২৭৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জানুয়ারী ২৯, ২০১৬, ৭ঃ০১ পি এম

বুক রিভিউ: 11/23/63 by Stephen King

অবশেষে শেষ করলাম Stephen King এর ৮৪৯ পৃষ্ঠার বিশা আ আ আ ল বই 11/22/63। এই বইটা পড়া শুরু করি নভেম্বর ২০১৫ তে আর শেষ করলাম আইসা আজকে। আমি যে কত স্লো রিডার তা নিয়া আমার আফসুস এর শেষ নাই।

ভালই লাগসে পড়তে। এইটারে একটা Romantic Sci-Fi উপন্যাস বলা যাইতে পারে। সময় পরিভ্রমন বা Time Travel এর উপর ভিত্তি কইরা লেখা এই বই এর মূল চরিত্র ভাইজান অতিতে গিয়া আমেরিকার ইতিহাসের একটি আলোচিত ঘটনা চেঞ্জ করার চেষ্টা করেন। এই বই জুইড়াই আসে তার এই চেষ্টার পটভূমি, প্ল্যানিং, চেষ্টাকালিন সময়ে তার আতকা এক হট আপার প্রেম এ পইড়া যাওয়া, তারপর আপা রে নিয়া চিপায় গিয়া ইটিশ পিটিশ,বিভিন্ন বড়দের ছিন ছিনারি, তারপর মূল ঘটনার আগে দিয়া অনেক পেস পুস লাগা, আবার পেস ছুটা, দিবসে যে ধন হারায়েছি- আমি পেয়েছি আধারো রাতে টাইপ ব্যাপার স্যাপার ঘটা এই সব ই আসে আরকি।

আমি এই বইরে পাঁচ এর মদ্যে ৪ দিমু। মাঝে মাঝে কিছু ভাল এনালজি নিয়া আসছেন যেগুলা প্রায়ই জটিল বিষয় গুলারে বুঝতে হেল্প করসে। এই বই এর একজায়গায় আসে এয়ারফোর্স ওয়ান লাভফিল্ড এয়ারপোর্ট এ ল্যান্ড করলো। বোয়িং ৭০৭ টা আস্তে আস্তে টার্মিনাল এর সামনে দাড়াইল। আমি পড়া থামায়া গুগল করলাম এবং দেখলাম আসলেই একটা বোয়িং ৭০৭ এয়ারফোর্স ওয়ান ছিল। শুধু তাই না, এইটা ছিল বিশ্বের প্রথম প্রেসিডেনশিয়াল জেট বিমান।

পড়া শেষ হওয়ার পর আমি বইটা নিয়া একটু হাল্কা পাতলা ঘাটাঘাটি করলাম। আমি জানসি যে স্টিফেন কিং এই বইটা লেখার কথা ভাবসিলেন ১৯৭৩ সালে। কিন্তু পর্যাপ্ত রিসার্চ না থাকায় তিনি তখন বইটা লেখেন নাই। রিসার্চ শেষ কইরা লিখসেন আইসা ২০১১ তে। আই ওয়ান্ডার আমাদের দেশের বেশিরভাগ নতুন লেখক কতটুক করে এই কাজ টা। তাদের রিসার্চ টাইম মানে কি শুধু একবইমেলা থেইকা পরের টার আগ পর্যন্ত?

এই লেখকের আর কুনো বই আমি এর আগে পড়ি নাই। তয় পড়নের ইচ্ছা রাখি। আমি হুন্সি উনি অনেক পপুলার থ্রিলার সাই ফাই সাহিত্যক। এই বছর আমি নিজের উপর একটা বুক চেলেঞ্জ নিসি অন্তত ১২ টা বই পড়ার। মানে মাসে ১ টা।

এইটা ছিল আমার বুক অফ জানুয়ারি। ফেব্রুয়ারির জন্য কোনটা শুরু করবো এখনো জানিনা।

২৭৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জানুয়ারী ২৪, ২০১৬, ৬ঃ৩১ পি এম

“পালকি” চড়ে “অরুণ আলো” আসে
দিনান্তে “আকাশ প্রদীপ” জ্বলে,
“রাঙা প্রভাত” ছড়িয়ে পড়ে হেসে
মা, মাটি আর মানুষ ভালবেসে,
নীলাকাশে “মেঘদূত” ঋজুরেখা আঁকে
“ময়ূরপঙ্খী” নোঙর ফেলে অস্তাচলের বাঁকে

এই কবিতাটা বাংলাদেশ বিমানের প্রত্যেক্টা বিমান (যেগুলা নিজের টাকায় কেনা, লিজ নেওয়া না) সেগুলার ভিতর গোল্ড প্লেট এর উপর বসানো হইসে। আমি ইনভারটেড কমার ভিতর যে নাম গুলা লিখসি সেগুলা বাংলাদেশ বিমান এর এক একটা এয়ারক্র্যাফট এর নাম। মজার জিনিশ হইল এই সিকোয়েন্স এই বিমান গুলার কমিশনিং হইসে ফ্লিট এ।

এইখানে নাম, রেজিস্ট্রেশন নাম্বার আর ফ্লিট জয়েন করার মাস এবং বছর দিয়া দিলাম। এই সব গুলা ব্র্যান্ড নিউ এয়ারক্রাফট। সেকেন্ড হ্যান্ড না। বিমান আরো ৪ টা Boeing 777-300ER, ২ টা বোয়িং 737-800 আর ৪ টা Boeing 787 Dreamliner ওর্ডার করসে বোয়িং এর কাছে যেগুলা ২০১৯ এবং ২০২০ এ ফ্লিট এ যোগ হবে।

“পালকি”
S2-AFO
Boeing 777-300ER
October 2011

“অরুণ আলো”
S2-AFP
Boeing 777-300ER
November 2011

“আকাশ প্রদীপ”
S2-AHM
Boeing 777-300ER
February 2014

“রাঙা প্রভাত”
S2-AHN
Boeing 777-300ER
March 2014

“মেঘদূত”
S2-AHO
Boeing 737-800
November 2015

“ময়ূরপঙ্খী”
S2-AHV
Boeing 737-800
December 2015

এত কিছু লেখার এক্টাই কারন। আজকে আমার কানে আসছে একজন বলতেসিল, “বাংলাদেশ বিমান এ যামু না। বাংলাদেশ বিমান এর আছে কি? ভাঙ্গাচুরা কয়ডা বিমান” কথাটা ঠাশ কইরা আমার গায়ে চড় এর মত লাগসে। আমি অই অপরিচিত লোক রে বলসি, আপনার কথা টা ঠিক না। আপনি ভুল তথ্য ছড়াইতেসেন। ভুল তথ্য ছড়ানো একটা অপরাধ এর সমান কাজ।

বিমান রে নিয়া কেউ কিছু বললে আমার খুব গায়ে লাগে। নিজের দেশের এয়ারলাইন্স নিয়াই যদি আমরা এমন করি, তাইলে ক্যাম্নে হবে। বুঝলাম অনেক সমস্যা আছে, কিন্তু তাই বইলা হাল ছাইড়া দিয়া বদনাম করলে তো কিছু সমাধান হবে না। জিনিষ টাকে নিজের বইলা মনে করতে হবে। তাইলেই আমার দায়িত্ব টুক আমি পালন করতে পারব ঠিক মত।

নিজের দেশের এয়ারলাইন্স সম্পর্কে জানেন। বাংলাদেশ বিমান এর জন্য ভালবাসা।

২৭৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জানুয়ারী ৭, ২০১৬, ১০ঃ৫৮ পি এম

“কল-রেডী” । খুব পরিচিত একটা নাম। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষনেও আমরা এই “কল-রেডী” দেখি।

১৯৪৮ সালে সূত্রাপুরের দুই ভাই হরিপদ ঘোষ ও দয়াল ঘোষ মিলে একটি দোকান চালু করেন। নাম আরজু লাইট হাউস। লাইট হাউস নাম হলেও লাইটের পাশাপাশি গ্রামোফোনও ভাড়া দেওয়া হতো। বিয়ে-শাদিতে লাইটের সঙ্গে গ্রামোফোনও ভাড়া নিত লোকজন। দোকানটি পরিচিত হয়ে ওঠে অল্প দিনেই। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভারত থেকে কয়েকটি মাইক নিয়ে আসেন দুই ভাই। তাতেও কুলাচ্ছিল না। হরিপদ ঘোষ মাইকের কারিকরি জানতেন। যন্ত্রপাতি কিনে এনে নিজে কয়েকটি হ্যান্ডমাইক তৈরি করেন।

১৯৪৮ সালে দেশ ভাগের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানে আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করে। আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা মাইক ভাড়া নিতে শুরু করেন আরজু লাইট হাউস থেকে। চাহিদা বাড়তে থাকে দিনে দিনে। তাই তাইওয়ান, জাপান, চীন থেকে আনা হয় মাইক। তবে মাইকের মূল অংশ মানে ইউনিট বেশি আনা হতো বাইরে থেকে। এরপর নিজের দোকানের কারিগর দিয়ে হরিপদ ঘোষ তৈরি করিয়ে নিতেন হর্নসহ বাকি অংশ।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পর থেকে সভা-সমাবেশ বেড়ে যায়। এ ছাড়া সামাজিক আর ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও মাইক ভাড়া যাচ্ছিল। তাই মাইক দিয়ে নাম দেওয়ার ভাবনা করলেন দুই ভাই। অবশেষে দয়াল ঘোষ নামটি ঠিক করেন-কল-রেডী। কারণ বললেন, মানুষ তো কাজের জন্যই আমাদের কাছ থেকে মাইক ভাড়া নেয়। তারা কল করলে আমরা যেন রেডি থাকি। এক কথায়, কল করলেই রেডী। সে থেকে কল-রেডী।

ভালো সেবা দেওয়ার সুনাম থাকায় যেকোনো সভা-সমাবেশ ও বড় বড় অনুষ্ঠানে ডাক পড়তে থাকে কল-রেডীর। ১৯৫৪ সালে কল-রেডীর কর্মী ছিল ২০ জন। সভা-সমাবেশ সুনামের সঙ্গেই সম্পন্ন করতেন হরিপদ ও দয়াল ঘোষ। মাঝেমধ্যে তাঁদের ছোট দুই ভাই গোপাল ঘোষ ও কানাই ঘোষও সাহায্য করতেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের সভা-সমাবেশেও যোগ দিয়েছে কল-রেডী। কল-রেডীর মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিয়েছেন পূর্ব পাকিস্তানের বাঘা বাঘা নেতা।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ ভাষণের মাইক্রোফোন হলো কল-রেডী। হাটে-মাঠে-ঘাটে সব জায়গায় তখন স্বাধিকারের চেতনায় ফুঁসছে মানুষ। সত্তরের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুকে সারা দেশের মানুষ ভোট দিয়েছে। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর করে না। দফায় দফায় মিটিং করেও হচ্ছে না সুরাহা। চলে এলো মার্চ। কল-রেডীর মালিক হরিপদ ঘোষ ও দয়াল ঘোষকে ধানমণ্ডির বাসায় ডেকে পাঠালেন বঙ্গবন্ধু। নির্দেশ দিলেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে [তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান] মাইক লাগাতে। কাজে নেমে পড়েন হরিপদ ও দয়াল ঘোষ। তখন রেসকোর্সে মাইক লাগানো সোজা ছিল না-শাসকগোষ্ঠীর চোখ ছিল সদা সতর্ক। রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে লুকিয়ে মাইক লাগাতে লাগলেন দুই ভাই। ৭ই মার্চের বাকি আর তিন দিন। মাইক লাগিয়ে কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলেন হরিপদ আর দয়াল ঘোষ। কিছু বাড়তি মাইক বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মজুদ রাখেন যেন সমাবেশের দিন তাৎক্ষণিকভাবে লাগিয়ে নিতে পারেন। তিন দিন ধরে ৩০ জন কর্মী নিয়ে বাঁশ, খুঁটি গাঁথার কাজ করেন ঘোষেরা। তারপর সেই দিনটি আসে-৭ই মার্চ। কবি গিয়ে দাঁড়ান জনতার মঞ্চে। কল-রেডী’তে উচ্চা্রিত হলো ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।’

বঙ্গবন্ধুর ভাষণকালে যেন কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি না হয়, সে জন্য নিজে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি একজন সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দিয়েছিলেন হরিপদ ঘোষ। অতিরিক্ত তিনটি মাইক্রোফোন সঙ্গে রেখেছিলেন দয়াল ঘোষ।

এত বড় একটি সমাবেশে মাইক সার্ভিস দিয়ে কত টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছিল কল-রেডী? জানতে চাইলে হরিপদ ঘোষের ছেলে কল-রেডীর বর্তমান পরিচালক সাগর ঘোষ জানান, সেই সময় পারিশ্রমিকের কথা চিন্তা করার সুযোগ বাবা ও জ্যাঠা মশাইয়ের ছিল না। বঙ্গবন্ধু নির্দেশ দিয়েছেন সেটাই বড় কথা। আর তা ছাড়া দেশের পরিস্থিতি তখন সবাই কম-বেশি জানতেন। আর বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বাবা-কাকার ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে বাবা শুধু খরচটাই নিতেন। আরো বললেন, ‘সেদিন সেই সমাবেশে আমার বাবার হাতে তৈরি অনেক হ্যান্ড মাইক ব্যবহৃত হয়েছিল।’

৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে কল-রেডীর যে মাইক্রোফোনে বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন সেই মাইক্রোফোন, মাইক্রোফোনের স্ট্যান্ড আজও আছে কল-রেডীর কাছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আর অন্য কেউ সেই মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেননি। এরপর বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে আবারও কল-রেডীর মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিয়েছিলেন।

দেশ-বিদেশের অনেক বিখ্যাত মানুষ কল-রেডীর মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিয়েছেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এ কে ফজলুল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, শেখ হাসিনাসহ আরো অনেকে আছেন এই তালিকায়।

বিদেশের নেতাদের মধ্যে আছেন ভারতের ইন্দিরা গান্ধী। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে এসে তাঁর জন্য গড়া ইন্দিরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে কল-রেডীর মাইক্রোফোনে ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। এরপর ১৯৯৬ সালে ইয়াসির আরাফাত, নেলসন ম্যান্ডেলা কল-রেডীর মাইক্রোফোনে ভাষণ দেন।

আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়িও কল-রেডীতে কথা বলেছেন। এর বাইরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সমাবর্তনে মাইক সার্ভিস দেয় কল-রেডী।

১৯৮১ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর থেকে এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার প্রায় প্রতিটি সভা-সমাবেশে মাইক সার্ভিস দিয়েছে কল-রেডী।

কল-রেডী আছে আগের জায়গায়। পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার, বয়স হলো ৬৭।”

২৭৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ ডিসেম্বর ৩১, ২০১৫, ৮ঃ০৩ পি এম

২০১৪ টা প্রচন্ড খারাপ গেসিল। সব দিক থেইকা সব দরজা বন্ধ হয়া গেসিল । অফিসে বস এর সাথে সম্পর্ক খারাপ হয়া গেসিল। ক্যামেরা গিয়ার সব ছিন্তাই হয়া গেসিল। প্রচন্ড ডিপ্রেশন এ পড়সিলাম কিন্তু কাউকে বলতে পারতেসিলাম না। সব কিছু থেইকা পালায়া বেড়াইতাসিলাম। শেষে ২০১৪ এর এই দিন এ সেলুনে গিয়া চুল দাড়ি কাইটা একদম ছোট ছোট কইরা ফালাইসিলাম। কারন মনে হইতাসিল দেয়ালে পিঠ যখন ঠেইকাই গেসে , ঠিকাসে, তাইলে এখন সামনে আগাই। প্রিয় ডিপ্রেশন, লেটস ড্যান্স।

খারাপ সময় পার করার জন্য কিছু নিজস্ব তরিকা থাকে সবার। আমার তরিকা হইল ব্যাস্ত হয়া যাওয়া, নতুন কিছু শুরু করা, বন্ধু দিয়ে চারপাশে দেয়াল তৈরি কইরা রাখা। আমি অফিসের কাজে মনোযোগ বাড়াইলাম, উকুলেলে কিন্না শিখা শুরু করলাম আর আমি চরম অসামাজিক হইলেও আমার বন্ধু রা আমারে ছাইড়া যায় নাই। তাই সব কোলবালিশ এর মত (রুপক অর্থে মিন করসি, ফিজিকাল রিসেম্বলেস কাকতালীয় মাত্র) ফ্লাফি বন্ধু দের দিয়া চারপাশ ঘিরা ফালাইলাম। আইডেন্টিফাই করলাম ঠিক কোন কোন সময় ডিপ্রেশন এটাক করে। ওই সময় গুলায় বন্ধু গো কাছে গিয়া বয়া থাকতাম।

ডিপ্রেশন থেইকা উইঠা আসার সময় টা স্মুথ ছিল না। যখনি একটু ভাল থাকা শুরু করসি তখনি আবার ধাক্কা আসছে একটা। আমার একটা বিড়াল ছিল। পৃথিবীর সবচেয়ে লক্ষী বিড়াল। নাম ছিল অরু। ও মইরা গেল একদিন। সে দিন সারাদিন অফিস করসি। একটু পর পর কাইন্দা আসছি ওয়াশ্রুম এ গিয়া। অফিসের কেউ বুঝে নাই কি যাইতাসে আমার উপর দিয়া। তার পর পর ই এই নোট লেখা শুরু করসিলাম। লিখতে লিখতে মাঝে মাঝে অফিসের ইমোশন উইঠা আসছে নোট এ। সেইটা নিয়াও বস এর সাথে কেচাল লাগসে। উনারে বুঝাইতে পারি নাই যে আমার আসলে ভিতরের বাস্প সব রিলিজ করার আর জায়গা ছিল না কোন এই নোট ছাড়া।

বন্ধুরা পরামর্শ দিসিল আই শুড স্টারট ডেটিং এগেইন। ট্রাই করসিও। কিন্তু যুইত হইতাসিল না কোথাউ ই। সুর এর সাথে লিরিক্স টা ঠিক বস্তেসিল না কোথাও। আমার অনেক কে না বলে দিতে হইতেসিল। আমি অনেকের কাছে অপ্রিয় হয়ে যাইতেসিলাম।

তারপরও মনে হইসে, না এইটাই সব না। এখানেই সব শেষ না। তাই হাল ছাড়ি নাই। ভালবাসার উপর বিশ্বাস হারাই নাই। অ এর সাথে যখন প্রথম দেখা করতে গেলাম , রাশা কে বলসিলাম দোস্ত, আমার মনে হয় এইখানেও আমার কোন আশা নাই। কই অ (উপরে তাকানি) কই আমি (নিচে তাকানি)। রাশা সেদিন হাসছিল। কিন্তু কেম্নে কেম্নে জানি এই আউলা ঝাউলা বাউলা কাউলা ছেলেটারে অ ভালবাসা দিয়া ভরায় ফেললো। আমি প্রথমে ওরে না কইরা দিসিলাম। ডায়লগ দিয়া বলসিলাম, দেখো, আমার লাইফ অনেক উলটা পালটা , আমি এই ছেড়া বেড়া লাইফে তোমারে জড়াইতে চাই না। অ চুপ চাপ মাথা নাইরা মাইনা নিয়া চইলা গেসিল।

অভিমান করতে করতে আমার চামড়া অনেক মোডা হয়া গেসে। তাই আমার রিয়ালাইজ করতে টাইম লাগসিল। কিন্তু কয়েকটা দিন পরে রিয়ালাইজ করলাম অ রে না বলা মানে অ রে সারাজীবন এর জন্য হারানো। অ রে না বলা মানে অ রে অন্য কারো সাথে দেখা। অ এর মত কাউরে না বলা মানে আমি পৃথিবীর সব চেয়ে গাধা গাধাটার চেয়েও গাধা, Asser than the Assest of all the Asses।

তাই এক সন্ধ্যায় অফিসের পরে দৌড়াইতে দৌড়াইতে অ র কাছে গেলাম। গিয়া বললাম, আমি হয়তো এখনি তোমাকে তোমার মত সমান সমান ভালবাসতে পারুম না ।কিন্তু আমারে একটু সময় দাও, রাশা আমারে নাম দিসে ধুলা পড়া বই। সেই বই এর উপরের ধুলা গুলা শইরা যাইতে দাও, আমি অনেক সুন্দর কইরা ভালবাসুম, ইনশাল্লাহ। অ কিছুক্ষণ চুপ চাপ জরজেস ক্যাফে এর আরনল্ড পামার এ চুমুক দিল। তারপর তার ড্রাম রোল হাসি (যে হাসি শুনলে অনেক উচাত্তে সারকাস এর কেউ লাফ দেওয়ার আগে যে ড্রাম্রোল হয় সেই রকম ড্রাম রোল হইতে থাকে আমার ভিত্রে) দিয়া বলল, ফূহ, দিলাম ফু , ধুলা উড়ুক। তার আগে বল, এই কয়টা দিন আমারে এত্ত কষ্টে রাখসো ক্যান…হাউ হাউ হাউ হাউ ( আরো কিছু ধমক ধামক কল্পনা কইরা নেন)। আমি মনে মনে বললাম, কি রে ডিপ্রেশন, মুড়ী শেষ? না আরো দিমু?

এরপর থেইকা সব ঠিক হওয়া শুরু করসে। আজকে ২০১৫ এর শেষ দিনে আমার একটা রুপকথার মত অ আছে, একটা ভুতের মত অস্থির ক্যাস্পার দি ক্যাট আছে, বস এর সাথে আমার সম্পর্ক আগের চেয়েও ভাল আর আমি এই বছর একটা নতুন বাদ্যযন্ত্র শিখসি (উকুলেলে বাজাইতে পারি) । ২০১৪ যা যা কাইরা নিসিল ২০১৫ তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু ফেরত দিসে।

আল্লাহ, ধন্যবাদ। তোমার প্ল্যান না বুঝলেও, প্ল্যানার এর উপর যাতে আস্থা না হারাই, সেই তৌফিক দিও।

২৭৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ ডিসেম্বর ৩০, ২০১৫, ১২ঃ১৬ এ এম

আমার একটা জিনিষ নিয়া খুব টেনশন হইতাসে কয়দিন ধইরা। আমি অনেক ভাইবাও কোন কুল কিনারা করতে পারতাসি না। জিনিষ টা হইল, আমি কিভাবে আমার সন্তান কে অন্যের সুখে সুখি হইতে শিখাবো? এই একটা জিনিষ, খালি এই একটা জিনিষ যদি সবাই সবার সন্তান দের শিখায় যাইতে পারতো। তাইলে যে ঘরে বাইরে কি পরিবর্তন টা আসতো তা ভাবতেই গায়ে কাটা দ্যায়। কিন্তু আমি জানি না আমাদের রক্তে রক্তে যেভাবে এই জিনিষ টা ঢুকায় দেয়া হইসে এবং ঢুইকা গেসে সেইটা কিভাবে পালটায় ফেলা সম্ভব?


একটু চিন্তা করলে পাওয়া যায়, শুরু টা হয় অনেক ছোট থাক্তেই। বড় বোনের হাতে কিছু একটা দেখলেই ছোট বোন টা টান দিয়া নিয়া ন্যায়। ছোট বোনের হাত থেইকা বড় বোন টা কিছু নিলে ছোট টা কাইন্দা আকুল হয়। আমরা আহা কি কিউট দৃষ্টি নিয়া তাকায় তাকায় দেখি। বড় টা ছোট থেইকাই শিখা যায়, ছোট টার জন্য তারে সেক্রিফাইস করতে হবে। সে হয় তো আরেকজন এর জন্য সুখি হওয়ার প্রথম লেসন টা এইখানেই পায় কিন্তু সাথে সাথে আরেকটা মানুষ কিন্তু শিখলো যে আরেকজন এর থেইকা যেম্নেই হোক জিনিষ কাইরা নিয়া হইলেও তার সুখি হইতে হবে। অন্যের দুঃখ দেখার টাইম নাই, আমার সুখি হইতে হবে, ব্যাস ! এত কিছু তো আর অইটুক বাচ্চা বুঝে না। তার অখন্ডনীয় লজিক হইল, ওর আসে, আমার কেন নাই, আমার থাকতে হবে, ইফ পাইলাম দেন কিছুক্ষন নাইরা চাইরা একটু পরে ইন্টারেস্ট শেষ, এলস যদি না পাইলাম, তাইলে ইনিশিয়েট অপারেশন বিকট শব্দে ভ্যা করা ।

আরেক্টূ বড় হইলে শুরু হয় কম্পারিজন। দেখ অমুক ভাবির পোলায় ফারস্ট হইসে তুই কেন দুই নাম্বার কম পাইসত? আমি যদি আমার পোলা রে মিষ্টি খাওয়াই আর আরেক পোলা ফারস্ট হইসে সেই খুশিতে খুশি হইতে কই, তাইলে কি সবাই আমার দিকে ভুরু কুচকায় তাকাইবো না? আমি জানি এই চিন্তা টা স্বাভাবিক না এবং এই চিন্তা যারা করে তাদের আমরা পাগল-ছাগল এর গোত্রে দ্রুত জাজমেন্ট কইরা ফালায় দেই। কিন্তু এইভাবেই কি শুরু হয় না? এভাবেই কি আমরা ভাবতে শিখি না, সে কেন পাবে? আমি কেন পাব না? এর এফেক্ট টা কি আমরা বড় হইলে দেখি না?


একটু ফারস্ট ফরোয়া্রড করি। এই ভাবে বড় হয়া যে চাকরি তে ঢুক্লো, সে কি রাতারাতি তার চিন্তা ধারা পাল্টায়ে অন্যের সাফল্যে খুশি হইতে পারবে? তার মাথায় থাকবে উপরে উঠতে হবে যেম্নেই হোক । উপরে উঠার এম্বিশন নিয়া আমার কোনোই সমস্যা নাই কিন্তু “যেম্নেই হোক” পার্ট টা তে সমস্যা আ্ছে। আমি আমার নিজের অফিসে একজন খাটি অসৎ লোক কে চিনি। উনি অনেক ধার্মিক। পাচ ওয়াক্ত নামাজ পরেন। কিন্তু উনি প্রতি দুইটা বাক্যে একটা মিথ্যা কথা বলেন। মিথ্যা বইলা ধরা খান না যে তা না। কিন্তু তাতেও তার মধ্যে কোন বিকার আসে না। ইনাকে আমি জিজ্ঞেস করসিলাম আচ্ছা আপনি এই যে এত কিছু করেন, না হয় একটা প্রোমোশন ই পাইবেন, কিন্তু এই যে লোক গুলার মনে যে কষ্ট দিতাসেন এই ভাবে, সেইটার কি কোন দাম নাই আপনার কাছে? উনার উত্তর টা ছিল , এই গুলা আমি আমার পরিবার কে একটা বেটার লাইফ দেয়ার জন্য করতেসি।


দিস ইস স্কেয়ারি। রিয়েলি স্কেয়ারি । আর আমার দ্বিতীয় টেনশন এর জন্ম হয় এই সব কথা থেইকাই। আমি ভাবতে থাকি , আমরা যখন সৎ হই তখন আমাদের কোন কারন লাগে না। শীত বস্ত্র দান করসো ক্যান? এমনি ভাল লাগে তাই। রক্ত দান করস ক্যান? ফিলস গুড তাই। তুমি যে পাশের কলিগ কে হেল্প করলা, তোমার কি স্বার্থ এ টাতে? কোন স্বার্থ নাই, তার বিপদে পরা দেখতে খারাপ লাগতেসিল তাই। এগুলা কোন লজিকের মধ্যে পরে না। তাই ক্যেন আপ্নে সৎ হইলেন? এইটার কোন উত্তর সৎ মানুষ দিতে পারেনা। কিন্তু একজন অসৎ লোক কে জিজ্ঞেস করেন, তার এক্সকিউজের অভাব নাই। পরিবারের জন্য করসি, নিজে বাচার জন্য করসি, একটু করলে কিছু হয় না, সবাই তো করতাসে তাই করসি। এরা এমন একটা পর্যায়ে পৌছায় গেসে যেখানে তারা নিজেরাও জানে না তাদের আসলে টাকার এবং সম্মানের দরকার টা বেশি? না লোভ টা বেশি?

তারা খুব বলে আরে ভাই জান বাচান ফরয। আমার খুব জানতে ইচ্ছা করে এইটা কোন হাদিস বা কোরআন এর কোন আয়াত এ আছে ? আর বলতে ইচ্ছা করে, বুঝলাম জান বাচানো ফরয কিন্তু আপনি কি শিউর এই খানে নিজের জান এর কথা বলা হইসে? হোয়াট ইফ, পুরা বাক্যটা ছিল “অন্যের জান বাচানো ফরজ” অথবা “অন্যের সুখে সুখি হও” আর আমরা যারা ছোট বেলা থেইকা অন্যের সুখে সুখি হওয়া শিখি নাই , তারা কখন জানি “অন্যের” কথা টারেই আমাদের ময়লা হাত দিয়া ঘইসা উঠায় দিসি?

২৭২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ ডিসেম্বর ২৯, ২০১৫, ১২ঃ১৩ এ এম

অনেকদিন পর ধুলা ঝাইরা নোট লিখতে বসলাম। আমি অনেক ব্যাস্ত ছিলাম অফিস নিয়া। একটা বড় কাজ আসছিল এই বৃহস্পতি বার এর আগের বৃহস্পতিবার । ওই দিন অফিস থেইকা বাইর হইসি ১১ টায়। পরের শুক্র শনি কাজ করসি ১০ টা থেইকা রাত আট টা। তার পর সারা সপ্তায় কাজ করসি প্রত্যেকদিন রাত ৮ টা/৯ টা পর্যন্ত। শেষে এই শনিবার কাজ করসি রাত ১১ টা পর্যন্ত তারপর গিয়া শেষ হইসে। বাসায় আসার পর ঘুমায়া যাওয়া ছাড়া আর কিছু করার শক্তি থাক্তো না গায়ে।

আমার ইউনিভারসিটি পাস দিসি ৯ বছর হইসে আর চাকরীর অভিজ্ঞতা ১১ বছর। কারন থার্ড ইয়ার এ পড়ার সময় থেইকাই বাসা থেইকা টেকা টুকা নেওয়া অফ কইরা দিসিলাম। এইটা শো অফ করার জন্য লিখি নাই। এখন যেই কথা বার্তা গুলা লিখবো তা বলার আগে নিজের ক্রেডিবিলিটির ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করলাম। এখন যা কমু তাইলে তা মানুষ বুঝব যে হাওয়া থেইকা কইতাসি না। যে কোন জায়গায় নিজের প্রডাক্ট খাওয়াইতে হইলে আগে ক্রেডিবিলিটি টা এস্টিব্লিশ করা খুব জরুরি। যেমন একজন যদি অনেক ফটোশপ এ মেনুপুলেশন করা ছবি প্রকাশ করতে থাকে, তাইলে সে কোনদিন কোণ পোস্ট প্রসেস ছাড়া সুন্দর ছবি দিলেও মানুষ কইব “এহ ফটোশপ”।

যাউক গা, কামের কথায় আহি। চাকরির ক্ষেত্রে আমি দেখসি যে যখন একটা বড় কাজ আসে তখন সব জায়গায় কিছু কমন টাইপ এর মানুষ দেখা যায়। কাজ টা হয়তো প্রত্যেক ক্ষেত্রে আলাদা কিন্তু মানুষ গুলা এই টাইপ এর মধ্যেই পইড়া যায়। আসেন এই টাইপ গুলা রে চিন্না রাখি। তাইলে দো জাহানে (বাসা জাহান আর অফিস জাহান) অশেষ ফায়দা হবে।

দি ল্যাডারস, দি বসেস আর দি লিডারস

ল্যাডারস হইল এরা উপরের বস রে খুশি করার লাইগা বিভিন্ন অসম্ভব জিনিষ এ রাজি হয়া আসে আর মনে মনে ভাবে আরে পোলাপান আসে না এত্তডি, এডি আর কি কাম করে, হারাদিন তো বয়াই থাকে, এদের দিয়া সব করায় লামু। তার চোখে তার টিম মেম্বার রা মানুষ না, তার নিজের উপরে ওঠার সিড়ি মাত্র। সিড়ি তো কেউ কোলে নিয়া উপরে উঠে না। তাই টিম মেম্বার রে পারা দিয়া উপরে উঠতে এদের কোন গায়েই লাগে না।

বসেস হইল, বড় কাজ টা কেম্নে হইব, কি হইব এদের ডিটেইল কোন আইডিয়া নাই। ভাসা ভাসা ধারনা আসে। এরা শুধু হুকুম করতে পারে, প্লিজ ডু দা নিডফুল বইলা মেইল করতে পারে আর মাঝে মাঝে উইকেন্ড এ আইসা কি কাজ টাজ হচ্ছে তো? কর কর কাজ কর… এই টাইপ কথা বার্তা বলতে পারে।

লিডারস হইল যারা বড় কাজ টা আসার পর প্রথমে মনে মনে এক দফা ল্যাডারস আর বসেস দের গাইল্লায়। তারপর মনে মনে ছক কইরা ফেলে এম্নে এম্নে করলে এত দিন এর মধ্যেই কাজটা শেষ করা সমভব। তারপর নিজে হাতে হাতে কালি কুলি মাখায়া কাজ এ নাইমা যায়। এরা বলেনা, “কি ! এত গুলা বাকি? শেষ কর কর, কেম্নে করবা আমি কি জানি না, করতে হবে” এরা বলে “ওয়াও এত গুলা করসো। বাহ। আরেক্টূ করলেই তো শেষ”

দা হিংসুইট্টাজ

এদের কিছুই ভাল্লাগে না। আপনি কেন ভাল কাজ করসেন তা নিয়া এদের কমপ্লেইন আসে। কেন আপনার কাজের একটা অংশ তারা করসে তবু তাদের এপ্রিসিয়েট করা হয় নাই এই নিয়া এদের কমপ্লেইন আসে। চাকরি করতে দেখবেন এত আজিব রকমের ইমেচিউরড লোকজন এর দেখা পাবেন যে আপ্নার মনে হয়, এই লোক এই খানে চাকরি করে কেম্নে, ওরে নিসে কিডা।

দা কচ্ছপ্স

এরা কাজের ভলিউম টা দেখে তারপর চুপ চাপ নিজের মত কইরা কাজ শুরু করে। ল্যাডারস, বসেস আর লিডারস দের ফল আপ এর অত্যাচারে যদিও এদের গতি অনেক স্লো যায় কিন্তু এরা নিজের মত কইরা কাজ করে, কাজ শেষ করে আর তার পরপরি হিংশুইট্টাদের রোষানলে পতিত হয়।

আরো টাইপ্স আসে তবে এগুলাই বেশ বেসিক টাইপ্স। কালকে অফিস আসে। যাইঘুমাইগা।

২৭১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ ডিসেম্বর ১৯, ২০১৫

আমি কালকে নোট লিখি নাই। আগের দিন রাইতে ভাবসি সকালে লিখুম। সকালে ভাবসি রাইতে লিখুম নে। রাইতে বালিশে খালি মাথা ডা রাখসি এক মিনিট এর লাইগা আর ঢুশ কইরা ডুইবা গেসি ঘুমে।

শুক্রবার সকালে ভোর সাতটায় মহান রাশা ফুন্দিয়া কইসে আব্বে তুই এহনো ঘুমাস, শুক্রবার ভোর বেলা কেউ ঘুমায়? আয় আয় ঢাকা হোটেল এ আয়। চা চু খাই। বৃহস্পতিবার অফিসেত্তে বাইরইসি রাইত ১১ টায়। শুক্রবার ও অফিসে যাওনের কথা ৯ টায়। তাই ভোর বেলা ঘুম ভাঙ্গাইলে এই কে আছিস, আমার কামান্টা নিয়ে আয় মুড এ থাকনের কথা ছিল আমার। কিন্তু যার সকাল হয় দুপুর এক্টায় সেই রাশা ভোর বেলা আয়া পরসে এই ঘটনায় আমি এতই অবাক হইসি যে তাত্তারি উইটঠা দোউড় দিসি হোটেল এ। গিয়া দেখি হে বেশ উড়া ধুরা চুল লয়া নুরানি হাসি দিয়া বয়া রইসে টেবিল এ।

আমরা রুডী, ছ্যুপ, কলিজা, চা খায়া উড়ায়া দিলাম। তারপর বাসায় আইসা রেডি রুডি হয়া গেলাম অফিসে। গিয়া দেখি মোটামুটী সবাই ই আইসা পরসে। আমাদের একটা অনেক বড় কাজ আসছে। সবার ছুটি ক্যান্সেল করা হইসে। নেক্সট অনতত সাত দিন এম্নেই যাইবো। যাক গা কি আর করা। এই সব সময় বুঝা যায় কে কত স্ট্রেস নিতে পারে আর চাপ এর মধ্যে কে কত ভাল কাজ করতে পারে। আমরা সবাই ই সিভি তে লিখি Can work under pressure, hard working ইত্যাদি। কেডা যে সত্যিই সেইটা এই সব সময় সেইটা বাইর হয়। বুঝা যায় কে যে Working Hard আর কে যে Hardly Working. অনেক স্বার্থপর চিন্তা ভাবনাও আসে এই সময় ঘাড় গুইজা কাজ করতে করতে। যারা ছুটিতে আছেন সেই সব কলিগ দের উপর অনেক অভিমান হয়। যদিও জানি তাদের অনেক কারন আছে থাকতে না পারার। কিন্তু তবু যুদ্ধের সময় ছুটিতে নাচতে নাচতে দেশের বাড়িতে যাওয়া সৈনিক টার দিকে তার ফেলো সোলজার রা যেভাবে তাকায়, তাদের দিকে আমরা অম্নেই তাকাই। মুখে কিছু বলি না। থাক। লেটস বি রেস্পেক্টফুল।

বছর টা অনেক ল্যাটকায়ে গড়া গড়ি কইরা শেষ করার ইচ্ছা ছিল। জানি না সেইটা কতটুক করা যাবে। ডিসেম্বর মাস টারে শুক্রবার শুক্রবার লাগে। একটা নিয়ম থাকলে ভাল হইত। ডিসেমবর এর ১৫ তারিখ এর পর থেইকা ৩১ তারিখ পর্যন্ত সব অফিস বন্ধ রাখতে হবে। হারা বছর কাম ত করসেই, বছরের শেষ টা একটু আরাম করুক মানুষ। বিশাল ছুটি শুরু হইত বিজয় দিবস দিয়া। কি দারুন হইতো ব্যাপার টা। অফিসের কাজ করতে করতে বিদেশি গো হেপি হলিডেজ গ্রিটিংস দেইখা আর তাগো দিকে ল্যাপ্টপ (অয়ারল্যাস মাউস সহ) ছুইড়া মারতে ইচ্ছা করতো না।

২৭০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ ডিসেম্বর ১৭, ২০১৫

আজ ১৭ই ডিসেম্বর। আজকে প্রথম পাইলটেড প্লেন এর ১১২ তম বার্ষিকী। ১৯০৩ সালের এই দিনে উইলবার এবং অরভিল রাইট সুচনা করেন প্রথম পাওয়ারড ফ্লাইট এর। যদিও তার আগে হট এয়ার বেলুন এবং জ্যাপ্লিন কে পাওয়ার দিয়ে চালানো কে পাওয়ারড ফ্লাইট বলা যাবে কিনা তা নিয়া বিতর্ক আসে, তবু ইনারাই প্রথম তিনটা এক্সিস ( X,y আর z এক্সিস) রে কন্ট্রোল কইরা তাদের আবিষ্কৃত গ্লাইডারে ইঞ্জিন যুইরা দিয়া আর সেই পেলেন রে আকাশে সফলতার সাথে উড়ায়া সুচনা করেন এক নয়া যুগের।

রাইট ব্রাদারস আর তাদের কাহিনি নিয়া অনেক কিসু লিখতে মুঞ্চাইতাসে, কিন্তু লুকজন পড়তে গেলে ঘুমায়া পড়ব তাই নিজের উত্তেজনারে দমন কইরা রাখলাম। যার কবিতা ভাল্লাগে না, তারে গীতাঞ্জলী পইড়া হুনানি টাইপ ব্যাপার হইব একটা। তবু কিসু কই, ইচ্ছা করতাসে অনেক, ওই দিন এর গল্প টা কউনের. এইটা একটা জয় এর গল্প, মানুষের নিজেকে অতিক্রম করার গল্প।

উইলবার রাইট একবার বলসিলেন, “It is possible to fly without motors, but not without knowledge and skill.” তাদের কাজ কামেও এই কথার মাজেজা বুঝন যায়। তিনারা দুই বাই যহন ঠিক করলাইন যে আকাশে উইড়াই ছাড়বাইন, তহন হেরা এই বিষয়ে পড়ালেহা আরম্ভ করলাইন। হেরা আসিল সাইকেল বানানির মেস্তুরি, তাই পুরা বিষয় ডাই এগো কাসে নতুন আসিল। এরা Cayley এর এরোনিটিক্স এর কাজ সম্পর্কে পড়লেন, Otto Lilienthal এর Hand Glider বিষয়ক লেখা গুলা পড়লেন, Langley এর থিউরি গুলা পড়তে পড়তে ভাজা ভাজা করলেন। তারা আম্রিকার তখনকার আমলের রেইলওয়ে ইঞ্জিনিয়ার Octave Chanute ( যারে কিনা এখন Aviation এর অন্যতম Pioneer বলা হয়) এর সাথে তাদের আইডিয়া গুলাও শেয়ার করলেন। শুরু হইল তাদের পেলেন বানানির কাম কাইজ।

১৯০০ সালে তারা তাদের প্রথম গ্লাইডার বানান যেইটা ঘুড্ডির মত উড়াইতে হইত। এইটার উইং স্প্যান বা ডানার ব্যাপ্তি ছিল ১৭ ফিট। টেস্ট করার জন্য তারা নর্থ ক্যারলাইনার কিটি হক কে বাইছা নিলেন। কারনে এইহানে বালির মরুভুমি আসিল আর বাতাস ও থাক্তো বহুত। তাগো এই গ্লাইডার এর পরীক্ষা সফল হইসিল।

১৯০১ সাল। এক বছর ধইরা তারা আগের গ্লাইডার টার আরো কিছু ভুং ভাং উন্নতি করলেন আর বানাইলেন আরেকটা গ্লাইডার। এইডা আগেরটার চাইতে বড়। ডানার ব্যাপ্তি ২২ ফিট। কিন্তু এইডা তাদের মন মত কাম করল না। দুই ভাই এতই হতাশ হইসিলেন যে উইলবার তার ডাইরি তে লিখসিলেন “It would be a thousand years before humans would learn to fly.”

১৯০২ সাল। তারা আবারো ফিরা গেলেন কিটি হক এ। নতুন একটা গ্লাইডার লয়া। এইটা আগেরটার চেয়ে আরো বড়। উইং স্প্যান ৩২ ফিট। সাথে নতুন যোগ করসেন Rudder বইলা একটা নতুন জিনিশ । এইবার তাদের গ্লাইডার আশানুরূপ কাম করল। তারা এখন তইরি তাগো গ্লাইডারে মটর লাগাইয়া এইডারে ডিঙ্গি নৌকা থিকা কলের জাহাজ বানানির।

১৯০৩ সাল। ইতিমধ্যে তারা তাদের পেলেন এর জন্য একটা ১২ হরস পাওয়ার এর ইঞ্জিন বানাইসেন। আরো বানাইসেন দুনিয়ার প্রথম বিমানের প্রপেলার আর যেইটা বাইসাইকেল এর চেইন দিয়া যুক্ত ছিল ইঞ্জিন্টার সাথে। সেপ্টেম্বর মাসে তারা কিটি হক এ আবার আসেন তাদের বানানো নতুন পেলেন নিয়া। এইটার উইংস্প্যান ৪০ ফিট। ওজন ৩১৭ কেজির একটু বেশি।

১৪ই ডিসেম্বর, ১৯০৩ সাল। দুই ভাই কয়েন টস করলেন। জিতল উইলবার। কিন্তু উনি চালাইতে গিয়া এট্টু উলটা পালটা কইরা লাইলেন আর পেলেন আয়া গোত্তা খাইল বালির লগে। বাড়ি বুড়ি খায়া যা নষ্ট হইল পেলেন এর, ঠিক করতেই গেল গা তিন দিন।

১৭ই ডিসেম্বর, ১৯০৩ সাল। দ্বিতীয় প্রচেষ্টা। এইবার চান্স পাইসে অরভিল। হে জানত উইলবার এর কি ভুল হইসিল। তাই খুব খিয়াল কইরা পেলেন ছাইরা দিল সকাল ১০ টা ৩৫ মিনিট এ। আর আল্লাহর রহমতে আর কুনু পেস পুস না লাগায়াই ১২০ ফিট উইড়া গিয়া সুন্দর মত নাইমা পড়ল মাটিতে। দুই ভাই মিল্লা ঝিল্লা আরো তিনবার ( মতান্তরে চাইর বার আর যেহেতু এক এক বই এ এক রকম লিখসে তাই আমিও শিউর না) পেলেন ডা চালাইসিলেন। বুঝাই যায় চালাইতে হেগো সিরাম মজা লাগতাসিল আর তারা আস্তে আস্তে চালানিতে ওস্তাদ ও হয়া উঠতাসিলেন। শেষ বার হেরা অতিক্রম করসিলেন ৮৫২ ফিট।

রাইট ভাই গো পেলেন এর নাম আসিল The Flyer. The Flyer আর কখনোই উড়বে না কারন শেষ বার উড়নের পরে বাতাসের ধাক্কায় অইডা উল্ডায় যায় আর Damaged Beyond Repair হয়া যায়। হেরা কিন্তু অইডা বেইচ্চা কডকডি খায় নাই। Washington DC এর Smithsonian Air and Space Museum এ যত্ন কইরা রাইখা দিসে।

আরো একটা মজা হইসে যে কিছু কিছু ব্লগ এ লিখসে অইডা নাকি আসল “The Flyer” না। কিন্তু আমি ওই মিউজিইয়াম এর কিউরেটর এর সাথে যুগাযুগ করসি আর তিনি জানাইসেন যে ওই টাই রিয়েল The Flyer.

আমার কপালে আসে কিনা জানি না, আপ্নেগো কারো সৌভাগ্য হইলে আম্রিকা গিয়া দেইখা আইসেন আর আমার জন্য একটা ফটুক তুইলা নিয়া আইসেন।

দুনিয়ার সকল পেলেন এর জন্য ভালবাসা…

২৬৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ ডিসেম্বর ১৬, ২০১৫

আমাদের আটকায় রাখবা? পারবা না

সুন্দরবন এ তেল ঢাইল্লা, কয়লা ফালায়া ছারখার করবা? আম্রা লুংগি চিপ্পা তুমগো তেল বাইর করুম, গাছ যাব্রায়া ধইরা খারায়া থাকুম কাটতে আইলে।

রাস্তার উন্নয়ন না কইরা জ্যাম লাগায়া রাখবা? আমরা দুই চাক্কার সাইকেল দিয়া তোমাগো চাইর চাক্কার ঘুষের গাড়ি রে ছারায়া আগায় যাবো।

পাস করার পর চাকরি দিবা না? আমরা অনলাইন এ কাজ কইরা বিদেশ থিকা টাকা নিয়া আসবো।

বাংলা মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির বারোটা বাজায়া হিন্দি গান শিখায়া বড় করবা এই প্রজন্ম রে? আমরা আইটিউন্স এ বাংলা গান বিক্রি করব। প্রত্যেক্টা কান এ বাজবে বাংলা গান, আর হিন্দি শুনলেই মুখ বাকাবো।

এফ ডি সি রে তোমার কুরুচির শোকেস বানায়া থুবা? আমরা ইন্ডিপেনডেন্ট ডিজিটাল সিনেমা বানাবো। আর আমাদের দেখাদেখি বানাবে সবাই।

তোমরা দেশ বেইচা খায়া ঢেকুর তুলবা আর বলবা এই দেশ রে দিয়া কিসসু হবে না? আমরা স্পেশাল অলিম্পিকস এ সোনা জিত্তা আনুম আরর দেখায় দিমু আসলে প্রতিবন্ধী কে।

আমাদের কৃষকদের হাইব্রিড বিজ এর নামে বিষ খাওয়ায় দিবা আর সেচের সময় বিদ্যুত না দিয়া তোমাগো মারকেট এ লাল নীল বাত্তি জালাবা? আমাদের কৃষকভাইরা তাদের হাতের জাদু দিয়া ফসল ফলায়া যাবে যাতে তোমরা এসি রুম এ টাই নারায়া বলতে পারো, আম্রা তো দেশ কে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি।

আমাদের আটকানোর জন্য যা যা করা যায় করতে থাকো। আমরা দেশের জন্য বুক ভরা ভালবাসা আর মাথা ভরা বুদ্ধি নিয়া সব বাধা উড়ায় দিয়া আগায় যাবো।

আমাদের আটকায় রাখবা? পারবা না। কেউ কখনো পারে নাই। আমরা বাংলাদেশ এর গৌরবিত, গর্বিত নাগরিক। তোমাদের বিরুদ্ধে আমাদের ৩৬৫ দিন ই বিজয় দিবস।

২৬৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ নভেম্বর ২৪, ২০১৫

ফাকিবাজি করতে করতে অভ্যাস খারাপ হয়া গেসে। তাই কালকে রাতে নোট না লিখাই ঘুমায় গেসিলাম। মানুষ মদ খায়া মাতাল হয় আর আমি ঘুম পাইলে মাতাল হই। দিন-দুনিয়া-মুনিয়া কিছুই তখন আটকায় রাখতে পারে না। এমন বেহুশের মত ঘুমাই যে ঘুম থেইকা উঠার পর কেমন অপরাধি লাগে। চেক কইরা দেখি কোন কল আশ্ছিল কিনা, মেসেজ আসছিল কিনা। কারন আমার ঘুমের মধ্যে খুব স্বাভাবিক গলায় কথা বার্তা বলা, মেসেজ এর রিপ্লাই দেওয়ার অভ্যাস আসে। সকালে উইঠা এগুলার কিছুই মনে করতে পারি না।

একবার হইসে কি, ইউনিভার্সিটি তে পড়ার সময়, সেকেন্ড ইয়ার এ তখন। পরের দিন সি প্লাস প্লাস পরীক্ষা। আমি পইড়া টইড়া ঘুমাইতে গেসি। আমাদের ক্লাস এর বেশির ভাগ লোকজন এরি প্রোগামিং নিয়া কোন আগ্রহ ছিল না। এদের মধ্যে অনেকেই আবার পুরা কোড মুখস্থ কইরা যাইতো। খালি প্রব্লেম টা কমন পড়লেই হইল , ধুম ধাম লিখা দিয়া আস্তো। এরম একটা কি জানি প্রব্লেম ছিল যেইটা স্যার বলসিল পরীক্ষায় দিতে পারে। পোলাপান রাত জাইগা পড়ত। এরম ই একজন মাসুম বাচ্চা আমারে রাত দুইটায় ফোন দিসে সেই প্রব্লেম এর সমাধান টা করসি নাকি আর করলে কোড টা যাতে তারে বলি। আমি তখন গভীর ঘুমে। কিন্তু তারে আমি পুরা কোড মুখে মুখে বলসি , সে লিখে নিসে, তারপর নাকি অনেক থ্যাঙ্কস, ক্লাস এর কেউ এইটা সল্ভ করে নাই, তুই বস ইত্যাদি বইলা রেখে দিসে।

পরের দিন, ভার্সিটি গিয়া আমি ওই মাসুম বান্দার কাছেই গিয়া বলসি, দোস্ত, অমুক প্রব্লেম টা তো স্যার বলসিল আস্তে পারে পরীক্ষায়,তোরা কেউ করসস? করলে আমারে একটু দে, আমি একবার চোখ বুলাই। সাথে সাথে পুরা ক্লাস সাইলেন্ট হয়া গেল। মনে হইল ঘরে ফেরেশ্তা ঢুক্সে। আর সবাই এমন লুক দিল , এরম লুক মনে হয় মিরজাফর এর দিকে সিরাজুদ্দোউলাও দ্যায় নাই।

মাসুম পোলা ডা আস্তে আস্তে কইল, “তুমি কালকে রাতে কোড টা বইলা দেওয়ার পর সেইটা সারা ক্লাস এ ছড়ায়া গেসে। আমরা সবাই ওইটাই পইড়া আসছি। আর তুই এহন এই কথা কস? ফাইজলামি পাইসস?”

এরকম যে কত হইসে। আমি কারে জানি ঘুমের মদ্ধে বলসিলাম, ডিম সিদ্ধ করার পর খোসা ফালায় দিবা না। আলাদা কইরা ভিজায় রাইখা রাতের বেলা খাবা। স্কিন ভাল থাকবে । দেখবা ডিম এর স্কিন কত স্মুথ।

স্বপ্ন দেইখা ঘুসি মাইরা হাতের নাকলস ছিল্লা ফালাইসি যে কত বার। একবার দেশের বাড়ি তে গন বিছানায় ঘুমাইসি সব কাজিন রা। মাঝরাতে উইঠা দেখি এক কাজিন আর এক কাজিন রে বাতাস করতাসে, মাথায় পানি ঢালতাসে। জিগাইলাম আয় হায় কি হইসে ওর? এই পিচ্চি ভাইয়া না আমার পাশেই ঘুমায় ছিল? উত্তর আসলো আমি নাকি তারে ঘুমের মধ্যে এমন কনি মারসি, যে পোলা এখন শ্বাস নিতে পারতাসে না ঠিক মত।

ঘুম কি অদ্ভুত রহস্যময় একটা একটা জিনিষ। আমি বড় হয়া সুপার হিরো হইলে নাম রাখুম ঘুম ম্যান। ঘুম ম্যান খুবি নিরিহ ব্যাড এস সুপার হিরো। বিপদ আসলেই ঘুমায় যায়। জরুরী সময় আসলেই ঘুমায় যায়। প্রেমিকার মনে প্রেম প্রেম ভাব উঠলেই ঘুমায় যায়। আর পরের দিন অপরাধি অপরাধি গলায় বলে, না ইয়ে মানে, কালকে রাত্রে ফোন দিসিলা? আমি কি কথা বলসিলাম? উলটা পালটা কিছু বলসি?

কত ভাল ঘুম ম্যান। সাইধা সাইধা ঝারি খায়।