৬৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ৩, ২০১৫ । ১১.৩৯ পি.এম

আমার কাজ কারবার দেখলে মনে হইতে পারে আমি আসলে অনেক কিছু পারি। কিন্তু সত্যি টা হইল আমি অনেক কিছুই পারি না। আমি অনেক কিছু করার চেষ্টা করি। এইটারও একটা ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। আমার যখন মন খারাপ হইতে হইতে একদম সব অবশ হয়া যায়, মনে হয় সারাদিন শুইয়া থাকি, তখন আমি বুঝি যে আমার নতুন কিছু একটা করা লাগবো। নতুন কিছু একটা শুরু করার যা অপেক্ষা, আর সাথে সাথে থাইমা থাকা মন তার নিজের মত দৌড়ানো শুরু কইরা দ্যায়।

হয়তো নতুন কিছু একটা নিয়া পড়া শুরু করলাম, মুক্তিযুদ্ধ বা জয়নুল আবেদিন, ছোট একটা সূত্র থেইকা কই কই চইলা যাইতে চায় মন। গভীরে যায়, মহাকাশে যায়। মুল জিনিষ টা মোটামুটি বুইঝা যাওয়ার পর শুধু ডিটেইল জানতে চায় আরো।

হয়তো নতুন একটা বাজনা শেখার চিন্তা করলাম। মন নিজে নিজেই চালায় আমারে দিয়া গুগল সার্চ, ইউটিউব সার্চ। কেমনে বাজায় অন্যরা, সব চেয়ে সোজা গান কি আছে? যা বাজাইলে মনে হবে, বাহ, মজা তো। আরো শিখা লাগবে।

আচ্ছা একটু রান্না কইরা দেখি কেমন লাগে। কত বড় একটা দুনিয়া রেসিপির দুনিয়া। এখনো দেখলাম ই না তার কিছু। আর ফলাফল তো পেট এ যায় সরাসরি।

আচ্ছা প্লেন ব্যাপার টা এত অদ্ভুত ক্যান। কেমন জীবন্ত লাগে সবকয়টারে। এক একটার ব্যাক্তিত্য আবার এক এক রকম। কেমনে ওড়ে এই লোহার সিন্দুক আকাশে?

এই ভাবে মনের ট্রেন গাড়ি নিজেই লাইন খুইজা নিয়া চলতে থাকে । আমার শুধু ইঞ্জিন টা লাগায় দিতে হয় আমার এই মন খারাপ করা বগিটার সাথে। আমি এইটা চোখ বন্ধ কইরা বলতে পারি, নতুন কিছু শুরু করার শ্রেষ্ঠ সময় যখন মন খারাপ থাকে। আমার যা কিছু করার চেষ্টা সব অসম্ভব মন খারাপের সময়ে।

মন খারাপ এক সময় ফিটকিরির মত তলানি তে যাইবো কাইল হোক পরশু হোক কিন্তু লাভের মধ্যে হাতে থাকবো এই নতুন শুরু করা জিনিষ টা। পেন্সিল এর সেই সবাই জানে গল্প টা আছে না?

বলত বাবুউউ, ১৯ আর ১১ যোগ করলে কত হয়? সোজা তো। দাঁড়াও আমি হেল্প করি। প্রথমে যোগ কর ৯ আর ১। ৯ আর ১ এ হইল ১০। ১০ এর ০ বসাও। এইতো গুড। এবার হাতে থাকলো কি থাকলো বল তো?

ফ্যালফ্যাল দৃষ্টি শেষ হইলে উত্তর আসলো, স্যার, হাতে তো থাকলো , পেন্সিল।

এই ভাবে মন খারাপের শূন্য টা বসে যাক। সমস্যা নাই। জগত সংসার অন্ধকার কইরা দেক। মইরা যাইতে ইচ্ছা হোক। সমস্যা নাই। কিন্তু এই সময় টায় একটা নতুন কিছু শুরু করলে মন খারাপের ঝড় টা থামলে হাতে থাকবে পেন্সিল।

আমার পেন্সিল অনেক গুলা। এই ই। আর কিছু না।

৬৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ২, ২০১৫ । ১১.৪৯ পি.এম

মুক্তিযুদ্ধ নিয়া আমরা এত আজিব সব ধারনা নিয়া বড় হইসি। আমাদের কাছে এত পচানি হইসে এত পচানি হইসে মুক্তিযুদ্ধ কে যে আমাদের আর মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনতে ভাল্লাগে না। মুক্তিযুদ্ধ শুনলেই মনে হয় কিছু সাদাকালো ছবি, কিছু লাশের ছবি, আর কে আসল হিরো এই যুদ্ধের তা নিয়া কামরা কামড়ি। আমাদের কামরা কামড়ি দেখতে ভাল্লাগে না তাই আমরা মুক্তিযুদ্ধ রে একটা বিতর্কিত বিষয় বইলা এরায়া যাই।

ঠিক যেমনে এরায়া যাই ধর্ম নিয়া বিতর্ক গুলারে ঠিক অমনে। আমাদের ভাবনা এমন যে, থাক বাবা পরে বঙ্গবন্ধু রে ভাল লাগলে মাইনসে কইব আওয়ামী লীগ আর জিয়া রে ভাল্লাগ্লে মাইনসে কইব বি এন পি । থাক বাবা, আমি ভোট ও দিতে যাই না গেঞ্জাম এর ডরে, আমার এসব ক্যাচাল এ পইরা লাভ নাই। আমার মহান মুক্তিযুদ্ধ লেখা টি শার্ট আসে, রিষ্ট ব্যান্ড আসে। ব্যাস, আর কিছু লাগতো না।

আরো ঝামেলা হইসে আমাগো এক পক্ষ আয়া শিখাইসে মেজর জিয়া ই সব। আরেক পক্ষ আইসা শিখাইসে আরে জিয়া ক্যাডা আবার, ভারত হেল্প না করলে তো আমরা জিততেই পারতাম না। মাঝখান দিয়া আমরা ভাবসি হুর এই ভেজাল এ যামুই না, এই সব কি “মুক্তিযুদ্ধ ফুদ্ধ”, এর চেয়ে গেম অফ থরন দেহি। মানুষ ইস্মারট বলবে।

মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান আমি অস্মীকার করতাসি না। কিন্তু আমাদের জানানোই হয় নাই যে এই ভারত মুক্তিযুদ্ধের শুরু তে কি করসিল। ১৯৭১ এ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অফ স্টাফ ছিলেন মেজর জেনারেল জে,এফ,আর জ্যাকব। উনার লেখা একটা বই আসে, Surrender at Dacca . এই বইটা ইউনিভার্সিটি প্রেস থেইকা প্রকাশিত হইসে। এই বই এর পেজ ৪৭ এ উনি কি বলসেন তা জানা দরকার।

কংগ্রেস সরকারের ভুল বিশ্লেষণ এর ফলে ২৫ শে মার্চ এর পরে গঠিত মুক্তিযোদ্ধা দের আশ্রয়, সাহায্য, সহযোগীতা এবং বাংলাদেশ স্বাধীন করে দেবার দায়িত্ব দেয়া হয় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী কে (BSF – Border Security Force)। চিন্তা করসেন অবস্থা? এক টা দেশে যুদ্ধ লাইগা গেসে, মিলিটারি মানুষ মারতাসে, আর প্রতিবেশী দেশ আমাদের উদ্ধার করতে দায়িত্ব দিসে তাদের বি এস এফ রে, মিলিটারি রে না।বি এস এফ এর ডাইরেক্টর জেনারেল খসরু ফারামুরজ রুস্তমজী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কে বোঝাতে সক্ষম হন যে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে বি এস এফ বাংলাদেশ স্বাধীন করে দেবে। কত বড় বেকুব চিন্তা করেন।

এপ্রিলের মাঝা মাঝি ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা করার জন্য মন্ত্রীসভার এক বৈঠক ডাকেন। সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ জেনারেল এস এইচ এফ জে মানেশক কে এই সভায় ডাকা হয়। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাকে তখনি বাংলাদেশে সৈন্য পাঠাতে নির্দেশ দেন। কিন্তু জেনারেল মানেকশ হাবি যাবি যুক্তি দিয়া বাংলাদেশে ভারতীয় সামরিক অপারেশন শুষ্ক মৌসুম পর্যন্ত মানে শীতকাল পর্যন্ত বিলম্বিত করাতে সক্ষম হন।

ভারত কে জাজ করার অবস্থায় আমি নাই। ওদের দেশ, ওদের মিলিটারি। ওরা যখন ইচ্ছা পাঠাবে। কিন্তু খারাপ লাগে যে এই সাহায্য টা ওরা আগে করলে মুক্তিযুদ্ধ হয়তো আরো কিছুটা শরটার হইত। আরো অনেক গুলা প্রাণ বাচতো মানুষের। আর গর্ব লাগে যে ভারত এর বিএসএফ না আসুক বা মিলিটারি না আসুক, ডিসেম্বর আসার আগে আমরা কিন্তু হাইরা যাই নাই, আত্মসমর্পণ করি নাই। আমরা লইড়া গেসি শেষ রক্ত বিন্দু পর্যন্ত।

এই খানে একটু বইলা রাখি, আমার মুক্তিযুদ্ধা নিয়া পড়ালেখা শুরু মূলত প্লেন বিষয়ক আগ্রহ থেইকাই। আমি মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইতিহাস আর ডিটেইল জানতে পড়ালেখা শুরু করসিলাম। আস্তে আস্তে এই নিয়াও লিখব ইনশাল্লাহ। কিন্তু আগে পইড়া বুইঝা লই বেপারটা। তবে একটা কথা প্রথমেই পরিষ্কার জানা দরকার যে

১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীই সর্বপ্রথম বাংলাদেশের ভিতরে পাকিস্তানি অবস্থানের উপর আক্রমণ করে, ভারতীয় বিমান বাহিনী না।

৬৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১, ২০১৫ । ১১.২৫ পি.এম

বাসায় বইসা বোরড হইতে হইতে তক্তা হয়া যাইতাসিলাম, তাই রাইত ৮ টার দিকে বাইর হইলাম খাইতে। হুটেলে খাইয়া দায়া ফিরতাসি, হঠাত পাশে পড়লো একটা চুলার দুকান। বাইরে বিভিন্ন সাইজ এর চুলা সাজানি। এক বুইরা ব্যাটা বইসা খুবি উদাস মুখে কান চুল্কাইতাসিল। আমি জিগাইলাম আঙ্কেল চুলা কত? উনি ততধিক উদাস গলায় বললেন, কুনটা? ধরেন। আমি কইতাসি। আমি হালিম এর বাটি এর মত একটা একটা কইরা চুলা ধইরা এইডা কত এইডা কত কইলাম আর উনি দাম মনে করার ট্রাই করতে থাকলেন। একটারও কইতে পারলেন না। বুইরা পুরা হুদাই।

পরে উনার ছেলে আইসা উদ্ধার করল। আমারে একটা ক্যাটালগ ধরায়া দিয়া কইল “সবি দেইকা মডেল চয়েস করেন”। আমি তো মডেল এর ক্যাটালগ শুইনা খুশি হয়া গেসিলাম। আমি ভাবসি না জানি কত সেক্সি মঠেল বিতরে পোজ দিয়া ছবি তুলসে। কিয়ের কি। খালি আখাস্তা চুলার ছবি আর মডেল নাম্বার।

বিমর্শ মনে একটা মুটামুটি দেখতে চুলা চয়েস করলাম। জিগাইলাম, এইডা লাগাইতে কি মেস্তুরি লাগবো? ব্যাডা আমারে কইল, “আপনি কি বাইরে থাকতেন আগে?” আমি তো থতমত। জি না। বাইরে তো থাকতাম না। ভিত্রেই থাকতাম। ব্যাডা কইল, না বাইরে মানে বিদেশে থাকতেন? আমি কইলাম, নাহ দেশেই। উনি কইল, তাইলে একাই পারবেন। আর কুনু অসুবিধা হইলে, এই যে ইঞ্জিনিয়ার এর নাম্বার, এরে ফুন্দিবেন।

চুলার মেস্তুরিও ইঞ্জিনিয়ার, আমিও ইঞ্জিনিয়ার। খুবি মে দিবস পালন করা হইসে। এখন নিজের চুলা নিজেই লাগাইতাসি। বেশ পরিশ্রম হইতাসে। চুলার লগে সেলফি ও তুলসি। দুজনেই ঘেমে অস্থির স্টাইল এর সেলফি। লাগানি শেষ হইলে “ছোটদের চুলা লাগানি শিক্ষা” এল্বাম আপলোড করা হবে (ছবি সহ)।

৬২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৩০, ২০১৫ । ৯.৫৮ পি.এম

অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight) এর শেষ পর্ব আজকে। এই খানে বইলা রাখা বলা ভাল যে এই লেখার কিছুই আমার নিজের লেখা না। বই থেইকা, ইন্টারনেট থেইকা সরাসরি তুইলা দেওয়া। আমি শুধু নিজের যেমনে বুঝি অমনে ধারাবাহিক সাজাইসি ঘটনা গুলা। লেখার তথ্য সূত্র গুলা আমি উল্লেখ করসি প্রথম পর্বের পরেই। আমার শুধু অবাক লাগে, আমাদের কত কিছু জানতে দেওয়া হয় নাই। এগুলা না জাইনাই আমরা বড় হয়া গেসি।

শুধু এই ঘটনা দিয়াই একটা সিনামা বানায়া ফালানো যাইত। কিন্তু আমাদের সেই সিনেমা আজও দেখার সৌভাগ্য হয় নাই।

বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার অভিযান, রাত ১ টা ৩০ মিনিট
ধানমন্ডি ৩২ নং সড়ক, ঢাকা, পূর্ব পাকিস্তান

শেখ মুজিবর রহমানের বাড়ির এবং বাড়ির আশেপাশের রুটের একটি নকশা তৈরী করা হলো। ৩ নং এসএসজির একটি কোম্পানীকে তিনটি প্লাটুনে ভাগ করা হলো। একটি ক্যাপ্টেন সাঈদ, একটি ক্যাপ্টেন হুমায়ুন এবং একটি মেজর বেলালের নেতৃত্বে। যদিও মধ্যরাতে অভিযানের পরিকল্পনা ছিলো, কিন্তু ক্যাপ্টেন হুমায়ুনের রেকী পার্টি ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর সড়কে রোডব্লক তৈরী করা হচ্ছে খবর আনলে সময় এগিয়ে এনে রাত ১১ টায় করা হয় যাতে ঠিক সময় মত সব বাধা পেরিয়ে পৌছানো যায়।

ক্যাপ্টেন হুমায়ুনের প্লাটুন বঙ্গবন্ধুর বাড়ীর পাশের বাড়ীর ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে .দেয়াল টপকে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে প্রবেশ করে। কেউ একজন গুলি করে এবং কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে জানা যায় যে সে ছিলো বাড়ির গার্ড, যাকে মুহুর্তেই হত্যা করা হয়। পুর্ব পাকিস্তান পুলিশের গার্ড তার ভারী তাবুর পোল সহ তুলে নিয়ে নিজেকে আড়াল করে লেকের পানিতে ঝাপিয়ে পরে।

তল্লাশী দল এরপর বাড়িতে প্রবেশ করলো। শেখ মুজিবের এক গার্ডকে পাশে একজনের পাহারায় ভেতরে গাইড করে নিয়ে যাবার জন্য বলা হলো। কিছুদুর যাবার পরেই সে হুট করে রামদা নিয়ে আক্রমন করতে যায়, কিন্তু পেছন থেকেও যে তাকে লক্ষ্য করা হচ্ছে সেটা সে জানতোনা। তাকে গুলি করে থামিয়ে দেয়া হল, যদিও সাথে সাথে হত্যা করা হয়নি। এরপর তল্লাশী দল নীচতলা এবং উপরতলার সব কক্ষ সার্চ করে এবং সব ফাকা পায়। কেবল উপরতলার একটি কক্ষ ভেতর থেকে বন্ধ পায়। মেজর খান মেজর বেলালকে কক্ষের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকতে বলেন এবং ক্যাপ্টেন সাঈদের দলের কাছে লোকজন জড়ো হবার কোন খবর আছে নাকি জানতে পাঠান। হুট করে তিনি একটি পিস্তল ফায়ারের শব্দ পান এবং এরপর গ্রেনেড বিস্ফোরণের। তিনি ধরে নেন কেউ না কেউ শেখ মুজিবকে হত্যা করে ফেলেছে। দৌড়ে তিনি উপরে যান।

এরপর অথবা ওই সময়ে কি হয়েছিলো তা মেজর জেড এ খান তার, ‘The Way It Was’ বইতে ঠিক এভাবে উল্লেখ করেন,

‘I later learnt that after telling Major Bilal to break down the closed door upstairs when I went to check on the vehicles, someone had fired a pistol shot into the room where Major Bilal’s men were collected, luckily no one was hit. Before anyone could stop him a soldier threw a grenade into the veranda from where the pistol shot had come and followed it with a burst from his sub-machine gun. The grenade burst and the sub-machine gun fire made Sheikh Mujib call out from behind the closed room that if an assurance was given that he would not be killed he would come out. He was given an assurance and he came out of the room. When he came out Havaldar Major Khan Wazir, later Subedar, gave him a resounding slap on his face.’

এর পরের ঘটনার বর্ননায় মেজর খান বলেন,

“I asked Sheikh Mujib to accompany me, he asked me if he could say goodbye to his family and I told him to go ahead. He went into the room where the family had enclosed themselves and came out quickly and we walked to where the vehicles were. I sent a radio message to inform the Eastern Command that we had got Sheikh Mujib.”

এর বাইরে এই সাধারন বর্ননা উল্লেখ করা যেতে পারে,

“Sheikh Mujib then told me that he had forgotten his pipe. I walked back with him and he collected his pipe. By this time Sheikh Mujib was confident that we would not harm him and he told me that we had only to call him and he would have come on his own.”

কয়েকঘন্টার মধ্যেই বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০ পরিবহন বিমানে করে শেখ মুজিবকে পশ্চিম পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে নিয়ে যাওয়া হবে এটিসি অফিসার স্কোঃ লীঃ খাজা, সিনিয়র অপারেসন্স অফিসার উইং কমান্ডার খাদিমুল বাশার, ডিরেক্টর অব এয়ারপোর্ট এবং ফ্লাইট সিকিউরিটি স্কোঃ লী হামিদুল্লাহ খানের নাকের সামনে দিয়েই, তারা কিছু বুঝতেও পারেননি কি হচ্ছে, বুঝলেও সে মুহূর্তে করবার কিছুই ছিলোনা। পশ্চিম পাকিস্তানে অবতরনের পর শেখ মুজিব জীবিত শুনে তার ব্রিগেড কমান্ডার তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি একে প্রথমেই হত্যা করলেনা কেন?”

কোন রকম অসুবিধা ছাড়াই। সি-১৩০ বিমানটি উড়ে যাবার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই জেনারেল হেডকোয়ার্টার সহ প্রায় সমস্ত ইউনিটে বার্তা পৌছে গেলো,

The Big Bird is in the Cage, I repeat, The Big Bird is in the Cage
“বড় পাখিটি খাঁচায় বন্দী হয়েছে”।

৬১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২৯, ২০১৫ । ১১.১৮ পি.এম

আজকে অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight) এর ২য় পর্ব লিখসি। ভাবসিলাম এই পর্বে শেষ কইরা দিব। কিন্তু লেখার পর দেখি ২য় পর্ব ওয়ার্ড ফাইল এর ৬ পেজ হইসে 😀 তাই ঠিক করসি এইটা ২য় পর্ব থাক। শেষ করি ৩য় পর্বে গিয়া।

আমরা ১৯৭১ এর টাইমলাইন ধইরা আগাইতাসিলাম। আর আগের লেখার অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight) এর ব্যাকগ্রাউন্ড বনর্না করা হইসে। এখন এক্সিকিউশন এর দিকে আমরা চইলা আসছি।

২০ – ২৫ মার্চ, ১৯৭১

পাকিস্তানীরা তাদের সাফল্যে নিশ্চিত করতে বাঙ্গালী সেনাদের ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্বের বাইরে পাঠিয়ে এবং পাকিস্তানী সেনাদের বাইরে থেকে শহরের মধ্যের ইউনিটগুলোতে এনে জড়ো করতে থাকেন। ২৫ পাঞ্জাব এবং ২০ বালুচ রেজিমেন্টের নিয়মিত স্থানান্তর দীর্ঘায়িত করা হল এবং এর বাইরে ১৩ ফ্রন্টিয়ার ফোর্স এবং ২২ বালুচ রেজিমেন্টকে ২৫ মার্চের আগেই পূর্ব পাকিস্তানে স্থানান্তরিত করা হল।

গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য ২৫ মার্চের আগে ঢাকার বাইরে কোন গ্যারিসনে রিইনফোর্সমেন্ট পাঠানো হলনা। চিটাগাং এ সোয়াত নামের সেই বিখ্যাত জাহাজে মজুত ছিলো প্রায় ৮০০-৯০০ টন গোলাবারুদ, যা এই অপারেশনের জন্যই প্রেরন করা হয়। ২৫শে মার্চের আগেই আরো একটি ব্রিগেডকে সাফল্য নিশ্চিত করবার জন্য পুর্ব পাকিস্তানে নিয়ে আসা নয়।

বাঙ্গালী কর্মকর্তাদের ব্যাপক হারে ছুটিতে প্রেরন করা হতে থাকলো যদিও ২১ ফেব্রুয়ারীর পর থেকে সকল ধরনের ছুটি বাতিল ঘোষনা করা হয়েছিলো। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দায়িত্বে থাকতে বলা হল। তাদের পরিবারকে যতটা সম্ভব পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়া হল। বেসামরিক পাকিস্তানী কর্মচারীদের পরিবারকেও যতটা সম্ভব শহরে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হল।

অপারেশন শুরুর আগে বাঙ্গালীদের পুরপুরি নিরস্ত্র করবার অনুমতি না পেয়ে পশ্চিম পাকিস্তানীরা ভিন্ন কৌশন অবলম্বন করলো যাতে বাঙ্গালী ইউনিটগুলোর থেকে তেমন হুমকীর মুখোমুখি না হতে হয়। তাদের নানা অযুহাতে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে পাঠানো হল, অথবা ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ করে নানা কাজে ব্যস্ত রাখা হল। আর এক বাঙ্গালী ইউনিট যেন অপর বাঙ্গালী ইউনিটের থেকে দূরে থাকে সে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হল।

১ ইস্ট বেঙ্গলকে অনুশীলনের নামে চৌগাছায় পাঠানো হল। ২৯ মার্চ পর্যন্ত তারা সেখানে থাকে।
২ বেঙ্গলকে বিভিন্ন অযুহাতে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয় এবং তাদের রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়।
৩ বেঙ্গলকে সৈয়দপুর এবং রংপুরের আসেপাশে নানা গ্রুপে ভাগ করে পাঠানো হল।
৪ বেঙ্গলকে শমসেরনগর আর ব্রাক্ষনবাড়িয়ায় পাঠানো হল ২৬ মার্চ স্যাবোটাজের উদ্দেশ্যে।

কেবলমাত্র চট্টগ্রামে বাঙ্গালী ইউনিটগুলো যথাস্থানে রয়ে গিয়েছিলো। কারন সেখানে বাঙ্গালীরা সংখ্যায় পাকিস্তানীদের চেয়ে অনেক বেশি ছিলো এবং এতো বড় মাত্রায় স্থানান্তর সম্ভব ছিলোনা। সেখানে খুব দ্রুত আঘাত করে বাঙ্গালীদের নির্মূল করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। এর বাইরে নৌবাহিনীর ঘাঁটি থেকে নৌসেনা ও নৌবাহিনীর জাহাজসমূহের মাধ্যমে পাকিস্তানী সেনা ইউনিটগুলোকে সাপোর্ট দেবার পরিকল্পনা করা হয়। চট্টগ্রামে বাঙ্গালী নৌসেনার সংখ্যা কম ছিলো, এবং তাদের ২৫ মার্চের আগেই নিস্ক্রিয় করে ফেলা হয়।

২৫ মার্চ রাত ১ টা ১০ মিনিটে অপারেশন সার্চ লাইট শুরু হবার সময় নির্ধারিত ছিল পরিকল্পনা মোতাবেক। অন্যান্য গ্যারিসনগুলোকে জিরো আওয়ারেই তাদের তৎপরতা শুরু করবার জন্য ফোনে নির্দেশ দেবার কথা। জেনারেল ফরমান নিজেই ঢাকা এলাকার পাকিস্তানী বাহিনীর কমান্ড গ্রহন করলেন। বাকী গ্যারিসন এবং অন্যান্য অঞ্চলের দায়িত্ব মেজর জেনারেল খাদিম নিজের ঘাড়ে নিলেন। লেঃ জেনারেল টিক্কা খান অপারেশন তদারকি করবার জন্য এবং যেকোন জরুরী দরকারে সাহায্যের জন্য ১৪ নং ডিভিশনের ৩১তম ফিল্ড কমান্ড সেন্টারে উপস্থিত থাকলেন। অল্প কিছু সময় পরেই শুরু হবে নিজের দেশের মানুষকে হত্যা করবার জন্য ইতিহাসের নিকৃষ্টতম সামরিক অভিযানের।

মূল অপারেশন
২৫ মার্চ, ১৯৭১, পূর্ব পাকিস্তান
রাত ১১:৩০ মিনিট

রাত ১ টা ১০ মিনিটে শুরু হবার কথা থাকলেও পাকিস্তানি বাহিনী রাত ১১ তা ৩০ মিনিটেই বেরিয়ে পরে ক্যান্টনমেন্ট থেকে। ফিল্ড লেভেলের কমান্ডারদের দাবী অনুযায়ী বাঙ্গালীদের পাল্টা আঘাত হানার আর সতর্ক হতে পারার সুযোগ না দিতে সময় এগিয়ে আনা হলো। তাদের ৬ ঘন্টা সময় দেয়া হলো পুরো অপারেশন শেষ করবার জন্য। অপারেশন শুরুর আগে ঢাকা থেকে দেশের বাইরে এবং অন্য যে কোন যায়গায় যোগাযোগ করবার সকল ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া হলো।

ঢাকার জন্য নিম্নরুপ পরিকল্পনা করা হয়েছিলো যা অনুসারে অভিযান এগিয়ে চলবেঃ

১। ১৩ ফ্রন্টিয়ার ফোর্স ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তার জন্য আর রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে থাকবে।
২। ৪৩তম লাইট এক এক রেজিমেন্ট তেজগাও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
৩। ২২ বালুচ রেজিমেন্ট ইপিআর কে নিরস্ত্র করবে এবং পিলখানা সদর দপ্তরের ওয়ারলেসের নিয়ন্ত্রন হাতে নেবে।
৪। ৩২ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট রাজারবাগ পুলিশ লাইন নিয়ন্ত্রনে আনবে।
৫। ১৮তম পাঞ্জাব রেজিমেন্ট নবাবপুর এবং পুরান ঢাকায় তল্লাশী চালাবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
৬। ৩১ ফিল্ড রেজিমেন্ট ঢাকার সুরক্ষায় থাকবে। এবং মোহাম্মদপুর ও মিরপুর দখল করবে।
৭। ৩ নং স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের একটি কমান্ডো প্লাটুন শেখ মুজিবুর রহমানকে বন্দী করবে। (অভিযানে অংশ নেবে ৩ নং এসএসজির একটি কোম্পানী তিনটি দল বা প্লাটুনে বিভক্ত হয়ে, একটি প্লাটুন মুল অপারেশনের জন্য, আর বাকী দুটো সাপোর্ট পার্টি)
৮। ২২ বালুচ এবং ৩২ পাঞ্জাব ঢাকা ভার্সিটির “বিদ্রোহীদের” দমন করবে। প্রধান টার্গেট হবে জগন্নাথ হল।
৯। সবশেষে ২২ বালুচ পিলখানায় রিইনফোর্সমেন্ট হিসেবে গমন করবে।

২য় পর্ব এ পর্যন্তই থাক। আগামী পর্বে এই লেখা শেষ করব ইনশাল্লাহ। আর সেইখানে থাকবে এই রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে গ্রেফতার অভিযান।

আগামী পর্বে সমাপ্য (এইবার শিউর সমাপ্য :D)

৬০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২৮, ২০১৫ । ১০.৪৬ পি.এম

আজকে লিখতে বসছি অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight) নিয়া। আমি এত এক্সাইটেড যে এখনো গুজ বাম্প হইতাসে। পুরা ব্যাপার টা নিয়া রিসার্চ করার পর আমার মনে হইসে আমি যদি টাইম লাইনের মত ডেট ধইরা ধইরা ঘটনার প্রগ্রেস লিখি তাইলে ব্যাপার টা ভাল মত ব্যাখ্যা করা যাবে। আর একটা লেখায় এত বিশাল ঘটনা লেখার ক্ষমতা আমার নাই । তাই আজকে প্রথম পর্ব আর আরেকদিন ২য় পর্ব লেখার প্ল্যান করসি।

এর আগের লেখা গুলায় বলসি যে ১৯৭০ এর নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ মেজরিটি আসন পাওয়ার পরও পাকিস্তানী সামরিক শাসক এবং ভুট্টো সহ অন্যান্য পশ্চিম পাকিস্তানী নেতাদের কারোই ইচ্ছা ছিল না বাঙ্গালি দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর এর। এদিকে দেশের মানুষও ক্রমেই ফুঁইসা উঠতাসিল এই অন্যায় এর বিরুদ্ধে। ২২শে ফেব্রুয়ারি প্রণীত অপারেশন ব্লিটজ (Operation Blitz) এর কথা আগের লেখায় বলসি। কিন্তু ঘটনা এত দ্রুত মোড় নিচ্ছিল যে পাকিস্তানী রা আরো হিংস্র একটা প্ল্যান এর দিকে আগায় যাচ্ছিল। যার নাম অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight).

১৫ মার্চ, ১৯৭১

সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবের সাথে আলোচনার জন্য ঢাকা আসেন। তার সফরসঙ্গী হন তার উচ্চ পদস্থ সামরিক সহকরমী রা

১৬ ও ১৭ মার্চ, ১৯৭১

ইয়াহিয়া এবং শেখ মুজিবের মধ্যে অফিসিয়াল মিটিং হয় ।
১৭ই মার্চ সন্ধ্যায় মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এই মিটিং এর রেজাল্ট জানতে লিউটেনেন্ট জেনারেল টিক্কা খান এর কাছে জান। টিক্কা খান তারে বলেন, “তুমি যা জান, আমি তত টুকুই জানি”। খাদিম হোসেন রাজা বলেন, “But sir, as a man on the spot, it is your right to know the progress of the discussion so that you don’t fall into any situation without any alert”। টিক্কা খান এর মনে হয় ঠিক ই তো। সে সন্ধ্যায়ই টিক্কা খান এর গাড়ি প্রেসিডেন্ট হাউজে প্রবেশ করে। জানা যায়, ইয়াহিয়া খান তাকে বলেন, “বেজন্মাটা (মুজিব) ঠিক মত আচরণ করছে না। তুমি তৈরি হউ ”। টিক্কা খান রাত দশটায় খাদিম হোসেন রাজা কে বলেন, “Khadim, Go Ahead”

১৮ই মার্চ, ১৯৭১

জিওসি’স অফিসে মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী আর মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা বসলেন খুব ভোরেই।অপারেশনের কোডনেম ঠিক করা হয়েছে অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight) । রাও ফরমান আলী নিজ হাতে ১৬ প্যারায় , ৫ পৃষ্ঠার একটি নীল কাগজের অফিস প্যাডে সামান্য একটি লিড পেন্সিল দিয়ে অপারেশনের খসড়া পরিকল্পনা তৈরী করলেন।

২০শে মার্চ, ১৯৭১

রাও ফরমান আলী অপারেশন সার্চলাইটের মূল উদ্দেশ্য আর পরিধি ঠিক করে দিলেন মেজর জেনারেল খাদিমকে। জেনারেল খাদিম এর মধ্যে ডিটেইলিং করেন। জেনারেল খাদিম ধরে নিলেন অপারেশনের শুরুতেই বাঙ্গালী মিলিটারী ইউনিটসমূহ অন্যান্য প্যারামিলিটারী ইউনিট সমূহের সাথে বিদ্রোহ করতে পারে, তাই তাদের যেকোন মূল্যে নিরস্ত্র অথবা দরকার হলে অপারেশন শুরুর আগেই নির্মূল করতে হবে। সেই সাথে রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করতে হবে প্রেসিডেন্টের সাথে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক চলাকালেই। খসরা পরিকল্পনা থেকে ডিটেইল সহ তৈরি হয় অপারেশনাল অর্ডার।

বিকালে ঢাকা সেনানিবাস এর ফ্ল্যাগ স্টাফ হাউজে অপারেশনাল অর্ডার টি চীফ অফ স্টাফ আব্দুল হামিদ খান এবং লিউট্যানেন্ট জেনারেল টিক্কা খান কে পড়ে শোনানো হয়। বেশ কিছুক্ষন আলোচনার পর জেনারেল হামিদ বাঙ্গালী ইউনিট সমূহকে নিরস্ত্র করবার পরিকল্পনা বাদ দিলেন, এর বদলে তাদের যথাসম্ভব নিস্ক্রিয় করে রাখবার আয়োজন করতে বললেন। আর প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ফোনে তার সাথে বৈঠক চলাকালে রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতারের পরিকল্পনা বাদ দিতে বললেন। ঠিক হল অপারেশনের শুরুতেই রাজনৈতিক নেতাদের যাকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখান থেকেই যতজনকে পারা যায় গ্রেফতার করতে হবে।

২০ – ২৫ মার্চ, ১৯৭১

পরিকল্পনা মোতাবেক ২৪ এবং ২৫ মার্চ জেনারেল হামিদ, জেনারেল মিঠঠা, কর্নেল সাদউদ্দীন এবং আরো অনেকে হেলিকপ্টারে করে নানা গ্যারিসনে গেলেন এবং অপারেশনে সংশ্লিষ্ট নানা কমান্ডারদের ব্রিফিং দিলেন এবং অন্যান্য পশ্চিম পাকিস্তানী অফিসারদের অপারেশন সম্পর্কে জানালেন। জেনারেল ফরমান যশোর সেনানিবাসে গেলেন। জেনারেল খাদিম কুমিল্লা আর চট্টগ্রাম সেনানিবাসে গেলেন অপারেশনের কোঅর্ডিনেশনের জন্য।

সম্পূর্ন গোপনীয়তা বজায় রাখা হল অপারেশন শুরুর আগ পর্যন্ত। কেবল মাত্র অল্প কিছু পশ্চিম পাকিস্তানী লেঃ কর্নেল পর্যায়ের কর্মকর্তা ২৫ তারিখের মধ্যে সম্পূর্ণ অথবা আংশিক পরিকল্পনা জানতে পারলেন কিন্তু তাও কেবলমাত্র জরূরী দরকার বোধ হলেই। যদিও অনেক বাঙ্গালী কর্মকর্তা সম্পূর্ণ পশ্চিম পাকিস্তানী সেনাকর্মকর্তাদের নিয়ে ব্রিফিং এর ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে পড়েন, কিন্তু ব্রিফিং রুমের ভেতরের কথা একবিন্দুও কেউ জানতে পারলেননা চূড়ান্ত আঘাত আসার আগ পর্যন্ত।

বঙ্গবন্ধু ২৪শে মার্চ তার সাথে দেখা করতে আসা প্রথম সারির নেতাদের সবার সাথেই আলাদা আলাদাভাবে সংক্ষেপে কথা সারেন এবং তাদের ঢাকার বাইরে সরে যেতে নির্দেশ দেন। এ থেকে অনুমান করা যায় উনি এ ব্যাপারে কিছুটা হলেও আঁচ করতে পেরেছিলেন। এছাড়াও গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার, যিনি বিমান বন্দরের ডিরেক্টর অপারেশন্স ছিলেন, উনার ভাষ্যমতে উনি ২৫শে মার্চ সন্ধ্যার দিকে একটি বিমানে ইয়াহিয়া খানকে পশ্চিম পাকিস্তান চলে যেতে দেখেন কেবল ২-৩ জন সহযাত্রী সহ। যা উনার বর্ননামতে উনি সেই তথ্য আওয়ামী লীগের কার্য্যালয়ে পৌছে দিয়েছিলেন। যা উনার কাছেও পৌছাবার কথা।

প্রথম পর্ব শেষ। আগামী পর্বে সমাপ্য।

তথ্য সূত্রঃ

বইঃ

বিট্রেয়াল অফ ইস্ট পাকিস্তান – এ এ কে নিয়াজী
ইস্ট পাকিস্তানঃ দ্যা এন্ড গেম- ব্রিগেডিয়ার রেহমান সিদ্দিকী
দ্যা ওয়ে ইট ওয়াজ – ব্রিগেডিয়ার জেড এ খান
বিহঙ্গের ডানা – মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া
ট্রিবিউট টু মিট্টি মাসুদ – ইকতেদার খান
উইটনেস টু সারেন্ডার – সিদ্দিক সালিক
এ নেশন্স শেম – ভাইস এডমিরাল আহসান
ম্যাসাকার- রবার্ট প্যাইন
ট্রাজেডি অফ এররস-ইস্ট পাকিস্তান ক্রাইসিস-(১৯৬৮-৭১)
বাংলাদেশ এট ওয়ার – জেঃ শফিউল্লাহ
এ টেল অফ মিলিয়ন্স- মেজর রফিকুল ইসলাম
এ কে খন্দকারের আত্মজীবনী
বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী

ইন্টারনেট

http://en.wikipedia.org/wiki/Operation_Searchlight
http://en.wikipedia.org/wiki/1971_Bangladesh_genocide

Genocide


http://bangladeshcontinual.blogspot.com/2011/03/operation-searchlight-dark-night-of.html

৫৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২৭, ২০১৫ । ১১.০০ পি.এম

আজকে আমি দুইটা অপারেশন নিয়া পড়সি। ১) অপারেশন ব্লিটজ (Operation Blitz ) ২) অপারেশন সার্চ লাইট (Operation Searchlight)। ২য় টার কথা আগে শুনলেও ১ম টার কথা আগে জানতাম না। ১৯৭১ এর ২৫ শে মার্চ এর রাত্রে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যেই গন হত্যা চালায় এই দেশে, সেইটাই অপারেশন সার্চ লাইট। আর এই অপারেশন সার্চ লাইট ছিল অপারেশন ব্লিটজ এর সিকুয়েল। আজকের লেখাটা এই অপারেশন ব্লিটজ নিয়াই।

অপারেশন ব্লিটজ এর উদ্দেশ্য ছিল এই দেশে সামরিক আইন পুনঃ প্রতিষ্ঠা করা আর অপারেশন সার্চ লাইট এর উদ্দ্যেশ্য ছিল সামরিক ক্ষমতা প্রয়োগ কইরা এদেশের মানুষ রে জন্মের মত সুজা কইরা দেওয়া। আফসুস, আমরা সরল হইলেও বোকা না। আমাদের সুজা করতে আইসা নিজেরাই ব্যাকা হয়া ফেরত গেসে। এই লেখার সব তথ্যের সূত্র লেখার শেষে দিয়া দিসি।

১৯৬৯, ১৯৭০ আর ১৯৭১ এই তিনটা সাল মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে গেলে আসবেই। ১৯৬৯ এ সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় আসেন। তিনি জনগণ রে মুখে বলেন নির্বাচন হবে, গণতন্ত্র আসবে। কিন্তু তলে তলে নিজের জেনারেল দের ঠিক ই বলেন, “Gentlemen, we must be prepared to rule this unfortunate country for the next 14 years or so.”। ইয়াহিয়া খান নির্বাচন এর ঘোষণা দেন। এইটা উনি অনেক মহান ওই জন্য না। তার গোয়েন্দারা তারে রিপোর্ট দিসিল, “নির্বাচনে কোন পক্ষই সরকার গঠনের মত অবস্থায় থাকবেনা যার কারনে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকলেও তারা ১২০ দিনের নির্ধারিত সময়ে একটি সর্বসম্মত সংবিধানের ব্যাপারে সম্মত হতে পারবেননা। যেই ব্যর্থতার দায়ে নতুন নির্বাচনের দিকে দেশ এগিয়ে যাবে এবং ক্ষমতাও সেনাবাহিনীর কাছেই কুক্ষিগত থাকবে।” এই ভরসায় বয়স আমার বাড়ে না গাইতে গাইতে তাই ইয়াহিয়া খাল ইলেকশন এর ডাক দিলেন।

কিন্তু ১৯৭০ এর ৭ ই ডিসেম্বর এর নির্বাচন এর ফলাফল তার সব হিসাব উলটা পালটা কইরা দ্যায়। তিনি ভাবতেও পারেন নাই শেখ মুজিবুর রহমান এর দল এমন নিরংকুশ মেজরিটি পায়া যাবে। শুরু হয় বাংগালিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়া টালটি বালটি।

অপারেশন ব্লিটজ নিয়া বলার আগে একটা ঘূর্ণিঝড় এর গল্প বলি। ১১ই নভেম্বর ১৯৭০ মাঝরাতের ইতিহাস এর সবচেয়ে প্রলয়ংকারি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে দেশের উপকূলীয় জেলা গুলো তে। পরদিন কেবল তিনটি নেভাল বোট এবং একটি হসপিটাল শিপ হাতিয়া, সন্দীপ এবং অন্যান্য এলাকার উদ্দেশ্যে উদ্ধার কাজে গমন করে। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান নভেম্বরের ১৬ তারিখ চীনে রাষ্ট্রীয় সফর স্থগিত করে পূর্ব পাকিস্তানে এসে দূর্গত এলাকার উপর দিয়ে বিমান থেকে উড়ে উড়ে দেখে যান। তিনি দূর্গতদের উদ্ধারে ঘোষনা দেন, “no effort to be spared”। তিনি সকল জায়গায় রাষ্ট্রীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিলেন, সেই সাথে শোক দিবস পালনের ঘোষনা দিলেন ২১ শে নভেম্বর। সাইক্লোন আঘাত হানার ৭ দিন পর!!

প্রায় ৪০ টি দেশের উদ্ধারকারী দল এদেশে এসে পৌছায় সাইক্লোনের ২ সপ্তাহের মধ্যে, জাপানী পার্লামেন্টে সমালোচনা হয় যথাযথ সাহায্য না পাঠাবার জন্য। যে কারনে আবারো জাপানী উদ্ধারকারী দল ত্রান এবং বিমান সহ এদেশে এসে পৌছায় ২ সপ্তাহের মধ্যেই। কিন্তু পাকিস্তানী বিমান বাহিনীর কোন বিমান প্রথম ত্রান কাজের জন্য উড্ড্যন করে সাইক্লোনের তিন সপ্তাহ পার হবার পর!!এজন্য বলা হয়, এটা বিশ্বের ইতিহাসের প্রথম সাইক্লোন যেটা একটা দেশের স্বাধীনতার আন্দোলনে স্ফুলিঙ্গের মত কাজ করেছিলো।

এই ঝড় এর পর দেশে পাকিস্তানি সামরিক আইন শিথিল ছিল। কিন্তু এদিকে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়া টাল বাহানায় জনগণ এর ক্ষোভ দিন দিন বাড়তেসিল। পাকিস্তানি জেনারেল রা এইটা উপলব্ধি করতে পারতাসিলেন যে শেখ মুজিব কে ক্ষমতা না দিয়া পার পাওয়া যাবে না।

ইয়াহিয়া খান সামরিক বাহিনীর সিনিয়র অফিসারদের নিয়া ২২শে ফেব্রুয়ারী Generel Head Quarter (GHQ) , রাওয়াল পিণ্ডি তে এক সভা ডাকেন। সেইখানে তিনি বলেন, “Kill three million of them and the rest will eat out of our hands.” এই সভাতেই ডিসিশন হয়, পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ এর জায়গায় পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার এর নিয়ন্ত্রণ ফিরায় আনতে হবে এবং এই কাজ করবে সেনাবাহিনী। এই সব নীতিগত সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি কইরা দেওয়া নির্দেশ অনুসারে ঢাকার হেডকোয়ার্টার ১৮ ডিভিশন একটা অপারেশন প্ল্যান করে, যার নাম দেওয়া হয় “অপারেশন ব্লিটজ (Operation Blitz )”। এই প্ল্যান এ বলা হয় , যদি শেখ মুজিবুর রহমান এর সাথে সমস্যা নিরসন না করা যায় তাহলে কিভাবে কিভাবে সামরিক শক্তি প্রয়োগ কইরা পুরা দেশে সামরিক আইন এর প্রতিষ্ঠা করা হবে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী অপারেশন ব্লিটজ কে “ইন এফেক্টিভ” স্টেট এ আনার সময় আর পান নাই। ঘটনা এত দ্রুত আগাইতে থাকে যে এর চেয়ে কয়েক গুন ভয়ংকর অপারেশন সার্চ লাইট এর প্ল্যান করা হয়া যায়। অপারেশন সার্চ লাইট এর ডিটেইল প্ল্যানটা একটা সোর্স থেইকা পাইসি। ইনশাল্লাহ আগামী একটা লেখা এইটা নিয়া লিখত হইব।

তথ্য সূত্রঃ

বইঃ

উইটনেস টু সারেন্ডার – সিদ্দিক সালিক
বিহঙ্গের ডানা – মেজর কামরুল হাসান ভুঁইয়া
বিট্রেয়াল অফ ইস্ট পাকিস্তান – এ এ কে নিয়াজী

ইন্টারনেট এবং ব্লগঃ

http://en.wikipedia.org/wiki/Operation_Blitz
http://www.somewhereinblog.net/blog/snatcher/30024621
http://en.wikipedia.org/wiki/Operation_Searchlight

৫৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২৬, ২০১৫ । ১১.৩০ পি.এম

আমাদের কেমন মনমরা একটা টাইম জাইতাসে। নেপাল এর এত বড় একটা দুর্যোগ। ওই খানে আমাদের বন্ধু, আত্মীয় রা কি অবস্থায় আসে না আসে। বাংলাদেশেও ভূমিকম্প প্রতিদিন জানান দিয়া যাইতাসে, আমি কিন্তু আসি, এখন চুপচাপ কিন্তু সাউন্ড বাড়াইলে কিন্তু খবর আসে তোগো। আবার পরশু দিন ভোট যেখানে কোন প্রার্থী সম্পর্কেই আমরা তেমন কিছু জানি না অথচ এদের উপরেই তুইলা দিতে হবে ঢাকার দায়িত্ব। সব মিলায় আমাদের মন ভাল নাই। আমার তো আরো আগে থেইকাই নাই।

নিজেরে নিজে মোটিভেট করার অভ্যাস বসতঃ এই সব সময়ে আমি ইন্সপাইরেশন খুউজা নেই এইখান ওইখান থেইকা। আমার আজকে মনে হইল আমি আর রাশা যখন আড্ডা দেই তখন ওর কাছে অনেক মিউজিসিয়ান দের গল্প শুনি। ওগুলা কিছু কিছু লিখা রাখা দরকার। তাইলে অন্য রাও ইন্সপায়ার্ড হইতে পারবে। এই গল্প গুলার তথ্য সূত্র মূলতঃ রাশা । তবে আমি গুগল সার্চ কইরা ভেরি ফাই কইরা নিসি যে রাশা এগুলা কফি খাইয়া হাইপার হয়া কয় নাই।

শুরু করি লেড জেপ্লিন (Led Zeppelin) এর গিটারিস্ট রে দিয়া। জিমি পেইজ (Jimmy Page)জম্নাইসেন পশ্চিম লন্ডনের একটা সাব আরবান এলাকায়। তার বাপ একটা ফ্যাক্টরি তে এইচ আর ম্যানেজার ছিলেন, আর মা ছিলেন এক ডাক্তার এর এসিস্ট্যান্ট। খুবি ছা পোষা জীবন। জিমি পেজ এর যখন ৮ বছর বয়স তখন তারা একটা নতুন বাসায় শিফট করেন। নতুন বাসায় আইসা জিমি পেজ আগের লোকজন এর রাইখ্যা যাওয়া একটা গিটার পান। তিনি ভাবসিলেন, হুর এই বাতিল মাল লয়া আমি করিব। কিন্তু উনার স্কুল এর কিছু পোলাপানের গিটার বাজানি দেইখা উনি ভাবলেন , আরি আমার বাসা তেও তো এ জিনিষ টা আসে। স্কুলের পোলাপান গুলারে ধইরা উনি গিটার শেখা শুরু করলেন। আর তখন থেইকাই গিটার এর সাথে তার সখ্যতা।

জিমি পেজ তার গিটারিস্ট ক্যারিয়ার এর শুরুর দিকে কয়েকটা ব্যনড এর সাথে বাজাচ্ছিলেন। কিন্তু একটা টুর এর পর তিনি হটাত অসুস্থ হয়া পরেন। তাই ব্যান্ড ছাইরা দেন। তার উনি ভর্তি হন আর্ট স্কুল এ যে তিনি সব সময় চাইসেন। এই স্কুল এ পড়ার সময় ই তিনি নিয়মিত ভিত্তি তে স্টুডিও আর্টিস্ট এর কাজ করতেন মিউজিক এল্বাম গুলা তে। আর্ট স্কুল এ পড়তে পড়তে তার মনে হইল অনেক আর্ট হইসে। আর না থাক। তখন আরো কয়েক জন এর সাথে মিইশশ্যা Led Zeppelin বানায় ফেলেন আর লিজেন্ড হয়া যান।

কুইন ব্যান্ড এর গিটারিস্ট ব্র্যায়ান মে (Brian May) যে গিটার টা ব্যাবহার করেন সেইটা উনি আর বাবা মিল্লা হাতে তৈরি করসিলেন ছোট বেলায়। গীটার তা তৈরি হইসিল তাদের এক পারিবারিক বন্ধু এর ফালায়া দেওয়া ফায়ারপ্লেস এর কাঠ দিয়া। সে জন্য আদর কইরা উনি এই গিটার টারে কখনো কখনো “ফায়ার প্লেস” ডাকেন ।ব্রায়ান মে যে সারাদিন গিটারই বাজাইতেন তা না। পড়ালেখাও করতেন। তিনি একজন এস্ট্রো ফিসিজিস্ট। এস্ট্রো ফিসিক্সে পি এইচ ডি করার জন্য স্কলার শিপ ও পাইসিলেন। কিন্তু মিউজিক করার জন্য সেইটাই ড্রপ আউট করেন।

ব্ল্যাক সাবাথ (Black Sabbath) এর গিটারিস্ট টনি আইওমি (Tonny Iommi). তার বাম হাতের আঙ্গুল সবগুলাই অর্ধেক এর নিচ থেকে কাটা। টনি তখন কাজ করতেন একটা ফ্যাক্টরি তে। যেদিন এই কাজ ছেরে মিউজিক শুরু করতে যাবেন সেই লাস্ট ওয়ারকিং ডে তে তার আঙ্গুল্কের উপর দিয়া মেশিন চলে যায় আর আঙ্গুল সব কেটে যায়। কিন্তু তাতেও উনার গীটার বাজানো বন্ধ হয় নাই। উনি গিটার এর তার গুলাকে উনার মত করে টিউন করে নিসিলেন যাতে পুল করা যায় সেগুলা কে।

আজকে এই ৩ জন এর গল্পই থাকুক। এত ঘুম পাইসে। ঘুমের মদ্যে কি কি যে লিখতাসি আণ্ডা গুনদা

৫৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২৫, ২০১৫ । ১১.৪৩ পি.এম

আধুনিক চিত্রকলার একটা গুরুত্বপূর্ণ মুভমেন্ট/স্টাইল হইল ইম্প্রেশনিজম (Impressionism) । কিন্তু মজার জিনিষ হইল ইম্প্রেশনিস্ট কথাডা প্রথম বার ব্যাবহার করা হইসিল একটা গালি হিসাবে। ইম্প্রেশনিজম টার্ম টা প্রথম ব্যবহার করেন লুইস লি রয়(Louis Leroy) নামের এক সমালোচক। তিনি ক্লদ মনেএ (Claude Monet) এর ইম্প্রেশন সানরাইজ (Impression, Sunrise (Impression, soleil levant)) ছবি টা লয়া Le Charivari পত্রিকায় লেখেন যে, এই ছবি একটা ইমপ্রেশন ছাড়া আর কিছু না। আমার বাসার ওয়ালপেপার ও এর চেয়ে বেশি ভাল।

“Impression—I was certain of it. I was just telling myself that, since I was impressed, there had to be some impression in it … and what freedom, what ease of workmanship! Wallpaper in its embryonic state is more finished than that seascape”

ইম্প্রেশনিজম এমন একটা সময় জন্ম নিসিল যখন পেইন্টিং মানেই মানুষ বুঝতো খুবি পরিশীলিত, সাইজা গুইজা আর্টিস্ট এর সামনে বইসা করানো পোরট্রেইট অথবা ধর্মগ্রন্থ থেইকা উইঠা আসা কোণ ঘটনার পেইন্টিং। ফ্রেঞ্চ একাডেমী অফ ফাইন আর্টস ও এই রিয়ালেস্টিক আর ক্লাসিকাল ঘরানার পেইন্টিং রেই প্রমোট করত আর পোলাপান রে শিখাইত। ল্যান্ডস্কেপ আর স্টিল লাইফ ছবি রে ভাবা হইত নিচু জাত এর আঁকা আঁকি। আর পোড়ট্রেইট আর হিস্টোরিকাল ছবি বিশাল দাম এ বেচা হইত।

ওইসময়ের চার তরুণ আর্টিস্ট ক্লদ মনেএ (Claude Monet), পিয়েরে রেনোয়া ( Pierre-Auguste Renoir) আলফ্রেড সিস্লি ( Alfred Sisley) আর ফ্রেড্রিক বেজিইল (Frédéric Bazille) এর চিন্তা ভাবনা ফ্রেঞ্চ একাডেমি থেইকা পুরাই আলাদা ছিল। ইনারা যেই ক্যাফে তে আড্ডা দিতে যাইতেন সেইখানে আরেকজন আর্টিস্ট ছিলেন এডওয়ার্ড মেনেএ (Édouard Manet) তিনিও আসতেন। ইনারে ওই তরুণ চারজন বেশ শ্রদ্ধা ভক্তি করতেন। তাদের লগে আরো আসিলেন Camille Pissarro, Paul Cézanne, আর Armand Guillaumin এর মত আর্টিস্ট রাও।

এই মেনেএ এর ছবি ফ্রেঞ্চ একডেমি রিজেক্ট কইরা দিসিল। কইসিল যে এইডা আমাগো একজিভিশন এ দেখানি যাইব না। কারন ইডা উঁচা জাত এর পেইন্টিং হয় নাই। ফ্রেঞ্চ একাডেমী অফ মডার্ন আর্ট এর এই নাক উঁচা এলিট জাজমেন্ট এ মেনেএ এর অনুসারী সেই তরুণ আর্টিস্ট রা খুবি বিরক্ত ছিলেন কারন তাদের ছবিও একাডেমী বাতিল কইরা দিসিল । আস্তে আস্তে দানা বাধতেসিল নতুন রেভোলিউশন এর ।

অবস্থা বুইঝা সম্রাট ৩য় নেপোলিয়ন কইলেন এই বাতিল গো লয়া একটা আলাদা একজিভিশন হইব (The Salon of the Refuse)। পাব্লিক ই ঠিক করুক, কুনটা ভাল আর কুনটা খারাপ। পাবলিক এর তো এই নতুন ইস্টাইল দেইখা মাথা মুথা খারাপ। ১৮৮৩ থেইকা ১৮৮৬ এই তিন বছর নিয়মিত ভাবে এই বাতিল দের একজিবিশন চলল আর ইম্প্রেশিনজম এর জায়গাটা পাকা পোক্ত হয়া গেল মডার্ন আর্ট এর দুনিয়ায়।

এতো খন যা কইসি তা তো ইম্প্রেশনিজম এর ইতিহাস। কিন্তু একটা পেইন্টিং রে ইম্প্রেশনিজম আর্ট কখন বলা যাবে এইডা বুঝাও তো জরুরি। ইম্প্রেশনিজম আর্ট সেইটাই যেইটা দেখলে মনে হবে যিনি আক্সেন তিনি ঘটনার দিকে হঠাত এক নজর তাকাইসেন আর আইক্কা ফালাইসেন। ওই সময় উনার মনের উপরে ঘটনা টার, দৃশ্য টার যেই ছাপ পরসে উনি সেটাই আক্সেন।

ছোট ছোট ব্রাশ স্ট্রোক ব্যাবহার কইরা আঁকা ইম্প্রেশনিজম আর্ট এর ছবি গুলায় মানুষ বা অন্য কিছুর কিছুর একটা ধারনা বা ইম্প্রেশন দেয়া হয় কিন্তু খুব ডিটেইলে না। এমন না যে মানুষ বা গাছ একদম ফটো রিয়ালিস্টিক কইরা আঁকা হয় যাতে এক্কেরে চেহারার ডিটেইল, নাকের লুম কিংবা গাছের গায়ে জরিনা+কুদ্দুস সব দেখা যায়। কিন্তু বুঝা যায় কুন টা গাছ আর কুনটা মানুষ।

খেয়াল করলে দেখবেন ইম্প্রেশনিস্ট আর্টিস্টরা তাদের আঁকা ছবিতে রঙ গুলা আনব্লেন্ডেড মানে একটার সাথে আরেকটা মিশা যায় নাই এমন রাখে। এমনে ছবি তে বেশ একটা ডাইনামিক কালার এফেক্ট আসে। কারন আমাদের চোখ আর মস্তিষ্ক আলাদা আলাদা কালার রিকগ্নাইজ করতে পাইরা খুবি খুশি হয় আর আমরা ভাবি আহা কি সুন্দর কালার ছবি টার।

ইম্প্রেশনিজম আর্টিস্ট দের সাবজেক্ট নির্বাচন করা তাদের টেকনিক এর মতই আলাদা ছিল। বেশির ভাগ ইম্প্রেশনিস্ট আর্টিস্ট ই শহুরে মানুষের দৈনন্দিন জীবন কে তাদের ছবির সাবজেক্ট হিসাবে বাইছা নিসেন।

ইম্প্রেশনিজম আর্ট এর আরেকটা লক্ষ্যনিয় জিনিষ হইল ছবি তে ন্যাচেরাল লাইট এর প্রভাব। এক্টু যদি কস্ট কইরা গুগল কইরা ক্লদ মনেএ (Claude Monet) এর Woman with a Parasol ছবি টা দেখেন তাইলে বুঝতে সুবিধা হইব কি কইতে চাইতাসি। এই ছবি টাতে মনেএ উনার বউ আর পিচ্চি রে আকসেন। খুবি সাধারণ একটা দৃশ্য। উনার বউ কেমেলি একটা বড় ছাতি (Parasol) লইয়া দাড়ায় রইসেন। পিছনে টুপি পরা উনার ছেলে জিন মনেএ। কিন্তু ছাতাটার উপর সূর্যের আলো, টুপির উপর সূর্যের আলো আর পায়ের কাছের হলুদ ঘাস ফুল গুলায় সূর্যের আলোর খেলা টা খেয়াল করেন। আর পিছনে মেঘের সাথে আকাশের মেলামেশা তো মন ভাল কইরা দেয়ার মত নীল। এইখানে কোথাউ কিন্তু তাদের দুইজন এর চেহারা ডিটেইল এ বুঝা যাইতাসে না। কিন্তু ছবি টা যে আর্টিস্ট এর সাথে সাথে আমরা যারা দেখতাসি তাদের মনেও একটা ইম্প্রেশন তৈরি করে তাতে কোনই সন্দেহ নাই।

আরেকজন আর্টিস্ট ছিলেন মনেএ এর সাথে রেনোয়া। রেনোয়া এবং মনেএ টানা দুই মাস এই নতুন স্টাইল টা পারফেক্ট করার কাজে লাইগা থাকেন। যা পরবর্তী তে আর্টিস্ট রা ইম্প্রেশনিজম বইলা ফলো করে। রেনোয়ার প্রথম দিক কার কাজ এ দেখলে বোঝা যায় উনার পোরট্রেইট এর প্রতি একটা বিশাল দুর্বলতা ছিল। যেইটা পরে ইম্প্রেশনিজম আর্ট শুরু করার পরেও হারায় যায় নাই। অনেকে বলেন, পোরট্রেইট থেইকা আয় করা টাকা পয়সাই তারে স্বাধীনতা দিসিল ইম্প্রেশনিজম এর মত স্টাইল নিয়া কাজ করার। এই বিষয় টা যারা বিয়ার ফটোগ্রাফি করেন তাদের ইন্সপায়ার করব বইলা আমি মনে করি। রেনোয়ার একটা ছবি আসে Dance at Le Moulin de la Galette। এইটারে তখন কার ক্রিটিক রা পছন্দ করে নাই মোটেও। এখন এইটা রে ইম্প্রেশনিজম এর একটা অন্যতম মাস্টার পিস হিসাবে গণ্য করা হয়।

ইম্প্রেশনিজম দিয়া প্রভাবিত হইসিলেন সিজেন ও । আগের লেখায় বলসি তার আঁকা ছবি আবার প্রভাবিত করসিল পিকাসো আর জর্জেস ব্রক রে কিউবিজম কনসেপ্ট টা শুরু করতে। ইম্প্রেশনিজম যে শুধু পেইন্টিং এ থাকে তা না। ইম্প্রেশনিজম প্রভাবিত করসিল কবিতা আর সংগীত কেও। আগ্রহ থাকলে Charles Baudelaire এর কবিতা নিয়া আর Claude Debussy এর কম্পোজ করা মিউজিক নিয়া পইড়া দেখতে পারেন। আরো একটা জিনিষ আসে যেইটার নাম পোস্ট ইম্প্রেশনিজম। এইটা লওয়াও পড়তে পারেন যদি মুঞ্ছায় জানতে।

লেখাটা শেষ করি একটা রেফারেন্স দিয়া। Edgar Degas এর ব্যালেরিনা দের উপর করা কাজ গুলা দেইখেন। আমার অনেক ভাল্লাগসে উনার ব্যালেরিনা দের উপর করা কাজ গুলা।

৫৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২৪, ২০১৫ । ১১.১৭ পি.এম

সময়টা এক্টু দাঁড়াক। রাস্তা টা, মানুষ গুলা, আকাশটা সবাই চুপ চাপ তাকিয়ে থাকুক আমার দিকে। কোন উত্তর চাওয়া যাবে না। আমি একটু ভাবি, আচ্ছা? মাথার ভেতর ফাকা হয়ে যাচ্ছে দ্রুত। কিছু এক্টা ভেবে ফেলতে হবে এখনি। এই বিষন্নতা ডায়েট কন্ট্রোল জানে না। বিষন্নতার ওজন বেড়েই যাচ্ছে প্রতিদিন। আমার মনে হচ্ছে কোন কিছুর কোন মানে নেই। আমি ধীরে ধীরে একটা কাল রং এর স্পঞ্জ হয়ে যাচ্ছি। শুষে নিচ্ছি সব। বের করছি না কিছুই। ফলাফল, সব কিছু থেকে সব চেয়ে খারাপ টা আশা করা অভ্যাস হয়ে যাচ্ছে। কিছু যদি ভাল হয়ে যায়, ভাগ্য না হয় করুনাময় এর করুনা, ভেবে নিই সাথে সাথেই। তারপর আবার সোয়াচ অফ নো ল্যান্ড। কুল নাই, কিনার নাই। আপ্নারা আরেক্টু থেমে থাকুন। আমার ভাবনা আরো বাকি আছে। ফুটপাথে একটু বসলাম। ফুটপাথে হঠাত বসে পরার মধ্যে বেশ একটা সাহসি ব্যাপার আছে কিন্তু। তখন আর কাউকে তেমন বড় কিছু মনে হয় না। মনে হয়, তোমরা তোমাদের কাজ এ যাও। ভিড় বাড়াও, সমস্যা বাড়াও। তোমার জন্য বানানো মানুষ টাকে খুজে পাবার আনন্দে আট টুকরা হও। আমি অস্বীকার করলাম সব। আমি এই মেনে নেয়া, মনে নেয়া অস্বীকার করলাম। আমার সব অভিমান দিয়ে মেঘ বানিয়ে ঢুকে গেলাম তার ভিতর। চাদর মুরি দিয়ে ভুলে গেলাম সব। আমি প্লাগ খুলে দিলাম মন এর। দরকার নেই আর আমার কিছুর। প্রয়োজন নেই অনুভুতির গ্যাস জ্বলে জ্বলে ফুরানোর। থাক।