২০১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৫ | ১২.৩৭ এম

ছোটদের পিয়ানো শিক্ষা ২

 

আগের লেখায় আমি বলসিলাম পিয়ানোর এক একটা “কি” আসলে এক একটা “নোট”। একটা সাদা কি এর ঠিক ডান পাশে যদি একটা কাল “কি” থাকে তাইলে সেইটা সাদা নোট টার শার্প নোট। যেমন একটা সাদা কি তে নোট যদি হয় “সি”/C (কোন নোট টা সি সেইটা আমরা একটু পরেই দেখবো) তাইলে ঠিক তার ডান পাশের কালো কি টাই হইল সি শার্প/C# ( সি হ্যাশ না কিন্তু)। আবার উলটা দিক থেইকাও কালো কি গুলার নাম করা হয়। যেমন একটা সাদা কি তে নোট যদি হয় D, তাইলে ঠিক তার বাম পাশের কালো কি টাকেই বলা যাবে ডি ফ্ল্যাট/Db

 

আজকে আমরা শিখব কি বোর্ড এ সি থেইকা বি পর্যন্ত নোট গুলা কেমনে থাকে। আমরা আরো শিখবো এই নোট গুলাকে কিভাবে রিটেন মিউজিক বা স্টাফ নোটেশন দিয়া প্রকাশ করা হয়। তাইলে চলেন জীবনের প্রথম পিয়ানো নোট শিখি। যার নাম সি/C.

 

 

একটু এক্সারসাইজ করা যাক। আপনার সামনে যদি পিয়ানো থাকে, বা না থাকলে গুগল কইলা একটা পিয়ানোর কি গুলার ছবি বাইর কইরা দেখেন। এই বার এর মধ্যে থেইকা দুই টা কালো কি পাশা পাশী এরকম বের করেন। তিনটা পাশা পাশী কালো কি হইলে হবে না। কালো কি হইতে হবে। দুইটা পাশাপাশি কালো কি এর একবারে বামের কালো কি টার উপর হাত/চোখ রাখি। এই কালো কি টার ঠিক বামে যেই সাদা কি টা আছে তার নাম “সি” । সি হইল এইটা,

 

 

 

খেয়াল করলে দেখা যাবে, এইরকম দুইটা দুইটা কালো কি অনেক থাকতে পারে একটা কি বোর্ড এ। এই প্রত্যেকটা কালো কি এর বাম পাশের টাই সি। অনেক শময় নাম্বারিং করা হয় সি গুলাকে। একদম বাম পাশের প্রথম সি টার নাম C1, িউতার পাশের টা C2 . তার পরের অক্টেভ এর সি এর নাম C3 এইরকম.। সি এর ডান পাশের কালো নোট টার নাম C#.

 

 

আজকে এই টুক ই থাক। আর লিখতে ইচ্ছা করতাসে না। আগামী দিন এর লেখায় লিখিত মিউজিক/Stuff Notation কিভাবে পড়তে হয় ওইটা নিয়া লিখার ইচ্ছা রাখি।

 

২০০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫ | ১১.০৩ পি এম

 

পৃথিবী তে দুই ধরনের মানুষ আছে। এক, সেই ধরনের মানুষ যারা যা শুরু করে তারা তা শেষ করে। আর দুই, …

আই ওয়ান্ডার আমি কোণ টাইপ এর (খিক খিক)। জীবনে যে কত গুলা আন ফিনিশড প্রজেক্ট আছে, তা ভাবলে কেমন জানি অস্থির লাগে। এগুলা শেষ করা দরকার। কিন্তু কবে শেষ করব জানিনা। এগুলা মাঝে মাঝে আবার বাইচা থাকার প্রেরণাও দ্যায়। মনে হয়, কত কিছু করা বাকি, জীবন তো এখনো শুরুই করলাম না।

যেমন ধরা যাক প্রজেক্ট ৩৬৫ এর কথা। এই লেখা লেখা প্রজেক্ট ৩৬৫ শুরু করার আগে আমি ছবি দিয়া একটা প্রজেক্ট শুরু করসিলাম। প্রতিদিন একটা ছবি তুলতাম স্কয়ার ফরমেট এ, আর বিশাল গিয়ান গর্ভ ক্যাপশন লিখতাম ওগুলার। ভালাই লাগতো, প্রতিদিন ভিজুয়াল খুঁজার একটা টান কাজ করত ভিত্রে। সেই প্রজেক্ট এর ১৫০ + সাম্থিং পর্যন্ত করার পর আমি বান্দরবন যাই বেড়াইতে। ওই খানে তো নেট নাই। তাই পোস্ট ও করতে পারি নাই। সেই যে গ্যাপ পরলো। আর তো শেষ করলাম না প্রজেক্ট টা।

কত গুলা লেখা লেখির প্রজেক্ট শুরু করসিলাম তারপর। ফটোগ্রাফির বেসিক্স নিয়া লেখা “ফটোগ্রাফির প্রথম পাঠ”, “ফটোগ্রাফির দ্বিতীয় পাঠ”… এই রকম “ফটোগ্রাফির নবম পাঠ” পর্যন্ত। তারপর ১০, ১১ লেখা হইসে আলাদা ভাবে, পাবলিশ ও হইসিল গ্রাস হপার্স এর স্কুল এর পেজ এ, কিন্তু এক সাথে আর করা হয় নাই সব গুলা পর্ব।

বাংলায় এভিয়েশন এর ইতিহাস কোথাউ নাই। শুরু করসিলাম “উড়তে শেখা” সিরিজ টা। চার পর্ব পর্যন্ত লিখসি। এই ফেসবুক এর নোট এই, তারপর আর লেখা হয় নাই। প্রায় ই মনে করি, আবার শুরু করি। মাথায় কিছুক্ষণ খেলা করে জিনিশ টা। তারপর আবার ফিরা যাই রেগুলার কাজ এ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস নিয়া লেখা শুরু করসিলাম। তাও আবার কোন ব্লগ বা নোট এ না। স্ট্যাটাসে। সেগুলাও আর লেখা হয় নাই। কত মজার মজার জিনিষ পরসিলাম। কত ছবি, কত গল্প। পড়তে পড়তে এই ঘটনার সাথে ওই ঘটনার কানেকশন বাইর কইরা উত্তেজিত হয়া যাইতাম। কিন্তু আর লেখা হয় নাই। সেই উত্তেজনা টা মিস করি প্রায় ই।

“কিলো ফ্লাইট”। মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাসের একটা কত এক্সাইটিং আর অসাধারণ ব্যাপার। সেইটার ইতিহাস বাংলায় লেখা শুরু করসিলাম এই নোট এই। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গঠন হওয়ার ইতিহাস থেইকা শুরু কইরা এলুয়েট হেলিকপ্টার এর প্রথম মিশন ওরফে “কিলো ফ্লাইট” এর প্রথম মিশন পর্যন্ত লিখসিলাম। ওটার বিমান এর মিশন গুলা নিয়া লেখা বাকি। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান এর গল্প লেখা বাকি। কবে লিখবো এগুলা আই হ্যাভ নো আইডিয়া। কিন্তু লেইখা যাইতে চাই অবশ্যই। পিপল নিডস টু নো।

পিয়ানো শিখা শুরু করসি সেই কবে এ এ থেইকা। প্রথমে রোমেল ভাই (ওয়ারফেজ) এর কাছে ৩ মাস শিখলাম। অফিস কইরা প্র্যাকটিস করা হইত না ঠিক মত আর উনার সামনে গিয়া এক্সকিউজ দেখাইতে লজ্জা লাগতো। তাই আস্তে আস্তে ছাইরাই দিলাম যাওয়া। ২০১৪ এ আইসা আবার মনে হইসিল নাহ পিয়ানো শিখা আবার শুরু করতে হবে। ভর্তি হইলাম সাউন্ড অফ মিউজিক এ। ছয়মাস শিখা লেভেল ওয়ান পাশ দিসি আমি। আমার লন্ডন কলেজ অফ মিউজিক এর সার্টিফিকেট আসে ডিস্টিংশন মার্ক্স ওয়ালা। ভাবসিলাম অনেক দূর যামু। কিন্তু তারপর অফিসে কাজের ব্যাস্ততা বাড়লো, আর গুলশান এক গিয়া গিয়া ক্লাস করা হইল না। ইদানীং হাত পা আবার কাম্রাইতাসে, ইচ্ছা করতাসে আবার গিয়া শুরু করি।

আঁকা আঁকি শেখার স্বপ্ন টা তো এখন স্বপনই রয়া গেল। আমি ঘুমাই ই থাকলাম। আমার কাছে যেই পরিমাণ আঁকা আঁকি শিখার বই আসে, একটা ছোট খাট লাইব্রেরি বানায় ফেলা যাইব। কিন্তু আঁকা আঁকি কি শিখতে পারসি? নাহ। পেন্সিল হাতে নিলে ভয় লাগে কাগজে আঁক দিতে। একদিন পারবো নিশচই।

গিটার টা আরো শিখা বাকি। রাশার মত এরকম ওস্তাদ গিটারিস্ট বন্ধু রাইখা আমি কত অশিক্ষিত থাকলাম।

কত উৎসাহ নিয়া হারমোনিকা শেখা শুরু করসিলাম, ডায়াটোনিক, ক্রোমাটিক হারমোনিকাও ছিল। কিন্তু কিছুদূর আগায়া তারপর উকুলেলে কিনার পর আর হারমোনিকা বাজানোই হয় না। চারুকলার সামনে থেইকা কেনা বাশিটা মাঝে মাঝে হাতে নেই। সব গুলা ছিদ্র বন্ধ কইরা ফু দেই, আওয়াজ বাইর করতে পারি। তারপর আবার রাইখা দেই। হয়তো একদিন পারবো ।

বুকশেলফের না পড়া বই গুলা মনে হয় হাসি তামাশা করে আমারে নিয়া। কত বই পড়া বাকি। হার্ডডিস্ক এ কত গিগা গিগা মুভি দেখা বাকি। কত ইন্টারেস্টিং ইন্টারেস্টিং বাছাই করা ই বুক নামাইসি এক সময়। সব চোখে পড়লেই অপরাধী লাগে নিজেরে। এগুলা কবে পইড়া শেষ করব?

আমি কলেজে থাকতে অনেক ভাল চিঠি লিখতাম। পোলাপান দূর দূরান্ত থেইকা আসতো আমার কাছে তাদের গার্লফ্রেন্ড এর কাছে চিঠি লিখা দেওয়ার জন্য। এখন আর চিঠি লিখতে ইচ্ছা করলেও প্রাপক এর ঠিকানা নাই, প্রাপক ই নাই, তাই লেখা হয় না।

এই যে লোকজন জানে আমি প্লেন এর ছবি তুলি। ২০১২ এর তোলা আগস্ট এ তোলা ছবির পর আমি আর কোন ছবি ই পাবলিশ করি নাই। অথচ কত কত ফোল্ডার ভর্তি করা ছবি। মাঝে মাঝে ভাবি একটা এসিস্ট্যান্ট নিমু। তারে শিখায় দিমু, সে খালি ছবি প্রসেস করবে। টেকা টুকাও দিমু। কিন্তু পরে মনে হয়, হুর, কে করবে এই কাজ। তাই ছবি শুধু জমছেই।

এই অতৃপ্তি টা অদ্ভুত। এই অস্থিরতা টা কাইন্ড অফ বেশি বেশি। আমার মাথার ভিতরের ইনার ভয়েস আমারে ধমক দ্যায়, আরে ব্যাটা যা যা করতে চাস, কইরা লাইলেই তো হয়। এত ঘ্যান ঘ্যান করছ কেলা। কথা সত্য। কিন্তু তবু যা করছি, তার চেয়ে যা করি নাই তার হিসাব নিতে নিতেই জীবন শেষ হয়া যাইতাসে।

 

১৯৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫ | ১২.৪৫ এ এম

 

বাসায় আসলাম মাত্র, একটি হাফ টেনশন্ময় দিন হঠাত কইরা অ্যাডাময় সন্ধ্যা এবং খাওয়াদাওয়া ময় রাত দিয়া শেষ হইল। সকালে যখন অফিসে গেলাম ক্যাসপার কে এত দুর্বল লাগতেসিল। ওকে পটি ট্রেইন করতে বার বার যেখানে বসায় দিসিলাম ওই খানেই ঘুমায় যাইতেসিল। আর কিছু খাইতেসিল না। আমি ভাবসি সারাদিন টিকবে তো আজকে? আল্লাহ তো আমার আসে পাশে ভালবাসার মানুষ বেশি রাখতে চায় না ক্যান জানি, একেও কি নিয়া যাবে?

ওর চারপাশে খাবার রাইখা ওর চারপাশে নরম কাপর দিয়া দিলাম যাতে আরামে শুইতে পারে। তারপর ফিস ফিস কইরা বাই ক্যাসপার, প্লিজ টিকে থাকিস বইলা অফিসের জন্য বাইর হইলাম। অফিসে যতক্ষণ ছিলাম সারাক্ষণ টেনশন লাগতাসিল এত। মিটিং ছিল একটা। মিটিং এ বইসা লোকজন আল্লায় জানে কি কি সব ভ্যাটর ভ্যাটর করতেসিল। কিছুই মাথা দিয়া ঢুকে নাই। খালি মনে হইতাসিল কখন এইগুলা শেষ হবে, কহন ৫টা বাজবে আর বাসায় যাবো আর ক্যাসপার কে দেখবো।

মিটিং এ বইসাই ডিসিশন নিলাম, হুর, স্ক্রু ৫ টা, আমি এখনি যাব। কপাল ই এমন, মিটিং এ বলা হইল, লেটস হ্যাভ লাঞ্চ টু গেদার। আমি ঠিক করলাম, হুততর লাঞ্চ ফাঞ্ছ , আমার বাসায় যাইতে হবে, আমার ক্যাসপার এর কাছে যাইতে হবে। আমি অদের বললাম আমার বাসায় সমস্যা হইসে, গটা গো। বইলা দৌড়াইতে দৌড়াইতে বাসায় আইসা পরসি। টেনশন এ এমন লাগতাসিল মনে হইতাসিল দম আটকায় যাবে। আস্তে আস্তে দরজা খুইলা ভিতরে ঢুইকা দেখি যেখানে ঘুম পারাইয়া রাইখা গেসিলাম ওই খানে নাই। ধরাস কইরা উঠলো ভিতর টা। রুমে ঢুকতেই দেখি উনি হাত পা ছড়াইয়া আয়েশ কইরা বিছানার কোনায় শুইয়া আমার দিকে ড্যাব ড্যাব কইরা তাকায় আসে। কি যে রিলিভড লাগসে তখন। মনে হইল ঘাম দিয়া জর ছারসে।

ক্যাসপার কে খাওয়ায় দাওয়ায় আবার অফিসে চইলা আসছি। সন্ধ্যার পর সুষম ভাই ফোন দিয়া বলল নর্থ এন্ড এ আসেন, কফি খাই। ততক্ষণে অফিস শেষ। বাইর হউনের তাল করতাসিলাম। পত্রপাঠ হাজির হয়ে গেলুম উত্তরশেষ কফি ভাজি করন দোকানে।

নর্থ এন্ড এ আড্ডা উড্ডা মাইরা সুষম ভাই এর বাইক এর পিছনে চইরা গেলাম চিটাগাং এক্সপ্রেস। খাইয়া দায়া উলটাইয়া লাইলাম সব। জিয়া ভাই আসছিল। বাংলাদেশ এর এক নাম্বার ফ্যাশন ফটোগ্রাফার উনি। অথচ এক ফোটা গর্ব বা ভাব নাই তার। আমি একটা জিনিশ খুব বিশ্বাস করি। বিনয় ছাড়া ট্যালেন্ট কোন ট্যেলেন্ট ই না। জঙ্গলে যেই গাছের যত বেশি ফল, সেই গাছ তত বেশি নিচু। মাথা উঁচা কইরা থাকে শুধু বাঁশঝাড়।

আজকে নোট এর রুটিন এর উলটা পালটা করসি কিছু। ১২ টার মধ্যে না পোস্ট কইরা , এখন ১২,৪৫ এ করতে যাইতাসি। মাঝে মাঝে চেঞ্জ ইজ গুড।

 

১৯৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৫ | ১২.০০ এ এম

 

আজকের দিন এর হাইলাইট একটাই। ক্যাসপার। আমার বিড়াল ছানা। সব মন খারাপ সব হতাশা সব ডিপ্রেশন কই যে উবে গেসে কখন নিজেও জানি না। কি যে লক্ষী ও । আর অনেক আদুরে। ছোট ছোট পা নিয়া গুট গুট কইরা সারা বাসা হাইটা বেড়ায়। আবার বেশি দূর যায় না। একটু পরে আইসা আবার আমার সাথে ঘেশলা ঘেশ্লি করে।

ওকে পাওয়ার কাহিনী টা বলি একটু। আমি অফিস থেইকা ফিরতেসিলাম। সুভাস্তু তে লিফট পর্যন্ত আস্তে হয় বেজমেন্ট দিয়া। যেখান দিয়া গাড়ি গুলা উঠে ওই টা দিয়া নামার পর দেখি রাস্তার মধ্যে একটা ছোট্টওওওও বাবু বিড়াল বইসা আসে। আর ওই পাশ থেইকা একতা পাঁজারও আস্তাসে। পাজারোর যে হাইট তাতে এতো ছোট বিড়াল জীবনেও দেখবে না ড্রাইভার। আমি দুই হাত উঁচা কইরা দৌড় দিয়া গেলাম। ড্রাইভার ভাল ছিল। গাড়ি থামায় দিসিল আমার হাত নারানি দেইখা। আমার দৌড় দেইখা দারোয়ান ভাবসে কি জানি হইসে। এই দারোয়ান ভাল আসে। আমারে দেখলেই বিশাল সালাম দ্যায়। আমার পিছে পিছে উনিও না বুইঝা বাশি ফু দিতে দিতে দৌড় দিল। লোকজন জড় হয়া গেল কি জানি হইসে ভাইবা। আমি গাড়ি তামার পর বইসা ওর দিকে হাত বাড়ায় দিলাম। কি আশ্চর্য ও চুপ চাপ আমার দিকে চইলা আসলো।

ওকে সাইডে আনার পর গাড়ি যাওয়ার রাস্তা হইল। যাওয়ার সময় দেখি ড্রাইভার আর গাড়ির লুকজন বিরাট ভুরু কুঁচকানি লুক দিতাসে। আমিও আমার বিখ্যাত ভ্যাবলা মার্কা হাসি দিলাম। অদের ভুরু আরো কুঁচকায় গেলো। যারা বাসি শুইনা তামশা দেখতে জরো হইসিলো তারাও দেখি, ও বিড়ালের বাইচ্চা, ভাইজানের মনে হয় মাথায় সমস্যা এই টাইপ এর কথা বলতে বলতে চইলা গেল। থাকলাম শুধু আমি আর ও।

রাস্তার পাশের একটা খালি পারকিং এ বইসা পরলাম মাটিতেই। ওর গলার নিচে হাত বুলাইতে বুলাইতে বললাম, কিরে ভয় পাইসিশ? আরে ব্যাপার না, এই সব পাজারোর বেইল আসে? ভয় পাইশ না। আমি আসি না। ও দেখি হাত পা ছড়ায়ে আমার কোলে শুয়া পড়ল। আর ভড়ড়ড় ভড়ড়ড় আওয়াজ করতে লাগলো। আমি বুঝলাম ওকে এইখানে রাইখা যাওয়া আর আমার পক্ষে সম্ভব না।

বুকের সাথে লাগায় রাইখা নিয়া আসলাম বাসায়। দুধ আর রুটি কিনা আনলাম। ওরুর জন্য কেনা খাবার এর বাটি ছিল। সেইটাতেই দিলাম দুধ। আর পাউরুটি ছিরা ছিরা কিছু দিলাম দুধের সাথে আর কিছু দিলাম দুধের বাটির আসে পাশে। ও যেভাবে খাইলো , বুঝলাম অনেক খিদা লাগসিল বাচ্চা টার।

এখন ও আমার সাথে গা ঘেঁষায় ঘুমাচ্ছে। মাঝে মাঝে উইঠা দ্যাখে আমি আছি কিনা। তারপর আমার আঙ্গুল চেটে দ্যায়। আবার ঘুমায় যায়। আমি মনে হয় বুঝতেসি বাচ্চা কাচ্চা ভালমত খায়ে দায়ে ঘুমাইতে দেখলে বাবা মার মনে কেমন শান্তি শান্তি অনুভূতি টা হয়।

ওর রঙ সাদা আর লেজটা কালো। ওর এমন হঠাত আভির্ভাব আমার লাইফ এ। আর কালপুরুষ দার ছেলেটার প্রতি অনেক অনেক ভালবাসা। সব মিলায় ওর নাম রাখসি ক্যাসপার।

ও এখনো বিপদ মুক্ত না। অনেক ছোট তো, আর দুর্বল অনেক। আমি যার কাছ থেকে বিড়াল বিষয়ক পরামর্শ নেই সেই মহান জান্নাত প্রিয়ম আপু বলসেন ও এখনো শঙ্কা মুক্ত না। এত দিন খাইতেই পায় নাই ঠিক মত। জানি না আবারো আমাকে কষ্টের সাগরে ভাসাবে কিনা। কিন্তু দেখা যাক। আমি যতটা পারি আগলায় রাখবো ওকে। বাকি টা আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন।

 

 

১৯৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৫ । ১১.৫০ পি এম

 

একটা সিনেমা দেখসিলাম অনেক আগে। নাম “Buried”। খুবি মিনিমালিস্টিক সিনেমা। একটা লোক চোখ খুইলা আবিষ্কার করে সে একটা কফিনের ভিতর আটকায়া আসে। ঢাকনা খুলার উপায় নাই কারন উপরে টন টন মাটি। একটা মোবাইল ফোন থাকে যেইখানে টেররিস্ট রা বলে যে তাদের দেশে আমেরিকার আক্রমণ এর কারণে তারা তারে জ্যান্ত কবর দিসে। এদিকে আমেরিকার ডিফেন্স এর লোকজন তারে উদ্ধার করার জন্য অনেক তৎপরতা শুরু করে। পুরা সিনেমাটার সেট একটাই। কফিন টার ভিতর। এক সময় দেখতে দেখতে ক্লাস্টারফোবিক লাগতে থাকে। আটকাইয়া পরা লোকটার সাথে মোবাইল এর কনভারসেশন শুনতে শুনতে বুঝা যায় পুরা কাহিনী।

শেষ টা খুবি শকিং ছিল। ** স্পয়লার এলার্ট ** লোকটা মারা যাওয়ার আগে আগে যখন প্রায় শিওর থাকে যে এখনি তাকে উদ্ধার করতে আসা লোকজন মাটি খুউইরা তারে বাইর করবে, তখন সে মোবাইল ফোনে শুনতে পায়, সরি , আমরা আসলে ভুল একটা কবর খুজে পাইসি। তুমি কোথায় আমাদের আইডিয়াই নাই। এত ধাক্কা মত লাগে একটা ভিতরে।

এই কাহিনী বলার শানে নজুল হইল আমার এখন এই রকম ফিলিংস হইতাসে। মনে হইতাসে যখন ই ভাবতাসি এই অন্ধকার এই দম বন্ধ করা এখনি শেষ হবে তখন ই জানতে পারতাসি, সরি, আমি না, অন্য কোন কবর এর মানুষটা মুক্তি পাইলো। সিনামায় তো তাও এই ঘটনা একবার ই ঘটসে, আমার ক্ষেত্রে বার বার ই হইতাসে। আর আমি নিজেকে ঠিক রাইখাই যাইতাসি, আচ্ছা ঠিক আসে। ব্যাপার না। কেউ তো ভাল থাকুক।

আমার লেখা পইরা যারা ইন্সপায়ার হন তাদের নিশ্চয়ই এখন “তাইলে কি এদ্দিন ভুল পীর এর মুরিদ ছিলাম?” টাইপ ফিলিইংস হইতাসে। কিন্তু আমি যদি সারাক্ষণ ই একদম চার্জড আপ থাকি, ইন্সপায়ারিং থাকি, তাইলে হয় আমি মিথ্যা কথা বলতাসি নাইলে আপনে আমারে নিজের মত কিছু একটা ভাইবা লইতাসেন। মানুষ তো। মানুষ সারাক্ষণ ভাল আছে দেখাইতে পারে, কিন্তু সারাক্ষণ ভাল থাকতে পারে না। তাই নিজের লেখায় আমার জীবনে আনন্দের সীমা নাই এই টাইপ নিজের সাথে ভণ্ডামি করতে পারুম না।

আমার মাথা কি রকম খারাপ হয়া আসে একটু বলি। আজকে রাশা কে বলতেসিলাম, দোস্ত আই ওয়ানট টু রাইট ডাউন মাই উইল। আমি মইরা গেলে কে কি পাইবও তার তালিকা। রাশা মানা করসে। বলসে ইট উইল সাউন্ড আই এম টু ডেস্পারেট টু সিক এটেনশন। কিন্তু আমি তো জানি না, কালকেও বাইচা থাকুম কিনা। তাই সব কিছুর একটা বন্দবস্ত কইরা গেলে ভাল না?

নিচে কিছু জিনিষ পত্রের তালিকা আর আমি মইরা গেলে সেইটা কে পাবে তা দিলাম।

ব্যাংক এর টাকা পয়সা, সঞ্চয়পত্র, জীবন বীমার টাকা – আম্মা আর আম্মার দিতে ইচ্ছা করলে বাবা
আমার সব বই গুলা – তামিম ভাই
আমার তোলা প্লেন আর এভিয়েশন রিলেটেড যত ছবি, আমার জমানো সব বোর্ডিং পাস, সেফটি কার্ড, বুমির ব্যাগ – কারিব ভাই
আমার সব রকম এর মিউজিকাল ইনস্ট্রুমেন্টস, টিভি টা – রাশা
আমার ক্যামেরা, লেন্স, ফটোগ্রাফি রিলেটেড যা কিছু, প্লেন এর ছবি বাদে বাকি সব ছবি, রান্না ঘরের সব জিনিশ পত্র, চুলা, ফ্রিজ – ফেরদৌস আর লরা
টি শার্ট, শার্ট, আর যা কিছু কাপর চোপর, গেমিং কনসল, মোবাইল ফোন সেট – অন্তর
অনলাইন এ অফলাইন এ সব লেখা লেখি – জিকো ভাই, মিশু আপু
মডেল প্লেন্স, লেগো সেটস, খেলনা টাইপ এর যা কিছু – ওহি আর মিহি
ছবি আঁকা আঁকির সব কিছু, আঁকা ছবি, ছবি আঁকার জিনিষ পত্র, কিচি-মিচি – মোহনা খন্দকার মিতি
ল্যাপটপ গুলা, লাইট, ফ্যান, শীত এর কাপর, চেয়ার, টেবিল, ফার্নিচার- স্বপ্ননগর বিদ্যা নিকেতন (ইশতিয়াক আল মাহমুদ)

আর কিছু আছে বইলা মনে পরতাসে না। মনে পরলে ইডিট কইরা দিমু নে। এখন হাল্কা হাল্কা লাগতাসে। আর চিন্তা নাই।

 

১৯৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৫ । ১১.৪৪ পি এম

 

আমার মন খারাপ থাকলে আমি ট্রাই করি রিয়ালিটি রে বেন্ড করতে। হয়তো কোন ঘটনা ঘটেনাই কিন্তু ঘটতে পারলে অসাম হইতো, এরকম কিছু কল্পনা কইরা নেই। এগুলা সংখ্যায় অনেক। সময়ের সাথে সাথে এগুলা পালটায়, ম্যাচিউড়ড হয়, কিউট হয়, মাঝে অশ্লিলও হয়। এগুলা কখনো শেয়ার করা হয় নাই কারো সাথেই। আজকে মনে হইতাসে দুই একটা লিখে রাখা দরকার। এগুলা ঠিক ছোট গল্প না, কল্প দৃশ্য বলা যেতে পারে

কল্প দৃশ্য ১

ব্যাংক এ ক্রেডিট কার্ড এর বিল দিতে লাইনে দাঁড়ায় আসি। আনমনেই গুন গুন কইরা উঠলাম, “সেই তুমি কেন এর অচেনা হলে”। সাম্নের লোক ঘুইরা তাকাইলো আমার দিকে। আমি ভাব্লাম ঝারি লাগাবে এখনি। সে খুবি গম্ভির মুখে বলল “সেই আমি কেন তোমাকে দুঃখ দিলেম।” তার সাম্নের লোক ও ঘুইরা দারায়া বলল, “কেমন করে এত অচেনা হলে তুমি”। দুই মিনিটের মধ্যে সোনা গেল পুরা ব্যাংক এর লোকজন কোরাসে গাইতাসে, তুমি ক্যান বোঝনা তোমাকে ছাড়া আমি অসহায়…

কল্প দৃশ্য ২

একটা পিচ্চির হাত থেইকা বেলুন ছুইটা আসে। পিচ্চিটা ঠোট উল্টায়ে আকাশের দিকে তাকায় আসে। যেন সব দোষ আকাশের। বেলুন্টা যাইতে যাইতে একবার পিচ্চিটার দিকে তাকাইল। তারপর আকাশের দিকে তাকাইলো। তারপর রউনা দিলো নিচের দিকে। পিচ্চিটার কাছে গিয়া গাল ঘষা ঘষি শুরু করলো। নিঃসংগ বিশালতার চেয়ে কারো কারো কাছে সামাজিক ক্ষুদ্রতাও অনেক প্রিয় যে।

কল্প দৃশ্য ৩

ছেলেটা নিজেই ড্রাইভ করছিল। এই এপার্টমেন্ট টা অদ্ভুত। ঢুক্তে হয় বেজমেন্ট দিয়ে। গাড়ি নিয়ে তো সমস্যা হয় না। সাই সাই করে ঢালু বেজমেন্ট এর ঢাল বেয়ে উপরে উঠে যাওয়া যায়। সমস্যা হয় গাড়ি ছাড়া হেটে উঠতে গেলে। এসব ভাবতে ভাবতে ছেলেটা আগাচ্ছিল বেস্মেন্ট থেকে বেরোনোর জন্য। হঠাত দেখলো সেই মেয়েটা। যাকে দেখলে ছেলেটার হারটবিট ডাবল বিট হয়ে যায়।সেই মেয়েটা দুইটা ক্রাচ এ ভর দিয়ে এগুচ্ছে বেজমেন্ট এর ঢাল্টার দিকে। এক পায়ে ব্যান্ডেজ। কিইইইচ করে ব্রেক কশ্লো মেয়েটার পাশে। অফার করলো, আসেন আপনাকে পৌছে দেই। মেয়েটা না শোনার ভান করে আগায় গেল। ছেলেটা আবারো মেয়েটার পাশে গাড়িটা ব্রেক করে গিয়ে বলল, সারা রাস্তা আপনাকে বিরক্ত করবো না। শুধু বেজমেন্ট এর উপর পর্যন্ত। মেয়েটা এই আইডিয়াতে এতই হচকচায় গেল যে একটা কাঠ কাঠ হাসি হেসে গাড়িতে উঠে পরলো। ছেলেটা ঢালের উপর গিয়ে নামায় দিল মেয়েটাকে তারপর হুশ করে চলে গেল। মেয়েটা খুবি অবাক হয়ে গাড়ীর চলে যাওয়া দেখছিলো। গাড়ি থেকে কেন নেমে গেল এটা ভেবে হঠাত হয়ে গেল মন খারাপ। দু’জনেরি।

 

১৯৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৫ । ১১.৪৪ পি এম

 

বাসাবো আসছি এক্টু আগে। আম্মা ধইরা দুই গামলা ভাত খাওয়ায় দিসে মুরগির মাংশ দিয়া। স্বেচ্ছায় মাইর খাওয়ার ইচ্ছা হয় নাই তাই আম্মার সামনে ডায়েটের কথা বলি নাই। আজকে লিখতে বিশেষ ইচ্ছা করতাসে না। তাই নিজের লেখা লিরিক্স দিয়া ফাকিবাজি করা যাক।

এই গান টা ছিল আমাদের এলবাম এর একেবারে শেষ গান। আর আমার সবচেয়ে প্রিয় গান। গান টার নাম “স্নাত। গান এর নাম দেওয়া আমার জন্য অনেক কঠিন কাজ ছিল। আর আমরা এলবাম ডিজাইন ই করসিলাম ওম্নে যে প্রত্যেক্টা গান এর শুরুতে একটা ছোট লেখা থাকবে, তারপর গানের লিরিক্স লেখা থাকবে।

এদিকে ডেডলাইন চলে আসছে,রেকর্ডিং কাল্কেই। তখন আমি পড়ি ইউনিভার্সিটি তে। পরীক্ষা চলে অর এসাইন্মেন্ট কি নিয়া জানি ব্যাস্ত ছিলাম মনে নাই, কিন্তু মনে আসে অনেক টেনশন এ ছিল ব্যান্ডের সবাই।। টাইম নাই দেইখা পর পর দুুইটা ক্লাস মিস দিয়া এই লিরিক শেষ করসিলাম।

আইকন্স – স্নাত

তার দিকে তাকিয়ে
আমার চলে যাওয়া
হয় না সে ধরে
আছে আমায় তার মাঝে

চলে যাই তবু থেমে যাই
আমি এ-খানে
পেছনে তোমার ডাক
এসে থামে

আমি দাড়িয়ে থাকি
ঝড়ের মাঝে
সরে দাঁড়াবার ডাক
তুচ্ছ করে

চোখ মেলে দেখ চারিদিকে
তুমি একা নও
তোমার পাশে

আমারতো তাও তুমি আছ
তোমার মাঝে আমি লুকাই
আমার তুমি আছ বলেই
অন্ধকারে হাতটা বাড়াই
চোখের নিচ
কান্না চেপে
বুকের মাঝে শুনি
আমার আছ তুমি
আমার আছ তুমি ।

১৯৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৫ । ১১.২৮ পি এম

 

একদিন মনে হবে এসব ই ঠিক ছিল। সব কিছু সৃষ্টিকর্তার বিশাল কোন প্ল্যান এর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ ছিল। যার পুরোটা বোঝা কারো পক্ষে সম্ভব হয় নি কোনদিন। যখন হারিয়ে যাওয়া ধাঁধার অংশ গুলো শূন্য থেকে এসে বসে যাবে ঠিক ঠাক জায়গায়, তখন মনে হবে, এমন ই তো হওয়ার কথা। এটাই তো ঠিক।

একদিন মনে হবে যা হয়েছে ভালর জন্যই। এই কথা গুলো শোনা দরকার ছিল, সেই ধাক্কা খাওয়াটা জরুরী ছিল। আবেগে বলা কথা গুলো , উত্তেজনায় লেখা বাক্যগুলো, ভাল লাগা থেকে কেনা জিনিষ গুলো যখন গায়ে ধুলো মেখে ভেঙচি কাটবে তখন মনে হবে এগুলো তো অপচয় হয়নি। ঠিকানাটা ঠিকই ছিল। শুধু চিঠিটা পৌঁছানোর আগেই প্রেরক আর প্রাপক ঠিকানা পালটে ফেলেছেন। তাই চিঠিটার এখন কোথাউ যাবার নেই।

একদিন মনে হবে ওরা কি অমর হতে চায়? তা না হলে কবি কে কষ্ট দিয়ে গেল কেন? সুখী মানুষ তো কবিতা লেখে না। গলা ছেড়ে গান গায় বড়জোর। সুখে থাকলে কবিতার কিল খাবার কথা শুনেছে কেউ। সুখী কবিতা খুবি ভয়ঙ্কর ব্যাপার। সুখী কবিতা কে ঠিক বিশ্বাস করা যায় না।

একদিন মনে হবে অনেক দূর এলাম। এবার থামা যাক। বেঁচে থাকা ক্লান্তি আনে। কষ্ট পেতে পেতে মন এর ক্ষয় হয়। মনে হবে থাক, দেখলাম তো অনেক। সেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে শেষ মেষ একই ভাবে হেরে যাওয়া। একটা জীবনে আর কত হারা যায়। লজ্জা শরম বোধহয় কম আমার। এই বার যারা খেলছে খেলুক। আমি বাড়ি যাই।

১৯৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৫ । ৯.২০ পি এম

 

কিছু সুখ হোক প্রকাশ্যে। হাসি ছড়িয়ে যাক এ কান থেকে ও কানে। চোখ গুলো আকৃতি পালটাক। ঝিক করে উঠুক চোখের তারা। নিজের অজান্তেই ভিজে যাক চোখের নিচের পাপড়ি গুলো। গড়িয়ে পরার আগেই হাতের উলটো পিঠ এসে মুছে দিয়ে যাক আর কানে বাজুক, “ধুর বোকা”। তা সে নিজের হাতই হোক অথবা তার।

কিছু সুখ হোক গোপনে। পেটের ভিতর গুড়গুড়ি। কাউকে বলা যাবে না সেই খুশি তে কাঁধ নাচানো। “হা হা” গুলো “খিক খিক” এ বদলে যাক। যখন সবাইকে বলা হবে তখন মানুষ গুলোর মুখ এর মানচিত্রে কত দেশ ভাগ হবে, কত জন এর হৃদয়ে স্টেপ্লার এর পিন পরবে তা ভেবে ভেবে দানবীয় আনন্দ অনুভব করা হোক মনে মনে। ঠোটের কোনায় ঈদের চাঁদ এর মত এক চিলতে হাসি বার বার উঠতে থাকুক।মানুষ কি ভাবলো সেই চিন্তা তখন ছুটি নিয়ে চলে গেছে বনবাসে।

কিছু সুখ হোক দলগত। ভাঙ্গা স্ট্যাম্পটা উড়তে উড়তে পিছনে যাওয়ার সময় দলের সবার কাছা কাছি চলে আসার যেই দৌড়টা শুরু হয় তার প্রতি পদক্ষেপে এই সুখ টা বেড়ে যাক অনেক গুন। এক সাথে অনুভব করা হোক সবাই মিলে আমরা কাজ টা করে ফেলেছি। এক সাথে কিছুক্ষণ জাবরা জাব্রি করা হোক। দুটো হাত শূন্যে চটাস চটাস করে বাড়ি খাক।

কিছু সুখ হোক একা একা। দারুণ কষ্টে রাখা অংক টা যখন মিলতে মিলতে মিলেই গেলো শেষ মেষ, তখন এক হাতে মুঠো করে দেখানো হোক, ইয়েস, সুখ টাকে ধরে ফেলেছি। ভোর রাতে কাজ শেষে ঘুমাতে যাওয়া প্রোগামার এর চোখে মুখে এই সুখ টা হোলির রঙ এর মত মাখা থাকুক। প্রথম বেতন পাওয়া মেয়েটার টাকা গুলো মায়ের হাতে তুলে দেয়ার আগ পর্যন্ত এই সুখ টা খেলতে থাকুক তার ফ্লাড লাইট জালানো মনে।

কিন্তু সুখ গুলা এমন হোক যা অনেক খন স্থায়ী হয়। শীর্ষ অনুভূতির পরের শূন্যতার বোধ এর মত না। দেখলাম, ভাল্লাগ্লো, ভুলে গেলাম এমন না। সুখ হোক এমন যার কথা চিন্তা করেও দুঃখী সময়ে সুখ সুখ ফিল করা যায়। আইকন্স এর জন্য যে লিখেছিলাম, সেই গানটার মত,

যার জন্যে মেঘে নেমেছিলাম আমি
হাতের পাতায় খুঁজে ছিলাম তোমায়
তারপর শুধু স্বপ্ন লুকিয়ে রাখা আমার
অন্ধতার অন্ধকারে জন্ম
নিলে কেন?
আমি কি সুখী হতে পারি?
যা নিয়ে অনেক গভীরে যাই

 

১৯২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৫ । ১২.০০ এ এম

 

ছোটদের পিয়ানো শিক্ষা ১

 

পিয়ানো একটা অসাধারণ ইন্সট্রুমেন্ট। আর শেখাও অনেক সহজ। শেখার রাস্তাটা এত বড় যে হাটতে হাটতে হাটতে অনেক দূর চইলা যাওয়া যায়। আমি যদিও এখনো গলি পার হয়া রাজপথেই আস্তে পারি নাই তবু যা পারি, যট্টুক ই পারি শিখানোর  ট্রাই করি একটা । এইটা যদি একজন মহান পিয়ানো প্লেয়ার এর পিয়ানো নিয়া পড়া প্রথম পাঠ হয়, ক্ষতি কি? না হয় সেই ম্যাচ এর কাঠি টাই হই, যে আলোর মিছিলের প্রথম মোমবাতিটা জালাইসিল।

 

যাই হোক,  পিয়ানোর দিকে তাকালে আমরা কি দেখি? উত্তর টা প্রশ্নের মধ্যেই আছে। পিয়ানোর দিকে তাকাইলে আমরা “কি” দেখি। সাদা কি আর কালো কি। অনেক গুলা কালো আর সাদা লম্বা লম্বা কি থাকে পর পর সাজানো। এই রকম।

 

 

প্রথম বার দেখলে মনে হবে, ও.মো.খো (ওরে মোর খোদা) এত্তগুলা কি ক্যান? এত্তডি ক্যামনে শিখুম? কিন্তু মনে আসে কোন কিছু কঠিন লাগলে কেমনে শিখতে বলসিলাম? কঠিন জিনিশ টারে ভাইঙ্গা ছোট ছোট টুকরা করতে, তারপর টুকরা গুলা একটা একটা কইরা শিখতে। এবার আমরা পিয়ানো কি গুলারে ভাঙ্গি। প্রথমে তাকাই কালো কি গুলার দিকে। খেয়াল কইরা দেখেন কালো কি গুলা দুইটা কালো কি পর পর, তারপর একটু গ্যাপ, তারপর তিনটা কালো কি পর পর, তারপর আবার দুইটা কালো কি এমনে আছে। অর্থাৎ কিনা কালো কি গুলা ২,৩,২,৩ এমনে আছে। তাইলে এই প্যাটার্নটাকে কাজে লাগাইয়া আমরা পিয়ানোর কি গুলারে কয়েকটা টুকরায় ভাগ করতে পারি। ধরলাম একটা টুকরায় ২,৩ এই প্যাটার্ন টা নিলাম। দুইটা কালো কি এর ঠিক আগের সাদা কি টা থেইকা শুরু কইরা ডান পাশের আবার যেখানে দুইটা কালো কি আছে তার বামের সাদা কি টা পর্যন্ত নিয়া একটা সেকশন নিলাম। একদম এই রকম

 

 

 

 

 

একটা বড় পিয়ানোর ছবি বাইর কইরা যদি দেখি, তাইলে দেখবো আমাদের নেওয়া এই সেকশন টাই বার বার রিপিট হইসে বাম থেইকা ডান পর্যন্ত। এই এক একটা সেকশন কে বলে এক এক টা “অক্টেভ”। যেমন এই যে একটা অক্টেভ

 

 

 

 

পিয়ানোর সাইজ এর উপর ডিপেন্ড কইরা এই অক্টেভ এর সংখ্যা কম বেশি হইতে পারে। একেবারে বাচ্চাদের খেলনা কি বোর্ড এর যেমন ২টা বা ৩টা অক্টেভ থাকতে পারে। আমার কি বোর্ড Yamaha PSR E313 বাচ্চাদের কি বোর্ড এর চেয়ে একটু উন্নত মানের। এইটা তে ৫ টা অক্টেভ আছে।

 

 

 

 

একটু যদি গইনা দেখি তাইলে দেখবো প্রত্যেক্টা অক্টেভ এ মোট ১৩ টা কি আছে। ৮ টা সাদা কি আর ৫ তা কালো কি । ওই ৮ টা সাদা কি এর জন্য এইটার নাম “অক্টেভ”।

 

একটা অক্টেভ এর প্রত্যেকটা কি এর আবার নাম আসে । A থেইকা G পর্যন্ত এই নাম গুলা দেওয়া হয়। পৃথিবী এর যাবতীয় সুর এই সাত টা লেটার এর মধ্যেই থাকে। এই গুলা বলা হয় এক একটা নোট। মানে A একটা নোট, B একটা নোট এইরকম। তাইলে কি দাঁড়াইল। এক এক টা কি আসলে একটা একটা নোট।

 

 

বেশি জটিল চিন্তা করার দরকার নাই। আমরা আস্তে আস্তে এই সব গুলা নোট এর নাম ই শিখবো আর পিয়ানো তে এই নোট গুলা কুনটা কই থাকে তাও শিখব। মূলত সাদা কি গুলাকেই A থেইকা G পর্যন্ত নাম দেওয়া হয়া থাকে। কালো কি গুলার নাম তাদের আগের বা পরের সাদা কি এর নাম অনুসারে হয়া থাকে।

 

যে কোণ সাদা কি এর ডান পাশে যদি কোন কাল কি থাকে, তাইলে ওই কালো কি টার নাম হয় সাদা কি এর নাম+শার্প। শার্প বুঝাইতে আমরা # চিনহ টা ব্যাবহার করি। যেমন উপরে আমরা যেই অক্টেভ এর ছবি দিসি তার একদম প্রথম কি টা, অর্থাৎ দুইটা কালো কি এর ঠিক বাম পাশের সাদা কি/নোট টার নাম যদি C হয় তাইলে C এর ডান পাশের কালো কি/নোট টার নাম C Sharp.  আবার C এর পাশের সাদা নোট টার নাম যদি D হয় তাইলে D পাশের কালো নোট টার নাম D sharp.  এই ভাবে আগে বারলে সব গুলা নোট আর তার শার্প এর নাম গুলা হবে এরকমঃ

 

 

 

 

আবার যদি পিছন দিকে চিন্তা করি তাইলে D নোট এর আগের কালো নোট কে বলব D Flat. E নোট এর আগের কালো নোট টাকে বলব E Flat এরকম। ফ্ল্যাট বুঝাইতে আমরা b এই সিম্বল টা ইউজ করি, যেমন Db, Eb, Gb মানে ডি ফ্ল্যাট, ই ফ্ল্যাট, জি ফ্ল্যাট ইত্যাদি ।

 

 

 

 

যেই সাদা নোট এর পরে কালো নোট নাই, তার কোন শার্প ও নাই। যেমন উপরের ছবি থেইকা আমরা বলতে পারি E এবং B এর কোণ শার্প নাই। আবার যেই সাদা নোট এর আগে কালো নোট নাই তার কোন ফ্ল্যাট ও নাই। যেমন C এবং F এর কোন ফ্ল্যাট নাই।

 

আজকে এই পর্যন্তই থাক। এগুলা শিখতে হইলে নিজের পিয়ানো বা কি বোর্ড থাকতে হইব এমন কোন কথা নাই। নেট এ Online Virtual Keyboard দিয়া সার্চ দিলেই অনেক অনলাইন কি বোর্ড পাওয়া যাবে। অগুলা তে জিনিশ গুলা একটু চর্চা করলে শিখাটা আরো শক্ত হইব আরকি।

 

আর না শিখতে ইচ্ছা করলে তো হইলই। ফরগিভ, ফরগেট এন্ড মুভ অন।