২৮৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২১, ২০১৬, ১০:০৫ পি এম

একজন শিল্পীর কাজ হলো অনুভূতি সৃষ্টি করা। মাধ্যম টা ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু সবার উদ্দ্যেশ্য এক। শিল্পী রা যতই বলুক তাদের সৃষ্টি তাদের অনুভুতি প্রকাশের মাধ্যম কিন্তু দিন শেষে যখন আমরা রিসিভার এন্ড এ, তখন সৃষ্টিকর্মটি আসলে একটি “অনুভূতি জাগানিয়া”ই হয়ে যায়।

এই জন্য সব সৃষ্টি সবার কাছে শিল্প হয়ে ওঠে না। এই জন্য শিল্প কর্মের সমালোচনা করা যায়, শিল্পীর নয়। আপনি যখন একজন শিল্পীর কাছ থেকে তার সৃষ্ট কর্ম কিনছেন তখন যে মূল্যটি দিচ্ছেন তা তার ওই সৃষ্ট কর্ম টি সৃষ্টির জন্য তার দেয়া এফোরট এর তার নির্ধারিত মূল্য দিচ্ছেন। এটা কখনোই তার প্রতিভার মূল্য নয়।

প্রতিভাকে জাগতিক কিছু দিয়ে মূল্য দেয়া সম্ভব নয়। প্রতিভার মূল্য দিতে হয় তার প্রতি আপনার শ্রদ্ধা দিয়ে। তার সৃষ্টিশীলতার প্রতি আপনার নিঃর্শত ভালবাসা দিয়ে।

আমাদের বড় হয়ে ওঠার প্রসেস এ শিল্পের প্রতি এপ্রোচ টা শেখানো হয় তার তুলনামূলক মূল্যমান দিয়ে। এই পেইন্টিং এর দাম বেশি এইটার পেইন্টার বড় আর্টিস্ট , উনি কার্টুন আকেন তাই উনি ছোট আর্টিস্ট, উনি বিয়েতে ছবি তুলতে অনেক টাকা ন্যান তাই উনি বড় ফটোগ্রাফার, উনি গায়ে হলুদ এ গান গান তাই উনি “খ্যাপ আর্টিস্ট”. এইরকম ইত্যাদি।

আমাদের এই ধারাটা ভাংতে হবে। শিল্পকর্মের সমালোচনা করতে হবে, শিল্পীর নয়। কারন একজন আর্টিস্ট চাইলেই আমাদের অনুভূতি বদলে দিতে পারেন। আর মনে রাখতে হবে টাকা দিয়ে আপনি একটি শিল্প কর্ম কিনছেন, শিল্পী কে নয়।

২৮৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১০, ২০১৬, ০৬:৫০ এ এম

[Spoiler Alert : সিনেমা এখনো না দেখে থাকলে/ দেখার প্ল্যান থাকলে, না পড়াই ভাল]

আমরা কালকে “কৃষ্ণপক্ষ” দেখতে গেসিলাম। যমুনা ফিউচার পার্কের হলে শনিবার দুপুর ২.৩৫ এর শো। ১.৩০ এ যখন কাউন্টার এর সামনে আসলাম দেখলাম প্রায় ফাকা কাউন্টার আর ওইপারে এক কোনায় কয়েকজন বিরস বদনে বইসা আসে। কারন কোন এক কারনে বেটমেন বনাম সুপারমেন এর শো ক্যান্সেল হইসে। অনেক লুকজন টিকিট ফেরত দিয়া গালাগালি করতে করতে ফেরত যাইতাসে।

ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “ভাই, কৃষ্ণপক্ষ এর টিকেট?”। সে বিরক্ত কন্ঠে জবাব দিল, “এখন দিতেসি না, পরে আসেন।”

ভয়ে আর জিগাই নাই। নিচে এট্টু ঘুরাঘুরি কইরা এপেক্স জুতার দুকানের সেল এ দুই জোড়া জুতা কিন্না যখন উপরে আইলাম তহন বাজে ২ টা। আবার বুকে সাহস নিয়া জিগাইলাম “বাইয়া, টিকেট?” এই বার কাজ হইল। আর উনাদের মন খারাপের কারন ও বুঝা গেল।

উনি জানাইলো কোন এক কারনে যমুনা ফিউচার পার্ক এর এসি কাজ করতাসে না ঠিকমত। আমি জিগাইলাম একবারেই কি এসি নাই? উনি জানাইল, “স্যার আছে, তয় এসির পাওয়ার কম”। আমি ভাব্লাম জিগামু তইলে নন এসির টিকিট দ্যান। ডরে আর জিগাইনাই। দুই পিস টিকিট কিন্না অ রে বগল দাবা কইরা সিনেমা হলের দরজার কাসে আইসা দাড়াইলাম।

আইসা দেখি বেটমেন বনাম সুপারমেন এর বিশাল কাট আউট লাগাইসে। আমি ভাব্লাম বিদেশি সিনেমার লাইগা এত আর কৃষ্ণপক্ষ এর তো একটা পোস্টার ও চোখে পরল না ঠিক মত। যাউকগা ইনফ্রাস্ট্রাকচার এর অভাব আর অসহযোগিতার এর লাইগা এই দেশের সিনেমারে কবে কে ঠেকায়া রাখতে পারসে। লাগবো না এসি, দিল ঠান্ডা হইলেই হইল।

ঢুক্লাম সময় এর অনেক আগেই। পুরা হলে আমরা ছাড়া আর চার পাচ জন ছিল। যার মধ্যে দুই জন লাইট নিভা মাত্র চুম্মা চাটি তে এতই ব্যস্ত ছিল যে জাতীয় সংগীত এর সময়ও উইঠা দাঁড়ায় নাই। কিছু কই নাই। থাকগা সিনেমা দেখতে আসছি, অমানুষ মানুষ করতে তো আসি নাই।

শুরু হইল সিনেমা। একটা ছোট গ্রাম্য বিয়ার অনুষ্ঠান এর সিন দিয়া। আমি প্রতিটা সিন খুব মনোযোগ দিয়া দেখসি। মারুফ ভাই আমাদের ডাইরেক্টর এর ছোট খাট হিন্টস গুলা ধরতে শিখাইসিলেন। অগুলা খুজার ট্রাই করসি। বিরতি বা ইন্টারমিশনটা খুব পার্ফেক্ট টাইম এ ছিল। অ এর “এরপর কি হইল, বল না, ও কি মরে গেসে, ও কি মরে গেসে” শুইনা বুঝতে পারসি যে সিনেমার ডিরেক্টর গল্প টা বলতে পারাতে সফল।

নায়ক রিয়াজের অভিনয় নিয়া ত বলার কিছু নাই। স্বাভাবিক অভিনয় ছিল। কিন্তু নায়িকা মাহিয়া মাহি ডুবাইসেন। উনি যতখন ফটোগ্রাফ হয়া ছিলেন আই মিন মুখ বন্ধ কইরা ছিলেন ততখন ভালই লাগতাসিল সিনেমাটোগ্রাফার এর মুন্সিয়ানার কারনে। কিন্তু মুখ খুল্লেই বা হাত পা নাড়ানো লাগে এমন কিছু সিন আসলেই উনাকে খুবি স্টিফ লাগসে আমার কাছে। পাশে থেইকা অ জিজ্ঞেস করসিল “আর কোন নাইকা ছিল না দুনিয়ায়?”

আমি অ রে খুব ভাব সাব নিয়া বুঝাইলাম, “দেখ, কমার্শিয়াল সিনেমা তে একটা আই ক্যান্ডি লাগে। নাইলে লোকজন ত রিয়াজের স্যান্ডো গেঞ্জি পরা বডি দেখতে আসবে না। আসবে মাহির নাম শুইনা। আর একটা বৃষ্টি ভেজা গান ও আসে”। গান টা অশ্লিল লাগে নাই অবশ্য। ভালই ছিল গান এর দৃশ্যায়ন গুলা।

পার্শ্ব চরিত্র গুলার মধ্যে নায়িকার বাবার অভিনয় ভাল লাগে নাই। পুলিশের এক্স আইজি এর এমন করুন কিন্তু রাগি ভাব ভংগি মানায় নাই। যদিও তার স্ক্রিন টাইম ও কম। নায়কের দুলাভাই চরিত্রটা একটা ডার্ক টাইপ এর চরিত্র। রেসিসম কইরা বলতাসি না। যিনি করসেন সেই আজাদ আবুল কালাম ও ডার্ক, চরিত্রটাও ডার্ক। উনার অভিনয় ভাল ছিল। নায়ক এর বন্ধুবান্ধব রাও অতি অভিনয় বা ভাড়ামি করেন নাই, তাই ছন্দপতন ঘটে নাই কোথাউ।

পরিচালক হিসাবে শাওন এর প্রথম ছবি বইলাই হয়ত তিনি কিছুটা সেফ খেলতে চাইসেন। হিউমার কম রাখসেন কিন্তু যেটূকু রাখসেন তা বেশ subtle। আর থিম এর দিক থেইকা সিনেমাটাই যেহেতু ডার্ক, তাই হিউমার বেশি না থাকাতেই ভাল হইসে। অনেক মনে রাখার মত বা উচ্চ মার্গিয় সিম্বলিক কোন দৃশ্য না থাকলেও যা ছিল তাতেই অনেক যত্নের ছাপ খেয়াল করা গেছে। কিছু ডিটেইল এর প্রতি লক্ষ্য রাখলে ভাল হইত আরো। যেমন একটা গানের দৃশ্যে একজন কে দুই হাত দিয়ে মুঠি করে ধরে হারমোনিকা বাজাতে দেখা গেসে আর আমার খুত খুতা চোখে মনে হইসে, কিন্তু হারমোনিকা তো এভাবে বাজায় না। আবার অন্যদিক এ অফিসের দৃশ্যে দুলাভাই হুদাই ল্যাপটপ এ এম এস ওয়ার্ড খুইলা কাজ করার ভান করেননাই। স্ক্রিন এ আউটলুক মেইল ক্লায়েন্ট খোলা ছিল। আমি খেয়াল করসি।

নায়িকার বড় বোন এর চরিত্রে মৌটুসি বিশ্বাস অনবদ্য অভিনয় করেছেন। মাঝে মাঝে মনে হইতেসিল এই মেয়েটা এত জামাই পাগল ক্যান, বিরক্তিকর। তখন বুঝসি উনি চরিত্রটার রুপদানে সফল। ফেরদৌস এর একটা ছোট ভুমিকা আছে, নায়িকার বিয়ের প্রার্থি হিসাবে একটি বেইল নাই চরিত্রে। উনি উনার এজ ইউজুয়াল কারিশমা দিয়া তাতে ভালই উত্রায় গেসেন।

তবে সব কিছু ছাড়ায় গেসে নায়কের বড় বোন এর চরিত্রে তানিয়া আহমেদ এর অভিনয়। পুরা সিনেমাটাকে উনি মোটামুটি একাই টেনে অনেক উপড়ে নিয়ে গেছেন যদিও পোস্টার এর কোথাউ তার উপস্থিতি তেমন ভাবে নাই। শাওন তার সিক্রেট উইপেন কে এমন ভাবে ব্যবহার করেছেন যে তানিয়া যে সকল দৃশ্যে ছিলেন পর্দায় চোখ যেন সুপার গ্লু দিয়ে আটকানো ছিল। অনেক দৃশ্যেই একটা সংলাপ ও না বলে শুধু ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন দিয়ে, চোখ দিয়ে এত টা ঘৃনা, এতটা দুঃখ, এত টা অসহায়ত্ব ফুটিয়ে তোলা যায় তা তানিয়ার অভিনয় কে না দেখলে বোঝা যাবে না। পুরা সিনেমায় যদি একজন মাত্র অভিনেতাও দর্শকের মনে ছাপ ফেলতে পারেন তা হচ্ছেন তানিয়া।

শেষ দৃশ্য টা হলে বসে খুব বেশি নাটকিয়তা মনে হইসিল। আই সি ইউ এর ডাক্তার কে নায়িকা বললো “আমি কি নায়কের সাথে একটু একা থাকতে পারি?” আর ডাক্তার বের হয়ে গেল? আর হস্পিটাল এর রুম এ এত ধুপধুয়া আসলো কইত্থে? এও কি বাস্তবে সম্ভব। কিন্তু এত ঘন্টা পরে এসে মনে হইতাসে, না ঠিক ই আসে।

আমার অপরিপক্ক মন সিনেমার অন্তর্নিহিত অর্থের চেয়ে লিটারেল মিনিং বেশি খুজতেসিল। তাই শেষ দৃশ্যটা তখন বুঝি নাই। এখন বুঝসি।

আসলেই তো এইটা একটা জীবন মৃত্যুর মাঝখানের সেই রহস্যময় জায়গাটার একটা দৃশ্যায়ন ছিল। এইখানে এইরকম কুয়াশা কুয়াশা ভাব তো থাক্তেই পারে। হেলথ মনিটরিং ইকিইউপমেন্ট গুলা বন্ধ দেখানোটাও হয়তো ইচ্ছে করেই ছিল। এই দৃশ্যের পরে নায়িকা হয়তো একা হয়ে যাবে, তার পৃথিবী ধোয়াটে হয়ে যাবে। বাইরের এবং ভিতরের আর পর্দার সাম্নের সব গুলা মানুষের জীবনে হয়তো নেমে আসবে এক গভীর “কৃষ্ণপক্ষ”।

২৮৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৬ ২০১৬, ১১:৩৯ পি এম

রাগ করা আসলে খুব সহজ। খুউউব ই সহজ। এক্সপেক্টেশন অনুযায়ী কিছু একটা হয় নাই, রাগ করে ফেললাম। কেউ আমার ভুল ধরায় দিসে, কত্ত বড় সাহস, রাগ করে ফেললাম। দেশের কোন সমস্যা সমাধান হইতাসে না, সরকারি সব কাজ খারাপ, বিরোধী দল এর সব কাজ খারাপ, সবাই চোর-বাটপার-ধান্দাবাজ, রাগ করে ফেললাম। পেপারে কোটি কোটি টাকা লুটপাট, দুর্নীতি করার খবর, আমার তো লাখ লাখ টাকাও নাই, ক্যান নাই, রাগ করে ফেললাম।

রাগ জিনিষ টা এমন যে এর হাতে আত্মসমর্পন কইরা দিলে এ আস্তে আস্তে পুরা মন এর দখল তো ন্যায় ই, পুরা শরীর এরও দখল নিয়া ন্যায়। পরে এক্সপেলেনেশন দিতে হয়, সরি, রাগের মাথায় হুশ ছিল না। যে লোক টা ফ্লোর এ একটা পিপড়া দেখলেও সাইড এ পা ফেলে সেই দেখা যায় রাগ উঠলে আরেকজন রে থাবর দিয়া গালে দাগ কইরা ফেলসে। আর রাগের মাথায় মানুষ কি কি করে তা আমরা সবাই সিনেমা, টিভি, বাস্তব জীবনে দেখসি তাই আর ওই দিকে না যাই। হাত মুঠি করা, দাত কিড়মিড় করা, ফোশ ফোশ কইরা শ্বাস ফালানি, মিন মিন করা মেয়েটার গলার ভয়েস এর হঠাত ভলিউম আপ হয়া যাওয়া, এগুলা খেয়াল করলেও বুঝা যায় যে রাগ শরীরের দখল নিয়ে নিসে। তখন “রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন” মার্কা কথা বার্তা বুঝাইতে গেলে উলটা “বুঝাতে গেলেন তো মাইর খেলেন” সিচুয়েশন হয়া যাইতে পারে।

কঠিন কাজ টা হইল, রাগ হইলেও রাগ কে নিজের মন আর শরীর এর দখল নিতে না দেওয়া। এইটা আজকে ওয়াদা কইরা, কালকে থেইকাই হয়া যাবে না। কিংবা মাথায় নিদ্রা কুসুম, নিদ্রা হাফ বয়েল্ড ইত্যাদি মাখলেও হবে না। জিনিষ টারে নিজের সিস্টেম এ আনতে হবে সময় নিয়া। না রাগ হওয়া চর্চা করতে হবে। তবে সবার প্রথম স্টেপ হইল, নিজের কাছে নিজেরে স্বীকার করতে হবে যে, ইয়েস, আই হার্ট পিপল হয়েন আই এম এংরি। “ভালইসে রাগ করসি” এই এটিচিউড এর মানে হইল সেই মানুষটা মনবিজ্ঞান এর ভাষায় “ডিনায়াল” স্টেজ এ আসে। এই স্টেজ এ আটকায় গেলে সামনে আগানো যাবে না।

আরেকটা জিনিষ আমরা চর্চা করি তা হইল রাগ চেনেলাইজ করা। মানে একজন এর কাসে বকা খায়া আরেকজন এর উপর সেই রাগ টা ঢাইলা দেওয়া। যেহেতু আমি এই কাজ টা কোনদিন করি নাই তাই আমি ভাল জানি না এই সময় তারা কি ভাবে। কিন্তু আমার মনে হয়, ইনারা চিন্তা করে এই ভাবে, আমি বকা খাইসি, আমি রিগ্রেট ফিল করতাসি, যতখন না আরেকজন রেও আমি এই রিগ্রেট ফিলিংস টা না করামু ততখন সে বুঝবে না আমি কিসের মধ্যে দিয়া যাইতেসি। তাই তারেও আমার মিসারেবল ফিল করাইতে হবে। ব্যাপার টা এমন যে কেউ আমার গায়ে আইসা আগুন লাগায় দিয়া গেল, আমি তারপর কয়েকজন এর গায়ে আগুন লাগায়া দিয়া দাঁড়ায় দাঁড়ায় পুড়লাম আর তাদের দিকে তাকায় তাকায় বল্লাম, দ্যাখ শালারা, দ্যাখ পুড়তে কেমন লাগে দ্যাখ।

আগুন ছড়াইতে দেওয়া যাবে না। নিজে পুড়তে হবে। যে মন থেকে ঠিক হইতে চায় সে আপ্নারে পুড়তে দেখলে নিজেই সতর্ক হয়া যাবে। বাংলাদেশে রাগ জিনিষ টাকে খুব সমীহ করা হয়। ওরে ঘাটাইও না, ওর রাগ বেশি। আমি সারাজীবন শুনতে শুনতে বড় হইসি, লোকজন রে ঝাড়ির উপর না রাখলে কাজ হয় না। হয়তো আসলেও হয় না কোন কোন ক্ষেত্রে কিন্তু ইট ডাজ নট হ্যাভ টু বি দিস ওয়ে। কাজ হয় না কারন আমাদের অভ্যাস ঝাড়ি খাওয়ার পরে সিরিয়াস হওয়া। এই অভ্যাস পালটাইতে হবে।

রাগ যে হয় তাকে সবাই ভয় পায়। কিন্তু একজন এর ভয় এর পাত্র হয়া কি লাভ? একজন আমাকে ভয় পায়া একটা কাজ করল, আর একজন আমার প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ থেইকা কাজ করলো। দুইটার আউটপুট হয়তো আপাতত সেম হবে, কিন্তু দুইদিন পর যে আমার রাগ কে ভয় পায়া কাজটা করলো তার কাজ হবে যতটুকু করতে বলা হইসে ততটুকুই। আর যে শ্রদ্ধা বোধ আর ভালবাসা থেইকা করলো সে ভাববে এই খানে আর কি নতুন ভ্যালু এডিশন করা যায়, আর নতুন কি করা যায় এই কাজ টার সাথে ।

এই খানে বলে রাখি, আমি কোন মনবিজ্ঞান এর থিউরি থেইকা এই সব বলতাসি না। আমি শুধু চিন্তা করতাসি আমি কিভাবে রাগ নিয়ন্ত্রন এ রাখি, তাতে আমার কি লাভ হয় আর সেগুলাই লিখতাসি। আমি রাগ হই, প্রচুর রাগ হই, কিন্তু আমাকে শেষ কবে কেউ রাগতে দেখসে কেউ মনে করতে পারবে না। আমার মনে হয় ইটস অল এবাউট, রাগ কে কত টা ঘৃনা করি আমি আর কতটা বিশ্বাস করি যে এ রিয়েকশন ডাজ নট সল্ভ এনিথিং, বাট পেশেন্স ডু।

রাগ আর জিদ কে একসাথে মিলায় ফেললে হবে না। আমার ভাল করার জিদ থাকতে পারে, আমার কিছু পাওয়ার জন্য জিদ চেপে যাইতে পারে। দ্যাটস নরমাল দ্যাটস কল্ড ডিটারমিনেশন। কিন্তু এংগার, এই ডিটারমিনেশন এর রাস্তা থেইকা অনেক দূরে নিয়া যায়।

অনেক রকম মেমে দেখি ইন্টারনেট এ, ফেসবুকে যার সামারি হইল, রাগী মানুষ গুলা আসলে ভাল মানুষ হয়, আর না-রাগী মানুষ গুলা হয় মিচকা শয়তান। তারপর ড্যাশ দিয়া হুমায়ুন আহমেদ লিখে দিলেই হয়া গেল কাজ। সবাই আহা উহু, শেয়ার শেয়ার, এক্কেরে মনের কথা ইত্যাদি বলা শুরু করে । এগুলা রাগি মানুষের রাগ কে জাস্টিফাই করার বাহানা ছাড়া আর কিছু না। স্মোকিং এর ছবি অনেক গ্ল্যামারাস কইরা তোলাই যায়, কিন্তু দ্যাট ডাজনট মিন যে স্মোকিং ইজ গুড, তাই না?

আমার বরং রাগি মানুষ গুলার উপর করুনা হয়। আহারে কত দুর্বল মানুষ গুলা। নিজের উপর কোনো নিয়ন্ত্রন ই নাই।

২৮৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৫ ২০১৬, ০৬:৪৯ এ এম

আমার কোন কবিতার খাতা নাই। যখন যা মনে আসে মোবাইলেই লেখা হয়। তাই কোন কিছুই একসাথে থাকে না। আমাকে যখন মরনোত্তোর কবিতা পদক দেয়ার কথা চিন্তা করা হবে, তখন পদকে কমিটির বস কে পদক কমিটির কর্মচারী পান চাবাইতে চাবাইতে বলবে, “ছার, উনার ফেচবুক তো খালি আবজাব দিয়া বর্তি। কবিতা তো খুইজ্জা ফাইতাসি না ছার”।

এই তিনটা বিভিন্ন বছরে আজকের দিনে লেখা। আজকের দিনে কি জানি একটা আছে। আজকের দিনে কবিতা খুইজ্জা পাওয়া যায়।

ঘোলা চাঁদ টাকে
করে দিতে পারি
চকচকে
রাজপথে এনে দিতে পারি
পা ডুবানোর ঘাস
কুচি করা নীল কাগজ
মুঠো ভরে এনে
বলে দিতে পারি
এইবার দাও ফুঃ
তবু একশো বছর
কান পেতে থাকি
শুনবো বলে
এক্টা ছোট্ট ” হু “

আকাশ বুঝি তোমার মত?
ঘুম ভাংতেই দুপুর হয়
আবছা আলোয় গা জড়িয়ে
ঘাসের পায়ের নুপুর হয়

মেঘ ও নাকি এক্টা তুমি?
রং ছাড়া ই ফর্সা হয়?
ভাসতে ভাসতে হাসতে হাসতে
চৈত্র হঠাৎ বর্ষা হয়?

আমার স্বপ্নের হাতে কড়া,
তবু চোখ ধরেছে হাত
না হয় আকাশ দেখেই কাটিয়ে দেব,
শেষ তো হবে রাত ।
জানি শেষ তো হবে রাত

২৮৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৪ ২০১৬, ০৬:০৩ পি এম

স্পেশ শাটল এর আদ্যপান্ত্য – ১

আমার স্পেস শাটল খুব ভাল্লাগে। কি সুন্দর একটা প্লেন এর মত জিনিষ। আমি এইটারে প্লেন ই ভাবতাম। কিন্তু একদিন জানতে পারলাম আমার ধারনা ভুল। তারপর আগ্রহ আরো বাইরা গেল। মনে হইল এই জিনিষ টা সম্পর্কে জানতে হবে। আমি কিছু কিছু পড়ালেখা করতাসি নেট থেইকা আর সামনে আরো করবো। একবারে বেশি পড়তে পারি না। মাথায় কুলায় না। আর তা ছাড়া অফিসের ব্যাস্ততাও থাকে। তাই ভাবলাম যা যা পড়তেসি তা সাথে সাথে লিখে রাখি। তাইলে আমার পড়াটাও ভাল হবে।

এই পর্ব টা স্পেস শাটল নিয়া একজন মানুষ যে কিছুই জানে না স্পেস শাটল নিয়া তাকে একটা মোটামুটি ধারনা দেয়া হবে। তারপর আস্তে আস্তে আমি ভিতরে ঢুকবো। আমার কাছে যে কোণ নতুন কিছু শেখার পদ্ধতি এটাই। প্রথমে পুরোটা সম্পর্কে একটা অভারওল ধারনা। তারপর শাখা প্রশাখায় ঢোকা। নাহলে গলি পথেই কেটে যাবে সারা জীবন, গন্তব্যে আর পৌছানো হবে না। এই লেখায় আমি মূলত আমেরিকান স্পেস প্রোগ্রাম এর রেফারেন্স এই কথা বলবো। সময় পাইলে এবং পড়ালেখা করতে পারলে রাশিয়ান স্পেস প্রোগ্রাম নিয়াও লিখবো কখনো। তাহলে শুরু করা যাক?

স্পেস শাটল বলতেই আমাদের সামনে একটা সাদা কালো প্লেন এর মত জিনিষ এর ছবি ভাসে। কিন্তু স্পেস শাটল মানেই এই প্লেন এর মত জিনিষ টা না। স্পেস শাটল কয়েকটা জিনিষ এর সমন্বয়ে তৈরি একটা সিস্টেম। এই সিস্টেম এ কি কি জিনিষ থাকে তাতে যাওয়ার আগে এর ইতিহাস টা একটু জানি।

১৯৬৯ সাল। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট তখন রিচার্ড নিক্সন। রাশিয়ার সাথে স্পেস রেস তখন তুঙ্গে। অল্রেডি তাদের ইউরি গেগারিন স্পেস এ ঘুরে আসছেন। তাই আমেরিকার নেক্সট টার্গেট চাঁদে মানুষ পাঠানো। এই লক্ষ্যে নাসা এর এপলো প্রোগ্রাম ও চলছে পুর্ন গতিতে। কিন্তু এপলো প্রোগ্রাম এর একটা বড় সীমাবদ্ধতা ছিল। এতে ব্যবহার করা রকেট পরের মিশনে ব্যবহার এর কোন উপায় ছিল না। ওয়ান টাইম ইউজ টাইপ এর। এত টাকা দিয়া একটা জিনিষ বানায়া একবার ব্যবহার করলেই শেষ, এইডা কিছু হইল?

তাই প্রেসিডেন্ট নিক্সন এর আদেশে ভাইস প্রেসিডেন্ট স্পাইরো এগ্নিউ (Spiro Agnew) রে প্রধান কইরা একটা টাস্কফোর্স গঠন করা হইল। এদের কাজ হইল এরা বার বার ব্যবহার করা যায় এরম সিস্টেম প্রপোজ করবে। এই টাস্ক ফোর্স ১৯৬৯ সালের সেপ্টেম্বর এ নিচের কয়টা জিনিষ প্রস্তাব করলো

১। একটা পারমানেন্ট স্পেস স্টেশন সিস্টেম( মনে রাখতে হবে সাল টা ১৯৬৯। তখনো মির বা ইণ্টারনেশনাল স্পেস স্টেশন কোন টাই বানানো হয় নাই )

২। একটা লো আর্থ অরবিট (পৃথিবী থেকে ১০০ থেকে ২০০ নটিকাল মাইল / ১৯০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার উপরে কাজ করবে এরকম) স্পেস শাটল সিস্টেম।

৩। একটা স্পেস টাগ সিস্টেম (মাল গাড়ী আরকি) যা কিনা পৃথিবী থেইকা চাঁদ এর অরবিট এ যাতায়াত করবে।

৪। একটা নিউক্লিয়ার পাওয়ারড স্পেস ভেহিকল।

এই টাস্ক ফোর্স যখন এই সব প্রস্তাবনা বানাইতাসিল সেই সময় জুলাই,১৯৬৯ সালে এপলো এগারো চাঁদ এ অবতরন কইরা সারা পৃথিবী তে একটা তোলপাড় ফালায় দ্যায়। আমেরিকার প্রসাশন মনে করে তাদের উদ্দ্যেশ্য সফল হইসে। তাই প্রেসিডেন্ট নিক্সন এই টাস্ক ফোর্স এর দেওয়া প্রায় সব প্রস্তাবনাই নাকচ কইরা দ্যান। শুধু ২ নাম্বার টা অর্থাৎ স্পেস শাটল প্রোগ্রামে সরকারি ফান্ডিং দেওয়ার ব্যাপারটা অনুমোদন করেন। শুরু হয় স্পেস শাটল প্রোগ্রাম যার অফিশিয়াল নাম হয় STS ( Space Transportation System)

১৯৬৯ সালে শুরু হইলেও স্পেস শাটল এর প্রথম টেস্ট ফ্লাইট হয় ১৯৮১ সালে। আর ১৯৮২ সাল থেইকা পুর্নাংগ ফ্লাইট শুরু হয়। ১৯৮১ সাল থেইকা ২০১১ পর্যন্ত ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেইকা স্পেস শাটল দিয়া মোট ১৩৫ টা মিশন লঞ্ছ করা হয়। এই সব মিশনে স্পেস শাটল মহাশুন্যে অনেক স্যাটেলাইট, আন্ত গ্রহ প্রোব, হাবল টেলিস্কোপ নিয়া যায়, মহাকাশে বিভিন্ন সাইন্টিফিক এক্সপেরিমেন্ট করে আর ইণ্টারনেশনাল স্পেস স্টেশন এর তৈরি এবং মেরামত এ সাহায্য করে। স্পেস শাটল ফ্লিট এর মোট মিশন টাইম ১৩২২ দিন, ১৯ ঘণ্টা, ২১ মিনিট আর ২৩ সেকেন্ড।

একটা স্পেস শাটল এর তিনটা পার্টঃ

image

১। একটা ওরবিটার ভেহিকল ( Orbital Vehicle বা OV)
২। এক জোড়া সলিড রকিট বুস্টার (Solid Rocket Booster বা SRB)
৩। একটা বুইত্তা মারা এক্সটারনাল ট্যাঙ্ক (External Tank বা ET)

স্পেস শাটল কে লম্বা লম্বি ভাবে লঞ্চ করা হয়। লঞ্চ এর সময় SRB দুইটা আর OV এর তিনটা মেইন ইঞ্জিন এক সাথে কাজ করে। এরা ফুয়েল পায় ET থেইকা যার ভিতরে থাকে লিকুইড হাইড্রোজেন আর লিকুইড অক্সিজেন। অরবিট এর পৌছানোর আগে SRB দুইটা মুল সিস্টেম থেইকা খইসা পরে। আর অরবিট এর ঢুকার ঠিক আগ মুহুর্তে ET ও খইসা পরে। এরপর অরবিটার তার দুইটা ইঞ্জিন যারে বলে অরবিটাল মেনুভারিং সিস্টেম(Orbital Maneuvering System -OMS) গুলা ব্যাবহার কইরা অরবিট এ ঘুরা ফিরা করে। এই গুলা ইউজ কইরাই অরবিটার টা পৃথিবীর এটমোসফিয়ার এ ঢুকে আর গ্লাইড কইরা আইসা ল্যান্ড করে।

image

ল্যান্ড করনের পর সবাই নাইম্মা গেলে এইটা রে একটা বিশেষ ভাবে মডিফাইড Boeing 747 দিয়া আবার কেনেডি স্পেস সেন্টার এ নিয়া যাওয়া হয় পরবর্তি মিশন এর জন্য ব্যবহার করার জন্য।

image

অরবিটার গুলার আবার নাম আসে। প্রথম বানানো অরবিটার এর নাম ছিল Enterprise. এইটা খালি এপ্রোচ আর ল্যান্ডিং টেস্ট করার জন্য বানানো হইসিল, এইটা অরবিট এ ঘুরা ফিরা করতে পারতো না। তারপর চার টা ফুল ফাংশনাল অরবিটার বানানো হইসিল যাদের নাম যথাক্রমে, Columbia, Challenger, Discovery আর Atlantis । এর মধ্যে দুইটা ওরবিটার এক্সিডেন্ট এ ধ্বংস হয়া যায়ঃ ১৯৮৬ সালে Challenger আর ২০০৩ সালে Columbia । ১৯৯১ সালে Challenger কে রিপ্লেস করার জন্য Endeavor নামের পাঁচ নম্বর অরবিটার টা বানানো হয়।

জুলাই এর ২১ তারিখ, ২০১১ সালে Atlantis এর শেষ ফ্লাইট এর মাধ্যমে স্পেস শাটল প্রোগ্রাম এর সমাপ্তি হয়।

২৮২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৩, ২০১৬, ০৭:২৩ এ এম

“যতটুকু চাই, দিতে হবে”
বলে,
আকাশের দিকে
হাত উঠাই
হাত মুঠো করে
ফুল হাতা শার্ট
মনে মনে রাগ
হাত গুটাই।

উনি হেসে ফেলে
হাতে এনে দেন
এক ফোটা জল,
রাখ্।
চোখ মাটি মাখে,
মন ভিজে মেঘ;
অনেক পেয়েছি
থাক্।

সব ইচ্ছা গুলো পুরন করা হবে না। সব স্বপ্ন গুলো সকাল দেখবে না। তাই বলে কি সব থেমে যাবে? কত বড় ইচ্ছার কাছে ছোট ছোট ইচ্ছা হেরে যায় প্রতিদিন। কত কিছু হাতে নিয়েও রেখে দিতে হয় আবার শেল্ফ এ। কি হবে পেয়ে। আমার মনে হয় না কোন ইচ্ছে কখনো মরে। শুধু অভিমানে ডুব দ্যায় মন এর নিচের দিকে। ঠান্ডা তলানী তে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকে।

তারপর কোন কোন দিন বড় ইচ্ছা, এর ইচ্ছা, ওর ইচ্ছার ফাঁক দিয়ে উকি দ্যায় সাহস করে। আচ্ছা পুরন করেই ফেলি না। এত ভেবে কি হবে। কিছু ইচ্ছাকে তখনো উঠিয়ে আনতে পারি না। হাত বাড়াই, হাত সরিয়ে নেই। অভিমানি ইচ্ছে টা আবারো রওনা দ্যায় গভীরের দিকে। তার দিকে দ্বীর্ঘশ্বাস পাঠিয়ে ভাবি, একদিন, কোন একদিন।

আমি নিজেকে বোঝাই, আল্লাহ কারো ইচ্ছাকেই “না” বলেন না। কাউকে সাথে সাথে “হ্যা” বলে দেন, কাউকে বলেন “হ্যা, কিন্তু এখন না’ আর কাউকে বলেন, “আরে পাগলা, তোর জন্য এর চেয়ে ভাল কিছু রেডী কইরা রাখসি”।

আমার মনে হয় ঈমান মানে এইটাই। সর্বক্ষেত্রে তার উপর বিশ্বাস। যদি তিনি আছেন বইলা মানি, তাইলে তিনি যে আমার জন্য কোনটা ভাল, তা আমার চেয়েও ভাল জানেন সেইটাতেও বিশ্বাস রাখি।

এখন যাই, সকালের সাথে মিশে যাই।

২৮১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২, ২০১৬, ০৯:০৮ এ এম

বুক রিভিউঃ Prelude to Foundation by Isaac Asimov

দুই টা বই টা পড়া শেষ করসি গত ফেব্রুয়ারি মাসে। কিন্তু রিভিউ লেখা হয় নাই বইলা GoodReads এ ডান দিতে পারতাসিলাম না। কিরম একটা অস্বস্তি মূলক অনুভুতি। তাই এই ধাক্কায় দুই দিনে দুইটা রিভিউ লিখখা সব কিলিয়ার কইরা লামু।

প্রিলুড টু ফাউন্ডেশন আমার পরা আইসাক আসিমভ এর প্রথম বই। অনেক দিন থেইকাই মাথায় ছিল যে আসিমভ এর কালজয়ী ফাউন্ডেশন সিরিজ টা পরন লাগব। কিন্তু যুইত করতে পারতাসিলাম না, কেম্নে শুরু করুম, কুন্টা আগে কুন্টা পরে। সমাধান দিল গুডরিডস, টরেন্ট আর মাই পকেট বুক এপ। প্রথমে এই লিঙ্ক https://www.goodreads.com/series/43939-foundation-chronological-order এ গিয়া বাইর করলাম পুরা সিকোয়েন্স টা। তারপর বই গুলা টরেন্ট থেইকা নামায় ফেললাম। এখন মাই পকেট বুক এপ দিয়া পড়তাসি একটা একটা কইরা। “মাই পকেট বুক” এন্ড্রয়েড এর জন্য একটা অসাধারন ই বুক রিডিং সফটয়ার। এইটা দিয়াই অফিসে নাস্তা আর লাঞ্চ টাইম এ একটু একটু কইরা পইড়া পাঠক মন রে বাঁচায় রাখসি।

Prelude to Foundation আইসাক আসিমভ এর ফাউন্ডেশন সিরিজ এর প্রথম বই। এইটা একটা সাইন্স ফিকশন এবং যে সময় এ এইটা লেখা হইসে (১৯৮৮) সে সময়ের তুলনায় অনেক অনেক আধুনিক একটা বই। ৪৬৪ পৃষ্ঠার এই বিশাল বই এ মুল চরিত্রের সাথে সাথে লেখক পাঠকদের কে নিয়া যান এক জগত থেইকা অন্য জগতে। কারন মুল চরিত্র হ্যারি স্যাল্ডন এক জগত থেইকা আরেক জগতে পালায় বেড়াইতাসিল আত্মরক্ষার্তে। বইটা এত ডিটেইল এ লেখা যে আমার একটু পর পর অবাক হইতাসিলাম যে আসিমভ কি আসলেই লেখক নাকি বিজ্ঞানী?

ট্র্যান্টর। অগনিত গ্রহ, ৪০ বিলিয়ন লোক, কল্পনার বাইরে সব টেকনোলজি আর অদ্ভুত সব জাতি নিয়া তৈরি এক মহাজাগতিক সাম্রাজ্য ট্র্যান্টর। এই সাম্রাজ্যের সম্রাট ক্লিয়ন ১। তিনি জানতে পারেন গণিতবিদ দের এক সম্মেলন এ হ্যারি সেল্ডন নাম এর একজন অখ্যাত গনিতবিদ একটি পেপার পাব্লিশ করেছেন যার মুল প্রতিপাদ্য বিষয় “গানিতিক ফর্মুলার মাধ্যমে ভবিষ্যত বলা সম্ভব”। তিনি এই বিদ্যার নাম দিয়েছেন সাইকোহিস্টরি।

সাইকোহিস্টরির কথা শুইনা সম্রাটের মাথা মুতা খারাপ হয়া গেল। তিনি তার ডাইন হাত এতো ডেমজেল কে ডাইকা কইলেন যেম্নেই হউক এই জিনিষ আমার লাগব। এই জিনিষ পাইলে আর কেউ আমার লগে টাল্টি বাল্টি করতে সাহস পাইব না। হ্যারি স্যল্ডন রে খবর দেও। আমি ওর লগে কথা কমু। কিন্তু হ্যারি স্যাল্ডন ত সম্রাট এর প্রাসাদে আইসা বিশাল টাশকি খায়া গেল। হে যতই বুঝায় যে মহারাজ আমার এই টা এখন থিওরি পর্যায়ে আসে প্র্যাক্টিকাল স্টেজ এ যায় নাই, ততই সম্রাট এর জিদ উটে। সম্রাট তারে থ্রেট দ্যায়, দ্যাহো, এই সব ভুগি চুগি আমারে বুঝায়ো না। বাসায় যাও, চিন্তা কর আর তারপর ক্যাম্নে আমি ভবিষ্যৎ দেখতে পারুম হেইডা কউ, নাইলে তুমার খবর আসে।

হ্যারি সেল্ডন এমুন ডরান ডরাইল যে যখন রাস্তায় পরিচিত হওয়া “চেটার হামিন” এক ব্যাডায় যহন তারে প্রস্তাব দিল লউ ভাইগা যাই, হ্যারি সেল্ডন রাজি হয়া গেল। পুরা বইডা এই হ্যারি সেল্ডন আর তার নায়িকা “ডরস ভেনাবিলি” এর দৌড়াদৌড়ি দিয়াই ভরপুর। সংক্ষেপে বলতে গেলে চেটার হামিন অনেক কষ্ট কইরা সেল্ডন আর ডরস রে একটা জায়গায় সেট করে। সেল্ডন তার ছোক ছোক স্বভাব দিয়া একটা কিছু পেচ লাগায়। তারপর হামিন আইসা তাগোরে উধধার কইরা আরেক গ্রহে দিয়া আহে। সেই গ্রহে আবার পেস পুস লাগে। এম্নেই পুরা বই শেষ। তয় এক্কেরে শেষে গিয়া একটা বিশাল চমক আসে। যা আমি আইলশা লুকজন যারা বই না পইড়া রিভিউ দিয়া শর্টকাট মারতে চায়, তাগো স্বার্থে কমুনা।

এই বই এ আমারে সবচেয়ে যেইটা মুগ্ধ করসে তা হইসে টেকনলজি গুলা যে আন্সে সেগুলা ১৯৮৮ সালে কেউ নাম শুন্সে বইলা মনে হয় না। অনেক গুলা টেকনোলজি এখন এক্সিস্ট করে আর অনেক গুলা টেকনোলজি একদম রিসেন্টলি গবেষনা শুরু হইসে। যেমন একটার কথা কই। এই বই এর শুরুর দিকে হ্যারি সেল্ডন আর চেটার হামিন এক জায়গা থেইকা দূর এর আরেক জায়গায় যাওয়ার জন্য এক ধরনের টানেল ব্যবহার করে। আমরা যারা রিয়েল আইরন ম্যান “ইলন মাস্ক” রে ফলো করি তারা জানি যে উনি “HyperLoop” নামে একটা কম্পানি খুলসেন যারা সেম টাইপ এর একটা টেকনলজি নিয়া আসতাসেন।

আমি ফাউন্ডেশন সিরিজ এর সেকেন্ড বই Forward the Foundation পড়তাসি এখন। আর আমার উপদেশ হইল ফাউন্ডেশন সিরিজ পুড়াটা কেউ পড়তে চাইলে অবশ্যই সিকোয়েন্স মাইনা পড়া উচিত।

২৮০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১, ২০১৬, ১১:৫৬ এ এম

আমি অনেক আইলশা হয়া গেসি। না থুক্কু। কারে কি বুঝাই। আমি ত শুরু থেইকাই আইলশা। নতুন কইরা কি আর হমু। তবে হ্যা লেভেল আপ হইসে বলা যাইতে পারে। দিন দিন আমি অনেক পরিশ্রমি (!) আইলশা হয়া যাইতাসি। আইলসামি করতেও যে কত পরিশ্রম করা লাগে এইটা একমাত্র খান্দানি আইলশা রাই বুঝবো। কত কথা, কত খোটা, কত রিস্ক নেওয়া লাগে আইলশামি করতে তা যদি এক্টিব সমাজ বুঝতো।

যাউকগা। আমি আবার নিয়মিত নোট লিখব বইলা মন-অস্থির করসি। একটা ঝামেলা ছিল সময় বাইর করা। সেইটা আপাতত সল্ভ হইসে। চিন্তা কইরা নোট লেখার একটা টাইম বাইর করা গেসে। আমি চিন্তা কইরা দেখলাম, আমার সপ্তাহের রবি থেইকা বৃহস্পতিবার এর রুটিন হইল, আমি সকালে উইঠা ফজরের নামাজ পইরা একটা দেড় ঘন্টার ঘুম দেই। তারপর উইঠা জোম্বির মত অপিশ যাই। অপিশেই যোহর, আসর, মাগ্রিব পরি। তারপর বাসায় আইসা ভাত রান্দি, এশা পরি, খায়া দায়া ভুড়ি ডা দেয়ালের লগে ঠেক দিয়া উফফ, নো টাইম ইন লাইফ ফর এনিথিং ভাবতে ভাবতে ঘুমাই পরি। আর শুক্র শনি আমি বাসাবো আহি, আর বিছানায় গইরাই আর গইরাই। মাঝে মাঝে উইঠা নামাজ পরি, খাই, অ এর লগে দেখা করি, তারপর আবার গড়া গড়ি। নোট নুট লেখার টাইম কই এর মধ্যে।

কিন্তু না। উপায় থাকিলেই ইচ্ছা হয়। আমি অনেক চিন্তা ভাবনা করা শুরু করলাম। তারপর ঘুমায়া গেলাম (ইয়ে মানে চিন্তা ভাবনা ইজ হার্ড ওয়ার্ক ইউ নো)। ঘুম থেইকা উইঠা আমার মনে হইল , আইচ্চা এই যে ফজর এর পর সকাল ৬ টা থেইকা ৭ টা এই টাইম টা না ঘুমায়া যুদি নুত লেখা, আঁকা আকি পেক্টিস, পিয়ানো পেক্টিস ইত্যাদি কাজে আত্ম নিয়গ করি তইলেই ত হয়। এমনি তে অই ঘুম টা খারাপ । উঠলে অনেক জোম্বি জোম্বি লাগে আর অফিস ক্যান এখনো ভুমিকম্পে ভাইঙ্গা যাইতাসে না কামনা করাও তো ঠিক না। আর তা ছাড়া এই টাইম টা সাত দিন এর জন্যই কমন। এই সময়টাই তাই ভেশট টাইম নিজেকে দেওয়ার।

লাইফ এ একটা বড় চেঞ্জ আশ্চে এর মধ্যে। ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখ থেইকা আমি নামাজ পরা শুরু করসি পাচ ওয়াক্ত। এইটা এক দিন এ হয় নাই। প্রথম এক সপ্তাহ আমি শুধু ফযর এর নামাজ টা পরসি। তারপরের সপ্তাহ টা ফজর এবং যোহর। তারপরের সপ্তাহ ফজর, যোহর, আসর। তারপরের সপ্তাহ ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব। তারপরের সপ্তাহ ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা। এখন পাচ ওয়াক্ত পরি। এখন এক ওয়াক্ত নামাজ বাদ গেলে কেমন যানি লাগে। বড় কোন অপরাধ কইরা ফালাইসি টাইপ অনুভুতি।

এই রকম ভাবে নামাজ এর অভ্যাস করাটা কোন শরিয়ত সম্মত উপায় না আমি জানি। কিন্তু আমি আমার সিস্টেম চিনি। আমি জানি যে আমি যদি একবারেই পাচ ওয়াক্ত শুরু কইরা দিতাম তাইলে আমার কাছে কঠিন লাগতো আর আমি কন্টিনিউ করতে পারতাম না। তাই আমি আস্তে আস্তে নিজের সিস্টেম এর মধ্যে নিয়া আসছি নামাজ টারে।

রাশা আমারে জিজ্ঞেস করসিল আমার নামাজ পড়ার পিছনে মটিভেশন কি? অ বলসে পরতে? আমি ওরে বলসি, দ্যাখ, আমি চিন্তা কইরা দেখলাম, আল্লাহ তো আমাদের কথা সব সময় ই শুন্তাসেন। আমাদের কাজ কর্ম দেখতাসেন। আমাদের দোয়া ও কিছু কিছু কবুল করতাসেন। তাইলে হোয়াই নামাজ? তারপর আমি ভাবলাম সব কিছুর একটা প্রপার চ্যানেল আছে। নাইলে ব্যাপারটা বিশৃঙ্খলা ছাড়া আর কিছু হয় না। নামাজ আমার কাছে সেই চ্যানেল টা লাগে। তাই আমি নামাজ পরি। যাতে আল্লাহর প্রতি আমার আনুগত্য আমি সেই প্রসেস এর মধ্যে দিয়া গিয়া বুঝাইতে পারি।

যেমন রাশা একজন শিক্ষক। সে নৃ ত্ত্ব (এনথ্রোপলজি) পড়ায়। কিন্তু সে কি রাস্তায় দাড়ায়া সবাইরে নৃ তত্ব পড়ায়। বা যে একজন ছাত্র যে নৃ ত্ত্ব সম্পর্কে জানতে চায়, সে তো ইন্টারনেট ঘাইটাও জানতে পারে। কিন্তু তাতে কি তার শিক্ষা টা সম্পুর্ন হয়। তাকে একটা শ্রেনীকক্ষে যাইতে হয়, শুনতে হয়, শিখতে হয়, শিখার পর পরীক্ষা দিতে হয় নিজের জন্য এবং সবাইকে জানানোর জন্য যে সে নিজে কিছু শিখসে এবং তার শিক্ষা টারে আরেকজন স্বীকৃতি দিসে তারে একটা সারটিফিকেট দিয়া। ইন্টারনেট ঘাইটা যে শিখলো তার জানা মিথ্যা না, কিন্তু পরিপুর্ন ও না।

এই রকম অনেক ভালমানুষ আছে যারা নামাজ পরে না। তাদের ভাল কাজ গুলা অর্থহীন না, কিন্তু নামাজ পড়লে আল্লাহর সাথে তার একটা প্রপার চ্যানেল হইল তার ভাল কাজ গুলা জানানোর। তার আকাঙ্ক্ষা গুলা জানানোর। তার আক্ষেপ গুলা জানানোর।

কিছু মানুষ নিজের স্বার্থেই ইসলাম কে অনেক আলাদা কিছু, অনেক এক্সট্রিম কিছু, অনেক লাইফস্টাইল চেঞ্জিং কিছু বইলা রিপ্রেজেন্ট করে। এইটাই মূল কারন আমাদের ইসলাম কে জীবনের থেইকা আলাদা কিছু মনে কইরা নিয়া এই ধারনা জন্মানোর যে, “ইসলাম পালন করতে হইলে আমার জীবনের অনেক কিছু চেঞ্জ কইরা ফালাইতে হবে, যা কিনা কষ্টকর”। কিন্তু দরকার তো নাই এইভাবে ভাবার। অন্যভাবেও ভাবা যায়। আমি কোন আলেম ওলামা না। তারা তাদের মত কইরা ভাবসেন। আমার জ্ঞ্যান কম। আমি আমার মত কইরা ভাবি। সহজ কইরা। সরল কইরা।

আমি আমার মত স্পিড এ ইসলাম কে আমার সিস্টেম এর মধ্যে ঢুকাবো। আমি শুরু তেই বলসি, আমি অনেক আইলশা। আমি তারাহুরা করতে পারি না কিছু তে। অনেকে রেডিক্যালি, রাতারাতি চেঞ্জ কইরা ফালাইসে জীবনকে, আমি সেরকম পারবো না। আমি আস্তে আস্তে যাবো।

শেষ সীমানায় হয়ত সবার শেষে পৌছাবো, কিন্তু পৌছাব এইটা জানি।

২৭৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৬, ১২ঃ৩৭ এ এম

মাতৃভাষার প্রতি ভালবাসা জিনিশ টা আমার কাছে খুব সিম্পল লাগে। আমার মা যে ভাষায় কথা বলে আমি সে ভাষা কে ভালবাসি। এই টুক ই। কিন্তু এই টুক শুধু একটা স্ট্যাটাস বা একটা বিশেষ দিন এর মধ্যে আটকায় রাখার মত ছোট না। এর ব্যাপ্তি টা বিশাল। এত বিশাল যে ক্ষুদ্রমনা তার পক্ষে এই অনুভূতিটা ধারন করা সম্ভব না।

জীবনে যদি সত্যিকার এর প্রেম ভালবাসা কইরা থাকেন কেউ তাইলে হয়তো বুঝবেন আমি কোন লাইনে কথা বলতাসি। যাকে ভালবাসেন তাকে শুধু চোইদ্দবার ভালবাসি বলাটাই ভালবাসা না। তাকে একদিন এর জন্য স্পেশাল ফিল করানো মানেই ভালবাসার সিলেবাস শেষ না। তাকে প্রতিনিয়ত বুঝাইতে হবে যে, না তুমি সব চেয়ে আগে, তুমি সবার চেয়ে বেশি জরুরি। এইবার একটু মাতৃভাষা কে এইভাবে ভালবাসি কিনা ভাবি।

ধরেন আপনার মা গান করেন। শুদ্ধ বাংলা গান। পাসের বাসার আন্টিও গান করেন। হিন্দি সিনেমার গান। আপনি সারাক্ষন বাসায় আইসা পাশের বাসার আন্টির গান এর প্রশংসা করেন। আপনার মার গান থামায়া সেই আন্টির গান জোরে জোরে বাজান। পারিবারিক অনুষ্ঠানে আপনার মা কে দেন একটা গান গাইতে আর তার পরের ৯ টা গান ওই আন্টির। জিনিষ্টা কেমন হচ্ছে তাইলে? আপনার মা কি করবে জানেন? আপনার মুখের দিকে তাকায়া সব মাইনা নিবে আর আস্তে আস্তে হয়তো গান ই ছাইড়া দিবে।

আমাদের বাংলা এর সাথে কিন্তু সেম কাজ টাই হচ্ছে। শুরুতে শুধু গান, সিনেমা ছিল। এখন বিজ্ঞাপন আর কার্টুন এও আমরা পাশের বাসার আন্টির গান কেই ফুল ভলিয়ুম দিয়ে রাখসি।

আমার হিন্দি ভাষার প্রতি কোন ব্যাক্তিগত দুশমনি নাই। এইটাও বিদেশি কোন মায়ের ভাষা। কিন্তু ভারতের কালচারের একটা ডমিনেটিং দিক আছে যেটা তারা তাদের মিডিয়া আধিপাত্য কে ব্যবহার কইরা খুব ভাল মত আমাদের ব্রেইন এ সরাসরি ইঞ্জেক্ট করতে পারে। আমি সেই জন্য সচেতন ভাবে হিন্দি গান কে এড়ায়া চলি।

আমার রেডিও তে প্রতি তিনটা গান এর একটা হিন্দি হইলে মেজাজ খারাপ হয়। গায়ে হলুদ এ হিন্দি গান শুনলে মেজাজ খারাপ হয়। পিক্নিক এ হিন্দি গান বাজাইতে বাজাইতে যাওয়া বাস এর দিকে ঢিল মারতে ইচ্ছা করে।

আমরা নিজেদের গান কেও আমরা নষ্ট করতেসি যাতে হিন্দি রা বাজার পায়। সচিন্দেব বর্মন এর নাম না শুনা স্বাভাবিক এমন বয়সের পিচ্চি মেয়েটা রেডিও তে এসেমেস দিয়ে বলে “ফুয়াদের নিটোল পায়ে” গান্টা ছাড়েন। রুদ্র মহাম্মদ শহিদুল্লার ভাল আছি ভাল থেকো হয়ে যায় “কনার ভিতরে বাহিরে”। ঐদিন সোনারগায়ে লোকশিল্প ম্যালা তে গেসিলাম। দেখি জয়নুল যাদুঘর এর পাশে একটা পিক্নিক পার্টি কে জায়গা দেয়া হইসে। তারা কানা ফাটা স্পিকার ফাটা আওয়াজ এ “পিনক লিপ্স” নামক গানের সাথে এক স্বল্পবষনা মহিলার নাচানাচি জুলু জুলু চোখে উপভোগ করতেসিল। দোয়া করসিলাম আল্লাহ আমার হাত অনেক লম্বা বানায় দাও নাইলে আমারে অক্টোপাস বানায়া দাও যাতে সব গুলারে আট হাত পা দিয়া থাব্রাইতে পারি

মাতৃভাষা দিবস পালনের আগে নিজের মাতৃভাষা কে ঠিক ঠাক সম্মান্টা দেয়ার ব্যবস্থা করি।

২৭৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ১২, ২০১৬, ১২ঃ৪২ এ এম

বুক রিভিউঃ “যে প্রহরে নেই আমি”

এই মাত্র পড়া শেষ করলাম রাসয়াত রহমান ওরফে জিকো ভাই এর ৫ম বই “যে প্রহরে নেই আমি”। এই উপন্যাস টি এইবার মানে ২০১৬ বই মেলায় আদী প্রকাশন (স্টল নম্বর ৫০০) থেকে প্রকাশিত হইসে। বইটা শেষ করতে আমার চারদিন লাগসে যদিও বইটা মাত্র ১১১ পৃষ্ঠার।

এর একটা কারণ হইতে পারে আমি একজন স্লো রিডার। আর আরেকটা কারন হইতে পারে বইটা এই ভাবে পইড়াই পুরাপুরি স্বাদ টা নেয়া সম্ভব। এক নিঃশ্বাসে পুরাডা পইড়া লাইলাম, এক দম এ সব বুইঝা লাইলাম ক্যাটাগরির বই এইটা না। এই বই পড়তে হবে নিয়মিত বিরতি তে। প্রত্যেক্টা অধ্যায় এর পর অন্তত পাচ মিনিটের একটা বিরতি নিতে হবে। টানা পইড়া গেলে এই বইটা ঠিক উপভোগ করা যাবে না।

এই বই এ মুক্তিযুদ্ধ এর কথা আছে। কিন্তু এই টা মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক একটি ইতিহাসের বই না। এর ভিত্তি অনেকগুলা । এই বই এর ভিত্তি পারিবারিক বন্ধন, এই বই এর ভিত্তি মুক্ত চিন্তা, এই বই এর ভিত্তি নিজের সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে যাওয়া। এই উপন্যাস ইতিবাচকতা কে সেলিব্রেট করে। ভাল দের সাথে ভাল হয়, খারাপ রা শেষ এ গিয়ে ভালর রাস্তায় চলে আসে।

এর চরিত্রগুলো শুরু তে আমাদের সাথে যেভাবে পরিচয় করিয়ে দেন লেখক শেষ হতে হতে তারা আর শুধু তারা থাকেন না, আকাশের তারা দের মত কিছু একটা হয়ে যান। গৃহবধু নায়লা সারা বাংলাদেশের গৃহবন্দি, পরিবারবন্দি নারীদের সিম্বল হিসাবে আমাদের কাছে ইন্ট্রোডিউসড হলেও তার শেষ টা কিন্তু আমেরিকায় তুষার পাত কে পিছনে রেখে সেলফি তে।

২য় মূল চরিত্র রাজু নদীর পারে হারিয়ে যাওয়া দিয়ে আমাদের কাছে আসলেও শেষ দৃশ্যে তাকে দেখা যায় সফলতার অশ্রুসিক্ত অবস্থা তে। এভাবে প্রত্যেটা চরিত্র কে যদি আলাদা আলাদা ভাবে দেখা যায় , তাহলে দেখা যাবে , পৃষ্ঠা পরিক্রমায় যা কিছু অশুভ এসেছিল, তারা কাউকে শেষ পর্যন্ত জিততে দেন নি লেখক।

শেষ পর্যন্ত এই চারদিন এর জন্য “যে প্রহরে নেই আমি” একটি উপভোগ্য বই ছিল। লেখকের এর আগের সবগুলো বই ই আমার পড়ার সৌভাগ্য হইসে। আগের গুলোর চেয়ে এই বই এ লেখকের তীক্ষ্ণ রস বোধের ছোয়া খুব কম পাওয়া যায়, যেটা তার কিছু কিছু ভক্ত এবং পাঠক কে মন খারাপ করাবে মনে করি। আশা করছি এই মন্দা জিকো ভাই আমাদের আগামি বই এর মাধ্যমে পুষিয়ে দেবেন।