৮৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ২৩, ২০১৫ । ১০.৩৯ পি.এম

আজকের লেখার টপিক সেলফ ইম্প্রুভমেন্ট এবং এইটাতে স্টিক থাকার তরিকা । মানুষ যখন বলে “জাস্ট বি ইউরসেলফ” তখন আসলে সে বলতে চায় “আমি আসলেই জানি না তোমারে আর কি বলব”। “জাস্ট বি ইউরসেলফ” হইল দা ওরস্ট উপদেশ এভার। আপনি যদি সত্যি চান কাউরে ভাল উপদেশ দিতে তাইলে তার উপরে দিয়া উড়া উড়ি না কইরা তারে সরাসরি বইলা দেন যে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব তয় তার আগে তার নিজের কিছু কিছু জিনিষ বদলাইতে রাজি আছে কিনা? শিউর থাকেন তার যেই মনের অবস্থা তাতে সে “হ হ ১০০ বার” কইবই। কিন্তু সেইটা এক্টা “আমার নতুন বছরের রেজুলিউশন” এর মতই মিথ্যা কথা। ৮০ ভাগ মানুষ জানুয়ারি শেষ হউনের আগেই নিউ ইয়ারস রেজুলিউশন ভুইলা গুইলা খাইয়া বয়া থাকে। তাই তার দুঃখ একটু কমলে সেও যে সেলফ ইম্প্রুভমেন্ট এর এই উদ্যোগ টা তে স্টিক থাকবে সেইটা সবার আগে শিউর করতে হইব।

এখন এই শিউর টা করবেন কেমনে? আগেও হয়তো সে অনেক বার কইসে, এইবার আমি বদলায় যামু দোস্ত, এক্কেরে নতুন মানুষ হয়া যামু। কিন্তু কিয়ের কি, দুইদিন পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরত গেসে। সেলফ ইম্প্রুভমেন্ট এর কোনই শর্টকাট ক্র্যাশ কোর্স টাইপ কিছু নাই। যদি বেটার লাইফ চান তাইলে আপনের ঘটনার গভীরে ঢুকতেই হইব আর জিনিস গুলা নিয়া কামের কাম কিছু করতে হইব। কিন্তু , হ, আমি আমার জীবন থিকা শিখসি যে এই কঠিন কামডা সুজা আর কম স্ট্রেস্ফুল করনের কিছু তরিকা আছে। আজকে এডি লয়াই লিখতে বইসি।

১। সবার প্রথমেই বিশ্বাস করতে হইব, “নিজেকে বদলানো সম্ভব”

এই টা শুনতে এত অভিয়াস লাগে যে মনে হয় এইডা কউনের কি আছে। কিন্তু বাস্তব জীবনে দেখবেন যে যেসব মানুষ আপনের কাছে সেলফ ইম্প্রুভমেন্ট এর উপদেশ চাইতে আইসে তারা আসলে উপদেশ বা সাহায্য চাইতে আসে নাই। অবচেতন ভাবে তারা চাইতে আইসে “ভ্যালিডেশন”। তারা আসলে শুনতে আইসে, “হ এইরম আসলে আগে কখনো ঘটে নাই, তোমার ক্ষেত্রেই পরথম, সিস্টেমটাই আসলে আনফেয়ার, দুনিয়াটাই আসলে খারাপ, তোমার আসলে কিছুই করার নাই” এই সব ব্লা ব্লা ব্লা। তারা আসলে বুঝতাসে নিজের কিছু একটা চেঞ্জ করন দরকার। কিন্তু আপনের কাছে পারমিশন চাইতে আইসে যাতে চেঞ্জ না হউন লাগে।

ঠিক আসে। যদি সে চেঞ্জ হইতে না চায় তাইলে ঠিক আসে। থাকুক এমনি। কিন্তু সে যদি তাই করে যা সে অলওয়েজ কইরা আসছে, তাইলে তো তার লগে তাই হইব যা অলওয়েজ হয়া আসছে তাই না? কিছু একটা তো আছেই যা চেঞ্জ করা দরকার। তারে বলা দরকার যে, যাই হোক, প্রেম ভাইঙ্গা যাক, বস বকুক, শ্বশুর কথা হুনাক সব কিছুর শেষে তার জীবন এর কন্ট্রোল তাগো কারো হাতে না, তার নিজের হাতে। তারে কইতে হইব, দ্যাখ, এইডাই সবচেয়ে কঠিন স্টেপ, তার পরের গুলা রিলেটিভ্লি সুজা। নিজেকে বদলানোর দায়িত্ব টা নিজের ঘারেই নিতে হইব কেউ আইসা চুম্মা দিয়া, ফু দিয়া বা জাদুর কাঠি দিয়া পোক কইরা নিজেরে বদলাইয়া দিয়া যাইব না। নিজেই নিজেকে বদলানো সম্ভব। চাইলেই সম্ভব।

২। যে সব চেঞ্জ মাপা যায় সেটার উপর ফোকাস করা প্রথমে

সেলফ ইম্প্রুভমেন্ট ইনিশিয়েটিভ নিলে বেশিরভাগ মানুষ একটা কমন ভুল করে তা হইসে ইম্প্রুভমেন্ট এর চেয়ে রেজাল্ট এর দিকে বেশি ফোকাস করে। “আমি শুকামু” এর অর্থ কি অথবা “আমি অরে পটামু” এর অর্থ কি? যদি কোন প্ল্যান না থাকে যে আপনে কেমনে বুঝবেন আপনে শুকাইতাসেন অথবা হ সে আপনের দিকে ইন্টারেস্টেড হইতাসে তাইলে কেমনে বুঝবেন এগুলা আসলেই হইতাসে কিনা? নিজেরে প্রথমেই জিগাইতে হইব কুন সময় আমি আসলেই কইতে পারুম “হ শুকাইসি” বা “হ পটাইসি (সাবাস)” ।

যখন নিজের ভাল ভার্সন টা বানানোর কাজে কেউ মাঠে নামতাসে তখন তার উচিত
মাপা যায় এরম চেঞ্জ এর দিকে ফোকাস করা । “আমি শুকামু” টাইপ এর হাওয়া হাওয়া গোল এর দিকে ফোকাস করলে খুব তারাতারি হতাশ হয়া যাওয়া লাগবে। যদি মাপা যায় এরম ইম্প্রুভমেন্ট গুলা দেখতে দেখতে আগানো যায় তাইলে দেখা যাইব এই ছোট ছোট রেজাল্ট গুলা, ছোট ছোট ডেটা গুলা পরের স্টেপ টা নিতে ইন্সপায়ার করতাসে।

এই ২ লম্বরটা ১ লম্বর তরিকারও সাপোর্ট হিসাবে কাজ করবে। কারন তখন তো একজন “নিজেরে বদলানো সম্ভব” এই ধারনা পাকা পোক্ত করতে মনের লগে হেভি যুদ্ধ করতাসে। যখন ছোট ছোট ইম্প্রুভমেন্ট গুলা তার কাছে ভিজিবল, মেজারেবল হবে তখন সেই যুদ্ধ টা করা আরো সহজ হবে। দিন শেষে সে লুজার হয়া ফেরত আসবে ঠিক ই, কিন্তু চোখখের সামনে এই আগানো গুলা থাকলে পরের দিন কিন্তু জাইগা উঠবে একজন উইনার ই। যখন বদ লোক টা বলতাসে “আমি পাহাড়ে এক লাফে উইঠা গেসি” তখন না হয় সে বলল “ আমি আজকে এক পা উঠসি পাহাড়ে, কালকে আরেক পা উঠবো” । এটলিস্ট সে তো কমিটেড হইল নিজের গোল এর ব্যাপারে।

৩। একবারে শুধু একটাই, সব একবারে না

আমাদের ধৈর্য কম। আমরা সব কিছু মাল্টি টাস্কিং করতে চাই। এইটাতে আমাদের স্ট্রেস বাইরা যাওয়া ছাড়া আর কিছু লাভ হয় না। সেলফ ইম্প্রুভমেন্ট এর ক্ষেত্রেও আমরা এত গুলা বিষয় নিয়া এক বারে কাজ করতে যাই যে শেষ মেষ আমাগো মস্তিষ্ক সব কিছুর শর্টকাট শিখা ছারা আর কিছু শিখে না। একটা দিনে অনেক গুলা ঘণ্টা থাকে। একটা সপ্তাহে কত্তগুলা দিন। এক মাসে কত্ত গুলা সপ্তাহ। মাস ও তো মাশাল্লা কম না একটা বছর এ। সব আজকেই কইরা লাইতে হইব, সব এখনি দেইখা লাইতে হইব, সব বই এই মাসেই পইড়া শেষ কইরা লাইতে হইব তা তো না। জীবনের মজা টা ই এই খানে। লিমিটেড টাইম, অনেক অনেক কিছু করার আছে যা সারা জীবন করলেও শেষ হবে না। তাইলে কেননা আমরা একটা একটা কইরা ইম্প্রুভ করি নিজেদের। যদি নতুন একটা ল্যাঙ্গুয়েজ শিখা শুরু করি তাইলে এই মাসে ওইটাতেই ফোকাস করি, সাইকেল শিখা টা না হয় দুই মাস পিছায় দেই। যদি এই মাসে আমার ওজন কমানো শুরু করার জন্য হাটাহাটি শুরু করার প্ল্যান থাকে তাইলে নতুন কম্পোজিশন এর কাজ না হয় পরের মাস এ করলাম। একটা নতুন জিনিষ শুরু করার সময় আমাদের অনেক উৎসাহ থাকে আর অনেক আনন্দ ও থাকে। কেন না আমরা এই আনন্দটাকে সারা বছর জুইরা ছড়াইয়া দেই রেদার দ্যান সব যাইত্তা যুইত্তা “এখন” এর মধ্যে ঢুকায় দেওয়া।

সময় এর মত “ফোকাস” ও কিন্তু একটা লিমিটেড রিসোর্স। আসেন আমরা ব্রেইন রে একটা লিমিটেড র‍্যাম কম্পিউটার এর মত চিন্তা করি। একই কম্পিউটার এ একই সময় এ ফটোশপ আর আফটার এফেক্ট আর ত্রিডি ম্যাক্স তো আপনে চালাইতেই পারবেন কিন্তু আউটপুট পাইতে হারাজীবন লাইগা গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবো না। আপনার সেলফ ইম্প্রুভমেন্ট এর মন্ত্রে উত্তেজিত ফ্রেন্ড রে খালি বলেন “ওয়ান এট এ টাইম বেবি, ওয়ান এট এ টাইম”

৪। পচ্চুর পচ্চুর এবং পচ্চুর ব্যারথতা আসবে কিন্তু ব্যাপার না

এইটার মুল কারণ হইল অনেক উৎসাহ নিয়া শুরু করার পর আমাদের মনে হয়, এহ হে, এইডা তো যত সুজা ভাবসিলাম অত সুজা না। আমাদের মনে হয়, আইচ্চা আমি তো আর এক্সপার্ট হইতে যামু না। আমার মুটামুটি পারলেই চলব। কিন্তু করতে গিয়া যখন দেখি ওই মুটামুটি লেভেলে যাওয়াও কঠিন আসে তখন মনে হয়, দুরু, আই সাক, এইটা আমার জন্য না আসলে।

আমরা এইটা খুব রেয়ারলি বুঝতে পারি যে ব্যারথতাও শিখার একটা অংশ। “আমি পারি না” এই ধারনা টা আমরা নিতে পারি না। আমাদের নিজেদের লুজার লাগে যদি আমরা ভাবি “আমি পারি না”। কিন্তু ঘটনা হইল আমরা তো জীবনেও করি নাই এরম একটা জিনিষ ই করতে আইসি তাই না। এইডা তো জানা কথাই যে ফেইল করুম। একদম সুজা সুজা বেসিক গুলাও আমাগো কঠিন মনে হইব। কিছু কিছু কেস এ দিন দিন অবস্থা আরো খারাপ হইব।

কিন্তু দিন দিন অবস্থা খারাপ হইব এই কারনেই যাতে দিন দিন অবস্থা ভাল হয়।হাটতে শিখার সময় কি আমরা ধুপ ধাপ পইড়া যাই নাই? কত বার পরসি ? কত দিন লাগসে হাটা শিখতে । তহন যদি ধুর আমারে দিয়া হইব না ভাইবা বয়া থাকতাম তাইলে এত দিনে কত হট পোলা মাইয়া হামাগুড়ি দিয়া ভার্সিটি আর অপিশে যাইত চিন্তা করেন?

আপনে ফেইল করবেনই। এইটা মাইনা লন। ভুল করবেন, ভুল থেইকা শিখবেন, আর আবার ট্রাই করবেন। এই ভাবেই সব কিছু হয়া আসছে আর হবেও। শুরুর দিকের ফেলিউর গুলা দেইখা ভয় পাওয়া মানে এইটা মেক শিউর করা যে আপনে জীবনেও বেটার কিছু করতে পারবেন না। ব্যর্থতা মাইনা নিলেই দেখবেন যে যেসব তরিকায় কাজ করলে কাজ হয় না তা এভয়েড কইরা নতুন তরিকা খোজা শুরু করসেন আর তা হয়ত শেষ মেশ কাজ ও কইরা যাইতে পারে।

৫। আল্লাহ যখন কারো জন্য একটা দরজা বন্ধ কইরা দ্যায়, তারে চুপিচুপি দেয়াল ভাইঙ্গা ভিত্রে ঢুকার শক্তিও কিন্তু দিয়া দ্যায়

এইটা মাইনা নিতেই হইব যে কিছু জিনিষ কখনোই বদলানো সম্ভব না। আপনি নিজের চেহারা রাতারাতি চেঞ্জ কইরা ফেলতে পারবেন না। আপনে যদি ইন্ট্রোভারট হন তাইলে কালকেই পারটি এনিমেল হয়া যাইতে পারবেন না। কিছু মানুষ জীবনে কোনদিন ই ম্যারাথন শেষ করতে পারবেনা। আপনার হয়তো কোনদিন ও সেই রকম টাকা পয়সা হবে না যাতে খুব অসম্ভব একতা ইচ্ছা পুরন করতে পারেন। হয়তো যতই চেষ্টা করেন কোন একটা ব্যাপারে গিয়া ইউ উইল অলওয়েজ সাক।

আমি আপনারে বলতেসি এইগুলা মাইনা নিয়াও সব কিছুই করা যায়। যখন একটা কিছু তে আটকায় যান তখন আপনের সামনে দুইটা রাস্তা খোলা থাকে। এক, আপনে হাল ছাইরা দিয়া চইলা আস্তে পারেন আর দুই, আপনে বাধাটার পাশে দিয়া ঘুইরা যাওনের একটা রাস্তা খুইজা বাইর কইরা ফালাইতে পারেন।

ম্যারাথন যে শেষ করতে পারে সে হয়তো সাইকেল চালাইয়া চিটাগাং চইলা যাইতে পারে। কেউ হট লুকিং মডেল টার মত না হইতে পারলেও সে হয় তো তার ব্যাক্তিত্য কে এমন কইরা ফালাইতে পারে যাতে মানুষ তার দিকে আগুনের দিকে আগায় যাওয়া পোকার মত হা কইরা লুল ফালাইতে ফালাইতে ছুইটা আসে।

হয়তো পুরাই উলটা রাস্তায় হাটসেন এতদিন। আপনের জন্য যা না তার পিছনেই দোউরাইসেন। ভুল পথে যাওয়াটা বোকামি না। বোকামি হইল পথ টা ভুল বুঝতে পাইরাও সামনে নিশ্চয়ই ঠিক পথ আছে ভাইবা চলতেই থাকা। থামেন, ঘুরেন, উলটা পথে শুরুর যায়গায় ফেরত আসেন, তারপর আবার চলতে শুরু করেন। হয়তো ফটোগ্রাফি আপনার জন্য না, হয়তো আপনে ভিডিও গ্রাফিতে দুনিয়া কাঁপায় ফেলতে পারবেন, অথবা আপনার জন্য যা ঠিক সেই টাইপ এর ফটোগ্রাফি আপনে এখনো ট্রাই ই করেন নাই। অথচ ভাবতাসেন ইউ সাক এত ফটোগ্রাফি। কম্পিউটার জিনিষ টা আপনের কোনদিন ই ভাল লাগে নাই অথচ বাপ মা ভর্তি করাইসে আইনা সি.এস.সি তে। আপনার যদি অল্প একটুও ভাল লাইগা যায় প্রোগ্রামিং আর আপনে মনে করেন যে পারবেন চেষ্টা করলে তাইলে স্টিক টু ইট। নাইলে বাইর হইয়া আসেন এখনি, নিজের রাস্তাটা বাইর করেন তাড়াতাড়ি।

প্রিয় বন্ধু আমার, লাইফ ইজ টু শর্ট টু গেট স্টাক ইন এ রং প্লেস 🙂

৮৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ২২, ২০১৫ । ১১.৪৮ পি.এম

এইটারে আমার লিরিসিস্ট হউনের এর ইতিহাস এর ২য় পর্ব বলা যাইতে পারে। আগের লেখায় বলসিলাম নটরডেম এর ফার্স্ট ইয়ার এ আমার সাথে পরিচয় হইসিল ঋজুর। এস এস এসি এর পর আমি আর পিয়াস বাফার গিটার টিচার সনেট ভাই এর কাছে গিটার শিখা শুরু করসিলাম। নটরডেম এ পিয়াস আর ঋজু ছিল একি গ্রুপ এ। গ্রুপ ওয়ান এ। আমি ক্লাস এর ব্রেক এ পিয়াস এর সাথে দেখা করতে গেসি তখন ক্লাস এর সামনে পিয়াস পরিচয় করায় দিল এই যে এইটা ঋজু , ও অনেক ভাল গিটার বাজায়। আমি চোখ বড় বড় কইরা ভাল গীটার বাজাইন্যা ঋজু রে দেখলাম। তারপর থেইকাই আমাদের বকুল তলার আড্ডা গুলা শুরু হইল।

বকুল তলায় গিটারাড্ডা গুলায় একদিন আসলো তিয়াশ ভাই। তিয়াশ ভাই দুর্দান্ত গিটার বাজাইত আর আমি হা কইরা তাকায় থাকতাম। এই আড্ডায় প্রায় ই আসতো ঋজুর ইশকুলের ফ্রেন্ড হিমেল । ওরা দুইজন গভমেন্ট ল্যাব এ একসাথে পড়ত। হিমেল এর গানের গলা বেশ ভালো ছিল আর ও গিটার ও বাজাইতো। এখনকার পোলাপান যেমন স্বপ্ন দ্যাখে ডি এস এল আর কিনার তখন আমাদের কাছে গিটার বেশ কুল ব্যাপার স্যাপার ছিল। তাই দেখা গেসে সবাই কোন না সময় গিটার শিখা শুরু করসিল।

এর মধ্যে ঋজু দের বাসায় প্রায় ই যাইতাম। ওরা থাকতো পল্টনে আর নটরডেম থেইকা যাওয়া অনেক ইজি ছিল। প্রায় ই আমার বিজ্ঞানী কাজিন অভি রে সার এর বাসায় পড়তে পাঠায় দিয়া আমি ঋজুর বাসায় গিয়া বইসা থাকতাম । নিজেদের কয়েকটা গান ও হইল। বিশাল আবেগে ভরপুর সব লিরিক্স লিখতাম আর ঋজু এত মেলোডি আনতো সব গানে। ওই সময় মানে ১৯৯৯ তে লেখা কিছু লিরিক্স ছিল এমন,

“ প্রিয়তমা, শোন গল্প এক
যখন আকাশ ডেকে বলে স্বপ্ন দ্যাখ
তুমি কাঁদবে বলে তাই
এই চোখ ঢেকে যায়
মেঘের রঙ”

অথবা

“ এখনো হয়নি যে সময়
আধারে কান্না এখনো বাজে
এখনো কষ্টের দিন কাল
সবাই ভোলায় চেনে রূপকথা দিয়ে
অশান্ত মন যুদ্ধের সাজ সাজে
আমার হৃদয়ে নীল কান্না বাজে”

ঋজু আর হিমেল এর করা একটা গান আমার অনেক প্রিয় ছিল তখন যার কোরাস টা ছিল,

“আর জীবন যদি শূন্য লাগে তবে ডেকো আমাকে
আর মন টা যদি ব্যারথ লাগে তবে ডেকো আমাকে”

আমরা কিছু গান বানাইতাম। অগুলা তিয়াস ভাই শুনতো আর গিটারে কোন জায়গায় কি হবে সাজেস্ট করতো। এইটা দেওয়া ঠিক হবে, ওই টা হবে না এই সব নিয়া ঋজুর সাথে তর্ক চলতো। তিয়াশ ভাই এর একটা ক্লাস ফ্রেন্ড ছিল আকিক। কি বোর্ড বাজাইত। কি বোর্ড তো ইলেকট্রিক জিনিশ, কলেজে নিয়া আসা যাইত না। একদিন আকিক, তিয়াশ ভাই, হিমেল, ঋজু আমার বাসাবো বাসায় আসলো।

তখন আমি পাঁচ তালায় থাকতাম আর আম্মারা তিন তালায়। কত রকম মজা যে হইসে পাঁচ তালায় কিন্তু সেই গল্প আরেকদিন। আকিক কি বোর্ড নিয়া আসছিল। প্রথম বার এর মত সবাই সেদিন এক সাথে জ্যাম করা হইল। কথায় কথায় উইঠা আসলো যে আমাদের একটা ব্যান্ড ফর্ম করা উচিত যেহেতু সবাই এক সাথে মিউজিক করতাসি ই। আমি লিরিক্স, ঋজু গিটার আর ভোকাল, হিমেল গিটার আর ভোকাল, তিয়াশ ভাই গিটারস আর আকিক কি বোর্ড । তাইলে ড্রামার? ড্রামস কে বাজাবে? তিয়াশ ভাই বলল উনার পরিচিত একটা ছেলে আছে, নাম জনাথন, ওরে বললে ও বাজাবে। ব্যাস হয়া গেল ব্যান্ড। কিন্তু একটা নাম যে দরকার। তিন দিন চিন্তা কইরা ঋজু একটা নাম নিয়া আসল। X দের ব্যান্ড। The X’s .

নীল খেত এর আই সি এম এ এর অডিটরিয়াম এ তখন নিয়মিত আন্ডার গ্রাউন্ড কন্সার্ট, ব্যাচ ইউনিয়ন গুলার কন্সার্ট হইত। এইরকম একটা কন্সার্ট এ X’s এর প্রথম শো হইল। আমি বাসায় এক হাজার টা মিথ্যা কথা বইলা সন্ধ্যা ৬ টা থেইকা রাত ৮ টা পর্যন্ত কন্সার্ট দেইখা এক টা অদ্ভুত অনুভূতি নিয়া বাসায় ফিরলাম।

আমার বার বার ই মনে হইতাসিল, আমার বারান্দায় বইসা লেখা গান, আমার ঋজুর রুমের ফ্লোরে চিত হয়া শুয়া লেখা গান , আমার ওয়াক ম্যান এ রেকর্ড কইরা আইনা ঋজুর করা সুর শুনতে শুনতে পদার্থ বিজ্ঞান প্রথম পত্র খাতার চিপায় মোমবাতির আলো তে লেখা গান আজকে কয়েক শ ছেলে মেয়ে গাইসে একটা অডিটোরিয়াম এ, আমাদের ব্যান্ড এর সাথে সাথে। আমি এখন আর শুধু কলেজের ফার্স্ট ইয়ার এ পড়া একটা কনফিউজড টিনেজার না, আমি একটা ব্যান্ড এর লিরিসিস্ট। কি অদ্ভুত ব্যাপার।

৮৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ২১, ২০১৫ । ৯.৩৩ পি.এম

আজকে কোন লেখা নাই। শরীর অনেক খারাপ লাগতাসে হঠাত। সাভার থেইকা বাসাবো আসছি। রাস্তা তেই অনেক খারাপ লাগতাসিল। এখন মনে হইতাসে আংগুল নারানির ও শক্তি নাই। কিসু খাইতে ইচ্ছা করতাসে না। অনেক দুরবল লাগতাসে। বমি আইতাসে হমানে আর পেট খারাপ। ডি হাইড্রেশন হয়া গেসে বেশি। থাক আজকে আর কিছু না লিখি।

৮২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ২০, ২০১৫ । ৮.৫২ পি.এম

ঢাকা শহরের বাইরে বইসা লেখা ৩৬৫ সিরিজের প্রথম নোট। এখন সাভার আসি। ব্র্যাক সিডিএমএ তে। অপিশের ট্রেইনিং ২ দিনের। কাইলকা ঢাকা ফিরুম। আজকের মত ট্রেনিং শেষ হইসে, রুম এ আইলাম একটু আগে। ডিনার দিব ৯ টায়। খায়া টায়া পরে ঘুম আয়া পরতে পারে, আবার ভুত এর ডর টরও আসে। দুই রুম পরের সুন্দরী আপায় যদি ভয় পায়া আমাগো রুম এ আয়া পরে, তখন তারে বসাইয়া রাইখা নোট লিখতে বসা টা কত বিয়াদ্দপি হইব না? তাই অখনি লিখতে বইসি। এসি মেসি ছাইরা নরম বিছানায় শইল্ডা হান্দায়া দিয়া গদ্দি লাগানি খাট এর রেলিং এ হেলান দিয়া আবসা আবসা আলোয় কোলের উপরে ল্যাপটপ রাইখা লিখা লিখি করতাসি। নিজেরে খুবি বড়লুক বড়লুক লাগতাসে।

এক সপ্তাহ আগে কারিব ভাই আমারে একটা বই পড়তে দিসে। বইটার নাম Boeing : The Complete Story . ইতিহাস এর বই আর আই লাআআআভ ইতিহাস। বিশেষ কইরা এভিয়েশন রিলেটেড ইতিহাস। এই বইটা লিখসেন Alain Pelletier। ২৫৮ পৃষ্ঠার। খুব বেশি পুরানা বই না। ২০১০ সালে প্রকাশিত Heynes Publishing থেইকা। বইটা এখনো শেষ হয় নাই পড়া। মাত্রই দুই দিন হইল শুরু করসি। কিন্তু মনে হইল পইড়া যা যা মজা লাগতাসে ভুইলা যাওয়ার আগে লিখা রাখা উচিত নিজের জন্যই।

বোয়িং কোম্পানি কেমনে শুরু হইল এই কাহিনী টা অনেক মজার। William Edward Boeing (যাকে আমি এই লেখায় মিস্টার বোয়িং বলব) এর জন্ম ১৮৮১ সালের ১লা অক্টোবর আমেরিকার মিশিগান এর ডেট্রয়েট এ। মা অস্ট্রিয়ান আর বাবা জার্মান। আট বছর বয়েসে বাবা মারা যাওয়ার পর মিস্টার বোয়িং এর মা তাকে সুইটজারল্যান্ড এ পাঠায় দেন। নানা বাড়ির পাশের ইশকুলে ভর্তি করায় দেওয়ার মত বেপার আরকি 😛 । মিস্টার বোয়িং আমেরিকায় ফিরত আসেন ১৯০০ সালে। ১৯০৩ সালে তিনি বাপের মতই কাঠের ব্যাবসা শুরু করেন।

চিন্তা করতে কেমন লাগে, বোয়িং কোম্পানির মালিক গাছের গুড়ির গায়ে বিদেশি পানের পিক মুছতে মুছতে কইতাসে, আব্বে ওই জামাইল্লা, গুড়িডা আজকে টেরাকে তুইলা ফালা, পাট্টী আইবো নিতে। কিন্তু আল্লায় বাচাইসে এরম কিছু হয় নাই। তাইলে আমরা জীবনেও 747 জাম্বো জেট এ উঠতে পারতাম না। পৃথিবীর কোটি কোটী এভিয়েশন এন্থুসিয়াস্ট এর শুরু টা যেমন হয়, অমনে মিস্টার বোয়িং রেও পেলেন পোকায় কামড়াইল ২৯ বছর বয়সে।

সময় টা জানুয়ারি ১৯১০। মিস্টার বোয়িং লস এঞ্জেলেস এ আসলেন এয়ার শো দেখতে। দি ফাস্ট বিগ আমেরিকান এয়ার শো। তখন চলতাসে বাই প্লেন এর যুগ। ডাবল পাখা ওলা আর একদম ই বেসিক ইঞ্জিন ওলা প্লেন গুলা দেইখা মিস্টার বোয়িং এর মাথা মুথা খারাপ হয়া গেল। আপনি যদি পেলেন পাগলা হন আপনি বুঝতে পারবেন দ্যাট ফিলিং। প্লেন্স ওয়ার এমেজিং দেন, প্লেন্স আর এমেজিং নাও।

মিস্টার বোয়িং ভীর ঠেইলা এয়ার শো এর এক পাইলট এর কাছে গিয়া আবদার করলেন তারে যেন একবার একটু প্লেন এ উঠানো হয়। Farman Biplane এর পাইলট Louis Paulhan এই ২৯ বছর এর ব্যাডার আবদার শুইনা বেশি পাত্তা পুত্তা দিলেন না। অনেক অনেক মন খারাপ নিয়া সিয়াটল এ ফিরা গেলেন মিস্টার বোয়িং।

উনি যদি সাধারণ কেউ হইতেন তাইলে কয়দিন পর মন খারাপ টা ভুইলা যাইতেন। কিন্তু লিজেন্ড রা মন খারাপ করা মানে পৃথিবী নতুন কিছু একটা পাইতে যাইতাসে। মিস্টার বোয়িং এরোনেটিক্স নিয়া পড়া শুনা শুরু করলেন। সিয়াটল ইউনিভারসিটি ক্লাব এ মিস্টার বোয়িং এর সাথে পরিচয় হইল আরেক পেলেন পাগলার। ইনি MIT থেইকা এরোনেটিক্স এ পাশ কইরা আসছেন আর সদ্যই ইউ এস নেভি তে যোগ দিসেন। ইনার নাম Conrad Westervelt । পেলেন নিয়া আড্ডা দিতে দিতে দুই জন এর মধ্যে খুব দোস্তি হইল।

১৯১৪ সালে Terah Meruni নামে এক পাইলট একটা Curtis Seaplane নিয়া লেক ওয়াশিংটন এ আসলেন স্বাধীনতা দিবসের উৎসবে যোগ দিতে। পেলেন দেইখা তো মিস্টার বোয়িং এর ১৯১০ সালের সেই পুরানা দুখখ আবার চাগার দিয়া উঠল । তিনি ভয়ে ভয়ে গিয়া জিগাইলেন, বাই, আপনের পেলেনে এট্টূ উটতে দিবাইন? এই পাইলট ভাল ছিল। তিনি প্রথমে মিস্টার বোয়িং রে নিয়া একবার উড়লেন। তারপর তার দোস্ত মিস্টার Westervelt নিয়াও উড়লেন। এই বোয়িং লোক টা কি পরিমান কুল ছিল চিন্তা করেন, এত ঝামেলা কইরা ৪ বছর অপেক্ষা কইরা প্লেনে জীবনে প্রথমবার উইঠা আসার পরও তার বন্ধু মিস্টার Westervelt রে বললেন, “মেহ, এইডা কিছু হইল। এই পেলেন বেশী সুবিধার না। তুই আর আমি মিল্লা এর চেয়ে ভালা পেলেন বানাইতে পারুম না?” মিস্টার Westervelt বললেন অবশ্যই পারুম। শুরু হইল দি গ্রেট বোয়িং এডভেঞ্চার। তারা একটা প্লেন বানানই শুরু করলেন যার নাম এই দুই দোস্ত এর নাম এর ইনিশিয়াল দিয়া রাখসিলেন, B & W.

কিন্তু এজ ইউ জুয়াল বাধা আসল। ১৯১৫ সালে মিস্টার Westervelt রে ইউ এস নেভি বদলি কইরা দিল অন্য জায়গায়। মিস্টার বোয়িং কি তাতে থাইমা গেলেন? না। তিনি একলা চল রে গান টা না শুইনাই এইটাতে বিশ্বাসী ছিলেন।

১৯১৬ সালের জুন মাসে B & W বানানি শেষ হইল। মিস্টার বোয়িং একটা পাইলট খুইজা বাইর করলেন যে কিনা তার হয়া প্লেন টারে টেস্ট কইরা দিব। পাইলট এর নাম Herb Munter. ঠিক হইল ১৫ই জুন, ১৯১৬, এক মহান শুভ দিনে এই প্লেন টেস্ট করা হবে।

১৫ই জুন, ১৯১৬। মিস্টার বোয়িং লেক ওয়াশিংটন এর পাশে দাঁড়ায় আসেন তো আসেন ই। পাইলট মিয়ার আর খবর নাই। বিরক্ত হয়া মিস্টার বোয়িং ভাবলেন ধুত্তুরিকা, পাইলট এর মায়েরে বাপ। আমি নিজেই চালামু পেলেন। কারন তিনি ১৯১৫ সালে শিখসেন অলরেডি পেলেন চালানি। পাইলট চান্দু যখন বিদেশি লুঙ্গির গিট্টু সুজা করতে করতে লেকের পারে আইল, সে দেখল যে মিস্টার বোয়িং প্লেন নিয়া অলরেডি টেক অফ এর জন্য চলা শুরু করসেন। B & W আকাশে উড়ল এবং সফল ভাবে নাইমাও আসল।
তারপর আর যাত্রা থামে নাই। মিস্টার বোয়িং এর সেকেন্ড প্রজেক্ট ছিল একটা C-4 বিমান। সেইটাও সফল ভাবে শেষ হয়। ১৯১৭ সালে তিনি কোম্পানির নাম চেঞ্জ কইরা The Boeing Company রাখেন আর ৯০ ডলার মাস বেতন এ ইউনিভারসিটি অফ ওয়াশিংটন এর থিকা পাস করা দুইজন ইঞ্জিনিয়ার নেন। Claimont L Claire আর Philip G Johnson নামের এই দুই জন ইঞ্জিনিয়ার কে বোয়িং কোম্পানির পিলার বলা হয় যারা পরে বোয়িং এর চেয়ারম্যান হইসিলেন।

প্লেনে উঠতে না পাইরা ১৯১০ সালে মন খারাপ হইসিল যে ছেলেটার, হি এন্ডেড আপ ডিজাইনিং হিজ ওন প্লেন আর আলটিমেটলি স্টারটিং আপ দি বিগেস্ট কোম্পানি ইন দি হিস্টোরি অফ এভিয়েশন। পরের বার মন খারাপ হইলে এইটা একটু মনে কইরেন।

৮১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১৯, ২০১৫ । ১১.১৯ পি.এম

ইদানীং স্কেল মডেলিং নিয়া পড়াশুনা শুরু করসি আর বেপারটা বিরাট ইন্টারেস্টিং লাগতাসে। স্কেল মডেল জিনিশ টা হইল মুল জিনিশ টার একটা ছোট স্কেল এর রেপ্লিকা। এই রেপ্লিকা যত হুবুহু হবে, স্কেল মডেল তত সুন্দর হবে। যে কোন কিছুর স্কেল মডেল হইতে পারে। আরকিটেক্ট রা ডিজাইন এর পর যে মডেল বানায়, সেইটাও একটা স্কেল মডেল। মুল স্থাপনা টার ছোট আকারের প্রতিকৃতি। কিন্তু আমরা যারা আর্কিটেকচার পড়ি নাই তাদের কি উপায় হবে? আমাদের মত শখ আসে এমন কনজিউমার দের জন্য এই ক্ষেত্রে আগায়া আসছে Airfix, Revell এর মত কোম্পানি গুলা। ইনারা করসে কি, বিভিন্ন স্কেল মডেল কিট বাজারে ছারসে। এই কিট এর মধ্যে থাকে যেই জিনিষের মডেল কিট তার ছোট ছোট পার্টস, রঙ, ডিক্যাল, ইন্সট্রাকশন ম্যানুয়াল । এই গুলার ব্যাপারে একটু আলাদা আলাদা কই।

মডেল পার্টস আর ইন্সট্রাকশন ম্যানুয়াল

ধরেন এইটা একটা প্লেন এর স্কেল মডেল কিট। তাইলে এই মডেল কিট এ প্লেন টার ককপিট, ডানা, বডি (যাকে আমরা বলি ফিউজালাজ / Fuselage ), ল্যান্ডিং গিয়ার ইত্যাদি বিভিন্ন রকম পার্টস। প্লাস্টিক মডেল কিট এ এগুলা প্লাস্টিক এর থাকে আর মেটাল মডেল কিট হইলে মেটাল এর। এই গুলা সব একসাথে লাগানো থাকে সেট এর মত যেগুলা বানানো আগে ছুটাইয়া নিতে হয় আলাদা আলাদা কইরা। কিভাবে কোন টার পর জোড়া লাগাইতে হবে তার নির্দেশনা দেওয়া থাকে ইন্সট্রাকশন ম্যানুয়াল এ। ইন্সট্রাকশন ম্যানুয়াল এ আরো থাকে কোন যায়গায় কি রঙ বসবে আর কি ডিক্যাল বসবে । রঙ আর ডিক্যাল এর বেপারে একটু পরেই বিস্তারিত বলতাসি।

মনে রাখতে হবে যে এই ভাবে ইন্সট্রাকশন মাইনা পার্টস একটার পর একটা জোড়া লাগানো শেষ করলেই সেটা স্কেল মডেল হয়া যায় না। কারন পার্টস গুলা সাধারণত এক রঙ এর থাকে। যেমন সব সাদা অথবা সব নীল বা সবুজ এমন। বানানোর পর জিনিষ টা দেখলে মনে হবে মাত্র ফ্যাক্টরি থেইকা বানায়া বের করা হইসে, এখনও রঙ করা হয় নাই। আসল জিনিশ টার সাথে মিলাইয়া ঠিক ঠিক জায়গা মত ঠিক শেড এর রঙ দেওয়া এবং সকল রকম সাইন, ফ্ল্যাগ, মারকিং ইত্যাদি ঠিক ঠাক মত বসাইলেই সেইটা একটা স্কেল মডেল হয়া উঠে।

রঙ আর ডিক্যাল

রঙ আর ডিক্যাল ব্যাপার দুইটা স্কেল মডেল এর অনেক ইম্পরট্যান্ট একটা বিষয়। পার্টস জুড়া লাগাউয়া মডেল বানাইতে যত সময় লাগে রঙ আর ডিক্যাল এর পিছনে তার চেয়ে চারগুন বেশি সময় দিতে হয়। যে জিনিশটার স্কেল মডেল বানানো হইতাসে শুরুতেই সেইটার যত বেশি সংখ্ক ছবি আর ডিটেইল খেয়াল করা যায় স্কেল মডেল তত ভাল হয়। অরিজিনাল টায় যেইখানে যেই রঙ ব্যাবহার করা হইসে সেই রঙ এর শেড ব্যবহার না করলে ওইটা একটা ভুয়া স্কেল মডেল ছাড়া কিছু হয় না। আমাদের চোখ অনেক সেনসিটিভ। আমরা এক নজর দেখলেই একটা ভাল স্কেল মডেল আর আর একটা বাজে স্কেল মডেল এর পার্থক্য ধইরা ফালাইতে পারি।

রঙ ঠিক ঠাক করার পর আসে ডিক্যাল এর ব্যাপার । ডিক্যাল হইল আমরা যাকে স্টিকার নামে চিনি ওইরকম একটা জিনিষ। কিন্তু এইটার পিছনে আঠা থাকে। না। মডেল কিট এর সাথে যেই ডিক্যাল গুলা আসে অগুলা পানি এক্টিভিটেড। অর্থাৎ পানি তে ভিজাইয়া গ্লু লাগাইয়া জায়গামত বসাইতে হয়। তারপর ঘসা দিলে নিচের সাদা অংস উইঠা আসে আর স্টিকার এর মত ডিক্যাল টা জায়গা মত লাইগা যায়। স্কেল মডেল এর গায়ে লোগো, সাইন, লেটার বা নাম্বার মারকিং ইত্যাদি ফন্ট, সাইজ, কালার ঠিক রাইখা দেখাইতে হইলে ডিক্যাল এর বিকল্প নাই। কারণ এগুলা হাতে আঁকতে গেলে জীবনেও অরিজিনালটার মত ভাল হইব না, উনিশ বিশ হইবই। ইভেন অরিজিনাল জিনিষ টাতেও অনেক জায়গায় কম্পুটার ডিজাইন্ড ডিক্যাল ব্যাবহার করা হইসে।

রঙ আর ডিক্যাল সফল ভাবে বসানোর পর আমার মত বিগিনার মডেল প্লেন হবিইস্ট রা ইয়েই পারসিইই, পোস্ট, পোস্ট, অখনি ফেসবুকে পোস্ট করলেও, ওস্তাদ মডেলার রা আবার এই জিনিষ এর উপর ওয়েদারিং করেন। তাতে জিনিষ টা আরো রিয়ালেস্টিক হয়। যেমন আমি যদি কন দিন তুরাগ বাস এর স্কেল মডেল বানাই তাইলে বাস বানানো আর রঙ করা শেষ কইরা তুরাগ পরিবহন যাত্রাবাড়ি-আব্দুল্লাহপুর লেখা ডিক্যাল টা লাগায় দিয়াই বগল বাজাইতে বাজাইতে ফেস বুকে পোস্ট দিতাম। কিন্তু ওস্তাদ মডেলার রা এইটার গায়ে ঘইসা ঘইসা আসল তুরাগ বাস এর মত দাগ বানাইতে। ওয়েদারিং কইরা জায়গায় জায়গায় রঙ এর জইলা যাওয়া দেখাইত, হয়ত রিয়ার ভিউ মিরর দুইটা প্রথমেই ভাইঙ্গা ফালায় দিত। সব মিলায় ইট অন্ট বি আ প্রিটি মডেল, বাট ইট উড বি এ অসামলি রিয়ালিস্টক মডেল।

স্কেল মডেল বানানোর পূর্ব প্রস্ততি

একজন সিরিয়াস স্কেল মডেলার এর কাছে অনেক কিছু থাকে। একটা ডেস্ক থাকে, অনেক গুলা রঙ এর ডিব্বা থাকে, গ্লু থাকে, একটা মডেল বানানির স্কেল আঁকা সবুজ রঙ এর বোর্ড থাকে। একটা সুন্দর ডেস্ক থাকে যার সাথে ম্যাগ্নিফাইয়িং গ্লাস আর টেবিল ল্যাম্প থাকে। ম্যাগ্নিফাইং গ্লাস টা রঙ করার সময় সুক্ষ যায়গা গুলাও ঠিক ঠাক রঙ করতে হেল্প করে। রঙ গুলা আলাদা কইরা কিনা রাখে মডেলার রা কারন মডেল কিট এর সাথে যেগুলা ডিফল্ট কালার হিসাবে আসে সেগুলা অনেক সময় ই ইনাদের পছন্দ হয় না। আরো রিয়ালেস্টিক কালার এর জন্য ইনারা তিন চার রকম কালার মিক্স কইরা পারফেক্ট শেড ও তৈরি করে।

কিছু টুলস লাগে। যেমন কাটা কুটির জন্য হবি নাইফ, ঘসা ঘসির জন্য সেন্ড পেপার, জুরা জুরির জন্য গ্লু। কিন্তু খুবি বেসিক এগুলা। যে কোন ষ্টেশনারী দোকান এ পাওয়া যায়। মুল চ্যালেঞ্জ টা হইল স্কেল মডেল কিট যোগার করা। বাইরে থেইকা আনাইতে পারলে সবচেয়ে ভাল। বাংলাদেশে শুধু মাত্র বসুন্ধরা সিটির মোস্তফা মারট এ পাওয়া যায় দেখসি আমি। আর কোথাউ যায় কিনা জানি না। তবে দাম বেশি। অবশ্য কোন শখ এর জিনিষটার দাম বেশি না। টাকার মূল্যমান এ দাম এর কোথা বলি নাই। কষ্ট আর ধৈর্য এর দাম দেওয়া লাগে অনেক

এইটা লেগো সেট দিয়া বানানো জিনিশ না। লেগো আরেকটা অসাম দুনিয়া যেইটা নিয়া হয়তো আরেকদিন লিখব। স্কেল মডেল বানানো কোন খেলা না। এইটা একটা আন্তর্জাতিক লেভেলের শখ আর এইটা ১২ বছর এর পিচচি থেইকা শুরু কইরা ৮০ বছরের মানুষ টাও করে। তাই কেউ যদি বলে “আরে আপনি এত বড় হয়া গেসেন, আপনের কি এগুলা নিয়া খেলার বয়স আসে নাকি” তাইলে আপনার রাগ করার পূর্ণ অধিকার আছে। যদিও রাগ প্রকাশ করার দরকার নাই। শুধু তারে বলবেন,

প্যাকেট এর গায়ে লেখা আছে মিনিমাম এজ লিমিট ১০+। কোন ম্যাক্সিমাম এজ লিমিট নাই। আই এম ১০+।

৮০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১৮, ২০১৫ । ১০.৩২ পি.এম

আমি জীবনে প্রথম লিরিক্স লিখি নটরডেম কলেজ এ পড়ার সময়। আমি তখন ফার্স্ট ইয়ার এ। ঋজু (আইকন্স এর ভোকাল) এর সাথে তখন মাত্র পরিচয় হইসে আর আমি অল্প অল্প গিটার বাজাই। খুবি অল্প কিছু মেজর মাইনর কর্ড পারি। ফার্স্ট ইয়ার এ আমাদের ক্লাস হইত সকালে। নটরডেম এ হোস্টেল/অডিটোরিয়াম এর সামনে একটা বকুল তলা আছে। দুপুর থিকা দুইজন দুইটা গিটার নিয়া বয়া থাকতাম বকুল তলায়। আর বিরামহীন গান গাইতাম। পারি না পারি তবু গাইতাম। আমাদের সাথে অনেক এই আইসা বসতো গান গাইত। বাচ্চু ভাই এর গান, ওয়ারফেজ এর গান থেইকা শুরু কইরা ওরে নীল দরিয়া আর অঞ্জন দত্ত পর্যন্ত।

তখন আমি কবিতা লিখতাম অনেক। ব্যাপক সিরিয়াস কবি ছিলাম। ক্লাস পালায়া পাবলিক লাইব্রেরি গিয়া কবিতার বইএ ডুইবা থাকতাম এমন কবি। জাতীয় কবিতা উৎসব এ দুদু বার করে স্টেজ এ কবিতা পড়তে সিলেক্ট হইসি এমন কবি 😛 কিন্তু গান ও যে লেখা যায় আবার সেইটাতে সুর ও বসে এইসব নিয়া ধারনা ছিল না। তখন অঞ্জন দত্ত হঠাত ঢাকা আসলো শো করতে।

প্রিয় একজন শিল্পী ক্যাসেটের ফিতা থেইকা বাইর হয়া ঢাকা আসছে সেইটা আমার শিশু 😛 মনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। শো এর টিকিট কাটার সামরথ তো ছিল না, বাপ এর কাসে কন্সার্ট এ যাওয়ার টাকা চাইলে লাত্তি মাইরা ফালায়া দিত তিন তালা থেইকা। তাই অপেক্ষা করলাম আর অঞ্জন দত্ত এর ঢাকা নিয়া একটা ক্যাসেট বাইর হইল ওইটা কিন্যা লাইলাম লগে লগেই। ওই খানে একটা গান ছিল “বেইলি রোড এর ধারে আমি দেখেছি তোমায়, আমার বউ বাজারে আমি দেখেছি তোমায়, ডলার এর দাম কমলে তাদের দর বদলায়, চোখের জল কিংবা পানি, সে তো নোনতাই থেকে যায়”

এই গান আমাদের এতই ভাল লাগতো যে টানা তিন চারদিন আমরা এই গান ই গাইলাম খালি বকুল তলায়। তারপর যখন একি গান এত বার গাইতে গাইতে পচাইয়া ফালাইলাম তখন ঋজু একদিন বলল, তুই গান্টার সুর ঠিক রাইখা কথা গুলা পালটায় ফেল। আমি তো পুরাই উড়ন্ত প্লেন থেইকা পরলাম। খাইসে, এমন ও করা যায়, কিন্তু দোস্ত এইডা নকল হইব না? ঋজু বলল আরে বেটা আমরা কি এই গান এর ক্যাসেট বাইর করুম? নিজের জন্য তো। লিখা ফেল।

আমার ঘুম খাওয়া দাওয়া সব হারাম হয়া গেল। সারাদিন এই গান এর সুর গুন গুন করি আর আর শব্দ বসাই। রিকশায় বসলে রিকশা ওলা রে গান সুনাই। নামার পর এতক্ষণ শাস্তি দেওয়ার জন্য ২ টাকা বেশি চায়া বসে। গান এর পুরাটাই রিক্সায় বইসা ঢাকা শহর হুদাই ঘুরতে ঘুরতে লিখসিলাম।

এই টা ১৯৯৯ সাল এর কথা। তখন তো আমরা স্মার্ট ছিলাম না, তাই আমাদের স্মার্ট ফোন ও ছিলনা। লেখা লেখি সব কাগজে কলমে । অনেক কাটা কুটি পাতা ছিরা ছিঁড়ির পর একটা মোটামুটি গান দাঁড়াইল। কি লিখসিলাম পুড়াটা এখন মনেও নাই। এখন পড়লে অনেক দুর্বল লিরিক্স লাগে। আমি এতো সরাসরি কিছু লিখিনা এখন আর। কিন্তু তখন নিজের লেখা শব্দে সুর এর জুরে যাওয়া টা প্রেম এ ইতিবাচক সারা পাওয়ার মত একটা অনুভূতি ছিল। এই টা যে কি এক নেশা। যেই নেশা তা পরেও ছারে নাই আর ফলাফল আইকন্স এর পুরা এলবাম এর লিরিক্স

প্রথম লেখা লিরিকস টা ছিল এমন (সুরঃ অঞ্জন দত্ত এর বেইলী রোড গানটার)

বলে দিও তারে
আর দিন দুই পরে
আসবে পূর্ণিমা
ওই আকাশ টাকে ভরে।
সে যেন আসে
তার বাড়ির ছাদে
সে যেন তাকায়
ওই চোখ রেখে চাঁদে।

দেখবো আমি তার দু চোখে
চাঁদের মধ্য দিয়ে
চাঁদ আসবে মোদের বাড়ী
মেঘের গল্প নিয়ে ।

[১৯৯৯]

৭৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১৭, ২০১৫ । ১১.৩০ পি.এম

আজকে আবার কিলো ফ্লাইট নিয়া লেখার মুড আসছে। তিন বছর আগে এই দিনে মানে ১৭ই মে, ২০১২ আমি কিলো ফ্লাইট নিয়া পড়া শুরু করসিলাম। আল্লাহর রহমতে এত দিনে আইসা কিছুটা গুছায়া লেখার সাহস করতে পারতাসি। সমস্যা টা হইল ইনফরমেশন পাওয়া নিয়া আর পাওয়া গেলেও এত ছড়াইয়া ছিটাইয়া গেসে পিস গুলা যে আমার মত বেসামরিক লোক এর পক্ষে মুল ঘটনা বুইঝা অনুধাবন করা অনেক কঠিন ছিল। আর যতই দিন যাইতাসে আরো ছড়ায়া যাইতাসে কুচি করা কাগজের মত।

আগের লেখা গুলায় লিখসিলাম বাংলাদেশ বিমানবাহিনী কিভাবে গঠিত হইসিল আর কিলো ফ্লাইট ই বা কিভাবে আসছিল। আজকে কিলো ফ্লাইট এর অপারেশন শুরুর আগ পর্যন্ত ঘটনা গুলার একটা সামারি দেয়ার চেষ্টা করব আর পরের লেখা টা হবে বিমান গুলার আলাদা আলদা মিশন এর বর্ননা নিয়া।

যে কোন বিমান আকাশে উড়ার আগে তার একটা রেজিস্ট্রেশন নাম্বার লাগে। সেইটা মিলিটারি ই হোক আর সিভিল। এই রেজিস্ট্রেশন টা নিয়ন্ত্রণ করে ICAO (International Civil Aviation Organization). যেহেতু বাংলাদেশ তখনো স্বাধীন না তাই আমাদের কোন সিভিল এভিয়েশন অথারিটি ও ছিল না। তাই কিলো ফ্লাইট এড় বিমান গুলার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দ্যায় ভারত। অর্থাৎ রেজিস্ট্রেশন এ ভারতীয় প্রি ফিক্স ব্যাবহার করা হয়। গাড়ির ক্ষেত্রে যেমন যেখানে রেজিস্ট্রেশন হয় তার একটা প্রি ফিক্স থাকে লাইক ঢাকা মেট্রো, চট্ট মেট্রো ইত্যাদি, ওই রকম প্লেনেরও থাকে। বাংলাদেশের জন্য S2, S3 , আমেরিকার জন্য N, ব্রিটেনের জন্য G, ভারতের জন্য VT এরকম। আর ICAO এর বিধি নিষেধ না থাকায় ইচ্ছা মত রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয় যেমন একই রেজিস্ট্রেশন দুই বিমান এর দেয়া হয়। কিলো ফ্লাইট এর বিমান গুলার রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হইসিল এমনঃ

১। DC-3 Dakota এর জন্য: VT-EBA
২। DHC-3 Otter এর জন্য: EBR
৩। Alouette-III হেলিকপ্টারের এর জন্য: VT-EBR

EBR/EBA ক্যান সেইটা নিয়া অনেকে অনেক কোথা বলেন। তবে সব চেয়ে গ্রহণযোগ্য হইল East Bengal Regiment আর East Bengal Army থেইকা EBR আর EBA.

রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার পর এখন শুধু বাকি থাকে অপারেশন এর দিন খন আর স্ট্রেটেজি ঠিক করা। এই ক্ষেত্রেও মূল ক্ষমতা ছিল ভারতের হাতে। কারণ বিমান গুলার মেইন্টেনেন্স করত ভারত। জ্বালানি, রকেট, বোমা, ফ্লাইট ট্রেইনিং সব ই দিতাসিল ভারতীয় বিমান বাহিনী। তাই প্লানিং এর দায়িত্ব ও আসে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হাতে। ঠিক করা হয় প্রথম অপারেশন চালানো হবে ৩ রা নভেম্বর।

২রা নভেম্বর, ১৯৭১। সকালে অপারেশন এর প্ল্যান অনুসারে Alouette-III হেলিকপ্টার টা কৈলাশহর গিয়া অবস্থান ন্যায়। সবার মধ্যে টান টান উত্তেজনা। পরের দিন প্রথম অপারেশন। কিন্তু এই দিন সকাল সাড়ে দশটায় একটা মেসেজ আসে দিল্লী থেইকা। সেইখানে বলা হয় , DC-3 Dakota বিমানটা কোনো অপারেশন চালানো যাবে না। সেইটা শুধু মাত্র বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ এর পরিবহন এর কাজে ব্যাবহার করা হবে। আরো ব্যাড নিউজ হইল, ৩ রা নভেম্বর এর অপারেশন পোস্টপন বা স্থগিত করা হইসে। এই খবর পায়া কিলো ফ্লাইট এর পাইলট রা অনেক টাই হতাশ হন কিন্তু কিছু করার ছিল না। পরবর্তী অপারেশন এর তারিখ এক মাস পিছায় দ্যায় ভারত। ঠিক হয় পরবর্তী অপারেশন এর তারিখ ৩রা ডিসেম্বর।

৬ই নভেম্বর, ১৯৭১। DC-3 Dakota বিমানটা ব্যারাকপুর বিমান ঘাটিতে নিয়া যাওয়া হয়। কিলো ফ্লাইট এ এখন শুধু ২ টা বিমান আছে। Alouette-III হেলিকপ্টার আর DHC-3 Otter। এই দুইটা বিমান দিয়াই আমদের বিমান বাহিনী ডিসেম্বর এর ৩ তারিখ থেইকা ১১ তারিখ পর্যন্ত একটা না , দুইটা না মোট ৪৬ টা মিশন কমপ্লিট করে। যার প্রত্যেকটাই ছিল সুইসাইডাল মিশন।

আগের লেখার বলা হইসে যে বিমান বাহিনীর প্রথম ঘাটি ঠিক করা হইসিল ডিমাপুরে। কিন্তু এইটা ঘাটি হইলে দূরত্ব একটু বেশি পরে তাই শমশেরনগর বিমানবন্দর থেইকা মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে পরিত্যাক্ত বিমানঘাঁটি কৈলাশহর এ কিলো ফ্লাইট এর বেজ শিফট কৈরা নিয়া যাওয়া হয়।

আমি তো মিলিটারি স্ট্রেটেজি বুঝি না, কিন্তু পইড়া মনে হইসে ভারত অনেক কনফিউজড ছিল বাংলাদেশ নিয়া। তারা ভাবতেসিল যদি বাংলাদেশের কোন বিমান পাকিস্তানী রা গুলি কইরা ফালায় দ্যায় তাইলে তারা রেজিস্ট্রেশন দেইখা শিউড়লি মনে করব এগুলা ভারত দিসে। তখন তারা এই টা মিডিয়া তে দেখাইয়া সারা বিশ্বের সাপোর্ট পাইব। দেখাইব যে ভারত কত খারাপ, তাই ভারত কে আক্রমণ করা ফরয ইত্যাদি।

সৌভাগ্য ক্রমে ৩রা ডিসেম্বর পাকিস্তানি বিমান বাহিনী ভারতের ৭ টা বিমান ঘাটিতে আক্রমণ করে। কিলো ফ্লাইট এর নির্ধারিত অপারেশন এর ডেট ই ছিল ৩রা ডিসেম্বর দিবাগত রাত্রে। পাকিস্তান এই আক্রমণ করার পর এখন ভারতীয় বিমান বাহিনী স্ট্রং কারন খুইজা পায় আরো। শুরু হয় কিলো ফ্লাইট এর অপারেশন।

কিলো ফ্লাইট এর বিমানগুলা তাদের রকেট আর মেশিন গান এর গুলি শেষ কইরা ফিরা আসতো কিলো ফ্লাইট এর বেজ ভারতের কৈলাশহরে। তারপর আবার রিলোড কইরা, মেইটেনেন্স এর ক্লিয়ারেন্স নিয়া ফিরা যাইত আক্রমণে। এই ভাবে রাত দিন অমানুষিক পরিশ্রম কইরা আমাদের কিলো ফ্লাইট এর সদস্যরা দুইটা মাত্র বিমান আর মাত্র ৮ দিনে ৪৬ টা মিশন সফল ভাবে শেষ করেন।

কিলো ফ্লাইট যে সব জায়গায় পাকিস্তানী বাহিনীর উপর হামলা চালাইসিল সেগুলা হইল,

চট্টগ্রাম, সিলেট, ফেঞ্চুগঞ্জ, শমসেরনগর, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, শেরপুর, সাদিপুর, কুমিল্লা, দাউদকান্দি, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, কুলাউড়া এবং ভৈরব বাজার।

আগামী লেখায় DHC-3 Otter আর Alouette-III হেলিকপ্টারের করা আলাদা আলাদা মিশন গুলার ডিটেইল নিয়া লেখার ইচ্ছা রাখি। যদি আপনার এই গর্ব করার ইতিহাস পড়তে আমার মতই দমবন্ধ করা ভাল্লাগে তাইলে দয়া কইরা বাসার ছোট দের এই জিনিশ গুলা জানায়েন। নাইলে এই ইতিহাস গুলা হারায় যাবে, অলরেডি হারাইয়া যাইতাসে ভয়াবহ রেট এ।

৭৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১৬, ২০১৫ । ১১.৪৯ পি.এম

আমরা শুধু জায়গার নাম টা জানতাম। আর জানতাম এয়ারপোর্ট এর বাতিল করা প্লেন এই সব লোহা ব্যাবসায়ী রা কাটে। গুগুল ম্যাপ থেইকা দেইখা দেইখা আমি আর কারিব ভাই অনেক খন ভাবলাম , হুম্মম, এই জায়গাটায় হইতে পারে? উহু এক্সেস রোড অনেক ছোট। যেহেতু এয়ারক্র্যাফট কাটে তাইলে অদের একটা বড় ভেহিকল ঢুকতে পারে এমন এক্সেস রোড অলা জায়গার দরকার হবে। আচ্ছা চলেন যাই, গিয়া খুইজা বাইর করুম নে।

রউনা দিলাম দুইজন সি এন জি দিয়া। ভিজুয়াল ন্যাভিগেটর কারিব ভাই আর গুগুল ম্যাপ্স দেইখা ন্যাভিগেটর আমি। ডাইনে জান, বাইয়ে জান , আবার বায়ে গিয়া ডাইনে মোচর দেন এরম ডিরেকশন দিতে দিতে সি এন জি আগাইতে লাগলো। ঝামেলা হইলে একটা জায়গায় আইসা। গুগুল ম্যাপ্স এ যেখানে সোজা রাস্তা দেখানো হইসে ওই রাস্তায় আসলে সি এন জি যাবে না। কারণ ওইটা দুই বাসার চিপা দিয়া যাওয়া একটা রাস্তা। সি এন জি ছাইড়া দিয়া হাঈট্টাই রউনা দিলাম। গু এর সমুদ্র পাড়ি দিয়া , বাসা থেইকা ফালানো ময়লা রে ডোজ মাইরা, এলাকার মাতবর লোক জন এর “এই সামনেই” এর ফলস ইলিউশন এর আশা বুকে নিয়া অবশেষে পৌঁছাইলাম গন্তব্যে।

জায়গাটা পুরাই একটা তিন গোয়েন্দার পাতা থেইকা উইঠা আসা সেল্ভেজ ইয়ার্ড। কি নাই। জাহাজের প্রপেলার , বিশাল বিশাল লোহার শিট, অসংখ্য লোহার আর মেটাল এর জিনিষ পাতির পাহাড়। এর মধ্যে আমরা আবিষ্কার করলাম একটা এয়ারক্র্যাফট ইঞ্জিন এর। কারিব ভাই একবার দেইখাই বইলা দিল এইটা একটা L-1011 Tristar এর ইঞ্জিন। আমরা জানতাম যে কয়দিন আগে স্কাই ক্যাপিটাল কারগো এর বিমান টা স্ক্র্যাপ করা হইসে। তাই বুঝলাম যে জায়গা মত আইসা পড়সি।

এর অর সাথে কথা বইলা মালিকের খোজ বাইর কইরা তার সাথে দেখা করলাম। লোকটা বেশ ভাল । আমাদের পেলেন পাগলামি দেইখা অনেক খুশি হইল। আমাদের কোক আর সল্টেস্ট বিস্কুট খাওয়াইসে। তারপর আমাদের লোহা কাটাকুটির জায়গায় নিয়া গেল। জিজ্ঞেস করসিল আমরা ইঞ্জিন এর ব্লেড নিতে চাই নাকি কোন টা। বইলা আসছি আগামী সপ্তাহে আবার যাব তখন নিব 😀

চইলা আসবো এমন সময় উনি বললেন চলেন আপনাদের একটা মজার জায়গায় নিয়া যাই। আমরা তো, শিট আরো মজার জায়গা আসে? চলেন চলেন। উনি উনার ই ভাই বেরাদর এর এক দোকানে নিয়া গেলেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী কয়দিন তাদের অনেক স্ক্র্যাপ মালামাল , স্পেয়ার পার্টস বিক্রি কইরা দিসে। লাইক F-6 এর স্পেয়ার পার্টস, C-130 এর বাতিল যন্ত্রাংশ আরো অনেক হাবি যাবি। গিয়া মাথা খারাপ হয়া গেল। মনে হইল সব নিয়া আসি ট্রাক এ ভইরা। রকেট পড ছিল অনেক গুলা। ইচ্ছা করলে আনা যাইত। দরজায় লাগায় রাখলে মজা হইত। আন বিলি ভেবল।

আমি একটা অল্টিটিউড মিটার ওরফে অলটি মিটার নিয়া আসছি যেখানে এখনো ৭১০ ফ্লাইট লেভেল ইন্ডিকেট করতাসে। এইটা একটা সত্যিকার এর ফাইটার প্লেন এর ককপিট এ ছিল । এখন আমার বিছানার পাশে। কি যে খুশি লাগতাসে। দাঁত সব গুলা বাইর কইরা বইসা আসি।

আই এম গ্ল্যাড দ্যাট আই ওয়ান্টেড টু বিকাম এ প্লেন স্পটার। ধন্যবাদ এভিয়েশন, এত অসাম হওয়ার জন্য।

৭৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১৫, ২০১৫ । ১০.৪৬ পি.এম

আমি ঠিক শিউর না। কিন্তু স্কুল এ থাকতে যখন মাঝে মাঝে অনেক বেশি ইন্সপায়ারড হই আমরা, তখন হয়তো সবাই ই ভাবে যে আমি এই দেশ টাকে পালটায় ফালামু। আমিও ভাবতাম। যেইখানে আমি জানি সমস্যা গুলা কোথায়, এই যে বই ভর্তি কত রচনা তাইলে ওই জায়গায় বিশেষ “গুরুত্ব” দিয়া কাজ করলেই হয়। স্কুলে থাকতে কেন জানি গুরুত্ব কথাটা অনেক বেশি লেখা লাগতো রচনায়। খুবি গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ ভাবে গুরুত্ব পূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ভাষনে তিনি বলেন এইরম। তখন খুব ভাব গাম্ভীর্য ওলা লাগলেও এহন আর গুরুত্বপূর্ণ শুনলে বেশি গুরুত্ব দিতে মুঞ্চায় না। আই গেস গুরুত্ব হ্যাস লস্ট ইটস গুরুত্বনেস।

যাউকগা, আমি অনেক ভাবতাম কেমনে দেশ পালটায় ফেলা যায়। মাথায় রাখতে হবে যে এই গুলা একটা ক্লাস থ্রি এ পড়া ছেলের চিন্তা ভাবনা। এইটা করা যায় , ওইটা করা যায়, এই প্ল্যান সেই প্ল্যান। কিন্তু সব কিছু থামতো আইসা টাকা আর ক্ষমতায়। কিন্তু এইটা করতে তো অনেক টাকা লাগবে, কিন্তু এইটা তো পুলিশ করতে দিবে না, কিন্তু এইটা তো সারা দেশ এর মানুষ জানবেই না এইরকম প্রব্লেমগুলায় আইসা ঠেকতাম। তখন ঠিক করসিলাম, না দেশের প্রেসিডেন্ট হইতে হবে। তাইলে আমি যা বলি তাই হবে আর বাংলাদেশ এর চেহারাই পালটায় যাবে যদি এই সব করতে পারি।

ওই সময় ই স্কুল এর ক্লাস এ স্যার এর মনে হয় পড়াইতে ইচ্ছা করতেসিল না অর সামথিং, উনি সবাইরে জিজ্ঞেস করলেন তোমরা কে কি হইতে চাও বড় হয়া এক জন এক জন কইরা সামনে আইসা বল। আমার পালা যখন আসলো , আমি গেলাম। আর খুবি স্বাভাবিক ভাবে বললাম, আমি বড় হয়া এরশাদ হইতে চাই। বলার সাথে স্যার ঠা ঠা ঠা কইরা হাসতে হাসতে চেয়ার থেইকা পইড়া গেল। আর সেইটা দেইখা ক্লাস এর পোলাপান ও হাসতে হাসতে ক্লাস ফাটায়া ফালাইল। আমি বেকুবের মত দাঁড়ায় দেখলাম। আমার অনেক কান্দা আস্তাসিল, কিন্তু কান্দি নাই। কাম ওন। আমি ক্লাস থ্রি তে পড়ি। আমি কেমনে জানুম যে এরশাদ একটা নাম, পোস্ট না। আমি জানতাম বাংলাদেশের এরশাদ, ইন্ডিয়ার এরশাদ, আমেরিকার এরশাদ এমন হয় মনে হয়।

এই দেশ রে নিয়া কিছু করার চিন্তার ভুত টা ঘাড় থেইকা আর নামেই নাই। এমন না যে আমি একদম অনেক কিছু করতাসি । আমি মহান দেশ প্রেমিক টাইপ কিছু । এমন কিছু। আমার শুধু মনে হয় জিনিশ গুলা করা অত কঠিন ও না। আমাদের শুধু একজন নেতা দরকার। এমন একজন নেতা যার কথা শুনলে মনে হবে, না এই টা নেতার ইচ্ছা না, এইটা আমার ইচ্ছা। অফিস করতে করতে একটা জিনিশ শিখসি যে আপনি কার জন্য কাজটা করতাসেন সেইটা খুব ইম্পরট্যান্ট। সেইটার উপর কাজ এর বাউন্ডারি, কোয়ালিটি আর এফরট চেঞ্জ হয়া যায়। আমাদের এক জন নেতা দরকার যার জন্য কাজ কইরা আমরা ভাল ফিল করব। তাইলেই দেশ চেঞ্জ হয়া যাবে। এজ সিম্পল ইজ দ্যাট।

আন্ডার গ্র্যাড এ পড়ার সময়ের এরকম একটা আইডিয়ার কথা দিয়া শেষ করি। খুবি শিশুতোষ আইডিয়া। খুব বেশি ডিটেইল চিন্তা করি নাই। বাট এরকম কিছু হইলে ভাল হইতো ভাইবা আই ফেলট গুড।

আমি তখন দেখতাসিলাম যে ভার্সিটির আর কলেজের পোলাপান এর হাতে প্রায় ই কিছু ফ্রি টাইম থাকে। যখন নতুন সেমিস্টার এর ক্লাস শুরু হয়, যখন সেমিস্টার ফাইনাল শেষ হয়, সন্ধ্যার পর, কিছু কিছু ছুটির দিনে এমন। আবার আমরা প্রায় ই শুনি সরকারি কাজ এ অনেক দেরি হয়, লোকজন এফিসিয়েন্ট না এরকম। তো আমি চিন্তা কইরা দেখলাম এমন হইলে কেমন হয় যে সব সরকারি অফিসে সেকেন্ড শিফট চালু হবে। সন্ধ্যা ৬ টা থেইকা রাত ১০ টা। এই সময় কাজ করবে এই সব আন্ডারগ্র্যাড পোলাপান। সিনিয়রিটি দেখা যাইতে পারে লাইক থার্ড/ফোরথ ইয়ার এর স্টুডেন্ট রা মোর ম্যানেজেরিয়াল রোল এ আর ফাস্ট/সেকেন্ড ইয়ার এর পোলাপান হবে মুল ওয়ারকফোরস। এদের কে ট্রেইন আপ করবে ওই পজিশন এ যে দিন এর বেলা কাজ করতেসে সেই মানুষ টাই।

কি পরিমাণ পেস আসবে কাজে চিন্তা করা যায়। ২য় শিফট এর লোকজন অভিয়াস্লি অনেক নতুন নতুন আইডিয়া নিয়া আসবে কাজ এ, যেগুলা ১ম শিফট এর লোকজন কে অনেক অনেক হেল্প করবে। আর পাস করার পর ছেলে মেয়ে গুলা অলরেডি অভিজ্ঞতা নিয়া বাইর হইতাসে। দেখা যাবে ওই অফিসের বস ই হয় তো খুশি খুশি গলায় বলতাসে, ইয়ে কুদ্দুস, তোমার তো গ্রেজুয়েশন শেষ, অমুক সাহেব ও আগামী মাস থেকে এলপিআর এ যাচ্ছেন, হয়াই নট ইউ কাম টুমরো এট দা ডে শিফট? তারপর দেখা যাবে অনেক বাসায় বাবা গম্ভীর মুখে মেয়ে কে সেমিস্টার ফি এর টাকা জমা দেওয়ার ডেট জিজ্ঞেস করতে গেসেন, আর মেয়ে টা সব গুলা দাত বাইর কইরা বলতাসে, এএএহ, তুমি এত দিনে জিজ্ঞেস করতে আসছো বাবা? সেমিস্টার ফি আমি কঅঅবে দিয়া দিসি। আমি তো এখন পারি দিতে, ভুইলা যাও ক্যান? ইভেন সরকার এর দেখা দেখি প্রাইভেট কোম্পানি গুলা যদি এই কাজ শুরু করে, আর কত জোস হবে ব্যাপার টা।

আমি জানি অনেক লুপ হোলস আছে এই আইডিয়ায়, কিন্তু সেগুলা দূর করার জন্য আমাদের অনেক মাথা ওলা লোকজন ও তো আছেন। এই দেশ এর খালি একটা ভাল বস দরকার। ব্যাস তারপর সব সল্ভ হয়া যাবে।

৭৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১৪, ২০১৫ । ১১.৪২ পি.এম

এই অনিচ্ছাকৃত মাধ্যাকর্ষণ এর জন্য দুঃখিত
একদিন অবশ্যই তোমার কাছে যাবো
আর দেখবো তুমি অপেক্ষা করছো না

আমার নিজের কবিতা কখনো মনে থাকে না। লেখার আগ পর্যন্ত মাথার ভিতর শব্দ গুলা অনেক দৌড়া দৌড়ি করে। এক সপ্তাহ পর এক্টা লাইন মনে থাকে। একবছর পর নিজের কবিতা নিজেই চিন্তে পারি না।

উপরের কবিতা টা মনে আছে কেম্নে যানি। এইটার গল্প টা হইল একদিন অফিস থেইকা বাইর হইসি আট টা বাজে। অফিস খুবি পেস এর জায়গা। পেস মানে Positive Energy Sucker (PES). আবার স্পিন ও আসে। স্পিন মানে Social Psychopaths INside (SPIn). এই সব পার কইরা দিন শেষে কাব্য করা একটা অসম্ভব ব্যাপার। তবু রিকশায় উইঠা আকাশের দিকে তাকায় দেখি এত্ত বড় একটা চাঁদ।

চাঁদ দেইখা আমি অনেক থতমত খায়া গেলাম। কেন? এই অন্ধকার জীবনে হঠাৎ চাঁদ একটা কেন? অদ্ভুত ব্যাপার। কেমন একটা আকর্ষন করতাসে মনে হইল। টাইন্যা নিয়া জাইতাসে টাইপ। তখন মনে হইল আমি নিশ্চই একা এই টান টা ফিল করতাসি না। সারা পৃথিবীর কতগুলা জানি মানুষ এই চাঁদ দেইখা আমার মত মনে করতাসে, দৌড় দেই, চাঁদের দিকে একটা দৌড় দেই। তখন প্রথম লাইন দুই টা মাথায় আসে,

“এই অনিচ্ছাকৃত মাধ্যাকর্ষণ এর জন্য দুঃখিত
একদিন অবশ্যই তোমার কাছে যাব”

তারপর মনে হইল এইটা আসলে নিজের জীবনের গল্পই লিখা ফালাইসি দুই লাইনে। আমি ধুপ ধাপ প্রেমে পইড়া যাই অথবা পইড়া যাইতে চাই। কিন্তু পৃথিবীর সব ভাল মেয়ে টেকেন, গিভেন আর বাকি রা সাইকো। তাই কাছে যাওয়ার পর মনে হয়, সরি ভুল হয়া গেসে। থাকেন, গুডলাক উইথ দা রিলেশনশীপ। তখন শেষ লাইন টা মাথায় আসে,

“আর দেখবো তুমি অপেক্ষা করছো না”