১৩১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুলাই ৮, ২০১৫ । ১১.০৮ পি.এম

সকাল ৮.৪৫ এ বাংলাদেশ বিমান এর একটা ফ্লাইট থাকে। ঢাকা-সিঙ্গাপুর। বোয়িং ৭৩৭-৮০০। টেক অফ এর ডিলে এর কারণে এই টা ছারতে ছারতে নয়টা ই বাজে সাধারণত। কিংবা ৯ টা বাজার পাঁচ দশ মিনিট আগে টেক অফ করে। বিমান এর যেই দুইজন এর পাইলট এর সাথে পরিচয় আছে তাদের মধ্যে হলেন আহসান স্যার (যদিও উনি বলসে উনাকে আহসান ভাই/জয় ভাই ডাকতে)। উনি এই বোয়িং ৭৩৭ এর ক্যাপ্টেন।

উনি জানেন না উনার সাথে আমি প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার সময় একটা রেস খেলি। খেলাটা হইল, যদি বসুন্ধরার গেট এ পৌঁছানোর আগে এই পারটিকুলার ফ্লাইট এর বোয়িং ৭৩৭ টা আমারে ক্রস করে তাইলে আমি বুঝি যে আমি লেট। আর যদি আমি আগে বসুন্ধরার গেট এ পৌছাই তার মানে আমি আর্লি। বেশির ভাগ সময় ই উনি আমারে বিট করে। কারন আমি যেই আইলশা। দেখা যায় বারিধারার রাস্তায় আসি তখন উনি আমার মাথার উপরে ব্যাংকিং রাইট (মানে আকাশে ডাইনে মোর লইতাসে)। আমি তখন মনে মনে বলি , গুড ফ্লাইং আহসান স্যার, হ্যাপি ল্যান্ডিং। আর যদি আমি বসুন্ধরার গেট দিয়া ঢুকার সময় দেখি উনার ফ্লাইট বিশাল ভাব সাব নিয়া দুই হাত দুই দিকে ছড়াইয়া টেক অফ এর পর ক্লাইম্বিং আপ, তাইলে আমি কল্পনা কইরা লই উনি ককপিট এর জানালা দিয়া আমার দিকে থাম্বস আপ দেখাইতাসে। আর আমি বিগলিত হাসি দিয়া মনে মনে কই, না ইয়ে মানে, একটু আগে আইসা পরসি ভাইয়া। কালকে শিওর আপনে আগে ক্রস করবেন আমারে।

দুই হাত দুই দিকে ছড়াইয়া উঠার কথা বললাম না? এই টা আমার সব উইংলেট ওয়ালা প্লেন দেখলেই মনে হয়। উইংলেট হইলে পেলেন এর পাংখার শেষ মাথায় পাংখাডা যে উপরের দিকে উক্টু উঠানি থাকে অইডা। উইংলেট এর কারণে পাঙ্খার মাথায় যেই ভোরটেক্স বা ঘূর্ণি তৈরি হয় সেইটা উইংলেট এ বারিই খাইয়া পাঙ্খার নিচের দিকে যায়। তাই কিছুটা এক্সট্রা লিফট পাওয়া যায়। মানে পেলেট সহজেই বেশি উচ্চতায় উঠতে পারে কম ফুয়েল খরচ কইরা। তাতে পেলেন এর ফুয়েল এফিসিয়েন্সি বাড়ে। আর ফুয়েল এফিসিয়েন্সি বাইরা যাওয়া মানে কি? ফুয়েল এফিসিয়েন্সি বাইড়া যাওয়া মানে হইল আগে এতটুক উচ্চতায় উঠতে যেই তেল খরচ হইত, তার চেয়ে কম খরচ হয়। কারণ বাতাস উইংলেট এর কারণে পেলেন রে ঠেইল্লা উপরে উঠায় দ্যায়। আর এই বাইচা যাওয়া ফুয়েল খরচ কইরা পেলেন আরেক্টূ বেশি দূরে যাইতে পারে। অর্থাৎ পেলেন এর রেঞ্জ বাড়ে।

তইলে বলা যাইতে পারে যে, উইংলেট এর কারণে পেলেন এর লিফট এবং ফুয়েল এফিসিয়েন্সি বাড়ে।

বিভিন্ন কোম্পানির উইংলেট বিভিন্ন রকম হয়। উইং লেট একটা উইংটিপ ডিভাইস। এয়ার বাস যখন তাদের থ্রি টুইয়েনটি গুলাতে উইংলেট লাগানি শুরু করল, তখন তার নাম দিল শারকলেট। প্লেন এর ছবি দেখার সময় একটু খেয়াল কইরা দেখলেই লক্ষ করা যাবে এক এক এয়ারক্র্যাফট এ উইঙটিপ ডিভাইস এর ডিজাইন এক এক রকম। কোন কোণটাতে নাই ই।

ঘুম আইতাসে । আজকে এতটুক ই থাক।

 

১৩০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুলাই ৭, ২০১৫ । ১০.৪৫ পি.এম

 

নামাজ পড়া নিয়া ইশকুল লাইফের দুইটা ঘটনার কথা বলি। আফটার ইফতারি যেই হ্যাং হওয়া পিরিয়ড টা যায় ওই সময় ঝিমাইতে ঝিমাইতে মনে হইসে হঠাত । এখন না লিখা রাখলে ভুইলা যামু গা পরে।

মতিঝিল আইডিয়াল ইশকুলে পড়ার সময় আমাদের যোহর এর নামাজ ইশকুলে পরতে হইত। দুপুর ১ টা বাজে হইত টিফিন+নামাজ পিরিয়ড। দশ মিনিট টিফিনের জন্য আর পঞ্চাশ মিনিট নামাজের জন্য। নামাজে যাওয়া সবার জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। এক জন অনেক কড়া স্যার ছিল যিনি কিনা রেন্ডমলি কোণ কোন দিন নামাজের সময় সব ক্লাসরুমে গিয়া গিয়া এমনকি বাত্রুমে গিয়া গিয়া চেক করত কেউ ফাকি মারার জন্য ক্লাস এ থাইকা গেসে কিনা। কাউরে পাইরে তার খবর ছিল। সারা স্কুল জানতো যে এই পোলা আজকে নামাজে যায় নাই। পিটানি তো খাইতই। রইদের মধ্যে মাঠে নীল ডাউন করায়া রাখতো। আমরা সবাই নামাজ থিকা ফিরতাম আর করুন চোখে ( তখন আসলে করুন চোখ আসিল না, হে হে ধরা খাইসে টাইপ চোখ আসিল) তাকায় থাকতাম।

আমরা তখন মাত্র ক্লাস ফোর এ উঠসি। ডে শিফট এ আইসা অনেক থতমত অবস্থা। বড় ভাই দের গরুর মত মাইর খাইতে দেইখা পুরাই আতঙ্কে থাকতাম কুন সময় না জানি মাইর খাই । এমন এক টাইম এ একদিন নামাজ এ গেসি। আমাদের মধ্যে একজন যায় নাই। কপাল এমন ই ওই দিন ই ওই স্যার সার্চ করতে আইসে রুম। ও ভয়ে বেঞ্চ এর নিচে মাথা দিয়া লুকাইসিল। কিন্তু মোটূর পাসা যে বাইর হয়া রইসে পুরাটাই ওই টা খেয়াল করে নাই। স্যার আইসা ওরে প্যান্ট ধইরা টাইন্যা বাইর করসে।

বেচারা ভয়ে আধমরা। স্যার ওর অবস্থা দেইখা মারে নাই। কিছুখন ধমক ধামক দিসে তারপর ওরে হেদায়েত করা শুরু করসে। নামাজের ফজিলত, নামাজ না পরার শাস্তি ইত্যাদি নিয়া এক ঘণ্টা ধইরা বিশাল লেকচার। তারপর শেষ মেশ বলসে ঠিকাসে তাইলে কালকে থেইকা ইনশাল্লাহ তুই সময় মত নামাজে যাবি। মোটু এতক্ষণ ভয়ে সিটকায় আসিল। যখন বুঝসে স্যার এর যাওয়ার টাইম হইসে, আস্তে কইরা মিন মিন কইরা বলসে, “কিন্তু স্যার…… আমি তো হিন্দু” ।

২য় ঘটনা হইসে নামাজ থেইকা ফেরার সময় একদিন। যোহর এর চার রাকাত ফরয নামাজের পর দুই রাকাত সুন্নত নামাজ থাকে। আর এই সুন্নত নামাজ থেইকাই পোলাপান এর মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হইত কে কত তারাতারি নামাজ শেষ কইরা দৌড় দিয়া ক্লাস এ আস্তে পারবে। ততক্ষণে স্যার রাও একটু রিলেক্সড হইত যে নামাজ তো শেষ ই, আর কি? কিন্তু আমাদের তো তখন সব কিছু তেই দৌড় দেওয়ার অভ্যাস। ওই দুই রাকাত নামাজ শেষ হইতে দেরি হইলে মসজিদের গেট এ বিশাল কিউ এর পিছে দাঁড়াইতে হবে। তাই যত তারাতারি নামাজ শেষ কইরা দৌর দেওয়া যায় তত বেশি আগে আগে ক্লাস এ পৌঁছানর সম্ভাবিলিটি বারে আরকি। নট দ্যাট আমরা ক্লাস কে খুব ভালবাসতাম। ইট ওয়াজ অল এবাউট আমার পাশের পোলা জাতে আমার আগে না যাইতে পারে। তাই দৌর দৌড়।

ক্লাস নাইন এ পড়ার সময় আমাদের ক্লাস এর একটা পোলা ছিল যে অলওয়েজ ফাস্ট হইত। ক্লাস এর ফারস্ট না। নামাজ থিকা দৌড় দিয়া ক্লাস এ আসনের বেলায় ফার্স্ট। মনে রাখতে হবে যে আমাগো সময় ক্লাস নাইন এর পোলাপাইন এখন কার ক্লাস নাইন এর পোলাপান এর মত অলরেডি লাভ, সেক্স নিয়া অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পোলাপান ছিল না। আমরা লেম ছিলাম আর ঐটাই আমাদের ওয়ে অফ হেভিং ফান ছিল।

যাই হোক ওই পোলার নামাজ পরা ছিল একটা দেখার মত জিনিষ।মনে হইত কেউ একজন ফাস্ট ফরোয়ার্ড বাটন টিপ দিয়া দিসে। ঠুস ঠাস ঠুস আর নামাজ শেষ । এরপর দৌড় দিয়া ক্লাস এ। আমার একদিন খুব ইচ্ছা হইল, আমার ব্যাপারটা কি জানতেই হইব। ওরে গিয়া কইলাম, দোস্ত, তুই এত তারাতারি নামাজ পরস কেমনে? রহস্যটা কি?

দোস্ত আমারে হাসি মুখে কইল, বীজ গণিত পরছত? আমি কইলাম পরছিত। দোস্ত জিগাইল, ধরি x, y, z এগুলা পরছত? আমি পুরাই লস্ট। জিগাইতে আইলাম নামাজ এর কথা। হে দেখি অঙ্ক শিখায়। মুখে কইলাম, হ পরছিত। ক্যারে?

দোস্ত কইল, হুন, আমি নামাজে দাঁড়াইয়া কই x y. তারপর রুকু সিজদা শেষ কইরা আবার উইঠা কই x, z. তারপর রুকু সিজদা দিয়া বইসা কই A B C. তারপর সালাম ফিরাইয়া দৌর দেই। তারপর ক্লাস এ আয়া কই, হে আল্লাহ, x মানে সুরা ফাতিহা, y মানে কুল হু আল্লাহ। A মানে আত্তা হিয়াতু, C মানে দুয়া মাসুরা। তুমি তো সব বুঝই আল্লাহ। এইটাও একটু বুইঝাঁ নিও।

আল্লাহ মাফ করুক। ওই দোস্ত এর লগে এখন আর যুগাযুগ নাই। হে এহনো এমনে নামাজ পরে কিনা কে জানে।

১২৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুলাই ৬, ২০১৫ । ১১.০৬ পি.এম

 

রমজান মাসের কেলেন্ডার এ দশ দিন দশ দিন কইরা ভাগ করা থাকে দেখসি। রহমতের দশ দিন, নাজাত এর দশ দিন এমন। কিন্তু যেই টা উল্লেখ থাকে না সেইটা হইল পনেরো রোজার পর শুরু হয় তারাহুরার ১৫ দিন।

এই সময় সবার হঠাত মনে হয় কাম সারসে রুজা তো শেষ হয়া যাইতাসে, কিছু তো খাইলাম ই না ঠিক মত। শুরু হয় ইফতার এর দাওয়াত পাওয়ার হিড়িক। ইফতার এ কাভার করতে না পারলে সেহরি দিয়া ব্যাকআপ দেওয়া। আজকে অমুক গ্রুপ এর দাওয়াত তো কালকে অমুক এর বাসায় দাওয়াত। আমার যেমন এই পুরা সপ্তাডা যাইবো দাওয়াত এ আর দাওয়াত এ। আমার দাওয়াত পাইলে ভাল্লাগে। যে কোন ব্যাচেলর এর ই ভালাল্গে। এক বেলা খাওয়ার চিন্তা দূর হয়। ইয়েই।

আবার এই সময় আইসা সবার মনে হইসে, আর তো বেশি দিন নাই, ঈদ আয়া পরসে। কিছুই তো কিনলাম না এখনো। আয় হায়। পেনিক , পেনিক। টু দা শপিং সেন্টারস, রবিন। সবাই মিলা দৌড়াইতে থাকা মার্কেট গুলার দিকে। ফলাফল শহর জুইরা তীব্র যানজট। এই অবস্থা ঈদ পর্যন্ত থাকবে। লেট এভ্রিওয়ান নো যে আমাদের আজকে থেইকা সব জাইয়গায় পৌছাইতে দেরি হবে। ফিরা আস্তেও দেরি হবে। চুরি ছিনতাই বাড়বে। সি এন জি রিকশা ওয়ালারা অবিশ্বাস্য ভাড়া চাবে। তবু আমরা হাসি মুখে অপেখখা করব ঈদ মুবারক এর।

ঈদ আসলে ভাবব ও আচ্ছা, আজকে ঈদ? এখন কি করুম? নাচুম? আমার মনে হয়, রমযান আর ঈদ রে আমরা একটা ওভার রেটেড জিনিষ বানায় ফেলসি। ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ এই বেপারটা কেমন একটা এক্সট্রা প্রেশার ক্রিয়েট করে মন এর উপর। ঈদ মানে সারাদিন ঘুম, ঈদ মানে বিরক্তিকর ব্যাপার, ঈদ মানে সবার উপর হুদাই একটা খরচের প্রেশার এই ধরনের গান টান বাজারে আসা দরকার।

নিজেরে একটা গ্রাম্পি ওল্ড ম্যান মনে হইতাসে। ঈদ আর রামাদান এর স্পিরিট টা ঠিক নিতে পারতাসি না ভিতরে।

আমি রেডিসন থিকা বাসায় ফিরা ঘুমায় গেসিলাম। একটু আগে উঠসি। আবার ঘুমায় যাবো। মাঝখানের এই থমকে থাকা সময় টায় কি নিয়া নোট লিখবো এইটা নিয়া প্যানিক করতাসিলাম। তারপর নিজেরে বুঝাইসি দ্যাখ ইথার, ইটস নট এ শো ইউ আর ডুইং হেয়ার। ইটস লাইক একটা কলম আর একটা কাগজ নিয়া বইসা থাকা। কাগজে একটা কবিতাও লেখা হইতে পারে, কাগজে কলম দিয়া ঘসা ঘসি কইরা কলম এর নিব চালু করার মত দাগাদাগি ও হইতে পারে ।

১২৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুলাই ৫, ২০১৫ । ১০.৫১ পি.এম

 

পাঠশালায় পড়ার সময় ডকুমেন্টরি ফটোগ্রাফি ক্লাস এ আমাকে সুমন ভাই একটা এসাইন্মেন্ট দিসিলেন। বিষয় “কনজিউমারিজম”। এই বিষয়ে একটা লেখা জমা দিতে হবে যে কনজিউমারিজম বলতে আমি কি বুঝি আর বারো টা ছবির একটা ফটো এসে জমা দিতে হবে যা দেইখা বুঝা যাবে ও আচ্ছা আচ্ছা বুঝতে পারসি ফটোগ্রাফার কি বুঝসে কনজিউমারিজম নিয়া।

আমি জীবনে ওই প্রথম বার Consumerism শব্দটা শুনি। কি আজিব শব্দ রে বাবা । মনে হয় ঢং কইরা কাস্টমার রে কনজিউমার কইতাসে আর লগে একটা ইজম লাগায় দিসে বেপারটা রে আরো কডিন বানানির লাইগা। ক্যান এইডারে নাম কনজিউমারিজম? ক্যান কাস্টমারিজম না? ব্যাপার টা আসলে কি? এইডা তো আগে বুঝতে হইব। নাইলে লিখুম কি। আর ভিজুয়াল চিন্তা করুম কি। আর ছবি তুলুম কি।

টেনশন এ আমার যা হয়, আমি ডিপ্রেসড হয়া গেলাম। ফেরদৌস অনেক বুঝায় সুঝায় লাইন এ রাখলো। অন্য সবার থেইকা আমার পাঠশালার লাইফ টা একটু আলাদা ছিল। সবাই রাতের বেলা চিন্তা করত, দিনের বেলা ছবি তুলত। আমি ৫টা পর্যন্ত অফিস কইরা পাঠশালায় দৌড়াইতাম সপ্তাহে ৩ দিন। রাত ১০ টা পর্যন্ত ক্লাস কইরা আবার ফেরত আইতাম বাসাবো নাইলে বসুন্ধরা। বাকি ৩ দিন অফিসের পর ছবি তুলতে বাইর হইতাম সন্ধ্যা বেলা। একটা Canon 450D ক্যামেরা আর একটা 18-55 লেন্স। তাও আবার 18 mm এ টেপ মাইরা আটকানো। কারন এসাইন্মেন্ট এর নিয়ম ছিল সব ছবি একটা ফোকাল লেংথ এ তুলতে হবে। আমি 18 mm বাইছা নিসিলাম। ISO 800 এর বেশি তূলা মানে সুইসাইড করা। তাই হাত অনেক স্টেবল কইরা তুলতে হইত ফটো। আল্লাহর রহমতে অই প্র্যাকটিস টার কারণে এখন আমার হাত 1/10 পর্যন্ত স্টেবল থাকে। অবশ্য আরো কিছু টেকনিক আছে হাত স্টেবল করার। কিন্তু সেইটা অন্য ডিসকাশন। কনজিউমারিজম এ ফেরত আসি।

এসাইন্মেন্ট এর ডিপ্রেশন কাটাইতে রিসার্চ এর কোন বিকল্প নাই। তাই কনজিউমারিজম নিয়া রিসার্চ শুরু করলাম। পড়তে পড়তে মাথা মুথা গিট্টু লাইগা গেল। এই একটা কনসেপ্ট এর যে কত রকম এর সংজ্ঞা আছে। থ্যাঙ্ক গড যে সুমন ভাই এসাইন্মেন্ট দিসিল যে কনজিউমারিজম বলতে আমি কি বুঝি? নট ডেফিনেশন কি বলে।

কনজিউমারিজম বলতে আমি যেইটা বুঝসি সেইটা হইল মানুষের চাহিদা কে পুঁজি কইরা মানুষের অজান্তেই মানুষ কে উচ্চ মাত্রায় ভোগ এর দিকে নিয়া যাওয়ার নাম কনজিউমারিজম। এইখানে মানুষ মনে করে তার জীবন যাত্রার উন্নতির জন্য তার এইটা লাগবেই। যেমন কনজিউমারিজম আমাদের শিখায় খালি দুধ খাইলে হইব না, দুধ এর শক্তি বাড়াইতে হরলিক্স খাইতে হইব (যদিও আমার মনে হইসে, গরুরে হরলিক্স খাওয়ায় দিলেই তো হয়)। তারপর আবার এল সি ডি টিভি ই যেখানে আমরা ঠিক মত ভোগ কইরা শেষ করতে পারি নাই সেখানে এল ই ডি , থ্রিডি, ইন্টারনেট ওয়ালা টিভি আইসা পরসে। দ্যাটস কনজিউমারিজম। কনজিউমারিজম এ জীবন ধারণের জন্য অত্যাবশ্যক না এরকম অনেক জিনিষ আমাদের মাথায় এমন ভাবে ঢুকায় দেওয়া হয় যে আমাদের মনে হয় এইটা ছাড়া আমরা এতদিন কেমনে থাকসি?

কনজিউমারিজম এর শুরু টা হইসিল আসলে অন্য রকম ভাবে। পুঁজিবাদ বা ক্যাপিটালিজম এর মুল কথা হইল, যেমনেই হউক, লাভ করতে হইব আর বেশি কইরা করতে হইব। এই লাভ বারানির জন্য যা যা করন দরকার সব করতে হইব। সাবান দিয়াই আমাদের চলতাসিল, হঠাত আইলও হালাল সাবান আর মার্কেট এ তোলপাড় পইড়া গেল। কালা হউনের আফসুস এর পুঁজি কইরা আমাদের দেখানো হইল কিরিম মাইখা লুকজন ফরসা হয়া যাইতাসে, বডি স্প্রে মাইখা মাইয়া পটাইয়া লাইতাসে, এই ডিটারজেন্ট মাইখা কাপড় ধুইলে ডাস্টবিন এ থাকলেও শইল্লে গন্ধ হয় না ইত্যাদি ইত্যাদি।

পুঁজিবাদী সমাজ দেখলো তার যদি কনজিউমার রে দেখায় তারা কনজিউমার এর খুব কেয়ার করে, তাগো চিন্তায় ওগো রাইতে ঘুম ই হয়না, তাইলে কনজিউমার রা তাদের আরো বেশি ট্রাস্ট করবে। আর ওয়ান্স ইউ উইন দা ট্রাস্ট, অদের যা ইচ্ছা গিলানো যায়। তাই এই সব কোম্পানির প্রত্যক্ষ মদদে শুরু হইল কনজিউমারিজম মুভমেন্ট। ভোঁটকা অধিকার থুক্কু ভোক্তা অধিকার, আই এস ও স্ট্যান্ডার্ড এ প্রস্তুতক্রত মালালাল, ডেন্টাল এসোসিয়েশন দারা স্বীকৃত এই সব ভককর চককর। কনজিউমার রা ভাবল উই আর ইন সেফ হ্যান্ড আর তাদের কনজামশন এর পরিমাণ বারলো আর কনজিউমারিজম এর সংজ্ঞাই পালটাইয়া হয়া গেল the selfish and frivolous collecting of products [সংজ্ঞার সূত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/Consumerism]

১২৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুলাই ৪, ২০১৫ । ১১.৫৫ পি.এম

 

আমার একটা বড় নোট লেখার কথা ছিল। কিন্তু গত দুই ঘন্টা ধইরা আমাদের কারেন্ট নাই আর কখন আসবে তাও জানিনা। তাই মোবাইলেই নোট লেখা শুরু করসি।

আজকে আমরা একটা কাজ করসি। আজকে আমরা ভইন দা পেইন কেংগারু খামারি মইম্যা রে ঈদ পাঠাইসি পেকেট কইরা। আম্মা কয়দিন ধইরা ভাগ্নি গুলার জন্য মেচিং মেচিং জামা কিন্সে, দুলাভাই এর জন্য পাঞ্জাবি কিন্সে, মইম্যার জন্য পাপুশ, প্লাস্টিকের বাটিবুটি, টেবিল ক্লথ, পরদার কাপর কিন্সে। এইসব হাবি জাবি নিয়া আমরা গুলশান গেসিলাম ডি এইচ এল এর অফিসে। আমার কাসে ডি এইচ এল এর অপিশ ভাল্লাগসে। ইয়াব্বড় একটা ছবি আসে, পেলেন অলা। কত গুলা বোয়িং সেভেন ফাইভ সেভেন দাড়ায়া আসে।

মজা হইসে আম্রা ডি এইচ এল অফিসে গেসি সপরিবারে। আমি, বাবা,আম্মা আর বড়মামা। দুই সি এন জি ভরতি কইরা গেসি। বাড়ির মেয়ের দেশের বাইরে প্রথম ঈদ। আর তার জন্য পাঠানো হইতাসে ঈদ এর জামা। এইটা তো এক্টা উৎসব এর ব্যাপার। ডি এইচ এল এর লোক্টা হেভি মজা পাইসে এরম দলবল নিয়া গেসি দেইখা। আর যেখানে আমার আম্মা আছে সেইখানে ফ্রেন্ডশীপ আছে।

আমার আম্মা যেইখানেই যায় ফ্রেন্ড বানায় ফালায়। এই যে বাসাবো থেইকা সি এন জি দিয়া গুলশান ১ অফিস গেলাম, ওই অফিস টা বন্ধ থাকায় আবার গুলশান ২ অফিস গেলাম, তারপর টেক্সি দিয়া বাসাবো আইসা পড়লাম, এইটুক এর মধ্যে উনি সি এন জি অলা, ডি এইচ এল এর দুই অফিসের সিকিউরিটি গার্ড, মেনেজার এবং টেক্সি ক্যাব অলার সাথে বিশাল খাতির কইরা ফালাইসেন। সবাইকে বাবা কি নাম তোমার, বাসা কই, দেশের বাড়ি কই, কয় ভাই বোন, ঈদ কই করবা জিজ্ঞেস করা শেষ। আর উনি ডি এইচ এল এর ম্যানেজার রে জিজ্ঞেস করসে ডি এইচ এল এর পুরা ফরম কি? ম্যানেজার বলাতে আমি জীবনে প্রথম বার এর মত জানতে পারসি, DHL are the initials of the company’s founders Adrian Dalsey, Larry Hillblom and Robert Lynn.

এই মহিলা আনবিলিভেবল। আমি চাই উনার উপর রাগ করতে অনেক। কিন্তু দিন শেষে সারাজীবন মনে হয় আমিই ভুল, উনি ঠিক। আমার এই রকম দুর্বল মন এর অধিকারি হউনের পিছনে উনার বিশাল অবদান আছে। বেরাইতে আসা শয়তান পুলাপান যখন আমার কমিক্স ছিরত আর খেলনা দুই টুক্রা করতো তখন আমি আম্মার দিকে তাকাইতাম। এক্টা ইশারা পাইলেই অগোরে পারামু ফ্লোর এ ফালায়া। কিন্তু আম্মা বলত, থাক ওরা বেরাইতে আসছে। গজ গজ করতে মনে মনে ভাবতাম, খারা, তগো বাসায় যামু না? তখন সব কিছুর পরতিশোধ লমু।

অবশেষে আসতো সেই প্রতিক্ষিত মুহুরত। অদের বাসায় যাইতাম বেরাইতে। যখন টারগেট সেট কইরা ঝাপায় পরতে যামু অদের খেলনার উপর, ঠিক তখনি আমার ইন্টেনশন বুঝতে পাইরা দৈববাণী এর মত আম্মাবানী হইত, ” না ইথার, আমরা বেড়াইতে আসছি”.

এ কেমুন ইনঝাস্টিস 🙁

 

১২৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুলাই ৩, ২০১৫ । ১০.৪৩ পি.এম

 

জন্মদিন ব্যাপারটা কেমন অদ্ভুত না? আজকে এত মানুষের উইশ পাইসি, এএএততত মানুষের উইশ পাইসি যে আমি ঠিক জানি না আমি সবার পোস্ট এর রিপ্লাই দিতে পারবো কিনা। কিন্তু আমার ইচ্ছা আমি সবাইকে জবাব দিব। একটা মানুষ তার টাইম থেইকা একটা আলাদা টাইম বাইর কইরা আমারে উইশ করসে। উইশ করার সময়টা সে ভাবসে আমার কথা। এইটা আমার কাছে অনেক বড় একটা ব্যাপার। তার কিছুটাও তারে ফেরত দিতে না পারলে আমার কেমন অপরাধী অপরাধী লাগতাসে।

আজকে দিন টা ভাল গেসে। আলহামদুলিল্লাহ। এক মাস আগে থেইকা ঠিক হইসিল যে ডেমিয়েন থরন ওরফে তামিম্বাই সারপ্রাইজ দিতে ঢাকা আইসা পর্বে আজকে। আর কেউ জানতো না। খালি আমি আর ফায়েক জানতাম। আমরা উনারে আনতে গেসিলাম এয়ারপোর্ট এ। এয়ারপোর্ট এ পৌছায় দেখি আমাদের হাতে দুই ঘণ্টার মত টাইম আসে। তাই আমরা সময় কাটাইতে উত্তরা গেসিলাম। জর্জেস ক্যাফে দেহি বন্ধ। তাই বিনস এন্ড এরোমা তে গেসিলাম। ওই খানে বইসি , ফায়েক বিভিন্ন “জিনিষ” দেখতাসে এমন সময় হঠাত দেখি ওয়েটার পেলেট এ কইরা দুইডা ব্লু বেরি চিজ কেক লয়া আসল। হেইডাতে আবার মুম্বাতি লাগানি। দুইডা মরদ পোলা রাইত বারোটা বাজে কফি শপ এ কিউট দেখতে চিজ কেক এ মুম্বাতি লাগাইয়া জন্মদিন পালন করতাসে, আবার জার জন্মদিন সে লজ্জ্যায় মুচরা মুচড়ি করতাছে, ব্যাপারটা এত এলজিবিটি । আমরা দুই জন ই নিজ নিজ মোবাইলে মনোযোগ দিয়া চিজ কেক আর মোকা খাইয়া দউর দিলাম এয়ারপোর্ট এ।

এয়ারপোরট এ তেমন উল্ল্যেখযোগ্য কিছু হয় নাই। একসেপ্ট আমরা একটা নাদুস নুদুস ফ্লাফি কালা বিড়াল দেখসি। আমি ওর কাছে বইসা অনেক খন চুক চুক কইরা ডাকসি কিন্তু আমারে বেশি পাত্তা পুত্তা দ্যায় নাই। একটু পরে তামিম ভাই ল্যান্ড করসে আর কাচের মধ্যে দিয়া দুউউর এ উনারে দেখতে পায়া আমাগো আহ্লাদ এর সীমা আসিল না। আমার হাত নারানি, পাও নারানি, আর ফায়েক আরো যা যা নাড়াইতে পারে সব নাড়াইয়া তামিম্বাই এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা গেল। উনার সাইজ দেইখা খাইশটমস এর লুকজন বেশি কিছু করতে সাহস পায় নাই। তাই তাড়াতাড়ি বাইর হয়া আয়া পরসে। আর আইতেই জাব্রা জাব্রি।

উনারে লওয়া উনার বাসায় আইলাম। তখন সেহরির টাইম। ভাবি ঘুমাইতাসিল। তামিম্বাই গিয়া ডাকসে আর ভাবি উইঠা একবার উনারে দেইখা ও আচ্ছা মুখ কইরা আবার ঘুমায় গেসে। আমরা তো হতাশ। এত প্ল্যান আর এই রিয়েকশন। হতাশ মুখে বাইরে আইসি রুম এর। এমন সময় ভাবি দৌড়াইতে দৌড়াইতে আইসা তামিম ভাই এর দিকে হা কইরা তাকায় রইসে। তুমি সত্যি আসছো? সত্যি? আর কি কান্না টা শুরু করলো তখন। আহা। খাইতে বইসাও উনার কান্না আস্তাসিল আর সারপ্রাইজ এর কথা মনে কইরা আবার হাইসা দিতাসিল।

এর চেয়ে সুন্দর ভাবে একটা জন্মদিন শুরু হইতে পারে? আমি ভাবসিলাম এই টাই শেষ। কিন্তু আল্লাহ ভাবসে অন্য কিছু। সেহরি খাইয়া ঘুমায় টুমায় উঠসি সাড়ে নয়টার দিকে। দেখি পিপলস রেডিও এর এক আর জে ভাই নক দিসে। বলে ভাই, একটু রেডিও টা ছাড়বেন। আমি সিউর বইলা ছাড়লাম, আর তব্দা খাইয়া গেলাম। উনি তখন শো করতাসিল আর আমার সম্পর্কে প্রায় পাঁচ মিনিট এর একটা বক্তিতা দিয়া আমারে ডেডিকেট কইরা একটা গান ছাড়ল, “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে”। ব্যাপক চমকাইসি।

আরেকটু পরে আইসা টিয়ারা উইশ করল। তামিম ভাই উকুলেলে নিয়া আসলো। আমরা অল্প একটু গান বাজনা করলাম। তারপর বাসাবো আইসা পরসি। আর এই লেখার সময় যেখানে অর্ধেক শুইয়া আসি, সেই একি জায়গায় ইফতারির সময় টা বাদে কাটায় দিসি দিনের বাকিটা।

ফেসবুকে, মোবাইলে টেক্সট কইরা, ফোন কইরা যারা উইশ করসেন তাদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা আমারে মনে করার জন্য। সবাই এত ভাল ভাল কথা লিখসেন যে এখন ভয় লাগে হোয়াট ইফ আই ক্যান্ট মিট অল দ্বিজ একসপেক্টেশান্স? হোয়াট ইফ ওয়ান ফাইন মর্নিং সবাই রিয়ালাইজ করে ইটস অল ফেক? আমি আসলে তেমন কিছু পারি না।

তারপর মনে হইসে, হুর, এরা সবাই আমারে যেমনে কোন কারণ ছাড়াই ভালবাসতে পারসে, আমিও যতদিন বাইচা আসি সবাইকে মন থেইকা ভালবাইসা যামু। এই জিনিষ টা আমি খুব ভাল পারি।

১২৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুলাই ২, ২০১৫ । ৯.৫৯ পি.এম

আজকে বাসাবো আসছি। বাসাবো আসলে অনেক মজা হয়। খাওয়া খাইদ্য নিয়া চিন্তাই করা লাগে না। টেবিল এ গিয়া বসলেই অটো খাবার দাবার আস্তে থাকে। আর সকাল বেলা ঘুম থেইকা উইঠা দাঁত মাইজা ফেরত আসলেই দেখি অটো বিছানা গুছানো হয়া গেসে। কি ম্যাজিক।

বৃহস্পতিবার সকাল থেইকা মনে হইতে থাকে কখন অফিস ছুটি হবে, কখন বাসায় যাবো। বৃহস্পতিবার আসলে বাবা আর আম্মা আলাদা আলাদা কইরা ফোন দ্যায়। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় বলি, একজন রে তো বলসি যে আসতাসি, আবার ফোন ক্যান। তারপর মনে হয়, হুর, পাগল নাকি আমি। এই জিনিশ কয়জন এ পায়?

প্রথমে বাবা ফোন করে। কি খবর?শরীর ভাল? অফিসে? আজকে আসবা? আচ্ছা আইসা পইরো তাড়াতাড়ি। আমার বাবা জীবনেও আমারে সরাসরি কোন ধমক দিতে পারে নাই। এক সাথে খাইতে বসলে আমি যখন সবজি খাই না, তখন ধমকানির বদলে অন্য দিকে তাকায় ভাব বাচ্যে কথা বলে, সবজি খাইলেই তো হয়, সবজি খাওয়া তো ভাল, কত ভিটামিন। আর আম্মা তখন আইসা বলে, খাইবো না মানে? গলায় পারা দিয়া খাওয়ামু।

বাবা ফোন করার এক ঘণ্টা পরে আম্মা ফোন করে। আস্তাসো? না আম্মা, এখন তো অফিসে। আচ্ছা আসো, আসো। এগুলা ভাল্লাগে অনেক। প্রায়ই আমি যাই না, যাইতে পারি না। তখন আবার বাবা অভিমান করে। তুমি যে বলসিলা সোম্বারদিন আসবা? আসলা না যে? শরীর খারাপ? আম্মা শুধু জিজ্ঞেস করে আজকে আসবা? না আম্মা কাজ আছে। আচ্ছা। কালকে আসবা?

এই আরেকটা জিনিশ আমাদের বাসায়। বাবা আম্মা কেউই কোনদিন জিজ্ঞেস করে নাই, আমার মন খারাপ কিনা? হয়তো আমাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি ওই জন্য জিজ্ঞেস করতে সংকোচ করে কিনা আমি জানি না । কিন্তু উনাদের কাছে আমার ঘরের এক কোনে মটকা মাইরা পইরা থাকার মানে, হয় আমার শরীর খারাপ, নাইলে আমার খিদা লাগসে। মন খারাপ, সেইটা কি জিনিশ আবার? ছোট মাইনসের আবার মন খারাপ কি?

যাই হোক। আম্মা বাবা তো। ওরা এতই দিসে আমাকে আর আমি এত খালি নিয়াই গেসি যে আমার নিজেকে একটা কুলাঙ্গার সন্তান লাগে। আমার উপর ওদের এক্সপেকটেশন এর শেষ নাই। আর আমিও তার বেশিরভাগটাই পুরন করতে পারি নাই। ক্যান পারি নাই তাও ওদের ব্যাখ্যা কইরা বলতে পারি নাই কোনদিন। এইসব নিয়া খোলাখুলি কখনো আলাপও হয় না। আর হবেও না।

আমার বাবা মার খুব আক্ষেপ আমি তাদের আদর্শ ছেলে না। সেই কাজ আগেই পালন কইরা গেসে আমার বড় ভইন। আসলেই কইরা গেসে। ফাইজলামি না। তাই তাদের সব গর্ব বইন রে নিয়াই। সে মেয়ে হইয়াও যা কইরা গেসে আমি ছেলে হয়া সেগুলা করি নাই। আমি আসি আরকি পিছে দিয়া। জংলি ব্ল্যাকশিপ অফ দা ফ্যামিলি।

আমার বাপ এর খুব আক্ষেপ, আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরি না। উনি উনার তাবলীগের সাথী ভাই দের কাছে এইটা নিয়া খুবি শরমিন্দা থাকে। এই চাহিদা পুরন করসে আমার খালাতো ভাই। পুরাই হুজুর। তাবলীগে যায়, নামাজ পরে, ইসলামি তরিকায় চলে। বাপ আমারে বলসে তার মত হইতে। এখনো হইতে পারি নাই।

কালকে আমার জন্মদিন। আমার ইথার নামটা রাখসিল আম্মা। আর ফয়সাল আকরাম অংশ টা বাবা। আজকে আমি যা কিছু, সবই আমার বাবা আম্মার অবদান। আর আমি যা কিছু না, সবই আমার নিজের কারণে। আমি তো ভাবতেই পারি হয়তো একদিন আমারে নিয়া গর্বিত হইতে পারার মত কিছু খুইজা পাবে ওরা। ততদিন না হয় আমার খিদাই লাগুক আর শরীর খারাপ ই হোক।

১২৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুলাই ১, ২০১৫ । ১০.৫১ পি.এম

আমার বিদেশ ভাল্লাগে না। আই মিন, ইয়া বেড়াইতে যাওয়া ইজ ওকে। কিন্তু বিদেশ গিয়া থাকতে হইব, জীবন যাপন করতে হইব এই রকম ভাবলে কেমন জানি আতঙ্ক লাগে। আমি একলা একলা থাকতে পারি না তা না। একা একা সব কাজ ও করতে পারি। কিন্তু বিদেশ এ গিয়া থাকার কথা যদি ভাবি তাইলেই ডর লাগতে থাকে। মনে হয় একটা চৌরাস্তার মাঝখানে দাড়ায় দাঁড়ায় আম্মু আম্মু বইলা কান্দুম আর সবাই আঙ্গুল উঁচা কইরা আমারে দেখায় দেহায় হাসবো।

আমার অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ভইন দা পেইন কেঙ্গারু খামারি মইম্যা আমারে ক্রমাগত পেইন দিয়াই যাইতাসে যাওনের লাইগা আর আমি না কইরাই যাইতাসি। আমার অফিসের বেশিরভাগ লুকজন এক পাও অস্ট্রেলিয়ায়, এক পাও কানাডায় দিয়া বইসা আসে। সবারই বেশ একটা এস্কেপ প্ল্যান আছে। আর ব্যাঙ্ক ভর্তি টেকাটুকা। আমার কিছুই নাই। যেদিন অফিস থিকা লাত্তি মাইরা বাইর কইরা দিব ওই দিন মনে হয় চিন্তা করা শুরু করুম, হুমম , হয়াতস নাও।

বিদেশে বেড়াইতে যাওয়া নিয়া আমার কোন আপত্তি নাই। কিন্তু একবারে তল্পি তল্পা লয়া ছেটেল হউনের লাইগা যাওউন টা কেমন জানি লাগে। আরেকটা দেশ রে নিজের দেশ কেমনে মনে করুম। জীবনেও পারুম না। বেড়াইতে যাওয়ার ইচ্ছা আসে অনেক জায়গায়। যেমুন ওয়াশিংটন ডিসি যাইতাম চাই। স্মিথসোনিয়ান এয়ার এন্ড স্পেস মিউজিয়াম। আহা। তারপর মোহাবি ডেজারট এর প্লেন এর গ্রেভিয়ারড টা। উহ। সেইন্ট মারটিন বিমান বন্দর তো দি হেভেন ফর প্লেন স্পটার, ওই খানেও যাইতে ইচ্ছা করে। আরও কই কই জানি যাওয়ার কথা ভাবি। কিন্তু ওই পর্যন্তই।

আমি জীবনে বিদেশ গেসি মাত্র দুইবার। একবার গেসি সিঙ্গাপুর আর আরেকবার কলকাতা। এই শেষ। সিংগাপুর দেখনের অভিজ্ঞতা ছিল অদ্ভুত। যার সাথে গেসি উনি একজন মুরব্বি স্থানীয় মানুষ। উনার উপরে কথা বলার সাহস ছিল না আমার। ভোরবেলা গিয়া নামসি, হোটেলে ব্যাগ রাইখা হাসপাতালে গেসি। সন্ধ্যা বেলা হাসপাতাল থেইকা হোটেল এ ফিরার পর উনারে বলসি, আপনি থাকেন আমি একটু আশ পাশ টা দেইখা আসি। উনি বলসে বাইরে গিয়া কি করবা , অচেনা জায়গা, ঘুমায় থাকো। আমি জি আচ্ছা বইলা ঘুমায় গেসি। পরের দিন আবার ভোর থেইকা সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালে। সন্ধ্যা বেলায় হোটেল এ ফিরা ভাবসি, যাক আজকে তো দেখতে পারুম, সিংগাপুর। উনি বলসেন, আর থাইকা কি হবে, কাজ তো শেষ, চল দেশে জাইগা। আমি জি আচ্ছা বইলা উনার পিছে পিছে এয়ারপোর্ট এ আইসা প্লেনে এ উইঠা দেশে আইসা পরসি। খুব বেড়ানি হইসে।

দ্বিতীয় বার বিদেশ গেসি অফিসের পয়সায়। কলকাতা। যাওয়ার আগে ভাবসি, আহা কলকাতার অলিতে গলিতে ঘুইরা বেড়াবো। কিন্তু অফিসের যেই কাজ লয়া গেসি ওই কাজ শুরু হইত সকালে আর শেষ হইত সন্ধ্যায়। তখন ফিরা আইসা বাইর হইলে দেখতাম সব বন্ধ হয়া যাইতাসে একটা একটা কইরা। ধুরও ছাতা বলা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না। এক সপ্তাহ পর এমনেই গেল আর কিছু তো ভাল্লাগে না। খাওয়া অসহ্য লাগে, রাস্তা অসহ্য লাগে। এক বেটির ফটো তুলতে গেসি একদিন, বেডি কয়, নো ফটো , নো ফটো। ওই বেডিরেও অসহ্য লাগসে এর পর থিকা। দেশ থেইকা অফিসের এক বস ফোন দিসে, কি ফয়সাল, কাজ হইতাসে, আরো এক সপ্তাহ এক্সটেন্ড কইরা দেই তোমাদের থাকা? আমি পারলে কাইন্দা দেই ফোন এর মধ্যে। কুন দরকার নাই এক্সটেনশন এর। সকালে উইঠা আয়া পরসি দেশে।

আমি খেয়াল করসি লোকজন কোনমতে একবার বিদেশ গেলে সারাজীবন ধইরা ওই যাওনের রেফারেন্স টানে। ইফতারি খাইতে বসলে বছরের পর বছরের একি গল্প, আমি যখন সৌদি আরব ছিলাম তখন দেখসি ব্লা ব্লা ব্লা কিংবা আরে তোমরা কি পিঁজা পিঁজা কর খালি, সেইবার যখন ইটলি গেলাম, সেইটা ছিল আসল পিজা… এরম আলাপ করতেই থাকে ক্লান্তিবিহিন। আমি চুপ চাপ শুনি। কখনো কাউরে কইনা এই আলাপ আগে আরো একশ বার শুনসি।

এই খানে কাউরে জাজ করতাসি না আমি। ভাল খারাপ ও বলতাসি না। মানুষ জন পারে। আমি পারি না। পারবো কিনা কোনদিন জানিও না। আমার বিদেশ গেলে দেশের মানুষ গুলার কথা চিন্তা কইরা হমানে কান্দা আইতে থাকে আর দেশে থাকতে বিদেশ যাওয়া মানুষ গুলার কথা চিন্তা কইরা হমানে কান্দা আইতে থাকে।

হমানে কান্দা আহন বন্ধ করা দরকার। এক টা পিচ্চি “মা আ আহ” বইলা ডাক দিলেও আমার চৌকখে পানি আহে। আই হেভ এ ওয়াটারিং পব্লেম। কি আজিব সমস্যা। এতু ইমুশুন আহে কইততে।

১২৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ৩০, ২০১৫ । ৯.২৫ পি.এম

এর থেকে তো সহজ ছিল ভোর দেখা। সারা রাত জেগে থেকে পরে, ভোর আসতো সব ভাল আর আলো নিয়ে। ঘুমিয়ে যাওয়ার আগে ভাবা যেত, পরাজিত হয়ে ঘুমাতে যাচ্ছি না আজ।

অথচ এখন শুধু দিন শুরু আর শেষ হয় অন্ধকারে। সারাদিন বেসরকারি বাতাসের নিচে বসে আঙ্গুল নড়ে চরে যায় কিছু অক্ষরের উপর। তাতেই বেতন হয়। তাতেই ভাত হয়। তাতেই বেনিয়া মালিক আয় করে অর্থ অনেক। আর কবির জীবনের অর্থ মুছে যায় ক্রমশ। কবি কে চেনে না তারা। দেখাইনি আমি। চেনে এক আঙ্গুল চালানো যন্ত্রমানব কে শুধু। ফরমায়েশ এর পর ফরমায়েশ আসে। আর কবির উপরে মুখোশ চাপানো যন্ত্রমানব এর গতি বেড়ে যায় আঙ্গুলের। আরো কিছু অক্ষর, আরো কিছু বাক্য আর সংখ্যা যোগ হয় বেনিয়ার ভাণ্ডারে।

অথচ এই অক্ষর বিক্রি হবার কথা ছিল না। এই চোখ আটকে থাকার কথা ছিল না এক তরিত তাড়িত দূরদর্শন এ। দূর থেকে নিকটে চলে এসেও জীবন দর্শন কে যা করে দ্যায় আর দূর।

কি হতো যদি না হতাম স্বেচ্ছা গোলাম? যন্ত্রে নয়, না হয় কলমেই লেখা হতো। হয়তো বা মাস শেষে পেন্সিলেও। তবু তো লেখা হত অমর কাব্য কোন। কাগজের পাতা থেকে উঠে এসে সেই বিনামূল্য তবু অমূল্য বাক্য বসে যেত হৃদয়ে হৃদয়ে। মানুষ ভাবত এতো আমারই বাক্য, আমারই স্লোগান। এই বার তবে মুঠো হাতে প্রতিবাদ হোক। শেষ হতে হবে শাসনের যুগ। মাথা উঁচু করে বলা হতো হয়তো, আমার মালিক তুমি না মহাজন। আমার মালিক আমি। এই দ্যাখ লিখে গেছে আমাদের কবি। তোমাদের পক্ষের কবি কই?

তাই আমাকে আমি তবু মরে যেতে দেই নি। আমার সময় কে ওরা কিনে নিলেও আমার সত্তা কে কিনতে পারে নি। এখনো দিনের শুরু তে আর শেষে আশ্রয় খুঁজে নেয়া হয় কবিতা তেই। পাবলো নেরুদা আর জীবনানন্দ মাথার কাছে বসে থাকে কখনো হাতে তুলে নেব বলে। যখন ক্ষমতার আস্ফালন দেখি, অর্থের নির্লজ্জ প্রদর্শনী দেখি, “তুমিও তো আলাদা নউ কিছু” “তুমি অত আলাদা নউ কিছু” বলে চেনা প্রতিফলনের উপহাস করা দেখি, মনে মনে এখনো মন্ত্র পড়ি ভাল থাকার,

শুধু সাগর ভাল লাগে নি বলে

তীরে ছুটে এসেছিল ঢেউ

আমি এই ভীর এর নই তো কেউ

আমি এই ভীর এর নই তো কেউ

১২২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ২৯, ২০১৫ । ১১.১৪ পি.এম

বৌমা থেকে বৈমানিক

 

[ এই লেখা টা যখন লিখছি তখনো সাগরে নিখোঁজ পাইলট তাহমিদ কে খুঁজে পাওয়া যায় নি। আজকের মত রেস্কিউ অপারেশন শেষ, কালকে আবার খোজা হবে ]

 

আমি একটা সিরিজ লেখা শুরু করসিলাম। “উড়তে শেখা”। বাংলা ভাষায় (টু বি স্পেসিফিক আমার মত কইরা লেখা ভাষায়) এভিয়েশন এর ইতিহাস। চার পর্ব পর্যন্ত লিখসি। আরো লেখার ইচ্ছা আসে সামনে। আপাতত পড়ালেখা চলতাসে। ওই খানে ম্যারি এলিজাবেথ থিবল নামে এক জন নারীর কথা বলসিলাম। পৃথিবীর প্রথম নারী যিনি উড়েছিলেন, বেলুনের সাহায্যে।  দুই তিন দিন ধইরা মনে হইতেসিল, পৃথিবী তো অনেক বড় ডোমেইন, আচ্ছা এই দেশে কে উড়েছিল প্রথম? কিংবা আরেকটু বড় স্কেল এ যদি যাই, এই উপমহাদেশে কে উড়েছিল প্রথম?

 

সেইটা নিয়া পড়তে গিয়া যা মনি মুক্তা পাইসি, তারই একটা মনি মুক্তা বা “একজন” মুক্তা আজকের লেখার অনুপ্রেরণা।

 

আজ একটা ডানাবাদি মেয়ের গল্প বলি। তার নাম সারলা ঠাকরাল (মতি)। উনি ভারতীয় উপমহাদেশ এর প্রথম মহিলা পাইলট । তার জন্ম হয় ১৯১৪ সালে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হয় পি.ডি.শর্মা নামে একজন এর সাথে। পি.ডি.শর্মার বাবা তার বৌমা সারলা কে অন্য সবার মত দেখেন নাই। তাদের পরিবারে অলরেডি ৯ জন পাইলট ছিল। তিনি ভাবলেন, আমার বৌমা চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি থাকবে না। আমার বৌমা হবে সুপার বৌমা। আমার বৌমা, বৈমানিক হবে। পি.ডি.শর্মার বাবা অর্থাৎ সারলার শ্বশুর সারলা কে ফ্লাইং স্কুল এ ভর্তি করে দিলেন।

 

১৯৩৬ সাল। লাহোর এয়ারপোর্ট। লাহোর ফ্লাইং ক্লাব এর একটা Gypsy Moth বিমান এর চাকা স্পর্শ করলো রানওয়ে। পাইলট লাইসেন্স পাবার সর্বশেষ ধাপ Solo Flying শেষ করে নেমে এলেন একজন বৈমানিক। চোখে মুখে তার আকাশ জয়ের আনন্দ। পরনে শাড়ি, ব্লাউজ, হাতে চুড়ি, গলায় মঙ্গলসূত্র আর মাথায় এভিয়েশন সানগ্লাস আর ক্যাপ। হাসি হাসি লজ্জা লজ্জা মুখে প্রিয় Gypsy Moth এর সামনে হেলান দিয়ে পোজ দিলেন সামনের বক্স ক্যামেরা নিয়ে দাঁড়ানো ফটোগ্রাফার এর সামনে। ইতিহাসবন্দি হল ভারতীয় উপমহাদেশ এর প্রথম মহিলা পাইলট, সারলা ঠাকরাল। তার বয়স তখন ২১ বছর বয়স আর তার ছোট্ট চার বছর বয়সের মেয়ে আছে, মাকে নিয়ে যার গর্বের শেষ ছিল না।

 

 

সারলা ঠাকরাল তারপর আরো ফ্লাইং চালিয়ে যান এবং Gypsy Moth এ ১০০০ ঘণ্টার ফ্লাইং আওয়ার সম্পন্ন করেন যে কারণে তাকে ‘গ্রুপ A’ লাইসেন্স দেয়া হয়। গ্রুপ A লাইসেন্স এখনকার দিনের প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্স (পি পি এল) এর সমতুল্য একটি লাইসেন্স। তিনি ছিলেন প্রথম ভারতীয় যিনি এয়ার মেইল পাইলট লাইসেন্স পেয়েছিলেন এবং তিনি করাচী আর লাহোর এর মধ্যে নিয়মিত ফ্লাই করতেন।

 

১৯৩৯ সাল। সারলা ঠাকরাল চেয়েছিলেন কমার্শিয়াল পাইলট হইতে। তার জন্য তার দরকার ছিল “গ্রুপ B”  লাইসেন্স। তিনি তাই ভারতের যোধপুরে কমার্শিয়াল পাইলট ট্রেইনিং ও শুরু করেন। কিন্তু ২য় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় বলে ইংরেজ সরকার সকল সিভিল ট্রেইনিং স্থগিত ঘোষণা করে। ফলে উনার কমার্শিয়াল পাইলট হওয়ার স্বপ্ন ও আপাতত স্থগিত হয়া যায়।

 

ভাগ্য এমনি খারাপ, এই বছরই সারলা ঠাকরাল এর স্বামী পি.ডি.শর্মা এক দুর্ঘটনায় মারা যান। শোকাহত সারলা তার কমার্শিয়াল পাইলট হবার স্বপ্ন পরিত্যাগ করেন আর যোধপুর থেকে ফিরে যান লাহোরে। সেখানে তিনি Mayo School of Art এ জয়েন করেন, আর বাঙ্গালি চিত্রকলায় প্রশিক্ষণ নেয়া শুরু করেন। এই স্কুল থেকে তিনি ডিপ্লোমা ইন ফাইন আর্টস নিয়ে বের হন।

 

দেশ ভাগ এর পর সারলা ঠাকরাল দিল্লী তে চলে আসেন তার দুই কন্যা সহ। তিনি ছিলেন “আরয সমাজ” Arya Samaj নামে একটি হিন্দু রিফরম মুভমেন্ট এর অনুসারী। এই সমাজ বলে, হিন্দু মেয়েদের ২য় বিয়ে সম্ভব। সারলা ঠাকরাল ১৯৪৮ সালে পি পি ঠাকরাল কে বিয়ে করেন। আঁকা আঁকির পাশাপাশি তিনি পোশাক এবং কস্টিউম জুয়েলারি ডিজাইনিং শুরু করেন। টানা ২০ বছর তার ডিজাইন করা শাড়ি, ড্রেস এবং গহনা ভারতের বাজারে বিস্তার করে ছিল।

 

২০০৯ সালের ১৫ই  মার্চ সারলা ঠাকরাল মারা যান।

 

বাংলাদেশ থেকেও এরকম আরো অনেক ডানাবাদি মেয়ে উঠে আসুক। পুরন হোক তাদের আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন ।  ( সাথে আমারে এট্টু পেলেন এর পিছনে উঠায়েন আরকি :p )