১৮১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ২৭, ২০১৫ । ১১.১৫ পি এম

 

আজকে বাসাবো আসছি। তাই আজকে গাই টক বাদ। এইরকম পারিবারিক পরিবেশে জীবন যৌবন নিয়া দর্শনমুলক আলুচনা কপচানো যায় না। এইখানে টেবিল ভর্তি ভাত। বিছানা ভর্তি আরাম। এইখানে শুধু ঘুম পায়।

স্পিকিং অফ ঘুম, আমার কি জানি একটা হইসে। ডায়রিয়া টাইপ। ঘুমরিয়া। রাত আটটা বাজলেই চোখ ভাইংগা ঘুম আসতে থাকে। শরীর কেম্নে জানি বুঝসে যে অফিসের পর আমার আসলে কাজের কাজ কিছুই নাই। তাই আটটা বাজলেই মার্কেট এর মত সব দুকান বন্ধ করতে থাকে। প্রথমে বন্ধ করে চিন্তা ভাবনা। তখন আমি শুধু মানুসের কথা শুনি। কিছু প্রসেস করতে পারি না। সবাই যদি দেখি হাসতাসে তাইলে আমিও মুখটা ভেটকায়ে বইসা থাকি। মাঝে মাঝে মাথা নারাই যাতে বক্তা মন খারাপ না করে। আর মাঝে মাঝে “হমম সেটাই” বলি, যাতে পারটিসিপেট করতাছি ভাব টা বজায় থাকে। “হমম সেটাই” ইজ দা কোকাকোলা অফ কনভারসেশন, গোজ উইথ এনিথিং।

আমার টিপিকাল উইক ডে এর রুটিন বলি। আর ঘুম ভাইংগা যায় ভোর পাঁচটায়। পেচার মত ড্যাব ড্যাব কইরা তাকায়া শুইয়া থাকি সাতটা পর্যন্ত। তারপর উইঠা রেডি হয়া অফিসে যাই। আমাদের টিম এ সবার আগে অফিসে আসা চাইরজন এর মধ্যে আমি একজন। আগে আসলে একটা সুবিধা হয়। আস্তে ধিরে নিজের মত কইরা দিন শুরু করা যায়। মনে হয় অনেক টাইম আছে হাতে। প্রত্যেকদিন ঠিক ৮.৪৫ এ আমি নিচে নামি। অফিসের ক্যাফেটেরিয়া তে চাইরটা আটার রুটি আর একপ্লেট মুরগির মাংস খাই ঝোল মোল দিয়া। সারাদিন লেবুপানি খাই। দুপুরে একটা পেয়ারা খাই। অফিসের পর মাইপা মাইপা পাচ কিলোমিটার হাটি। তারপর আমার ঘুমারিয়ার বেগ আসে। আর আমি জোম্বির মত টলতে টলতে বাসায় আসি। কোন কোন দিন রাতে খাই, কোন কোন দিন খাই না। কোন মতে ভুউং ভাং যা মাথায় আসে নোট লিখা আবার ঘুম। এই ভাবে চক্র চলে প্রতিদিন।

কেমন মনে হইতাসে অনেকদিন পর শুক্রবার কালকে। হাত পা ছরায়ে ভুরিটা সিলিং এ ঠেক দিয়া বিকট আওয়াজ কইরা হাই তুইলা একটা ঘুম দেই। বিদায়।

 

১৮০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ২৬, ২০১৫ । ৯.৪৩ পি এম

 

এইটা আগের লেখারই কন্টিনিউএশন। মুল লেখায় শেষ লাইন ছিল একটা ব্যাড বয় এর মধ্যে কি এমন থাকে যা একটা নাইস গাই এর মধ্যে থাকে না। এই প্রশ্ন টার উত্তর খোজার ট্রাই করি একটু। গতদিন ১ নম্বর লিখসিলাম। আজকে ২ নম্বর।

২ নম্বর পার্থক্যঃ এগ্রেসিভনেস

ব্যাড বয় রা এগ্রেসিভ হয়। ব্যাড বয় রা এসারটিভ হয়। এসারটিভ হয় বলতে আমি বুঝাইসি তারা বেশ কনফিডেন্ট আর স্ট্রং ভাইব দ্যায় সবাইরে। এরা হইল সেই রকম ছেলে যারা কিছু একটা দ্যাখে , বুঝে যে তাদের এইটা লাগবে আর দে গো ফর ইট। তারা সেই সময়টার সদ্ব্যবহার করে যে সময় টা নাইস গাই রা মেয়েটা যদি রিজেক্ট কইরা দ্যায় ওই চিন্তায় চিন্তায় আর কিছুই করতে পারে না।

নাইস গাইরা অবশ্য পরোক্ষ এগ্রেসিভনেস এ বেশ ওস্তাদ হয়। কারন তারা রিস্ক নিতে চায় না। আর তাদের সব চেষ্টা সামাজিক যোগাযোগ ব্যাবস্থা ব্যাবহার কইরা যদি কিছু করা যায় সেই চিন্তায় সীমাবদ্ধ হয়া যায়। মেয়েটার জন্য “কিছু” করা কে তারা সবচেয়ে ভাইটাল অস্ত্র বইলা মনে করে। যেমন মেয়েটারে একদিন শপিং এ নিয়া গেল, অথবা নোট যোগার কইরা দিল, অথবা ছোটখাট বিষয় যেমন রিকশা ডাক দিয়া দিল এরকম। বাকের ভাই এর কথা মনে আসে? মুনা কে ইমপ্রেস করার জন্য যা কিছু করত তার সবই প্যাসিভ এগ্রেসিভনেস এর ক্লাসিক উদাহরণ।

এই কাজ টা নাইস গাই রা ক্যান করে? আপাত দৃষ্টি তে মনে হয় এবং তারা নিজেরাও তা মনে করে যে, এইটা তারা করে কারন তারা টু কাইন্ড। তাদের দিল এ কুনো রক্ত নাই, সব গোলাপি গোলাপি ভালুবাসা দিয়া ভর্তি। কিন্তু আসলে তা না। আসলে তারা এগুলা করে কারন অবচেতন ভাবেই তারা মনে করে যে এই টা করলে মেয়েটা তার প্রতি অব্লিগেটেড ফিল করবে।

কিন্তু ব্যাড গাই রা কি এগুলা করে না? করে । কিন্তু মনে রাখতে হবে, ব্যাড গাই রাইরাই একমাত্র তারা , যারা এগুলা কইরাও আসলে কিছু পদক্ষেপ ন্যায় মেয়েটার বেপারে। নাইস গাই দের মত মেয়েটা প্রথম স্টেপ টা নিবে তার জন্য অপেক্ষা কইরা দিন, মাস এমন কি বছর পার কইরা দ্যায় না।

এগ্রেসিভনেস এর ছোট আরেকটা উদাহরণ দেই। একটা নাইস গাই আর একটা ব্যাড বয় রে বলা হইল, “মেয়েটার কিন্তু বয়ফ্রেন্ড আছে”। নাইস গাই বলবে, হ্যাঁ জানি তো, ও খুব ভাল ছেলে, আমার সাথে ফ্রেন্ডশিপ আছে। আই উইশ অল দা বেস্ট টু দেম। অদের কোন হেল্প লাগলে আমাকে বইল। আর ব্যাড গাই বলবে, আরে রাখ তোর বয়ফ্রেন্ড। ওই সব একটু আধটু থাকেই। কত বয়ফ্রেন্ড আইতে যাইতে দেখলাম। আমার সাথে দেখা হয় নাই তো এতদিন, তাই ঐ ভুসা মাল এর লগে একটু ঘুরা ঘুরি করসে আরকি। ব্যাপার নাহ। ওরে ওর ভাই বানায়া ফালামু। আর ওরে তো আমি আমার বানায়াই ছারুম।

নাইস গাই রা সুযোগের অপেক্ষা করে আর ব্যাড বয় রা নিজে সুযোগ তৈরি করে।

 

১৭৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ২৬, ২০১৫ । ১২.০০ এ এম

 

এইটা আগের লেখারই কন্টিনিউএশন। আগের লেখায় আবার শেষ লাইন ছিল একটা ব্যাড বয় এর মধ্যে কি এমন থাকে যা একটা নাইস গাই এর মধ্যে থাকে না। এই প্রশ্ন টার উত্তর খোজার ট্রাই করি একটু।

১ নম্বর পার্থক্যঃ কনফিডেন্স।

তাদের হাটার মধ্যে একটা ভাব আছে। তাদের শিনা টান। তাদের মাথা ঠেকানো আকাশের গায়ে। তারা যেখানেই যায়, জায়গাটার মালিক হয়া যায়। তারা জোরে কথা বলে। তারা ভিতরে ভিতরে জানে যে তারা গু এর চাক্কা কিন্তু উপরে উপের দুনিইয়ার ভাব নিয়া উল্টায় ফেলায় সব। তাদের সাথে মিশলেই বুঝা যায় যে এই ধরনের লোকেদের সারাক্ষণ আমি আমি করার যে ভলিউম তাতে আর কারো কথা কানে ঢুকার কোনও সম্ভাবিলিটি নাই।

আর আমাদের টিপিকাল আরবিটার (আগের পর্বে লিখসই) কি করে? তারা সারাক্ষনই একটু নিচু হয়া কুঁজা হয়া থাকে। তারা আস্তে আস্তে কম ভলিউমে কথা বলে। সব কিছু নিয়া কনফিউশন এ ভোগে। নিজেকে নিয়া নিজের মত থাকাই ভাল্লাগে ওর। তারা কোথাউ বেশি সমস্যা তৈরি করতে চায় না আবার অনেক বেশি এটেনশন পাবে এরকম কিছুও করতে পারে না।

এদের রিজেকশন এর ভয় প্রচুর। তাই তারা ভয় পায় যে বেশি কথা বলতে গেলে না আবার এখন যা আসে তাও নষ্ট হয়। তাই যেমনে আছে তেমনেই থাকুক। প্রেম ভালবাসার ব্যাপারে এরা মারত্মক ভয় এ ভোগে। তারপর তার মধ্যে আস্তে আস্তে একটা ওয়ানিটি জম্ন ন্যায়। ওয়ানিটি মানে সে ভাবে যে এই মেয়ের সাথে যদি কিছু না হয় তাইলে আর জীবনেও কারো সাথে কিছু হবে না। যখন আসলেই কিছু হয় না, তখন ই এদের মাথা খারাপ এর মত হ্ইয়া যায়।

কিন্তু ব্যাড বয় রা জানে যে তারা ইচ্ছা করলেই যাকে চায় তাকে পেতে পারে। তারা তাদের এটিচিউড ই গ্রো করে এভাবে যাতে তাকে সবার চেয়ে বেশি ভাব এর লাগে। এরা মেয়েদের পিছন পিছন ঘুরে না। তারা ভাইবা সময় নষ্ট করে না যে, এই করব সেই করব । তারা সরাসরি মাঠে নাইমা যায়।আর দিন শেষে এরাই একটা রিলেশনশিপ এর ড্রাইভার এর সিট এ বইসা থাকে।

কি আর করা। আন ফেয়ার দুনিয়া। আমি ঘুমাইয়া গেসি আরো আগেই। কি লেখলাম ঘুমের মধ্যে আল্লায় জানে। এই বার হাচা হাঁচাই ঘুমাইতে গেলাম।

 

১৭৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ২৫, ২০১৫ । ১২.০০ এ এম

 

কিছু গাই টক করা যাক।

আমি আজকেও শুনসি “নাইস গাই হওয়া উচিত না”, কোন মেয়েই “নাইস গাই” কে বেশি দিন পছন্দ করে না। ব্যাপার টা নিয়া একসময় বেশ কিছু পড়ালেখাও করসিলাম। তখন জিনিষ টা নিয়া লিখি নাই কারন খুব অল্পই পড়সিলাম টপিক টা নিয়া। এখন মনে হইতেসে, কিছু কিছু কইরা লেখা শুরু করা উচিত। তাহলে অন দা ওয়ে তে আরো পড়ার তাগিদ টা আসবে।

“নাইস গাই” কনসেপ্ট তার আগে একটু খোলাসা কইরা বলি। আমরা এমন একটা ছেলেকে নিশ্চয়ই চিনি যে খুবি প্লেটোনিক ভাবে মেয়েটার সাথে থাকতো, তার সাথে শপিং এ যাইতো, মেয়েটা যখন লোনলি ফিল করতো তারে সংগ দিতে ফোন করত, মেয়েটা যখন তার গাধাছিদ্র বয় ফ্রেন্ড কেমনে তারে বান্দির মত ট্রিট করসে বইলা কাইন্দা ফোন এর নেটওয়ার্ক ভাসায়া দিত, তখনো ছেলেটা অনেক সময় নিয়া চুপচাপ পুরাটা শুনত, সান্তনা দেয়ার চেষ্টা করত।

এরকম অন্তত একটা ছেলেকে আমরা চিনি যার কথা মেয়েটা তার বন্ধুদের কাছে হাসতে হাসতে বলত যে ছেলেটা তার পাপি ডগ, যে কিনা তার একটু এটেনশন পাওয়ার জন্য কত কিছু করত, যেমন দৌড় দিইয়া গিয়া নোট ফোটকপি কইরা আনা, বা মেয়েটা পানি খাইতে চাইলে পারলে মাটি খুইড়া পানি বাইর কইরা আনা।

আমরা ছেলেটা কে নিয়া হাসাহাসি করতাম, সে আসে পাসে আসলে মেয়েটারে বলতাম, ওই যে তোর নায়ক আসছে। ফাইজলামি বেশি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে মেয়েটা থামায় দিত এই বইলা যে ওরা “জাস্ট গুড ফ্রেন্ডস”। আর বলতো, আরে দোস্ত, ছেলেটা আমার টাইপ এরি না। সবসময় ই ছেলেটা হয় বেশি বাট্টু, নাইলে বেশি মোটা, নাইলে বেশি শুকনা, নাইলে বেশি খ্যাত। এক কথায় মেয়েটা যারে বয়ফ্রেন্ড দাবি করত, সেই বয়ফ্রেন্ড অনেক সহজে যা কিছু, ওই ছেলেটা অনেক চেষ্টার পরেও তার ধারে কাছে কিছু না।

এই গাধাছিদ্র বয়ফ্রেন্ড এর সাথে সম্পর্ক যত ঘনীভূত হয়, সেই ছেলেটা তত ফেড আউট হইতে থাকে। কারন “ওই ছেলেটা একটু উইয়ার্ড টাইপ”। তারপর আস্তে আস্তে আর যোগাযোগ ই থাকে না। দিন যায়, মেয়েটার বয়ফ্রেন্ড এর সাথে ঝামেলা হয়, মেয়েটা রিয়ালাইজ করে বয়ফ্রেন্ড এর যে জিনিশ গুলা তার ভাল্লাগে সেইগুলা আসলে লং টার্ম রিলেশনশিপ এর জন্য উপযোগী কিছু না। মেয়েটা সিঙ্গেল হয়। বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর যখন শুধুই শো অফ আর প্লেয়ার ছেলেদের দেইখা দেইখা মেয়েটার মনে “সব ছেলে লুইচ্চা” ধারনা আরো পাকাপোক্ত হয়, তখন মেয়েটা ভাবতে থাকে, “সব ছেলে এমন খারাপ ক্যান, সবাই খালি শারীরিক প্রেম চায়। একটা ভাল , নাইস গাই পাওয়া এত টাফ, ভাল মানুষ গুলা কই মরসে সব”।

মনে হয় এতক্ষণে “নাইস গাই” এর কনসেপ্ট টা ক্লিয়ার করতে পারসি। আমরা মোটামুটি জানি এই ছেলে গুলা কারা। এরা সব সময়ই বইলা আসে “আরে ও তো আমার “বন্ধু”, কিন্তু মনে মনে আশা কইরা যায় মেয়েটা একদিন “ওয়াও, ছেলেটা কত অসাম” বইলা আগায় আইসা প্রথম পদক্ষেপ টা নিবে। কিন্তু ছেলেটার জায়গা হয় শেষ মেশ ফ্রেন্ডজোন বা বন্ধুস্থান নামক নির্বাসনে।

এই যদি অবস্থা হয়, তাইলে আমি বলবো, এই অবস্থা ছেলেটার নিজেরই তৈরি। এবং তার এরম কষ্টই পাওয়া উচিত। অনেস্টলি বলতে এই নাইস গাই ছেলেটা ইভেন ফ্রেন্ড ও না মেয়েটার। সে একটা অরবিটার। একটা উপগ্রহ। সে সারাজীবন চারপাশেই ঘুরবে, আসল সংস্পর্শে আসার সাহস করবে না। নাইস গাই দের নিয়া আমার ব্যাক্তিগত অভিমত হইল,

Nice guys are passive.
Nice guys are clingy.
Nice guys are predictable.
Nice guys are boring.

এর মানে এই না যে আমি বলতে চাইতাসি মেয়েদের নেগ্লেক্টেড হইতে ভাল্লাগে অথবা গাধাছিদ্র দের দারা ইমোশনালি আর ফিজিকালি এবিউজড হইতে মেয়েদের ফেভারিট। ঘটনা তা না। It’s all about behavior and attitudes.

একটা ব্যাড বয় এর মধ্যে কি এমন থাকে যা একটা নাইস গাই এর মধ্যে থাকে না সেইটা লয়া আগামী লেখায় বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা রাখি।

 

১৭৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ২৩, ২০১৫ । ১০.০৩ পি এম

 

মাঝে মাঝে মনে হয় বলে দেই সব। যাকে ভাল লাগে তাকেও বলে দেই। যাকে ভাল লাগে না তাকেও। তারপর বসে বসে দেখি কিভাবে পৃথিবী ধ্বংস হয়। আমি কিভাবে বদলে যাই সবার চোখে। কিভাবে আমাকে নিয়ে কথা হয়। এই অনুভূতি খুব বাজে। যা মনে আসে করতে পারি না। যা করতে হয় তা করি। কেমন ভণ্ড লাগে নিজেকে। উপরে এক ভিতরে আরেক। উপরে মুক ও বধির সন্ন্যাসী আর ভিতরে কাউকে কাউকে খুন করে লাশ পুতে ফেলাও শেষ।

গুড নিউজ হলো অভ্যাস হয়ে গেছে। আমি পৃথিবীর সবচেয়ে নিরীহ প্রাণী হয়ে বাকি জীবন টা কাটানোর রাস্তা টা চিনে গেছি। চুপ থাকো এবং কেয়ার করা বন্ধ কর। ব্যাস, আমার চেয়ে সুখি আর কেউ নেই। কথা বললেই সমস্যার চাকা ঘোরা শুরু করবে। আর কেয়ার করলেই কষ্ট পাওয়ার ট্রেন পেয়ে যাবে সবুজ বাতি। নীল ধোয়া ছারতে ছারতে এসে পিশে রেখে যাবে আমাকে। আমার ছিন্ন হওয়া অর্ধেক টা তখনো হাসি মুখে বলবে , ঠিক আছে… ব্যাপার না… অসুবিধা নাই।

একটা মানুষের মরে যাওয়ার আগে কিছু কাজ আছে। যেগুলো তার অবশ্যই করে যাওয়া উচিত। জীবনে অন্তত একটা গাছ লাগানো উচিত, এক জন কে লিখতে পড়তে শেখানো উচিত, একটা বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখা উচিত আর তার জীবনের শিক্ষা টা সাথে করে নিয়ে না গিয়ে রেখে যাওয়া উচিত। আমার সব গুলাই করা শেষ। শুধু শেষের টা করে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। অনেক ভাল হবে যদি তিনশ পঁয়ষট্টি নম্বর লেখাটা লিখে যাওয়ার পর খাতা জমা দিয়ে বের হয়ে হয়ে যাতে পারতাম এই পরীক্ষার হল থেকে।

আমি আজকে ঢাকা আসছি। যখন পাবনা থেকে রওনা দেই তখন শেষ রাত। রাত চারটা দশ এ বাস টা দৌড়ানো শুরু করলো। আর দৌড়াতে দৌড়াতে এই কোন দিকে তাকানোর সময় নেই শহরে এসে যখন থামলো তখন সবাই দৌরাচ্ছে অলরেডি। বাস থেকে নেমে আমিও দৌড়ানো শুরু করলাম। অফিসে আসলাম। অফিস করলাম। ডেস্ক এ বসে দৌড়ালাম আরো অনেক গুলা মানুষের সাথে। ফোনে, ই মেইলে, কথায়। একটা সময় মনে হলো কেমন মাতাল লাগছে। কলিগ আপু বললো, বাসায় গিয়ে ঘুমাও। আমার অযুহাতপ্রিয় মন তাতেই হাততালি দিয়ে হাটা শুরু করলো বাসার দিকে। তাকে অনেক কশটে টেনে তুনে শরীর এ রাখলাম পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত। তারপর রিটায়ার্ড হার্ট ব্যাটসম্যান এর মত লজ্জা লজ্জা মুখ করে বাসায় চলে আসলাম। কথা ছিল আমি তামীম ভাই বনানী যাব ঘুরতে। কিন্তু ক্লান্তির চেয়ে বেশি ছিল অবসাদ। তাই আর বের হওয়া হয়নি।

আমার জন্য হতাশা চর্চা করা টা একটু কঠিন। আমি জানি আমাকে দেখে দেখে অনেকে ইন্সপায়ারড হয়। ভাব নেওয়ার জন্য বলছি না। আসল, সত্যিকার এর, জলজ্যান্ত মানুষ আমাকে বলেছে , “আপনাকে দেখে আমি ইন্সপায়ার হই”। এইটা এই জীবনের অনেক বড় পাওয়া। অফিসে গদি তে বসা মহাজনেরা যখন ইন্সপাইরেশন নিয়া বড় বড় বুলি আউরায় আর কাজের বেলায় বসে ঘণ্টা বাজায় তখন আমি আমার এই অর্জন এর কথা ভাবি। ইচ্ছা করে ওদের বলি, আপনার থেকে যদি এই ডেজিগনেশনটা আর অফিসটা মাইনাস করি, তাহলে আর কি থাকে? একটা স্বার্থপর কুৎসিত প্রতিভাহীন মানুষ ছাড়া?

কিন্তু আমি আমার হতাশা লুকিয়ে রাখলে যেটা হবে তা হল নিজের সাথে বেইমানি। আমার কাছে জীবন টাকে একটা বিশাল লাল সুইচ মনে হচ্ছে। যেই সুইচ টা আমাকে কে জানি ধরিয়ে দিয়ে কেটে পরেছে। সুইচ এর উপর লেখা ডু নট প্রেস। চাইলে সারা জীবন সুইচ টা ইগ্নোর করে কাটায় দেওয়া যায়। যত্ন করে রাখলাম, ধুলা টুলা ঝাড়লাম মাঝে মাঝেই, আগের দিন এর টিভির কাভার এর মত একটা কাভার দিয়াও রাখতে পারি। সুইচ টা টিপ দিলে যে কি হবে, তা কেউ বলতে পারে নাই। কিন্তু ভাল কিছু হবে না এইটা শিওর। নাইলে তো উপরে ডু নট প্রেস লিখে রাখতো না। কত দিন পারব জানি না। একদিন হয় তো লাল সুইচ টা টিপ দিয়ে ধ্বংস দেখার অপেক্ষা করবো। তাও তো ভাল। আমি জানবো যে, আই ট্রাইড টু সি হোয়াটস অন দি আদার সাইড।

কি যে লিখলাম এগুলা। মনের ভিতর থেইকা আওয়াজ আসতাসে,

” বাইয়া, এট্টু বুজাইয়া কওউ। ”

 

 

 

১৭৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ২২, ২০১৫ । ১১.৩৭ পি এম

 

আমরা আজকে ঈশ্বরদি এয়ারপোর্ট গেসিলাম। ঈশ্বরদী এয়ারপোর্ট এর ইতিহাস অনেক পুরোনো। ২য় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময় এইটার নাম ছিল হিজলি এয়ারবেস (Hijli Base Area)। অপারেশন মেটারহর্ন এর একটা গুরুত্বপূর্ণ বেজ ছিল এই ঈশ্বরদি। কথা যখন উঠলই একটু অপারেশন মেটারহর্ন (Operation Matterhorn) নিয়া বলি।

২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউ এস আর্মি জাপান, চায়না আর বার্মার উপর বোমা ফালানোর জন্য একটা অপারেশন এর পরিকল্পনা করে। এইটা একটা স্ট্রেটেজিক বোম্বিং অপারেশন আর ব্যাবহার করা হবে বি টুয়েন্টি নাইন (B-29 Superfortresses) বোমারু বিমান। এই কাজ এর দায়িত্ব দেয়া হইল আমেরিকার টুয়েন্টিএথ এয়ারফোর্স কে। এরাই হিরোশিমা তে আনবিক বোমা ফালানোর দায়ীত্বে ছিল। তাদের একটা উইং হইল ফিফটি এইঠথ বোম্বারমেন্ট ইউনিট। এরা ইন্ডিয়া আর বাংলাদেশে কিছু বেজ বানাইলো এই কাজ এর জন্য। এর মধ্যে একটা বেজ ছিল ঈশ্বরদি। আর অপারেশনটার নাম ছিল অপারেশন মেটারহর্ন।

আমার কাছে ঈশ্বরদী এয়ারপোর্ট অনেক ভাল্লাগসে। ছোট্ট কিউট একটা এয়ারপোর্ট। ৪৭০০ ফিট রানওয়ে। শেষ বিমান নামসিল ২০১৪ এর অগাস্ট এ। তারপর থেইকা আর কোন অপারেশন নাই এইখানে। আমরা রানওয়েতে হাইটা বেরাইসি। বইসা, লাফায়া ছবি টবি তুলসি। বেশ ফিলিংস এর বেপার সেপার হইসে।

কালকে ঢাকা ফেরত আসবো ইনশাল্লাহ। আমাদের বাস ভোর চারটা দশ এ। জোম্বির মত গিয়া বাস এ উঠব। তারপর ঢাকা নাইমা অফিসে ঢুইকা যাবো। ভাবতাসি আজকে রাতে আর ঘুমাবো নাকি সারা রাত গান বাজনা আর আড্ডা উড্ডা মাইরা কাটায় দিব।

আজকে আরেকটা ছোটখাট মজা হইসে। তামিম ভাই এর শালা অনেক সহজ সরল তাই সারাক্ষনই শালা-দুলাভাই এর মধ্যে লেগ পুলিং চলে। আমি বইসা বইসা মজা দেখি। আজকে তামিম ভাই ওর মোবাইল নিয়া কোন মেয়েরে লাভ সাইন পাঠায় দিসে, আর শালাবাবু (উনি শর্ত দিসে নাম প্রকাশ করা যাবে না) তো বিরাট লজ্জা টজ্জা পায়া শেষ। সে তারাতারি তার বান্ধবি রে ফোন দিসে, আর বলসে, শুনো, ওইটা আমি না, আমার দুলাভাই পাঠাইসে। ওই মেয়ে অইপাশ থেকে বলসে, তোমার দুলাভাই তো অনেক কিউট। আর শালাবাবু বেচারা উত্তেজিত হয়া তারাতারি বলসে, “শুন, আমার দুলাভাই এর সাথে লাইন মারতে আইসো না, উনি কিন্তু ম্যারিড, তাও আমার বোন এর সাথে”। আমরা এদিকে হাসতে হাসতে শেষ।

তামিম ভাই আবার দেশে আসবে আগামি বছর। এর আগে তো আর আসা হবে না পাবনা। পাবনা শহরও আমার অনেক ভাল্লাগসে। ইছামতি আর পদ্মার পারে ছোট খাটো ছিমছাম শহর। ভাল মানুষ এর শহরে আসলে একটা শান্তি শান্তি ভাইব পাওয়া যায়। যেইটা আমি এইখানে পাইসি। যার পুরা কৃতিত্বই তামিম ভাই এর।

প্রিয় তামিম ভাই আর উনার অসামেস্ট পরিবার, আমাকে এই তিন দিন সহ্য করার জন্য ধন্যবাদ। বিদায়। আবার দেখা হবে।

 

১৭৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ২১, ২০১৫ । ১১.৩৪ পি এম

 

পাবনায় ২য় দিন। সকাল টা শুরু হইসে অনেক সকালে। সবাই ঘুমায়া ছিল। আমি চুপ চাপ খালি পায়ে ছাদে উইঠা আসলাম। ছাদ ভরতি তাহসিন আন্টির হাজার রকম গাছ। কালকে রাত্রে বৃষ্টি হইসিল। পাতায় পাতায় পানি আটকায় ছিল। আমার সাথে সেভেন ডি টা ছিল না। পকেটে মোবাইল ছিল ওইটা দিয়া ছবি তুল্লাম কয়েকটা। একটা কাজি পেয়ারা গাছ আছে ওই টার কাছা কাছি আসলে দেখলাম একটা টুনটুনি পাখি। একটা পেয়ারা খাইতেসিল ঠুকরায় ঠুকরায়।

দাঁড়ায় দাঁড়ায় ছবিটা দেখলাম। সাথে একটা টেলি লেন্স থাকলে কেম্নে ছবিটা তুলতাম চিন্তা করলাম। তারপর টুন্টুনিটা চইলা গেলে আমিও নিচে চইলা আসলাম। সব ছবি আমি তুলতে পারবো এমন কোন কথা নাই। কিন্তু এভ্রি মিসড অপারচুনিটি মেক্স ইউ রেডি ফর দা নেক্সট ওয়ান।

নিচে আইসা দেখলাম রিটা আন্টি নাস্তা রেডি কইরা বইসা আসে। আমাকে বলল, তামিম যখন উঠবে তখন ত আর নাস্তা খাওয়ার টাইম থাকবে না। তুমি খায়া ফালাও। ঢাকায় থাকতে যতদুর ওজন কমাইসিলাম এই খানে আইসা তার ডাবল বাড়ায়া ফালাইতাসি, মাশাল্লাহ।

নাস্তার পর আমি আন্টির কাছ থেইকা একটা নেক্রা চায়া নিলাম, তারপর তামিম ভাই এর বুকশেল্ফ এর উপ্রে ঝাপায়া পর্লাম। একটা তাক এর প্রায় দুই তিনশ বই নামাইলাম, এগুলারে ঝাইরা মুইছা ভাল বই গুলা আলাদা কইরা সর্টিং করলাম। তারপর আবার তাকে সাজায়া রাখলাম। কত যে দুরদান্ত সব বই পাইসি। সব ছোটবেলার বই গুলা। তামিম ভাই এর শৈশব এ হাইটা বেড়াইতাসিলাম মনে হইতাসিল।

বই গুছানির সময় তামিম ভাই এর আম্মা তাহসিন আন্টি আইসা বসছিল। আমরা অনেক গল্প করলাম। আন্টি তামিম ভাই এর ছোটবেলার গল্প বলতাসিল। একটা মা আর ছেলের বন্ধুত্ব্ এর গল্প। একটা মা যখন বলে, তোমার পড়ালেখায় ভাল হওয়ার দরকার নাই। ভাল মানুষ হউ তাইলেই হবে। তামিম ভাই যখন ইউনিভার্সিটি তে ঢুকল, তখন উনি তামিম ভাই কে বলসিল, প্রেম তো করবাই জানি, তবে যদি রাজাকার বা জামাত এর কেউ মেয়ের ফ্যামিলি তে থাকে, তাইলে সেইটা জীবনেও আমি মানবো না, এইটা মনে রাইখ। আমি শুধু শুনলাম আর তামিম ভাই এর বড় হওয়াটা চিন্তা করার চেষ্টা করলাম। আমি কোন কম্পারিজন করি নাই। আম্মাদের মধ্যে তো কোন কম্পারিজন করা যায় না। থাক।

দুপুরে খাওয়ার পর আমি বাছাই করা কয়েকটা বই নিয়া গড়াগড়ি করতে ফুটবল সাইজ এর বিছানাটায় উঠলাম। তারপর বিছানাটা দৌড়ানো শুরু করল নাকি দিন টা জানি না, কেম্নে কেম্নে জানি উই এন্ডেড আপ উইথ অনেক অনেক উকুলেলে বাজানি আর তারপর কেম্নে কেম্নে জানি একটা ডাবস্ম্যাশ ভিডুও বানাইলাম। মজা লাগসে।

আজকে সারাদিন বাড়ির সিমানার বাইরে পা রাখি নাই। কিন্তু দিনশেষে ঝুলি তে জমসে মোবাইলে তাহসিন আন্টির অনেক গুলা ফুলের ছবি, সেভেন ডি তে অনেক গুলা পাখির ছবি, উকুলেলেতে কয়েকটা নতুন গান আর ফেসবুকে ২৬৪৯ (এন্ড কাউন্টিং) ভিউ অয়ালা একটা ভিডু। ভাল দিন, একটা ভাল দিন গেসে।

কালকে কিছু ঘুরাঘুরির প্ল্যান করতাসি। শইল্ডা এট্টু লারাচারা করা দরকার।

 

১৭৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ২০, ২০১৫ । ১১.৩৩ পি এম

 

পাবনায় বইসা নোট লিখতাসি। একটু আগে আম্মা ফোন করসিল। ফোন কইরা বলসে, তোর আর ঢাকায় আসার দরকার নাই। তামিম রে বল তোরে ভরতি কইরা দিতে। আমি বলসি জি আচ্ছা আম্মা। বলতাসি এখনি। আম্মা রাইগা মাইগা রাইখা দিসে।

ঘটনা হইল, তামিম ভাই কালকে গভির রাত্রে (রাইত শুয়া এগারোটা) ঘুমের মধ্যে ফুন্দিয়া কইল, ইথার বাই, লন পাবনা যাই। আমি ঘুমের মধ্যেই কইলাম, লঞ্জাই। এহন আমু? তামিম ভাই কইল, না অখন্না, কালকে সকালে। আট্টায় বাস। আমি আইচ্ছা বইলা আবার ঘুমায় গেলাম।

ভোর পাচটায় উইঠা চিন্তা করতাসি, আইচ্চা, সপ্নে দেখসি? না হাচাই? থাউক বেগবুগ গুছায় রাখি। সাব্ধানের মাইর নাই। ঠিক ৬ টায় তামিম্বাই ফুন্দিয়া কইল, উঠসেন? আমি কইলাম উইট্টা রেডি হয়া বয়া আসি। উনি কইল তইলে আয়া পরেন। আমি লোউর পাইরা বাসাত্তে বাইর হইলাম। তারপর সিঞ্জি তে বইসা দৌড়াইতে দোউড়াইতে তামিম্বাইগো বাসায় আয়া পড়লাম।

সেইখান থিকা বাসস্টান্ড, তারপর বাসে বইসা কম্বল মুড়ি দিয়া হা কইরা ঘুমায় গেলাম। লুলে লুলে কম্বল ভাসায় দিয়া উঠনের পর দেখলাম ফুড ভিলেজ নামে এক জায়গায় বাস থামসে। অই খানে মাত্র তিন্ডা রুডি, একবাটি মাংস আর একটা ডিম্ভাজি আর চা দিয়া হাল্কা নাস্তা খায়া আবার বাস এ উঠলাম।

বাস এ উইঠা এট্টু পরে তামিম ভাই এর আম্মা, দা কুলেস্ট আন্টি, জুস খাইতে চাইল। জুস টা আমার পায়ের কাছে রাখসিলাম। তাকায়া দেহি নাই। গরায়া কই যানি গেসে গা। পরে বহুত কাহিনি কইরা জুস উদ্ধার করা গেলেও একটু পরে জুস মুখখা গেল গা হাত থেইকা পইরা সাম্নের সিটের মহিলার নিচে আবার। এখন আমি তো আর কইতে পারি না, আপা, আপ্নের নিচে আমার মুখখা।

তাই মুখখার মায়া ত্যাগ কইরা ওই বিস্রি জরের অসুধ ফ্লেভারড জুস খানা তামিম ভাই এর শালা আদন রে ভুলায় ভালায় পুরাডা খাওয়ায় দিলাম।
পাবনা আসছি আসলে আরাম করতে। গত দুই সপ্তাহ উইকেন্ড এও অফিস কইরা কেমন জানি হাস ফাস লাগতাসিল। তাই এইখানে আইসা পরসি। উকুলেলেও নিয়া আসছি। আমি আর তামিম ভাই একটা রবীন্দ্রসংগীত উঠাইতাসি। হইলে ভিডু কইরা আপ্লোডামু।

আজকে একটা মজা হইসে। আমরা বিকালে পাবনা শহর হাটতে গেসিলাম। তখন এক্টা ছেলে ফোন দিসে। আমার সাথে দেখা করতে চায়। আমি হাইটা হুইটা আইসা তামিম ভাই রে নিয়া গেলাম দেখা করতে। গিয়া দেখি ছেলেটা তার আরো দুইজন ফ্রেন্ড কে নিয়া দাড়ায়া আসে গত একঘন্টা ধইরা। আমাদের ধইরা মিষ্টির দুকানের ভিতরে নিয়া গেল মিষ্টি খাওয়াতে। তামিম ভাই অথবা হাল্কের থাবা সাইজের রাজভোগ প্লাস মিশটি খাইতে হইসে ওদের অনুরোধে।

এখন ধুমায়া বৃষ্টি হইতাসে বাইরে। আমি আর তামিম্বাই উকু বাজায়া মিনার এর “আহারে আহারে” গাই। ভিতরটাও আহারে আহারে করতাসে। যাই গা।

 

১৭৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ১৯, ২০১৫ । ১০.৩৮ পি এম

 

আমি এই মাস থেইকা অনেক স্বাস্থ্য সচেতন হয়া গেসি। হঠাৎ ই। এক তারিখ থেইকা আমি প্রতিদিন পাঁচ কিলোমিটার হাটতাসি। কারন আমি চেষ্টা করতাসি ওজন কমাইতে। সকাল বেলা মর্নিং ওয়াকে গেলে যেমন দেখা যায় কিছু কিছু আঙ্কেল স্ব উদ্ভাবিত ব্যায়াম কইরা হাত পা মুচ্রা মুচ্রি করতাসে, ওই রকম না। আমি আগে অনেক পড়ালেখা করসি। কারন বুঝসি, তারপর শুরু করসি। পড়াশুনার মুল বিষয় ই ছিল ভুড়ি। ভুড়ি কি, ভুড়ি কেন, ভুড়ি কেন না এই সব নিয়া পড়সি ফাটায়া। তারপর শুরু করসি ভুরু কমানি কর্মসুচি।

ভুড়ি শব্দটা অবশ্য কেমন জানি। আগলি টাইপ এর । ভুড়ি অবশ্য একটা আগলি জিনিশ ই। কিন্তু আগলি বইলা এভয়েড করলে তো হবে না। তাইলে ভুড়ি থাকবো নিজের মত আমি আর থাকবো আমার মত। আমি বরং এইটা কে আদর কইরা স্ফীত মদ্যপ্রদেশ বলি।

আমার প্রথম জিজ্ঞাসা ছিল স্ফীত মদ্যপ্রদেশ ক্যান হয়। পইড়া যা বুঝলাম আমাদের শরীরে অ্যাডিপোসাইট নামে একধরনের কোষ থাকে। এগুলাকে চর্বি কোষ বা ফ্যাট সেল বলা হয়। ফ্যাট সেল বেশি থাকে পেট , কোমর আর পশ্চাতদেশে। ফ্যাট সেল বেশি থাকায় এগুলা আয়তনে বাড়ে। এই তিন জায়গায় চর্বি জমার প্রবণতাও বেশি। নেট এ যদ্দুর পড়সি,

• জেনেটিক কারণে স্ফীত মধ্যপ্রদেশ হয়।
• খাওয়া এবং ক্যালরি বার্ন এর মধ্যে ব্যালেন্স না করলে ভুড়ি হয়
• হর্মোনের তারম্যের কারণে ভুড়ি হয়
• পরিশ্রম না করলে ভুড়ি হয়
• কিছু ওষুধ থেকে ভুড়ি হয়
• হঠাত নেশা ছেড়ে দেওয়া, অপারেশন এর পর, ডেলিভারির পর মানসিক অবসাদ থেকে ভুঁড়ির বৃদ্ধি হয়।

ভুড়ি থেইকা যা যা হইতে পারে তা হইলো,

• হার্ট এটাক হইতে পারে
• ডায়বেটিস হইইতে পারে
• বাত হইতে পারে
• ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে
• বুদ্ধির বিকাশ বাধা প্রাপ্ত হয়।
• আর হাবি যাবি রকম এর রোগ হয়

এই হইল ভুড়ি রিলেটড অব্জারভেশন বা আলোচনা। এরপর শুরু হইব কেমনে ভুড়ি কমান যায় সেই পড়াশুনা। কিন্তু হাটা হাটি চালু থাকবে।

 

 

 

১৭২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ১৮, ২০১৫ । ৯.১৭ পি এম

 

বাংলাদেশ যে স্বনির্ভর হইতাসে আস্তে আস্তে তা বুঝতে হইলে খুব বেশি দূর যাইতে হয় না। আমাদের লিফট গুলাই তার বড় প্রমান। ছোটবেলায় আমরা দেখতাম সব লিফট এর সাথে একজন লিফট ম্যান থাকে। যে খুব গম্ভীর মুখে ভুরু মুরু কুঁচকায় বইসা থাকতো। আর লিফট এ যারা উঠতো তাদের জিজ্ঞেস করত “কত তে যাবেন?”

নতুন নতুন ঢাকায় আসা কেউ কেউ এইটারে ভাবতো লিফট এ উঠলে মনে হয় টেকা টুকা দেওয়া লাগে, তারা আবার উলটা জিগায়া ফালাইলতো, “কত নিবেন আপনেই কন” পরে পাসের জন এর গুঁতা খাইয়া তারাতারি স্মার্ট হওনের ট্রাই করত আর বলতো, “সাত এ দেন, রহমান স্যার এর অফিসে যাব, উনি আমার তালই আব্বা লাগেন” আর লিফটম্যান মাথা নাড়াইয়া সাত লেখা চারকোনা বাটন এ টিপ দিত।

লিফট এ উঠা লোকজন এর লিফট এর উঠার পর মনে থাকতো না তারা জানি কত তে উঠার জন্য উঠসে। পুরা লিফট এর সব লোক হা কইরা লিফট এর কপালে লেখা সংখ্যায় গুলার দিকে তাকায় থাকতো যেইখানে স্কেলের মত সব সংখ্যা লেখা থাকতো আর একটা একটা কইরা জলতো আর নিভতো। সেই অপুর্ব সংখ্যার জলা নিভা তাদের এতই সম্মোহিত কইরা রাখতো যে লিফটম্যান এর বলতে হইত, সাত এ আসছি, নামেন নামেন। আর সবাই হুর মুর কইরা নাইমা যাইত, কারন লিফট এর দরজায় বাইর হইতে গিয়া আবার যদি কেঁচা লাগে।

লিফট গুলায় আর কিছু থাকুক না থাকুক একটা টুল থাকতো মাস্ট। যেইটা লিফট ম্যান এর সিংহাসন না হইলেও ইদুরাসন তো বটেই। সেইটা খালি থাকলেও কেউ বসার সাহস পাইত না। একবার এক লিফট এ খালি লিফট ম্যান নাই বইলা আমি আর আম্মা আট তালায় হাইটা উঠসিলাম।

আর এখন সব লিফট সেলফ সার্ভিস। উইঠাই যে যার নাম্বার এ টিপ মারে। আর নাম্বার গুলাও লিফট এর ভিতরে কপাল থেইকা সইরা আসছে সাইডে। লিফট এর ভিতর মিউজিক, ফ্যান, টেলিফোন ইত্যাদি নানান আধুনিক সুযোগ সুবিধা যোগ হইসে।

যদিও আমাদের কিছু কিছু স্বভাব এখনো বদলায় নাই। আমরা লিফট আস্তে দেরি করলে কল বাটনে হুদাই জুরে জুরে টিপ তে থাকি। এস ইফ, জুরে জুরে টিপলে কল বাটনে প্রেশার সেন্সর লাগানো আছে, সেইটা সেন্স কইরা আপনেরে তুইলা নেওয়ার জন্য জনাব লিফট বাংলা সিনামার নায়কের মত “জুলেখা আ আ আ” বইলা স্লো মোশন এ দৌড় দিয়া আসবে।

কেউ কেউ উপরে নিচে দুই বাটনেই টিপ মাইরা দাঁড়াইয়া থাকে। যাতে কোন মতেই মিস না হয়। সে হয় তো নিচে যাবে। কিন্তু টিপ মারসে দুইটা তেই। লিফট এর দরজা খুলার পর সবাই যখন প্রশ্নবোধক চোখে তার দিকে তাকায় থাকে তখন সে খুবি ভাব নিয়া বলে, ও উপরে যাচ্ছে? আচ্ছা যান। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় বলি, হে মহাত্মন, আপনার এই মুল্যবান অনুমুতির জন্য আপনার চরণে শতকুটি প্রণাম।

আবার কেউ কেউ আছে যাদের দেখলে মনে হয় এই লিফট আজকে রাতের শেষ ট্রেন, এইটা চইলা গেলে আর জীবনেও লিফট আসবে না । সে হয়তো তিন কিলোমিটার দূরে এমন সময় লিফট এর দরজা খুইলা গেল। সে ওই খান থেইকা “এই লিফট আসছে, লিফট আসছেএ এ এ, ধরেন ধরেন” বইলা দৌড়ানি শুরু করে আর লিফট এর কাছে আইসা দরজায় কেঁচা খাওয়ার ভয়ে কুংফু স্টাইলে বাতাসে একটা কোপ দ্যায় । লিফট এর সেন্সর তার বাতাসি কোপ খাইয়া দরজা লাগতে গিয়াও খুইলা যায়। আর সে বেশ , হু হু, দেখসো আমি কত কুতুব, ভাব নিয়া লিফট এ উঠে।

আমি এরকম লোক দেখলে লিফট এর দরজার ওপেন বাটন এ চাপ দিয়া দাড়ায় থাকি যাতে উনারা শান্তি মত উঠতে পারে। কেউ কেউ থ্যাংকিউ দ্যায় কেউ কেউ দ্যায় না।

সবচেয়ে মজা হয় সকাল বেলা অফিস্ যাওয়ার সময় যখন ১৫ তালা থেইকা নামি আর ১৪ তালায় আইসা এইরকম কারো জন্য লিফট আটকাই, আর সে আইসা মোটামুটি লিফট এর দরজা জরাইয়া ধইরা দাড়ায়া হাঁক ডাক শুরু করে,

“এই সুহেলের মা, তাড়া তাড়ি আসো, লিফট আসছে, লিফট আসছে। সুহেলের নাস্তা খাওয়া শেষ হইসে? ওরে নিয়া তাড়াতাড়ি আসো। লিফট আসছে, লিফট আসছে। আরে আসো না তাড়াতাড়ি। লিফট যাবে গিয়া তো। আরেকটা মুজা পরে পরাইও। স্কুল এর দেরি হয়া যাবে। লিফট আসছে, লিফট আসছে”