১৯১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৫ । ১০.৪১ পি এম

ফেসবুকের গ্রুপ গুলা খুবি আজিব জায়গা। দুই দিন খুব ভাল মত চলে। তারপর কারো কারো মনে হয় এই গ্রুপ খ্রাপ। এর চেয়ে আমরা নিজেরা করলে আরো ভালো গ্রুপ চালাইতে পারুম। তারা ওই গ্রুপ থেইকা বাইর হয়া বা না বাইর হয়া আরেকটা গ্রুপ খুলে। তার কয়দিন পর তাদের মধ্যে থেইকা আবার কয়েকজন বাইর হয়া আরেকটা গ্রুপ খুলে । এমনে চলতেই থাকে। এডমিন হওয়ার পাওয়ার মনে হয় খুব লোভনীয়। সবার উপর কন্ট্রোল করতাসি টাইপ ফিলিংস আসে।

তা ওরা করতে থাকুক যা ইচ্ছা। ওদের যদি এইটাই করতে ভাল্লাগে। কিন্তু প্রব্লেম হয় সাধারণ মেম্বার দের। এদের রাজনৈতিক দলের সভার মত মাঝে মাঝে জোর কইরা আইনা ঘার ধইরা ঢুকানো হয় গ্রুপ এ। হটাত নোটিফিকেশন অমুক হ্যাস এডেড ইউ টু তমুক গ্রুপ। আমার কাছে এইটা খুবি বিরক্তিকর লাগে। আজকে সকালে এরম একটা ঘটনা হইসে।

চুপচাপ শান্তিমত অফিস করতাসি এমন সময় একটা নোটিফিকেশন আসলো। নোটিফিকেশন পইরা আরেকটু হইলে চেয়ার নিয়া উলটাইয়া পরতাম। শরীরে হাত দিয়া দেখলাম সব ঠিক আছে কিনা। কিন্তু তবু বিশ্বাস হইতাসিল না। দুয়া কালাম পইরা বুকে ফু দিলাম। তারপর আবার ঠাণ্ডা মাথায় দেখলাম। এবং আবারো আতঙ্কে হাত পা ঠাণ্ডা হয়া গেল। নোটিফিকেশন টা ছিল,

অমুক হ্যাস এডেড ইউ টু দা গ্রুপ “স্বেচ্ছায় কিডনি দান”

বাই, কিডনি দান একটি খুবি মহৎ কাজ। কিন্তু আমি এখনো স্বেচ্ছায় কিডনি দান এর কোন প্ল্যান করি নাই। এরুম জুর কইরা এইসব গ্রুপ এ এড না করলে কি হয় না। ডর লাগে।

আগে তো তাও “আমরা সবাই ইরাক যাবো, লাদেন ভাই এর খাদেম হব” টাইপ ইভেন্ট এর ইনভাইটেশন আসতো। এখন তো ডাইরেক্ট এড মারা শুরু কইরা দিসে।

 

১৯০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৫ । ১২.০২ এ এম

 

কিছু চাই না আর থাক। এই ভাবে চুপ চাপ দিন যাক। আমি বসে বসে শুধু জীবন দেখি। মানুষের গল্প শুনি। তাদের দুঃখে দুখী হয়ে যাচ্ছি ভান করি। যদিও দুইটা দুঃখের কখনো তুলনা হয় না। পৃথিবীর যে কোন দুই টা দুঃখ পুরাপুরি ভাবে দুই রকম। আর একটা বড় দুঃখ দিয়ে আরেকটা ছোট দুঃখ দূর করা যায় টাইপ উপদেশ যারা দ্যান তারা নিজেরাও এটা বোঝেন কিনা সন্ধেহ আছে। “দ্যাখ তোমার চেয়েও দুখী মানুষ আছে, ওই যে ওই বেচারার তো পা ই নাই, আর তুমি জুতা নাই বইলা ফাল পারো” আমার কাছে এই ধরনের কথা বার্তা বুলশিট লাগে। অন্যের দুঃখের সাথে কম্পেয়ার করা মানে নিজের দুঃখ এনাফ হার্ট করতাসে না টাইপ হিপক্রেসি করা। আগে স্বীকার করতে হইব যে হ, আমি অনেক দুঃখে আসি। হ আমার কষ্ট হইতাসে। তারপর গিয়া এই টা দূর করার পদক্ষেপ নিতে হইব।

একটা সময় ছিল আমি পুরাই একা একা সারভাইভ করসি। আমার ভার্সিটির বন্ধুরা, যারা আমি ফার্স্ট হওয়ার পর খুব বন্ধু ছিল, তারা যখন আমারে এক হেডম আর তার গার্লফ্রেন্ড এর কথায় সেকেন্ড ইয়ারে উইঠা এক ঘরে কইরা দিল, আমি মাইনা নিসিলাম। তিনটা বছর একা একা পড়ালেখা করসি, একা একা প্রজেক্ট করসি। আমি মাইনা নিসিলাম। তারপর জিদ করসিলাম যে আই উইল সারভাইভ। লোকজন যখন ক্লাস কইরা বাসায় গিয়া টিভি দেখত নাইলে নেট এর কই থেইকা কপি পেস্ট কইরা এসাইন্মেন্ট দিব সেই চিন্তা করত, আমি লোকাল বাস এ ঝুইলা অফিস যাইতাম পার্ট টাইম চাকরি করতে। রাইত দশটায় বাসায় ফিরা পরের দিন এর লাইগা পড়তে বইতাম।

এই সব কথা মনে হয় আগেও কোথায় জানি বলসি বলসি লগে। কিন্তু এই সব কথা মনে করা আমাকে শক্তি দ্যায় অনেক। আমারে মনে করায় দ্যায় যে আই এম বেটার অফ এলোন। কই এতদিন তো কোন অসুবিধা হয় নাই। এখন আইসা হঠাত অনেক বন্ধু হইতাসে আর আর আমি লোভী হইয়া যাইতাসি। আমার নির্ভরশীলতা বাইরা যাইতাসে। এইটা কমাইতে হইব।

মানুষ সামাজিক জীব। হ ভাই। সে সমাজ ছারা বাচতে পারে না। ট্রু কথা ভাই। কিন্তু আমি ত হালার মানুষ ই না। অমানুষ। আমি পারি। সবার জীবন দৌড়াক। আমার অত ব্যাস্ততা নাই। আমার মনের ভিতর অনেক ছুটি। জীবনানন্দ দাশ পড়ি বইসা বইসা। কি প্রচন্ড একা ছিল কবি টা। কত O this Sadness, This Glorious Madness এর মতন একাকিত্ত ছিল তার।

এই পৃথিবীতে আমি অবসর নিয়ে শুধু আসিয়াছি — আমি হৃষ্ট কবি
আমি এক; — ধুয়েছি আমার দেহ অন্ধকারে একা একা সমুদ্রের জলে;
ভালোবাসিয়াছি আমি রাঙা রোদ, ক্ষান্ত কার্তিকের মাঠে — ঘাসের আঁচলে
ফড়িঙের মতো আমি বেড়ায়েছি — দেখেছি কিশোরী এস হলুদ করবী
ছিঁড়ে নেয় — বুকে তার লাল পেড়ে ভিজে শাড়ি করুন শঙ্খের মতো ছবি
ফুটাতেছে — ভোরের আকাশখানা রাজহাস ভরে গেছে নব কোলাহলে
নব নব সূচনার: নদীর গোলাপী ঢেউ কথা বলে — তবু কথা বলে,
তবু জানি তার কথা কুয়াশায় ফুরায় না — কেউ যেন শুনিতেছে সবি।

কোন্‌ রাঙা শাটিনের মেঘে বসে — অথবা শোনে না কেউ, শূণ্য কুয়াশায়
মুছে যায় সব তার; একদিন বর্ণচ্ছটা মুছে যাবো আমিও এমন;
তবু আজ সবুজ ঘাসের পরে বসে থাকি; ভালোবাসি; প্রেমের আশায়
পায়ের ধ্বনির দিকে কান পেতে থাকি চুপে; কাঁটাবহরের ফল করি আহরণ
কারে যেন এই গুলো দেবো আমি; মৃদু ঘাসে একা — একা বসে থাকা যায়
এই সব সাধ নিয়ে; যখন আসিবে ঘুম তারপর, ঘুমাব তখন।

১৮৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৫ । ১২.০০ এ এম

 

আমাদের ধৈর্য খুব কম। এইটা আমি সব জায়গায় দেখি। ঘুরায় ফিরায় অনেক কিছুর কারন আমার এইটাই মনে হয়। আমাদের তাড়াহুড়া শুধু বেশি না। অত্যাধিক বেশি। আমরা সব কিছু এখন ই চাই। রাইট নাউ। পরের টা পরে।

একটা গাড়ি ব্যাক করতাসে, পিছে দিয়া এক মিলিমিটার জায়গা থাকা পর্যন্ত রিকশা সাইকেল মানুষ যাইতেই থাকবে। কারন ওইটুক যায়গা দিয়া না গেলে আর জীবনেও যাওয়া যাবে না। ওইটা দুনিয়ার শেষ উইন্ডো।

একটা সি এন জি বা একটা গাড়ির স্টার্ট বন্ধ হয়া গেসে রাস্তার মধ্যে। ড্রাইভার ঘামতে ঘামতে ইগিনিশন দিতাসে বার বার। ক্যার ক্যার করতাসে কিন্তু স্টার্ট নিতাসে না। আর যায় কই। পিছনে থাকা গাড়ি টা হর্ন এর বন্যা বহায় দিবে। যত জোরে পারা যায়, যত বার পারা যায় হর্ন দিতেই থাকবে। আমি ভাবার ট্রাই করি যেখানে দেখতাসে যে স্টার্ট বন্ধ হয়া গেসে, সেইখানে হর্ন দেয়ার দরকার কি। পজিটিভলি ভাবার ট্রাই করি। মনে করি, হর্ন দিয়া আসলে পিছনের গাড়ি হেল্প করতে চাইতাসে। হর্ন এর আওয়াজে হয়তো ইগ্নিশন প্লাগ এর রাগ উইঠা যাবে। আর জলে উঠবে আপন শক্তি তে।

বেচারা সি এন জি বা গাড়ির ড্রাইভার হয়তো নাইমা আইসা ঠেইলা গাড়ি টারে সাইডে নেওয়ার ট্রাই করবে। কিন্তু তাতেও হর্ন বাজানো থামবে না। পাশে দিয়া যাওয়ার সময় বইলা যাবে, ওই শালা, নষ্ট গাড়ি নিয়া রাস্তায় নামস ক্যান। খালি দৌড় দিয়া আয়া পরস ঢাকা শহর ! কইততে যে আহে এডি।

শুধু রাস্তায় না রাস্তার বাইরেও আমাদের ধৈর্য কম। আমরা লাইন এ দাড়ায়া বাস এর জন্য অপেক্ষা করি কিন্তু বাস এ উঠার সময় আর লাইন থাকে না। শিক্ষা ব্যাবস্থার এই অবস্থার জন্য আমরা সরকার কে কত গালি দেই। কিন্তু আমরা কি করি? বাবা মার ধৈর্য হয় না ছোট ছেলেমেয়েরে নিয়া পড়াইতে বসার। তাই কোচিং এ ঠেইলা দেই। মাস্টার রাখি। সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরের জন্য গাইড বই, প্রাইভেট টিউশন। জিনিশ টা অনেক টা ম্যানুয়াল পইড়া বুঝার জন্য সাথে একটা ছোট ম্যানুয়াল দিয়া দেওয়ার মত লাগে আমার কাছে।

কোক পানি কিনাই ফার্স্ট এ গলার প্লাস্টিক টা ছিরা ফালায় দেই। কই ফালাইলাম দেখার দরকার ই নাই। আর খাওয়ার পর বটল টা রাস্তায় ফালাইতে তো আমাদের সেই মজা লাগে। ডাস্টবিন এর জন্য ট্রেশ সাথে নিয়া ঘুরুম? এত টাইম আসে কার।

আর আমরা ক্রমাগত শর্ট টার্ম এন্টারটেইনমেন্ট এ অভ্যস্ত হয়া যাচ্ছি। ফেসবুক এর নিউজ ফিড, হয় তো একটা মজার ভিডিও, একটা অনেক ইন্সপাইরেশনাল কথা বার্তা লেখা ইমেজ, ফিল্মি গিয়ান নামক পেজ এর কিছু সংগৃহীত ছবি শেয়ার দেওয়া, গান শোনা , সিনেমা দেখা এগুলা আমাদের কাছে এখন বেশি প্রিয়। আমাদের ধৈর্য কম তাই আমাদের বই পড়া কমে যাচ্ছে। সব কিছু তে আমরা লিঙ্ক চাই। একজন যদিও বলেও যে অমুক বই টা পড়সি, খুব ভাল্লাগসে, একজন থাকবেই যে কমেন্ট করবে নিচে, ভাই লিঙ্ক টা দ্যান।

আমরা কবিতা পড়ি না। কবিতা বুঝতে টাইম লাগে। এত টাইম কই। ফুড কম খাই, ফাস্ট ফুড বেশি খাই। যে কোন রকমের সারকাস্টিক ফাইযলামি আমাদের বড়ই অপছন্দ। আরে এত কিছু বোঝার টাইম আছে নাকি। যা বলবি সরাসরি বল। শুনব, বুঝলে হাসবো, না বুঝলে এইটা ব্যাড জোক। তুই ফাউল।

প্রেম ভালবাসা তেও আমাদের কোন ধৈর্য নাই। একটু মেয়েটারে বুঝি আগে। তার সাথে নিজের কেমিস্ট্রি টা দেখি। ছেলেটারে আগে দেখি শো অফ নাকি আসলেই ভিতরে কিছু আছে। আমরা দ্রুত যেমন ভাবতে চাই তা ভাইবা নেই। আর ধরা খাই। সবচেয়ে কমন সার্কেল অফ রিলেশনশিপ এখন প্রোফাইল ছবি দেখলাম, ভাল লাগলো আর প্রেম করার জন্য পাগল হয়া গেলাম। ইউ ভেরি কিউট লুকিং টাইপ ভুল ভাল ইংরাজি কপচাইয়া ইনবক্স ভইরা ফালানো তেই আমাদের রোমান্টিকতা শুরু হইল। তারপর হোয়াটস এপ এর নাম্বার চাওয়ার বাহানায় ফোন নাম্বার পাওয়া। ফোন দিয়া ত্যাক্ত করা। অপরপক্ষ তার বিপুল অভিজ্ঞতায় বুইঝা যায় যে ঘটনা আসলে কোন দিকে যাইতাসে। তারপর ব্লক মারা, দুখখের স্ট্যাটাস, আবার আরেকজন এর প্রোফাইল ছবির প্রেম এ পড়া। এই ভাবে কোনদিন ভালবাসা হয়?

আল্লাহ আমাদের ধৈর্য বাড়ানোর প্র্যাকটিস করার তৌফিক দিন। একদিন এ এই জিনিশ পালটাইবো না।

 

 

 

১৮৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৫ । ১০.৫৭ পি এম

 

আজকে ঢাকা চইলা আসছি। বেশিক্ষণ লাগে নাই আস্তে। ময়মনসিং এর রাস্তা অনেক ভাল করসে এখন। বড় করসে। মাঝখানে ডিভাইডার , দুই পাশে বাউন্ডারি পিলার দিসে। বৃষ্টির মধ্যে সাই সাঁই কইরা আসতে আসতে ভাবতাসিলাম, আহা আমরা কত অল্প পাইলেই খুশি হই। এইরকম থাকাটাই স্বাভাবিক ছিল, অথচ এই রকম দেইখা মনে হইতাসে কত উন্নয়ন হইসে। এই টা মনে হয় ইংরেজ সূত্রে প্রাপ্ত এই উপমহাদেশ এর রাজনৈতিক স্ট্রাটেজি ই। আমাদের এমন কইরা রাখা হইব যাতে আমাদের মনে হইব আমরা গরীব। আমাদের সমস্যার শেষ নাই। আমাদের অনেক অভাব। তারপর আমাদের যা দিব মনে হইব কত্ত কিছু পাইসি আর যে দিব তারে মনে হইব সেই তো আসল গড।

একটা নতুন জিনিশ খেয়াল করলাম রাস্তায় আস্তে আস্তে। বাজার বা লোকালয় এলাকা গুলা দিয়া যখন হাইওয়ে পাস করসে তখন রাস্তার পিচ চেঞ্জ হয়া গেসে। এস্ফল্ট এর বদলে কংক্রিট ঢালাই দিয়া খাবরা খাবরা কইরা রাখা হইসে। যার উপর দিয়ে গাড়ি জুরে যাইতে বাধা পায়, ঘটর ঘটর আওয়াজ হয়। তাই গতি কমাইতেই হয়। ভালা লাগসে বুদ্ধি ডা।

ময়মনসিং এর এক দিন এর ট্যুর টা ভালাই লাগসে। মিটিং ওয়াজ প্রিটি গুড। আমি যেহেতু আমার বস এর হয়া গেসি তাই ডর ডর লাগতাসিল ইট্টটু। কি না কি মেস আপ করি। পরে ঢাকা আয়া বকা খামু। কিন্তু কিছু স্ক্রু আপ করি নাই। যা যা জিগাইসে ভালা মত উত্তর দিতে পারসি, প্রেজেন্টেশন দিতে পারসি ঠিক ঠাক মত। রিজিয়ন এর হেড আমাদের যাওয়া উপলক্ষে ব্যাপক খানা দানার ব্যবস্থা করসিল। খাইয়া দায়া এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটির ভিতর গাড়ি দিয়া একটা ঘুরান দিয়া রওনা দিয়া দিসি ঢাকার দিকে।

মাঝখানে তন্ময় নামে একজন ফেসবুক বন্ধু আসছিল আমার সাথে দেখা করতে। উনি চাও খাওয়াইসে। মজা লাগসে ব্যাপার টা। আমি কত তুচ্ছাতিতুচ্ছ একটা বিন্দু, আমারে সাথে দেখা করতে চইলা আসছে দ্যাখা করতে। পরে মনরে একটা ধমক দিয়া চুপ করাইলাম যে ফেসবুক এর জন্ম শুধু নিজেরে বিক্রি করার জন্য তৈরি হয় নাই। ফেসবুক এর মুল উদ্দেশ্যই ছিল কিন্তু একটা মানুষের সাথে আরেকটা মানুষ এর কানেক্ট হওয়ার একটা ক্ষেত্র তৈরি করা। এই খানে আমরা ক্রমাগত নিজেরে আসল দুনিয়া থেইকা ডিস্কানেক্ট কইরা খুব কানেক্টেড ফিল নিয়া ঘুইরা বেরাইতাসি। ভুইলা যাইতাসি , মানুষ যত দেখি, মানুষ তত হই।

গতকাল সন্ধ্যায়ও দুইজন আসছিল দেখা করতে। আমি ময়মন্সিং এর হোটেলে পৌঁছাইয়া খালি রুম এ ব্যাগ টা রাইখাই বাইর হয়া গেসিলাম হাটতে। হোটেলের নিচেই একটা বাজার। নাম “মাইচ্ছা বাজার” যদি মাছ এর চেয়ে চাউলের দুকান বেশি লাগসে। এইটার নাম পালটাইয়া “চাউল্লা বাজার” রাখা উচিত।

আমি নাইমা বাজারের গলিতে ঢুইকা এই গলি ওই গলি করতে করতে ইচ্ছা কইরা হারায় গেলাম। একটা অচেনা শহরে হারায় যাইতে যে কি মজা। ভাল লাগাইতে টুরিস্ট স্পট এই যাইতে হইব এমন কোন কথা নাই। আশে পাশেই কত গল্প দেখলাম। আমি যখন হাট্টতাসিলাম তখন সন্ধ্যা। অনেক দোকানে ধুপ দেওয়া হইসে। ধুপ এর গন্ধে পুরা গলি কেমন মাদকতা ময় হয়া আসে। ধুপ এর গন্ধ টা এত ভাল্লাগে। কোথায় জানি উলু দিতেসিল মহিলারা। আমি আওয়াজ লক্ষ্য কইরা হাঁটলাম অনেকক্ষণ , মন্দির পাইলাম না।

একটা ছোট চায়ের দোকান দেখতে অনেক ভাল্লাগ্লো। নাম সুনীল টি স্টল। একজন ই মাত্র চালায়  দোকান টা। তার আবার খুব রাশ আওয়ার যাইতাসে। আমি গিয়া দাঁড়াইতে উনি বলল, দাদা একটু দারাইনযে, আইতাসি। বইলা উনিই চা নিয়া কই জানি দিয়া আস্তে গেল। ফিরা আইসা আমারে চা বানায় দিল। অনেক মজার চা। আর পরিবেশনা টাও অন্যরকম। ছোট ছোট কাচ এর গ্লাস। আমাকে একটা গ্লাস এর উপর আরেকটা গ্লাস বসায় ওইটা তে চা ঢাইলা দিল খাইতে । আমি ইঞ্জিনিয়ারিং সেন্স দেইখা অবাক হয়া গেলাম লোকটার। উপরের গ্লাস টা আসলে ফর দা গ্রিপ আর ফর বেটার প্রটেকশন ফ্রম দা হট টি। নাইসসস।

এমন সময় ছেলে দুইটা ফোন দিল যে ওরা হোটেলের নিচে আসছে। ওদের বললাম একটু দাঁড়াইতে। তারপর এরে ওরে জিজ্ঞেস কইরা হোটেল এর দিকে হাটা ধরলাম।

ফেরার সময় ঠিক আমার সামনে একটা ফলের দোকান থেইকা একটা আপেল মাটিতে পইরা গেল আর ভীর এর পা এর ধাক্কা খাইয়া সামনের দিকে গড়ায়া চইলা গেল। এই খানে নিউটন চাচা থাকলে শিউর উচ্চাকারশন শক্তি (মধ্যাকর্শন তো আবিষ্কার করা শেষ) নিয়া এক খানা “হাই উঠানি ঘুম পারানি” থেউরি আবিষ্কার কইরা ফালাইত। । কিন্তু আমাগো ফল ওয়ালা ইজ নোট ইন্টারেস্টেড ইন সাচ স্টুপিড স্টাফ।

ফল ওয়ালা সাথে সাথে “আপেল গেলগা আপেল গেলগা” বইলা চিল্লাইতে চিল্লাইতে আপেল এর পিছে দৌড় দিল।  আপেল কি আর থামে। পায়ের ধাক্কা খাইয়া সামনে কই কই গেল গা।আপেল ওলা রে দেইখা মনে হইতাসিল একটা সন্যের আপেল হারায়া লাইসে।

হোটেলের নিচে আইসা সেই দুইজন এর সাথে দেখা হইল। কিন্তু সেই গল্প আরেকদিন বলব নে। ঘুম আস্তাসে বেশি। পরে কি লিখতে কি লিখুম।

 

১৮৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২, ২০১৫ । ১১.৫৭ পি এম

 

ময়মনসিংহ বইসা বইসা নোট লিখতাসি। যেই হোটেল এ উঠসি তার নাম হোটেল আমির ইন্টারনেশনাল। একেবারে শহরের প্রান কেন্দ্রে হোটেল। ইশটিশন এর পাশেই। এতখন রিকশা গাড়ির আওয়াজ আসতাসিল। এখন আবার শুনশান। ট্রেন এর আওয়াজ পাইতাসি অবশ্য। সুন্দর জেলা শহর টা ঘুমের প্রস্তুতি নিতাসে। আমিও ঘুমায় যাবো একটু পরে। কালকে সকাল ৯ টায় এইখানের রিজিওনাল অফিসে মিটিং। এট্টু ডর ডর লাগতাসে। এই খানে আসার কথা ছিল আসলে আমার বস এর। মিটিং এ যারা আসবে তারা সবাই ডিজিএম , এজিএম, জি এম লেভেলের লোকজন। মাঝখান দিয়া আমি এক পাতি হাস ঢুইকা কি প্যাক প্যাক করুম বুঝতাসি না।

ভাবসিলাম আজকে সকালে রউনা দিয়া দুপুরের মধ্যে মমেনশিং আইশা পরব। তারপর দুপুরের পর কয়েকটা সাইট দেখতে যাবো সাথে ব্রম্মপুত্র রেও একটা হাই বইলা আসা যাবে। কিন্তু কিয়ের কি। কলিগ আপু বলল, এতু কাজ, আমি ইকা ইকা কেম্নে সবকর্ব, তুমি সকালে আইসো পিলিগ। কি আর করা। সব গাট্টি বুচকা লয়া বাসাবো থিকা বৃষ্টির মধ্যে লোকাল বাস এ ঝুইলা ঝুইলা রউনা দিলাম অফিসের দিকে। পিঠে ব্যাকপেক, এক হাতে ল্যাপ্টপ এর ব্যাগ, আরেখাতে ছাতা। বাস এ অনেক প্রব্লেম হইতাসিল বেলেন্স রাখতে। একবার পইরাই যাইতে নিসিলাম বাস এর হঠাত ব্রেক মারাতে। সাম্নের দুই জন লোক এর অসাধারন রিফ্লেক্স এর কারনে দুই জন খপ কইরা আমার দুই হাত ধইরা ফালাইলো। আর বাইচ্চা গেলাম। এই দুই জন এর কারনে কলিগ আপুর উপর রাগ টা উঠতে গিয়াও ফেইথ ইন হিউমেনিটী রিস্টোরড টাইপ বেপার হইসে। বাস এ মারামারিও লাগসিল। কেন ১০ টাকার ভারা ১৫ টাকা চাইল এই জন্য একটা লোক বাস কন্ডাক্টর পিচ্চি রে চড় দিল একটা। পিচ্চিও সারা শরীর দিয়া খাপায় পড়লো তার উপর। আমি চাইলে দুই জন রে আটকাইতে পারতাম আটকাই নাই। কারন যেই লোক চড় দিসে সে মাইর খাইতাসিল বেশি। একটু পরে বাস এর লোকজন ও তারে মারা শুরু করল আর বাস থেইকা নামায়া দিল। আমি হাত তালি দিলাম। আমার দেখা দেখি সবাই হাত তালি দিল। ফাইন্ড সামোয়ান অফ ইউর ওউন সাইজ টু ফাইট, ইউ লুজার।

অফিসে আস্তে আস্তে জুতার ভিতর পানি ঢুক্সিল। সেই ভিজা জুতা মুজা নিয়াই অফিস করলাম লাঞ্চ পর্যন্ত, তারপর ২ টার দিকে গাড়ি তে উইঠা শান্তি। ড্রাইভার কে বললাম, কান্ট্রি রোড টেক মি হোম। ড্রাইভার বলল, বাইয়া, কি বললেন বুজি নাই। আমি বললাম, চলেন, মমেনশিং চলেন।

রাস্তায় মজা হইসে। আমার কানে তো হেডফোন ছিল। আমি ৭০ আর ৮০ দশক এর ইংরেজি রক গান শুনতে সিলাম। আরামে জুতা খুইলা পা উঠায় দিলাম সাম্নের সিট এর উপ্রে। বিশাল একটা নোয়া মাইক্রো বাস। আমি ছাড়া আর কেউ নাই গাড়ি তে। গান শুনতে শুনতে আর কিছু খেয়ালও নাই। একটু পরে দেখি ঠাশ ঠাশ কাচ নাইমা গেল। আর গাড়ি থাইমা গেল রাস্তার পাশে। আমি ভাব্লাম আয়হায় গাড়ি নশট হয়া গেসে ! অখন কেম্নে যামু মুমেনশিং?

হেডফোন্টা খুইলা ড্রাইভার এর দিকে তাকাইলাম। সে দেখি দরজা খুইলা বাইরে গেল গা। তারপর বাইরে গিয়া পানি তে ডুইবা যাইতে যাইতে উদ্ধার পাওয়া মানুষের মত হাউ হাউ কইরা শাশ  নিল। তারপর আমার জানালার কাছে আইসা খুবি লজ্জা লজ্জা গলায় বলল,

“বাইয়া আপ্নের মুজা থিকা গ্যাস বাইর হইতাসে। আমি ফিট অয়া যাইতে নিসিলাম”

আমি না ফার্স্ট এ বুঝি নাই। গ্যাস বাইর হইতাসে মানে কি? কি ভয়ঙ্কর? গাড়ির সি এন জি টেঙ্কি কি ফুটা হয়া গেসে? আমার টুথপেস্ট স্লো তো, তাই বুঝতে টাইম লাগসে। কিন্তু ফাইনালি বুঝসি যে উনার আসলে বলতে লজ্জা লাগতাসে যে, আমার মুজায় বিকট গন্ধ। আর তাতে উনার অজ্ঞান হয়া যাওয়ার অবস্থা হইসিল। সারাদিন ময়লা পানি তে ভিজা মুজা যে এই অবস্থা হইব তা আমার মত বেকুব বুঝেই নাই।

আমি তারাতারি দেশ ও জাতি কে উদ্ধার এ মনোযোগি হইলাম। মুজা দুইটা খুইলা পাশের পুকুরে ফিক্কা মারলাম। কেন কালকে পুকুরের সব মাছ মইরা ভাইসা উঠলো সেই রহস্য কেউ কোনদিন জান্তেও পারবে না। এই উপলক্ষে কবি বলেছেন, মু হা হা।

তারপর গাড়ি চলা শুরু হইল। মমেনশিং পৌছায়ও মজা হইসে আরো। কিন্তু সেই ঘটনা আরেকদিন লিখব নে।

 

১৮৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১, ২০১৫ । ১১.১৮ পি এম

 

আমার মনে হয় ব্যাড গাই আর নাইস গাই এর কচকচানি টা শেষ করা উচিত। ১৭৮ লম্বর নোট এ বলা শুরু করসিলাম একটা ব্যাড বয় এর মধ্যে কি এমন থাকে যা একটা নাইস গাই এর মধ্যে থাকে না। এই প্রশ্ন টার উত্তর খোজার ট্রাই করসি তারপর ১৭৯ আর ১৮০ তে। এরপর আর লিখি নাই। আজকে সেইটার শেষ পর্ব লিখতাসি।

 

৩ নম্বর পার্থক্যঃ অনিয়ন্ত্রিত

 

মেয়েটা মুখে যাই বলুক , সে চ্যালেঞ্জ পছন্দ করে। একটা ব্যাড বয় তারে সেই আপিল টা দিতে পারে যাতে সে মনে করে যে এই পোলারে ধারন করার এমন কি বদলানোর ক্ষমতা তার আছে। আসলে আছে কি নাই সেইটা পরে, কিন্তু ব্যাড বয় দের এটিচিউড এ এই জিনিশ টা থাকে যাতে তাদের মনে হয় তাদের কেউ নিয়ন্ত্রন করতে পারে না। তারা অনিয়ন্ত্রিত বা সেলফ নিয়ন্ত্রিত। সবাই ভাবা শুরু করে, এই ছেলে এত এগ্রেসিভ আর এত কনফিডেন্ট, এরে বশ করবে কে।

এই “বশ” করার চ্যালেঞ্জ টার জন্যই সে মেয়েটার কাছে এত আরাধ্য হয়া ওঠে। সে ঐ স্পেশাল মানুষ টা হইতে চায় যে কি না এই বুনো গরুর গলায় দড়ি পরাইতে পারসে। এই সব ছেলেরা এই ফিল টা দিতে পারে যে , তুমি থাকলে ভাল, না থাকলে সমস্যা নাই, আমি মুভ অন করুম।

আমার কাসে এদের কিছুটা বিড়াল বিড়াল লাগে। এদের অনেক আদর যত্ন খাবার দাবার দিলেন কিন্তু এরা ভাব টা এমন দেখাবে যেন মাঝে মাঝে আপ্নেরে দেখা দিয়া, আপ্নের দেওয়া খাবার খায়া আপ্নেরে বিরাট ধন্য করতাসে। পরের বার এরা হয়ত আবার খাইতে আসবে, অথবা নাও আস্তে পারে। এই শুরু হয় মেয়েটার মাথা খারাপ হওয়া, আয় হায় এ ছুইটা গেলে আমার কি হপে।

উলটা দিকে নাইস গাই কি করে? সে পালা কুত্তার মত একবার এইদিক গিয়া জিনিষ নিয়া আসে আবার ওইদিক গিয়া জিনিশ নিয়া আসে আর মেয়েটার সামনে আইনা লেজ নারায়। যদি মেয়েটা খুশি হয়া কিছু কৃপা করে। এর মধ্যে চ্যালেঞ্জ থাকবে কই থেইকা। এরে লাত্থি দিলেও তো এ আবার আইসা পায়ের কাছেই মুচ্রা মুচ্রি করবে।

এইবার আসি কিছুটা সাহায্য কারি লেখায়। কিভাবে ব্যাড বয় হইবেন?

অনেক নাইস গাই রা শেষ মেষ এই উপসংহারে পৌছায় যে , ও তাইলে এই কাহিনি? ভাল মানুষের কোন মুল্যই নাই দুনিয়াতে ? ঠিক আসে যাও। খারাপ ই হমু। এক্কেরে খারাপের খারাপ হমু। রেজাল্ট কি হয়?

দুই ধরনের রেজাল্ট হয়। এক, কিছু কিছু ছেলে পোশাকে আশাকে চাল চলনে ব্যাড বয় হওয়ার ট্রাই করা শুরু করে। সারা জীবন ঠান্ডা ঠান্ডা গান শুনসে হঠাত কইরা দেখা যায় স্লিপ নট এর ছাপ মারা কালা টি শারট পইরা ঘামতে ঘামতে ঘুইরা বেড়াইতাসে, হাতে হয় তো কবজি থেইকা কনুই পরযন্ত ফুটপাথ থেইকা কিনা রিস্ট ব্যান্ড। টাইট পেন্ট শার্ট পইরা মাথার  দুই পাশের চুল চাইছা ফালায় দিসে কেউ কেউ। সাদা, কমলা জুতা পরা শুরু করসে। রকস্টার আর হিপ্সটার আউটলুক এর পার্থক্য গুলায় ফালায় হিক স্টার টাইপ কিছু একটা জগাখিচুরি হয়া গেসে। মদ বা গাঞ্জা খায়া আই এম সো হাই ডুড হয়া যাইতাসে। একটা কিউট দেখতে পাপি ডগ হঠাত স্পাইক অলা কলার পইরা ঘুরলে যেমন লাগবে, এরা নিজেরাও জানেনা এদের ঠিক ওই রকম লাগে।

আরেক পক্ষ ব্যাড হইতে গিয়া হয় গাধা ছিদ্র। এরা হঠাত সাইকো টাইপ আচার আচরন শুরু করে। নিজেরে খুব আনরিচেবল প্রমান করার জন্য এদের দৌড় বড়জোর ফোন পিক না করা পর্যন্ত। এগ্রেসিভ নেস এরা দেখাইতে চায় মেয়েটার গায়ে হাত তুইলা। সেন্স অফ হিউমার এরা বুঝায় ব্যাড জোক আর মোটা দাগের ইন এপ্রোপ্রিয়েট এডাল্ট জোক কইরা। ব্যাড হয়া মানে যে অমানুষ হয়া যাওয়া না এইটা এরা বুঝে না।

থিং ইজ, নাইস হওয়ার মধ্যে  ভুল কিছু নাই। প্রব্লেম হইল নাইস গাই হয়া যাওয়ার মধ্যে। ব্যাড বয় দের যেসব দিক গুলা মেয়েটার মধ্যে আপিল টা ক্রিয়েট করে সেই দিক গুলাকে নিজের মধ্যে আনতে হইলে অমানুষ হয়া যাইতে হবে না এইটা মাথায় রাখা দরকার।

আপনি যে ভাল মানুষ আছেন তাই থাকেন। শুধু একটু সারকাস্টিক হইলেন, অনেক বেশি কনফিডেন্ট হইলেন, নিজেকে কিছুটা দুর্লভ বানায় রাখলেন, লুল প্রজাতির না হইলেন, আর যারে চান তার বেপারে ধইর্য্য সহকারে এগ্রেসিভ হইলেন। ব্যাস তাইলেই হবে।

চলন্ত ফিরন্ত আলু হওয়া অফ করেন, পেয়াজ মরিচ সরিষার তেল মাখা ঝাঝালো আলু ভর্তা হন। নাইস গাই হওয়া বন্ধ করেন। স্পাইসি গুড গাই  হন।

শুভ কামনা থাকলো।

 

১৮৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ৩১, ২০১৫ । ১১.১১ পি এম

 

গত দুই দিন যা বাল সাল লিখসি তা আসলে আগের লেখা। গত বছরের লেখা। কপি পেস্ট করে ছেড়ে দিসি। দিন এর কোটা পুরা করসি।

লিখি নাই কারন লিখতে পারতেসি না। সবার একটা ইনার ভয়েস থাকে। যেইটা মানুষের একমাত্র ফ্রেন্ড। সারাদিন তার সাথেই আমাদের অনেক কথা বার্তা হয়। লিখতে বসলে এই ইনার ভয়েস ই বলে বলে দ্যায় কি লিখতে হবে। গত দুই দিন আমার এই ইনার ভয়েস চুপ মাইরা আসে। কথা বার্তা বিশেষ বলতাসে না। বল্লেও যা বলতাসে দ্যাট ইজ মেকিং মি মোর স্যাড।

তাই আপাতত লেখা লেখি হইতেসে না। ইনফ্যাক্ট কিছুই হইতেসে না। এই দীর্ঘ অর্থহীন জীবনের গন্তব্যে পৌছানোটা দেখতে আর ভাল্লাগতাসে না। যদি এই সিনেমা ভাল লাগতেসে না, পয়সা ফেরত দাও ব্যাপারটা কিভাবে করা যায় ফিগার আউট করতে পারি, যা আল্লাহর কসম আমি সত্যই চেষ্টা করতেসি, তাইলে আবার ঠিক ঠাক মত লিখতে পারবো আশা করা যায়।

আর না লিখলেই কি। আমার শব্দ দের শব্দ যেখানে শুধুই শব্দ দূষন করে সেখানে না লেখা টা মানে পরিবেশ এর বিরাট একটা উপকার কিন্তু। পৃথিবীটা বোকাদের জন্য না। এখানে অভিমান এর জায়গা শুধু মনের ভিতর ই।

তাই আকাশের দিকে মুঠো পাকিয়ে “আমিই কেন” জিজ্ঞেস করা নিষেধ। আল্লাহ ঠাডা মারবে কিন্তু।

 

১৮৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ৩০, ২০১৫ । ১০.৩২ পি এম

 

ছোটদের ওয়ার্ল্ড ওয়ার ওয়ান (পর্ব ২)

আগের পর্বে আমি শেষ করসিলাম কেম্নে একটা ফাউল ঘটনা নিয়া বাল্কান পেনিন্সুলার একটা ছোট দেশ Bosnia and Herzegovina তে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পানি বল্কাইতাসিল ।

অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্য থ্রেট দিসিল সার্বিয়া রে। ৪৮ ঘন্টা সময় বাইধা দিসিল। এদিকে সার্বিয়ার বন্দু রাশিয়াও লুঙ্গি কাসা মাইরা রেডি হইতাসিল বন্দু রে হেল্প করতে। রাশিয়ার বন্দু ফ্রান্স ও হাত পা চেগায়া বইসা নাই, হেরাও উইট্টা খারানির তাল করতাসিল। অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি এরও বন্দু কম আসিল না। রাশিয়ার লুঙ্গি কাসা মারা দেইখা জার্মানিও উইট্টা গলাবাজি করতাসিল আমার বন্দুর কিসু হলে ঝল্বে আগুন ঘরে ঘরে।

এদ্দুর পইড়া আমার মনে হইসে কিরুম জানি পেস পুস লাগতাসে। কার লগে কার দোস্তি আর কে কার এলাই এইডা না বুইজ্জা আগানি ঠিক হইতাসে না। আমার চোখে কম দেখা নানি যেমন সিনেমা দেখতে বসলে নায়ক রে মাইর খাইতে দেখলে উত্তেজিত হয়া “বেশ করসে, বেশ করসে, আরো মার, আরো মার” করতো, ব্যাপার টা পরে দিয়া সেরম হয়া যাইতে পারে। তাই অত্র এলাকার কৃতি সন্তান দের রাজনৈতিক ইতিহাস টা এট্টু জাইনা আগানি প্রয়োজন মনে করলাম।

(ভাব লয়া চশ্মা নাকের উপ্রে উডানির ইমো হবে) ঊনবিংশ শতাব্দি তে বড় বড় ইউরোপিয়ান হেডম রা তাদের হেডম গিরি বজায় রাখতে বদ্ধ পরিকর আসিল। তাই এর লগে হে, হের লগে এ এরুম বহুত রাজনৈতিক আর সামরিক বন্ধুত্ব হইসিল এই দেশ এর লগে হেই দেশ এর।

এইডা শুরু হয় ১৮১৫ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর নেপোলিয়ান এর পতন এর পর প্রুশিয়া, রাশিয়া আর অস্ট্রিয়া মিল্লা “দি হলি এলায়েন্স” বানানির পর। প্রুশিয়া নাম ডা হুনলে নটরডেম এর কেমিস্ট্রি ল্যাব এ করা “প্রুশিয়ান ব্লু” লবন এর কথা মনে হইলেও উইকিপেডিয়া পইড়া জানতে পারলাম প্রুশিয়া আসলে জার্মানির ই একটা কিংডম আসিল, পরে হেরা জার্মানির লগে মিল্লা ঝিল্লা গেসে।

জার্মানির ছোট বড় স্টেট গুলা এই প্রুশিয়ান লিডারশিপ এ ১৮৭১ সালে প্রুশিয়া-ফ্রান্স যুদ্ধের পর সম্পূর্ণ রঙ্গিন “জার্মান সাম্রাজ্য” প্রতিষ্ঠা করে। হের দুই বছর পর জার্মান চেন্সেলর অটো ভন বিসমার্ক (Otto von Bismarck) ১৮৭৩ সালে “লিগ অফ থ্রি এম্পেররস” নামে একখান হেডম ক্লাব টাইপ এলায়েন্স করেন যার মাথা আসিল জার্মানির কাইজার, রাশিয়ার জার আর অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির সম্রাট। কিন্তু এই দোস্তি বেশিদিন টিকে নাই । বাল্কান পেনিন্সুলা নিয়া কাইজ্জা কাইজ্জি কইরা রাশিয়া এই তিন দল থিকা বাইর হওয়া যায়। তইলে ঘটনা দাড়াইল এরুম

এক পক্ষঃ অস্টিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্য, জার্মানি
আরেক পক্ষঃ রাশিয়া

কয়দিন পর ১৮৮২ সালে এক পক্ষ পটায় পুটায় ইটালি রেও তাগো দলে লয়া আসে। আর তাগো দল এর নাম দ্যায় “ট্রিপল এলায়েন্স”। তইলে ঘটনা দাঁড়াইল এরম

এক পক্ষ ( দি ট্রিপল এলায়েন্স ) : অস্টিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্য, জার্মানি, ইটালি
আরেক পক্ষঃ রাশিয়া

এদিকে রাশিয়াও বয়া নাই। হেরা জানত যে প্রুশিয়া অরফে জার্মানি আর ফ্রান্স এর যুদ্ধের পর হেরা একটা আরেক্টারে দেখতারে না। তাই “আমার শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু” এই নীতি ফলো কইরা রাশিয়া গিয়া ফ্রান্স এর লগে হাত মিলায়। জানুয়ারির চাইর তারিখ, ১৮৯৪ সাল এ গঠন হয় ফ্রাঙ্কো-রাশিয়ান এলায়েন্স। তইলে ঘটনা দাঁড়াইল এরম

এক পক্ষ ( দি ট্রিপল এলায়েন্স ) : অস্টিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্য, জার্মানি, ইটালি
আরেক পক্ষ ( ফ্রাঙ্কো-রাশিয়ান এলায়েন্স): রাশিয়া, ফ্রান্স

এদিকে ব্রিটিশ রা ভাব্লো বেক্তে মিল্লা নিজেরা নিজেরা ভাবসাব কইরালতাসে, আমরা কি বয়া বয়া ফিশ এন্ড চিপ্স খামু? আম্মো এলায়েন্স করাম। তাই হেরা হেগো অনেক দিন এর কনফ্লিক্টিং প্রতিবেশি ফ্রান্স এর লগে ১৯০৪ সালে গিয়া করলো “এন্তেতে করডিয়াল” (Entente cordiale) ।

তইলে ঘটনা দাঁড়াইল এরম

এক পক্ষ ( দি ট্রিপল এলায়েন্স ) : অস্টিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্য, জার্মানি, ইটালি
আরেক পক্ষ ( ফ্রাঙ্কো-রাশিয়ান এলায়েন্স, এন্তেতে করডিয়াল): রাশিয়া, ফ্রান্স,ব্রিটেন

তার আর মাত্র তিন বছর এর মদ্যে ১৯০৭ সালের আগস্ট এর একত্রিশ তারিখে ব্রিটেন আর রাশিয়ার মধ্যেও একটা একটা ভাবসাব হয়া গেল যার ফরমাল নাম “এংলো-রাশিয়ান কনভেনশন Anglo-Russian Convention”

তইলে ঘটনা দাঁড়াইল এরম

এক পক্ষ ( দি ট্রিপল এলায়েন্স ) : অস্টিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্য, জার্মানি, ইটালি
আরেক পক্ষ ( ফ্রাঙ্কো-রাশিয়ান এলায়েন্স, এন্তেতে করডিয়াল, এংলো-রাশিয়ান কনভেনশন): রাশিয়া, ফ্রান্স,ব্রিটেন

যুদ্ধ শুরু হউনের পর এই এক পক্ষের নাম হওয়া গেসিল “সেন্ট্রাল পাওয়ারস” আর আরেক পক্ষের নাম হইসিল “দি এলাইস”। কারন টা পুরাই ভোউগোলিক। তাই পরের লেখা গুলাতেও এই পক্ষ গুলারে এই নামেই ডাকা হইব। “দি এলাইস” এ যুদ্ধের শেষের দিকে যোগ দিসিল জাপান আর আমেরিকা। আর বাল্কান পেনিন্সুলার অটোম্যান সাম্রাজ্য আর বুলগেরিয়া যোগ দিসিল “সেন্ট্রাল পাওয়ারস” এ।

তইলে ঘটনা দাঁড়াইসিল এরম

সেন্ট্রাল পাওয়ারস : অস্টিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্য, জার্মানি, ইটালি, অটোম্যান সাম্রাজ্য আর বুলগেরিয়া ।
দি এলাইস: রাশিয়া, ফ্রান্স,ব্রিটেন, আমেরিকা আর জাপান ।

আরো কিছু গুরা গারা দেশ যুগ দিসিল দুই পক্ষেই তয় অইডা লেখা আগানির লগে লগে এড কইরা লমু নে। মাথার খেমতা কম তো, তাই এক বারে বেশি পড়ালেহা করতারি না।

তথ্য সুত্রঃ
World War I (http://en.wikipedia.org/wiki/World_War_I)
Otto von Bismarck (http://en.wikipedia.org/wiki/Otto_von_Bismarck)
League of the Three Emperors (http://en.wikipedia.org/wiki/League_of_the_Three_Emperors)
Triple Alliance 1882 (http://en.wikipedia.org/wiki/Triple_Alliance_(1882) )
Franco-Russian Alliance (http://en.wikipedia.org/wiki/Franco-Russian_Alliance )
Entente cordiale (http://en.wikipedia.org/wiki/Entente_cordiale )
Anglo-Russian Entente (http://en.wikipedia.org/wiki/Anglo-Russian_Entente )
Balkans (http://en.wikipedia.org/wiki/Balkans )
Prussia (http://en.wikipedia.org/wiki/Prussia )
Holy Alliance (http://en.wikipedia.org/wiki/Holy_Alliance )
BBC Documentory on WW 1 part 2 (https://www.youtube.com/watch?v=cqW1cH_q0EQ )

 

১৮৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ২৯, ২০১৫ । ১১.১৫ পি এম

 

ছোটদের ওয়ার্ল্ড ওয়ার ওয়ান শিক্ষা ( পর্ব ১)

 

১৪১.৫ স্কয়ার কিলোমিটার এর শহর সারায়েভো (Sarajevo ).  Bosnia and Herzegovina এর রাজধানি। দেখতে খুবি সুন্দর শহর। ২০১১ সালে নমিনেশন পাইসিলো European Capital of Culture 2014 হউনের । কিন্তু পরে রিগা আর উমেয়া এর কাসে হাইরা যায়। এ হানে ২০১৭ সালে ইউরোপিয়ান ইউথ অলিম্পিক ও হইব। কিন্তু এই শহর এই যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সুইচ টিপা হইসিল, সেইটা আজকের আগে আমি জানতাম ই না।

ঘটনা হইল গুগুল ম্যাপ খুইলা জার্মানি এর উপ্রে গেলে হের দক্ষিণ পাশে ( ম্যাপের নিচের দিক মানে দক্ষিণ দিক ) তাকাইলে অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, চেক রিপাব্লিক এরম আরো কিছু দেশ আর পূর্ব দিকে তাকাইলে পোলেন্ড, ইউক্রেন, রোমানিয়া এরম কিছু দেশ এর নাম দেহা যায়। কিন্তু ১৯১৪ সালে ম্যাপ এরুম আসিল না। জার্মানির দক্ষিনে আসিল অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্য আর পূর্ব দিকে ( ম্যাপ এ পূর্ব পাশ মানে ডাইন পাশ) আসিল রাশিয়া।

এই অস্ট্রিয়া হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যে একটা অংশ চাইতো নিজেদের একটা স্বাধীন রাজ্য হউক। পাশের দেশ সার্বিয়া এই সব বিদ্রোহী দের সাপোর্ট দিত। কইত তরা চিল্লাফাল্লা করতে থাক, আমরা আসি পিসে দিয়া। এর লাইগা অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির রাজারা সার্বিয়া রে দেখতে পারতো না। প্রায় এই নিয়া দুই প্রতিবেশি দেশ এর মধ্যে কামরা কামরি লাগতো। তহন সার্বিয়া রে সাপোর্ট দিত অখন্ড রাশিয়া আর অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্য রে সাপোর্ট দিত জার্মানি। অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির রাজা তো প্রকাশ্যেই ঘোশনা দিসিল, “সার্বিয়া একটা সাপ, হেরে ফারা মাইরা পেড টা গাইল্লালবাম”

যাউক গা, মেইন পেসপুস লাগোন টা শুরু হইল ২৮শে জুন, ১৯১৪। ওই দিন অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির সিংহাসন এর উত্তরাধিকার জনাব ফারডিন্যান্ড (Archduke Franz Ferdinand) সারায়েভো তে আইসিলেন তার বউ সোফি (Sophie, Duchess of Hohenberg) সহ সরকারি সফর এ। এদিকে সারবিয়া থেইকা ছয় জন এর একটা জংগি দল ও গোপনে আইসা পৌছায় এইহানে।

সফর শেষে খোলা গাড়ি বহর নিয়া ফিরার সময় সেই ছয় জন এর দলের একজন, ২০ বছর বয়সি গ্যাভ্রিলো (Gavrilo Princip) খুব কাছে থেইকা দুইটা গুলি করেন। ফারডিন্যান্ড এবং তার স্ত্রী সোফি লগে লগেই নিহত হন।

এই ঘটনা অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্য খুবই পারসোনালি নেয়। তারা সার্বিয়া রে আল্টিমেটাম দ্যায় লাইনে আসার লাইগা, কিন্তু সার্বিয়া এই সব আল্টিবাল্টি মেটাম রে পাত্তা পুত্তা না দেওন এর টাল্টিবাল্টি করনের ডিসিশন লয়। তার পর পর ই অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্য সার্বিয়া এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে।

এই খান থেইকাই শুরু হয় ওয়ার্ল্ড ওয়ার ১ এর । যাতে আস্তে আস্তে জড়ায় পরে আরো দেশ। মারা যায় ৯ মিলিয়ন সৈন্য আর ৭ মিলিয়ন সিভিলিয়ান। এই সব নিয়া পরের পর্বে লিখুম নে।

তথ্য সুত্রঃ

World War I (http://en.wikipedia.org/wiki/World_War_I)Assassination of Archduke Franz Ferdinand of Austria (http://en.wikipedia.org/wiki/Assassination_of_Archduke_Franz_Ferdinand_of_Austria)Sophie, Duchess of Hohenberg (http://en.wikipedia.org/wiki/Sophie,_Duchess_of_Hohenberg)Gavrilo Princip (http://en.wikipedia.org/wiki/Gavrilo_Princip)Sarajevo (http://en.wikipedia.org/wiki/Sarajevo)European Capital of Culture (http://en.wikipedia.org/wiki/European_Capital_of_Culture)Google Map (https://www.google.com/maps/@47.6828144,17.9797679,5z)Map during the 1914 (http://www.classzone.com/cz/books/north_carolina_08/resources/images/chapter_maps/nc19_powersineuropem.jpg)

 

১৮২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ২৮, ২০১৫ । ০৭.৪৮ পি এম

 

এখন কথা বলতে ইচ্ছা করতাসে না। কিছু ভাবতেও ইচ্ছা করতাসে না। তার চেয়ে বরং কবিতা হোক। এই কবিতাটা Oscar Wilde এর। প্রথমবার পড়ার পর পর ই প্রেমে পরে গেসিলাম। বিশেষ কইরা শেষ প্যারাগাফটার। এর চেয়ে ভাল করে বলা যায় না আর।

The wild bee reels from bough to bough
With his furry coat and his gauzy wing.
Now in a lily-cup, and now
Setting a jacinth bell a-swing,
In his wandering;
Sit closer love: it was here I trow
I made that vow,

Swore that two lives should be like one
As long as the sea-gull loved the sea,
As long as the sunflower sought the sun,–
It shall be, I said, for eternity
‘Twixt you and me!
Dear friend, those times are over and done,
Love’s web is spun.

Look upward where the poplar trees
Sway and sway in the summer air,
Here in the valley never a breeze
Scatters the thistledown, but there
Great winds blow fair
From the mighty murmuring mystical seas,
And the wave-lashed leas.

Look upward where the white gull screams,
What does it see that we do not see?
Is that a star? or the lamp that gleams
On some outward voyaging argosy,–
Ah! can it be
We have lived our lives in a land of dreams!
How sad it seems.

Sweet, there is nothing left to say
But this, that love is never lost,
Keen winter stabs the breasts of May
Whose crimson roses burst his frost,
Ships tempest-tossed
Will find a harbour in some bay,
And so we may.

And there is nothing left to do
But to kiss once again, and part,
Nay, there is nothing we should rue,
I have my beauty,–you your Art,
Nay, do not start,
One world was not enough for two
Like me and you.