ি জমান তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে।

এর পর ১৯৫৮ সালে স্কুল শিক্ষা শেষ করে যোগ দেন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ক্যাডেট কলেজে। সফলভাবে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে ১৯৬০ পাইলট অফিসার হিসেবে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে কমিশন পান। এছাড়া ১৯৬৩ সালে অ্যারিজোনার লিউক বিমান ঘাঁটিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ অর্জন করেন তিনি।

সাইফুল আযমের বীরত্বগাঁঁথার শুরু ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ দিয়ে। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সারগোদা ঘাঁটি থেকে ১৭ নম্বর স্কোয়াড্রনের হয়ে আযম F-86 Sabre জেট নিয়ে উড্ডয়ন করেন। সফল স্থল হামলা করে ফেরার পথে ভারতীয় বিমান বাহিনীর Folland Gnet যুদ্ধবিমানের বাধার মুখে পড়ে আযমের গ্রুপ। এ সময় ভারতীয় দুটি যুদ্ধবিমানের মধ্যে একটির ফ্লাইট অফিসার মহাদেবকে ভূপাতিত করেন আযম।

এজন্য তাকে ১৯৬৬ সালে পাকিস্তানের তৃতীয় সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা সিতারা-ই-জুরত এ ভূষিত করা হয়। এছাড়া পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ২ নম্বর স্কোয়াড্রনের অধিনায়ক হিসেবেও তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়। তিনি হন Group Captain Saiful Azam

এরপর ১৯৬৬ সালে আযমকে জর্দান বিমান বাহিনীর উপদেষ্টা হিসেবে ডেপুটেশনে পাঠায় পাকিস্তান। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হলে জর্দান বিমান বাহিনীর ১ নম্বর স্কোয়াড্রনের হয়ে Hocker Hunter নিয়ে আকাশে উড়েন এই দুরন্ত ঈগল।

যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল আযমকে ইসরাইলের সুপার মিসটেরে যুদ্ধবিমান থেকে জর্দানের মূল ঘাঁটি মাফরাক রক্ষার দায়িত্ব দেয়া হয়। ৫ জুন আযম তার হকার হান্টার দিয়ে ইসরাইলের একটি বিমান তাৎক্ষণিক বিধ্বস্ত করেন এবং গুলিতে আরেকটিতে আগুন ধরে গেলে সেটি সীমান্তে ইসরাইলি ভূ-খণ্ডে গিয়ে পড়ে।

ইসরাইলি হামলা ঠেকাতে পরদিন তাকে দ্রুত ইরাকি বিমান বাহিনীতে পাঠানো হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৎকালীন সবচেয়ে আধুনিক দুটি Mirage যুদ্ধবিমানের পাহারায় ইসরাইলি বিমান বাহিনীর চারটি বোম্বার পশ্চিম ইরাকের বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালায়।

এবারও ইরাকি হান্টার নিয়ে প্রতিরোধে নামেন এই অকুতোভয় বৈমানিক। ইসরাইলি একটি মিরাজের পাইলট ক্যাপ্টেন গিদিয়োন দ্রোর আযমের উইংম্যানসহ দুটি ইরাকি যুদ্ধবিমান ভূ-পাতিত করে। কিন্তু আযমের পাল্টা হামলায় দ্রোর ধরাশায়ী হন।

এছাড়া ক্যাপ্টেন গোলানের বোম্বারও ভূ-পাতিত করেন আযম। দুজনকে বন্দি করে ইরাকি সেনারা এবং তাদের বিনিময়ে পরবর্তীতে ইসরাইলের হাতে আটক কয়েক হাজার ইরাকি ও জর্দানি সেনাকে মুক্ত করা হয়। আযম ৭২ ঘণ্টায় চারটি ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেন।

এই বীরত্ব ও অসীম সাহসিকতারর জন্য সাইফুল আযম জর্দানের অর্ডার অব ইন্ডিপেন্ডেন্স এবং ইরাকের নাত আল-সুজাত সম্মাননায় ভূষিত হন। এছাড়া ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর দেয়া এক সম্মাননায় তাকে বিশ্বের ‘২২ জীবিত ঈগলের (ওয়ান অব দি টুয়েন্টে টু লিভিং ঈগলস)’ একজনে ভূষিত করা হয়

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিভৃতচারী এই বীরের কীর্তিগাথাও অনেকটা অজানা এ দেশের মানুষের কাছে। বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমানের পাকিস্তানি বিমান ছিনতাইয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে থাকা এই বীর কয়েকজন বাঙালি সহকর্মীকে নিয়ে দেশটির বেশ কয়েকটি বোয়িং বিমান এবং যুদ্ধবিমান ছিনতাই ও ধ্বংসের পরিকল্পনা করেন। শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়ে মুখোমুখি হন কোর্ট মার্শালের। প্রায় ২১ দিন নির্জন সেলে কেটেছে মৃত্যুর ভয়ে।

তবে পাক-ভারত এবং আরব-ইসরাইল যুদ্ধের বীরত্বের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে তাকে আটকে রাখা হয়। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও নজরদারিতে থাকা আযমকে বিমান বাহিনী কার্যক্রমে অংশ নিতে দেয়া হয়নি।

স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে ঢাকায় বিমান বাহিনীর ঘাঁটিতে যোগ দেন এই বৈমানিক। ১৯৭৭ সালে তাকে ঢাকা বিমান ঘাঁটির অধিনায়ক করা হয় এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়। সর্বশেষ ১৯৭৯ সালে অবসরে গেলেও বেসামরিক পরিবহন বিমান কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে দুদফা দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এরপর ১৯৯১-৯৫ মেয়াদে বিএনপির হয়ে পাবনা-৩ (চাটমোহর, ফরিদপুর ও ভাঙ্গুড়া) আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাইফুল আযম। বর্তমানে স্ত্রী নিশাত আর তিন সন্তান নিয়ে নিজেদের ব্যবসার দেখভাল করছেন তিনি।

৯২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৩০, ২০১৫ । ১০.৫২ পি.এম

অইভ্যার বড়ভাই এর নাম সুমন ভাইয়া। সুমন ভাইয়া আমাগো খালাতো ভাই বোন দের মধ্যে সবচেয়ে বড়। তাই সবার ব্যাপক প্রিয়। উনি আমারে স্কুল এর পড়ার সময় পড়াইত। আমি সারা বছর উনার বকা ঝকা সহ্য করতাম আর বার্ষিক পরীক্ষার পর যখন অইভ্যার লগে দেখা হইত তখন বিচার দিতাম, তোর ভাই আমারে এই কইসে, তর ভাই আমারে এই করসে তুই এর একটা বিহিত কর। আর হে খুব সান্ত্বনা দিত আমারে। এখনি ব্যবস্থা নিতাসি, উনি বেশি বার বারসে, আজকেই শিক্ষা দিমু এই সেই। কামের কান কিছুই করত না, কিন্তু আমার ভাল্লাগতো ভাবতে যে আহা জাস্টিস ইজ স্টিল হেয়ার।

একবার হইসে কি আমরা তখন ৫/৬ এ পরি আর ভইন দা পেইন মইম্যা পরে কেলাস টেন এ। অভিও কি জন্য জানি ঢাকায়। মইম্যা এই খুশি তে অর ভিকারুন্নিসা ইশকুল এর কেমিস্ট্রি ল্যাব থিকা এক বোতল সালফিউরিক এসিড চুরি কইরা আইনা আমাগো দিসিল।

আমি আর অভি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা করতাম তো লাইক হারপিক আর শ্যাম্প্যু মিশাইয়া তার লগে হাল্কা কোক মিলাইয়া তার মধ্যে দুই চিমটি ডিটারজেন্ট ছাইরা দিলে সেইটা অনেক উইয়ারড একটা স্মেল হয় , এই ধরনের কাল জয়ী সব গবেষণা।

তো সালফিউরিক এসিড নিয়া গবেষণা কইরা আমরা বাইর করলাম যে এইডা র মধ্যে এক ফোটা পানি দিলে কি জোরদার রিয়েকশন হয়। একটু বেশি জোরদার হোয়াতে ফ্লোর এ অনেক খানি এসিড পইড়া গেসিল আমি আসে পাশে কিছু না পায়া সুমন ভাই এর জাইঙ্গা দিয়া ওই এসিড মুইছা আমার সুন্দর জায়গা মত থুইয়া দিসি।

রাত্রে বেলা আমি আর অভি খেলতাসি এমন সময় আম্মা দুইজন রেই কান ধইরা আইন্না নিয়া গেল দেখি সুমন ভাই উনার সেই অন্তর বস্ত্র হাতে নিয়া দাঁড়াইয়া আসেন । কোন এক অজানা (!) কারণে অন্দর বস্ত্র খানার গায়ে অদ্ভুত সব ফুটা তৈরি হইসে। আম্মা খামাকাই চর মাইরা কইল এই সব এক্সপেরিমেন্ট আর না করতে। আমার এত গায়ে লাগলো ব্যাপার টা। বিজ্ঞান এর পথে বাধা সুমন ভাই বিচার দিল আম্মার কাছে? উনারে কে বলসি এই সব বৈজ্ঞানিক গবেষণার জায়গার পাশে অন্দর বস্ত্র রাখতে।

পরের দিক এই গায়ে লাগা বেপারটা দানা বাধতে বাধতে ক্ষোভ এর পর্যায়ে গেল গাঁ। আমি অভি রে ডাইকা বললাম, শোন সুমন ভাই রে একটা উচিত শিক্ষা দিতে হবে। তুই খালি দরজার কাসে পাহারায় থাকবি। আমি যা করার করুম। অইভ্যা তো আমি যাই কই তাতেই রাজি। শুরু হইল অপারেশন রিভেঞ্জ।

সুমন ভাই লুকায় লুকায় সিগারেট খাইত। আব্বা আম্মা সিগারেট খাওয়ার ঘোর বিরোধী তাই সবাই ঘুমায় গেলে বারান্দায় গিয়া খাইত। আমি করলাম কি , মইম্যার বায়োলজি প্রেক্টিকাল সেট থেইকা একটা টুইজারস চুরি করলাম। আমি জানতাম সুমন ভাই কোথায় সিগারেট এর প্যাকেট লুকায় রাখে। টুইজারস দিয়া খুব সাবধানে সিগারেট গুলার অর্ধেক তামাক বাইর করলাম। শবে বরাত এর বাইচা যাওয়া তারাবাতি থেইকা তারাবাতির মশলা গুলা আলাদা করসিলাম আগেই। প্রত্যেকটা সিগারেট এর ভিতর দুই দানা কইরা তারাবাতির মশলা ভরলাম। তার আগে টাইমিং হিসাব কইরা নিসিলাম যে প্রত্যেক টান এ কত খানি সিগারেট পুরে আর ওই তারাবাতির দানা পর্যন্ত আসতে কত খন সময় লাগে। তারপর তারাবাতির মশলার উপর আবার বাইর করা তামাক গুলা দিয়া হাত দিয়া সাবধানে সিগারেট এর শলা গুলারে স্মুথ বানায় দিলাম যাতে দেখলে বুঝা না যায় যে কিছু টেম্পারিং করা হইসে এগুলায়। পুরা বেপারটা তে দরজায় পাহারায় ছিল অভি আর প্লেনিং আর এক্সিইকিউশন এ আমি।

রাত হইল, পড়া থেইকা ছুটি পাওয়া গেল। আস্তে আস্তে বাসার সবাই ঘুমায় গেল। আমি আর অভি মটকা মাইরা পইরা থাকলাম। অইভ্যা হালায় বেশি রিয়েকশন দেখাইতে গিয়া নাক ডাকাও শুরু করসিল। আমি ওরে ফিসফিস কইরা কইলাম, আব্বে চুপ থাক , অন্য দিন তো ডাকস না এত। ধরা খাবি। একটু পরেই নারা চারা শুইনা টের পাইলাম সুমন ভাই বারান্দায় যাইতাসেন। আমরা চিতা বাঘের মত নিঃশব্দে পিছু নিলাম। সিগারেট ধরানো হইল। লাল আলোটার উঠানামা শুধু দেখতাসিলাম আর মনে মনে হিসাব করতাসিলাম। আর ৫ বার টান, আর ২ বার , আর ১ বার।

হুশষশশ। বারান্দা আলো কইরা দিয়া জইলা উঠলো সাদা তারাবাতির মসলা টা । সুমন ভাই কেউ টাইপ একটা কি জানি আওইয়াজ কইরা সেগারেট টা হাত থেইকা ছাইরা দিল আর আমাদের প্রতিশোধ এর অস্ত্র পূর্ণ জেল্লায় তারাবাতি ছড়াইতে ছড়াইতে বিল্ডিং এর নিচে হারাইয়া গেল। অইভ্যা বেক্কল ডা ওই দিন ঠা ঠা ঠা কইরা হাইসা না উঠলে জীবনেও বুঝতো না এই তারা মার্কা সিগারেট এর কাহিনী ডা কি।

এই ব্যক্কল আবার এখন পি, এইচ, ডি করে আম্রিকায়। আজকে আইসিল দেখা করতে বাসার নিচে। আমরা হাল্কা ঘুরা ঘুরি করসি গুলশান ডি সি সি মার্কেট এ। অইভ্যার একটা ১.৫ বছরের ছেলে পিচ্চিও আছে। নাম টা এত সুন্দর পিচ্চিরঃ আর্য অনুরণন
। আমি তো দেখি নাই অর পিচ্চি, তাই অরে জিগাইলাম , কিরে তোর পিচ্চি কত বড় হইসে? এই বেকুব হালায় আমারে হাত দিয়া দেখায়, এই যে এএএতত বড়। এত টুক সাইজ। এত কেজি। পরে বয়স কত জিগানো তে বুঝসে।

অভির সবচেয়ে বড় গুন হইল ও হিন্দি কম বুঝে আর যা বুঝে এরুম উলটা পালটা বুঝে। যেমন অর মতে “মুঝে ছোর দো” মানে হইল গিয়া “আমার মুজা ছাইরা দাও”। একবার বুয়েটের ফ্রেন্ড রা মিল্লা ইন্ডীয়া কই জানি ঘুরতে গেসে। যেখানে ইন্ডিয়ান দের টিকেটের দাম এক রকম আর বিদেশি দের প্রায় ডাবল। অর ফ্রেন্ড রা অরে অনেক বুঝায় সুঝায় নিসে যে তুই কুন কথা কবি না। যা বলার আমরাই বলব। তাইলে অরা বুঝবে না যে আমরা ইন্ডিয়ান না। কিন্তু মহান অভি আশে পাশের এত হিন্দি বলা দেইখা উত্তেজিত হইয়া গেল। ভাবল , না এই বার কিছু একটা কইরা দেখাইতেই হবে। হে বাইছা বাইছা সব থুইয়া এক ইন্ডিয়ান মহিলা পুলিশের লগে ফ্লারট করতে গেল। হে গিয়া কইসে, “তুম হারা নাম কাহা হ্যাঁয়” । আর পুলিশ আনটি তো , কি? নাম কাহা হ্যাঁয়? খারা তরে খাইসি, কইততে আইসস মফিজ কুনহাঙ্কার ইত্যাদি হিন্দি চিল্লা চিল্লি । অভির ফ্রেন্ড রা ওই দিন পারলে অরে ফালায়া থুইয়া আয়া পরে। খালি ভোঁটকায় কানবো বইলা কিছু কয় নাই।

এই মহান ভোঁটকা সোমবারে আম্রিকা ফেরত যাইব গা। হুদাই। আম্রিকা আবিষ্কার হউনের কুন দরকার আসিল? অভি, ভালা হয়া থাকিস । দেশের নাম ডুবাইস না। সাদা বেডি দেখলে হা কইরা তাকায় থাকিস না। ছেলের যত্ন নিস। মনে রাখিস হি ইজ নট এ টয়।