৪১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৯, ২০১৫ । ১১.৩১ পি.এম

আমি একটা ইউকেলেলে কিনসি আর পাগল হয়া গেসি। রাইত দিন খালি বাজাইতে মুঞ্চায়। আইজকা অপিশ থিকা ৫ টায় বাইর হয়া বাসায় আইশা পরসি। বাসাবো ও যাই নাই। যাতে শুধু ইউকেলেলে বাজাইতে পারি। মাত্র ৫ টা কর্ড শিখসি আর ১ টা গান। লেনারড কোহেন এর হালেলুইয়া। তাতেই এমন আনন্দ হইতাসে। যখন আরো কর্ড আর আরো গান বাজাইতে পারুম তখন কি যে মজা হইবো ভাবতেই তো দম বন্ধ লাগতাসে।

যাউকগা। কালকে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন এর ছোট বেলা নিয়া লিখসিলাম। আজকে একটু উনার ইস্কুল থিকা আর্ট কলেজ পর্যন্ত গল্পটা লেখার ট্রাই করি।

টুনুর পালায় কোলকাতা চইলা যাওয়ার পর সবাই মোটামুটি বুইঝা ফালাইসিল যে এই ছেলে ছবি আঁকার জন্য পাগল। আর আঁকেও খুব ভাল। তাই সবাই বেশ নিরব সমর্থন জানাইসিল টুনুর এই ছবি আঁকার নেশা কে। এর মধ্যে ইস্কুল এ ঘটলো এক ঘটনা।

টুনুদের চলছিল ইংরেজি ক্লাস। ক্লাস নিচ্ছেন স্কুল এর হেডমাস্টার চিন্তাহরণ মজুমদার। খুব কড়া শিক্ষক। পড়ানোর সময় স্যার খেয়াল করলেন টুনু ক্লাসে মনোযোগ না দিয়া ইংরেজি বই এ ছবি আক্তাসে। ক্লাস এর সময় স্যার কিছু বলেন নাই। কিন্তু ক্লাস এর পরে স্যার টুনু কে ডাইকা বইটা চাইলেন এবং সাথে নিয়া চইলা গেলেন। বইলা গেলেন বই কালকে ফেরত দেওয়া হবে।

টুনুর তো ভয়ে আধমরা অবস্থা। একে তো ক্লাস এ ফাকিবাজী তার উপর স্বয়ং হেডমাস্টার এর কাছে ধরা খাইসে। এইবার তো শিওর স্কুল থেইকা বাইর কইরা দিবে। পরের দিন ক্লাসেই গেল না টুনু ভয়ে। তার পরের দিন ও না। এইভাবে সাত দিন চইলা গেল।

এদিকে হেডমাস্টার চিন্তাহরণ মজুমদার টুনুর ইংরেজি বইটা দেইখা চরম চমকাইলেন। বই এর কবিতা গুলার পাশে টুনু একদম মিলায় মিলায় ছবি আকসে। সেই ছবি দেইখা মুগ্ধ হলেন রাগী এই শিক্ষক। আমাদের আইডিয়াল স্কুল হইলে, ছবি আকস? শিল্পি হবি? হারাম কাজ করস? বইলা পিডায়া ফাডায়া লাইত। কিন্তু আল্লাহ বাচাইসে জয়নুল আবেদিন আইডিয়াল স্কুল এ পড়েন নাই। তাই হেডমাস্টার পরের দিন ই টুনুর খোজ এ গেলেন।

কিন্তু টুনু তো ভয়ে স্কুল এই আসে না। শেষে হেডমাস্টার স্কুল এর পরে টুনুদের বাসায় গেলেন। টুনুর বাবাকে বলে আসলেন “ওকে আঁকতে উৎসাহ দিন। আর্ট স্কুলে ছবি আঁকা শিখতে পারলে ভবিষ্যতে নামী দামী শিল্পী হবে বলে আমি মনে করি।“ কেমন দূরদৃষ্টি ওয়ালা মানুষ ছিলেন সেইটা তো আমরা বুঝতেই পারতাসি এখন।

প্রবেশিকা মানে আমাদের এস এস এসি পরীক্ষার পর টুনু ওরফে জয়নুল আবেদিন কলকাতা আর্ট কলেজে ভর্তির তোর জোর শুরু করেন। কিন্তু কলকাতা শহরে থেকে আর্ট কলেজে পড়ার খরচ চালানোর মত সামরথ তখন জয়নুল এর বাবার ছিল না। জয়নুল রা ছিলেন নয় ভাইবোন। দুই বোন আর আর সাত ভাই। সামান্য পুলিশের চাকুরি করে এত গুলো ছেলে মেয়ের খরচ চালিয়ে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব ই একটা কাজ ছিল । তার উপর যদি বিদেশে পড়াশুনা যোগ হয় তাহলে একেবারেই সম্ভব ছিল না।

কিন্ত জয়নুল আবেদিন এর মা নিজের গয়না বিক্রি করে দিলেন । ছেলের হাতে তুলে দিলেন আর্ট কলেজে পড়ালেখার খরচ। যা না হলে আমরা হয়তো কিংবদন্তী জয়নুল আবেদিন কে পেতাম না। পরবর্তীতে অনেক সাক্ষাতকার আর বই য়ে জয়নুল আবেদিন এই ঘটনা বলে উনার মা এর এই সেক্রিফাইস এর কথা মনে করেছেন।

জয়নুল আবেদিন কে নিয়া যখন বই গুলা পড়তেসিলাম, একটা কথাই মনে হইতেসিল বার বার। আমাদের স্কুল গুলো তে না জানি আমরা কত জয়নুল, কামরুল, সত্যজিৎ মাইরা ফেলতেসি প্রতিদিন।

৪০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৮, ২০১৫ । ১১.৪২ পি.এম

১৯১৪ সাল এর তার জন্ম। কিন্তু যখনকার কথা বলতাসি তখন তার বয়স তেরো কি চৌদ্দ। তখন সবাই তারে ডাকে “ঠান্ডার বাপ”। সে খুবি শান্ত আর লাজুক। তাই এইটাই তার নাম হয়া গেসে।

তারে কেউ কেউ নকশা করা পিঠা খাইতে দিলে সে পিঠা খায় না, লুকায় বাড়িতে নিয়া যায়। তারপর তন্ময় হয়া দ্যাখে পিঠার কত নকশা। সবাই যখন নদীর পারে খেলে তখন সে তাকায় থাকে নদীর দিকে।তাঁতি পাড়ায় গিয়া হারায় যায় ছেলেটা। অবাক হয়া দ্যাখে অশিক্ষিত তাঁতি রা কত নিখুত ভাবে সুতার হিসাব, রঙের হিসাব করে বানায়া ফেলে কত সুন্দর ছবি কাপড়ের জমিনে। সে কুমার পাড়ায় গিয়া বইসা যায় কুমার দের সাথে। কুমারেরা হাড়ী কলসি বানায়া তার উপর নকশা করে। দেখা দেখি সে ও করে। কুমার দের দেখা দেখি সে ও হাতি, ঘোড়া, পুতুল এগুলা বানাতে চেষ্টা করে।

১৯২৭ সাল। ঠান্ডার বাপ তখন কিশোর গঞ্জ এর স্কুল এ যায়। যাওয়ার পথে যাই দ্যাখে ভাল লাগে। মনের ভিতর গাইথা রাখে আর স্কুলের খাতার ফাকে ফাকে আকে সেই সব ছবি। কাউকে দেখায় না। এত দিনে তার ঠান্ডার বাপ নাম টাও একটু ভদ্র হয়া “টুনু” হইসে। সবাই আদর কইরা ডাকে টুনু।

টুনুর স্কুলের নাম মৃত্যুঞ্জয় হাইস্কুল। টুনুর বাবা পুলিশ। তখন বদলী হয়া আসছেন ময়মনসিংহে। স্কুলে যাওয়ার পথে আগফা স্টুডিও নামে একটা ফটো তোলার দোকান ছিল। ওই খানে আড্ডা দিতে আসে দুই তিন জন কোলকাতা আর্ট কলেজের ছাত্র। তারা গল্প করে তাদের কলেজ এর আর টুনু হা করে শোনে সেই রুপকথার রাজ্যের গল্প।

হঠাত একদিন টুনু ময়মনসিংহ থেকে উধাউ। কোথাও খুইজা পাওয়া যাইতাসে না। পুলিশ বাপ তো পুরা থানা লাগায় দিলেন খুজতে । কিন্তু কোথাউ নাই। টুনুর মা কান্তে কান্তে অস্থির।

দুই দিন যায়, তিন দিন যায় টুনুর কোন খোজ পাওয়া যায় না। ভাই বোন রা মুখ শুকনো কইরা বইসা থাকে। মা তো কানতে কান্তে শয্যাশায়ি আগেই। পুলিশ বাবা শুধু ফ্যাল ফ্যাল কইরা তাকায় আকাশের দিকে। ফিরা আয় টুনু, ফিরা আয়।

পাঁচ দিন এর দিন দেখা গেলো রেল লাইন ধরে লাল চাদর পরে একজন হাইটা আসতাসে। কাছে আসলে দেখা গেলো, আরি, এই তো টুনু। সবার মধ্যে কারাকারি পইরা গেল। হাজার হাজার প্রশ্ন সবার। কই গেসিলি? কই ছিলি? ক্যান এই ভাবে পালায় গেসিলি? টুনু শুধু এক্টাই জবাব দিল , “ গেসিলাম কুলকাতা। আর্ট ইস্কুল দেখতে। দেইখা আসছি। ভর্তি হউনের নিয়ম কানুন জাইন্না আসছি।“ টুনু যে ছবি আঁকা শিখতে চায়, সবার এক ঘটনা দিয়াই জানা হয়া গেল।

দুই বছর পর। ১৯৩০ সাল। বোম্বাই থিকা “News Chronicle” নামে একটা পত্রিকা বাইর হইত। সেই পেপারে এক ইংরাজ ব্যাডায় একটা ছবি আঁকা কন্টেস্ট এর ঘোষণা দিলেন। তিনি একটা গলফ খেলার ফটুক দিলেন পেপারে আর নিচে বইলা দিলেন এই ফটোগ্রাফ টার ই ছবি আঁকতে হবে। কাগজে, পেন্সিল দিয়া।

টুনুর কাছে এই বিজ্ঞাপন টা অনেক এক্সাইটিং লাগ্লো। সে দেইখা দেইখা দুইটা ছবি আইক্কা ফেল্ল এক বসা তেই। আঁকার পর হুশ হইল, পাঠাইতে তো হবে বোম্বাই। এত পয়সা কই। স্কুলের ছাত্র মাত্র তখন। থাক। দরকার নাই আমার। একটা ছবি সে দিয়া দিল তার এক বন্ধুরে আরেকটা ছবি পত্রিকা টা সহ তোষকের নিচে লুকায় রাইখা দিল।

দুই দিন পর টুনুর বাবা কি জানি একটা জিনিশ খুজতে আইসা তোশক উল্টায়া ছবিটা আর পত্রিকাটা পাইলেন। যা বুঝার বুইঝা নিলেন সাথে সাথেই। তিনি চুপ চাপ ছবিটা পাঠায় দিলেন বোম্বাই। তখনো সময় আছে জমা দেওয়ার।

তারপর কয়েক দিন পর এর কথা। টুনুর আর এই প্রতিযোগিতার কথা মনে নাই। টুনু বসে ছিল পুকুর ঘাটে। টুনুর বন্ধু ঋত্তিমা ঘটক দৌড়াতে দৌড়াতে আইসা টুনুর সামনে দাড়াইল। “ওরে টুনু কি করছস রে তুই”। টুনুর চোখে তখনো সন্দেহ। আবার কি করলাম? ঋত্তিমা টুনুর চোখের সামনে মেইলা ধরল আগের দিন এর স্টেটসম্যান পত্রিকা। সেখানে টুনুর আঁকা সেই ছবিটা বড় বড় করে ছাপা হয়েছে। আর তার নিচে লেখা,

“সমগ্র ময়মনসিংহ, সমগ্র বাংলাদেশ এবং সমগ্র ভারতবর্ষের মধ্যে প্রথম হয়েছে এই ছবি। শিল্পীর নামঃ

জয়নুল আবেদিন।“

যার বয়স ছিল তখন মাত্র, ১৬। যাকে আমরা এতক্ষন ঠান্ডার বাপ আর টুনু নামে চিনেছি। যাকে আমরা এখন আদর করে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ডাকি।

৩৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৭, ২০১৫ । ১১.৪১ পি.এম

আমি একটা পরাবাস্তব জগতে বাস করি। আমার কাছে সারি সারি সোডিয়াম লাইট মানে একটা হলুদ আলোর ধারা। আমি সেখানে হাত দিলে একটু কেপে যায়, কিন্তু থামে না। আমি আমার ঘসা কাচ এর চশ্মায় শুধু আলো দেখি না, আলোর লম্বা লম্বা রেখা দেখি। আমার বাস্তব টা ঠিক যা হওয়ার তা হয় না। একটু বিকৃতি একটু অন্যরকম হয়ে যায়। সাল্ভাদর ডালির পেইন্টিং এর মত।

অফিসের নিচে আটকা পরে ছিলাম অনেকক্ষণ। বৃষ্টি। সাথে ছাতা নাই। দাড়ায় দাড়ায় জিপি হাউজের নিচের ফোয়ারার পানি তে বৃষ্টি পরা দেখলাম। থমকে থাকা পানির কোন চার্ম নাই। বৃষ্টি পরলে কেমন একটু টেক্সচার ওআলা হয় পানি টা আর তখন মজা লাগে দেখতে। ১০ টা বাজলো যখন, ভাবলাম বাসায় যাওয়া উচিত। কই থিকা জানি ফেরদৌস আইসা পড়ল। তাও আবার ছাতি নিয়া। আমারে পৌছায় দিল গেট পর্যন্ত। ফেরেশ্তা দের সাথে ফ্রেন্ডশীপ রাখলে এরুম ই হয়। বৃষ্টির সময় ছাতা পাওয়া যায়।

ওই দিন এর সাদা কুকুর টা আজকে আবার আসছিল অফিসের নিচে। আমাকে দেইখা চিন্তেও পারসে। পা তুইলা দিসে গায়ের উপর আর হাত চেটে দিসে একটু খানি। আমি জিজ্ঞেস করলাম কিরে ব্যাটা তোর গারলফ্রেন্ড কই? একটু পর দেখি পাশে থেকে আরেকটা কুকুর আমার পায়ে নাক দিয়ে গুতু দ্যায়। মেয়ে কুকুর। বুঝলাম এইটাই গারলফ্রেন্ড। জিপি হাউজের সিকুরিটি ভাই আমাদের দেইখা আগায় আসছিল আর পকেট থেইকা এক পেকেট লেক্সাস বিস্কিট বের করে দিসিল। আর বলসে “ছার, ইটা খাওয়ান”। আমি অদের “ইটা” খাওয়াইসি। দুইজন কেই অনেক কইরা মাথায় হাত বুলায় দিয়া আসছি। আর বলে আসছি শুকনা জায়গা দ্যাখে যাতে রাতে ঘুমায়।

আমার মনে হয় আবার বড় বড় লুকজন এর কইরা যাওয়া পেইন্টিং গুলা দেখা শুরু করা উচিত। মাঝখানে শুরু ও করসিলাম। এক জয়নুল আবেদিন এর কাজ দেইখা আর চিন্তা কইরাই জীবন পার কইরা দেওয়া যায়। আর কত কত আর্টিস্ট এর কাজ দেখা বাকি।

আমার কাছে আর্ট মানে “এক্সপ্রেশন”। এইটা এমন না যে সব ভাল মত হাতে কলমে বুঝায় দিবে। একজন একটা কিছু এক্সপ্রেস করতে চাইসে আর সেই এক্সপ্রেশন টাই হইল আর্ট। সেইটা রাগে চিল্লানোর মত অনেক লাউড, অনেক স্পষ্ট অনুভূতির বহিপ্রকাশ ও হইতে পারে। আবার আমার মত স্ট্রেইট ফেইস কইরা সবকিছু গিল্লা ফালানো ও হইতে পারে। দুইটাই এক্সপ্রেশন। দুই রকম এর। যেই লোক ঘটনার আগে পিছে কিছুই জানে না, সে দুই রকম এক্সপ্রেশন দেইখা দুইশ রকম এর অর্থ মনে কইরা নিতে পারে। আর্ট মানে ওইটাই। মাধ্যম অনেক। উদ্দেশ্য এক। এক্সপ্রেস করা।

এইটাই আমরা খুজি। গানে, ফটো তে, পেইন্টিং এ, লেখায়, ভাস্কর্যে, ইত্যাদি ইত্যাদিতে। প্রথমে দেখি সেই এক্সপ্রেশন্টা আমার সাথে মিলে কিনা। না মিল্লে তারপর আর্টিস্ট এরও যে এমন একটা অনুভূতি হইসিল যেইটা আমি ভাবি ই নাই , ওইটা ভাইব্বা মজা লাগে। আর ওই পিস অফ আর্ট টাকে তখন আমরা মনে রাখি অনেক দিন।

৩৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৬, ২০১৫ । ১১.১৪ পি.এম

ঘুম ব্যাপারটা খুবি অদ্ভুত। ছোট বেলায় ঘুমানো ব্যাপারটা অনেক এক্সাইটিং ছিল। ঘুমানোর চেয়ে ঘুমাইতে যাওয়া একটা উৎসব উৎসব ব্যাপার ছিল। ঘুমাইতে যাওয়া মানে পড়ালেখা আজকের মত শেষ। ঘুমাইতে যাওয়া মানে স্বপ্ন দেখা যাবে। কি জানি দেখবো আজকে। একটা সময় একটা নোট খাতায় ঘুম থেইকা উঠার পর স্বপ্ন লেখা শুরু করসিলাম। কয়দিন পর কেডায় যানি মাইরা দিসিল না আম্মা ফালায় দিসিল ওইডা কে জানে।

বয়স বাড়ার পর স্বপ্ন ক্যান জানি আর মনে রাখতে পারি না। সকালে ঘুম থেইকা উঠার পর স্বপ্নের কথা মনেও আসে না একবারো। খালি মনে হয়, আইচ্চা আইজকা অপিশে কি দেরি হইব যাইতে? বেশি ঘুমায়ালাইসি? এডি ভাব্লে আর স্বপ্ন কই থিকা মনে থাকবো।

আমার ক্যান জানি ঘুমের প্রব্লেম জীবনেও হয় নাই। যা ইচ্ছা হোক ঘুম ঠিক ই আইবো। অনেক টা ইচ্ছাঘুম টাইপ এর। ঘুমাইতে শুইলাম আর ঠুস। ঘুমায় গেসি। মানুষ দেহি অনেক ঘুমের অসুধ টষুধ খায় ঘুমের লাইগা। আমার এডি লাগে নাই কখনো। ইচ্ছা হয় নাই তো ভোর ৫ টা পর্যন্ত জাইগা আসি আবার ইচ্ছা হয়সে তাই ৮ টা বাজেই ঘুমায় গেসি। এই যেমন এখন লিখতে লিখতে বিরাট ঢুলু ঢুলু আইতাসে। কি যে লিখতাসি, আল্লায় জানে।

ঘুম, স্বপ্ন এইগুলা আইজকা সন্ধ্যা থিকা মাথায় ঘুর ঘুর করতাসে। এরম হওয়ার কারন হইল আমি আইজকা রবীন্দ্রনাথ এর “হিং টিং ছট” কবিতাডা পড়সি আর অনেক মুভড হইসি। বিশেষ কইরা এই লাইন চাইরটাঃ

এসো ভাই, তোল হাই, শুয়ে পড়ো চিত,
অনিশ্চিত এ সংসারে এ কথা নিশ্চিত—
জগতে সকলেই মিথ্যা, সব মায়াময়,
স্বপ্ন শুধু সত্য আর সত্য কিছু নয়

কবি উস্তাদ কইছে, স্বপ্ন ই হাছা, বাকি সব মিছা কথা। মাগার আমার তো হালার স্বপ্ন মনেই থাকে না। মনে হয় স্বপ্ন ই দেখি না । আল্লাহ ব্ল্যাঙ্ক ডিভিডি চালায় থয়। ঘুম পাইরাই কুল পাই না, মুনে লয় আরেট্টু ঘুমাই, আবার স্বপ্ন। এহ আইসে। আদার ব্যাপারি আবার প্লেন স্পটার। জাহাজ ই দ্যাখে নাই জীবনে, উড়াজাহাজের খবর লয়।

৩৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৫, ২০১৫ । ১১.৪৮ পি.এম

আসেন একটা গল্প শুনি। একটা সত্যি ঘটনা। একটা প্লেন হাইজ্যাক এর কাহিনী। এই টা কোন সাধারন হাইজ্যাক না। এইটা একটা বিশাল বড় ফ্যাক্টর ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধে। সব তথ্য এক জায়গায় ছিল না। তথ্য সূত্র গুলো লেখার শেষে দিয়ে দিলাম।

৩১ শে জানুয়ারি, ১৯৭১। ভারত অধ্যুশিত কাশ্মীর এর শ্রীনগর থেকে টেক অফ করে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স এর একটি এফ-২৭ ফকার ফ্রেন্ডশীপ বিমান (Fokker F27 Friendship)। বিমান টার নাম ছিল “গঙ্গা” রেজিস্ট্রেশন VT-DMA ।  গন্তব্য জম্মু। মোট যাত্রী ছিলেন ২৮ জন আর বিমান এর পাইলট সহ ক্রু ৪ জন।

যাত্রী দের মধ্যে ছিলেন বি এস এফ সদস্য হাসীম কোরেইশি এবং তার কাজিন আশরাফ ভাট। উড্ডয়নের এর কিছুক্ষণ এর মধ্যেই ইনারা একটি পিস্তল এবং একটি গ্রেনেড এর সাহায্যে বিমানটির দখল ন্যান এবং পাইলট কে বাধ্য করেন বিমান টি কে পাকিস্তান এর দিকে উড়িয়ে নিতে।

হাইজ্যাকার দের কথা মত পাইলট বিমানটি কে লাহোর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরন করান। হাইজ্যাকারদয় নিজেদের কে Jammu and Kashmir Liberation Front (JKLF) এর সদস্য বলে পরিচয় দ্যায় এবং কাশ্মীর এ বন্দি এই সংগঠনের ৩৬ জন সদস্য কে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত সকল যাত্রী কে জিম্মি করে রাখার ঘোষণা দ্যায়।

কিছুক্ষণের মধ্যে লাহোর বিমানবন্দরে আসেন তৎকালীন সেনা শাসক ইয়াহিয়া খান এর পররাষ্ট্র মন্ত্রি জুলফিকার আলী ভুট্টো। তিনি সংবাদ সম্মেলন করে হাইজ্যাকার দুজন কে “জাতীয় বীর” হিসেবে ঘোসনা করেন। তারপর তিনি রাওয়ালপিন্ডি চলে যান এবং ২রা ফেব্রুয়ারী এসে হাইজ্যাকার দুজন এর সাথে এক বৈঠক এ মিলিত হন। বৈঠক এর পর তারা সকল যাত্রী এবং ক্রু দের মুক্তি দ্যান কিন্তু বিমান টিকে নিজেদের দখল এ রেখে দ্যান। সকল যাত্রী এবং ক্রু কে বাই রোড এ অমৃতসর নিয়ে যাওয়া হয়।

তারা নিরাপদে পৌছেছেন খবর আসার পর, ঐ রাতেই হাইজ্যাকার দুজন “ভারত তাদের দাবী অনুযায়ী বন্দী দের মুক্তি দ্যায় নি” এই ঘোষনা দিয়ে টিভি ক্যামেরার সামনে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিমান টিতে অগ্নি সংযোগ করে এবং বিস্ফোরক দিয়ে বিমানের মাঝ বরাবর উড়িয়ে দ্যায়।

 

এই সময় পাকিস্তানী নিরাপত্তা রক্ষি দের ভূমিকা সারা বিশ্ব কে বিস্মিত করে।  জুলফিকার আলী ভুট্টো সহ বেশ কয়েকজন পশ্চিম পাকিস্তানী নেতা এই ঘটনা কে সমর্থন করে বিবৃতি দান করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ৩রা ফেব্রুয়ারি সংবাদপত্রে বিবৃতির মাধ্যমে বলেন,

“ লাহোরে ভারতীয় বিমানটি বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে শুনে আমি বিস্মিত হয়েছি। বিমানটি অপহরন হয়তোবা একটি ঘটনা প্রবাহের পরিণতি, কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে বিমানটিকে উড়িয়ে দেয়ার ঘটনা আসলেই নিন্দনীয়। “

ভারত এই ঘটনায় তিব্র ভাবে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে । ৩রা ফেব্রুয়ারি ভারত তার আকাশ সীমার উপর দিয়ে পাকিস্তানি সামরিক বিমান চলাচল এবং পরের দিন ৪ ঠা ফেব্রুয়ারি থেকে সামরিক এবং বেসামরিক সব ধরনের পাকিস্তানি বিমান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

এই নিষেধাজ্ঞা সমগ্র মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় পর্যন্ত বলবত ছিল। ফলে পাকিস্তানি সকল বিমান কে শ্রীলঙ্কা হয়ে ঘুরে আস্তে হতো। যা একটা যুদ্ধ কালীন সময়ে খুবি গুরুত্ব পূর্ণ ফ্যাক্টর। মুক্তিযুদ্ধে আকাশ পথের যুদ্ধে এই হাইজ্যাক এর ঘটনা তাই একটি মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঘটনা বলে বিবেচিত হতেই পারে।

এই ছিল কাহিনী। এই পর্যন্ত ঘাটা ঘাটি কইরা থাইমা গেলেই হইত। কিন্তু আমি এট্টূ বেশি বুজি তো তাই মনে হইল আরেকটু ডিটেইল জানা দরকার। ঘাটতে গিয়া কিছু আক্কেল গুরুম করা তথ্য পাই যা নিচে দেওয়া হইলঃ

১। VT-DMA (যে বিমান টা হাইজ্যাকড হইসিল) কে সারভিস থিকা অবসর এ পাঠানো হইসিল । কিন্তু হাইজ্যাক এর ঘটনার কয়েকদিন আগে একে আবার সারভিস এ আনা হয় এবং এই রুট এ দেওয়া হয়।

২। আশরাফ ভাট নামে যে হাইজ্যাকার ছিল সে ছিল ইন্ডিয়ান বি এস এফ এর সদস্য। কেন বিএসএফ এর সদস্য বিমান ছিনতাই এর মত ঘটনায় জড়িত হইল তার জবাব এ তৎকালীন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ বিএসএফ (জম্মু) বলেন, আশরাফ ভাট এর বি এস এফ এর যোগদান নিয়া তার অব্জেকশন ছিল কিন্তু “ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা সংস্থা” এর সুপারিশে তাকে নেওয়া হয়।

৩। পাকিস্তান এই দুই হাইজ্যাকার কে “জাতীয় বীর” ঘোষণা করলেও পরবরতিতে মিডিয়ার ফোকাস কমে যাওয়ার পর তাদের কে “ইন্ডিয়ান স্পাই” হিসাবে গ্রেফতার করা হয়। এবং বন্দি বিনিময় চুক্তি তে তাদের ভারত এ ফেরত পাঠানো হয়।

৪। তারা ভারত এ ফেরত আসার পর ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এর জন্য গ্রেফতার করে এবং তার পর তাদের কোন হদিস আমি ইন্টারনেট ঘাইটা পাই নাই।

 

তথ্য সুত্রঃ

বইঃ

বিহঙ্গের ডানা – মেজর কামরুল হাসান ভুইয়া, ২০১২

My Years With IAF – Former Indian Air Chief Marshal Pratap Chandra Lal, 1986

ইন্টারনেটঃ

1971 Indian Airlines hijacking

http://en.wikipedia.org/wiki/1971_Indian_Airlines_hijacking

Looking beyond the obvious

http://sandywriter.blogspot.com/2009/12/looking-back-at-history-hijack-of.html

Chronology of aviation terrorism: 1968-2004

http://www.skyjack.co.il/chronology/

 

ছবি কৃতজ্ঞতা

Qaiser Ansari : History of PIA

৩৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৪, ২০১৫ । ১১.২০ পি.এম

কিছু হারিয়ে ফেলা দিন ফিরে আসুক। আমি ভুল করা গুলো ঠিক করে দি। তারপর চলুক ঠিক ঠাক। যাকে রেখে দিয়েছিলাম তাকে ভাসিয়ে দি কাগজের নৌকার মত। সে তার কাগজের পাল তুলে ভেসে যাক। আর যাকে কুচি কুচি করে কাগজের মত ফু দিয়েছিলাম, তাকে মুঠো ভরে ধরে আনি। এক্টা এক্টা করে জোড়া লাগাই। হয়তো ছবি টা হবে না পুরোপুরি কিন্তু থাক। আমার তাতেই চলে যাবে।

কিছু হারিয়ে যাওয়া সুর ফিরে আসুক। যা কিছু বাজাতে পারি না, শিখে যাই আংগুলে আংগুলে । তারপর কথা গুলো বসে যাক ঠিকঠাক । আমি আবার লিখতে থাকি অবিরত। নতুন গানের গন্ধ উঠুক আবার। মনের ভিতর চলতে থাকুক শব্দের হাহাকার। বৃষ্টি নামুক গানের।

কিছু হারিয়ে ফেলা কবিতা ফিরে পাই। নিজেকে আবার ভাবতে শিখি কবি। যা কিছু শিখছে মন, বসিয়ে দেই অনুভুতির পাশে, এক সাথে। অকবির আস্ফালন দেখে দেখে বিরক্ত হয়ে ছুড়ে দেওয়া যাক তার মুখে এক তারা কবিতা ভর্তি কাগজ।

এইবার কবিতার জয় হোক। এই বার আমার জন্য তাদের মনে ভয় হোক।

৩৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৩, ২০১৫ । ৭.৪০ পি.এম

মইম্যারা এক্টু পর চইলা যাবে। সাথে ভাগ্নি গুলাও। দুলাভাই আর ওদের সবার অস্ট্রেলিয়া তে পারমানেন্ট রেসিডেন্সিশিপ হইসে। তাই যাইতাসে গা। আমরা এক্টু পর ওদের সি অফ করতে এয়ারপোর্ট যাবো।

এখন অনেক কিছুই চেঞ্জ হবে। বদ মহিলা সারা জীবনইই ঝামেলা করসে আমার লগে। এখন আমার ব্যাংক অফিস সব জায়গার “ইমারজেন্সি কন্টাক্ট” চেঞ্জ করা লাগবে। কি আজাইরা ঝামেলা। নাইলে দেখা যাইব, এক্সিডেন্ট করসি, মইম্যা রে ফোন দিসে আর মইম্যা কইতাসে, আমি তো এক্টু ক্যাংগারুর কাবাব বানাইতে বিজি আসি, আপ্নে বাংলাদেশ এ ফুন্দেন।

বাসার সাথে আমার যোগাযোগ আরো কমবে। এই বিরক্তিকর মহিলা আমি ফেসবুক এ কি করি না করি সব আম্মারে জানাইত। আম্মারে ফেসবুক ইউজ করা শিখাইসেও এই মহিলা। এখন আম্মা নিজেই সারাদিন আমার প্রোফাইলে উকি মারে। আর আমারে জিজ্ঞেস করে, “ওই মেয়েটা কে রে? সুন্দর আসে”। উফফ।

আমার এই ভইন দা পেইন আবার আহসানউল্লাহ ভার্সিটির টিচার আসিল। আমি শিউর হে ক্লাস এ গিয়া পোলাপান রে রিডিং পড়তে দিয়া হা কইরা ঘুমায় যাইতো। উনি এখন অস্ট্রেলিয়া দেশে গিয়া পি এইচ ডি করবেন, স্কলারশিপ পাইসেন (কলার ধইরা থ্রেট দিসিল প্রফেসর রে)। জীবনে রসুন্ডি, পিয়াজডি কাটলো না, অখন পি এইচ ডি করব। হুদাই।

ভাগ্নি গুলার জন্য বুক টা খালি খালি লাগতাসে। এদের এনাফ স্পয়েল করার টাইম পাইলাম না। এরা জীবনে প্রথম পিয়ানো শিখসে আমার কাসে, ছবি আকা শিখসে আমার কাসে, সেল্ফি তুলাও শিখসে আমার কাসে। ছোট বেলায় গোসল করার সময় এদের রাবার ডাক কিন্না দিসিলাম। এরপর থেইকা আমাকে ডাকে প্যাক প্যাক মামা। এরা বিদেশে বড় টর হয়া যাবে। এই বুড়া হাস রে কি আর মনে রাখবে।

সিংগাপুর এয়ারলাইন্স এই ভুটকি মহিলা রে নেওয়ার জন্য এক্টি বিশেষ কারগো বিমান পাঠাইসেন। এবং এয়ার হোস্টেশ আপা দের মানসিক রুগি হেন্ডেল করার বিশেষ ট্রেনিং দেওয়া হইসে। বাংলাদেশ সরকার এই আপদ বিদায় হওয়া উপলক্ষে কাল্কে সরকারি ছুটি ঘোসনা করসেন।

মনে রাখতে হবে অস্ট্রেলিয়া যদি ডুবে তাইলে তা গ্লোবাল ওয়ারমিং এর জন্য নহে। আমার ভইন দা পেইন (কি)ইসমত জেরিন(জরিনা) মম (মইম্যা) ই উহার জন্য দায়ী। হে ফারা দিয়া ডুবায়ালচে।

৩৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২, ২০১৫ । ১১.২৮ পি.এম

ভোর বলেছিল, ও রাত, এভাবে চলে যাবে? আমি যে মাত্র আসলাম।

ছোট্ট ঘাস ফুল বলেছিল, আচ্ছা আগে না হয় বড় গাছ গুলোই আলো মাখুক গায়ে।

লেজ নাড়তে নাড়তে রুপালি মাছ বলেছিল, ঠিকাছে জাল, তোমাকে জড়ানি দেয়া যাক একটা।

সোডিয়াম আলো বলেছিল, আমি যে আলো তে অন্ধকার মেশাই বুঝতে পারো?

মাটিতে জমা কনফেট্টি গুলো বলেছিল, আমরা কিন্তু উড়েছিলাম, একদিন।

কমলা কমলা বিকেল রোদ বলেছিল, আমি ছুয়ে দেখেছি। ওর গাল নরম।

অফিসের সামনের সাদা কুকুরটা আমার গায়ে দু’পা তুলে দিয়ে বলেছিল, ঘেউ। লেজ নাড়ি, লেজ নাড়ি। ঘেউ।

সকালে মুরগির ছুপ খাই যে হোটেলে, সেই মামা বলেছিল, আরেক্টা রুটি খান, শুকায় যাইতাসেন দিন দিন

পিয়ানো বাজানো লোকটা হঠাত বাজানো থামিয়ে বলেছিল, বাজাবেন?

আবেগ যুক্তি কে বলেছিল, চল ফাইট করি।

আমি ঈশ্বর কে বলেছিলাম, কেন?

হাত ঘড়ি টা কব্জি ধরে বলেছিল, সময় যাচ্ছে। আমি না।

৩৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১, ২০১৫ । ১১.৫৯ পি.এম

একটা ভুল দিন এর জন্য একটা ঠিক ওয়েদার হয়া কি লাব টা হইল। বসুন্ধরার গেট এ নাস্তা উস্তা খায়া অপিশের দিকে হাটা দিসি আর দেখি কি সুন্দর কাল কাল মেঘ। আমি মনে মনে কইলাম হপ ব্যাটা, আইজকা আইসস কিত্তে, আইজকা তো তোগো দেখনের টাইম নাই। আমাদের অফিস থিকা বৃষ্টি দেখন টা মজার। কাচের দেওয়াল তো। বেশ ওয়াইড এঙ্গেল ভিউ পাওন যায়। আমি যখন সকাল বেলার কাজ এ আস্তে আস্তে গলা ডুবাইতাসিলাম তখন দেখলাম চারপাশ অন্ধকার হয়া আসতাসে। বৃষ্টি আসনের এই আগের মুহূর্ত টা বৃষ্টি থেইকা বেশি সুন্দর লাগে। মনে হয় আল্লাহ দিন দেখতে দেখতে বিরক্ত। হঠাত মনে হইল ধুর, সন্ধ্যা কত দেরি, আমার এক্ষন সন্ধ্যা লাগবো। বইলা ফু দিয়া সূর্য টারে এট্টূ ডিম কইরা দিল। আর সকাল ১০ টায় হয়া গেল সন্ধ্যা ৭ টার আলো।

এক দিকে কাজ অন্য দিক এ কাচ। কাচ এর ওইপারে বৃষ্টি। বৃষ্টি খাইতে মজা হইলেও বৃষ্টি খায়া প্যাট ভরবে না তাই কাজ এই ফেরত যাওয়া। মনে মনে বৃষ্টির পানি তে পা নামায়া শব্দ করি আর সাম্নের কলিগ হঠাত লাত্তি খায়া সরি সরি চোখ এ তাকায়। আমি তারে সরি কই। সরি, বাইরে বৃষ্টি আর আমরা অফিস করতাসি। সরি।

সকালের বৃষ্টি টা অভিমানি প্রেমিকার অনুনয় এর মত হইলেও সন্ধ্যা বেলা একদম কোপানি প্রেমিকা হয়া গেসিল। দেখলাম ধুমায়া শিলা বৃষ্টি হইল। মানুষ আর গাড়ী গুড়ির মধ্যে দৌড়া দৌড়ি পইরা গেল। অফিসের লোক জন ও শিলা বৃষ্টি দেখতে আইসা পরসিল কাচের কাছে। একজন বেশ উৎসাহ নিয়া কইল, উয়াউ। শিলা বৃষ্টি হচ্চে ভচ। আমি কইলাম, হ, শিল পরতাছে। তার উৎসাহ তাতেও কমে না। সে জিগাইল, আচ্ছা ভচ, শীলা কখন পরে? আমি কইলাম, পরীক্ষা আসলেই পড়ে। উনি আর কিছু জিগানির সাহস করে নাই।

৩২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মার্চ ৩১, ২০১৫ । ১১.০৮ পি.এম

আইয়ুব বাচ্চু ভাই এর একটা গান আছে। উনি ওইখানে বেশ দরদ দিয়া গাইসেন, “গগনের তারা গুলো, নিভে যাওয়া এক রাতে, এলোমেলো জীবনের পথ, হারালো ভুল পথে। হঠাত দেখা তোমার সাথে। তুমি কে? তুমি কে? হবে কি বন্ধু আমার? তুমি কে? তুমি কে?” এই গান ডা আসলে আগের লেখাটার সাথে বেশি যাইত, যেইখানে আমি আম্নে কে নিয়া বেশ ভাবের আলোচনা করসি। ওইখানে আমি কইসিলাম একটা মানুষ দেখলে আমাদের প্রথম জিজ্ঞাসা থাকে, আম্নে কেঠা? আর পরের প্রশ্ন টা থাকে, কি চান?

এই কি চাই লয়াই আজকের ঘুম আনানিয়া আলুচনা। এই আলুচনা পড়লে আপ্নে আরো জানতে পারবেন, কিভাবে পড়তে পড়তে ঘুম আসে। (ইনসেটে বিকট শব্দে হাই তোলার ছবি, ভিডিও সহ 😛 )। অনেক ডিপ থ্রোট (কপিরাইট জিকো ভাই), এন্টেনার উপ্রে দিয়া যাওয়ার মত আলুচনা আছে, তাই আগেই সাবধান করলাম।

আমি কি চাই এইটা আশ্চর্য জনক ভাবে আমার কাছে সবসময় ই একটা জটিল প্রশ্ন লাগে। বিশেষ কইরা এই প্রশ্ন টা যখন প্রেম ভালবাসার ব্যাপারে করা হয়। আমরা পপুলার কালচারে এত বেশি ডুইবা থাকি আমরা অবচেতন ভাবে সবার সব রকমের আচার আচরন এবং বিশ্বাস কে নিজের অজান্তেই “আমি কি চাই” তা ঠিক করার মালিক বানায়া দেই।

আমরা সেক্স, মনোগামি, লাইফস্টাইল, সৌন্দর্য এই সব নিয়া ক্রমাগত পরস্পর বিরোধি বক্তব্য শুনতে শুনতে বড় হই। আমাদের বার বার বলতে বলতে আর দেখাইতে দেখাইতে টেক্সটবুক ডেফিনেশন অফ বিউটি শিখানো হয়। আর বুঝানো হয়, এইডা হইল স্ট্যান্ডারড, বুঝসস। এগুলা এগুলা চাইতে হয়।

মেয়েদের ব্যাপারটা বলতে চাই না । কিন্তু ছেলেরা এগুলা শুনতে শুনতে বড় হয় যে, এইটা প্লে বয়রা করে, এইটা ডিভোটেড ফ্যামিলি ম্যান রা করে, “দি ওয়ান” রে খুইজা বাইর করাই জীবনের একমাত্র উদ্দ্যেশ্য, ওই মেয়েটা হট, এই মেয়েটা হট না, আরে তুই কি বুইজ্জা ওই মেয়েরে লাইক করস? ওর কি আসে? ইত্যাদি ইত্যাদি।

এগুলা যে শুধু বন্ধুরা কয় তা না। ফ্যামিলি থেইকাও অনেক ইনপুট আসে। আমার কাসে মনে হয় এই গুলা তৈরি ই হইসে আমাগো কনফিউজ করার জন্য। আর কেউ যদি সতর্ক না থাকে, যেইটা বেশিরভাগ মানুষই থাকে না, আমরা এই ধারনা নিয়া বড় হই যে আমি তাই চাই যা সবাই মনে করে চাওয়া উচিত। আর আমি যদি বুঝতে না পারি সবাই কি চায়, তাইলে আমি কনফিউজড থাকি আর শেষ মেষ সবার চাওয়ারেই নিজের চাওয়া ভাবতে থাকি।

আমি আসলে কি চাই, ওইটা চিন্তা করার অভ্যাস আমাদের করানো হয় না। কারন আমাদের শেখার প্রসেস্টাই এমন। “আমি বলুম, তুমি শিখবা। শ্যাষ। নিজে খুইজা বাইর করতে যাইয়ো না ভুল হবে।“ আমাদের ভুল করতে দেওয়া হয় না।

যতখন না এই চাওয়া দেশের কোন আইন ভাংতাসে না, ততখন আমরা এইটারে ঠিক ই আসে ধইরা নেই। আর আমি কইতাসিও না যে ফেমেলির কথা মত চায়েন না, নিজের ইচ্ছা মত চান। আমি শুধু এতক্ষণ এর ভেরভেরানি তে এই পয়েন্ট টাই বুঝাইতে চাইতাসি যে,

নিজে কি চান শিওর হন এবং ওইটাতে স্টিক থাকেন। সেইটা পূর্ণ আত্ম বিশ্বাস এর সাথে নিজের চাওয়া বইলা দাবি করতে পারেন, ওই লেভেল এ স্টিক থাকেন। আমার মত, “না মানে ইয়ে মানে ভাল্লাগে তো, হইলে ভালো হইতো তো” এই টাইপ ম্যান ম্যান করলে হইব না।

সাথে সাথে এইটাও মনে রাইখেন যে আমাদের চাওয়া পরিবর্তনশীল। এইটা হবেই। এইটা স্বীকার কইরা নেওয়া টাই সুখ, শান্তি। রালফ ওয়াল্ডো এমারসন (Ralph Waldo Emerson) বইলা এক আম্রিকান ব্যাডা আসে। উনি একজন ফিলোসফার। উনার “Self-Reliance” নামে একটা বিখ্যাত লেখা আসে। ওই খানের একটা লাইন আমার ব্যাপক পছন্দ।

Foolish consistency is the hobgoblin of little minds.

মানে হইল গিয়া, খুদ্র মনা মানুষ গুলা এই চিন্তা দিয়াই প্রতিবন্ধি হয়া থাকে যে তাগোরে হারা জীবন কন্সিস্টেন্ট থাকতে হইব, জীবনেও মন রে চেঞ্জ করন যাইবো না। কারন তাতে হয়তো মানুষ ভুল বুঝতে পারে।

কিন্তু এইডাতে যে হেগো আরো খারাপ হইতাসে ওইডা হেরা বুঝে না। তাই এমারসন চাচায় কইসে, ভুল বুঝলে বুঝুক গা, তবু মন চেঞ্জ হইব না এইডা ধইরা বয়া থাইক্কেন না। আপ্নের ছায়া আর আপ্নের মধ্যে তইলে পারথক্ক কি থাক্লো যদি আপ্নের চাওয়া কি ওইডা না জানেন? জগতে কোন বিখ্যাত মানুষটারে দুনিয়ার লুকজন প্রথমে ভুল বুঝে নাই? এমারসন চাচার কথা গুলা এতই ভাল্লাগসে যে হুবুহু তুইলা দিলাম,

“A foolish consistency is the hobgoblin of little minds, adored by little statesmen and philosophers and divines. With consistency a great soul has simply nothing to do. He may as well concern himself with his shadow on the wall. Speak what you think now in hard words, and to-morrow speak what to-morrow thinks in hard words again, though it contradict every thing you said to-day. — ‘Ah, so you shall be sure to be misunderstood.’ — Is it so bad, then, to be misunderstood? Pythagoras was misunderstood, and Socrates, and Jesus, and Luther, and Copernicus, and Galileo, and Newton, and every pure and wise spirit that ever took flesh. To be great is to be misunderstood”