৭৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১৩, ২০১৫ । ১১.৪৪ পি.এম

“কিলো ফ্লাইট” নিয়া লেখা কন্টিনিউজ। আগের লেখায় বলসি কিভাবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আর কিলো ফ্লাইট এর অফিসিয়াল যাত্রা শুরু হইল। এই টাও বলা হইসে যে কিলো ফ্লাইট এর তিনটা এয়ারক্র্যাফট এর একটাও যুদ্ধ বিমান ছিল না। সব ই ছিল বেসামরিক বিমান যেগুলা ইভেন যুদ্ধের জন্য ডিজাইন্ড ও ছিল না। কিন্তু আমরা তাতে হাত পা গুটাইয়া বইসা থাকি নাই।

“কিলো ফ্লাইট” এর অধিনায়ক করা হয় স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ কে। এই লোক টা একটা বেশি জোস লোক। মুক্তিযুদ্ধের আগে তিনি পাকিস্তান এয়ারফোরস এ ছিলেন। তার বেজ ছিল করাচীর একটু দূরে মাসরুর, মৌরিপুর এ । যখন যুদ্ধের মেঘ জমা হচ্ছিল পূর্ব পাকিস্তান এর আকাশে তখন উনি আগেই বুঝতে পারেন যে দেশ এর জন্য তাকে দরকার। ৮ই মার্চ তিনি কর্মস্থল থেইকা ছুটি নিয়া শ্রীলঙ্কা হয়া ঢাকা চইলা আসেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হইলে স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ ২ নম্বর সেক্টরে সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেন। পরে উনাকে হাই কমান্ড থেইকা ১ নম্বর সেক্টর এ দেয়া হয়। ১ নম্বর সেক্টর এ সম্মুখ যুদ্ধে তিনি অনেক গুলা অপারেশন এ যোগ দেন। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য হইল তিনি কাপ্তাই এর মদনাঘাট বিদ্যুৎ কেন্দ্র উড়ায় দেন এবং তাতে পুরা চট্টগ্রাম এর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়া গেসিল। এই অপারেশন এর সময় তার পায়ে গুলি লাগে। তারপরও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠন হইসে খবর পায়া তিনি রউনা দেন ডিমাপুর এর দিকে। ১৪ই অক্টোবর ডিমাপুরে তিনি অফিসিয়ালি “কিলো ফ্লাইট” এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এই রকম একজন ইন্সপায়ারিং অফিসার ইন কমান্ড পায়া সবার মধ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা আইসা পরে। ডিমাপুরে বিমান সেনা দের শুরু হয় ঘাম ঝরানো ট্রেইনিং। এই টা শুরু হইত প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগে ৪ মাইল দৌড় আর এক্সারসাইজ এর মাধ্যমে। একি সাথে চলতে থাকে কিলো ফ্লাইট এর বিমান তিনটা কে যুদ্ধের জন্য কাস্টোমাইজ করার কাজ।

Dc-3 Dakota বিমানে একটাই দরজা থাকে পিছনে। এইটারে খুইলা ফালানো হয়। বিমানের ভিতরে মোট ১০০০ পাউন্ড ওজনের বোমা ক্যারি করার জন্য সেলফ বা র‍্যাক লাগানো হয়। দরজার সামনে দুইটা স্টিল এর পাত দিয়া বোম্ব বে বানানো হয়। এমন ভাবে লাগানো হইসিল যাতে এই পাত এর উপরে বোমা রাখলে গড়ায়া সামনে গিয়া দরজার বাইরে চইলা যাবে। পুরাই বাংলা নিয়মে DC-3 Dakota এর মত পরিবহন বিমান টাকে বোম্বার বানায় ফেলা হয়। উদ্দ্যেশ্য ছিল ঢাকা এয়ারপোরট এ বোমা ফেলা।

DHC-3 Otter বিমান আর Alouette-III হেলিকপ্টারে লাগানো হয় রকেট পড। এই জন্য Otter টার ডানার নিচে আর Alouette টার দুই পাশে স্টিলের স্ট্রাকচার বা Truss বানায়া এক এক পাশে ৭ টা কইরা মোট ১৪ টা রকেট বহন করার ব্যাবস্থা করা হয়। এই রকেট গুলা ছিল ফ্রান্সের তৈরি ৫৭ মি. মি. MATRA । DHC-3 Otter বিমান আর Alouette-III হেলিকপ্টার দুইটার সামনেই টার্গেট সেট করার জন্য ছোট বৃত্তের মধ্যে + চিনহ ওলা জিনিষ টা যারে বলে Aiming Site লাগানো হয়। ৩৬০ ডিগ্রি ঘুইরা গুলী করতে পারে এমন একটা কইরা কইরা মেশিন গান লাগানো হয় DHC-3 Otter বিমান আর Alouette-III হেলিকপ্টারে। অপারেশন চলাকালীন সময় গোলাগুলি তো হবেই। তাই Alouette-III হেলিকপ্টারে পাইলট দের পায়ের নিচে ১ ইঞ্চি পুরু স্টিলের প্লেট বিছানো হয়।

বিমান তিনটার জন্য ভারতের পক্ষ থেইকা তিন জন ইন্সট্রাক্টর পাইলট দেয়া হয়। এদের অবদান বাংলাদেশ সারা জীবন শ্রদ্ধা নিয়া স্মরণ করবে। ইনারা ছিলেন,

১। DC-3 Dakota এর জন্য: স্কোয়াড্রন লীডার সঞ্জয় কুমার চৌধুরী
২। DHC-3 Otter এর জন্য ফ্লাইট লেফটেনেন্ট ঘোষাল
৩। Alouette-III হেলিকপ্টারের এর জন্য ফ্লাইট লেফটেনেন্ট কে সি সিংলা।

ইনাদের মধ্যে সঞ্জয় কুমার চৌধুরীর কথা বিশেষ ভাবে স্মরণীয়। তিনি শুধু ইন্সট্রাক্টর পাইলট হিসবে দায়িত্ব পালন কইরাই থাইমা যান নাই। কখনো ওটার বিমানের মেশিন গানার হিসাবে কখনো হেলিকপ্টারে আইসা মুক্তিযোদ্ধা দের সাথে সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।

ডিমাপুর এর পাহাড় আর জঙ্গলের মধ্যে শুরু হয় ফ্লাইং ট্রেইনিং। কখনো পাহাড়ের উপর গাছ কাইটা পরিষ্কার কইরা, কখনো গাছের উপর প্যারাসুট বিছায়া টার্গেট বানানো হয়। রাডার কে ফাকি দেওয়ার জন্য অনেক লো তে ফ্লাই করার ট্রেনিং নিতে হইতেসিল আমাদের পাইলট দের। দেশে তখন মুক্তিযুদ্ধ চলতাসে পুরা দমে। দিনে রাতে কখন অপারেশন চালাইতে হয় ঠিক নাই। তাই পাইলট দের কে নাইট ফ্লাইং এর ট্রেনিং ও নিতে হইতাসিল।

এই ভাবে দিন রাত এক কইরা ভারতীয় ইন্সট্রাক্টর, বিমান, ফুয়েল, গোলা বারুদ ইত্যাদির সহযোগিতায় বাংলাদেশ এর পাইলট রা আকাশ পথে দেশ মা কে মুক্তো করার প্রশিক্ষণ নিতে থাকেন। আগায়া আস্তে থাকে চূড়ান্ত অভিযান গুলা শুরু করার দিন। সেই কাহিনী যে কত এক্সাইটিং, আমি হয়ত আমার দুর্বল লেখা দিয়া পুরাপুরি বুঝাইতে পারবো না।

তবু, আমি মনে করি, আমাদের যা জানানো হয় নাই, জানতে দেয়া হয় নাই, আমাদের দায়িত্ব সেইটা পরের জেনারশন কে জানায় যাওয়া। আমার জন্য একটু দুয়া কইরেন যাতে এই ইতিহাস গুলা লিখা যাইতে পারি ঠিকমত। কেউ না কেউ তো পড়বেই। আগামী লেখায় কিলোফ্লাইট এর অপারেশন নিয়া লেখার ইচ্ছা রাখি।

৭৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১২, ২০১৫ । ৯.৫২ পি.এম

আজকের লেখা টা একটু বড়, কিন্তু বিষয় টা আরো বেশি বড়। আগের একটা লেখায় আমি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় কিভাবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠনের প্রসেস টা শুরু হইসিল সেইটা নিয়া লিখসিলাম। আজকে লিখতে বসছি কেমনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অফিসিয়াল ডিক্লেয়ারশন হইল আর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম ইউনিট “কিলো ফ্লাইট” নিয়া। “কিলো ফ্লাইট” মুক্তি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে আকাশ পথে। আমি জানি না এই এত গর্বের এত এক্সাইটিং সব ডিটেইল ক্যান একদম জনগণ লেভেলে জানানো হয় নাই। আজকের সকল তথ্যের সূত্র মেজর কামরুল হাসান ভুইয়া , সেন্টার ফর বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজ, বাড়ী# ৪৪৮/এ , রোড# ৭ (পূর্ব), বারিধারা ডি ও এইচ এস, ঢাকা – ১২০৬

আগের লেখাটায় আমি বলসিলাম কিভাবে ভারতীয় বিমান বাহিনীর কাছ থেইকা বিমান সংগ্রহের চেষ্টা চালাইতেসিল বাংলাদেশ। অনেক দেন দরবার আর কূটনৈতিক কলা কৌশল, পারিবারিক চাপ প্রয়োগ ইত্যাদির পর ভারতীয় বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠনের জন্য দুইটা প্লেন আর একটা হেলিকপ্টার উপহার হিসাবে দেওয়া হয়। এগুলা হইল,

ফিক্সড উইং এয়ারক্র্যাফটঃ
১। আমেরিকার MacDonnell Doglas এর তৈরি DC-3 Dacota
২। কানাডার de Havilland এর তৈরি DHC-3 Otter
আর
রোটারি উইং এয়ারক্র্যাফটঃ
৩। ফ্রান্স এর Alouette-III হেলিকপ্টার।

মজার জিনিশ হইলে উনারে তিনটা বিমান দিসেন বইলা ভাব সাব নিলেও ১ নম্বর এ যেইটা লিখসি সেইটা ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিমান ই ছিল না। একটু ঘাটাঘাটি কইরা পাইসি DC-3 Dacota টা ছিল যোধপুর এর মহারাজার ব্যক্তিগত বিমান। উনি বাংলাদেশ কে বিমান টা উপহার দিতে চাইসিলেন। কিন্তু আইনগত জটিলতার কারনে বিমান বাহিনীর মাধ্যমে দিসিলেন। ভারতীয় বিমান বাহিনী এতই বিমান যে অন্যের বিমান নিজেদের নাম এ চালায় দিয়া শুধু মহান ই হন নাই, “কিলো ফ্লাইট” এর প্রথম অপারেশন এর জন্য যখন প্ল্যানিং শেষ , হাড় ভাঙ্গা খাটুনি দিয়া বিমান গুলা কে কাস্টমাইজ করা শেষ , ঠিক এমন সময় , অপারেশন এর আগের দিন ভারতীয় বিমান বাহিনীর পক্ষ থেইকা বলা হয় ডাকোটা বিমান দিয়া কোন অপারেশন চালানো যাবে না। এইটা শুধু ট্রান্সপোর্ট বিমান হিসাবে ব্যাবহার করা যাবে। এই ঘটনা পরের লেখায় বিস্তারিত বলা হবে। আপাতত মুল গল্পে ফেরত যাই।

সেপ্টেম্বর ১৯৭১। এই বিমান তিনটা কে নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর এ ২য় বিশ্বযুদ্ধে ব্যাবহরিত একটা পরিত্যাক্ত এয়ার স্ট্রিপ এ নিয়া যাওয়া হয়। এই খানে অবকাঠামো বলতে কিছুই ছিল না। ৫০০০ ফিট এর একটা রানওয়ে ছিল (টু কম্পেয়ার, আজকের ঢাকা এয়ারপোর্ট এর রানওয়ে ১০৫০০ ফিট) আর রানয়ের পাশে একটা দোতলা কাঠের ঘর ছিল। ব্যাস এই। কোন রাডার, রানওয়ে লাইট, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার ইত্যাদি কিছুই নাই। পাইলট দের মনে মনে আল্লাহ মেহেরবান বইলা সুরা পরতে পরতে নিজ দায়িত্তে টেকঅফ আর ল্যান্ডিং করা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। তবু আমরা মাইনা নিসিলাম। মা কে স্বাধীন করতে হবে যে।

একটু চিন্তা করেন, আজকে আশে পাশে একটা ভূমিকম্প হইলে আমরা এই বিমান বাহিনী দিয়া ত্রাণ পাঠাই। বিদেশের বিমান পেটের ভিতর কইরা আমাদের বিমান বাহিনীর জন্য হেলিকাপ্টার নিয়া আসে। ভিক্ষা পাওয়া হেলিকাপ্টার না, নগদ টাকায় কিনা হেলিকপ্টার, শান্তি মিশনে কাজ কইরা পাওয়া হেলিকপ্টার। দেশ যে আগাইসে এইটা ফিল করাও জরুরি কিন্তু।

যাই হোক, বিমান তো পাওয়া গেল। এখন পাইলট? আর ক্রু? আর এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ার? এগুলাও তো লাগবে। কিন্তু চারপাশে তখন পাকিস্তানী চর। কোন মতে যদি পাকিস্তান জানতে পারে যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠন করতে যাইতাসে তাইলে তারা স্যাবোটাজ চালাবেই। কে না জানে পাকিস্তানী গুলার ঘরে ঘরে বোমা বানানির কুটির শিল্প আছে।

২৪ শে সেপ্টেম্বর,১৯৭১। গ্রুপ ক্যাপ্টেন আব্দুল করিম খন্দকার এর নির্দেশে ফ্লাইং অফিসার বদরুল আলম কলকাতা থেইকা আগরতলা আসেন পাইলট, ক্রু, ইঞ্জিনিয়ার, গ্রাউন্ড স্টাফ, এটিসি এগুলা সংগ্রহ করার জন্য।

২৬ শে সেপ্টেম্বর,১৯৭১। মাত্র ২ দিন এ চরম গোপনীয় তায় রাত দিন খাটা খাটনি কইরা তিনি ক্যাপ্টেন শরফুদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন আব্দুল মুকিত এবং ৫৭ জন বিমান সেনা সহ ডিমাপুর বেজ এ ফেরত আসেন। তখন এরা জানতেন না বিমান বাহিনীর কথা। জানতেন যে কিছু একটা হচ্ছে, দেশের জন্য।

২৭ শে সেপ্টেম্বর , ১৯৭১। গ্রুপ ক্যাপ্টেন আব্দুল করিম খন্দকার এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শামসুল আলম কলকাতা থেইকা ডিমাপুর বেজ এ আসেন। তখন ই সবাই জানতে পারেন যে পরের দিন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠিত হইতে যাইতাসে। আর সেইটা এই খানে , ডিমাপুর বেজ এই।

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ১৯৭১। সকাল ১১ টায় এক্টা DC-3 তে কইরা ডিমাপুরে আসেন ভারতীয় বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল “পিসি লাল”, এয়ার অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ ইস্টার্ন এয়ার কমান্ড মার্শাল “হরি চান্দ দেওয়ান”, জোড়াসাঁকোর ঘাঁটির স্টেশন কমান্ডার গ্রুপ ক্যাপ্টেন “চন্দন সিং”। ভারতীয় এয়ার চিফ কে একটা ছোট গার্ড অফ অনার দ্যায় বাংলাদেশ এর বিমান সেনা রা। গ্রুপ ক্যাপ্টেন আব্দুল করিম খন্দকার এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দ্যান। বাংলাদেশ সরকার এর পক্ষ থেকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন আব্দুল করিম খন্দকার কে বিমান বাহিনীর প্রধান হিসাবে নিযুক্তি দেয়া হয়। ভারতের ডিমাপুরে উড়ল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম পতাকা।

বিমান বাহিনীর গঠনের পর এইবার কাজ আসে ইউনিট গঠনের। একটা বিমান বাহিনী তে বিভিন্ন ধরনের ইউনিট থাকে। ফাইটার ইউনিট, রাডার ইউনিট, রিকনিসেন্স ইউনিট, বোম্বার ইউনিট ইত্যাদি। আমাদের যেহেতু বিমান ই ছিল মাত্র তিনটা তাই খুব বেশি বিলাসিতা করার সুযোগ ছিল না। প্রত্যেক বিমান এর জন্য ৩ জন কইরা মোট ৯ জন পাইলট ঠিক করা হয়। এই ৯ জন পাইলট আর ৩ টা বিমান নিয়া গঠিত হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম ইউনিট “কিলো ফ্লাইট”।

নাম টা “কিলো ফ্লাইট” হইল ক্যান এইটা একটু ব্যাখ্যা করি। এইটা মনে হয় সবাই জানে যে মুক্তিযুদ্ধে স্থল বাহিনী গুলার নাম দেওয়া হইসিল তাদের অধিনায়ক এর নাম অনুসারে । যেমন লেফটেনেন্ট কর্নেল জিয়াউর রহমান এর জেড ফোরস, লেফটেনেন্ট কর্নেল কাজী মোহাম্মদ শফীউল্লাহর এস ফোরস, লেফটেনেন্ট কর্নেল খালেদ মোশাররফ এর কে ফোরস এই রকম। তো বিমান বাহিনীর ইউনিট এরও এরকম একটা নাম দেওয়া দরকার ছিল। যেহেতু বিমান বাহিনী প্রধান এর নাম আব্দুল করিম খন্দকার তাই খন্দকার এর প্রথম অক্ষর K কে বাইছা নেওয়া হয়। এভিয়েশন এ এই অক্ষর গুলা কে উচ্চারণ করার জন্য একটা নিয়ম আসে। যেমন a কে বলা হয় আলফা, c কে চার্লি, M কে মাইক, J কে জুলিয়েট এরকম একদম z পর্যন্ত (আল্লাহর রহমতে প্লেন এর রেজিস্ট্রেশন এমনে মনে রাখতে রাখতে আমার এক্কেরে A থিকা z পুরাডা মুখস্ত হয়া গেসে) । এই নিয়মে K কে বুঝানোর জন্য বলা হয় কিলো। সেইখান থেইকা নাম হইসে “কিলো ফ্লাইট”।

কিলো ফ্লাইট এর ৯ জন পাইলট এর মধ্যে ৬ জন ই ছিলেন বেসামরিক পাইলট আর ৩ জন প্রাক্তন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর। এই ৬ জন বেসামরিক পাইলট এর মধ্যে ৪ জন এক্স পি.আই.এ (পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স) পাইলট, একজন বিমান থিকা ক্রপ ডাস্টিং করত অর্থাৎ ওষুধ দিত এরকম পাইলট (ইয়েস, আই রিমেম্বার ডাস্টি ফ্রম দা মুভি প্লেন্স) আর একজন ওষুধ কোম্পানি “সিবা গেইগী” ( এইট্টিজ এর কিডজ ইউল নো, সিবা গেইগি কি জিনিশ, বিষণ্ণতা একটি রোগ এর বিজ্ঞাপন দেখাইত যে কোম্পানি, সেই সিবা গেইগি) ।

কিলো ফ্লাইট এর ৯ জন পাইলট এর নাম আর তাদের কারা কোন বিমানে ছিলেন সেইটাও যোগাড় করসি। ছবিও যোগাড় করসি/করতাসি কিছু। ইনাদের নাম গুলা দিয়া আজকের লেখা শেষ করি

Alouette-III হেলিকপ্টার
১। স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ (প্রাক্তন পাকিস্তান এয়ার ফোরস)
২। ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দিন আহমেদ (প্রাক্তন পি আই এ)
৩। ফ্লাইং অফিসার বদরুল আলম (প্রাক্তন পাকিস্তান এয়ার ফোরস)

DHC-3 Otter বিমান
১। ফ্লাইট লেফটেনেন্ট শামসুল আলম (প্রাক্তন পাকিস্তান এয়ার ফোরস)
২। ক্যাপ্টেন আকরাম আহমেদ (প্ল্যান্ট প্রোটেকশন ডিপারটমেন্ট)
৩। ক্যাপ্টেন শরফুদ্দিন আহমেদ (ওষুধ কোম্পানি সিবা গেইগির পাইলট)

DC-3 Dakota বিমান
১। ক্যাপ্টেন আব্দুল খালেক (প্রাক্তন পি আই এ)
২। ক্যাপ্টেন আব্দুল মুকিত (প্রাক্তন পি আই এ)
৩। ক্যাপ্টেন কাজী আব্দুস সাত্তার (প্রাক্তন পি আই এ)

আগামী লেখায় কিভাবে এই বিমান গুলাকে যুদ্ধ বিমানে কাস্টমাইজ করা হইল আর আমাদের বৈমানিক দের যুদ্ধে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হইতাসিল তা লেখার ইচ্ছা রাখি।

৭৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১১, ২০১৫ । ১০.৫২ পি.এম

আজকে ১১ই মে, সালভাদর ডালির জন্মদিন। আমার ইচ্ছা ছিল ডালি আর সারিয়ালিজম(Surrealism) নিয়া একটা লেখা লেখার। কিন্তু এখন উত্তরা আইসি আর ডালির উপর যেই ভটকা মারকা বইটা পড়সিলাম ওইটা বাসায় থুইয়া আইসি। তাই আইজকা অল্পের উপ্রে দিয়া চালাই দেই।

সারিলিয়াজম এর বাংলা হইল পরাবাস্তবতা। এইখানে বাস্তবতার সাথে কল্পনার এক্টা ফটো রিয়ালেস্টিক মিশ্রন ঘটান শিল্পি রা। মানে হইল গিয়া সারিয়ালিস্টিক ছবি দেখলে দেখবেন অইখানে যে এলিমেন্ট গুলা ব্যাবহার করা হইসে তার এক্টাও কিউবিজম এর মত ভাইইংগা তারপর জুরা লাগানো না, ইম্প্রেশিনজম এর মত কিছুটা আলোর আর মুহুর্তের খেলা আছে কিন্তু এইখানে মানুষ এর মুখ বুঝা যায়। চেহারা গুলা ওই রকম সাটল না। আবার দাদা ইজম এর মত ভাংচুর এন্টি আরট ও না যে দেখলে কিছু বুঝা যাইবো না। যদিও সারিয়ালিজম এর উতপত্তি দাদা ইজম থেইকাই বলা যাইতে পারে।

সারিয়ালিজম এর উদ্ভব ঘটে ১৯২০ সালে। দাদা ইজম এরর অনুসারি কিছু শিল্পি। এরা এমন এক্টা স্বপ্ন দৃশ্য তৈরি করেন যা দেখলে মনে হবে একদম পরিচিত এক্টা দৃশ্য কিন্তু কিজানি পাল্টায় গেছে ভিতরে। যেই জিনিষ্টা যেখানে থাকার কথা সেখানে নাই। আর হয়তো জিনিশটা এমন এক জায়গায় ব্যবহার হইসে যেইটা অই জিনিষের সাথে কনো সম্পরকই নাই।

যেমন আমরা যদি সালভাদর ডালির সব চেয়ে বিখ্যাত ছবি The Persistence of Memory দেইখা সারিয়ালিজম বুঝার চেষ্টা করি তাইলে দেখবো এইখানে উনি কিছু ঘরি আকসেন যা একদম নরম আর গইলা গইলা পরতাসে। আরেক সাইডে এক্টা ঘড়ির রে কিছু পিপড়া ঘিরা ধরসে। এই খানে উনি সরাসরি এই ধারনা রে অস্বিকার করসেন যে সময় আসলে শক্ত ধরাবাধা কিছু না। এইটারে বাকানো মানুষের হাতেই। এইধারনা রেই সাপোর্ট করসে ওয়াইড এংগেলে আকা লেন্ডস্কেপ আর ব্লাণ্ট কিছু কালার এর ব্যাবহার।

এই রম ব্লান্ট, মরবিড কালার এর ব্যবহার সারিয়ালিস্টিক ছবি তে প্রচুর দেখা যায়। আর খেয়াল করবেন যে কয়েক্টা এলিমেন্ট দিয়া এক্টা দৃশ্য তৈরি করা হইসে যেইখানে এলিমেন্ট গুলারে তাদের অরিজিনাল লুক থেইকা ব্রেকাপ করা হয় নাই। হয়তো কোন এক্টা অসম্ভব কিছু ঘইটা গেসে (ঘড়ির গইলা যাওয়া) কিন্তু আমাদের স্বপ্নেও কি তাই ঘটেনা?

ডালির কথা দিয়া শেষ করি। শুধু আন্দাজ কইরা লিখতে কষ্ট লাগতাসে মোবাইল এ। ডালি কিউবিজম আর দাদাইজম নিয়াও এক্সপেরিমেন্ট করসিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সারিয়ালিজম এই স্থির হন। ১৯২৬ সালে ডালি যখন প্রথম বার এর মত প্যারিস যান তখন তার পাবলো পিকাসো এর সাথেও দেখা হয়।

ডালির উপর অনেক অনেক ডকুমেন্টরি আছে ইউটিউব এ। সব দেখতে পারি নাই। জয়নুল আবেদিন, ভ্যান গগ এর পর ডালি আমার ৩য় প্রিয় শিল্পি। তার এক্টা ডায়লগ আমার অনেক পছন্দ,

The only difference between me and a madman is that I’m not mad.

৭২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১০, ২০১৫ । ১০.৪৮ পি.এম

– আম্মা, কই তুমি?
: আমি তো রাস্তায়, আশতাসি
– আচ্ছা আশো। আইশা ফোন দিও
: হ্যালো ইথার, আমি তো আইসা পরসি এপলো তে। তুই আসতে পারবি?
– হ পারবো তো। আশতাসি
: দেখিস, অফিসে ঝামেলা হইব না তো? নাইলে থাক, আমি একলাই পারুম রিপোর্ট দেখাইতে
– আরে না, অলরেডি তো সাড়ে চাট্টা বাজেই। আশতাসি। চিন্তা কইর না
: তারাহুরার দরকার নাই বাবা, আস্তে আস্তে আয়
– আম্মা, আসছি।
: তোর বস বকব না?
– আরে না হুর। কিসু হইব না। তুমি নাম লেখাইস?
: হ বলসি তো কেয়া দিদির কাসে। তুই গিয়া দেইখা আয় তবু কয়জন বাকি
– কেয়া দিদি আবার কেডা?
: আরে ওইজে রিসিপশন এর মেয়েটা। গিয়া বল্লেই হবে। আমারে চিনে।
– তুমি তো যেখানেই যাও সব ফ্রেন্ড বানায় ফালাও। বস, আমি খোজ নিয়া আসি
: এই কাগজ নিয়া যা, দেখাইলেই বুঝবে। আই ডি দেয়া আসে।
– দেইখা আসছি আম্মা। দেরি আসে, বিশাল সিরিয়াল। খাবা কিছু? নরথ এন্ড কফি শপ খুলসে দেখস? কফি খাবা?
: নারে বাবা, খামাখা টাকা খরচ করিস না। আম্রার বাংলা চা ই ভাল। তুই ওই যে চা মেশিনের পাশে যে মেয়ে টা, অর নাম বিথি। ওরে গিয়া বল্লেই দুইটা নেস টি দিবে। যা নিয়া আয়।
– চা মেশিনের মেয়েরেও চিন? তুমি তো ব্যপক। এই যে আনসি। গরম কিন্তু, রাইখা নাও ইক্টু।
: তোর কাপ দে, ফু দিয়া দেই
– আরে না না, কি কর, লজ্জা লাগে। আমি ফু দিতে পারি তো। খাবা কিছু?
: হ, আম্রা এখন খাওয়া শুরু করি আর ডাক্তার ডাকুক আর আমরা চাবাইতে চাবাইতে ডাক্তার এর সাম্নে যাই? তুই এত বেক্কল ক্যান? খাইতে হইলে ডাক্তার দেখার পর খাব নে
– ইয়ে মানে, আচ্ছা আসো ডাক্তাসে। আমাদের সিরিয়াল আসছে।
: এই মেয়ে কি নাম জানি তোমার? মালতি না কি জানি? সব ফুলের নামে নাম। মনেও থাকে না। তোমার বাচ্চাটা ভাল আসে? না। আজকে তোমার আংকেল আসে নাই। এইটা আমার ছেলে। ওরে আজকে অফিস থেইকা ধইরা নিয়া আসছি। সালাম ডাক্তার ভাই।
– আম্মা, শেষ তো দেখানি। চল কোথাউ খাইতে যাই
: ক্যান, কি দরকার, শুধু শুধু টাকা খরচ।
– আরে তোমারে টাকার কথা কে ভাবতে বলসে আচ্ছা চল মেহেদি মারট এ যাই।
: অইখানে কি আসে?
– সুপার শপ। অইযে আগোরা, স্বপ্ন অই টাইপ আরকি। চল রিকশা দিয়া ঘুইরা আগে তোমারে বসুন্ধরা দেখাই। দেখসো রাস্তা গুলা কত আরাম এর? এই যে আইসা পরসি মেহেদি মারট।
: এইটা কিনবো? না থাক। ওইটা? না থাক, কত দাআম!!
– কি শুরু করলা আম্মা। দাম দেখ ক্যান। খালি পছন্দ কর। নিজের জন্য কিছু নাও। কি নিতাসো এগুলা।
: এই যে নিসি তো। দ্যাখ কত কিসু নিয়া ফালাইসি।
– আলু বোখারা, জয়ত্রি, এরোসোল, সার্ফ এক্সেল এগুলা নিজের জন্য? এগুলা তো বাসার জন্য।
: আরে তোরা তো কেউ থাকস না। বাসা মানেই আমি। বাসার জন্য নেওয়া মানেই আমার জন্য নেওয়া। আচ্ছা দেখ এই যে নিজের জন্য নিলাম। হইসে?
– পেস্ট? নিজের জন্য পেস্ট? এইডা নিজের জন্য কিছু?
: আরে আমার তো সাদা পেস্ট দেখলে বুমি আসে, তাই জেল পেস্ট নিসি। নিজের জন্য হইল না?
– আচ্ছা বুঝসি। চল ছাদে যাই
: ছাদে ক্যান? চল বাসায় যাইগা, কিনাকাটি লাগতো না আর। তর কত্ত টাকা খরচ করায় লাইসি।
– আরে চল না। খিদা লাগসে
: এই তর বাপ রে ফোন লাগায় দে। এই শুনেন, ইথার আমাকে খাওয়াইতে আন্সে। এই তোর খালা রে ফোন লাগায় দে। কিরে কি করস, আমি তো ইথারের সাথে খাইতে আসছি। এই তোর বইন রে ফোন লাগা অস্ট্রেলিয়ায়। হেলো মা, কি কর? ওহি মিহি কি করে? এই তো ইথার আমাকে খাওয়াইতে আনসে, পরে কথা বলি।
– আম্মা আরেক্টু খাও না। পরে কথা বইল। ভাই আমাদের বিল টা দিয়েন
: বাবা তোমার নাম কি? দেশের বাড়ি কই? এই হোটেলে কয়দিন ধইরা কাজ কর? আমার ছেলে আমারে খাওয়াইতে নিয়া আসছে। আমাদের এক্টা ছবি তুইলা দাও তো। আমারে কম দেখাইও ছবি তে। আমি দেখতে সুন্দর না তো। ছবি ভাল আসে না।
– আম্মা, কি যে বল এগুলা তুমি। চল। সব বিল দেওয়া শেষ। ব্যাগ গুলা আমি নিতাসি। সি এন জি ঠিক করসি। চল বাসায় যাই।
: তুই আবার এতদুর বাসাবো যাবি? তুই সুভাস্তু নাইম্মা যা। আমি যাইতে পারবো
– এত ব্যাগ বুগ নিয়া তোমারে এক্লা এক্লা ছারবো নাকি। কিছু হবে না। কাল্কে অফিসে আইসা পরব বাসাবো থেইকা।
: আমার ছেলেটা বড় হয়া গেসে। আমার কত গর্ব লাগে
– দুরু আম্মা। চুপ কর তো। চশমাটা ঝাপ্সা হয়া গেসে পাল্টানো দরকার…

৭১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ৯, ২০১৫ । ১১.৪৩ পি.এম

একাত্তুর নাম্বার নোট এ একাত্তুর নিয়া লিখুম না এইটা হয় নাকি। একাত্তুর নিয়া আমার আগ্রহ এর পিছনে সবচেয়ে বেশি অবদান প্লেন এর। আমি শুধু এইটুক জানতাম যে মুক্তিযুদ্ধে দুইটা বিমান আর একটা হেলিকাপ্টার নিয়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠিত হইসিল। তারপর যখন দি এমেজিং ডিসি-৩ বিমান টা আগারগাও এ বিমান বাহিনী যাদুঘর এ আসলো আর আমি আর কারিব ভাই গিয়া টুইন ওটার বিমান টার ককপিট এ বসলাম, ডিসি-৩ টার ককপিট এ বসলাম, কেমন একটা ইলেকট্রিক শক লাগলো শরীর এ । তারপর শুনলাম “কিলো ফ্লাইট” এর কথা। আর দেন ইট অল স্টারটেড মেকিং সেন্স।

ঠিক করলাম , নাহ আমাকে এগুলার ইতিহাস জানতে হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে কি বিমান, কারা চালাইসে, ওগুলার রেজিস্ট্রেশন কি ছিল এইটাই যদি না জানি তাইলে কিয়ের প্লেন স্পটার হইসি।

প্রথমে একটু বাংলাদেশ বিমান বাহিনী কেমনে তৈরি হইল তার ইতিহাস টা কই। তারপর লিখুম বিমান বাহিনীর প্রথম তিন টা বিমান নিয়া গঠিত ইউনিট “কিলো ফ্লাইট” নিয়া। আর তারপরে এই তিনটা যুদ্ধ অনুপযোগী বিমান রে কিভাবে অসম্ভব টেলেন্টেড এভিয়েটররা কাস্টোমাইজ করল আর মুক্তিযুদ্ধের অপারেশন এ নামাইল সেই সুপার এক্সাইটিং গল্প। এক দিন এ তো সব লিখতারুম না, তাই কিস্তি কিস্তি কইরা লিখুম।

১৯৭১ সাল। আগস্ট মাস এর মাঝা মাঝি। কলকাতায় মিটিং বসে ভারত এবং বাংলাদেশ সরকার এর। ভারতের পক্ষ থেইকা আসছেন ডিফেন্স মিনিস্টার জগজীবন রাম আর ডিফেন্স সেক্রেটারি কে বি লাল। বাংলাদেশ এর পক্ষ থেইকা আছেন, প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমেদ, কমান্ডার ইন চীফ মোহাম্মদ আতাউল হক ওসমানী আর ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ গ্রুপ ক্যাপটেন আব্দুল করীম খন্দকার।

কয়েকটা অন্যান্য বিষয় নিয়া আলোচনার পর বাংলাদেশ এর পক্ষ থেইকা বলা হয়,

“আমাদের বিভিন্ন ধরনের পাইলট আছে। বিমানের বিভিন্ন ট্রেড এর টেকনিশিয়ান ও আছে। কয়েকটি বিমান যদি ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ কে দেওয়া হয় তাহলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠন করা যেতে পারে। এটা হলে স্থল বাহিনীর সাথে বিমান বাহিনীও অবদান রাখতে পারে। ”

জবাবে ভারতের ডিফেন্স মিনিস্টার জগজীবন রাম বলেন,

“দেখেন, আমাদের হয়ত খুব তারাতারি ই পাকিস্তান এর সাথে যুদ্ধে জড়ায় পরতে হবে। আবার চীন যদি এই যুদ্ধে পাকিস্তান এর মিত্র হিসাবে যোগ দ্যায় তাহলে আমাদের অতিরিক্ত যুদ্ধ বিমান থাকবে না আপনাদের দেয়ার মত”

আমার মনে হইসে একজন ডিফেন্স মিনিস্টার হিসাবে এই পর্যন্ত বলা উনার ঠিক ই ছিল । কিন্তু এরপর উনি যা বলেন তা আমার কাসে একটু বেশি বেশি ই লাগসে। ইটস লাইক কেউ আপনার কাছে সাহায্য চাইতে আসছে আর আপনি বললেন, ঠিক আসে সাহায্য করুম তয় একটু নাচো তো দেখি। তিনি বলেন,

“আপনাদের পাইলট রা যদি বিমান চালনা করতে চান, সেক্ষেত্রে তাদের ভারতীয় বিমান বাহিনীর পাইলট হিসাবে পরিচয় দিতে হবে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর ইউনিফর্ম পরতে হবে, ভারতীয় বিমান এর ল অনুসারে চলতে হবে এবং বিমান এর পিছনে ভারতের পতাকা আঁকা থাকবে”

আমরা বীর এর জাতি। এই সব ইন্সাল্ট হজম কইরা চইলা আসা আমাদের স্বভাব না। তাই ওই মিটিং এও আমাদের বাঘের বাচ্চা রা চুপ কইরা থাকেন নাই। গ্রুপ ক্যাপটেন আব্দুল করীম খন্দকার ভারতের এই প্রস্তাব এর জবাবে শুধু দুইটা লাইন বলেন,

“We are at war for an independent country. Our motive is not to fly planes only”

ভারতের এই দুইজন ব্যুরোক্র্যাট বাংলাদেশ কে হতাশ করলেও সাহায্য আসে অন্য দিক থেইকা। ১৯৭১ এ ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রধান ছিলেন এয়ার চিফ মার্শাল প্রতাপ চন্দ্র লাল। তিনি ভারতীয় হলেও তার শিকর আর এক্সটেন্ডেড শিকর ছিল বাংলাদেশে। উনার মা ছিলেন ময়মনসিংহের আর স্ত্রী লীলা লাল ছিলেন ফ্রম কুমিল্লা। গ্রুপ ক্যাপটেন আব্দুল করীম খন্দকার তার সাথে দেখা করে বিমান এর জন্য রিকোয়েস্ট করেন। তিনিও প্রথমে ডিফেন্স মিনিস্টার এর সুর এই কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু মা আর বউ এর প্রচণ্ড চাপ এ শেষ পর্যন্ত বলেন,

“ আমি আপ্রাণ চেষ্টা করব আপনাদের কয়েকটি বিমান দিতে। তবে শিওর থাকেন সেগুলা যুদ্ধ বিমান হবে না। সেগুলো হবে বেসামরিক বিমান। নামের খাতিরে বিমান বাহিনী গঠন করা যাবে শুধু”

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠনের প্রসেস টা এই খান থেইকাই শুরু হয়। তারা তাদের কথা রাখসিলেন। বাংলাদেশ কে তিনটা বিমান দিসিলেন। যার একটাও যুদ্ধ বিমান না। কিন্তু তাতে কি আমরা থাইমা গেসিলাম? তিনটা বিমান রে সুকেশে সাজাইয়া রাইখা মুক্তিযোদ্ধা দের খবর পাঠাইসিলাম যে আমাগো বিমান বাহিনী কাগজে আসে আকাশে নাই, মনোযোগ দিয়া যুদ্ধ কর? না। আমরা এই তিনটা নরমাল সিভিলিয়ান বিমান কে কাস্টোমাইজ কইরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করসিলাম। তৈরি হইসিল “কিলো ফ্লাইট”। সেই গল্পটা আরেকদিন বলি। আজকে থাক।

এই কাহিনী আমেরিকায় হইলে এত দিনে হলিয়ুড ডজন খানেক সিনামা বানায় ফালাইতো। আফসোস আমাদের কেউ এই গল্প গুলা কোনদিন বলেই নাই।

৭০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ৮, ২০১৫ । ১১.২২ পি.এম

আমি গত চার দিন রাত্রে নিজে রান্না কইরা খাইসি। রবি, সোম, মঙ্গল আর বুধ। রান্না করসি শুনলেই যেমন বিশাল কিছু কইরা লাইসি মনে হয় আসলে ঘটনা তেমন না। ছোট বেলায় যেমন পায়ের পাতা একটু উঁচা কইরা শইল্ডা আলগাইলেই মনে হয় লাফ দিয়া হিমালয় পার কইরা ফালাইসি এরম আরকি। জীবনেও রান্না না করা লুকের আত্ম আস্ফালন।

আমি তিনটা জিনিশ প্রেক্টিকালি রান্না করতে পারি এখন আর একটা জিনিশ থিউরিটিকালি। ভাত, ডাইল আর ডিম ভাজি রানসি চাইর দিন। আর আজকে আম্মার কাছে মুরগির মাংস রান্না করা শিখসি। মুরগির মাংস রান্না করাডা খালি দেখসি কেমনে কি কিন্তু এখনো নিজে রান্ধি নাই একবারও। তাই এখনো ঠিক রানতে পারি বলতে পারতাসি না।

রানতে গিয়া নতুন নতুন সব অভিজ্ঞতা হইতাসে। এইটা একটা ভাল দিক। মূলত এই জিনিষ টা পাইতেই রান্না শিখা শুরু করসি। যেমন আমার প্রথম দিন ডাইল রান্নার এক্সপেরিয়েন্স কই । আমি বাসায় দেখসি ডাইল রান্নার আগে আম্মা ডাইল ধয়। তাই আমি ঠিক করলাম আমিও ধুমু। একজন মানুষের জন্য রান্না তো, তাই বেশি না, মাত্র এক কাপ ডাইল লইলাম একটা বাটিতে। পানি দিলাম। হাত দিয়া লারাচারা করলাম। পানিডা ঘোলা হয়া গেল একটু পরে। এইবার সিঙ্ক এ নিয়া বাতি ডা কাইত কইরা দিলাম পানি ফালাইতে। বিয়াদ্দপ ডাইল গুলা সব পানির লগে ভাইস্যা গেলগাঁ। পুরাই “চেয়ে চেয়ে দেখলাম, তুমি চলে গেলে অবস্থা”। এরপর আবার ডাইল লইয়া, ধুইয়া , এইবার হাত দিয়া ডাইল ধইরা রাইখা পানিডা ফালাইসি।

আমি মনে করসিলাম বড় একটা ছাকনি কিনুম। এর পর পানি ফালানির সময় ছাকনি দিয়া ফালামু, তৈলে ডাইল আর ভাইসা যাইব না। আম্মা রে জিগাইসি, আর আম্মা বলসে আমি আমার বাপ এর মতই বেকুব। তারপর ডাইল ধোউনের সিস্টেম শিখায় দিসে। বলসে ডাইল তিন ধোয়া দিবি, চাউল ও তিন ধোয়া। আর মাছ ধৌনের আগে মাছ গুলায় লবণ মাখায় লবি। তাইয়ে মাছগুলার তেল তেলা আশটে ভাব টা যাইব গিয়া আর খস খসা হইব। তিন ধোয়া কেমনে এই প্রশ্নের জবাবে মহান আম্মা বলেন, একটায় ডাইল আর পানি নিয়া ধুবি, তারপর পানিটা ফালায় দিয়া ডাইল টা আরেক টা পাত্রে রাখবি। তারপর আবার পানি দিইয়া ধুইয়া ডাইল টারে আগের পাত্রে রাখবি। এমনে আবার। এই হইল তিন ধোয়া।

আমি আরেকটা সমস্যায় পরসিলাম পিয়াজ কাটা নিয়া। পিয়াজ ছিলতে গেলে দেখি সিস্টেম লস বেশি হয়। ছুল্কা সহজে না ছিল্লে জিদদের চুটে জুরে জুরে খাবলা মারি আর প্রায় অর্ধেক পিয়াজ উইঠা যায়। তারপর যা থাকে তা পুরাই বদখত দেখতে। অথচ বাসায় দেখসি কত সুন্দর কইরা পিস পিস কাটা। আম্মারে বললাম আম্মা পিয়াজ কাটা শিখায় দাও। আম্মা দেখাইল ফাস্ট এ পিয়াজের মুখ টা কাইটা লইতে তারপর ছুরি দিয়া ঘসা দিয়া দিয়া পিয়াজ টা ঘুরাইলেই কত সুন্দর ছিলা হয়া যায়। ছিলা পিয়াজ টা রে রাখতে হইব একটা পানি ভর্তি পাত্রে। পানি ভর্তি পাত্রে ক্যান রাখতে হইব এই ধরনের গুরুত্তপূর্ণ প্রশ্নের জবাবে মহান আম্মা জান বলেন, কারন এর পর যহন পিয়াজডি কুচি কুচি করবি তখন আর চোখ জ্বলব না। কত সহজ অথচ কাজের টিপস। আমি অবশ্য আরেকটা জিনিষ দেখসি। পিয়াজ কাটার সময় মুখ দিয়া শ্বাস নিলে চোখ জলে না। কিন্তু আম্মার সিস্টেম টা মোর ইজি।

আম্মা আমারে আজকে মুরগির মাংস রান্নার প্রেক্টিকাল ডেমো দেখাইসে। কি কি লাগবো সব নোট কইরা আনসি। বেশি কঠিন লাগে নাই। কালকে বাজার করুম আর রাইন্ধা লামু। কি আছে দুনিয়ায়।

যদিও আজকে শুক্রবার ছিল কিন্তু অফিস ডে এর অভ্যাস বসত অনেক সকাল বেলা ঘুম থিকা উইঠা জোম্বির মত বাসার মধ্যে হাটতাসি আর সামনে পরসে আম্মা। আমি হুদাই “হ্যাপি মাদারস ডে আম্মাআআআ” বইলা আম্মারে জরায় ধরসি। তারপর নিজেই লজ্জা পায়া যখন আইসা পরসি তখন শুনি যে আম্মা বলতাসে, তুই তো আমারে একটুও ভালবাসস না। মাইনসের পুলাপান অগো আম্মাগো লগে কত আল্লাদ করে। আর তুই বছরে একটা জাবরানি দ্যাস তাও আবার লজ্জা পাস।

আমি আরো লজ্জা পায়া বালিশে ডুইবা গেলাম।

 

৬৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ৭, ২০১৫ । ১১.৪৯ পি.এম

আগের লেখার সিকুয়েল বলা যাইতে পারে এইটারে। বলসিলাম মুক্তিযুদ্ধের দুই জন অগীত (unsung), অজ্ঞ্যাত বীর এর গল্প বলব। এদের নিয়া পড়তে পড়তে ভাবতাসিলাম এরকম যদি প্রত্যেক্টা অন ফিল্ড, অফ ফিল্ড মুক্তিযোদ্ধার কাহিনী সংকলন করা যাইতো, তাইলে আমাদের জন্য ইন্সপাইরেশন এর কত বড় এক্টা ভান্ডার হইত সেইটা।

আগের কিছু লেখায় আমি ব্যাখ্যা করসিলাম যে কেন পাকিস্তান এর বিমান গুলিকে ভারতের উপর দিয়া না আইসা কলম্বো হয়া আস্তে হইত। এই দীর্ঘ আকাশ পথে পশ্চিম পাকিস্তান থেইকা পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্য আনার কাজ টাকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এক্টা অপারেশন আকারে বিবেচনা করে যার নাম ছিল অপারেশন গ্রেট ফ্লাই ইন Operation Great Fly In.

Operation Great Fly In এ শুধু সামরিক বিমান ব্যাবহার করা হইত তা না। পাকিস্তানের ন্যাশনাল এয়ারলাইন্স পি আই এর বিমান গুলাতে যাত্রি বেশে সৈন্য দের নিয়া আসা হইত যাতে কেউ বুঝতে না পারে কিন্তু প্লেন স্পটার এর চোখ রে ফাকি দিতে পারে নাই। ততকালিন মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং প্লেন স্পটার আর্চার কে ব্লাড এর রিপোর্ট এ তেজগাও বিমান বন্দরে এই সৈন্য আসার ততপরতার খবর উল্লেখ পাওয়া যায়। এই সব ই আগের লেখা গুলায় বলা হইসে।

২৫ শে মার্চ এর গণহত্যার পর আবার Operation Great Fly In শুরু হয়। শুরু হয় পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য আনা। পি আই এর একজন বাংগালি ক্যাপ্টেন ছিলেন। উনার নাম নিজাম আহমেদ চৌধুরি। তিনি যে বিমানটা চালাইতেন সেইটা এক্টা Boeing 707. তার এক্টা রেগুলার ফ্লাইট ছিল করাচি টু ঢাকা। ফ্লাই করার আগে রেগুলার প্রসিডিউর অনুসারে ক্যাপ্টেন একবার লোড শিট এ চোখ বুলান। লোডশিট এ লেখা থাকে যাত্রি সংখ্যা, লাগেজ, ফুয়েল ইত্যাদির হিসাব।

সেদিনের লোড শিট দেখে ক্যাপ্টেন নিজাম আহমেদ চৌধুরির সন্দেহ হয়। এত যাত্রি তো করাচি টু ঢাকা যায় না ঈদ ছাড়া। একবার যাত্রি দের নিজ চোখে দেখে এসে তিনি বুঝে গেলেন এরা সাধারন যাত্রি না। প্রত্যেক্টা মানুষ মিলিটারি সদস্য। তার কেবিন ক্রু রাও ভয়ে আধমরা হয়ে ছিল। কিন্তু কিছু করার সাহস ছিল না কারো।

ক্যাপ্টেন নিজাম আহমেদ চৌধুরি এবার এমন কিছু করলেন যা তাকে এক ধাক্কায় একজন পাইলট থেকে একজন মুক্তিযোদ্ধায় রুপান্তরিত করল। তিনি এই ফ্লাইট নিয়ে ফ্লাই করতে অস্মীকার করলেন। মিলিটারি লিডার এর হাজারো হম্বি তম্বির পরও তিনি সীদ্ধান্ত থেকে এক চুল নড়লেন না। আর ক্যাপ্টেন না বললে কারো পক্ষে সম্ভব না এই প্লেন কে আকাশে ওঠানোর।

গ্রেফতার করা হলো নিজাম আহমেদ চৌধুরিকে। অন্য একজন পাকিস্তানি ক্যাপ্টেন কে দিয়ে উড়িয়ে নেয়া হলো সেই সৈন্য ভরতি বিমান। আর নিজাম আহমেদ চৌধুরিকে গুম করে ফেলা হলো। উনার স্ত্রী ছিলেন একজন জার্মান নাগরিক এবং সেই সময় উনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্থানে। উনি অনেক কষ্টে জার্মান দুতাবাসের মাধ্যমে, জার্মান সরকার এর মাধ্যমে পাকিস্থানের উপর চাপ সৃষ্টি করে নিজাম আহমেদ চৌধুরিকে জীবিত ফেরত পান। কিন্তু তাকে পি আই এ থেকে বরখাস্ত করা হয় দ্বায়ীত্বে অবহেলা(!)র কারনে।

নিজাম আহমেদ চৌধুরির এই অসীম সাহসিকতা অন্য পাইলট দের অনেক অনুপ্রানিত করে। পাকিস্তানী রা এইটা বুঝতে পারতেসিল যে যেই আগুন নিজাম আহমেদ চৌধুরি জালাইসেন তা দাবানল এর মত জইলা ওঠা সময়ের ব্যাপার মাত্র। পি আই এর চারজন পাইলট তখনো ঢাকা ত্যাগ করতে পারেন নাই। পাকিস্তানি মিলিটারি এপ্রিল এর প্রথম সপ্তাহে এদের গ্রেফতার করে এবং ৩য় সপ্তাহে এদের সবাইকে হত্যা করে। এরা হলেন:

১) ক্যাপ্টেন সিকান্দার আলী (সেক্টর চীফ পাইলট, ইস্ট পাকিস্তান)

২) ক্যাপ্টেন আবু তাহের মোহাম্মদ আলমগীর (F-27 চালাতেন)

৩) ক্যাপ্টেন এন এস হায়দার (F-27 চালাতেন)

৪) ক্যাপ্টেন আমিনুল ইসলাম (F-27 চালাতেন)

এই সব অকুতোভয় সামরিক এবং বেসামরিক পাইলট দের অনেক অনেক শ্রদ্ধা মনের গভীর থেকে।

৬৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ৬, ২০১৫ । ১০.১৬ পি.এম

মুক্তিযুদ্ধে প্লেন রিলেটেড জিনিশ গুলা ঘাইটা বাইর করতে আমার দুর্দান্ত উত্তেজনা লাগে। মনে হয় সাগরে ডুব দিয়া মনি মুক্তা তুলতাসি। আর আহা কি সাইজ সেই সব মনি মুক্তার। নিজের একটা পবিত্র দায়িত্ব মনে হয় এই সব লিখা যাওয়ার। এইটা পইড়া যদি একজন মানুষ ও ইন্সপায়ার হয়, মনে করে আরে উনি দেশের জন্য এত অসুবিধার মধ্যেও এত কিছু কইরা ফালাইল আর আমি তো স্বাধীন দেশে থাকি। আমি পারুম না ক্যান। তাতেই অনেক।

আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমরা একটা জয়ী জাতি। আমরা যুদ্ধ কইরা জিতসি, আম্পায়ার এর পারশিয়াল্টি দিয়া না। আমাদের যতই বাক্সে রাখা হোক আমাদের ভিতরের আগুন জ্বালাইয়া দেয়ার জন্য একজন এর জইলা উঠাই যথেস্ট। আমাদের মাটিতে পুঁইতা ফালায় ওরা। ভুইলা যায় আমরা বীজ। আমরা মাথা উঁচা কইরা দাঁড়াইলে ওদেরকেও ছাড়ায়া যাবো।

আজকে দুই জন মানুষের গল্প বলব। এদের নিয়া কোথাউ কোন গল্প উপন্যাস, নাটক, গান লেখা হয় নাই। এরা অগীত (Unsung e এর বাংলা কি জানিনা, তাই নিজেই একটা বানায় নিসি), অজ্ঞাত বীর। এরা সম্মুখ সমরে যোগ দেন নাই কিন্তু দেশের জন্য তার চেয়ে কম কিছুও করেন নাই।

প্রথম জন একজন সামরিক লোক। উনার নাম জাফর মাসুদ। উনি ছিলেন ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ঢাকা বেস এর বেস কমান্ডার এবং একজন এয়ার কমডোর। বেস এ সবাই তাকে ডাকতো মিঠঠি মাসুদ। ইনি এক মাত্র সামরিক অফিসার যিনি ঢাকার মাটিতে ইয়াহিয়া খান এর চোখে চোখ রেখে সরাসরি তার পরিকল্পনা কে ভুল বলে উচ্চারণ করার সাহস করেন। সেই ঘটনা টা একটু বলি।

আগের লেখা গুলাতেও বলসি ১৫ মার্চ পাকিস্তান এর সামরিক শাসক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকা আসেন শেখ মুজিবুর রহমান এর সাথে পাকিস্তান এর ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়া তৈরি হওয়া ডেড লক সিচুয়েশন নিয়া মিটিং করতে। বিমান বন্দর থেইকা তিনি প্রেসিডেন্ট হাউজ (বর্তমানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধা) এ যান । সেইখানে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন অফিসার রা উপস্থিত ছিলেন। বিমান বাহিনীর বেস কমান্ডার হিসাবে জাফর মাসুদ ও সেখানে ছিলেন। ইয়াহিয়া তাদের সাথে মিটিং এ যা বলেন তা বাংলায় লিখলে দাড়ায়

“চিন্তা করো না। মুজিবকে আগামীকাল আমি সোজা করে ছাড়ব। আমার ধারনাও খানিকটা তাকে দেব। তার প্রতি আমার শীতল মনোভাবও পৌঁছে দেব এবং দুপুরে খাবার জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানাবো না। তারপর পরশু দিন তার সাথে দেখা করবো এবং দেখবো তার প্রতিক্রিয়া কি। যদি তার আচরণ না বদলায় তাহলে তার উত্তরও আমার জানা আছে। ”

সবাই নিশ্চুপ । কারো কিছু বলার সাহসও নাই। এমন সময় লম্বা, জিম করা ফিট শরীরের একজন অফিসার এটেশন হয়া দাঁড়াইয়া কিছু বলার পারমিশন চাইলেন। ইয়াহিয়া অনুমতি দিলে এই অফিসার বললেন , “স্যার সিচুয়েশন খুবি সেন্সেটিভ। এই সাবজেক্ট টা একটা পলিটিকাল সাবজেক্ট আর পলিটিকালি ই এইটা সল্ভ হওয়া উচিত। আদারওয়াইজ থাউজেন্ডস অফ ম্যান, উইমেন এন্ড চিলড্রেন উইল বি এক্সটিঙ্কট।“

ইয়াহিয়া এরকম সরাসরি কনফ্রন্টেশন এর জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি শুধু বললেন,

“আমি জানি, আমি জানি”

সেদিনের এই সাহসী অফিসার ই জাফর মাসুদ। ২৭শে মার্চ তিনি বেজ এর সব বাঙ্গালি অফিসার দের ডাকলেন । অফিসার রা তার কাছে তাদের নিরাপত্তা নিয়া টেনশন এর কথা বলল। তিনি ওইদিন বলসিলেন

“No One will Touch My Men or Officers Before They Kill Me”

এইটা শুধু কথার কথা ছিল না। তার ঠিক দুই দিন পর ২৯ শে মার্চ, ১৯৭১। চট্টগ্রামের কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্রে বিমান হামলা চালানোর জন্য লিউট্যানেন্ট জেনারেল টিক্কা খান বিমান বাহিনীর সাহায্য চেয়ে পাঠান। এয়ার কমোডোর জাফর মাসুদ সাহায্য দিতে অস্বীকার করেন। তিনি রিপ্লাই পাঠান

“This is a civilian area and my pilots cannot pick up military targets”

৩০শে মার্চ তিনি বেজ এর সবাইকে ডাইকা বলেন ,

“তোমরা জান যে সেনাবাহিনী তৎপরতা চালাচ্ছে। আমি এয়ার সাপোর্ট দিতে অস্বীকার করেছি। কিন্তু এটা কতদিন ঠেকিয়ে রাখতে পারবো জানি না। সকল বাঙ্গালী পাইলট কে সব মিশনে যাওয়া থেকে অব্যাহতি দিচ্ছি এবং যে সমস্ত বাঙালি টেকনেশিয়ান এ সমস্ত বিমানে কাজ করতে চায় না তারা অনিদ্রিস্ট কালের জন্য ছুটিতে যেতে পারে।“

এপ্লিলের ৩/৪ তারিখে প্রথম বিমান হামলা চালানো হয় পাবনার আশে পাশে। কিন্তু এয়ার কমোডোর এর নির্দেশ ছিল কোথাও যদি লোক জমায়েত দেখা যায় প্রথমে যেন ওয়ার্নিং শট ফায়ার করা হয় যাতে জনতা ছত্রভঙ্গ হওয়ার সুযোগ পায়। এই ভাবে উনি হাজার হাজার মানুষের প্রান বাঁচান।

এ সবের জন্য ইয়াহিয়া খান এর বিশেষ নির্দেশে এয়ার কমোডোর জাফর মাসুদকে বদলী করে পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং পরে চাকরী থেকে বরখাস্ত করা হয়।

আজকে এই পর্যন্ত থাক। আমি মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আরেকজন বেসামরিক পাইলট এর ব্যাপারেও ইনফরমেশন যোগার করসি। উনার বীরত্ব নিয়াও আজকে লিখব ভাবসিলাম। কিন্তু লেখা টা বড় হয়া যাবে তাই লিখলাম না। পরের কোন লেখায় লিখব নে।

তথ্যসূত্রঃ

বইঃ

বাংলাদশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলীল পত্র, ৯ম খন্ডে এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ খাদেমুল বাসার এর সাক্ষাতকার
Witness to Surrender by Sidduqe Salik, University Press Ltd.
বিহঙ্গের ডানা – মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া

ইন্টারনেট

আজকে ইন্টারনেট ঘাটতে পারি নাই। কিউবির ব্যালেন্স শ্যাষ।

৬৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ৫, ২০১৫ । ১১.৫২ পি.এম

আজকে একটু আবার আর্ট হিস্টরি তে মুভমেন্ট গুলা বা ইজম গুলা নিয়া কথা বলা যাক। এর আগে কিউবিজম আর ইম্প্রেশিনিজম নিয়া প্যাঁচাল পারসিলাম। ইচ্ছা ছিল এর পর সারিয়ালিজম(Surrealism) নিয়াও কথা কমু। কিন্তু পড়তে গিয়া দেখলাম সারিয়ালিজম (Surrealism ) মুভমেনট টা আসছে দাদাইজম (Dadaism) থিকা । তাই বুঝলাম যে দাদাইজম না পইড়া সারিয়লিজম বুঝতে যাওয়াটা ইশকুলে না পইড়া এক্কেরে কলেজে ভর্তি হউনের মত হইব। তাই আজকের আলু”ভরতা”চনার বিষয় দাদাইজম (Dadaism) ।

আমি ফাস্ট এ মনে করসিলাম কি, দাদাইজম মুনে লয় কারো দাদা থিকা ইন্সপায়ার হয়া আইসে । আই মিন কুনু বুইরা আরটিশ দাদায় কৈসে ওই অখন থিকা এমনে আঁকবি। আর শুরু হয়া গেসে দাদাইজম। কিন্তু আসল ঘটনা তা না। দাদা ইজম এর লগে দাদা, পরদাদা কারোরই কুনু সম্পর্ক নাই।

আগে একটু ইতিহাস কই, তারপর দাদাইজম কি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করতাসি। দাদা শব্দটার আসলে কোন মানে নাই। অনেকে বলেন এইটা দাদা ইজম এর দাদাজ অর্থাৎ রোমানিয়ান আর্টিস্ট ত্রিস্তান যারা (Tristan Tzara) আর মারসেল জেকো (Marcel Janco) এর রোমানিয়ান ভাসায় হ হ অর্থাৎ দা দা বলা থিকা আসছে। আবার কেউ কেউ বলেন এক দল লোকের মিটিং এর সময় একটা পেপার নাইফ আতকা একটা ফ্রেঞ্চ টু জার্মান ভাষার ডিকশনারি তে আটকায় গেসিল দাদা শব্দ টার উপর, একটা জার্মান শব্দ যার অর্থ শখের ঘোড়া।

দাদাইজম এর উৎপত্তি হয় ১৯১৬ সালে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হইসে তখন। আর্টিস্ট দের মনে তখন যুদ্ধের ভয়াবহতার ছাপ। এত নিষ্ঠুরতা দেখার পর স্বাভাবিক ভাবেই আর্টিস্ট দের বাস্তবতা কে আর বাস্তবতা মনে হইতাসিল না। তাদের মনে হইতাসিল কি হবে এই সব নন্দন তত্ত দিয়া , কি হবে এই সব সুন্দর সাজানো গোছানো আর্ট দিয়া যদি শেষ পর্যত্ন সবই ধ্বংস হয় মানুষের হাতে। তাই তারা এই ধ্বংস কে , এই সব নিয়ম, এই সব যুক্তি কে ভাইঙ্গা ফেলা নিয়া আসা শুরু করলেন তাদের সৃষ্টি তে। আর এই নিয়ম কে বুড়া আঙ্গুল দেখানো আর্ট মুভমেন্ট এর নাম ই হইল দাদাইজম।

দাদাইজম একটা নেগেটিভ প্রতিক্রিয়া সব ভয়াবহতার বিরুদ্ধে। এই খানে শিল্পী প্রতি ধাপে আর্ট অবজেক্ট তৈরির প্রচলিত ধারনা কে ভাঙ্গেন। দাদাইজম “কারন” এবং “যুক্তি” কে বাতিল কইরা দ্যায়। বরং অর্থহীনতা, অযৌক্তিকতা আর মনের স্বাধীনতা কে মাথায় তুলে রাখে। দাদাইজম মুভমেন্ট এর ছবি দেখলে মনে হয়, শিল্পীর মনে হয় মাথা খারাপ। এরম ভাইঙ্গা লামু চুইরা লামু ছবি আক্সে ক্যারে?

কিন্তু দাদা ইজম এইটাই। ভাঙ্গা নিয়ম রে “কচুডাহ” দেখায়া নিয়ম ভাঙ্গা। দাদাইজম স্টাইল এ কয়েকটা জিনিষ খুবি প্রমিনেন্টলি দেখা যায়। একটা হইলে কোলাজ (Collage)। দাদাইস্ট রা প্রায় ই অনেক ছবি কাইটা টাইটা জুরা লাগাইয়া একটা নতুন ছবি বানান। আরেকটা হইল মন্টাজ(Montage) । দাদা ইস্টরা তুলি আর রঙ খুবি কম ব্যাবহার করে । বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় দাদা ইস্ট রা রঙ তুলির বদলে কুড়াইয়া পাওয়া জিনিশ , কাগজ কাটা , ছবি কাটা ইত্যাদি দিয়া একটা মন্টাজ তৈরি করেন। ওইটাই তাদের আর্ট এর প্রচলিত ধারনা ভাঙ্গার চেষ্টা।

দাদা ইজম এর আরেক নাম তাই এন্টি আর্ট। যাদের হাত ধইরা দাদা ইজম এর পথ চলা শুরু তাদের কিছু নাম দিয়া এই লেখা শেষ করি। পারলে গুগুলে সার্চ দিয়া তাদের কাজ দেইখেন। Hugo Ball যিনি দাদা ইজম এর বাপ বলা যায় , Emmy Hennings, Tristan Tzara, Jean Arp, Marcel Janco, Richard Huelsenbeck, Sophie Täuber, আর Hans Richter।

৬৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ৪, ২০১৫ । ১১.৪৩ পি.এম

আমি কেন জানি অপরিচিত কারো কাছ থেইকা প্রথমেই তুমি বলা সহ্য করতে পারি না। কেমন আছো ব্রো শুনলে আমার তার প্রতি অর্ধেক আগ্রহ যায় গিয়া। আমি কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করি না। সুন্দর কইরা, জি আছি, আপনি ভাল? বলি । কিন্তু তার লগে কথা বার্তা চালায় যাওয়ার কোন কারন আর পাই না। অনেক বড় কেউ হইলে অন্য ব্যাপার। আমার ফ্রেন্ডের বাপ মা বা আমার বড় মামা, বড় চাচা আমারে কেমন আছো বাবা বলতেই পারে। কিন্তু যার লগে আজকে প্রথম কথা বলতাসি সে তুমি কইরা বললে আমি নিতে পারি না জিনিষ টা।

আমার সাথে যারা ইন বক্স এ কথা বলেন তারা হয়তো রিকগ্নাইজ করতে পারবেন যে এই বেপারটা অনেক বার হইসে অনেক এর সাথে

— ভাইয়া আমি আপনার অনেক ছোট, তুমি কইরা বলেন
কিন্তু আমি তো সবাইকে আপনি কইরা বলি
— তবু ভাইয়া, আপনি বললে বুড়া বুড়া লাগে
আচ্ছা ঠিকাছে। চেষ্টা করবো তুমি বলতে।

অনেকে ঢং মনে করেন। কিন্তু আমি আসলেই পারি না। রিকশাওয়ালারেও তুমি বলতে পারি না, হোটেল এর মামাকেও না, স্কুল এ পড়া ফেসবুক এর পিচ্চি বন্ধু টাকেও না।

কিন্তু আমার মনে হয় আমাদের ভিতর জিনিষ টা বেশ জোরে সোরেই ঢুকায় দেওয়া হইতাসে যে তুমি বলা ইজ ওকে। তুমি বলা ইজ ফ্রেন্ডলি। মোবাইল ফোন কোম্পানির বিজ্ঞাপনে , বন্ধুরা তোমাদের জন্য নিয়ে এলাম দারুণ এক অফার কিংবা রেডিও তে পাকনা আর জে এর এই মাত্র আমাদের সাথে জয়েন করলে অমুক, সাথে আছো সাতক্ষিরা থেকে অমুক, চট্টগ্রাম এর বন্ধু তমুকও আছো সাথে, তোমাদের মনের কথা পাঠিয়ে দাও এই নম্বরে এখুনি। তোমাদের জন্য এখন আছে গান…

এগুলা আমার আমার ভাল্লাগে না। যত যাই হোক ওরা আমার কাছে একটা জিনিশ বেচতে আসছে। সেইটা সিম ই হোক আর রেডিওকে দেওয়া আমার টাইম ই হোক। আমার কাছে জিনিষ বেইচা ওরা পয়সা পাইতাসে। তাইলে আমারে সম্মান দিয়া কথা বলতে ওদের সমস্যা কি? কখনো কি দেখসেন মার্কেট এ গেসেন আর দোকানদার , এই আসো, আসো, তোমার জন্য অমুক অফার আছে বলসে আর আপনি ওই দোকানে ২য় বার গেসেন? তাইলে বিজ্ঞাপনে ক্যান আমারে তুমি বলবে?

আমি জানি, আমারে অনেক বার অনেকে বলসে, তুমি আপনি কি আবার সব ই ত ইউ। কিন্তু আমরা তো ইউ বলতাসি না। বলতাসি তুমি আপনি। যদি ইউ বলেন তাইলে ইউ তেই থাকেন। কিন্তু যখন তুমি আপনি তে নামবেন তখন চেষটা করেন অপর পক্ষের মনে একটা ইম্প্রেশন ক্রিয়েট করতে যে আপনি তারে সম্মান দেন। তার থিকা আপনি অনেক হেডম এইটা প্রমান কইরা আখেরে আপনের কোনই লাভ নাই।

প্রথম কথা তেই কেমন আছো ব্রো শুনতে বেশি ভাল্লাগে নাকি কেমন আছেন ভাই শুনতে বেশি ভাল্লাগে একটু ভাইবা দেখেন। বিজ্ঞাপন আর রেডিও টিভির শিখাইয়া দেওয়া রেস্পেট এর ধারনা দূরে সরাইয়া একটু কমন সেন্স দিয়া রেস্পেক্ট এর ধারনা পাওয়ার চেষ্টা করেন।

ট্রাস্ট মি, অনুমুতি নিয়া তুমি বলার ফিলিংস অনেক অনেক বেটার।