২৬৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ নভেম্বর ২২, ২০১৫

এই মুহুর্তে পাশে টিভি চলতেসে। টিভি তে জেইল গেইট দেখাইতেসে। অনেক পুলিশ। আর রিপোর্টার লোক্টা অনেক খন থেইকা একি বর্ননা বার বার দিয়া যাইতাসে। কিন্তু বার বার বললেও শুনতে খারাপ লাগতাসে না। কেমন জানি ঈদ ঈদ লাগতাসে।আমি টিভি ছাইরা লিখতে পারি না ভাল মত। বার বার মনোযোগ ওই দিকে যায় গিয়া। কিন্তু আজকে টিভি বন্ধ কইরা রাখতেই অস্থির লাগতাসে। তাই ছাইরা রাখসি।

একটা খেলায় যখন বাংলাদেশ জিত্তে থাকে তখন শেষ পর্যন্ত না দেইখা যেমন পারা যায় না তেমন একটা অবস্থা হইসে এখন। বাংলাদেশ জিতে যাচ্ছে আসলেই। আমি ডে কেল্কুলেটর এ হিসাব করলাম। ২৬শে মার্চ ১৯৭১ থেইকা আজকে ২১শে নভেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত মোট ১৬২১২ দিন । আরো বড় আকারে বললে ৪৪ বছর ৭ মাস ২৭ দিন। এই এতদিন এর মধ্যে অনেক গুলা দিন কালো কালো দেখা যাবে । যে দিন গুলায় অনেক মুক্তিযোদ্ধা যখন দুইটা রাজাকার, স্বাধীনতা বিরোধী, খুনি এর গাড়িতে পতাকা দেইখা হাতের মুঠা শক্ত কইরা ফালাইসে আর মনে মনে বলসে “আল্লাহ, তুমি এর বিচার কইরো আল্লাহ, তোমার উপরেই ছাড়লাম এর বিচার এর ভার”। আল্লাহ উনাদের দোয়া কবুল করসেন।

পরকালে আল্লাহ উনাদের মাফ করবেন না জাহান্নামে লাত্থি মাইরা পাঠাবেন সেইটা ডিসাইড করার মালিক আল্লাহ। কিন্তু ইহকালে তারা যে দেশ এর সাথে বেঈমানি করসে সেইতা প্রতিষ্ঠিত কইরা তাদের আল্লাহর কাছে পাঠানোর দায়িত্ব টা আমাদের ই ছিল। আলহামদুলিল্লাহ সেইটা বাংলাদেশের মানুষ করতে পারসে। যুদ্ধপরাধিদের বিচারে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরি আর মুজাহিদ এর দোষ প্রমান হয়া ফাসির আদেশ হইসে। কিছুক্ষন এর মধ্যেই সেই আদেশ কার্যকর করা হবে।

আমার মনে হয় এই দুইজন এর বিচার এবং চুড়ান্ত শাস্তির ব্যাবস্থা করতে পাইরা সরকার বিশাল গাটস এর পরিচয় দিসে। নাইলে আন্তর্জাতিক প্রেসার কম ছিল না এই দুই জন এর পিছনে। আফটার অল দিন শেষে মানি টকস আর আমি শিওর এই জিনিশ করতে গিয়া অনেক কিছু রিস্ক এর মধ্যে ফালাইসিলো সরকার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে কাজটা করতে পারসে সেই জন্য সরকার আর এই বিচার সংশ্লিষ্ট সবাই অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার দাবিদার।

২৬৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ নভেম্বর ২১, ২০১৫

আজ শুক্রবার। ফেসবুক ছাড়া ৩য় দিন কাটাইলাম। স্টিল ভাল লাগা যায় নাই। এইটা যে কি দরকার ছিল। শান্তি লাগতাসে। এইটা একটা সময়পযোগি ঘটনা হইসে। আমার জন্য এই ব্রেক টা খুবি দরকার ছিল। নিজে থেইকা তো আইডি ডিএক্টিভেট করার মত কারন ছিল না। আবার ৩৬৫ প্রজেক্ট এর কারণে ফেসবুক এ না আইসাও পারা যাইতো না। তাই এইরম সরকার কর্তৃক ফেসবুক বন্ধ কইরা দেওয়া তে আমি যারপরনাই আহলাদিত, উচ্ছসিত এবং প্রফুল্লিত।

আজকে আমি আর অ ঢাকা লিট ফেস্টিভাল এ গেসিলাম। কিন্তু ঢুক্তে পারি নাই। গেটের বাইরে রেজিস্ট্রেশন কইরা ঢুকা লাগে। অইটা ৬ টায় বন্ধ হয়া যায়। থাক গা। বাইরে থেইকা লাইট লুইট দেইখা চইলা আসছি। এইটার গতবার এর নাম ছিল হে ফেস্টিভাল। তখন গেসিলাম রাশার লগে। তহন রেজিস্ট্রেশন লাগে নাই। বেশ একটা কন্সার্ট কন্সার্ট ফিল হইসে। রেজিস্ট্রেশন কইরা টিকিট লয়া ঢুকুম বই মেলা দেখতে যার বেশির ভাগ বই ই আমি পড়ি নাই। থাক, ধইরা নিলাম নিরাপত্তার খাতিরে এইটা দরকার আসে। আমি আসলে ইংলিশ বই অত বেশি পড়ি নাই তো, তাই আমারে ঢুক্তে দ্যায় নাই দেইখা অত খারাপ লাগে নাই। একুশে বই মেলায় এরম করলে মইরাই যাইতাম দুঃখখে।

আজকে ফেরদুইচ্চার বাসায় ডিনার এর দাওয়াত ছিল। খাইয়া ফাটায়া লাইসি। ফেরদৌস যা জোস রান্তে পারে। পুরাই ফিংগার লিকিং গুড। ফেরদুস কইসিল রাতে থাইকা যাইতে , কিন্ত ওর বাসা ভর্তি অপরিচিত লুকজন, তাই আইসা পরসি বাসায়।

আমি একটা অনেক ভাল ইবুক এপ পাইসি আজকে। নাম PocketBook. বই পড়তে ইচ্ছা না করলে বই পইড়া শুনায়। পিডিএফ/ইপাব/মোবি সব ফরমেট সাপোর্ট করে। শব্দের অর্থ না বুঝলে হাইলাইট কইরা সার্চ দেয়া যায়। আবার পছন্দের অংশ সেভ কইরা রাখা যায়। আমি প্রত্যেক শুক্র আর শনিবার অনেক এপ নামাই আর ঘাটাঘাটি কইরা দেখি কেমন লাগে। ভাবতাসি এগুলা নিয়া একটা লেখা লিখবো কিনা।

২৬৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ নভেম্বর ২০, ২০১৫

ফেসবুক ছাড়া ২য় দিন। ভালই লাগতাসে। যে কোন কিছু তে আনডিভাইডেড এটেনশন দেওয়া যাইতাসে। আমি শুন্সি বেশির ভাগ লোকজন ই প্রক্সি, ভিপিএন ইত্যাদি দিয়া ঢুইকা পরসে ফেসবুকে অল্রেডি। আমার সমস্যা হইতাসে না। ইন ফ্যাক্ট শান্তি লাগতাসে।

আমি বুঝতাসি কারো কারো জন্য ফেসবুক এ ঢুকা টা একটা প্রয়োজনীয় জিনিষ। আমি আজকে বাসাবো আসছি। আমার আম্মা আমাকে বলসে, আমি কোনভাবে তার ট্যাব দিয়া ফেসবুকে ঢুকার ব্যবস্থা কইরা দিতে পারবো কিনা। আমি গতাতুনগতিক ভাবে জবাব দিসিলাম যে ফেসবুক তো সরকার বন্ধ কইরা দিসে ব্লা ব্লা। আমার আম্মা আমার আক্কেল গুরুম কইরা বলসে ক্যান? প্রক্সি দিয়া এক্টূ সিস্টেম কইরা দে না? তোর খালা তো ঢুক্সে । আমি তারে বুঝানোর ট্রাই করলাম কয়দিন ফেসবুকে না ঢুক্লে কি হয় হ্যান ত্যান। কিন্ত জগতের কারো পক্ষে মনে হয় নিজের মা এর সাথে তর্কে জয়ী হওয়া পসিবল না। আম্মা বলসে, তোরা তো সারাদিন কাজ কর্ম নিয়া ব্যাস্ত থাকস, টাইম কাইটা যায়। আমি এক্টু নাত্নী গুলার ছবি দেখি ফেসবুকে। একটু শান্তি পাই। এমন করস ক্যান। দে না একটু ঠিক কইরা।

আমার একটু গিলটি লাগ্লো। আর মনে হইল সেম টাইপ এর আরগুমেন্ট আমি জি বাঙলা আর স্টার জলসার সিরিয়াল দেখা নিয়া করসিলাম। কিন্তু জিত্তে পারি নাই। তখন যুক্তি দিসিল, বাংলাদেশের নাটক সব বানায় ইয়ং পোলাপান এর কথা চিন্তা কইরা। আমরা আগের দিনের মানূষ, আমাদের এগুলা ভাল্লাগে না। আর নাটক কি দেখুম, খালি এড আর এড।

কথা খুবি সত্য। কেউ যখন একটা জিনিষ এ অভ্যস্ত হয়া যায় যেইটা তার তেমন ক্ষতি করতাসে না তখন তাকে সেইটা না করতে বলার আমি কে। আমি অনেক আতলামি যুক্তি দেখাইতে পারি। কিন্তু আল্টীমেটলি যার যার লাইফ তার তার। এখন কেউ যদি আমারে আইসা বলে ইনফ্যাক্ট বলসেও কেউ কেউ যে আপ্নে খালি পেলেন এর ছবি তুলেন ক্যান, বোরিং লাগে দেখতে দেখতে, আর কত। তাইলে আমার কেমন লাগবে?

আমিও কি ফেসবুকে মারাত্মক এডিক্টেড ছিলাম না একসময়। এই নোট লেখা শুরু করসিলাম তো ফেসবুক এডিকশন কাটানোর উদ্যোগ থেইকাই। তাইলে হু এম আই টু সে, কয়দিন ফেসবুক না চালাইলে কি হয়? উচিত না আমার একেবারেই এই রকম জাজমেন্টাল হওয়া উচিত না। আই হোপ পিপল আর এঞ্জয়িং ইট, আফটার অল নিষিদ্ধ জিনিষ এর মজা টা বোনাস হিসাবে পাওয়া যাইতাসে। সাচ রেবেলস উই আর।

আমার আর ১০০ টা নোট লিখলে এই প্রজেক্ট শেষ হবে। কেমন আজিব লাগে ভাবতে। এতদুর আস্তে পারবো ভাবি নাই।

২৬৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ নভেম্বর ১৯, ২০১৫

এই মুহুর্তে এই নোট যখন লিখতেসি তখন বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যান করে রাখা হইসে অনির্দিষ্ট কালের জন্য। এই নোট লিখতে রাখতাসি এখন অফলাইন এ। পরে সু্যোগ পাইলে পোস্ট করুম। অন্য সময় হইলে আমার অনেক অস্থির লাগতো। কিন্তু এখন যে কি শান্তি লাগতাসে। মনে হইতাসে ভাল হইসে। খুবই ভাল একটা কাজ হইসে। এইরকম প্রত্যেক মাস এ হঠাত হঠাত বন্ধ কইরা দেওয়া উচিত।

আমরা আনপ্লাগড থাকতে ভুইলা যাইতেসি। আমরা ভুইলা যাইতাসি ফেসবুক ছাড়াও আরো অনেক অনেক কিছু আছে জীবনে। যেগুলা এবং যারা ভার্চুয়াল না। জীবন্ত , প্রানবন্ত মানুষ। যাদের সাথে টাইপ করে না মুখ দিয়ে কথা বলা যায়। আমার কল্পনা করতে ভাল লাগতাসে যে অনেক দিন পর প্রিয় বন্ধুকে হয় তো ফোন দিসে কেউ। “কিরে কি করিস? ফেসবুক তো ডাউন। কেমন লাগতেসে? নতুন সিনেমা দেখসিস কোন?”। শুরু হয়া গেলো কনভারসেশন।

রেস্টুরেন্ট এ অর্ডার নিতে আসা ওয়েটার অবাক হয়া দেখলো তার কাস্টোমার রা যার যার ফোন এর দিকে তাকায়া নাই। তারা কথা বলতেসে। গুড অল্ড ফ্যাশন্ড ওয়ান টু ওয়ান টক। শেষ কবে এই জিনিষ দেখসিল তার মনে নাই। আমরা সোশাল অকোয়ার্ডনেস এরানোর জন্য সোশাল নেটওয়ার্ক এ মুখ লুকায়া দিন দিন কত সোশালি অকোয়ার্ড হয়া যাইতাসি সেইটা নিজেরাও রিয়েলাইজ করি না আন্টিল আমরা নিজেদের ফোন টা একটু নামায়া রাখি।

হয়তো কোন মা অবাক হয়া দেখতাসে তার নিশাচর ছেলে টা বা মেয়েটা হটাত আজকে একটা গল্পের বই হাতে নিয়া শুইতে গেসে বিছানায় আর অভ্যাস না থাকায় এক পাতা পইড়াই অভ্যাস না থাকার কারণে বই এর উপরেই ঘুমায় গেসে। বই এর উপর লুল পইড়া ভাইসা যাইতাসে।

আমি জানি হিরোয়িঞ্ছি হেরোয়িন না পাইলে যেমন ডি টক্সিফিকেশন এ ভোগে সেরকম ভুগতেসে এখন হাজার হাজার মানুষ। একটু পর পর মোবাইল টা হাতে চলে আস্তেসে, ফেসবুক এপ টাতে টিপ পরে যাইতেসে নিজের অজান্তেই। আই হোপ এই সময় টা মানুষ জন রিয়ালাইজ করতেসে যে নিউজফিড এর দিকে সম্মোহিতের মত তাকায়া থাকাটাই জীবনের সব না।

অনেক লোক টেকনোজির ফাক ফোকর বের করতে বসে গেসে। প্রক্সি সাইট, ভি পি এন এপ সব নামানো শেষ। চিপা গলি দিয়া ফেসবুকে ঢুক্তে পাইরা ব্যাপক আনন্দ ও পাইতাসে অনেকে। কিন্তু ক্যানো। একটা রাত, কিংবা হয়তো আরো কয়েকটা দিন এবং রাত ফেসবুক এ না আসলে কি কমে যাচ্ছে জীবনের? আমার তো মনে কমার বদলে বাড়ছে আরো অনেক কিছু। সৃজনশীলতা চর্চার সুযোগ বাড়ছে, মন স্থীর করার সুযোগ বাড়ছে, অসমাপ্ত অনেক কাজ শেষ করার সুযোগ বাড়ছে, “খুজে পাওয়া নিজেকে আবার” এর সুযোগ বাড়ছে।

এই বেড়ে যাওয়ার সুযোগ টা নেওয়া উচিত। মনোযোগ অনেক মুল্যবান একটা রিসোর্স মানুষের। আর একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই রিসোর্স টা লিমিটেড ও। মানে আমি বলতে চাচ্ছি আমাদের একটা নিদ্দ্রিষ্ট পরিমান মনোযোগ জন্ম ন্যায় ভিতরে। এর বেশির ভাগ টাই যদি আমরা ফেসবুকে দিয়ে দেই তাহলে অন্য সব কিছু তে কম পরবে এটাই সত্য।

ফেসবুকের এই হঠাত ব্যান কে স্বাগত জানাই এবং আমাদের মত তারাহুরান্তিস এবং মাল্টীটাস্কিংবাজ দের মনে এবং জীবনে যেন স্থীরতা আসে সেই প্রার্থনা করি।

২৬৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ নভেম্বর ১৮, ২০১৫, ১২.৫৪ এ এম

আজকে এলুয়েট থ্রি হেলিকপ্টার এর এখন পর্যন্ত পাওয়া শেষ দিন এর মিশন গুলা নিয়া লিখব। এরপর ওটার বিমানের মিশনের গল্পে চলে যাবো। কি পরিমান দেশ প্রেম থাকলে সারাদিন এবং সারারাত একটা পুরানো রেট্রোফিটেড (কোন কিছু যা একটা জিনিষের জন্য ডিজাইন্ড না তবু সেটাতে জোর করে বসানো হয়, তখন সেটাকে বলে রেট্রোফিট করা) অস্ত্র শস্ত্র বসানো হেলিকপ্টার নিয়া যুদ্ধ কইরা যাওয়া যায় তা এই গুলা না পড়লে আমি জান্তেও পারতাম না। কিলো ফ্লাইট নিয়া এই সব লেখার সকল ক্রেডিট মেজর কামরুল হাসান ভূইয়া এর। তিনি এত ডিটেইলে বর্ননা না কইরা গেলে আমি এগুলা জীবনেও জানতে পারতাম না। কারন আমাদের শিক্ষার সিলেবাস যারা তৈরি করেছেন তারা এই সব ঘটনা আমাদের জানানোর চেয়ে “যমুনা পাড়ি ছাগল পালন” “গরু মোটা তাজা করন” “ আধুনিক পেপে চাষ” ইত্যাদি সম্পর্কে জানানো বেশি ইম্পরট্যান্ট মনে করসেন।

১১ই ডিসেম্বর, ১৯৭১

১। ফাইনাল অফেন্সিভ এর অংশ হিসাবে ভারত নরসিংদী তে হেলিকপ্টারে করে সৈন্য নামানোর প্ল্যান করে। কিলো ফ্লাইটের Alouette III কে আর্মড এস্কোর্ট দেয়ার অনুরোধ করা হয়। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী তখনো নরসিংদী তে অবস্থান করছিল। ফ্লা অ বদরুল আলম এবং ক্যাপ্টেন সাহাব হেলিপ্টার নিয়ে পাকিস্তানিদের উপর ক্রমাগত রকেট আক্রমন চালান। এই যুদ্ধে হেলিকপ্টারে বেশ কয়েকটি গুলিও লাগে।

২। সকালে এই মিশন শেষ করে ফেরত আসার এবং রি লোড করার কিছুক্ষনের মধ্যেই অয়ারলেস এ ভারতীয়রা আবারো হেলিকপ্টার এর সাপোর্ট চায়। স্কো লী সুলতান মাহমুদ এবং ফ্লা অ বদরুল আলম দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে পৌছান আর পাকিস্তানিদের উপর রকেট আক্রমন শুরু করেন। এই সময় অয়ারল্যাস এ ভারতীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে বার্তা আসে “গো ব্যাক, গো ব্যাক, দি পাকিস্তানিজ হ্যাড স্পটেড ইউ এন্ড প্রিপেয়েরিং ফর হেভি ফায়ারিং” । কিন্তু তারপরও পাইলটদ্ব্য় আক্রমন কন্টিনিউ করার ডিসিশন নেন। মেশিন গানার কেও গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয় কিন্তু কিছুক্ষণ পর মেশিন গান টি জ্যাম হয়ে যায়। এই আক্রম্নে ২০ জন্য পাকিস্তানী সৈন্য নিহত আর বহু হতা হত হয়।

৩। ১১ই ডিসেম্বর রাতে ১৪ টি ভারতীয় Mi-4 হেলিকপ্টার এবং তাদের অন বোর্ড সৈন্য দেরকে Armed Escort করে স্কো লী সুলতান মাহমুদ এবং ফ্লা লে সিংলা নিরাপদে নিয়ে আসেন। ভারতীয় হেলিকপ্টার গুলো তে কোন অস্ত্র ছিল না।

এই ছিল কিলো ফ্লাইটের Alouette III হেলিকপটার এর দুঃসাহসী অভিজান সমূহ। আজকে এই পর্যন্তই থাক। আরো কিছু পড়ালেখা কইরা নেই। তারপর কিলো ফ্লাইট এর আরেক এয়ারক্রাফট সম্পর্কে লেখার স্পর্ধা করবো।

২৬২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ নভেম্বর ১৬, ২০১৫, ১১.৫৯ পি এম

মুক্তি যুদ্ধে বাংলাদেশের একমাত্র বিমান বাহিনির ইউনিট “কিলো ফ্লাইট” এর এল্যুয়েট ত্রি হেলিকপ্টার আর তার মিশন গুলা নিয়া লিখতাসিলাম। আজকে এর আরো একটা দিন এর মিশন নিয়া লিখতাসি। এরপর আর লেখার মত একটা দিন ১২ই ডিসেম্বর এর ইনফরমেশন পাইসি। ওই টা কালকে লিখবো। তাইলে এল্যুয়েট ত্রি হেলিকপ্টার এর অভিজান গুলা নিয়া লেখা শেষ হবে।। এরপর একটু গ্যাপ দিয়া ডিএইচসি থ্রি অটার বিমান এর মিশন গুলা নিয়া লিখব ইনশাল্লাহ।

১০ই ডিসেম্বর, ১৯৭১

১। এই দিন রাতে হেলিকপ্টার থেকে ভারতীয় সৈন্য নামানো হবে। তাই এল্যুয়েট এর উপর দ্বায়িত্ব পরে ড্রপ জোন নির্বাচন এর। কিলো ফ্লাইট এর আরেক বিমান ডিসি ত্রি এর ভারতীয় পাইলট স্কো. লী. সঞ্জয় কুমার চৌধুরী আর স্কো লী সুলতান মাহমুদ হেলিকপ্টার দিয়ে রেকি করে রায়পুরা থানার একটি চর নির্বাচন করেন।

২। খবর আসে ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের আক্রমন এর মুখে পাকিস্তানী রা পালাচ্ছে। সকাল ১১.৪০ এ পলায়নপর পাকিস্তানিদের উপর রকেট এবং মেশিনগান দ্বারা হেলিকপ্টার থেকে আক্রমন চালান স্কো. লী সুলতান মাহমুদ এবং ফ্লা. লে. সিংলা।

৩। স্কো. লী সুলতান মাহমুদ এবং ক্যাপ্টেন সাহাব আগরতলা থেকে ব্রাহ্মনবাড়ীয়া এলাকায় ২টি মিশন করেন।

৪। ক্যাপ্টেন সাহাব এবং ফ্লা. লে সিংলা দাউদকান্দিতে একটি মিশন করেন পিছু হটতে থাকা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর উপর

৫। ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি মিগ ২১ ভুপাতিত হয় ঢাকার কেরানিগঞ্জ এ। ক্যাপ্টেন সাহাব এবং ফ্লা. লে সিংলা কে পাঠানো হয় সেই পাইলট কে রেস্কিউ করতে। কিন্তু তারা ল্যান্ড করতে ব্যার্থ হন এবং পাইলট কেও আর ট্রেস করতে পারেন নি। পরে জানা যায় পাইলট কে রাজাকার রা হত্যা করেছে।

২৬১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ নভেম্বর ১৫, ২০১৫, ১১.২০ পি এম

ফোক ফেস্ট এ নর্থ এন্ড এর দুকানের সামনে দাঁড়ায় দাড়ায়া ফ্রি ফ্রি কফির স্মেল নিতাসি এমন সময় একটা তেজি ধরনের ছেলে আইসা বলল, ইথার ভাই, আপনি আমারে চিনবেন না, কিন্তু আমি আপনার লেখা পড়ি। আমি এই ধরনের পরিচয় এ অভ্যস্ত না, কোনদিন হইতেও পারুম না, তাই আমি এক্কেরে বিগলিত হইয়া গেলাম। হে হে , থেংকিউ, হে হে, কষ্ট কইরা পড়সেন, হে হে এই টাইপ এর বেকুব মারকা কাজ কাম ছাড়া কিছুই করতে পারি নাই। ছেলেটা আমারে নাম বলসিল কিন্তু আমি এজ ইউজুয়াল ভুইলা গেসি।

ছেলেটা আমারে বললো আমার কিলো ফ্লাইট নিয়া লেখা গুলা তার সবচেয়ে বেশি ভাল্লাগসে আর কি জানি একটা সমাবেশ এ আমার কিলো ফ্লাইট নিয়া লেখা গুলা পইড়াও শুনাইসে সবাইরে। ও আমারে অনুরোধ করসে কিলো ফ্লাইট নিয়া লেখা গুলা যাতে কন্টিনিউ করি। এই লেখা তার অনুরোধেই।

যতদুর মনে পরে আমি শেষ লিখসিলাম কিলো ফ্লাইট এর বিমান গুলার মিশন গুলা নিয়া। শুরু করসিলাম এলুয়েট-III হেলিকপ্টার এর মিশন গুলা লেখা আর ৩রা ডিসেম্বর নারায়ঙ্গঞ্জের গোদনাইলে তেলের ডিপো কিভাবে উড়ায়া দিসিল তা নিয়া লিখসিলাম। আরো কিছু মিশনের তথ্য পড়সি । সেগুলা এইখানে লিখা রাখি ভুইলা যাওয়ার আগেই।

ছোট্ট কইরা বইলা রাখি, “কিলো ফ্লাইট” হইল একাত্তর এর মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনির প্রথম এবং একমাত্র ইউনিট। তিনটা বিমান নিয়া এই ইউনিট গঠিত হইসিল। একটা Alouette-III হেলিকপ্টার, একটা DHC-3 Otter বিমান আর একটা DC-3 বিমান নিয়া গঠিত হইসি কিলো ফ্লাইট। এই হেলিকপ্টার টার ৩রা ডিসেম্বর এর মিশন নিয়া আমি এর আগে একটা নোট এ লিখসি। আজকে তার আরো কিছু মিশনের তথ্য লিখব। কোন টাই আমার নিজের বানানো লেখা না। সব সংগৃহীত তথ্য।

৫ই ডিসেম্বর, ১৯৭১

কুলাউড়া এর শমসেরনগরে দুইটি মিশন হয় । এই দুই টা মিশন করেন স্কোয়াড্রন লীডার সুলতান মাহমুদ এবং ফ্লাইং অফিসার বদরুল আলম। মিশন দুইটার বিস্তারিত জানতে পারি নাই।

৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১

১। ফ্লাইং অফিসার বদরুল আলম এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সিংলা একটি মিশন করেন মৌলভীবাজার

২। ফেঞ্ছুগঞ্জ আর শমসেরনগর এ আর্মড রেকি করা হয় এই হেলিকপ্টার দিয়ে। গ্রুপ ক্যাপ্টেন চন্দন সিংহ এই মিশনে ছিলেন

৩। স্কো লি সুলতান মাহমুদ এবং ক্যাপ্টেন সাহাব মৌলভিবাজার এ পাকিস্তান আর্মির ৩১৩ ব্রিগেড হেডকোয়ার্টার আক্রমন করেন। তারা সাতবার ঘুরে ঘুরে প্রতিবার দুটি করে ১৪টি রকেট ফায়ার করেন। শত্রুর প্রচন্ড গুলিবর্ষনের মধ্যেও তারা রকেট ফায়ারিং অব্যাহত রাখেন। হেলিকপ্টার এর মেশিনগান থেকেও ফায়ার করা হয়।

৪। স্কো লি সুলতান মাহমুদ এবং ক্যাপ্টেন সাহাব শমসেরনগর আক্রমন করেন রকেটের সাহায্য। তারা ২০০ রাউন্ড মেশিনগান এর গুলিও বর্ষণ করেন

৭ই ডিসেম্বর, ১৯৭১

১। ক্যাপ্টেন সাহাব এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সিংলা গ্রুপ ক্যাপ্টেন চন্দন সিং সকাল ৮.৪০ মিনিটে হেলিকপ্টার নিয়ে সিলেটে আসেন। উদ্দ্যেশ্য সিলেট শত্রু মুক্ত কিনা জানা। ক্যাপ্টেন সাহাব ছিলেন পাকিস্তান ইন্টারনেশনাল এয়ারলাইন্স এর রেগুলার পাইলট। যাত্রিবাহী ফকার এফ টুএন্টি সেভেন নিয়ে তিনি নিয়মিত সিলেট এ আসতেন। তাই তার জন্য সিলেটে ল্যান্ড করাটা একদম মুখস্তি ছিল। কিন্তু এই রুটিন ল্যান্ডিং ও পালটে যায় যুদ্ধের সময়। তারা যখন ফাইনাল এপ্রোচ এ তখনি পাকিস্তান মিলিটারি প্রচন্ড ফায়ারিং শুরু করে তাদের উপর। তারা সাথে সাথে পালটা রকেট ফায়ার করতে থাকেন অনবরত আর সাথে সাথে উপরে উঠতে থাকেন। হেলিকপ্টারে ১৫ টি গুলি লাগে কিন্তু তারা নিরাপদেই ফেরত আসেন।

২। ফ্লাইং অফিসার বদরুল আলম আর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সিংলা কুলাউরা, সিলেট এলাকায় ৭ টি মিশন করেন।

৮ই ডিসেম্বর, ১৯৭১

ফ্লাইং অফিসার বদরুল আলম আর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সিংলা কুলাউরা, সিলেট এলাকায় ৫ টি মিশন করেন।

৯ই ডিসেম্বর, ১৯৭১

মিশনে যাওয়ার পথে ফ্লাইং অফিসার বদরুল আলম আর ক্যাপ্টেন সাহাব ফ্লাইং এর সময় হঠাত ফুয়েল ওয়ারনিং লাইট জ্বলে ওঠে। তারা তারাতারি কুমিল্লা বিমানবন্দর এর রানওয়েতে নামতে বাধ্য হোন। তাদের সৌভাগ্য যে তখন কুমিল্লা বিমান বন্দর ছিল ভারতীয় সেনা বাহিনীর দখলে। তাদের নামার খবর রাজাকার রা পাকিস্তানিদের জানালে তারা দূর থেকে শেলিং করতে থাকে। তারা বাধ্য হয়ে স্থানীয় লোকজন এর সহায়তায় কেরোসিন সংগ্রহ করে তা দিয়েই হেলিকপ্টার কে সচল করেন এবং কুমিল্লা থেকে ফ্লাই করে আগরতলায় চলে যান।

আর দুই দিন এর মিশনের কথা লেখা বাকি আছে। ১০ই ডিসেম্বর আর ১১ই ডিসেম্বর। আজকে এই পর্যন্তই থাক।

২৬০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ নভেম্বর ১৪, ২০১৫, ১১.৪৮ পি এম

মন্দির চুপচাপ

মসজিদ ও নিশ্চুপ

গির্জায়, প্যাগোডায়

নিরব ধোয়া ধুপ

কেউ তো কোথাউ নেই

সবার সবাইকে মারা শেষ

ধর্ম যে কার জিতেছিল

জানে মৃত চোখ অনিমেষ

আমি নোট লিখতে বসছিলাম কিন্তু এই কবিতা টা ছাড়া আর কিছুই লিখতে পারলাম না। এই যে ধর্মের নামে প্রত্যেকদিন এত মানুষ মাইরা ফালাইতাসে প্রতিদিন এই টা থামানো তো আমাদের জন্য কোন ব্যাপার হওয়ার কথা না। তবু আমরা অপেক্ষা কইরা আছি , একদিন থাইমা যাবে এই সব ‘গন্ডগোল’। কেউ একজন লাল বিছানার চাদ্দর পিছনে ঝুলায়া আইসা সব থামায় দিবে। কিন্তু তা কখণোই হয় না আর এই সব হত্যা কান্ড একটা “হইবই তো, আমার কি” ব্যাপারে পরিনিত হয়।

আমার কিছু না আসলে। আমি ঠিক ই ফোক ফেস্ট এ যাবো, বাসায় আইসা খায়া দায়া ঘুমায় যাবো, কালকে অফিসে যাবো, কলিগ এর সাথে আমি কত আপডেটেড প্রমান করার জন্য বলবো , দেখসেন প্যারিস এ কত মানুষ মাইরা ফালাইল। তারপর মাথা নারাবো। কারন এই মাথা নারায়াই আমি নিজেরে ফিল করাবো, আমি দুনিয়াতে আমার পার্ট টুকু কইরা ফালাইসি, আর কিছু করার নাই আমার। আমি চিনি না জানি না ফরাসি লোকজন এর জন্য মাথা নারাইসি ! অফ ম্যান, আমি তো কুল !

তারপর ফেসবুকে দেখবো এই ঘটনা নিয়া কে কি বলতাসে। দেখবো এই ঘটনায় কি সুন্দর আমাদের একদল চুক চুক শব্দ কইরা মাথা নারাইতাসে, এক দল “কই সিরিয়ার সময় তো চুক চুক শব্দ শুনলাম না” বইলা চশমা নাকের উপর তুলতাসে, আর একদল আরে অশিক্ষিত লোকজন, ফ্রান্স এর পতাকা যে প্রোফাইলে দিলি, বুইঝা দিসস? বইলা পারার মোড়ল এর দায়ীত্ব পালন করতে মাঠে নাইমা পরসে।

আমার খুব ইচ্ছা করতাসে ফেসবুক যেই প্যারিস এটাকের পর আমি সেফ আসি বলার এপ টা চালু করসে ওইটাতে নিজেরে সেফ বইলা ঘোসনা দেই । ফয়সাল আকরাম ইথার ইজ সেফ ফ্রম থে প্যারিস এটাক। ফয়সাল আকরাম ইথারের অনেক মন খারাপ হইসে কিন্তু সে সেফ আসে। সে সুখী, সুন্দর, সম্ভ্রান্ত মুস্লিম পরিবারের আস্তিক, নিরাপদ, নির্বোধ জীবন যাপন করতাসে।

২৫৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ নভেম্বর ১৪, ২০১৫, ২.০০ এ এম

আজকে ফোক ফেস্টিভ্যাল এর দ্বিতীয় দিন ছিল। আমরা আজকে আগে আগে গিয়া লাইন এ দাড়াইসি। তাই বেশি খন লাগে নাই ঢুক্তে। পনের মিনিট মাত্র দাড়াইতে হইসে লাইন এ। কিন্তু লাইনে দাড়ায়া দাড়ায়া নানান কিসিমের মানুষ দেখার সুযোগ হইসে।

যেমন আমি যেই লাইন এ দাড়াইসিলাম, সেই লাইনে আমার সামনে দুইডা সুট স্যুট পড়া লোক আইসা দাড়াউল। কোট দেইখাই বুঝা যাইতাসিল বংশ পরম্পরায় প্রাপ্ত স্যুট। দাদা পরসে , বাবা পরসে, এখন তারো পড়া লাগবে। এবং শুধু তাই নয়। সন্ধ্যা বেলার লো লাইট এ তাদের সান গ্লাস পইড়া লাইন এ দাড়ায়া থাক্তেই হবে।

পাশে দিয়া কয়েক্ত ছেলের একটা দল গলায় গামসা দিয়া যাইতাসিল।, এই দুই জন সুট পরা লোক ওদের দেইখা হাসাহাসি করতাসিল। ওরা বলতাসিল , দেখসস গামসে পরসে হে হে হে

একটু পর এক লোক মেগা ফোন নিয়া আইসা মাতবরি শুরু করল। লাইন সুজা করেন, লাইন ব্যাকা করেন, মুবাইল মানিব্যাগ সব হাতে ন্যান ইত্যাদি। এই লাইনে বেশি লোক হইইয়া যাওয়াতে উনি চাইতাসিল, অন্য লাইন এ লোকজন কিছু শিফট করতে। এইটারে উনি শুদ্ধ কইরা চিল্লানি শুরু করসে মাইক এ । আর লাগসে প্যাচ।

হঠাত শুনি এই কুতুব এনাউন্স করতাসে , “আমরা যারা লম্বা লাইন এ আছেন, তারা ১৪ নম্বর গেট ব্যবহার করেন। ১৪ নম্বর খালি আছে। “ এই সেন্টেন্স এর “আপ্নরা যারা লম্বা” এই লাইন বলার সময় উনি এত আসতে বলসে যে পোলাপান শুন্সে,

“আপ্নারা যারা লম্বা, তারা ১৪ নাম্যাবার গেট এ যান”

আর সব হুর মুর কইরা অন্য দিকে গেসে গা। আমারে ছ্যুট পরা ভাইজান বলসে, বাইয়া, লম্বা দের তো আলাদা লাইন, যান যান। আমি বলসি, থাক গা। দুঃখ কইরা লাভ নাই। আল্লাহ বাইট্যা বানাইসে, বাইট্যাই থাকি। বইলা একটা ফেক দীর্ঘশ্বাস ফালায়া ফাকা হওয়া যাওয়া লাইন দিয়া ঢুইকা গেসি ভেন্যু তে।

ভিতরের কাহিনী আরেকদিন বলব নে। তিন দিন এর কন্সার্ট শেষ হোক।

২৫৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ নভেম্বর ৮, ২০১৫, ২.৪৮ এ এম

বাসায় ফিরসি একটু আগে। ফোক ফেস্টিভাল এ গেসিলাম। আজকে ছিল ফেস্টিভাল এর প্রথম দিন। ৬ টা দল এর পারফরমেন্স। বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা হইসে। ঘুমায়া যাওয়ার আগে দেখি কতদুর সেগুলা লিখতে পারি।

অফিস ছিল, তাই অনেক গুলা রুট হপিং করতে করতে যখন আর্মি স্টেডিয়াম এর সামনে পৌছাইলাম তখন বাজে প্রায় সাড়ে ছয় টা। ফুটপাথ দিয়া যখন গেটের দিকে হাটতাসি তখন এক ব্যাডা খুবি হাসি হাসি মুখে আগায়া আসলো। আমি ভাবসি পরিচিত হয় তো কেউ। ওই বেডায় আমার মুখের দিকে তুলি আগায় দিয়া বলল, স্যার , অনুষ্ঠান উপলক্ষে আঁকায় দেই। আমি তারাতারি ব্যাডারে কোন মতে ডজ দিয়া গেট এর কাসে আয়া পড়লাম। এই খানে সব গুলা চেইন খুলায় (শুধু ব্যাগ এর) চেক করল। তারপর বল্লো, জা আ আ ন। থুক্কু, পুলিশ আমারে জান বলবে ক্যান। বলল, যান যান। এই যে পুলিশ চেক করল এবং ব্যাগ নিয়া যাইতে বলল, এইটা তথ্য টা মনে রাখা প্রয়োজন। একটু পরে কাজে দিবে।

আমি ৬ টা ৩২ এ লাইন এর শেষ খোজার জন্য হাটা শুরু করলাম। এবং যখন পৌছাইলাম তখন বাজে ৬ টা ৪১। আচ্ছা থাক, এত কোটি কোটি মানুষ। সময় তো লাগবেই। যখন সাপের মত আইকা বাইকা আগাইতে আগাইতে গেট এর কাছে আশ্লাম, তখন বাজে সন্ধ্যা ৭ টা ৪৫। আরেকটু পরেই ঢুক্তে পারবো। কিন্তু বাধ সাধলো পুলিশ।

একজন সাব ইন্সপেক্টর আইসা ধমকা ধামকি লাগায় দিল। ক্যান আমরা ব্যাগ আন্সি। পোলাপান চিল্লা চিল্লি করতেসিল। তাদের একটা হাবিলদার দিয়া ধইরা নিয়া গেল। বলল, ওই , ধর এইটারে। এরেস্ট কর। বেশি গলাবাজি করতাসে এইডা। অথচ এগুলা কিছুই লেখা ছিল না টিকিট এ যে ব্যাগ আনা যাবে না ।

আমার এত মন খারাপ হইসিল। আমি চুপ চাপ আইসা মিশুক এর নিচে বইসা ছিলাম। কিছু পরিচিত লোক জন দেখলাম। দুর্বা কে দেখলাম হাস্তে হাস্তে ঢুক্তে। রোয়েনা রাসনাত রে দেখলাম দুইটা মেয়ের সাথে হাইটা যাইতাসে। ডাক্তার ফাহমিদ ভাই এর লগে দেখা হইসিল। ফারাহ দিবা তাস্নিম আমারে হোন্ডা থেইকা হাই দিসে। আমি বেকুব এর মত হা কইরা তাকায় ছিলাম। আর দুই টা পিচ্চি মেয়ে আমারে ইথার ভাই ভাল আসেন বলসে, তবে এদের নাম মনে নাই।

একটু পরে আইসা উদ্ধার করলো মহান রাশা। ও গাড়ি নিয়া আসছিল আর আমি ব্যাগ রাখার একটা জায়গা পাইলাম। ততখনে আজকের প্রথম পারফোরমার ফরিদা পারভিন এর গান শেষ। বাইরে থেইকাই শুনতে যত মধুর লাগতাসিল।

আমরা যখন বসার জায়গার কাছি কাছি আসলাম তখন ২য় পারফরম্মিং দল , চন্দনা মজুমদার আর কিরন চনদ্র রায় গান গাওয়া শুরু করলেন। উনাদের গান গুলা ভালই লাগসে। ৩য় পারফরমেন্স ছিলেন দা অর্ক মুখার্জি। ইনার গান ভালই তবে এরে বেশি সময় দিয়া ফালাইসে। দুই তিনটা গান শোনার পর আর ভাল্লাগতাসিল না।

ধুরো চোখ ভাইঙ্গা ঘুম আইতাসে। ঘুমের জন্য লিখতেই পারতাসি না। আবার কালকে রাইত আট্টার সংবাদের পর লিখুম নে।