৫৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২৩, ২০১৫ । ১১.৩৭ পি.এম

আমি ভাবসিলাম আজকে লিখুম ইম্প্রেশনিজম নিয়া। কিন্তু এই বিষয়ে আমার পড়া লেখা ডা ঠিক যুইতের লাগতাসে না। আরো পড়তে হইব, ভীডু দেখতে হইব, পেইন্টিং এর দিকে হা কইরা তাকায় থাইকা লুল ফালায় ল্যাপটপ এর কি বোর্ড ভাসায়া লাইতে হইব। খালি দিন এর কোটা পুরণের জন্য লিখলে এইডা একটা চানাচুর মার্কা লেখা হইব। এর চেয়ে আরেকটু ঘাটাঘাটনি (খাটা খাটনি + ঘাটা ঘাটি) করি। নাইলে শান্তি পামু না লিখখা।

আমার একটা জিনিষ মনে হয়। যদিও শিক্ষক সম্প্রদায় এই ধারনার বিরুদ্ধে এক যোগে প্রতিবাদ করতে পারেন। কিন্তু আমার মনে হয় আমরা আমাদের স্কুলিং এ যেভাবে শিখি তার মধ্যে বিশাল একটা ঘাপলা আসে। আমাদের একটা কিছু শিখানোর সময় জিনিষটার ডিটেইল এত কিছু বলা হয় যে এই সব ডিটেইল শিখতে শিখতে আমরা যখন মুল বিষয় টা শিখতে পারি ততক্ষণে আমাদের মুল বিষয়টার প্রতি ইন্টারেস্ট গেসে গা। এক্টু খুইলা কই ( উইথ ক্লোদস অন 😛 )

জিনিষটা এমন যে আমাদের বলা হইল তোমাকে A থেইকা B তে যাওয়া শিখতে হইব। এ থিকা বি পর্যন্ত একটা হাই ওয়ে আসে ডাইরেক্ট। আর প্রতি ২ কিলো পর পর একটা সাইড গলি আসে। ওই গলির আরো শাখা প্রশাখা আসে। আমরা যেভাবে শিখি তা হইতাসে এ থিকা বিশাল এন্থুজিয়াজম নিয়া হাটা শুরু করি। মনে খুব আনন্দ বি তে যামু। দুই কিলো যাওয়ার পর আমাগো সিস্টেম আমাদের ঘার ধইরা গলি তে ঢুকায়া দ্যায়। আরে এই গলি না চিনলে তো কিছুই চিনলা না মিয়া । আমরা গলি, পাতি গলি, উপ গলি ঘুইরা ঘুইরা আবার হাইওয়ে তে ফিরা আসি। আবার মনে আনন্দ, আহা বি তে যামু। ২ কিলো পর আবার গলি, আবার ঢুকো, আবার কাহিল হউ। এই ভাবে গলিতে গলিতে গলিত হয়া আমরা যখন বি তে পৌছাই তখন আর আমাগো এ থিকা বি তে আসার রাস্তা শিখার কোন আগ্রহ থাকে না। বি তে পৌছাইসি এই বেশি। ফলাফল চাকরি তে ঢুকতে ঢুকতে বা ভার্সিটি পাস দিতে দিতে আমাদের পড়ালেখার ছোট খাট গলি যেমন কিছু কিছু সূত্র যা মুখস্ত করসিলাম, অমুক টার্ম টা , অমুক বই এ এইটা লেখা ছিল এই টাইপ এর জিনিষ মনে থাকে কিন্তু আসল জিনিষের খবর ই নাই।

কিন্তু এমনটা হওয়ার উচিত ছিল না। আমার মনে হয় উচিত ছিল প্রথমেই হাইওয়ে ধইরা এ থিকা বি তে পৌঁছানো। অনেক কিছু হয়ত ক্লিয়ার হবে না, অনেক গলি তে ক্যান ঢুকলাম না আফসোস থাইকা যাবে। তাদের কে মধুসদন দত্তের মত বলতে হবে, “তিষ্ট ক্ষণকাল”। এইভাবে একটা ক্লাস এর সবাই এট লিস্ট মুল ব্যাপার টা জানবে । তারপর সবাইকে বলা হবে এই বার আমরা আবার এ তে যাবো এবং প্রথম গলিতে ঢুকবো, তারপর আবার বি তে চইলা আসবো। কিছু স্টুডেন্টের কাছে এই গলিটাও অনেক কঠিন লাগবে। তারা বি তেই থাকলো। যারা দেখতে চায় প্রথম গলি তে কি আছে তারা গেলো। ২য় গলির ক্ষেত্রেও সেম। দেখা যাবে ১ম গলির মুখে কিছু পোলাপান দাড়ায় আসে। এরা অদ্দুরি জানতে চায়। এরা ওই খানে থাকুক। আমরা বাকি দের নিয়া বাকি গলি তে ঢুকি।

এই ভাবে শেষ গলি থেইকা হাসি মুখ নিয়া বাইর হবে তারাই যারা আসলেই জানতে চাইসে কি আসে ভিতরে। কিন্তু না। আমরা সবাইকে সব গলি শিখাইতে চাই। যারা সব গলি ঘুইরা বি তে আইসা পুরা রাস্তার ধুলা বমি করতে পারে তারা ফার্স্ট। আর বাকিরা, মেএহ, চলে আরকি। এই ধারনার পরিবর্তন করতে হবে আমাদের কেই। আমাদের শিক্ষক দের কে বলতে হবে, স্যার, চিনির অণু বিশ্লেষণ এ পরে ঢুইকেন, আগে চা বানানো শেখানো শেষ কইরা লন।

আর্ট এর হিস্টোরি, ইজম, মুভমেন্ট ইত্যাদি নিয়া পড়তে গিয়া আমার মনে হইসে অনেক অনেক গলি আস্তাসে। আর খুবি আকর্ষণীয় সব গলি। ঢুকলে অনেক গভীর পর্যন্ত ঢুকা যায়। কিন্তু আমি চাইতাসি আগে রাজপথে হাইটা গলি গুলার প্রবেশ পথ গুলা চিন্না রাখি। পরের বার আইসা একটা একটা কইরা ভিতরে ঢুকবো নে।

৫৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২২, ২০১৫ । ১১.৪৫ পি.এম

সেকেন্ড ইয়ার এ উঠনের পর আমি যখন পাঠশালা ড্রপ আউট করি তখন অনেক কষ্ট লাগতো। বন্ধুরা পাঠাশালায় ক্লাস করত আর আমি বড় বড় দীর্ঘ শ্বাস ফালাইতাম। ওগোরে খুটায় খুটায় জিগাইতাম আইজকা ক্লাস এ কি পড়াইসে। তাই ওগোরে যখন ক্লাস এ আর্ট এর ঈজম গুলা পড়ানো শুরু করল তখন আমার আফসুস এর সীমা ছিল না। আমি ভাবসিলাম, থাক, গুগল আসে না। সব এক সার্চ মাইরা জাইনা ফালামু। কিন্তু কিয়ের কি। আর জানাই হয় নাই অগুলা।

এখন আমিই আবার আর্ট এর ইজম গুলা নিয়া পড়া শুরু করসি। পড়তে গিয়া বুঝলাম, এই গুলার মধ্যে সবচেয়ে ইনফ্লুএনশিয়াল ধরা হয় কিউবিজম রে। তার আগে এক্টু পরিষ্কার কইরা লই ইজম জিনিশ টা কি। মিউজিক এর মধ্যে যেরুম জনরা (Genre) আসে , লাইক মেটাল, অল্টারনেটিভ, ব্লুজ, জ্যাজ এরুম আর্ট এর মধ্যেও ইজম আসে। ইজম গুলা আসলে শুরু হইসিল এক এক টা মুভমেন্ট হিসাবে পরে সেইটা একটা স্টাইল হয়া গেসে। । কোন একটা সময়ের কিছু আর্টিস্ট ঠিক করসে নাহ চালু ট্রেন্ড এর মায়েরে বাপ, আইজা থিকা আমি আমার মত আকুম । এই রকম এক রকম ভাবে আঁকা পেইন্টিং গুলা একটা মুভমেন্ট এর অংশ। একটা প্রচলিত স্টাইল রে চ্যালেঞ্জ কইরা আরেকটা স্টাইল তৈরি করার ব্যাপার গুলারেই আর্ট হিস্টোরিয়ান রা এক এক টা ইজম বইলা নাম দিসে। এরম অনেক অনেক ইজম আসে যেরুম, রিয়ালিজম, সুরিয়ালিজম, দাদাইজম, ইম্প্রেশনিজম এরুম। তয় ওই ডি লয়া আলাদা আলাদা ভাবে লিখুম নে সামনের কিছু লেখায়।

কিউবিজম এ ফেরত আসি। কিউবিজম মুভমেন্ট টা প্রথম শুরু করেন দুই জন আর্টিস্ট। এক জন বহুল প্রচারিত পাবলো পিকাসো (Pablo Picasso) আরেকজন জর্জেস ব্রক (Georges Braque)। এরা প্যারিস এ ১৯০৭ থেইকা ১৯১৪ সাল এর মধ্যে যেই ছবি গুলা আঁকেন সেগুলা কিউবিজম এর স্টাইল এই আঁকেন। তাদের সাথে এই মুভমেন্ট এ যোগ দেন, Jean Metzinger, Albert Gleizes, Robert Delaunay, Henri Le Fauconnier, Fernand Léger and Juan Gris। এটাও বলা হয়া থাকে সিজ্যান (Paul Cézanne) এর শেষের দিককার কিছু কাজ দিয়াও কিউবিজম প্রভাবিত হইসিল।

এত গেলো ভুং ভাঙ। এহন আসল ব্যাপার এ আসি। কিউবিজম এ আর্টিস্ট প্রথমে তার সাবজেক্ট কে ভেঙ্গে ফেলেন। একদম যারে কয় টুরকা টুরকা কইরা ফালানি। তারপর আলাদা পারট কে এনালাইজ করেন। শেষে আবার সব পারট কে জুড়া লাগান।কিন্তু আগের মত না। দেখলে মনে হইব প্রত্যেকটা পার্ট আলাদা আলাদা জায়গা থেইকা দেখতাসি। ফর এক্সাম্পল, হয়তো ছবির সিঁড়ি টা এক দিক থেকে আঁকা হইসে তো টেবিল টা পুরাই অন্য ভিউ থেইকা দেখা মনে হইতাসে। আবার এই জোড়া লাগানো টা একেবারে টু/থ্রি ডাইমেনশনাল এর মধ্যে ঘরের ছবি আইকা দেওয়ার মত না। আমার মনে হইসে কিউবিজম শিল্পী কে ওই স্বাধীনতা দ্যায় যে সে তার নিজের মত কইরা একটা ধারনা, একটা অনুভূতিকে ইচ্ছা মত ফর্ম দিতে পারেন।

কিউবিজম এই ধারনা প্রথমেই বাতিল কইরা দ্যায় যে আর্ট বানাইতে হইলে সেইটা প্রকৃতি তে যেমন দেখা যায় এমন একদম পারস্পেক্টিভ মাইনাই বানাইতে হবে। কিউবিজম এ আলাদা আলাদা ভাবে অবজেক্ট গুলারে ঠিক ই বুঝা যায় কিন্তু একটা জ্যামাতিক আঁকার আকৃতির মধ্যে চইলা আসে। কিছু কিছু পেইন্টিং এ অবশ্য দেখলেও বুঝা যায় না যে এইডা আসলে কি আকসে। সেই ক্ষেত্রে আর্টিস্ট বিভিন্ন ক্লু দিয়া দ্যান ছবি তে। সেইটা কালার দিয়া হইতে পারে, ফর্ম দিয়া হইতে পারে আবার শুধু ক্যাপশন দিয়াও হইতে পারে।

কিউবিজম দিয়া যে শুধু পেইন্টিং ই হয় তা না। কিউবিজম ইন্সপায়ারড অনেক অনেক ভাস্কর্য আসে, বিল্ডিং এর ডিজাইন আসে, পটারি, ফারনিচার এমন কি মিউজিকও আসে।

আমি কিউবিজম নিয়া লিখলাম কিন্তু একটা ছবিও দিলাম না। ইচ্ছা কইরাই দেই নাই। যার আগ্রহ হইব সে নিজেই এখন গুগুলে আস্তে আস্তে কইরা লিখব Cubism. তার পর রেজাল্ট এ আসা ছবি গুলা দেইখা উত্তেজিত হয়া যাইব। আর মিলাইয়া দেখবে যা কইসি তা ঠিক কইসি কিনা।

৫৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২১, ২০১৫ । ১০.০৭ পি.এম

আবারো বিয়া বাড়ি নোট। অল মোস্ট সিমিলার অবস্থা। অইদিন বিয়া ছিল। আজকে বৌভাত। অফিস থিকা আসছি। আম্মা আমার জন্য পাঞ্জাবি নিয়া আসছিল। অনেক কষ্টে ওই টা পরা ঠেকানো গেসে। যেই কাজিন এর বিয়া উনি তাব্লিগ করেন। উনার সাথি ভাই দিয়া ভরপুর সেন্টার। আমাদের কিছু করা লাগতাসে না। ইনারাই সব দায়িত্ব নিয়া করতাসেন।

এই কাজিন পাঞ্জাবি পায়জামা পরসেন। আর গেস্ট দের মধ্যে এক বেকুব এই গরমের মধ্যে থ্রি পিস স্যুট পিন্দা আসছে। হেরে দেইখা আমারি গরম লাগতাছে। লুকজন ঢুইক্কা কনফিউজ হয়া যাইতাসে কুন্টা আসলে জামাই। কিছু লোকজন হে হে করতে করতে গিয়া অই স্যুট আলার লগে হেন্ডশেক কইরা ডজ খাইতাসে।

স্পিকিং অফ দা ডেভিল, স্যুট অলা আইসিল এক্টু আগে আমার কাছে। আইসা বল্ল ব্রো কি বিয়া তে আসছেন? আমি হাসি হাসি মুখ কইরা বল্লাম জি না। সে আবার জিগাইল আপ্নি কি মেয়ে পক্ষের? আমি আবারো কইলাম জি না। এইবার সে এক্টু ডিফেন্স এ গেল আমি ঝামেলা বাজ কিনা। কইল ব্রো তাইলে আপ্নাকে তো ঠিক চিন্তে পারলাম না। আমি বলসি, আমিও না। স্যুটমারানি ব্রো আর ঝামেলা করে নাই। টাই ঠিক করতে করতে গেসে গা।

আজকে ছেলে পক্ষের অনুষ্ঠান হওয়াতে আমাদের সাইড এর অনেক আত্মিয় সজন আসছে। এদের কয়েকজন আইসা আমারে ইথুউউ কেরম আসো? আমারে চিনসোওওও? ছোটবেলা কত কোলে নিসি তোমারে বইলা গেসেন। আমি কাউরেই হতাশ করি নাই। হ্যা হ্যা চিন্সি তো, আপ্নি আগের মতই আছেন বলসি। ওরা খুশি হয়া গেসে। একবার ইচ্ছা হইসিল বলি, আবার কোলে নিবেন? পরে ভাবলাম। থাক। রাজি হয়া গেলে আবার সমস্যা।

কেরফা লাগাইসে বড় মামা। আমারে এক্লা এক্লা বইসা থাক্তে দেইখা ঝাপ দিয়া পড়ল উনার ব্যারিটোন ভয়েস নিয়া।

“ওই তুই একলা একলা বয়া কি করস!”।

কিছু করি না মামা।

“খালি হারাদিন মুবাইল টিপাটিপি, খাইসস?”

না মামা পড়ে খাব।

“তাইলে এই যে আত্মিয় সজন রা খাইতাসে এগো ছবি তুল”

মামা খাওয়ার ছবি তুলবো?

“আরে এইটাই তো স্মৃতি, তুল তুল”

রান চিবানির স্মৃতি তুলতে ইচ্ছা করতাসে না।

৫২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২০, ২০১৫ । ১১.৩৫ পি.এম

আমি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়তে পড়তে এতই এক্সাইটেড যে আমার ইচ্ছা করতাসে এত গুলা পিচচি রে সামনে নিয়া ওদের এই সব গল্প শুনাই। বড় রা বাদ। বড় রা একটু পড়ে হাই তুলবে। বলবে এহ জানি এই সব। একি প্যান প্যানানি। ছোটদের ওই রিস্ক নাই। ওরা মজা পাইলেই হইল। সময় নষ্টের হিসাব করে না। যদি সত্যি সত্যি কিছু পোলাপাইন এর মুক্তিযুদ্ধ ১০১ ক্লাস নিতে পারতাম, তাইলে এরকম কিছু হইত হয়ত।

: ১৯৭১ সালে কি হইসিল বলতো?

–যুদ্ধোওওওওওওও।

: কি যুদ্ধ কে বলতে পারবে?

–মুক্তিযুদ্ধোওওওওও, আমি আগে বলসিইইই সার।

: হ্যাঁএএ , তুমি ফার্স্ট। আচ্ছা বলতো তার আগের বছর কি হইসিল?

–আগের বছর মানে?

: মানে ১৯৭০ সালে কি হইসিল

— অ। কি হইসিল? ঈদ? হি হি হি

: হ্যাঁ , ঈদ তো হইসিলোই, আরেকটা জিনিষ হইসিল?

— কি? কি?

: ১৯৭০ সালে ইলেকশন হইসিল

— তখনো ইলেকশন হইত?

: হ্যাঁ, হইতো তো

— কে জিতসিল? হাসিনা? নাকি খালেদা জিয়া? না এরশাদ? হি হি হি

: না না, তখন তো উনারা ছিলই না

— তাইলে কি হইসিল স্যার?

: আমারে স্যার বলবানা। ইথার ভাই বলতে পারো।

— হি হি এত বড় ব্যাডা রে ভাই বলব? হি হি। আঙ্কেল বলি?

: আচ্ছা বল

— ইলেকশন এ কি হইসিল আংকেল? কে জিতসিল?

: তখন তো দুইটা পাকিস্তান ছিল। পূর্ব পাকিস্তানে ইলেকশন এ জিতসিল শেখ মুজিবুর রহমান এর আওয়ামী লীগ আর পশ্চিম পাকিস্তানে জিতসিল জুলফিকার আলীর ভুট্টো এর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)

— আয় হায়, দুইজন জিতসিল? তাইলে মারামারি লাগে নাই?

: লাগসিল তো, মারা মারি ই তো লাগসিল। ওই মারা মারি তেই তো ১৯৭১ এর মুক্তি যুদ্ধ হইল।

— কেমনে মারামারি হইসিল ইথার আঙ্কেল? রেস্লিং এর মত? শেখ মুজিব আর ভুট্টোর মধ্যে রেস্লিং?

: হ, সেরম হইলে তো কত মানুষ বাইচা যাইত। কিন্তু না। পশ্চিম পাকিস্তান চায় নাই পূর্ব পাকিস্তান দেশ চালাক। তখন তো সংসদ ছিলনা। ছিল জাতীয় পরিষদ। এই পার্লামেন্ট এ মোট সিট ছিল ৩০০ টা। কয়টা?

— তিন শ টা সাআআআর, থুক্কু ৩০০ টা আংকেএএএল

: গুড। এই তিনশটার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের সিট ১৬২ টা আর পশ্চিম পাকিস্তান এর সিট ১৩৮ টা। তাইলে মুট কয়টা হইল?

— এই কাম সারসে। অংক। এ এ এ আট আর দুই দশ, হাতে থাকলো এক… এ এ এ স্যার, মুট ৩০০ হয় স্যার।

: আবার স্যার! আচ্ছা যাই হোক। এই ১৬২ এর মধ্যে আওয়ামি লীগ পাইসে ১৬০ সিট আর ১৩৮ এর মধ্যে পিপিপি পাইসে ৮১ টা সিট।

— আংকেল একটা প্রশ্ন?

: হ্যাঁ হ্যাঁ, বল কি প্রশ্ন?

— আমি আংকেল আপনি বলার লগে লগে যোগ কইরা ফালাইসি। ১৬০ আর ৮১ যোগ করলে হয় ২৮১। সিট তো ৩০০, তাইলে বাকি গুলা কারা? মহিলা, শিশু ও প্রতিবন্ধী কোটা?

: হি হি ভাল প্রশ্ন করসো তো? আমি খুব খুশি হইসি। বাকিরা ছিল অন্যান্য দল আর সতন্ত্র । এখন বুঝসো?

— বুঝসি সাআআ… থুক্কু। আংকেএএল । তার পর কি হইল?

: ৩০০ এর মধ্যে ১৬০ ই আওয়ামী লীগ এর। তাইলে নিয়ম অনুসারে এরাই গভমেন্ট বানাইবো। কিন্তু কেরফা লাগাইলো ভুট্টো।

— ভুট্টো জানি কে?

: ভুট্টো হইল পিপিপি এর চেয়ারম্যান । পশ্চিম পাকিস্তান এর লোক

— এই লোক ক্যান কেরফা লাগাইল?

: বাংলাদেশ মানে তখন কার পূর্ব পাকিস্তান রে ছোট চোখে দেখা পশ্চিম পাকিস্তানের রক্তে মিশা গেসিল। ওদের শিখানোই হইসে অমনে যে পূর্ব পাকিস্তান মানে নিচু জাত। ভুট্টো ভাবলো, নিচু জাত আমাদের গভমেন্ট হবে? আমাদের শাসন করবে? কভি নেহি।

— কিরম হিংসুইট্যা লোক ভুট্টো । আমরা জিতছি আর আমাগো দিব না? এই হিংসুইট্যা কইল আর সবাই তার কথায় নাচলো?

: নাহ, খালি পশ্চিম পাকিস্তানী নেতারা আর সামরিক বাহিনী লোকেরাই নাচসিল।

— কি হইল তারপর?

: আওয়ামী লীগ এর “৬ দফা দাবী” বইলা একটা জিনিষ ছিল। তারা বলসিল তারা এই “৬ দফা”য় যা যা আসে তার উপর বেজ কইরাই দেশ চালাবে। আর ভুট্টো বলসিল, “৬ দফা” য় পশ্চিম পাকিস্তান রে কোন বেইল দেওয়া হয় নাই। তাই এই ৬ দফা লওয়া পুরা দেশ চালানির কথা ভাবলে, শেখ মুজিব কে ক্ষমতা দেওয়া হবে না

— এহ ক্ষমতা দিবে না মানে। এইটা কি ওর আব্বুর টাই যে দিবে না

: সেটাই তো । আর চিন্তা কর এতদিন পশ্চিম পাকিস্তানে বইসা উনারা পূর্ব পাকিস্তান চালাইসেন, তখন কিন্তু এই সব যুক্তি বলে নাই কিছু। এখন যেই ক্ষমতা নিয়া টান পরসে তখন এই সব ভুং ভাঙ বলতাসে।

— জি ইথার আংকেল ঠিক বলসেন। ক্ষমতা লওয়া চুদুর বুদুর শুরু করসে ভুট্টো।

: হ। ঠিক। কিন্তু এই সব ব্যাপার তো আর গলার জোরে হয় না। তাই অনেক অনেক চেষ্টা চললো মীমাংসা করার। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান দুই দল এর সাথে অনেক বার আলোচনায় বসলেন। কিন্তু কোণ সমাধান আসলো না।

— ছার, ইয়াহিয়া খান ক্যাডা? শাহরুখ খান এর দাদা?

: না না

— শাহরুখ খান এর নানা?

: আরে না ব্যাডা, হপ । শুন আগে। ইলেকশন এর আগের বছর মানে ১৯৬৯ সালের ২৫ শে মার্চ আইয়ুব খান রে সরাইয়া ইয়াহিয়া খান আসছিল ক্ষমতায়। উনি আইসা দেশে মিলিটারি শাসন চালু করসিল। কিন্তু বলসিল মিলিটারি শাসন স্থায়ী কিছু না। সামনে নির্বাচন হবে। তারপর জনগণের প্রতিনিধি দের কাছে ক্ষমতা বুঝায় দিয়া উনি বিদায় লইবেন।

— ওহ, আংকেল, এডি শুইন্ন্যা যুইত পাইতাসি না। যুদ্ধের গল্প কন

: আজকে এক্টু যুদ্ধ লাগার আগের গল্পটা বলি। আরেকদিন যুদ্ধের সময়ের গল্প বলব নে।

— হয় হয়। কন। আপনের যেমনে সুবিধা। আমরা তো এম্নেও ইমাজিনারি ইস্টুডেন্টস। তারপর কি?

: ভুট্টো বিভিন্ন টালটি বালটি করতাসিল যাতে পার্লামেন্ট এর অধিবেশন না বসতে পারে। কারণ বসলেই তো হের লস। বিরোধী দলীয় নেতা হইতে হবে। ইয়াহিয়া খান ও আলোচনা কইরা যে কোন সুবিধা করতে পারতাসে না এই টা পশ্চিম পাকিস্তান এর সামরিক শাসক রা ঠিকই বুঝতাসিলেন। তাই তারা নিজেরা নিজেরা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ দের মিলিটারি দিয়া ক্যামনে টাইট দেওয়া যায় তার প্ল্যান ফাইনাল করার কাজ শুরু করলেন।

এর পরে যেদিন মুক্তিযুদ্ধ নিয়া লিখবো সেদিন দুইটা মিলিটারি অপারেশন এর প্ল্যানিং এর কথা বলব। দুইটাই পাকিস্তান আর্মির করা। একটা হইল Operarion-Blitz যেইটার প্ল্যান ফাইনাল করা হইসিল ২২শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ আর ইতিহাসের অন্যতম গণহত্যার পরিকল্পনা ওরফে Operation-Search Light যেইটার প্ল্যান ফাইনাল হইসিল ২০শে মার্চ, ১৯৭১।

আজকে এই পর্যন্তই থাক। তোমরা বাসায় যাও গিয়া। আমি কিছু করতে বলতাসি না তোমাদের। নো হোম ওয়ার্ক। যদি এগুলা সত্যি ই বুকের ভিতর আগুন ধরায় তাইলে এর পর থেইকা দেশ কে বুকের মধ্যেই অনুভব করতে পারবা, এত কষ্টে পাওয়া দেশ এমনি এমনি অন্যদের হাতে তুইলা দিবা না, দেশ নিয়া আর ডিপ্রেশন এ ভুগবা না আর জাতীয় সংগীত শুনলে এমনেই দাঁড়াইয়া যাবা। কারোর জন্য অপেক্ষা করা লাগবে না।

৫১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১৯, ২০১৫ । ১০.৫৯ পি.এম

এই নোট লিখতাসি একটা বিয়া বাড়িতে বইসা বইসা। বিয়া বাড়ি একটা অদ্ভুত জায়গা। কত রকম মানুষ, কত রকম অনুভুতি, কত কত গল্প। রাইটার্স ব্লক এর সময় লেখকদের বাইরে কোথাউ ঘুরতে না গিয়া একটা বিয়া বাড়িতে ঢুইকা যাওয়া উচিত।

আমি আসছি একটু আগে। অফিস থিকা আইসা পরসি। খালাত ভাই এর বিয়া। হল ভরতি কোটি কোটি মানুষ। আমি ঢুইকা এক্টু হচকচায়া গেলাম। সব চক চকা জামা পড়া ঝক ঝকা লোকজন। আর আমি জিনিশের পেন্ট আর মেন্দা মারা কালারের হাতার বুতাম লাগানো শার্ট পইড়া আয়া পরসি।

আম্মা আর বাবা আগেই পৌছাইসিল। আমার মনে হইল আমি ভিড়ে হারায়া যাওয়া পিচ্চির মত আম্মা আম্মা বইলা চিক্কুর পারি। কিন্তু সেরম কিসু করি নাই। আস্তে আস্তে মেয়েদের অংশে গিয়া আম্মারে খুইজা বাইর করলাম। আম্মাও এত মানুষের মধ্যে আইসা কেমন জানি থতমত খায়া গেসে। আমারে দেইখা হাসি দিয়া হ্যান্ড শেক করল। তারপর শুরু করল পরিচয় করানি। খুবি বিব্রতকর অবস্থা। ভাবি, এইটা আমার ছেলে। ভাই, এই যে এইটা আমার ছেলে, অফিস থেইকা আসছে। সামনে দিয়া এই বিয়ার ফটোগ্রাফার যাইতাসিল, তারে ডাইকা বল্লো, এই ছেলে এই, এই দেখো এইটা আমার ছেলে। ও ও ফটোগ্রাফার। ছেলে গুলারে চিন্তাম আগে। ওরা তো আরে ইথার ভাইইইইই, এইসব লাগায় দিল। আর আম্মা খুশি তে শেষ।

এদিক সেদিক হুদাই মাইন্সের কনভারসেশন শুনলাম। জীবনেও চিনি না এরম এক আন্টি ডাক দিয়া কইল, আমাদের এক্টা সেল্ফি তুলে দেন তো। সবাই হাসি টাসি দিয়া রেডি। হা কইরা লোডিং…. লোডিং…. লুক দিয়া তাকায় থাকলাম আর আন্টি বিরক্ত হয়া আরেকজন রে বললো সেল্ফি তুইলা দিতে।

একটা সময় ছিল বিয়া তে যাইতে বিরক্ত লাগতো। হাজার দাওয়াত এও জাইতাম না। কি এক্টা বিরক্তিকর জিনিষ। রেডি হউ, যাউ, বোরড হউ। তার পর শুরু করলাম বিয়ার ফটোগ্রাফি। দিন এর পর দিন বিয়া বাড়িতে যাওয়া। তখন কাজ এর মধ্যে থাকতাম তাই কিছু লাগতো না। এখন আবার অই ফেজ টা ফেরত আসছে।

কাজিন রে দেখতে অনেক ভাল্লাগতাসে। বিয়ার খুশি তে ঝলমল করতাসে একদম। ভাবি কে দেখতে উপ্রের তালায় গেলাম। এজ ইউজুয়াল ভজগট লাগাইলাম একটা। কাজিন এর আম্মা পরিচয় করায় দিল, এই যে এইটা ছেলের ভাই। আমি সালাম দিসি আর দেখি উনিও সালাম দিসে। সালামে সালামে সংঘরষ। তারপর আবার দুইজন ই অয়ালাইকুম সালাম ভাব নিয়া মাথা লারাইলাম। আবারো ভঝগট অবস্থা।

হঠাত কইরা মনে হইল টেক্সাস এর এক অজ পাড়া গায়ে দাড়ায়া এক বিয়ার শাড়ি পড়া মহিলার সাথে ডুয়েল লরতাসি। মহিলা স্মার্ট আসে। উনি দ্রুত সাম্লায়া নিলেও আমি গুলি খায়া পালায়া আয়া পরসি।

আমার উপ্রে ভবিষ্যতে “ছোটদের আন সোশালিজম ও সোশাল অকওয়ারডনেস শিক্ষা” টাইপ বই লেখা হবে শিউর।

৫০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১৮, ২০১৫ । ৯.৪৩ পি.এম

আজকে ৫০ তম পোস্ট। যখন শুরু করসিলাম ভাবিও নাই ১০ টা পোস্ট ও লিখতে পারুম। কেমনে কেমনে জানি ৫০ টা লেখা হয়া গেসে। এই ৫০তম লেখাটা তাই লিখতে চাই মুক্তিযুদ্ধ নিয়া। টু বি স্পেসিফিক , মুক্তিযুদ্ধের আগে এই দেশে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়া।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কুনো আতকা ঘটনা না। এমন না যে ১৯৭১ এর ২৫ শে মার্চ এর রাইতে পাকিস্তানি জেনারেল খাদিম হোসেন রাজার মনে হইসিল, নাহ শইল্ডা জুইত লাগতাসে না। ড্রাইভার ! ট্যাংক বাইর কর। গ্যাস ভরা আসে তো? রাজারবাগ পুলিশ লাইন আর ঢাকা ইনুভারসিটি যাবো।

যুদ্ধ যে একটা হবে এইটা বোঝা যাইতাসিল অনেক আগে থেইকা। আর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর লুকজন সেইটার জন্য প্রস্তুতিও নেয়া শুরু করসিল আগেই। এই গল্পটা একটু আগে থেইকা শুরু করি তাইলে বুঝতে সুবিধা হবে।

১৯৬৯ সালের ২৫ শে মার্চ গন অভ্যুথানের মাধ্যমে ফিল্ড মার্শাল আউউব খান কে সরাইয়া দিয়া পাকিস্তান এর কমান্ডার ইন চিফ হিসাবে ক্ষমতায় আসেন জেনারেন ইয়াহিয়া খান। এই সময় গন আন্দোলন দমনে পূর্ব পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর অন্যান্য ইউনিট এর সাথে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর ব্যাটেলিয়ান গুলো কেও (জানা ভাল যে একটা ব্যাটেলিয়ান এ ৩০০ থেকে ৮০০ সৈন্য থাকে।) নিয়োগ দেয়া হয়।

এই দেশে অবাঙ্গালী সৈন্যরা যেমনে জনগণের উপরে ঝাপায়া পরসিল তখন, বাঙ্গালি সৈন্য রা তা করে নাই । তারা ডাইরেক্ট অর্ডার অমান্য কইরা বাঙ্গালিদের উপর গুলি চালানো থেইকা বিরত থাকে। ১৯৬৯ এর বিহারি-বাংগালি দাঙ্গা দমনেও বাঙ্গালী সৈন্যদের নিয়োগ করা হয়। পাকিস্তানি সামরিক লিডার রা তখন রিপোর্ট করে যে এইখানেও সৈন্য রা বাঙ্গালি দের পক্ষ ন্যায়।

এই দুই ঘটনায় আর অসংখ্য গোয়েন্দা রিপোর্ট এর ভিত্তিতে সামরিক নীতিনিরধারক রা বুঝতে পারেন যে গেঞ্জাম যদি একটা লাগে পূর্ব পাকিস্তান এর বাঙ্গালি সৈন্য রা পাকিস্তানি সৈন্য গোরে পিডায়া ফাডায়া লাইবো। তাই এগোরে চোখে চোখে রাখনের ডিসিশান সেই ১৯৬৯ সালেই নেওয়া হয়া যায়।

১৯৬৯ সালে জেনারেল ইয়াহিয়া ক্ষমতায় আসলেন । এই মিচকা চালাক লুক টা ভাবলেন এখন জনগণ যেমনে হট হয়া রইসে তাতে আমিও যদি আইয়ুব খান এর মত ভাব ধরি তৈলে আমারেও লাত্তি মাইরা বাইর কইরা দিবে। তার চেয়ে মহান হউনের ভাব সাব লই। তিনি ২৮শে জুলাই ১৯৬৯ রেডিও তে দেওয়া এক ভাষণে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তে বাঙ্গালি দের বর্তমান সংখ্যা দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিলেন।

তিনি ভাবসিলেন আমরা ব্যাক্কল। তিনি ভাবসিলেন তার ঘোষণায় ওই মাই ঘোট ডাবল অফার ভাইবা বাংলার ঘরে ঘরে তার পোস্টার লাগাইয়া তার সামনে সেলফি তুলা হবে। কিনতু আমরা জানতাম , পাকিস্তান এর মোট জনসংখ্যার অনুপাতে আমরা ছিলাম ৫৬%। যদি ইয়াহিয়া খান এর কথা মত সেনাবাহিনী তে এই দেশের মানুষের পারটিসিপেশন ডাবল ও করা হয় তবুও তা দাঁড়ায় মাত্র ১৫%। ৫৬% এর দেশ থিকা সৈন্য হইব ১৫%। আমরারে কি পাগলে পাইসে যে খুশি হমু?

আমরা খুশি হই নাই। কিন্তু এই সব সৈন্য লারাচারায় সব চেয়ে বেশি ভয় পায় যে কুতুব, সেই আম্রেকিরার মনে হইল, উহু ঘটনার তো সুবিধার লাগতাসে না। ব্যাপারটাতে আমার নাক গলাইয়া দেখতেই হবে। ওই সময় আমেরিকার দূতাবাস এ কোন মিলিটারি এটাশে ছিল না। তারাতারি কইরা তখন কার বাংলাদেশে আমেরিকার কন্সাল জেনারেল আরচার কে ব্লাড এর অনুরোধে ইসলামামাবাদ থিকা বিমান বাহিনীর কর্নেল রবার্ট নোলান কে ঢাকায় পাঠানো হয়।

এই যে কন্সাল জেনারেল, আরচার কে ব্লাড (Archer K. Blood) উনি একটা বই লিখসিলেন পরে। যেইটা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড থেইকা ২০০২ সালে প্রকাশিত হয় ( ইউ পি এর শো রুম আমার সুভাস্তুর বাসার উলটা পাশে :D) । বইটার নাম The Cruel Birth of Bangladesh – Memories of an Americans Diplomat। উনার কাজ কারবার পইড়া আমার মনে হইসে উনি ডেফিনেটলি এক জন প্লেন স্পটার ছিলেন। অথবা প্লেন স্পটিং এর দুর্দান্ত সুবিধা গুলা উনি জানতেন। উনি আমেরিকায় পাকিস্তান এর ট্রুপ মুভমেন্ট এর উপর যেই রিপোর্ট পাঠান সেইখানে লেখা আসে যে এই টার অধিকাংশরই ভিত্তি হইল তেজগাঁও বিমানবন্দরে প্লেন স্পটিং কইরা পাওয়া। প্লেন স্পটার হিসাবে হেবি প্রাউড লাগসে এইটা পড়তে পাইরা 🙂

উনি এই বই তে লিখসেন যে এই সময় ঢাকায় পাকিস্তান এয়ার ফোরস এর একটা ফাইটার স্কোয়াড্রন ছিল। এই স্কোয়াড্রন এ ১৬ টা F-86 বিমান ছিল। (F-86 বিমান এয়ার ফোরস এর জাদুঘরে আসে আই ডি বি এর উলটা পাশে। আমি হাত দিয়া ধইরা দেখসি। )

মনে আসে? আগের একটা লেখায় একটা বিমান ছিনতাই এর কথা লিখসিলাম যেইটার কিনা মুক্তিযুদ্ধের মোড় ঘুরাইতে বিশাল অবদান ছিল? উনি সেইটার কথাও লিখসেন বইটা তে। উনি লিখসেন, বেশির ভাগ ট্রুপ মুভমেন্ট হইতেসিল জাহাজ দিয়া, সমুদ্র পথে। শুধু অফিসার এবং গুরুত্ব পূর্ণ ব্যাক্তিদের আকাশ পথে পাঠানো হইত। করাচী থেইকা চিটাগাং পোর্ট এ জাহাজ আস্তে লাগতো ৭ থেইকা ৮ দিন। উনি আমেরিকায় রিপোর্ট পাঠাইসেন, যদি ভবিষ্যৎ এ বড় ধরনের সৈন্য ট্রান্সফার হয় অথবা ভারি সামরিক যানবাহন পাকিস্তান থেকে এই দেশে পাঠাইতে হয় তাইলে সেইটা সমুদ্র পথেই হবে।

আরচার কে ব্লাড উনার বই তে লিখসেন, লম্বা রুট এর কারনে পাকিস্তান এয়ার ফোরস এবং পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ার লাইন্স (PIA) এর সৈন্য ট্রান্সপোর্ট করতে ব্যাপক অসুবিধা হইতাসিল। ওই যে বিমান ছিনতাই টার কথা বলসিলাম, তার কাড়নে ভারত তো তাদের উপর দিয়া সব সামরিক আর বেসামরিক বিমান চলাচল বন্ধ কইরা দিসিল। তাই পাকিস্তানি সব বিমান রে ঘুইরা আস্তে হইত শ্রীলঙ্কা হয়া। ভারতের উপ্রে দিয়া আইলে তাদের পারি দিতে হইতও মাত্র ১০০০ নটিকাল মাইল। কিন্তু এরুম ঘুরতি পথে আহনের কারণে তাদের পারি দিতে হইত ১২৬০০ নটিকাল মাইল।

এই টা পড়তে পড়তে আমি ভাবলাম আইচ্ছা তাইলে একটু তখনকার পাকিস্তান এয়ার ফোরস এর ট্রান্সপোর্ট প্লেন কয়ডা আসিল একটু দেখা যাক। প্লাস PIA এর তখনকার ফ্লীট টাও। কারণ যদি লাগে পাকিস্তান তার সব ট্রান্সপোর্ট প্লেন আর PIA এর প্লেন লাগায় দিবো এই দেশে সৈন্য পাঠাইতে।

আমি যা তথ্য যোগার করসি তাতে দেখা যায় ১৯৭১ সালে পাকিস্তান এয়ার ফোরস এর ট্রান্সপোর্ট প্লেন হিসাবে C-130B বিমান ছিল ৫ টা, C-130E (C-130B এর এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ ভার্শন ) বিমান ছিল ১টা। C-130 বিমান এর পক্ষে কলম্বো তে রিফুয়েল না কইরা পাকিস্তান থেইকা ঢাকায় আসা পসিবল ছিল না। একটা C130-B /C130-E তে সৈন্য নিতে পারে ৯২ জন।
অন্যদিকে পাকিস্তান যদি PIA এর বিমান দিয়া সৈন্য আননের চিন্তা করে তাইলে তখন PIA এর লঙ রেঞ্জ ফ্লীট এ ছিল সাত টা Boeing 707 আর ৪ টা Boeing 720B বিমান। একটা Boeing 707 এ যাত্রী ন্যায় ২০২ জন আর Boeing 720B তে ১১২ জন।

এখন যদি ক্যালকুলেটর দিয়া হিসাব করি তৈলে দেখা যাইব, পাকিস্তান সব ট্রান্সপোর্ট বিমান আর PIA এর সব লঙ রেঞ্জ বিমান কইরা যদি এই দেশে সৈন্য পাঠাইতে চায় তাইলে ৭৫% বিমান যান্ত্রিক গোলযোগ ছাড়া থাকবো ধইরা নিলেও প্রায় ২০০০ জন সৈন্য পার ট্রিপ এ আসতে পারে। এই সংখ্যা টা পরের ট্রিপ গুলায় কমবে কারণ বিমান এর মেইন্ট্যানেন্স এর ব্যাপার আসে।

আবার ফিরা আসি আরচার কে ব্লাড এর বই তে। উনি ওইখানে লিখসেন যে ফেব্রুয়ারি ১ থেইকা মার্চ এর ৩ পর্যন্ত মোট ১৪ টা জাহাজ ( ১০ টা কারগো জাহাজ, তিনটা কারগো+প্যাসেঞ্জার জাহাজ, একটা প্যাসেঞ্জার জাহাজ) করাচী থেইকা পূর্ব পাকিস্তান এ আসে। এগুলা দিয়া মূলত সৈন্য আর সাঁজোয়া যানবাহন ই আনা হয়।

লেখাটা শেষ করি আরচার কে ব্লাড যে একজন প্লেন স্পটার ছিলেন তার প্রমান দিয়া। নিচের অংশ টা সরাসরি উনার বই থেইকা তুইলা দিলাম,

“Because of all was going on in Dacca , we at the Consulate General were unable to develop much by way of solid information on troop movements by sea to Chittagong. We could, however, vouch for a sudden influx of troops by air through the Dacca Airport. On Severel occasions I personally watched as about one hundred young men debarked from a PIA aircraft. They were dressed identically in short sleeved white shirts and Chino trousers, and after having been lined up, were marched away very smartly. As March wore on, the number of such flights increased markedly.”

৪৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১৭, ২০১৫ । ১১.৩১ পি.এম

চ্যানেল ২৪ এ খবর চোখে পরসিল। রিপোর্টার গেসে বাংলাদেশ জিতসে তাই আপ্নের অনুভুতি কি জান্তে। রিপোরটার খালি বলা শুরু করসে, হ্যা হ্যা আপ্নাকে শুন্তে পাচ্ছি। আর লগে লগে লুকজন বন্যার পানির লাহান আওয়া শুরু করল। আমরা দেখলাম ভিডিওগ্রাফার পিছাইতে পিছাইতে রাস্তায় গেল গা। রিপোরটার এর মাইক উচা হাতটা এক্টু দেখা গেল। তারপর আবার লুকজন কেমেরার সাম্নে ঝাপায় পরলো টাটা দিতে। একজন আবার এক্টা টোকাই রে হাত দিয়া কেমেরার সাম্নে তুইলা ধরল। টোকাই পিচ্চি জিব্বা বাইর কইরা ক্যামেরার লেন্স চাইটা দেওয়ার ট্রাই করল। তারপর স্ক্রিন অন্ধকার। সংবাদ পাঠক ভাইজান কইলেন, দুঃখিত। উনাদের আম্রা হারিয়ে ফেলেছি। বইলা আবার এক্টা মিচকি হাসিও দিলেন।

গুলশান এর নান্দুস এর চিপায় যে Barrista আছে বিকালে আমরা গেসিলাম ওই টায় কফি খাইতে। গিয়া দেখি পরিবার এর পক্ষ থেইকা মেয়ে দেখা দেখি হইতাসে। পোলাটা লজ্জা লজ্জা মুখ কইরা বইসা রইসে আর মেয়েটা কনফিডেন্ট। এক্টু পর শুনলাম একজন বলতাসে, ভাইসাহেব আজকে যদি বাংলাদেশ ৩০০ এর উপ্রে করে তাইলে বিয়া ফাইনাল, যান।

আমরা আরেক্টা ইউকেলেলে কিন্সি আজকে। দুকানের সবাই খেলা দেখতাসিল। আমরা গিয়া ইউকে নামায়া টিউন কইরা বাজায়া যখন বলসি, এইটার দাম কত, তখন দোকান্দার চমকায় বলল, ওহ আপ্নারা কখন আসলেন। আমাদের কম্পলিমেন্টারি পান খাওয়াইসে বাংলাদেশ ফার্স্ট ইনিংসে ৩২৯ করসে তাই। ইউকির দাম ও কমায়া রাখসে।

৪৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১৬, ২০১৫ । ১১.৪০ পি.এম

আমাদের প্রতিবাদ শেখানো হয় না। আমাদের অন্যায় দেখানো হয়, অন্যায় এর শাস্তি দেখানো হয়, শাস্তি পাবার বিচার দেখানো হয় কিন্তু প্রতিবাদ টা আর দেখানো হয় না। একটা ঘটনা যখন ঘটে তখন তার ছবি সহ বর্ণনা ছাপা হয়। অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু প্রতিবাদ এর ব্যাপারটা এক লাইনে শেষ “অমুক ঘটনার প্রতিবাদে এগিয়ে এলে… “ ব্যাস শেষ। এই এগিয়ে আসা টা কেমন? কি বলসিল? কি করসিল? তার কোন ডিটিএইল থাকে না। আমরা তাই ধর্ষণের ডিটেইল জানি, যৌন হয়রানির ডিটেইল জানি কিন্তু একটা প্রতিবাদ যে হইসিল ভিক্টিম বা আসে পাশের এক জন এর থেইকা সেইটার ডিটেইল আর জানি না ।

তাই চোখের সামনে একটা ঘটনা যখন ঘটে আমরা হ্যাং করি। আমরা ওই ওই বইলা নরপশু গুলার উপর ঝাপাইয়া পরি না। আমরা বুঝি না কি করতে হবে। আর ওরা ভাবে আমরা ভয় পাই। আমরা আসলেও ভয় পাই। কি করুম না করুম তারপর কি হইতে কি হবে তা বুঝতে না পারার ভয়। আমাদের যদি এগজাম্পল থাকতো যে অমুক সেম ঘটনায় অমুক এইভাবে আগায় আসছিল তাইলে আমরাও তার মত আগায় আসতাম।

কিন্তু আমরা কি শিখি? আমাদের টিভি, সিনেমা আমাদের কি শেখায়? প্রতিবাদ করতে হইলে নায়ক হইতে হয়। প্রতিবাদ করতে হইলে ইয়া বড় বড় মাসল থাকতে হয়। আর দশটা গুণ্ডা কে এক হাতে উঠাইয়া ফিক্যা মারতে হয়। আর আক্রান্ত হইলে বলতে হয়, ছেড়ে দে শয়তান, তর ঘরে কি মা বোন নাই। সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে গেলে প্রথমে যে মাইর খায় তার কোন কিছু আমরা দেখি নাই। মাইর খাইয়াও যে উইঠা দাঁড়ানো যায় আর তখন যে আরো মানুষ আগায়া আসে তাও আমরা কিছু কিছু শুনসি কিন্তু দেখি নাই কখনো। তাই আমাদের সামনে ইভ টিজিং ঘটলে আমাদের প্রসেসর হ্যাং করে। আমরা প্রসেস করতে করতে ঘটনা শেষ।

আমাদের আম্মারা আমাদের শিখাইসে, বাবা গন্ডগুল এ যাবা না। গন্ডগুল এ যায় খারাপ ছেলে রা। তাই আমরা একটা ছেলে আরেকটা মেয়েরে রাস্তায় টানাটানি করতাসে দেখলে মাথা নিচু কইরা পাশ কাটায়া যাই। না না, ঝামেলায় জড়ানো যাবে না। অদের সমস্যা ওরাই সল্ভ করুক। বোঝার চেষ্টাও করি না, এইটা তার পরিচিত, না ইভ টিজার, না ছিনতাইকারী। আম্মার ভাল ছেলে হয়া আমরা বড় হই। এই ঘটনার প্রতিবাদ করি নাই দেখলে আমার আম্মা খুশি হইত না আমারে ঘিন্না করত ওইটা ভাবার মত টাইম নাই আমাদের।

আমরা ইভ টিজিং শব্দটা ব্যাবহার করি অনেক। শুনলেই মনে হয় দুই টা মেয়ে হাইটা যাইতাসে আর কিছু আশির দশকের রক স্টার মার্কা পোশাক পরা পোলাপান শিষ মারতাসে। আমাদের এইটাই ইভ টিজিং। এইটটুক কি। আর কিছু না। আমার বন্ধুটাই যখন পাশে দিয়া হাইটা যাওয়া মেয়েটারে উপরে নিচে দেখতে দেখতে মনে মনে বিবস্ত্র করে অথবা বাসে পাশের সিট এর লোক টা যখন জানালা দিয়া পাশের রিকশায় যাওয়া মেয়েটার উদ্দেশ্যে কমেন্ট পাস করে, আমাদের তাদের ইভ টিজার মনেই হয় না। কারণ আমাদের তো কেউ শিখায় নাই কোন কোন গুলা ইভ টিজিং, কোন কোণ গুলা যৌন হয়রানী।

এগুলা নিয়া আমরা অনেক ফিস ফাঁস করি। ভদ্র করে করে বলি, গায়ে হাত দিসে। কিন্তু আমার মনে হয় কত রকম ভাবে যে ইভ টিজিং হয় এইটা সরাসরি বলা উচিত। চোর চুরি করলে আমরা তো বলি না, “লোকটা আসলে না জিজ্ঞেস করে জিনিষ নিয়ে গ্যাসে”। তাইলে পুরুষ দের করা নারীর প্রতি চরম অবমাননাকর কাজ গুলাকে একটা সুন্দর শব্দ ইভ টিজিং দিয়া আমরা জেনারেলাইজ করি ক্যান? এইটা নিয়া দরকার হইলে পোলাটার ছবি দিয়া সরাসরি বলা উচিত যে এই হারামজদায় এই এই করসে। তবে অবশ্যই অবশ্যই সব ক্ষেত্রে মেয়েটার নাম পরিচয় ছবি গোপন রাইখা। নাইলে এইটা পর্ণ এর আরেকটা উৎস হয়া যাবে কারো কারো কাছে।

মানুষের প্রতি করা মানুষের এই সব পশুত্ব বন্ধ হইতে হবে। যখন যেখানে পারা যায় প্রতিবাদ করতে হবে। আমরা প্রতিবাদ না করলে ওরা ভয় পাবে না। ওরা ভয় না পাইলে এইটা থামবে না। ওরা ভাবতেই থাকবে ওরা সংখ্যায় অনেক, আর পাবলিক খালি তামশা দেখার জন্যই রাস্তায় নামে। আমাদের রক্ষার জন্য আমাদেরকেই এইটা করতে হবে এই রকম মাইন্ডসেট বানায় ফেলতে হবে। কোন নায়ক ভাই আইসা সব গুণ্ডাকে একলা পিটাবে না। সব গুলা হাত এক লগে হয়া ওদের বাংলা মাইর এর প্রেক্টিকেল ক্লাস নিতে হবে।

৪৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১৫, ২০১৫ । ১০.১৩ পি.এম

মন খারাপের কোন মা বাপ নাই। মন খারাপ একটা এতিম বাবু। মন খারাপ হঠাত কইরা জন্ম ন্যায় আর তারপর তারে কেউ কোলে নিতে চায় না। তাই সে কান্তেই থাকে কান্তেই থাকে। তার মুখে ফিডার গুইজা দেওয়ার ও কেউ নাই, তার সামনে ঝুন ঝুনি নারানির ও কেউ নাই, তারে কান্দে ফালায়া ও ও বইলা ঘুম পারানির ও কেউ নাই।

এক সময় বিরক্ত লাগে। আরে ব্যাডা থামস না। আর কত। কিন্তু হে তবু থামে না। মন খারাপ হইতে থাকলে হইতেই থাকে হইতেই থাকে। মাঝে মাঝে মন খারাপের বাপ বা মা কিছু একটা পাওয়া যায়। বুঝা যায় যে, হ এই কারনে মন খারাপ হইসে। কিন্তু বেশির ভাগ সময় ই ঠিক কখন থেইকা যে মন খারাপ টা শুরু হইল চিন্তা কইরাও পাওয়া যায় না।

হয়তো সারাদিন ভাল খারাপ মিলায় যেম্নে হোক গেসে, নিজেরে সাম্লায়া রাখা গেসে। বাসায় ফিরনের সময় রাস্তা পার হইতাসি। মাঝ রাস্তায় আইসা ওই পাশের গাড়ি আসা আর থামেই না। ব্যাস। গেল মন খারাপ হয়া। আমি জীবনেও পার হইতে পারুম না। সবাই তো পার হয়া গেলো। আমিই ই খালি পারলাম না। আমার লগেই ক্যান এরম হয়। গাড়ি গুলার ক্যান কুনু ফিলিংস নাই। আমারে ক্যান কেউ পার করায়া দিতাসে না। ইতং বিতং ঘ্যান ঘ্যান আর প্যান প্যান। মানে অসহ্য। মন খারাপের গালে একটা চড় দিয়া সব দাত ফালায়া দিয়াও লাভ হয় না। কেলাইতে কেলাইতে আবার ফিরা আসে।

মন খারাপ হইলে প্রথমেই এটাক করে সেলফ পিটিনেস। আমি কত অসহায়। আমি কত মাসুম, কত ইনোছেন্ট, আমার কি দোষ, আমি ক্যাম্নে বুঝুম এক্সপেক্টেশন এত বেশি ছিল, আমি না হয় নাবুঝ কিন্তু সে ক্যান অবুঝ। এই সব মনে হয়া হয়া অবস্থা আরো খারাপ কইরা দ্যায়। মানে মন ই মন রে আরো খারাপ করে। আমি না।

মন খারাপ হইলে আমি পুরাই হ্যাং করি। আমার শরীর এর কিছু কিছু প্রসেস ও হ্যাং করে। যেমন খিদা লাগে না। ঘুম এর কুন অসুবিধা নাই কিন্তু খিদা লাগে না। বা লাগ্লেও আমার লগে এরুম হইল ক্যান, খামুই না যাহ ভাইবা বুঝ দিতে পারি। ঘুম এর কুন অসুবিধা হয় না। চোখ বন্ধ করলেই ঘুম।

ঠিক হয়ার জন্য আমি অপেক্ষা করি। আমার মনে হয় কিছু একটা হবে আর আমার মন ভাল হয়া যাবে। এই কিছু টা অনেক ছোট কিছু। হয়তো প্রথম চেশটা তেই রিক্সা পায়া যাওয়া বা অফিসের সাম্নের রাস্তার সাদা কুকুর টার মাথায় হাত বুলায় দিতেই ওর লেজ নারানো। ওর বিস্কুট খুব পছন্দ। রুটি খায় না। রুটি দিলে মুখে কইরা ওর গারলফ্রেন্ড এর জন্য নিয়া যায়।

যেহেতু মন খারাপ হইলে আমি হ্যাং করি তাই আমার জন্য কারো মন খারাপ হইলেও আমি হ্যাং করি। আমি জানি না কিভাবে মন ভাল করতে হয়। আমার আহারে বইলা মাথায় হাত বুলাইতে ইচ্ছা করে। কিন্তু তাতে যদি আবার কিছু মনে করে। তাইলে কি সরি সরি বলতে বলতে মাটিতে গড়ায় গড়ায় ওলট পালট খামু? তাইলে আবার পাগল ভাইব্বা উলটা দিকে দৌড় দিতে পারে।

আমি তাই পারি খালি ডাইভারশন ক্রিয়েট করতে। হুদাই অন্য কিছু লয়া আলাপ শুরু করতে। হয়তো প্রেম ভালবাসা নিয়া কারো মন খারাপ, আমি তখন বিটিভি টাইপ ঈদগড়ে শশা ও বেগুনের বাম্পার ফলন নিয়া আলাপ করলাম। কেউ হয়তো অফিস টফিস লয়া হতাশ তারে জিগাইলাম, ভাই নোরা জোন্স এর গান আপ্নের কেরুম লাগে? এ ছাড়া আর কিছু পারি না।

অনেক সময় লুকজন মন খারাপ এর কারন কইতেও চায় না। খালি কয় হমমমম, আচ্ছা, এম্নেই, ইচ্ছা করতাসে না ইত্যাদি। তখনা আরো বিপদে পরি । ক্যামনে কি করতাম? আইচ্চা থাক, বইলেন না? অনেকে আবার আশা করে আমি চাপা চাপি করুম জানার জন্য, তাইলেই কয়া দিব। আমি এইডা বুঝলে চাপা চাপি করি বলার জন্য। কিন্তু বেশির ভাগ সময় ই আমার বুদ্ধি সুদ্ধি অইত্যাধিক কম হওয়ার কারনে আমি কয়েক বছর পরে গিয়া বুঝি যে অ অ , অয় আসলে চাইতাসিল আমি অমুকটা করি। এরুম প্রায় ই হয়। আই সাক এট মানুষের মন ভাল কইরা দেওয়া।

মন খারাপ এর সময় আমার ক্ষেত্রে দুইটা জিনিস খালি কাজ করে। এক, আমি নিজেরে বিজি কইরা ফালাই। যাতে মন খারাপ এর মুম্বাতি জলতে জলতে এক সময় নিভ্যা যায় অটো।

আর দুই, ইন্সপাইরেশন খুঁজি। যেইখানে যেইখানে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে সব খানে। বই এর ভিতর, ইন্টারনেট এ, গান এর ভিতর, পেইন্টিং এ এরম আরো জায়গায়। একটা না একটা জায়গায় কিছু একটা ক্লিক করেই। আর আমি ওইখানেই দাঁড়ায় যাই। কিছুক্ষণ খেলি ওইটাকে নিয়া মাথার ভিতর। তারপর আমি ইন্সপাইরেশন টাকে এক্সপ্রেস করি। সেইটা লেখা হইতে পারে, ছবি হইতে পারে, কাগজে দাগাদাগি হইতে পারে, একটা স্ট্যাটাস ও হইতে পারে, এনিথিং।

পয়েন্ট টা হইল ইন্সপাইরেশন টা আমাকে ঠেইলা একটা কিছু সৃষ্টি করার ঠিক আগের জায়গাটায় নিয়া যায়। এই খানে আমি কিছু সৃষ্টি করতে পারি, অথবা পিছায় “থাক কি দরকার” ভাইবা চইলা আস্তে পারি। কিন্তু আই অলওয়েজ গো ফর দি ফার্স্ট ওয়ান। কারন আমার মনে হয় কিছু একটা সৃষ্টি করার ইচ্ছা মানেই একটা এক্সাইটমেন্ট তৈরি হওয়া। আর যেখানে উত্তেজনা, সেখানে মন খারাপ থাকে না, কখনোই থাকতে পারে না।

৪৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১৪, ২০১৫ । ৮.৩৯ পি.এম

শেষ হইল। কারো পহেলা বৈশাখ, কারো ১লা বৈশাখ। তবু আসা করতাসি দুই দল এরই দিন শেষে মাথার উপর ছাদ আছে, পেটে ভরপেট খাবার আছে, নিউজফিড ভরতি লুকজন এর ছবি আছে।

আমি সারাদিন বাসাবো বাসায় খাটের এক কুনায় বালিশ দিয়া এক্টা পাহাড় বানায়া পাহাড়ে হেলান দিয়া ছিলাম। ফেসবুক নামের জানালা টায় উকি দিসি। লোকজন দেখসি। বেড়াইতে বাইর হইসে, ঘুম থেইকা উঠসে, কুন্টা আসল নববর্ষ জানানোর সময় তা নিয়া গিয়ান বিতরন করতাসে, কষ্টের স্টেটাস, আনন্দের স্ট্যাটাস।

আমার যেই বন্ধুর প্ল্যান কেন্সেল হইসে বইলা মন খারাপ ছিল তাদের দেখলাম দুপুরের পর আবার ঠিক ঠাক হয়া গেল, ওরা এখন লজ্জা লজ্জা মুখে ঘুরাঘুরি করতে বাইর হইসে সন্ধ্যাবেলা।

আমি মুক্তিযুদ্ধ নিয়া পড়া শুরু করসি। সারাদিন অইটাই পড়সি। আমাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ ব্যাপারটা কচলাইতে কচলাইতে এত বোরিং বানায় ফেলা হইসে। আমরা সবাই মোটামুটি জানি মুক্তিযুদ্ধে কি হইসিল। কিন্তু এর আগে এবং পরে যে কত এক্সাইটিং সব ডিটেইল আছে, অগুলা আমাদের জানানোই হয় নাই।

আমি মাত্র ৩য় অধ্যায়ে আসি বইটার (বিহঙ্গের ডানা-মুক্তিযুদ্ধে বিমান বাহিনীর ইতিহাস) কিন্তু তাতেই এক্টু পর পর রক্ত গরম হয়া যাইতাসে। আমি জানতাম না ৭ই মার্চ এর ভাষনে বার বার আলোচিত লাইন গুলা ছাড়াও আরো অনেক এক্সাইটিং লাইন আছে, যেমন বংগবন্ধু পাকিস্তানী শাসক দের নীতি নিয়া বলসেন, “আমরা গুলি খাই, দোষ আমাদের, আমরা বুলেট খাই, দোষ আমাদের”

আমি জানতাম না ১৯৭১ এর ১৪ই মার্চ শেখ মুজিব দেশের শাষন ভার নিজ হাতে তুইলা ন্যান। বহুত হইসে, পাকিস্তান মুরি খাউ, আমাদের দেশ আমরাই চালাবো এই এটিচিউড নিয়া উনি ৩৫ টা স্পেসিফিক নির্দেশ দ্যান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি করবে, ব্যাংক কি করবে, বন্দর কি করবে, পুলিশ রা কি করবে, এইরকম ৩৫ টা আদেশ। বংগবন্ধু কে এগুলা প্রনয়োন করে দেন তাজউদ্দিন আহমেদ। আর এইটা নিয়া কোন আজাইরা ফাপর কেউ ন্যায় নাই। সবাই এক হয়া মাইনা নিসিলেন।

আমি জানতাম না, তখন বলা হইসিল পাকিস্তান সরকার কে আমরা কোন ট্যাক্স দিব না। দেশ এর এক টাকাও আর পাকিস্তান এ যাবে না। এমন কি বিদেশি প্রতিষ্ঠান গুলাকে বলা হইসিল, সরি, ইউ আরন্ড ইট হেয়ার, ইউ উইল স্পেন্ড ইট হেয়ার। ( এই বাক্যটা আমি বানায় লিখসি, আসলে বলা হইসিল, বিদেশি প্রতিষ্ঠান এর আয়কৃত অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হবে)

যদি সুযোগ থাকতো আমি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে এক্টা মাস্টার্স কোর্স এ ভর্তি হয়া যাইতাম। কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়া কোন সাব্জেক্ট ই নাই কোথাউ।

পুরা ইতিহাস টাকে গেম এর মত লেভেল এ ভাগ কইরা ফালানো যাইতো। প্রত্যেক লেভেল এর পর এক্টা পরীক্ষা আর পাস করলে পরের লেভেল এ পড়ার সুযোগ।

আর এইটা অবশ্যই একাডেমিক শিক্ষার বাইরে থাকবে। যার ইচ্ছা হবে পড়বে, ইচ্ছা না হইলেও ব্যাপার না। কিন্তু পাশের বন্ধু যখন মুক্তিযুদ্ধ লেভেল টেন কোয়ালিফাইড ব্যাজ লাগায় ঘুরবে তখন নিজেই গিয়া চুপি চুপি ভর্তি হয়া আসবে।