১২১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ২৮, ২০১৫ । ১০.৪২ পি.এম

ইফতারির পর চোখ মুখ ঠেইল্লা যেই ঝিমানিটা আশে তার সাথে একমাত্র প্রেম এ পরার ই তুলনা করা যাইতে পারে। আমি ঝিমাইতে চাইনা তবু ঝিমাইতে হয়। তখন সিনেমা খাওয়া দাওয়া জরুরি কাজ কিছুই ঝিমানি থেইকা আটকাইতে পারে না। মনে হয় খালি ঝিমাই আর ঝিমাই।

ভাললাগা থেকে ভালবাসার মত ঝিমানি থেকে ঘুমানি যে কখন আইসা পরে বলতেই পারি না। জানতে পারি সকল সর্বনাশ ঘইটা যাওয়ার পর। আই মিন ঘুম ভাঙ্গার পর আরকি।

এরুকুম ই এক ঘুমের মধ্যে পরসি। ঘুম এর মধ্যে মনে হইতাসিল আহা নোট তো লেখা শেষ, ঘুমাই ঘুমাই। তারপর আতকা মনে হইল, ওহ না, এত ছোট বেলায় ঘুমের মধ্যে হিসু পাইলে কল্পনায় বাথরুমে যাওয়ার মত অবস্থা হইসে। নোট তো আসলে লিখি নাই। তাই এক চোখ রে ঘুম এ আরেক চোখ রে জাগ্না অবস্থায় রাইখা এই নোট লিখিতে বসিয়াছি। খুব গুরুত্বপূর্ণ নোট। দেশ ও জাতিকে উদ্ধার কইরা ছাড়বেই এমন শপথ করসে টাইপ নোট। এই নোট এতই গভীর যে আমি যে কি লিখতাসি আন্দা গুন্দা, তা একমাত্র আমার আঙ্গুল ই জানে। আঙ্গুল যা লিখতাসে আর চোখ যা পরতাসে সেই সব সিগন্যাল মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই বাষ্প হয়া যাইতাসে।

আমি ঘুমাইয়াই থাকতাম যদি না আমার বাড়িওয়ালার কেয়ার টেকার মিস্টার ইলিয়াছ আমারে ১৯ বার কল না দিত। এই লোক এর স্বভাব হইল এই লোক মাস এর শেষ হইলেই আমারে ফোন দিবে আর স্লামালিকুম স্যার বইলা চুপ কইরা থাকবে। আর কুন কথা না। কেমন আসেন, ভাড়া ডা কি আজকে দিবেন, এগুলা কিচ্ছু না। খালি এক মহান স্লামালিকুম স্যার এর মধ্যে নিহিত থাকে জগতের সকল রহস্য। আর আমারে সেই কিশোরীর অব্যাক্ত প্রেম নিবেদন এর মত স্লামালিকুম স্যার থেইকা বুইঝা নিতে হয় যে ভাড়া দেওনের টাইম হইসে। প্রত্যেক বার একি রুটিন। প্রথমে ফোন , তারপর স্লাআআ মালিকুম স্যার। তার পর চুপ চাপ। তারপর আজকে আসবেন ভাড়া নিতে? তারপর ফোস ফোস শাস এর আওয়াজ। তারপর আচ্ছা ঠিকাসে আইসেন রাত্রে বেলা। তারপর আবার স্লাআআমালিকুম স্যার বইলা রাইখা দেওয়া। ব্যাপারটা এত ক্রিপি। ভাবতেও গিভস মি চিলস।

যাই হোক, আজকের দিন টা একটা স্যাড স্যাড দিন তাই যতটা পারি ঘুমাইয়া কাটাইতে ট্রাই করতাসি। সকাল বেলা অফিসে যাওয়ার সময় রিকশা পাইতে খুব অসুবিধা হইসে। কেউ যাইতে রাজি হইতাসিল না। শেষ মেষ বলা শুরু করসি, মামা যাবেন? কক্সবাজার ? চলেন না মামা। ভাড়া বারায় দিব। চলেন না? খুব মজা হবে। চলেন চলেন।

১২০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ২৭, ২০১৫ । ১১.৫২ পি.এম

আজকে সারাদিন এ ফেসবুক এ ইস্যু ছিল দুইটা। এক , আমেরিকার সব গুলা স্টেট এ এল,জি,বি,টি কমিউনিটির মধ্যে বিবাহ বৈধ ঘোষণা কইরা আইন আর দুই, নাসের এর বোনের সাথে ছবি তে মানুষ জন এর উলটা পালটা কমেন্ট আর শেষ মেষ নাসের এর সেই ছবি রিমুভ করা এবং বলা যে ডোন্ট ফলো মি।

আমি চেষ্টা করি সব ধরনের ইস্যু কে এরায়া যাইতে। যদিও সব সময় সম্ভব হয় না। আমিও মানুষ, আমিও ক্যারিড এওয়ে হই। এর কারন আমার মনে হয় ইস্যু গভীরতা বোঝার জ্ঞ্যান আমার নাই। অথবা আমার মন্তব্য বুঝনের গভীরতা ইস্যু তৈরি কারির নাই। তাই চুপ থাকি। ইস্যুর দিকে পিঠ দিয়া ঘুমায় যাই।

আজকের গুলাও এরায়াই যাইতাম। কিন্তু দুই দিন এর চিটাগাং সফর এর পর হঠাত ফ্রি হয়া গিয়া আমি সুপার বোরড। তার উপর সব শনিবার রাতে “কালকে অফিস” ভাইবা যেই ডিপ্রেশন টা কাজ করে তার একটা এফেক্ট তো পরেই। আমার মনে হয়, নাহ আমারো কিছু বলার আছে, মূল্যবান মতামত আছে।

এই দুইটা ইস্যুতে আমার চিন্তা ভাবনা অশিক্ষিত সমাজ বিজ্ঞানী টাইপ এর । আমেরিকায় কি লিগাল হইল না হইল তা নিয়া আমি শুইনা আমোদিত হইতে পারি। খবর টা শেয়ার পর্যন্ত দেওয়াটাই আমাদের ফেসবুকিও অভ্যাস ছিল। কালকে অন্য ইস্যু আসলে এইটা মানুষ ভুইলাও যাইত। কিন্তু এই খান থেইকাও যে বিজনেস করা সম্ভব তা কি পুঁজিবাদী ব্রেইন ছাইরা দিবে? সবাই দেখলো এইখানে একটা পজিটিভ মার্কেটিং এর চান্স আসে। 9Gag তার লোগো পালটায় রঙ ধনু দিল, Facebook তার ইউজার দের ছবির উপর একটা রংধনু লেয়ার বসানোর ফিলটার টুল ছারলো।

এর পর ব্যাপার টা ব্রাজিল আর্জেন্টিনার খেলার মত হয়া গেল। যে যেইটা সাপোর্ট করে বা কোন টাই সাপোর্ট করে না তাদের সন্দেহ হইল, অন্যরা কি তার মত বুঝদার? এক টা পপুলার স্ট্যাটাস এর টাইপ দাঁড়ায় গেল এইরকম যে “তোমরা যারা রংধনু মার্কা ছবি দিচ্ছ, তারা কি বুইঝা দিচ্ছ?”

এই খানে স্ট্যাটাস দাতা দুইটা জিনিশ বুঝান। এক, তিনি ব্যাপারটা জানেন এবং তার কাছে ব্যাপার টা কি জিজ্ঞেস করলে তার কাছে লিঙ্ক রেডি আছে তিনি সাথে সাথেই দিয়া দিবেন। আর দুই, তিনি রঙধনু মার্কা ছবি দেন নাই এবং কেউ যাতে তারে না ভাবে যে তিনি যুগ এর সাথে তাল মিলায় চলতাসেন না তাই তিনি জানাইলেন যে তিনিও সামথিং এমাঙ দা নাথিংস।

আম্রিকায় এল,জি,বি,টি রা বিয়া কইরা সুখে শান্তি তে বসবাস করলেও আমাদের কিছু না, অরা রাইতে উইঠা ঝগড়া করলেও আমাদের কিছু না। আমরা শুধু সাপোর্ট জানাইতে পারি বা না জানাইতে পারি। কিন্তু নিজের মত এর ভিন্ন মত প্রকাশকারি রে দ্বীন এর রাস্তায় আনা আমার পবিত্র দায়িত্ব মনে কইরা ফতোয়াবাজি করতে পারি না। সেইটা আরেক জন এর স্বাধীনতার বরখেলাপ হয়।

২য় ইস্যু ছিল নাসের এর সাথে উনার বোন এর ছবি তে লোকজন এর কমেন্ট। এই টা আমার মনে হয় যত দিন যাবে, মোবাইল কোম্পানি গুলা যত বেশি ইন্টারনেট এর বাইরে থাকা লোক গুলা কে আইনা ইন্টারনেট এ ছাইরা দিয়া বলবে দ্যাখ কত মজা, তত দিন এইটা বাড়তেই থাকবে।

কই আমি বা আপনে তো এগুলা করি না গিয়া অন্যের ছবির নিচে। তাইলে ওরা ক্যান করে? কারন ওরা মনে করে ইটস ওকে টু ডু দিস স্টাফ। ওদের কমেন্ট করার সাথে সাথে কেউ ডিলেট কইরা দ্যায় নাই। যে ৪ নাম্বার কমেন্ট টা করসে সে দেখসে যে ১,২,৩ নাম্বার এর অরা তার চেয়েও খারাপ কথা বইলা গেসে, অগুলা জলজল করতাসে , মুছা হয় নাই। আর তার ফ্রেন্ড লিস্টে ফ্রেন্ড ই আসে হয়তো ৪ জন। যারা ঠিক মত নিজের নাম ই লিখতে পারে না। সে যদি এখন অশ্লীল কিছু বলেও তার তো সামাজিক কোন বাধা নাই। দিল কইরা। তারপর ৫ নাম্বার জন আইসা দেখল, বাহ, এইখানে তো ভালাই চলতাসে। দেই একটা কমেন্ট ছুঁইরা।

সেম জিনিষ টা ইভ টিজিং এর ক্ষেত্রেও হয়। প্রথম একজন শুরু করে, দ্যাখে যে কেউ বাধা দিতাসে না, তখনা আরো করে, সাথের লোকজন ও সেইটা দেইখা শুরু হয়া যায়। ক্রিয়েট হয় মব এর।

এই গুলা কে প্রথমেই থামায় দিতে হবে। কমেন্ট চোখে পরা মাত্রই দরকার হইলে স্ক্রিনশট রাইখা মুইছা দিতে হবে। তারপর তারে পাঠাইয়া বলতে হবে, এই বার করসস ছাইরা দিলাম, এর পরের বার পাবলিক লি দেখানো হবে। একজন সেলিব্রেটির পক্ষে এইটা করা টা কঠিন, তার এত এত টাইম নাই। কিন্তু তার সব ফ্যান তো খারাপ না। তাদের যদি দায়িত্ব দেয়া হয় জিনিষটা দেখভাল করার তাইলে এই সব কমেন্ট করা লোকজন পালায়া কুল পাবে?

আমাদের অনেক লোক কম্পিটার ব্যাবহার এর আগেই মোবাইলে ফেসবুক ব্যাবহার এর সুযোগ পাইতাসে এইটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। এরা আশে পাশে দেইখাই শিখবে। এরা অনেকে জানেও না যে যা করতাসে সেইটা দৃশটি কটু। এদের মুরাদ টাক্লা বইলা একটা কিউট ইমেজ দেওয়ায় যায় কিন্তু তাতে সংশোধন তো হয় না।

শিখাইতে হবে এদের। দরকার হইলে হাতে ধইরা শিখাইতে হবে। গত ফেব্রুয়ারির বই মেলায় একটা লোক তার মোবাইলে একটা স্টল এর সেলস গার্ল দের ছবি তুলতাসিল। অনেক সাহস কইরা জিনিষটার প্রতিবাদ করসিলাম। মেয়েগুলাও চিল্লা চিল্লি কইরা লোক জমায় ফেলসিল তাই সাহস পাইসিলাম, নাইলে আমার এত সাহস নাই। মাইর দিতে আসছিল পাবলিক, আমি শুধু লোকটারে শান্ত গলায় বলসি, মোবাইল টা দ্যান। তারপর তার পুরা গ্যালারি আর মেমরি কার্ড ডিলিট কইরা দিয়া আবার ফেরত দিয়া দিসি।

খালি গালা গালি কইরা দায়িত্ব শেষ করলে হবে না। যারা নাসের আর নাসের এর বোন রে উলটা পালটা বলসে তাদের নাম ধইরা খুইজা বাইর কইরা একশন নিতে হবে। সেইটা ভারচুয়াল জগত এই হোক আর বাস্তব জগতেই হোক।

১১৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ২৬, ২০১৫ । ১১.৩৮ পি.এম

দিন টা শেষ হওয়ার আর তিরিশ মিনিট বাকি। বেটারির চারজ বাকি ১০%। কিন্তু আমাগো চারজ এখনো অনেক বাকি তাই আমরা এখনো বাইরে।

এই নোট লিখতাসি সিডাগাং বয়া। আজকে ভোরে আসছি। আর আসার পর থিকা খালি মুজা আর মুজা। আমি আর ফেরদুস “বাতিঘর” গেসিলাম। ৫ টা বই কিন্সি। আমরা আরং এ গেসিলাম। দুই জন দুইডা পাঞ্জাবি কিঞ্চি। বাসায় আইসা ফেরদুস এর ভাগ্নি রা আমার চুল আচ্রায়া বেন্ড পরায়া দিসে। অই বেন্ড পইরা ফেরদুস আর লরার বাঘ দান পোগ্রাম এ গেসি। অই খানে অরা বাদ ইফতার আংটি বদল করসে আর আমি খায়া দুরবিক্ষ লাগায়া দিসি বাসায়। আমারে বিয়ায় দাওয়াত দিবে কিনা বিবেচনাধীন আসে এখন। বাসায় আইসা রাইত সারে দশটা বাজে আবার বাইর হইসি কারন লোরা আর তার সুন্দ্রি (আহেম) ভইনেরা বাইর হইসে ঘুত্তে। লোরার দুলাভাই এর এক্টা ছোট কফি শপ আসে সিডাং এ, নাম “হাংগার গেমস”।

অইটায় লেমোনেড, কফি আর হট চক্লেট খাইতে খাইতে আরেক দফা বাঘ দান হইসে। কারন এর আগে ফেরদুস রে আংটি পরাইসে লোরার বাপ এ। আর লোরা রে ফেরদুস এর মায়ে। তাই আমি কইসিলাম, কংগ্রেটস ফেরদুস, ইউ আর অফিসিয়ালি এংগেজড টু লোরার বাপ নাউ :p

কাইল্কা সকাল সারে সাতটায় আবার পেলেন এ উইট্টা ঢাকা শহর আয়া পরুম 😀 😀 খুশি লাগতাসে।

১১৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ২৫, ২০১৫ । ৮.৩৩ পি.এম

আমি আগামিকাইল সিডাং যাইতাছি। উপলক্ষ্য, আমার ভেশট ফেনড ফেরদুইচ্চা আর লোরা এর বাঘদান দি এঙ্গেজমেন। লেট মি টেল সাম্থিং এবাউট দিস টু। ফেরদুইচ্চা আর আমি গো এ লঙ ওয়ে ব্যাক।

একটা ছেলে ছিল যে আমার পাঠশালায় বেসিক থেইকা ডিপ্লোমা পর্যন্ত ক্লাস মেট আসিল আর হারাক্ষন কইত, আরে আপনে পারবেন, এত হতাশ হয়েন না… দ্যাটস ফেরদৌস। যারে দেইখা দেইখা ফটো তুলা শিখসি… দ্যাটস ফেরদৌস। একটা ছেলে ছিল যার বাসায় রাত কাটাইলে আমি অর গেঞ্জি আর হাপ্পেন পিন্দা ঘুমাইতাম আর সকাল বেলা জিনিষ গুলা এতই পছন্দ হইত যে হেডি নিজের মনে কইরা পিন্দা বাসায় আয়া পরতাম… দ্যাটস ফেরদৌস। আরেকটা ছেলে ছিল যে আমি মিরপুরের কোন ওয়েডিং কাভার করতে করতে রাইত হয়া গেলে আমারে সেন্টার এর সামনে থিকা নিতে আসতো রিকশা দিয়া… দ্যাটস ফেরদৌস। আর একটা ছেলে ছিল যার বাসায় গেলে আমারে রাইন্ধা খাওয়াইত… দ্যাটস ফেরদৌস। জীবনের একটা বিরাট ট্রাজেডি ফেস করতে আমি, আমার বাপ গেসিলাম সাথে একটা ছেলেরেই নিসিলাম আমার পাশে থাকার জন্য… দ্যাটস ফেরদৌস। ছিনতাই কারী যখন আমার ক্যামেরা সহ ব্যাগ টান দিয়া নিয়া গেল আর আমি রিকশা থেইকা পইরা হাত পাও ছিল্লা মিল্লা ফালাইলাম, একটা ছেলে মিরপুর থেইকা সুভাস্তু আইসা আমারে এপোলো হাসপাতালে নিয়া গেসিল বিকজ আই ওয়াজ টু স্কেয়ারড অফ দা রোড… দ্যাটস ফেরদৌস।

আর লোরা হইল একটা হ্যাপি ক্রেজি গার্ল নেক্সট ডোর। কত্ত খিউট, মারাত্তক ক্রিয়েটিভ, পেশায় আরকিটেকছারখার। ফেরদৌস এর “উউউ একটা ওয়ান পয়েন্ট ফোর লেন্স” বইলা দউর দেওয়া ট্রেন এর বগিটারে টান দিয়া লাইন এ আনতে পারে খালি লোরাই। লোরা একটা মানুষ না। লোরা হইল একটা ছদ্মবেশী দক্ষিনা বাতাস। লোরার আশে পাশে থাকলে আমার শান্তি লাগে।

একবার বসুন্ধরার গেট এর কাছে যেই কাচা বাজার টা আসে ওই খানে আইসা এই দুই জন আমারে ফোন দিসে, “ইথার ভাইইই, আমরা আসছি, একটু আসেন”। আমি তখন বসুন্ধরায় থাকি। আমি সরল মনে চইলা গেসি দেখা করতে। এই দুইজন এত্ত গুলা মানুষের সামনে আমারে… আমারে… আমারে… ইথার ভাআআআই বইলা দৌড় দিয়া আইসা পায়ে ধইরা সালাম করল !!!! আর বলল, আপনে না থাকলে আমাদের দেখা হইত না। তাই আমরা আপনেরে সালাম করব বইলা ঠিক করসি। কি যে অবস্থা। লুকজন তাকায় রইসে। এক বুয়া যাইতাসিল মুরগি হাতে নিয়া, উনি ভাবসে আমি কি না কি পীর কামেলদার। চান্সে উনিও কইততে আয়া সালাম করা শুরু করসে আমারে। আর বলসে “দুয়া কইরেন মামা, গরীব মানুষ”। কি যে একটা বেকায়াদা অবস্থা…

এই দুই জন চুম্মাটুশ মানুষের আগামীকাল সিডাং শহরে বাঘ দান অনুষ্ঠান হবে। দা ওয়ে আই ইম্যাজিন ইট ইজ লাইক, এরা একটা বিরাট বাঘ নিয়া একে অন্য রে দিবে । আই নেভার আন্ডারস্ট্যান্ড দা এজেন্ডা অফ এঙ্গেজমেন্ট এনিওয়ে। আমার কাছে এইডা মুনে লয়, এইডা বিয়ার লাইগা তুম্রে বুকিং দিলাম টাইপ কিছু একটা।

আমি খুবি এক্সাইটেড সিডাং যাউয়া নিয়া। উত্তেজনায় রাইতে ঘুমাইতারুম না অবস্থ্যা। যাগো বিয়া তাগো খবর নাই, পাড়াপড়শির ইনসমনিয়া অবস্থা একটা। সিডাং গেলে “বাতিঘর” দুকান টা তে যাইতে হবে। কি সুন্দর একটা বই দোকান, আহা। আর জামা কাপুর নেওন ব্যাগ গুছানি ইত্যাদির কুন ঝামেলাই নাই। খালি ব্যাগ এ কেমরাটা ভইরা যামুগা, রাইতে ফেরদুইচ্ছার লুঙ্গি পিন্দা ঘুমায় থাকুম, (অবশ্য ওকে বঞ্চিত করে নয় 😛 স্পেয়ার লুঙ্গিটা আরকি)।

আর দা জার্নি বাই পেলেন, আহা হাউ ক্যান আই নট বি এক্সাইটেড। কোন একটা জায়গায় যদি আমার যাওয়ার কথা থাকে আর ওই জায়াগায় ট্রান্সপোর্ট চুজ করার অপশন আমার হাতে থাকে আর যদি দেয়ার ইজ আ এয়ারপোর্ট… আমি অবশ্যই অবশ্যই প্লেন দিয়া যাবো। এয়ারপোর্ট এ ঢুইকা প্লেন এ উঠবো ভাবতেই আমার ডিজনিল্যান্ড এ যামু, ফুচকা খামু টাইপ ফিলিংস হইতাসে।

আমি কারিব ভাই এর সাথে আলুচনা কইরা এমনে টিকেট কাটসি যাতে যাওনের সময় এক কিসিমের পেলেন ( বাংলাদেশ বিমান Dash-8 Q400) আর আসনের সময় আরেক কিসিমের পেলেন (বাংলাদেশ বিমান Boeing 777-200) এ উঠতে পারি।

বাংলাদেশ ছাড়া আর কুন দেশে এই ৪০ মিনিট ফ্লাইং এর জন্য Boeing 777-200 এ উঠার সুযোগ পাওন যাইব না। কারিব ভাই আমারে বইলাও দিসে, কুন কুন সিট এ বসলে ভালু ভিউ পাওয়া যাবে। Dash-8 আর Boeing-772 এর সিটিং লে আউট খুইলা বইসা, প্লেন স্পটার গো ফোরাম ঘাইটা প্ল্যানিং করার টাইম টা কত এক্সাইটেড ছিল। উনি আমারে শিখাইয়াও দিসে কেমনে প্লেন স্পটার গো মতন ট্রিপ রিপোর্ট লিখতে হয়। ট্রাই করুম এক্টা সন্দর দেইখা ট্রিপ রিপোর্ট লিখনের।

এর জন্য কারিব্বাই রে উনেক উনেক থ্যাংকস। আমি অবশ্যই পেলেন থিকা বিমান এর ছাপ মারা যা যা পারি দুইটা কইরা চুরি কইরা নিয়া আসবো আপনের জন্য, তারপর আধা আধা বখরা, মু হা হা।

১১৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ২৪, ২০১৫ । ১০.১৯ পি.এম

একটা সময় ছিল যখন যেই ফেসবুক এ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিতো, একসেপ্ট দিতাম। ঠিক আই ডি, ফেক আইডি, “কিউট শয়তান”, “এঞ্জেল সোটো পরি”, “ মন টা ভাল না” “স্ক্রু ড্রাইভার” ইত্যাদি যত রিকোয়েস্ট আসতো, সব আমার ফ্রেন্ড ছিল। কাউরে নিরাশ করতাম না।
এরম করতে করতে ফ্রেন্ড লিস্ট পাঁচ হাজার পুরা হয়া গেল। আর কাউরে একসেপ্ট করতে পারি না। তখন ফেসবুক এর উপরে অনেক মেজাজ খারাপ হইসিল, আরে আমার পাক হাগার প্রেন্দ থাকবে না পাঁচ টা ফ্রেন্ড থাকবে সেইটা ডিসাইড করার তুই ক্যা রে ফেসবুক?
তারপর হঠাত একদিন সাডেন রিয়ালাইজেশন হইল, এত্তু প্রেন্দ দিয়া আমি কি করিব? গায় মাখিয়া বসিয়া থাকিব যাতে ফরশা হই? এদের মধ্যে অর্ধেক এরও বেশি আছেন যাগো লগে জীবনে একবারও কথা হয় নাই। তাইলে এর লগে আমার কিয়ের প্রেন্দ শিপ?
কিন্তু কারে ডিলিত করুম আর কারে রাখুম? সে এক মহান চিন্তা ভাবনা। প্রথমে আমার সব আইডি ডি একটিভেট করা ফ্রেন্ড রে আনফেন করা শুরু কলাম। কিন্তু সেইটাও অনেক সময় লাগতাসিল। ফ্রেন্ড লিস্ট ধইরা ধইরা স্ক্রল কইরা যাওয়া লাগতো, কার প্রোফাইল ছবি ওই আকাশি রঙ এর বেডা ডা। নামের উপর ক্লিক কইরা বুঝতাম আসে না পলাইছে।
কিন্তু এইটাও অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার আর আমার মত আকাইম্মার কাছে সময় এর মূল্য অনেক বেশি। তাই একটা সুজা পদ্ধতি বাইর করলাম। এখন পতিদিন এই কাজ করি।
আজকে যাদের জন্মদিন তাদের লিস্ট বাইর করি । তারপর তাদের প্রোফাইল এ ঢুইকা দেখি এর লগে লাস্ট কবে কথা কইসি বা আদৌ কথা কইসি কিনা। যদি দেখি যে এর লগে আমার জীবনেও কথা হয় নাই বা লাস্ট কথা হইসে ২০১২ তে। তারপর আর কোন কথা বলার রেকর্ড নাই। তাইলে আনফ্রেন্ড।

এই ভাবে ফ্রেন্ড লিস্ট কমানো কর্মসূচির আউতায় ভালই কমতাসে ফ্রেন্ড এর সংখ্যা। আমার খালি এখন একটা কোন মতে এক্সিউজ লাগে ডিলিট করতে লিস্ট থেইকা। ডিলিট করতেও আরাম লাগে।

রেডিও মুন্না/বাশের কেল্লা/ ফেক ছবি শেয়ার এ দিসে? আনফ্রেন্ড।
হুদাই ট্যাগ মারসে ছবি তে? আনফ্রেন্ড
আমারে ওইদিন একটা পিচ্চি পোলা কইল, আপনার থেইকা আমার ফ্রেন্ড এর সংখ্যা বেশি। আনফ্রেন্ড।
ধান ক্ষেত এর চিপায় জনৈক মরদ পোলা “আমে আর আমের বন্দ” পোষ্ট দিসে? এরে লিস্ট রাইখা আমি কি সুয়াব কামাই করিব? আনফেন্ড।

দেখা যাক কদ্দিন চালাইতে পারি এইটা। দরকার নাই আমার অজানা ফ্রেন্ড এর। আমি এই ফেক সেন্স অফ পপুলারিটি চাই না।

১১৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ২৩, ২০১৫ । ১১.১৪ পি.এম

অইভ্যা রে নিয়া আরো কিছু কাহিনী মনে পরসে। আমি আর অভি যহন বাসাবো থেইকা কলেজে যাই তখন হে বেশ তাগরা জুয়ান ভোঁটকা আসিল। পাঠার মত শইল। হেরে আসে পাশে রাখলে বুলি টাইপ পুলাপান আমার কাছে আসনের সাহস পাইত না।

কিন্তু শইল্ডা এত্ত বড় হইলে কি হইব, হালায় আসিল একটা ভিতুর ডিম। আমাদের বাসার সামনে তখন বিরাট ঝিল। ঝিল এর এই পারে বাসাবো , ওই পারে গোরান। একবার গোরান এ কি জানি হইসে, পোলাপান পটকা ফুটাইতাসে অর সামথিং, আমি বারান্দায় গেসি দেখতে। হঠাত শুনি অভির চিৎকার, ওই ইথাইরা , কি করস তুইইই, তারাতারি ভিতরে আয়। ওই পারে গুলা গুলি হইতাসে। গুলি লাগবো গুলি।

আমি কইলাম, আব্বে তোর কি মাথা মুতা খারাপ হইসে? গুলি হইতাসে গাংগের ওই পার। আর এই পারে তুই ডরাস? দারা তামশা দেইখা লই। কিন্তু বেপারটা অইভ্যার পছন্দ হইল না। ওই পালোয়ান পাঠা বারান্দায় আইসা আমারে লিটারেলি কোলে উঠাইয়া ঘরে নিয়া ফ্লোর এর সাথে চাইপ্যাঁ ধইরা রাখলো। কারন যদি গোরান থেইকা গুলি বাইচান্স বাসাবোর বাসার পাঁচ তালায় আইসা পরে?

উপরে দিয়া খুব ভাল মানুষ দেখা গেলেও অইভ্যা আসিল বিরাট বদ এর বদ। মেয়েদের প্রতি তার লোলুপ দৃষ্টি এর কোন কমতি ছিল না। এমনকি ক্লাস এর নতুন আগত ইংরাজি শিক্ষিকা ও তার কু দৃষ্টি থেইকা রক্ষা পায় নাই।

আমি একবার আমাদের ক্লাস বাঙ্ক মাইরা অইভ্যা দের ক্লাস এ গেসি। অদের ইংলিশ এর ক্লাস নিতে একটা নতুন ম্যাডাম নাকি আসছে উনারে দেখতে। আমি যখন ভক্তি শ্রদধায় পরিপূর্ণ দৃষ্টি তে সেই গ্যাং পিপাসু থুক্কু জ্ঞান পিপাসু মহীয়সী নারি কে দেখছিলাম্, তখন বদ অইভ্যা হালায় গলার নিচে লুলদানি পইরা তার বিখ্যাত জুলু জুলু লুক দিতাসিল।

মেডাম নাম ডাকার জন্য এক খানা কলম চাইল। আর বালক দিগের মধ্যে রাগবি খেলার ন্যায় হুড়াহুড়ি পরিয়া গেল। সেই ব্যপক রয়েল রাম্বল এ কে জয়ী হইসিল আজ আর স্মরণে নাই, কিনতু তার পরে যা ঘটসিল তা এখনো মনের ডিম লাইট জালানো অন্ধকার ঘর এ মোবাইলে দেখা শিক্ষামূলক ভিডুর মত জল জল করে।

নাম ডাকা শেষ হওয়ার পর ম্যাডাম সরল মনে যার কলম তাকে ফেরত দিতে চাইল। জিগ্যেস করল, “এই কে দিয়েছিলো কলম? Whose pen is it” আর যায় কই। পরবি পর অভির সামনে। অইভ্যা হালায় ম্যাডাম এর হাত থেইকা ছো মাইরা কলম খানা কাইরা নিয়া রুম ফাটাইয়া ছিতখার করিয়া উঠিল,

“এএএএএই এই পেনটি কার? এই পেনটি কার? ম্যডাম জানতে চাইসে এই পেনটি কাআআর? হাত তুল , এই পেনটি কার হাত তুল”

রুম ভর্তি হাত তুলা দেখিয়া সেই দিন “আমরা শক্তি আমরা বদ, আমরা ছাত্র বদ” গানটাই মনে পরিয়া গিয়াছিল।

১১৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ২২, ২০১৫ । ১১.৩০ পি.এম

ছোটদের প্লেন পরিচিতি – ৪

 

কেমন আছো মিহি?

— ভাল আছি প্যাক প্যাক মামা। তুমি কি আবার প্লেন এর গল্প বলতে এসেছ?

 

আমি তো ওই একটা গল্পই পারি মামা। হ্যাঁ কালকের গল্পটা শেষ হয় নাই যে। আর একটু বাকি আছে।

— ওই যে Fuselage এর গল্প টা না?

 

হ্যাঁ, এই তো তোমার মনে আছে । কতটুক কি বলে ছিলাম বল তো?

 

— বলেছিলা যে আমরা যেটাকে প্লেন এর বডি বলি সেইটাকে আসলে বলে Fuselage । আর Fuselage এ Cockpit থাকে, Landing Gears  থাকে, Wings গুলা লাগানো থাকে Fuselage এর সাথে আর একদম শেষে থাকে প্লেন এর Tail.

 

আরে গুড। এই তো অনেক মনে আছে। ককপিটে কারা থাকে মনে আছে?

— আছে তো । বাম পাশে পাইলট আর ডান পাশে কো পাইলট। বাম পাশের জন সবসময় ওই প্লেন এর ক্যাপ্টেন।

 

ঠিক ঠিক। আর ল্যান্ডিং গিয়ার?

— ওইটাও মনে আছে। ল্যান্ডিং গিয়ার দুই প্রকার। সামনে যেটা থাকে সেটার নাম Nose Gear আর Fuselage এর মাঝামাঝি তে যেটা থাকে সেটার নাম Undercarriage.

 

 

ভেরি গুড মিহি গার্ল। আমাদের Fuselage এর গল্প টা প্রায় শেষ। আসো আমরা দেখি Fuselage এ আর কি কি থাকে। এই দেখো

 

— ওয়াও। কত্ত নতুন দাগ দাগ আর লেখা লেখা। আরো তো কঠিন হয়ে গেল মামা।

 

একটু তো হবেই। আমরা আগাচ্ছি না? আচ্ছা কঠিন লাগলে কি করতে হয় বলেছিলাম?

— ছোট ছোট জিনিষ গুলার দিকে মনযোগ দিতে হয়। তাহলে পুরা বড় জিনিষ টা সোজা হয়ে যায়।

 

ইয়েস। তাহলে আমরা ছোট ছোট জিনিষ গুলা দেখি। ককপিট এর পিছনে প্লেনে ঢুকার একটা দরজা থাকে যাকে বলে Passenger Door। এরকম দরজা পিছনের দিকেও থাকতে পারে  যদি প্লেন টা একটু বড় হয় আর সেইটা হয় তখন প্লেন এর Rear Door।

— দরজার কত নাম। আর আমরা যে বসেছিলাম ওইটাকে কি বলে মামা?

 

ওইটাকে বলে Passenger Seating Area. এই এরিয়াটা দুই রকম হইতে পারে। যদি শুধু মাঝখানে একটা হাটার জায়গা আর দুই পাশে বসার সিট থাকে  তাহলে সেই প্লেন টাকে বলে Single Aisle(আইল) Aircraft. আর যদি দুইটা বা তার বেশি হাটার জায়গা বা Aisle (আইল) থাকে তাহলে সেই প্লেন টা কে বলে Wide Body Aircraft ।

— আর মা যে আমাদের ব্যাগ গুলাকে উপরে রেখেদিয়েছিল অগুলা কে কি বলে মামা?

 

অগুলে বলে Over Head Storage । যাত্রীবাহী প্লেন এ দুই রকমের স্টোরেজ এরিয়া থাকে। এক হইল এই Over Head Storage. যেগুলাতে যাত্রীদের হাতে বহন করা হাল্কা জিনিষপত্র রাখা হয়। আর আরেকটা হল Baggage Compartments। যেইটা থাকে Fuselage এর নিচের দিকে। ছবি তে দ্যাখো।

— কত কিছু থাকে এক টা মাত্র প্লেন এ। আর মামা প্লেন এর বাইরের একটা জানালায় চারকোনা দাগ দেয়া ছিল আর লেখা ছিল Emergency Door. ওইটা কি?

 

ওইটা হইল প্লেন যদি কোন বিপদে পরে তাহলে অগুলা নিজে নিজেই খুইলা যায় আর যাত্রীরা যাতে নিরাপদে বের হয়া আস্তে পারে।

— এগুলা কি একটাই থাকে মামা ?

 

না না। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে একটা প্লেন এ যাত্রী সংখ্যার অনুপাতে Emergency Door থাকতে হয়। যাত্রী বেশি হলে Emergency Door  বেশি থাকবে। সে জন্য একটা Boeing 737-800 এর চেয়ে একটা Boeing 737-900 এ Emergency Door বেশি থাকে যদিও দুইটাই B737।

— এগুলা কি বল মামা? আমি ত ছোট একটা। এই সব হিবিজিবি বুঝি না তো।

 

বুঝে যাবা তো মামা। আমি আছি না? টু স্পয়েল ইউ 😀 যাই হোক, Fuselage এ আরো থাকে Toilet। তারপর থাকে প্লেন এর ক্রু দের কাজ এর জিনিশ, যাত্রীদের জন্য খাবার,কম্বল,ওষুধ ইত্যাদি রাখার যায়গা যেটার নাম হল Galley.

 

Fuselage নিয়া গল্প এইটুক ই। এর পর Wings আর Wings এ কি কি থাকে সেইটার আলাপ করব নে, আচ্ছা?

–ইয়েই। Wings । আচ্ছা মামা। বা বাই ।

 

বা বাই মিহি কলিজা টা ।

১১৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ২১ ২০১৫ । ১০.৫৮ পি.এম

ছোটদের প্লেন পরিচিতি – ৩

 

ও মিহি, আগের দিন আমরা কি কি শিখেছিলাম মনে আছে?

— মনে আছে তো প্যাক প্যাক মামা। আগের দিন শিখেছিলাম সব প্লেন দেখলেই তিনটা জিনিষ বাইর কইরা ফালানো যায়।

 

বাহ, গুড । বল তো তিনটা জিনিষ কি?

— Fuselage, Wings আর Tail। আর এই ছবিটা দেখেছিলাম

ওয়াও, ভেরি গুড। আজকে আমরা তাইলে আরেকটু ভিতরে ঢুকি?

— আমরা প্লেন এর ভিতরে ঢুকবো? উউউউউউ। তাহলে ওহিকেও নিয়ে আসি।

 

হি হি, আচ্ছা নিয়ে আসো। আমরা আসলেই আজকে প্লেন এর ভিতরে ঢুকব। মানে আজকে আমরা Fuselage এর ভিতরে ঢুকবো, আর দেখব Fuselage  এ কি কি থাকে।

— উফ। Fuselage এ কি কি থাকে মামা?

 

বলতেসি মিহি। তুমি আগে এই ছবি টা দ্যাখ।

— ওয়াও। কি সুন্দর লাল প্লেন।

 

 

হ্যাঁ। সাদা লাল। ডিসি টেন এর কালার স্কিম 🙂

— ডিসি টেন কি মামা?

 

ডিসি টেন আমার একটা প্রিয় প্লেন। তোমাকে আরেকদিন বলবো নে ডিসি টেন এর গল্প। আজকে শুধু Fuselage এর গল্প বলি।

— আচ্ছা বল। একদম প্রথম থেকে বলবা কিন্তু ?

 

প্রথম থেকে বলব তো মিহি বেবি। Fuselage এর একদম শুরু তে থাকে Cockpit. এইখানে পাইলট রা বসে।

— আর ককপিট এর জানালা থাকে আমি দেখেছি। আর ককপিট এর নিচে চাক্কা থাকে। চাক্কাটা প্লেন উড়ে গেলে ঠুশ করে ভিতরে ঢুকে যায়।

 

একদম ঠিক। ককপিট এর বাইরে যে জানালা থাকে সেটাকে বলে Windshield.

— Windshield তো আমাদের গাড়ির ও আছে মামা।

 

হ্যাঁ। উইন্ডশিল্ড যে কোন কিছু তেই থাকতে পারে তো। আর ককপিটের ভিতরে তুমি যদি দাঁড়াও আর Windshield এর দিকে মুখ করে দাঁড়াও তাহলে দেখবা যে দুই জন পাইলট বসে আছে। একজন বাম পাশে। একজন ডান পাশে।

— দুইজন পাইলট কেন মামা? আর দুইজন ই কি পাইলট? নাকি একজন পাইলট আর একজন তার ফ্রেন্ড?

 

নাহ। দুই জন ই পাইলট। প্লেন চালানো ব্যাপারটা কত ইম্পরট্যেন্ট ব্যাপার না? কত মানুষ, কত তাদের মালপত্র। কোন ভুল হলে বা একজন যদি অসুস্থ হয়ে যায় চালানোর সময় তাহলে কত অসুবিধা হবে না?

— হু হু। হবে তো। এই পাইলট দের কি বলে মামা? রোল ওয়ান আর না রোল টুঁ?

 

 

হি হি। না । তুমি যদি ককপিট এর ভিতরে Windshield এর দিকে মুখ করে দাড়াও, তাহলে বাম পাশের জন হল ক্যাপ্টেন, আর ডান পাশের জন হল কো পাইলট। কো পাইলট একজন ফার্স্ট অফিসার ও হতে পারেন আবার একজন ক্যাপ্টেন ও হতে পারেন। এইটা ডিপেন্ড করে কে কত সিনিয়র, কার পদবী কি তার উপর।

— ও বুঝসি। আর নিচের চাক্কা টা?

 

নিচের চাক্কাটা একটা Landing Gear মামা। ওইটার নাম Nose Gear

— Landing Gear, Nose Gear এগুলা কি প্যাক প্যাক মামা?

 

Landing Gear হল প্লেন এর সাথে লাগানো চাক্কা, যেগুলা প্লেন যখন মাটিতে থাকে তখন প্লেন যাতে চলা চল করতে পারে তখন কাজে লাগে।

— আচ্ছা প্যাক প্যাক মামা, এটা কে Landing Gear বলে কেন? প্লেন তো টেক অফ ও করে। Take Off Gear বলে না কেন?

 

ভাল কথা জিজ্ঞেস করসো তো। এইটার একটা ইতিহাস আছে। প্রথম প্রথম যখন প্লেন আবিষ্কার করার ট্রাই করতেসিল মানুষ, তখন তো ল্যান্ডিং গিয়ার বলতে কিছু ছিল না। ইনফ্যাক্ট রাইট ব্রাদারস দের প্লেন The Wright Flyer এও কোন ল্যান্ডিং গিয়ার ছিল না। কিন্তু মানুষ দেখলো যে প্লেন গুলা উঁচু কোন যায়গা, পানিতে ভাসা বড় নৌকা, ঢালু প্ল্যাটফরম ইত্যাদি থেকে টেক অফ করানো গেলেও নামার সময় মাটির সাথে লেগে Fuselage এর ক্ষতি হয়। তাই এক জন বুদ্ধি করে Fuselage এ চাক্কা লাগায় দিল আর নাম দিল Landing Gear. ব্যাস এর পর থেকে নাম হয়ে গেল Landing Gear.

— এখন বুঝতে পারসি মামা। তাইলে ককপিট এর নিচে থাকে একটা Landing Gear । আর Fuselage এর মাঝখানের জায়গায় মানে Wings এর কাছে থাকে আরো দুইটা ল্যান্ডিং গিয়ার?

 

 

এই তো বুঝতে পারসো। তাইলে আমরা বুঝলাম যে প্লেন এর ল্যান্ডিং গিয়ার দুই প্রকার। Under carriage আর Nose Gear । ককপিট এর নিচের চাক্কাটা কে বলে Nose Gear. ।. আর প্লেন এর মাঝা মাঝি পাখার কাছে যেটা থাকে সেটা কে বলে Under Carriage । কিছু প্লেন এ Under Carriage টা Wings এও লাগানো থাকে Fuselage এর ভার কে ব্যালেন্স করার জন্য।

— তুমি কত্ত কিসু বলে ফেলছো। আজকে আর এই গল্প শুনবো না মামা। সব ভুলে যাব নাহলে।

 

আচ্ছা ঠিক আসে। আজকে এইটুক ই থাক। শুধু বল যে আজকে আমরা কি কি শিখলাম?

— আজকে তো আমরা অনেক কিছু শিখলাম। Windshield, Cockpit, Captain, Co Pilot, First Officer, Nose Gear, Under Carriage আর Landing Gear

 

 

 

ভেরি গুড মিহি বাবুটা 🙂

১১৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ২০, ২০১৫ । ১১.০৩ পি.এম

ছোটদের প্লেন পরিচিতি – ২

 

আচ্ছা মিহি বলতো, একটা প্লেন এ কি কি থাকে?

— এটা তো সোজা। প্লেন এ তো লাইট থাকে, আনটিরা থাকে, আন্টিরা আমাকে ছবি আঁকার জন্য ক্রেয়ন দ্যায়, তারপর খেতে দ্যায়। আর মা থাকে, বাবা থাকে। তারপর জানালা থাকে জানালা। তারপর টয়লেট থাকে। মা বলছে এতবার টয়লেট এ গেলে পাইলট আংকেল বকা দিবে।

 

ঠিক। কিন্তু এগুলা তো প্লেন এর ভিতরে থাকে। প্লেন বাইরে থেকে কেমন আর প্লেন এর বাইরের কুনটাকে কি বলে তুমি জান?

— আমি তো জানি না প্যাক প্যাক মামা। আমাকে একটু শিখায় দিবা?

 

শিখাবো তো। এই দেখো জেট প্লেন এর বাইরে থেকে যা দেখা যায় সেগুলার নাম

— ইইইইই। এত কত হিবিজিবিজিবিজিবই। এগুলা  আমি শিখবো না। এগুলা কঠিন।

তুমি কি জান? আমি যখন প্রথম বার দেখসিলাম, তখনো মনে হইসিল এগুলা কেমনে মনে রাখবো, এত্ত কিছু? কিন্তু একটা জিনিষ বুঝতে কঠিন লাগলে কি করতে হয় জান?

 

— কি করতে হয় মামা?

তখন জিনিষ টাকে মনে করতে হয় অনেক গুলা ছোট ছোট জিনিষ দিয়া বানানো। তারপর ছোট ছোট জিনিষ গুলা শিখা শুরু করতে হয়। অগুলা তো ছোট, তাই শিখাও সহজ। এগুলা শিখা হইলে তারপর দেখবা এখন পুরা জিনিষটাই পারো। আর একটুও কঠিন লাগবে না তখন।

 

— আমরা কি প্লেন ও এইভাবে শিখবো মামা?

হ্যাঁ। আমরাও এই ভাবেই শিখবো তো। প্রথমে মুল জিনিষ টা শিখব, তারপর প্রত্যেকটার আলাদা আলাদা ডিটেইল শিখব।

 

— ডিটেইল মানে কি প্যাক প্যাক মামা?

ডিটেইল মানে হইল বেশি বেশি কথা। প্রথমে আমরা প্লেন নিয়া কম কম কথা শিখব। তারপর কম কম কথা ভাল ভাবে শিখা হইলে বেশি বেশি কথা শিখব , আচ্ছা?

 

— আচ্ছা। এখন আমাকে প্লেন শিখাও

শিখাবো। তুমি আগের ছবিটা দেখসিলানা?

 

— হ্যাঁ এ এ। ওই  যে হিবিজিবি হিবিজিবির মাঝখানে একটা কমলা কালার এর প্লেন।

ঠিক। ওই ছবিটাই। আমি ওইটা থেকে বেশি বেশি কথা গুলা বাদ দিয়ে দিসি আর কম কম কথা রাখসি। এখন দ্যাখ ছবিটা

 

 

— হ্যাঁ, এখন তো হিবিজিবি আর নাই। শুধু প্লেন টা আর তিনটা লেখা।

তুমি ঠিক বলেছ মিহি। তুমি ইংলিশ পড়তে পার? বলত এখন প্লেন টার চারদিকে কি কি লেখা

 

— আমি পড়তে পারি তো। এইখানে লেখা Fuselage, Wing আর আমমম Tail

ভেরি গুড মিহি। এই তো পেরেছ। একটা প্লেন এর এই তিনটা অংশ থাকবেই। তাই এই তিনটা অংশই প্লেন এর মুল অংশ বলা যায়। Fuselage, Wing আর Tail. বাকি যা আছে সব এই তিনটার সাথেই/ভিতরেই/নিচেই/উপরেই লাগানো হয়।

 

— ইয়েএএএই, আমি প্লেন এর তিনটা জিনিষ শিখে গেছি। Fuselage, Wing আর Tail।

তুমি তো গুড গার্ল , সে জন্য শিখে গেছো। আরেকদিন গল্প করার সময় আমরা এই তিনটা পার্ট নিয়া আলাদা আলাদা কথা বলব নে। এখন তুমি ঘুমায় যাও।

 

–আচ্ছা প্যাক প্যাক মামা, গুডনাইট

গুডনাইট মিহি বেবি।

১১২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ১৯, ২০১৫ । ৮.৩১ পি.এম

ছোটদের প্লেন পরিচিতি – ১

আচ্ছা মিহি, তোমার প্লেন ভাল্লাগে?
— লাগে তো পেক পেক মামা। আমরা তো অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার সময় প্লেন এ উঠেছিলাম

আমারো প্লেন অনেক ভাল্লাগে। তুমি প্লেন এ উঠে কি দেখেছো?
— জানালা দেখেছি। আর সিটবেল্ট বাধতে হয়, আর আন্টি টা আমাকে ক্রেয়ন দিয়েছিল আকতে।

বাহ। তুমি বড় হয়ে প্লেন চালাতে চাও?
— হুউউ। আমি তো পাইলট হব। আর প্লেন চালিয়ে বাংলাদেশে এসে পরবো

বা বা বা, খুব মজা হবে। তুমি প্লেন দেখেছো বাইরে থেকে?
— দেখেছি তো মামা। আমি আর অহি জানালার কাচটার কাছে গিয়েছিলাম আর দেখেছি তিন্টা প্লেন দাড়িয়েছিল।

আর প্লেন এর পাখা দেখেছো?
— হেএএ। দুইটা পাখা ছিল। এরকম এরকম *দুই হাত দুই দিকে ছরানো*

অফ তোমাকে তো একদম প্লেন এর মত দেখাচ্ছে মামা।
— ওয়াও, আমি প্লেন হয়ে গেছি?

হ্যা, হয়ে গেছো তো। এখন প্লেন এর মত দোউড় দিলেই উড়তে পারবা?
— প্লেন এর মত দোউড় দিলে কি হবে মামা?

তার আগে তুমি বলতো, প্লেন এর পাখা গুলা কি তোমার হাত এর মত গোল গোল নামি চেপ্টা চেপ্টা?
— গোল গোল না তো, পেন্সিল বক্স এর মত চেপ্টা চেপ্টা

ঠিক বলেছো মিহি। ইঞ্জিনিয়ার আংকেল রা আছে না, ওরা তো প্লেন বানানোর সময় এমন ভাবে বানিয়েছে যাতে এই পাখার উপরে বাতাস কম চাপ দ্যায় আর নিচে বেশি চাপ দ্যায়।
— পাখার নিচে বেশি চাপ দিলে কি হবে মামা?

এই দেখো দেখাই। তোমার হাত এর নিচে বেশি চাপ দিয়ে তোমাকে উপরে উঠিয়ে ফেল্লাম। আবার হাত এর উপর বেশি চাপ দিয়ে নিচে নামিয়ে ফেল্লাম।
— হি হি, আবার উঠাউ আবার

অরে এত শক্তি নাই রে, বুড়া হইতাসি না। তাইলে এখন তুমি বল, প্লেন এর পাখার নিচে বাতাস বেশি চাপ দিলে কি হবে?
— প্লেন উপরে এ এ উঠে যাবে

এইতো বুঝে গিয়েছো। গুড গার্ল। এই ভাবে পাখা বা Wings এর উপর বাতাস এর চাপ বা Wind Pressure এর কম বেশি করার কারনেই প্লেন উপরে উঠে আর নিচে নামে
— কিন্তু মামা, প্লেন তো সাম্নেও যায়। তখন কি করে?

কেন প্লেন এর চাক্কা আছে না? প্লেন এর ইঞ্জিন ঘুরে আর চাক্কা ঘুরে আর প্লেন সাম্নে যায়। :p
— কিন্তুউউ, আকাশে উঠে গেলে তো চাক্কা থাকেই না, তখন কিভাবে সামনে যায় মামা?

প্লেন এর Wings এর নিচে দুইটা গোল গোল ইঞ্জিন লাগানো দেখেছিলা?
— দেখেছি তোওওও। এক্টা প্লেন এ চারটাও লাগানো ছিল। ভিতরে ফ্যান এর মত। আর এক্টা প্লেন এর পাখার নিচে দুইটা আর লেজের কাছে এক্টা লাগানো ছিল। আর এক্টা প্লেন এ ফ্যান দুইটা দেখা যাচ্ছিল। আম্মু বলেছে অগুলার নাম প্রপেলার।

বাহ, ভেরি গুড মিহি। তোমার আম্মুর মাথা খারাপ হইলেও মানুষ ভাল দেখি। তুমি ঠিক দেখেছ। অগুলাই প্লেন এর ইঞ্জিন। কিছু দেখতে গোল গোল, ভিতরে ফ্যান এর মত। এগুলা কে বলে জেট ইঞ্জিন আর কিছু হইল প্রপেলার। এক এক প্লেন এ এক এক রকম ইঞ্জিন থাকে। কিছু প্লেন এ এক্টা প্রপেলার ইঞ্জিন থাকে, কিছু প্লেন এ দুইটা জেট ইঞ্জিন থাকে। কিছু প্লেন এ চারটা জেট ইঞ্জিন থাকে।
— ইঞ্জিন দিয়ে প্লেন কি করে মামা?

প্লেন করে কি চলার সময় অনেক জোরে জোরে ইঞ্জিন ঘুরায়। তাতে সাম্নের বাতাস টান দিয়া নিয়া আইসা ইঞ্জিন এর পিছন দিক দিয়া বাইর কইরা দ্যায়। নিউটন নামে এক্টা আনকেল এর কথা বলসিলাম মনে আছে?
— মনে আছে তো, আপেল খায় যে খালি

হি হি, আপেল খায় না তো। আচ্ছা যাই হোক উনি তো অনেক কিছু বলে গেছেন। এক নাম্বার, দুই নাম্বার এরকম অনেক কথা। তার মধ্যে তিন নাম্বার কথা হইল, উনি বলে গেছেন যে, তুমি যদি কিছু তে ধাক্কা দাও তাইলে উল্টা দিক থেইকাও এক্টা সমান ধাক্কা আসবে
— অই জন্যই তো অহি আমাকে মারলে আমিও অহি কে মারি। কিন্তু আমি তো আস্তে মারি। অহি তো আমার ছোট বোন, সে জন্য

সবাই তো তোমার মত লক্ষী মেয়ে না মিহি। প্লেন এর ইঞ্জিন ও না। আর বাতাস ও তোমার মত লক্ষী না। সে জন্য বাতাস যখন অনেক জোরে ইঞ্জিন এর পিছন দিক দিয়া বের হয় তখন সে সমান সমান ধাক্কা ইঞ্জিন কেও দ্যায়। আর ইঞ্জিন তো প্লেন এর সাথে লাগানোই। তাই প্লেন ও সাম্নের দিকে আগায়।
— উহু প্লেন ও লক্ষী তো। আমি আর প্লেন দুইজন ই লক্ষী আচ্ছা?

আচ্ছা। মিহি আর প্লেন আর দুইজন ই লক্ষী। তো এই লক্ষী প্লেনটাকে প্লেন এর ইঞ্জিন রানওয়ের উপর দিয়ে দৌড়ায় দৌড়ায় নিয়ে যায়। এক্টু আগে বলসিনা যে প্লেন এর পাখা ইঞ্জিনিয়ার আংকেল রা এমন ভাবে বানায় যাতে পাখার উপরে বেশি জায়গা আর নিচে কম জায়গা জাইতে হয় বাতাস কে। আর উপরের বাতাস আর নিচের বাতাস গিয়া মিলে পাখার পিছনে। এইটার কারনে পাখার নিচে বাতাসের চাপ বারতে থাকে আর একসময় এই ধাক্কাই প্লেন কে বাতাসে উঠায় ফালায়।
— ইয়েএএএই প্লেন টা উড়ে এ এ গেলোওওও

আজকে এই টুকুই আচ্ছা? প্লেন এর বাকি গল্প আরেকদিন করব নে?
— আচ্ছা পেক পেক মা মা, বাই বাই, লাভিউ মামা।

লাভ ইউ টু বাচ্চাটা 🙂