৪৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১৩, ২০১৫ । ১১.২৪ পি.এম

মোবাইল দিয়া লিখতাসি তাই ভং চং কথা বার্তা কম। আমি বাসাবো আসছি। নববর্ষ আমার মনে খুব বেশি “ইয়েই আনন্দ” টাইপ কিসু দিতাসে না। গ্রাম্পি ক্যাট এর মত মুখ কইরা ঘুইরা বেড়াইতাসি। অন্যের আনন্দ দেইখা ভাল লাগানোর ট্রাই করতাসি। কিন্তু সুবিধা হইতাসে না।

এই সব উৎসব মানুষের মনে অনেক এক্সট্রা প্রেসার ক্রিয়েট করে। খুশি থাকতে হবেই, মজা করতে হবেই। আমার খুব কাছের দুইটা মানুষের কাল্কের প্ল্যান কেন্সেল হইসে। ওদের মন টন খারাপ। কিন্তু আরো বেশি খারাপ লাগতাসে কারন ওরা ভাবতাসে, সবাই কত মজা করবে, আর আমি…

এই সব মন খারাপ দের পক্ষে আমি। ভাইয়েরা আমার, বইনেরা তোমার, কালকে সবাই ভাল থাকবে না। যে এই বছর ভাল আছে সে হয়তো গত পহেলা বৈশাখ এ বালিশে মাথা গুইজা ছিল সারাদিন। যে আজকে পাঞ্জাবি পইড়া লজ্জা লজ্জা মুখে প্রিয় মানুষ টার সাথে দেখা করতে যাইতাসে সে হয়তো গত মাসেও আকাশের দিকে তাকায় ভাবসে আল্লাহ, আর কত?

সবাই ভাল থাকে কিন্তু একি সময়ে না। আগে পিছে হয়। আমার কাছে মনে হয় সুখ ব্যাপারটা ফিজিক্স এর এন্ট্রপির মত। পুরা পৃথিবীতে সুখের পরিমান আসলে লিমিটেড। সবাইরে একি সময় এ সুখি করার মত সুখ পৃথিবীতে নাই। কেউ কম থাকে, কেউ বেশি থাকে কিন্তু টোটাল এমাউন্ট অফ সুখ একই থাকে। কনস্টেন্ট এন্ট্রপি।

এক্টা গফ কই। আমার এক দোস্ত এক কম্পানির ইন্টারনাল কমিউনিকেশন এর অফিসার। হে গতকাল জিগাইতাসিল, দোস্ত, এম্পলয়িদের নববর্ষ এর উপহার কি দেওয়া যায়? আমি অনেক অপশন কইলাম, পাঞ্জাবি, শাড়ি, মিষ্টি, পিঠা, হাবি, জাবি, ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু হালার কিছুই বাল্লাগে না। কয় যে, দোস্ত এডি আগের অরা কইরা গেছে, নতুন কিছু ক, ক্রিয়েটিভ কিছু, যাতে বস খুশি হয়া যায়।

আমি অনেক চিন্তা কইরা কইলাম, এক কাম কর। সবাইরে তোগো কম্পানির ছাপ অলা পায়জামা বানায় দে। তয় পশ্চাত দেশের এক পাশে লেখা থাকব,

ঝড় আইসে হে হে,

আরেক পাশে লেখা থাকবো

শুভ নববর্ষ।

কাল বৈশাখি আইবো, পাঞ্জাবির পিছন্টা পত পত কইরা উড়বো আর গুরুত্তপুর্ন মেসেজ দেহা যাইব। ওই বন্ধু মেসেজ সিন কইরা আর কথা কয় নাই। ভিম্রি খায়া রইসে মুনে লয়।

আগামি কাল এর নববর্ষ ১৪২২ এর শুভেচ্ছা।

৪৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১২, ২০১৫ । ১১.৪২ পি.এম

আবার জয়নুল চর্চায় ফেরা যাক। আগের লেখায় লিখসিলাম জয়নুল আবেদিন এর কলকাতা আর্ট কলেজে পড়ার সময়কাল এর কথা। পাশ করার আগেই উনি আর্ট কলেজে শিক্ষক হিসাবে জয়েন করার অফার পাইসিলেন। তাই পাশ করার পর পরি উনি কলকাতা আর্ট কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন।

শিক্ষক অবস্থায় উনার পার করতে হয় উনার শিল্পী জীবনের সবচেয়ে গুরুত্তপুর্ণ সময় এর। দুর্ভিক্ষের সময় টা। তার আগে মনে হয় বইলা নেওয়া ভাল দুর্ভিক্ষ টা ক্যান হইসিল। নাইলে মনে হবে উঠতি ফটোগ্রাফার দের মত উনি কিছু গরীব লোকের ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট ফটো তুইলা আইনা হিট হয়া গেসেন।

১৯৩৯ সাল। ২য় বিশ্ব যুদ্ধের শুরুর সাল। আস্তে আস্তে সব দেশ ই কোন না কোন ভাবে জড়ায় পরতাসিল যুদ্ধে। ভারত তখন ব্রিটিশ কলোনি। তাই মিত্র বাহিনী ই বলা যায় ভারত কে। জাপানিরা যখন বার্মা তেও বোমা ফালাইল তখন ইংরেজ সরকার ভাবলো কাম সারসে, শত্রু তো এক্কেরে উঠানে আয়া পরসে। ইংরেজ সরকার ভাবলো এর পর নিশ্চই জাপানিরা চিটাগাং এর দিক থেইকা অথবা পূর্ব মানে সিলেটের দিক থেইকা আক্রমন চালাবে বাংলায় তথা ভারতবর্ষে।

ইংরেজ বেকুব গুলা করলো কি বাংলা প্রদেশ অর্থাৎ পশ্চিম বাংলা আর বাংলাদেশর সব খাদ্য গুদাম থেইকা খাদ্য শস্য প্রায় সব ট্রান্সফার কইরা দিল ভারতের উত্তরপ্রদেশে। কিন্তু পাঠাইসে ঠিকইকিন্তু এগুলা মেইন্টেনেন্স এর কোন ব্যাবস্থা করে নাই। কিপটামি কইরা ফিরিজে থয় নাই আরকি। তাই যা হোয়ার হইল। সব খাদ্য শস্য গেল নষ্ট হয়া। জিনিষ পত্রের অপ্রাপ্যতার সুযোগে দাম বাইড়া গেল অনেক। যারা এক্টূ সচ্ছল ছিল তারা এক বেলা আধাবেলা খাইতে লাগলো যাতে বেশি খরচ না হয়।

ঝামেলায় পড়ল গরীব রা। দেশে কাজ নাই। ঘরে খাবার নাই। যাদের খাবার আছে তাদের নিজেদেরি হয় না, অন্যরে দিবে কি। একটু ভাত এর ফ্যান এর জন্য কারাকারি পইড়া যাইতে লাগলো। ডাস্টবিল এ কুকুর মানুষ আর কাক উচ্ছিষ্ট খাবার এর জন্য কারাকারি করা শুরু হইল। রাস্তায় পইড়া থাকতে লাগলো কংকাল সার মানুষের অভুক্ত দেহ। শুরু হইল বাংলা ১৩৫০ এর দুর্ভিক্ষ।

এক্টা ইস্যু ঘটলে আমরা যেমন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়া আমি আর কি বা করতে পারি, অনেক কিছু কইরা লাইসি ভাবি, তেমন শিক্ষক জয়নুল আবেদিন এর এই সুযোগ তখন ছিল না। অবশ্য থাকলেও ফিলিং ছেড, ওয়াচিং পুর পিপল টাইপ ফাইজলামি করত কিনা সন্দেহ আসে।

উনি তাই করলেন যা একজন প্রকৃত শিল্পী মাত্রই করবেন। উনি ভাব্লেন আমি তো দুর্ভিক্ষ দূর করতে পারবো না। কিন্তু যারা পারবে তাদের মনে নাড়া দিতে পারবো এই সমস্যা সল্ভ করার জন্য। তিনি একজন আর্ট কলেজের শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও রাত, দিন, দুপুর ক্লান্তিহীন ঘুরে বেরাতে লাগলেন আর ক্ষুধার্ত মানুষের ছবি আঁকা শুরু করলেন। এভাবে তিনি প্রায় কয়েকশ স্কেচ করেন। আমাদের একটা ভুল ধারনা যে আমরা জয়নুল আবেদিন এর আঁকা দুর্ভিক্ষের যেই ছবি গুলা দেখি সেগুলাই এই স্কেচ । কিন্তু তা আসলে না। সারাদিন স্কেচ করার পর উনি ১৪ নম্বর, সারকাস রোড এর বাসায় ফিরা গিয়া স্কেচ গুলোকে ড্রয়িং এ কনভার্ট করতে বসতেন।

জয়নুল ছবি গুলা আকসিলেন বাদামী রঙ এর মোটা মোড়কের কাগজে। কালো কালি দিয়ে একটু মোটা রেখায় ড্রয়িং করা। তুলি হিসাবে ব্যাবহার করেছেন তেল রঙ এর চ্যাপ্টা তুলি।

জয়নুল আবেদিন এর এই ছবি গুলা নিয়া প্রথম ১৯৪৪ সালে ভারতীয় কম্যুনিস্ট পার্টির উদ্যোগে কলকাতা কলেজ স্ট্রিট মার্কেটে প্রদর্শনী হয়। প্রদর্শনীর নাম ছিল “দুর্ভিক্ষ ১৩৫০”

মুটা মুটা শিল্প রসিক, শিল্প বোদ্ধা এমন কি আমার মত হাভাইত্যা দর্শক ও এই ছবিগুলা দেইখা প্রচন্ড বিষ্মিত ও বিমোহিত হন। সিমপ্লিসিটির জন্য এত সাধারন রেখা দিয়াও যে এত ইমোশনাল কাজ করা যায় তা জয়নুল সবাইকে দেখায় দিলেন। এই প্রদর্শনী এত বিখ্যাত হয় যে কলকাতা ছড়ায়ে এই একই প্রদর্শনী আবার দিল্লি তেও করতে হয়। সেইখান থেইকা ছড়ায়া পরে সারা বিশ্ব। এই দেশের মানুষ দের প্রতি ইংরেজ শাসক দের চরম অবহেলার প্রতিক হয়া থাক্লো এক একটা ছবি।

এই প্রদরশনীর সাফল্যে জয়নুল আবেদিন ছাত্র শিক্ষক সবার কাছে প্রিয় পাত্র হয়া উঠেন। কলকাতা কেন্দ্রিক বুদ্ধিজিবি সমাজেও জয়নুল আবেদিন এর হেভি পপুলারিটি দেখা যায় এই সময়।

২য় বিশ্ব যুদ্ধ শেষ হয় ১৯৪৫ সালে। ১৯৪৬ সালে জয়নুল আবেদিন বিয়ে করেন মিরপুরের জনাব তৈয়ব ইদ্দিন এর কন্যা জাহানারা বেগম কে। তারপর কলকাতার ১৪ সার্কাস রোড এর একলা থাকার এক কাম্রার বাসা টা ছাইরা দিয়া নতুন বাসা ভাড়া নিলেন ঢাকার লেক সার্কাস এ।

৪৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১১, ২০১৫ । ১১.৪৮ পি.এম

আজ জয়নুল চর্চা এক্টু অফ থাক। আজকে রাশার বাসায় আছি। বেচারার মন মেজাজ খারাপ। অনেক হাইপার হয়া আসে। অরে ঠান্ডা করার চেষ্টায় আসি।

অয় ত ব্লুজ গিটারিস্ট, তাই অয় এখন বাজায় আর আমি মাথা লারাই।

ব্লুজ জিনিশ টা অনেক ভাল্লাগে। আফ্রিকান কৃতদাস যারা আমেরিকার মিসিসিপি নিউ অরলিন্স এর তুলার বাগানে কাজ করত তাদের থেইকা উইঠা আসছে এই ব্লুজ। তারা ত বিদ্রোহ করতে পারতোনা, তাই ইমশোন চেনেলাইজ করার মাধ্যম ছিল ব্লুজ।

সেই হিসাবে এইটারে ফোক মিউজিক ও বলা যায়। এখন যেমন এলিট লুকজন পয়সা দিয়া ব্লুজ নাইট এ গিয়া প্রগতিশীল ভাব ন্যায়, তখন আমার কাসে অনেক হাস্যকর লাগে। ব্লুজ অয়াজ নেভার মেন্ট ফর দা এলিটস। গন মানুষের কষ্টের গান ছিল ব্লুজ।

ব্লুজ এর সাথে গসপেল মিউজিক এরো একটা বড় যোগাযোগ আছে। কারণ আমরা কষ্টে থাক্লেই সবচেয়ে বেশী ঈশ্বর কে স্মরণ করি।

একটা সময় ছিল যখন আমেরিকাতেও ব্লুজ এত টা রিকগনাইজড ছিল না। মাডি ওয়াটার্স, এলবারট কিং রা আমেরিকা থিকা ইংল্যান্ড গিয়া ইংল্যান্ড এর আন্ডারগ্রাউন্ড সিন এ ব্যাপক হিট খায়। পরে ইংল্যান্ড এর মেইনস্ট্রিম ও সাদরে গ্রহন করে ব্লুজ কে। ততদিন এ আমেরিকার মেইনস্ট্রিম প্রডিউসার, রেকর্ড লেবেল বুঝতে পারে এইটার চাহিদা আছে আর শুরু হয় ব্লুজ এর অগ্রযাত্রা।

তথ্য সুত্র: মহান রাশারে ডাইভারট করার উদ্দ্যেশ্যে বুলুজ বিষয়ক আড্ডা

৪২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১০, ২০১৫ । ১১.৫৬ পি.এম

জয়নুল আবেদিন কে নিয়ে মুগ্ধতা আমার অনেক বেশি। আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় আমার সবচেয়ে প্রিয় আর্টিস্ট কে। আমি বলব জয়নুল আবেদিন, তারপর সালভাদর ডালি আর তারপর ভ্যান গগ। আপাতত জয়নুল এ ডুবে আছি। তারপর ওই দুইজন কে নিয়াও লেখার ইচ্ছা রাখি।

আমার মনে হয় তথ্য সুত্র গুলা এইখানে লেইখা রাখা ভাল। আমার জয়নুল আবেদিন কে নিয়া লেখার মূল তথ্য সুত্র আরেকজন প্রিয় শিল্পি হাশেম খান এর একটা বই। নাম “জয়নুল আবেদিন এর সারা জীবন”। প্রকাশিত হইসে সময় প্রকাশনী থেইকা। তারপর এর উৎস বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত “Great Masters of Bangladesh: Zainul Abedin”. এই ২য় বইটা মুলত ছবি দিয়া ভরপুর একটা বই। সাল অনুসারে ভাগ করা, জয়নুল আবেদিন এর সব ছবি দেখা যাবে বইটাতে। দুর্দান্ত বই একটা। তারপর এর তথ্য সুত্র ইণ্টারনেট। সন তারিখ আর নাম গুলা উইকি পেডিয়া থেকে মিলায় নিসি মাঝে মাঝেই।

এইবার লেখায় ফেরত আসি। গত দুই পর্বে লিখসিলাম, জয়নুল এর শৈশব আর কৈশোর নিয়া। এইবার তার কলকাতা আর্ট কলেজে পড়ার সময়কার কথা লেখার চেষ্টা করি।

কলকাতা আর্ট কলেজে জয়নুল আবেদিন এর পড়া লেখা শুরু হয় ১৯৩৩ সালে। সেই সময় একটা মুসলমান ছেলের আর্ট স্কুলে পড়া টা একটা বিশাল ব্যাপার ছিল। সবার একটা ধারনা ছিল, আর্ট, চিত্রকলা এই সব হিন্দুয়ানি ব্যাপার। জয়নুল আবেদিন এর আগে মাত্র একজন মুসলমান ছাত্র পাস করসিলেন আর্ট কলেজ থেইকা। উনার নাম আব্দুল মঈন।

জয়নুল আবেদিন আর্ট কলেজে কিছুদিন এর মধ্যেই “স্টার স্টুডেন্ট” হয়া গেসিলেন। এত ভাল আঁকতেন যে ছাত্র শিক্ষক সবার মধ্যেই তার নাম ছড়ায়া গেসিল। আমার মনে হয় এইটা খুব দরকার। তিনি শুধু নিজের ট্যেলেন্ট নিয়াই পইড়া থাকতেন তা না, অনেক কে ইন্সপায়ার করতেন আর্ট কলেজে পড়ার জন্য। তার দেখা দেখি আরো কয়েকজন মুসলমান ছাত্র কলকাতা আর্ট কলেজে ভর্তি হন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন শফিকুল আমীন, আনোয়ারুল হক, শফিউদ্দিন আহমেদ, কামরুল হাসান, হবিবর রহমান প্রমুখ। এই নাম গুলা এই জন্যু উল্লেখ করলাম কারন পরে যখন বাংলাদেশ চারুকলা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার গল্প বলব, তখন এই নাম গুলা কিছু কিছু আবার আসবে।

জয়নুল আবেদিন এত প্যাশনেট ছিলেন আঁকা আঁকির ব্যাপারে যে ক্লাস এর পর তিনি কাগজ, তুলি, কলম নিয়ে কলেজের আশে পাশে চইলা যাইতেন। আর কাগজের পর কাগজ ভইরা আইকা নিয়া আসতেন মানুষের ছবি, প্রকৃতির ছবি। তার এই প্যাশন কে অনেক পছন্দ করতেন শিক্ষক রা। সবাইরে বলতেন জয়নুল এর মত হউ। জয়নুল আবেদিন এর শিক্ষক, কলকাতা আর্ট কলেজের বসন্ত গাঙ্গুলি বলেছেন, তার অভিজ্ঞতায় জয়নুল এর মত সেরা ছাত্র আর্ট স্কুলে আর আসে নি।

এখন যেমন ফটোগ্রাফার রা দল বাইন্ধা ফটো ওয়াক, ফটো সাফারি তে যায় সেরকম জয়নুল আবেদিনও একা একা চলে যেতেন বিভিন্ন জায়গায়। তার প্রিয় জায়গা গুলোর মধ্যে ছিল কোল্কাতার বাইরে সাওতাল পরগনার দুমকা আর বাংলাদেশে ময়মনসিংহ এর পাশে ব্রহ্মপুত্র আর ময়ুরাক্ষি নদীর পার ( নদীর নাম টা কি সুন্দর, ময়ুরাক্ষী)।

জয়নুল আবেদিন এর শিক্ষা টা আস্তো ক্লাস রুম থেকে নয়, সরাসরি প্রকৃতি থেইকা আর এই দেশ এর সহজ সরল মানূষ গুলার থেইকা। একটা ঘটনা বলি, একবার তিনি ব্রহ্মপুত্র এর তীরে পানির ছবি আকছেন, এক মাঝি আইসা বলল, “এখান কার পানি আর কি নীল, চলেন আপনাকে দেখাই নীল পানি কারে বলে”। মাঝির সাথে তিনি গেলেন নদীর আরো গভিরে। বিমোহিত হয়ে দেখলেন আকাশ আর নদীর নীল। তিনি যখন ভাবছিলেন এরকম নীল ও কি আঁকা সম্ভব, তখন মাঝি বলল, “কর্তা, আপনার ছবি আঁকার রঙ দিয়া এই নীল হইব না, দোয়াতের কালি ঢাইল্লা দ্যান” । চমকালেন জয়নুল। আসলেই তো। দোয়াতের কালী দিয়েও তো এই নীল আনা যায়। এরকম অনেক টেকনিক উনি উনার আকায় উঠায় নিয়া আসছেন একদম সাধারন মানুষদের কাছে থেকে শুনে।

অনেকেই হয়তো জানেনা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন কিছুদিন কার্টুনিস্ট হিসাবেও কাজ করেছেন। কলকাতা আর্ট কলেজে পড়ার সময় তার বাসা থেকে যে খরচ আসতো, তাতে তার আর্ট সাপ্লাই এর খরচ চালানো কঠিন হয়া যাইতো। তাই তিনি “হানাফি” নামক পত্রিকায় যান কাজ এর জন্য। “হানাফি” এর সম্পাদক ইস্কান্দার গজনবী তাকে “হানাফি”র জন্য কার্টুন আঁকতে বলেন। জয়নুল কার্টুন আকেন তৎকালীন সমাজের অনাচার, রাজনীতি আর সাধারন মানুষের কষ্ট নিয়ে। তার কার্টুন এর নিচে নাম এর বদলে লিখে দিতেন আরবিতে “জিম”। অর্থাৎ জয়নুল।

কলকাতা আর্ট কলেজে জয়নুল আবেদিন এর রিপোর্ট কার্ড দিয়ে আজকের লেখা শেষ করি।

প্রথম বর্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষঃ প্রথম স্থান
দ্বিতীয় বর্ষ থেকে তৃতীয় বর্ষঃ প্রথম স্থান
তৃতীয় থেকে চতুর্থ বর্ষঃ প্রথম স্থান
চতুর্থ থেকে পঞ্চম বর্ষঃ প্রথম স্থান
পঞ্চম বর্ষঃ প্রথম স্থান এবং “গভরনরস গোল্ড মেডেল” (অল ইন্ডিয়া আর্ট কম্পিটিশন এ)

৪১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৯, ২০১৫ । ১১.৩১ পি.এম

আমি একটা ইউকেলেলে কিনসি আর পাগল হয়া গেসি। রাইত দিন খালি বাজাইতে মুঞ্চায়। আইজকা অপিশ থিকা ৫ টায় বাইর হয়া বাসায় আইশা পরসি। বাসাবো ও যাই নাই। যাতে শুধু ইউকেলেলে বাজাইতে পারি। মাত্র ৫ টা কর্ড শিখসি আর ১ টা গান। লেনারড কোহেন এর হালেলুইয়া। তাতেই এমন আনন্দ হইতাসে। যখন আরো কর্ড আর আরো গান বাজাইতে পারুম তখন কি যে মজা হইবো ভাবতেই তো দম বন্ধ লাগতাসে।

যাউকগা। কালকে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন এর ছোট বেলা নিয়া লিখসিলাম। আজকে একটু উনার ইস্কুল থিকা আর্ট কলেজ পর্যন্ত গল্পটা লেখার ট্রাই করি।

টুনুর পালায় কোলকাতা চইলা যাওয়ার পর সবাই মোটামুটি বুইঝা ফালাইসিল যে এই ছেলে ছবি আঁকার জন্য পাগল। আর আঁকেও খুব ভাল। তাই সবাই বেশ নিরব সমর্থন জানাইসিল টুনুর এই ছবি আঁকার নেশা কে। এর মধ্যে ইস্কুল এ ঘটলো এক ঘটনা।

টুনুদের চলছিল ইংরেজি ক্লাস। ক্লাস নিচ্ছেন স্কুল এর হেডমাস্টার চিন্তাহরণ মজুমদার। খুব কড়া শিক্ষক। পড়ানোর সময় স্যার খেয়াল করলেন টুনু ক্লাসে মনোযোগ না দিয়া ইংরেজি বই এ ছবি আক্তাসে। ক্লাস এর সময় স্যার কিছু বলেন নাই। কিন্তু ক্লাস এর পরে স্যার টুনু কে ডাইকা বইটা চাইলেন এবং সাথে নিয়া চইলা গেলেন। বইলা গেলেন বই কালকে ফেরত দেওয়া হবে।

টুনুর তো ভয়ে আধমরা অবস্থা। একে তো ক্লাস এ ফাকিবাজী তার উপর স্বয়ং হেডমাস্টার এর কাছে ধরা খাইসে। এইবার তো শিওর স্কুল থেইকা বাইর কইরা দিবে। পরের দিন ক্লাসেই গেল না টুনু ভয়ে। তার পরের দিন ও না। এইভাবে সাত দিন চইলা গেল।

এদিকে হেডমাস্টার চিন্তাহরণ মজুমদার টুনুর ইংরেজি বইটা দেইখা চরম চমকাইলেন। বই এর কবিতা গুলার পাশে টুনু একদম মিলায় মিলায় ছবি আকসে। সেই ছবি দেইখা মুগ্ধ হলেন রাগী এই শিক্ষক। আমাদের আইডিয়াল স্কুল হইলে, ছবি আকস? শিল্পি হবি? হারাম কাজ করস? বইলা পিডায়া ফাডায়া লাইত। কিন্তু আল্লাহ বাচাইসে জয়নুল আবেদিন আইডিয়াল স্কুল এ পড়েন নাই। তাই হেডমাস্টার পরের দিন ই টুনুর খোজ এ গেলেন।

কিন্তু টুনু তো ভয়ে স্কুল এই আসে না। শেষে হেডমাস্টার স্কুল এর পরে টুনুদের বাসায় গেলেন। টুনুর বাবাকে বলে আসলেন “ওকে আঁকতে উৎসাহ দিন। আর্ট স্কুলে ছবি আঁকা শিখতে পারলে ভবিষ্যতে নামী দামী শিল্পী হবে বলে আমি মনে করি।“ কেমন দূরদৃষ্টি ওয়ালা মানুষ ছিলেন সেইটা তো আমরা বুঝতেই পারতাসি এখন।

প্রবেশিকা মানে আমাদের এস এস এসি পরীক্ষার পর টুনু ওরফে জয়নুল আবেদিন কলকাতা আর্ট কলেজে ভর্তির তোর জোর শুরু করেন। কিন্তু কলকাতা শহরে থেকে আর্ট কলেজে পড়ার খরচ চালানোর মত সামরথ তখন জয়নুল এর বাবার ছিল না। জয়নুল রা ছিলেন নয় ভাইবোন। দুই বোন আর আর সাত ভাই। সামান্য পুলিশের চাকুরি করে এত গুলো ছেলে মেয়ের খরচ চালিয়ে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব ই একটা কাজ ছিল । তার উপর যদি বিদেশে পড়াশুনা যোগ হয় তাহলে একেবারেই সম্ভব ছিল না।

কিন্ত জয়নুল আবেদিন এর মা নিজের গয়না বিক্রি করে দিলেন । ছেলের হাতে তুলে দিলেন আর্ট কলেজে পড়ালেখার খরচ। যা না হলে আমরা হয়তো কিংবদন্তী জয়নুল আবেদিন কে পেতাম না। পরবর্তীতে অনেক সাক্ষাতকার আর বই য়ে জয়নুল আবেদিন এই ঘটনা বলে উনার মা এর এই সেক্রিফাইস এর কথা মনে করেছেন।

জয়নুল আবেদিন কে নিয়া যখন বই গুলা পড়তেসিলাম, একটা কথাই মনে হইতেসিল বার বার। আমাদের স্কুল গুলো তে না জানি আমরা কত জয়নুল, কামরুল, সত্যজিৎ মাইরা ফেলতেসি প্রতিদিন।

৪০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৮, ২০১৫ । ১১.৪২ পি.এম

১৯১৪ সাল এর তার জন্ম। কিন্তু যখনকার কথা বলতাসি তখন তার বয়স তেরো কি চৌদ্দ। তখন সবাই তারে ডাকে “ঠান্ডার বাপ”। সে খুবি শান্ত আর লাজুক। তাই এইটাই তার নাম হয়া গেসে।

তারে কেউ কেউ নকশা করা পিঠা খাইতে দিলে সে পিঠা খায় না, লুকায় বাড়িতে নিয়া যায়। তারপর তন্ময় হয়া দ্যাখে পিঠার কত নকশা। সবাই যখন নদীর পারে খেলে তখন সে তাকায় থাকে নদীর দিকে।তাঁতি পাড়ায় গিয়া হারায় যায় ছেলেটা। অবাক হয়া দ্যাখে অশিক্ষিত তাঁতি রা কত নিখুত ভাবে সুতার হিসাব, রঙের হিসাব করে বানায়া ফেলে কত সুন্দর ছবি কাপড়ের জমিনে। সে কুমার পাড়ায় গিয়া বইসা যায় কুমার দের সাথে। কুমারেরা হাড়ী কলসি বানায়া তার উপর নকশা করে। দেখা দেখি সে ও করে। কুমার দের দেখা দেখি সে ও হাতি, ঘোড়া, পুতুল এগুলা বানাতে চেষ্টা করে।

১৯২৭ সাল। ঠান্ডার বাপ তখন কিশোর গঞ্জ এর স্কুল এ যায়। যাওয়ার পথে যাই দ্যাখে ভাল লাগে। মনের ভিতর গাইথা রাখে আর স্কুলের খাতার ফাকে ফাকে আকে সেই সব ছবি। কাউকে দেখায় না। এত দিনে তার ঠান্ডার বাপ নাম টাও একটু ভদ্র হয়া “টুনু” হইসে। সবাই আদর কইরা ডাকে টুনু।

টুনুর স্কুলের নাম মৃত্যুঞ্জয় হাইস্কুল। টুনুর বাবা পুলিশ। তখন বদলী হয়া আসছেন ময়মনসিংহে। স্কুলে যাওয়ার পথে আগফা স্টুডিও নামে একটা ফটো তোলার দোকান ছিল। ওই খানে আড্ডা দিতে আসে দুই তিন জন কোলকাতা আর্ট কলেজের ছাত্র। তারা গল্প করে তাদের কলেজ এর আর টুনু হা করে শোনে সেই রুপকথার রাজ্যের গল্প।

হঠাত একদিন টুনু ময়মনসিংহ থেকে উধাউ। কোথাও খুইজা পাওয়া যাইতাসে না। পুলিশ বাপ তো পুরা থানা লাগায় দিলেন খুজতে । কিন্তু কোথাউ নাই। টুনুর মা কান্তে কান্তে অস্থির।

দুই দিন যায়, তিন দিন যায় টুনুর কোন খোজ পাওয়া যায় না। ভাই বোন রা মুখ শুকনো কইরা বইসা থাকে। মা তো কানতে কান্তে শয্যাশায়ি আগেই। পুলিশ বাবা শুধু ফ্যাল ফ্যাল কইরা তাকায় আকাশের দিকে। ফিরা আয় টুনু, ফিরা আয়।

পাঁচ দিন এর দিন দেখা গেলো রেল লাইন ধরে লাল চাদর পরে একজন হাইটা আসতাসে। কাছে আসলে দেখা গেলো, আরি, এই তো টুনু। সবার মধ্যে কারাকারি পইরা গেল। হাজার হাজার প্রশ্ন সবার। কই গেসিলি? কই ছিলি? ক্যান এই ভাবে পালায় গেসিলি? টুনু শুধু এক্টাই জবাব দিল , “ গেসিলাম কুলকাতা। আর্ট ইস্কুল দেখতে। দেইখা আসছি। ভর্তি হউনের নিয়ম কানুন জাইন্না আসছি।“ টুনু যে ছবি আঁকা শিখতে চায়, সবার এক ঘটনা দিয়াই জানা হয়া গেল।

দুই বছর পর। ১৯৩০ সাল। বোম্বাই থিকা “News Chronicle” নামে একটা পত্রিকা বাইর হইত। সেই পেপারে এক ইংরাজ ব্যাডায় একটা ছবি আঁকা কন্টেস্ট এর ঘোষণা দিলেন। তিনি একটা গলফ খেলার ফটুক দিলেন পেপারে আর নিচে বইলা দিলেন এই ফটোগ্রাফ টার ই ছবি আঁকতে হবে। কাগজে, পেন্সিল দিয়া।

টুনুর কাছে এই বিজ্ঞাপন টা অনেক এক্সাইটিং লাগ্লো। সে দেইখা দেইখা দুইটা ছবি আইক্কা ফেল্ল এক বসা তেই। আঁকার পর হুশ হইল, পাঠাইতে তো হবে বোম্বাই। এত পয়সা কই। স্কুলের ছাত্র মাত্র তখন। থাক। দরকার নাই আমার। একটা ছবি সে দিয়া দিল তার এক বন্ধুরে আরেকটা ছবি পত্রিকা টা সহ তোষকের নিচে লুকায় রাইখা দিল।

দুই দিন পর টুনুর বাবা কি জানি একটা জিনিশ খুজতে আইসা তোশক উল্টায়া ছবিটা আর পত্রিকাটা পাইলেন। যা বুঝার বুইঝা নিলেন সাথে সাথেই। তিনি চুপ চাপ ছবিটা পাঠায় দিলেন বোম্বাই। তখনো সময় আছে জমা দেওয়ার।

তারপর কয়েক দিন পর এর কথা। টুনুর আর এই প্রতিযোগিতার কথা মনে নাই। টুনু বসে ছিল পুকুর ঘাটে। টুনুর বন্ধু ঋত্তিমা ঘটক দৌড়াতে দৌড়াতে আইসা টুনুর সামনে দাড়াইল। “ওরে টুনু কি করছস রে তুই”। টুনুর চোখে তখনো সন্দেহ। আবার কি করলাম? ঋত্তিমা টুনুর চোখের সামনে মেইলা ধরল আগের দিন এর স্টেটসম্যান পত্রিকা। সেখানে টুনুর আঁকা সেই ছবিটা বড় বড় করে ছাপা হয়েছে। আর তার নিচে লেখা,

“সমগ্র ময়মনসিংহ, সমগ্র বাংলাদেশ এবং সমগ্র ভারতবর্ষের মধ্যে প্রথম হয়েছে এই ছবি। শিল্পীর নামঃ

জয়নুল আবেদিন।“

যার বয়স ছিল তখন মাত্র, ১৬। যাকে আমরা এতক্ষন ঠান্ডার বাপ আর টুনু নামে চিনেছি। যাকে আমরা এখন আদর করে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ডাকি।

৩৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৭, ২০১৫ । ১১.৪১ পি.এম

আমি একটা পরাবাস্তব জগতে বাস করি। আমার কাছে সারি সারি সোডিয়াম লাইট মানে একটা হলুদ আলোর ধারা। আমি সেখানে হাত দিলে একটু কেপে যায়, কিন্তু থামে না। আমি আমার ঘসা কাচ এর চশ্মায় শুধু আলো দেখি না, আলোর লম্বা লম্বা রেখা দেখি। আমার বাস্তব টা ঠিক যা হওয়ার তা হয় না। একটু বিকৃতি একটু অন্যরকম হয়ে যায়। সাল্ভাদর ডালির পেইন্টিং এর মত।

অফিসের নিচে আটকা পরে ছিলাম অনেকক্ষণ। বৃষ্টি। সাথে ছাতা নাই। দাড়ায় দাড়ায় জিপি হাউজের নিচের ফোয়ারার পানি তে বৃষ্টি পরা দেখলাম। থমকে থাকা পানির কোন চার্ম নাই। বৃষ্টি পরলে কেমন একটু টেক্সচার ওআলা হয় পানি টা আর তখন মজা লাগে দেখতে। ১০ টা বাজলো যখন, ভাবলাম বাসায় যাওয়া উচিত। কই থিকা জানি ফেরদৌস আইসা পড়ল। তাও আবার ছাতি নিয়া। আমারে পৌছায় দিল গেট পর্যন্ত। ফেরেশ্তা দের সাথে ফ্রেন্ডশীপ রাখলে এরুম ই হয়। বৃষ্টির সময় ছাতা পাওয়া যায়।

ওই দিন এর সাদা কুকুর টা আজকে আবার আসছিল অফিসের নিচে। আমাকে দেইখা চিন্তেও পারসে। পা তুইলা দিসে গায়ের উপর আর হাত চেটে দিসে একটু খানি। আমি জিজ্ঞেস করলাম কিরে ব্যাটা তোর গারলফ্রেন্ড কই? একটু পর দেখি পাশে থেকে আরেকটা কুকুর আমার পায়ে নাক দিয়ে গুতু দ্যায়। মেয়ে কুকুর। বুঝলাম এইটাই গারলফ্রেন্ড। জিপি হাউজের সিকুরিটি ভাই আমাদের দেইখা আগায় আসছিল আর পকেট থেইকা এক পেকেট লেক্সাস বিস্কিট বের করে দিসিল। আর বলসে “ছার, ইটা খাওয়ান”। আমি অদের “ইটা” খাওয়াইসি। দুইজন কেই অনেক কইরা মাথায় হাত বুলায় দিয়া আসছি। আর বলে আসছি শুকনা জায়গা দ্যাখে যাতে রাতে ঘুমায়।

আমার মনে হয় আবার বড় বড় লুকজন এর কইরা যাওয়া পেইন্টিং গুলা দেখা শুরু করা উচিত। মাঝখানে শুরু ও করসিলাম। এক জয়নুল আবেদিন এর কাজ দেইখা আর চিন্তা কইরাই জীবন পার কইরা দেওয়া যায়। আর কত কত আর্টিস্ট এর কাজ দেখা বাকি।

আমার কাছে আর্ট মানে “এক্সপ্রেশন”। এইটা এমন না যে সব ভাল মত হাতে কলমে বুঝায় দিবে। একজন একটা কিছু এক্সপ্রেস করতে চাইসে আর সেই এক্সপ্রেশন টাই হইল আর্ট। সেইটা রাগে চিল্লানোর মত অনেক লাউড, অনেক স্পষ্ট অনুভূতির বহিপ্রকাশ ও হইতে পারে। আবার আমার মত স্ট্রেইট ফেইস কইরা সবকিছু গিল্লা ফালানো ও হইতে পারে। দুইটাই এক্সপ্রেশন। দুই রকম এর। যেই লোক ঘটনার আগে পিছে কিছুই জানে না, সে দুই রকম এক্সপ্রেশন দেইখা দুইশ রকম এর অর্থ মনে কইরা নিতে পারে। আর্ট মানে ওইটাই। মাধ্যম অনেক। উদ্দেশ্য এক। এক্সপ্রেস করা।

এইটাই আমরা খুজি। গানে, ফটো তে, পেইন্টিং এ, লেখায়, ভাস্কর্যে, ইত্যাদি ইত্যাদিতে। প্রথমে দেখি সেই এক্সপ্রেশন্টা আমার সাথে মিলে কিনা। না মিল্লে তারপর আর্টিস্ট এরও যে এমন একটা অনুভূতি হইসিল যেইটা আমি ভাবি ই নাই , ওইটা ভাইব্বা মজা লাগে। আর ওই পিস অফ আর্ট টাকে তখন আমরা মনে রাখি অনেক দিন।

৩৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৬, ২০১৫ । ১১.১৪ পি.এম

ঘুম ব্যাপারটা খুবি অদ্ভুত। ছোট বেলায় ঘুমানো ব্যাপারটা অনেক এক্সাইটিং ছিল। ঘুমানোর চেয়ে ঘুমাইতে যাওয়া একটা উৎসব উৎসব ব্যাপার ছিল। ঘুমাইতে যাওয়া মানে পড়ালেখা আজকের মত শেষ। ঘুমাইতে যাওয়া মানে স্বপ্ন দেখা যাবে। কি জানি দেখবো আজকে। একটা সময় একটা নোট খাতায় ঘুম থেইকা উঠার পর স্বপ্ন লেখা শুরু করসিলাম। কয়দিন পর কেডায় যানি মাইরা দিসিল না আম্মা ফালায় দিসিল ওইডা কে জানে।

বয়স বাড়ার পর স্বপ্ন ক্যান জানি আর মনে রাখতে পারি না। সকালে ঘুম থেইকা উঠার পর স্বপ্নের কথা মনেও আসে না একবারো। খালি মনে হয়, আইচ্চা আইজকা অপিশে কি দেরি হইব যাইতে? বেশি ঘুমায়ালাইসি? এডি ভাব্লে আর স্বপ্ন কই থিকা মনে থাকবো।

আমার ক্যান জানি ঘুমের প্রব্লেম জীবনেও হয় নাই। যা ইচ্ছা হোক ঘুম ঠিক ই আইবো। অনেক টা ইচ্ছাঘুম টাইপ এর। ঘুমাইতে শুইলাম আর ঠুস। ঘুমায় গেসি। মানুষ দেহি অনেক ঘুমের অসুধ টষুধ খায় ঘুমের লাইগা। আমার এডি লাগে নাই কখনো। ইচ্ছা হয় নাই তো ভোর ৫ টা পর্যন্ত জাইগা আসি আবার ইচ্ছা হয়সে তাই ৮ টা বাজেই ঘুমায় গেসি। এই যেমন এখন লিখতে লিখতে বিরাট ঢুলু ঢুলু আইতাসে। কি যে লিখতাসি, আল্লায় জানে।

ঘুম, স্বপ্ন এইগুলা আইজকা সন্ধ্যা থিকা মাথায় ঘুর ঘুর করতাসে। এরম হওয়ার কারন হইল আমি আইজকা রবীন্দ্রনাথ এর “হিং টিং ছট” কবিতাডা পড়সি আর অনেক মুভড হইসি। বিশেষ কইরা এই লাইন চাইরটাঃ

এসো ভাই, তোল হাই, শুয়ে পড়ো চিত,
অনিশ্চিত এ সংসারে এ কথা নিশ্চিত—
জগতে সকলেই মিথ্যা, সব মায়াময়,
স্বপ্ন শুধু সত্য আর সত্য কিছু নয়

কবি উস্তাদ কইছে, স্বপ্ন ই হাছা, বাকি সব মিছা কথা। মাগার আমার তো হালার স্বপ্ন মনেই থাকে না। মনে হয় স্বপ্ন ই দেখি না । আল্লাহ ব্ল্যাঙ্ক ডিভিডি চালায় থয়। ঘুম পাইরাই কুল পাই না, মুনে লয় আরেট্টু ঘুমাই, আবার স্বপ্ন। এহ আইসে। আদার ব্যাপারি আবার প্লেন স্পটার। জাহাজ ই দ্যাখে নাই জীবনে, উড়াজাহাজের খবর লয়।

৩৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৫, ২০১৫ । ১১.৪৮ পি.এম

আসেন একটা গল্প শুনি। একটা সত্যি ঘটনা। একটা প্লেন হাইজ্যাক এর কাহিনী। এই টা কোন সাধারন হাইজ্যাক না। এইটা একটা বিশাল বড় ফ্যাক্টর ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধে। সব তথ্য এক জায়গায় ছিল না। তথ্য সূত্র গুলো লেখার শেষে দিয়ে দিলাম।

৩১ শে জানুয়ারি, ১৯৭১। ভারত অধ্যুশিত কাশ্মীর এর শ্রীনগর থেকে টেক অফ করে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স এর একটি এফ-২৭ ফকার ফ্রেন্ডশীপ বিমান (Fokker F27 Friendship)। বিমান টার নাম ছিল “গঙ্গা” রেজিস্ট্রেশন VT-DMA ।  গন্তব্য জম্মু। মোট যাত্রী ছিলেন ২৮ জন আর বিমান এর পাইলট সহ ক্রু ৪ জন।

যাত্রী দের মধ্যে ছিলেন বি এস এফ সদস্য হাসীম কোরেইশি এবং তার কাজিন আশরাফ ভাট। উড্ডয়নের এর কিছুক্ষণ এর মধ্যেই ইনারা একটি পিস্তল এবং একটি গ্রেনেড এর সাহায্যে বিমানটির দখল ন্যান এবং পাইলট কে বাধ্য করেন বিমান টি কে পাকিস্তান এর দিকে উড়িয়ে নিতে।

হাইজ্যাকার দের কথা মত পাইলট বিমানটি কে লাহোর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরন করান। হাইজ্যাকারদয় নিজেদের কে Jammu and Kashmir Liberation Front (JKLF) এর সদস্য বলে পরিচয় দ্যায় এবং কাশ্মীর এ বন্দি এই সংগঠনের ৩৬ জন সদস্য কে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত সকল যাত্রী কে জিম্মি করে রাখার ঘোষণা দ্যায়।

কিছুক্ষণের মধ্যে লাহোর বিমানবন্দরে আসেন তৎকালীন সেনা শাসক ইয়াহিয়া খান এর পররাষ্ট্র মন্ত্রি জুলফিকার আলী ভুট্টো। তিনি সংবাদ সম্মেলন করে হাইজ্যাকার দুজন কে “জাতীয় বীর” হিসেবে ঘোসনা করেন। তারপর তিনি রাওয়ালপিন্ডি চলে যান এবং ২রা ফেব্রুয়ারী এসে হাইজ্যাকার দুজন এর সাথে এক বৈঠক এ মিলিত হন। বৈঠক এর পর তারা সকল যাত্রী এবং ক্রু দের মুক্তি দ্যান কিন্তু বিমান টিকে নিজেদের দখল এ রেখে দ্যান। সকল যাত্রী এবং ক্রু কে বাই রোড এ অমৃতসর নিয়ে যাওয়া হয়।

তারা নিরাপদে পৌছেছেন খবর আসার পর, ঐ রাতেই হাইজ্যাকার দুজন “ভারত তাদের দাবী অনুযায়ী বন্দী দের মুক্তি দ্যায় নি” এই ঘোষনা দিয়ে টিভি ক্যামেরার সামনে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিমান টিতে অগ্নি সংযোগ করে এবং বিস্ফোরক দিয়ে বিমানের মাঝ বরাবর উড়িয়ে দ্যায়।

 

এই সময় পাকিস্তানী নিরাপত্তা রক্ষি দের ভূমিকা সারা বিশ্ব কে বিস্মিত করে।  জুলফিকার আলী ভুট্টো সহ বেশ কয়েকজন পশ্চিম পাকিস্তানী নেতা এই ঘটনা কে সমর্থন করে বিবৃতি দান করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ৩রা ফেব্রুয়ারি সংবাদপত্রে বিবৃতির মাধ্যমে বলেন,

“ লাহোরে ভারতীয় বিমানটি বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে শুনে আমি বিস্মিত হয়েছি। বিমানটি অপহরন হয়তোবা একটি ঘটনা প্রবাহের পরিণতি, কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে বিমানটিকে উড়িয়ে দেয়ার ঘটনা আসলেই নিন্দনীয়। “

ভারত এই ঘটনায় তিব্র ভাবে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে । ৩রা ফেব্রুয়ারি ভারত তার আকাশ সীমার উপর দিয়ে পাকিস্তানি সামরিক বিমান চলাচল এবং পরের দিন ৪ ঠা ফেব্রুয়ারি থেকে সামরিক এবং বেসামরিক সব ধরনের পাকিস্তানি বিমান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

এই নিষেধাজ্ঞা সমগ্র মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় পর্যন্ত বলবত ছিল। ফলে পাকিস্তানি সকল বিমান কে শ্রীলঙ্কা হয়ে ঘুরে আস্তে হতো। যা একটা যুদ্ধ কালীন সময়ে খুবি গুরুত্ব পূর্ণ ফ্যাক্টর। মুক্তিযুদ্ধে আকাশ পথের যুদ্ধে এই হাইজ্যাক এর ঘটনা তাই একটি মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঘটনা বলে বিবেচিত হতেই পারে।

এই ছিল কাহিনী। এই পর্যন্ত ঘাটা ঘাটি কইরা থাইমা গেলেই হইত। কিন্তু আমি এট্টূ বেশি বুজি তো তাই মনে হইল আরেকটু ডিটেইল জানা দরকার। ঘাটতে গিয়া কিছু আক্কেল গুরুম করা তথ্য পাই যা নিচে দেওয়া হইলঃ

১। VT-DMA (যে বিমান টা হাইজ্যাকড হইসিল) কে সারভিস থিকা অবসর এ পাঠানো হইসিল । কিন্তু হাইজ্যাক এর ঘটনার কয়েকদিন আগে একে আবার সারভিস এ আনা হয় এবং এই রুট এ দেওয়া হয়।

২। আশরাফ ভাট নামে যে হাইজ্যাকার ছিল সে ছিল ইন্ডিয়ান বি এস এফ এর সদস্য। কেন বিএসএফ এর সদস্য বিমান ছিনতাই এর মত ঘটনায় জড়িত হইল তার জবাব এ তৎকালীন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ বিএসএফ (জম্মু) বলেন, আশরাফ ভাট এর বি এস এফ এর যোগদান নিয়া তার অব্জেকশন ছিল কিন্তু “ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা সংস্থা” এর সুপারিশে তাকে নেওয়া হয়।

৩। পাকিস্তান এই দুই হাইজ্যাকার কে “জাতীয় বীর” ঘোষণা করলেও পরবরতিতে মিডিয়ার ফোকাস কমে যাওয়ার পর তাদের কে “ইন্ডিয়ান স্পাই” হিসাবে গ্রেফতার করা হয়। এবং বন্দি বিনিময় চুক্তি তে তাদের ভারত এ ফেরত পাঠানো হয়।

৪। তারা ভারত এ ফেরত আসার পর ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এর জন্য গ্রেফতার করে এবং তার পর তাদের কোন হদিস আমি ইন্টারনেট ঘাইটা পাই নাই।

 

তথ্য সুত্রঃ

বইঃ

বিহঙ্গের ডানা – মেজর কামরুল হাসান ভুইয়া, ২০১২

My Years With IAF – Former Indian Air Chief Marshal Pratap Chandra Lal, 1986

ইন্টারনেটঃ

1971 Indian Airlines hijacking

http://en.wikipedia.org/wiki/1971_Indian_Airlines_hijacking

Looking beyond the obvious

http://sandywriter.blogspot.com/2009/12/looking-back-at-history-hijack-of.html

Chronology of aviation terrorism: 1968-2004

http://www.skyjack.co.il/chronology/

 

ছবি কৃতজ্ঞতা

Qaiser Ansari : History of PIA

৩৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৪, ২০১৫ । ১১.২০ পি.এম

কিছু হারিয়ে ফেলা দিন ফিরে আসুক। আমি ভুল করা গুলো ঠিক করে দি। তারপর চলুক ঠিক ঠাক। যাকে রেখে দিয়েছিলাম তাকে ভাসিয়ে দি কাগজের নৌকার মত। সে তার কাগজের পাল তুলে ভেসে যাক। আর যাকে কুচি কুচি করে কাগজের মত ফু দিয়েছিলাম, তাকে মুঠো ভরে ধরে আনি। এক্টা এক্টা করে জোড়া লাগাই। হয়তো ছবি টা হবে না পুরোপুরি কিন্তু থাক। আমার তাতেই চলে যাবে।

কিছু হারিয়ে যাওয়া সুর ফিরে আসুক। যা কিছু বাজাতে পারি না, শিখে যাই আংগুলে আংগুলে । তারপর কথা গুলো বসে যাক ঠিকঠাক । আমি আবার লিখতে থাকি অবিরত। নতুন গানের গন্ধ উঠুক আবার। মনের ভিতর চলতে থাকুক শব্দের হাহাকার। বৃষ্টি নামুক গানের।

কিছু হারিয়ে ফেলা কবিতা ফিরে পাই। নিজেকে আবার ভাবতে শিখি কবি। যা কিছু শিখছে মন, বসিয়ে দেই অনুভুতির পাশে, এক সাথে। অকবির আস্ফালন দেখে দেখে বিরক্ত হয়ে ছুড়ে দেওয়া যাক তার মুখে এক তারা কবিতা ভর্তি কাগজ।

এইবার কবিতার জয় হোক। এই বার আমার জন্য তাদের মনে ভয় হোক।