৯৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ২, ২০১৫ । ১১.৩৫ পি.এম

উনার সাথে আমার এক সময় সম্পর্ক বেশ ভাল ছিল। উনার সাথে কথা বার্তা হইত। উনার ফ্রেন্ড দের কথা বারতা শুন্তাম। উনার কথা ত শুন্তাম ই। উনার অনেক কথা মুখস্ত ও ছিল। কেম্নে উনারে খুশি করা যায় সেই ব্যাপারে অনেক বেশি ই মনোযোগি ছিলাম। উনি মনে মনে হাসতেন। আমাকে দিতেন খুব কম, কিন্তু তাতেই আমার খুশির সীমা থাকত না। অপেক্ষা করতাম আবার কবে খুশি করা যাবে উনাকে।

তারপর কি জানি হইল। উনি খুশি না বেজার বুঝতে পারি না। উনার উপর বিশ্বাস হারাই নাই কখনো কিন্তু উনি ব্যাস্ত হয়া গেলেন অন্যদের নিয়া। যাদের মনে হইত অহংকারি, নিষ্ঠুর, স্বার্থপর, লোভি তারা কেম্নে কেম্নে জানি উনাকে খুশি কইরা ফালাইল। উনার সব উপহার দেখি তাদের জন্যই।

তারপর শুরু হইল আমাকে ভাইংগা গুরা গুড়া করার প্রজেক্ট। প্রত্যেকবার আমি উইঠা দাড়াই আর উনি হাতের এক ইশারায় আমাকে ধুলায় ফালায় দিয়া দেখান উনি ইচ্ছা করলেই সব পারেন।

আমার হয়তো কথা ছিল উনার দিকে পিছন ফিরা উল্টা দিকে হাইটা চইলা যাওয়া। কিন্তু পারি নাই। রাগ এর বদলে আসলো অভিমান। সাগর সমান অভিমান। উনাকে কিছুই বলি নাই। উনার বেশির ভাগ কথা বারতাই আগে যেমন শুন্তাম তেমন ই শুনি। শুধু উনার সাথে কথা বার্তা বন্ধ হয়া গেল। উনি তো আমাকে আমার চেয়েও ভাল চেনেন, তাই উনাকে মুখে কিছুই বলতে হয় নাই। উনি জানেন যে আমি ধুলায় পইড়া থাইকাও উনারে বলসি,

ঠিক আছে আল্লাহ, ঠিক আছে। ইফ ইউ থিনক ইটস বেস্ট ফর মি, ঠিক আছে। তোমার উপরে তো কথা নাই। আমি না হয় হাইরাই যাই সব জায়গায়। শুধু যাদের তুমি জিতায় দিচ্ছ, আই হোপ তারা জানে যে তারা আসলে জিতসে। লেট দেম নো। দে নিড ইট। আই ডোন্ট।

৯৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ১, ২০১৫ । ৯.৫১ পি.এম

এপোলো হাসপাতালের বেড এ শুইয়া শুইয়া নোট লিখতাসি। আমার কিছু হয় নাই। আম্মার শরীরে পটাসিয়াম কইমা গেসিল। শনিবার দুপুরে আমি আর অভি যখন ঘুরাঘুরি কইরা উত্তরা ফিরতাসিলাম তখন হঠাত ফোন আসলো বাবার। রুটিন চেকাপ ছিল এপোলো তে। ডাক্তার বলসে ভরতি করতে।

তখন থেইকা এপোলো তেই ভরতি আছে আম্মা। কাল্কে রিলিজ দিয়া দিতে পারে। এখন দুইটা ইঞ্জেকশন চলতাসে সেলাইন এর সাথে। শেষ হবে রাইত ১১ টায়। বাবা গত দুই রাত ছিল। আমারে থাক্তে দ্যায় নাই। বাসায় পাঠায় দিসে। আজকে আমি বাবা রে বাসায় পাঠায় দিসি। আম্মার পাশে থাক্তাসি আজকে এপোলো তে।

এই খানে চিকিতসা অনেক ব্যায়বহুল। গ্রামীন ফোন এর চাকরি টা না থাকলে এই খানে চিকিতসা এফোরড করা সম্ভব ছিল না আমাদের পক্ষে। অফিস এর হেলথ ইন্সুরেন্স থেইকাই পুরা ব্যায় কাভার করতাসে। আমার তেমন কিছু দিতে হইতাসে না। আমার ভাল্লাগতাসে যে আমি এমন এক্টা যায়গায় পৌছাইসি যেখানে আমি আমার বাবা মার চিকিতসার খরচ যোগাইতে পারি। এ ছাড়া নাইলে টাকা পয়সা দিয়া কি করুম আর।

আম্মা খাইসে এক্টু আগে। এখন টিভি দেখে। আর আমার সাথে গুটুর গুটুর আলাপ করে। আমারে বিয়া দেওয়ার জন্য পাগল হয়া গেসে। বলসে তুই যারে আইন্না বলবি তার সাথেই বিয়া দিব। কুন অসুবিধা নাই। আর বলসে তুই তারে নিয়া ভাল বাসা নিয়া থাকিস। বাসাবো থাকা লাগবে না।আমি কিচ্ছু বলব না। তবু বিয়া কর বাপ, তর বউ নাই চিন্তা কইরা আমারি একা একা লাগে, তোর যে কেমন লাগে তা তো বুঝি ই। আমি কয়েকবার বল্লাম আম্মা চুপ কর। কি কউ এগুলা হুদাই। কিন্তু ঘুরায় ফিরায় অই বিয়ার আলাপ ই। আজিব।

হাসপাতালের রাত গুলা অদ্ভুত। আম্মার সাথে আগেও কাটাইসি হাসপাতালে। হাসপাতাল কখনো ঘুমায় না। কোথাউ না কোথাউ এক্টা অসুখে কষ্ট পাওয়া মানুষ জাইগা থাকে। অপেক্ষা করে ভোর হওয়ার। আমার মনে হয় এদের সাথে গল্প করি গিয়া। সবার ই অনেক গল্প থাকে বলার। শুন্তে চায় না কেউ। আমার মনে হয় আমি যদি সেই কান টা হই।

আজকে এক্টা অন্যায় এর প্রতিবাদ করসি। এক্টা লাল গাড়ি সাম্নের গাড়ি কেন আগায় না অইজন্য সমানে হরন বাজাইতেসিল। সবাই বিরক্ত হয়া লুক দিতাসিল আর কানে আংগুল দিতাসিল। কিন্তু কেউ কিছু বলে নাই। আমি গিয়া গাড়ির ছাদে দুইটা থাবা দিয়া বল্লাম, এত হরন বাজান ক্যান। সবার কান ফাটায় ফেলতাসেন। অই লোক উল্টা কি কি জানি বল্লো। আমি কোন উত্তেজনা দেখাই নাই। বলসি আরেকবার হরন দিলে আপ্নাকে দার করায় শুনাবো কেমন লাগে শুন্তে। আশে পাশের লোক ও ততখনে আগায় আসছে আর গালি দেওয়া শুরু করসে। অই লোক চুপ কইরা মাথা নিচু কইরা গাড়ি চালায়া গেল গা।

৯৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৩১, ২০১৫ । ১১.০৪ পি.এম

সাইফুল আযম। সমরবিদদের দেয়া নাম ‘লিভিং ঈগল’। বন্ধুরা ডাকেন ‘টপ গান’ নামে। বিশ্বের বিমান বাহিনীগুলোর কাছে নামটি এখনো এক বিস্ময়। নিখুঁত নিশানার জন্য শত্রু বিমান আর বৈমানিকের কাছে তিনি সাক্ষাৎ যম।

বিস্ময়কর এই ব্যক্তিত্ব চারটি দেশের বিমান বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনটি দেশের হয়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। দুটি দেশের যুদ্ধবিমান ধ্বংসের বিরল কৃতিত্বের অধিকারী এই বৈমানিক সর্বাধিক ইসরাইলি বিমান ধ্বংসের রেকর্ডেরও মালিক।

এই জীবন্ত কিংবদন্তির জন্ম ১৯৪১ সালে পাবনার ফরিদপুর উপজেলার সাগরবাড়িয়াতে। বাবার কর্মসূত্রে চলে যান কলকতায়। এরপর ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে আসে তার পরিবার। সেখানে থেকে ১৯৫৫ সালে পাড়ি জমান তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে।

এর পর ১৯৫৮ সালে স্কুল শিক্ষা শেষ করে যোগ দেন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ক্যাডেট কলেজে। সফলভাবে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে ১৯৬০ পাইলট অফিসার হিসেবে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে কমিশন পান। এছাড়া ১৯৬৩ সালে অ্যারিজোনার লিউক বিমান ঘাঁটিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ অর্জন করেন তিনি।

সাইফুল আযমের বীরত্বগাঁঁথার শুরু ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ দিয়ে। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সারগোদা ঘাঁটি থেকে ১৭ নম্বর স্কোয়াড্রনের হয়ে আযম F-86 Sabre জেট নিয়ে উড্ডয়ন করেন। সফল স্থল হামলা করে ফেরার পথে ভারতীয় বিমান বাহিনীর Folland Gnet যুদ্ধবিমানের বাধার মুখে পড়ে আযমের গ্রুপ। এ সময় ভারতীয় দুটি যুদ্ধবিমানের মধ্যে একটির ফ্লাইট অফিসার মহাদেবকে ভূপাতিত করেন আযম।

এজন্য তাকে ১৯৬৬ সালে পাকিস্তানের তৃতীয় সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা সিতারা-ই-জুরত এ ভূষিত করা হয়। এছাড়া পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ২ নম্বর স্কোয়াড্রনের অধিনায়ক হিসেবেও তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়। তিনি হন Group Captain Saiful Azam

এরপর ১৯৬৬ সালে আযমকে জর্দান বিমান বাহিনীর উপদেষ্টা হিসেবে ডেপুটেশনে পাঠায় পাকিস্তান। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হলে জর্দান বিমান বাহিনীর ১ নম্বর স্কোয়াড্রনের হয়ে Hocker Hunter নিয়ে আকাশে উড়েন এই দুরন্ত ঈগল।

যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল আযমকে ইসরাইলের সুপার মিসটেরে যুদ্ধবিমান থেকে জর্দানের মূল ঘাঁটি মাফরাক রক্ষার দায়িত্ব দেয়া হয়। ৫ জুন আযম তার হকার হান্টার দিয়ে ইসরাইলের একটি বিমান তাৎক্ষণিক বিধ্বস্ত করেন এবং গুলিতে আরেকটিতে আগুন ধরে গেলে সেটি সীমান্তে ইসরাইলি ভূ-খণ্ডে গিয়ে পড়ে।

ইসরাইলি হামলা ঠেকাতে পরদিন তাকে দ্রুত ইরাকি বিমান বাহিনীতে পাঠানো হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৎকালীন সবচেয়ে আধুনিক দুটি Mirage যুদ্ধবিমানের পাহারায় ইসরাইলি বিমান বাহিনীর চারটি বোম্বার পশ্চিম ইরাকের বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালায়।

এবারও ইরাকি হান্টার নিয়ে প্রতিরোধে নামেন এই অকুতোভয় বৈমানিক। ইসরাইলি একটি মিরাজের পাইলট ক্যাপ্টেন গিদিয়োন দ্রোর আযমের উইংম্যানসহ দুটি ইরাকি যুদ্ধবিমান ভূ-পাতিত করে। কিন্তু আযমের পাল্টা হামলায় দ্রোর ধরাশায়ী হন।

এছাড়া ক্যাপ্টেন গোলানের বোম্বারও ভূ-পাতিত করেন আযম। দুজনকে বন্দি করে ইরাকি সেনারা এবং তাদের বিনিময়ে পরবর্তীতে ইসরাইলের হাতে আটক কয়েক হাজার ইরাকি ও জর্দানি সেনাকে মুক্ত করা হয়। আযম ৭২ ঘণ্টায় চারটি ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেন।

এই বীরত্ব ও অসীম সাহসিকতারর জন্য সাইফুল আযম জর্দানের অর্ডার অব ইন্ডিপেন্ডেন্স এবং ইরাকের নাত আল-সুজাত সম্মাননায় ভূষিত হন। এছাড়া ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর দেয়া এক সম্মাননায় তাকে বিশ্বের ‘২২ জীবিত ঈগলের (ওয়ান অব দি টুয়েন্টে টু লিভিং ঈগলস)’ একজনে ভূষিত করা হয়

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিভৃতচারী এই বীরের কীর্তিগাথাও অনেকটা অজানা এ দেশের মানুষের কাছে। বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমানের পাকিস্তানি বিমান ছিনতাইয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে থাকা এই বীর কয়েকজন বাঙালি সহকর্মীকে নিয়ে দেশটির বেশ কয়েকটি বোয়িং বিমান এবং যুদ্ধবিমান ছিনতাই ও ধ্বংসের পরিকল্পনা করেন। শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়ে মুখোমুখি হন কোর্ট মার্শালের। প্রায় ২১ দিন নির্জন সেলে কেটেছে মৃত্যুর ভয়ে।

তবে পাক-ভারত এবং আরব-ইসরাইল যুদ্ধের বীরত্বের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে তাকে আটকে রাখা হয়। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও নজরদারিতে থাকা আযমকে বিমান বাহিনী কার্যক্রমে অংশ নিতে দেয়া হয়নি।

স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে ঢাকায় বিমান বাহিনীর ঘাঁটিতে যোগ দেন এই বৈমানিক। ১৯৭৭ সালে তাকে ঢাকা বিমান ঘাঁটির অধিনায়ক করা হয় এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়। সর্বশেষ ১৯৭৯ সালে অবসরে গেলেও বেসামরিক পরিবহন বিমান কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে দুদফা দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এরপর ১৯৯১-৯৫ মেয়াদে বিএনপির হয়ে পাবনা-৩ (চাটমোহর, ফরিদপুর ও ভাঙ্গুড়া) আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাইফুল আযম। বর্তমানে স্ত্রী নিশাত আর তিন সন্তান নিয়ে নিজেদের ব্যবসার দেখভাল করছেন তিনি।

৯২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৩০, ২০১৫ । ১০.৫২ পি.এম

অইভ্যার বড়ভাই এর নাম সুমন ভাইয়া। সুমন ভাইয়া আমাগো খালাতো ভাই বোন দের মধ্যে সবচেয়ে বড়। তাই সবার ব্যাপক প্রিয়। উনি আমারে স্কুল এর পড়ার সময় পড়াইত। আমি সারা বছর উনার বকা ঝকা সহ্য করতাম আর বার্ষিক পরীক্ষার পর যখন অইভ্যার লগে দেখা হইত তখন বিচার দিতাম, তোর ভাই আমারে এই কইসে, তর ভাই আমারে এই করসে তুই এর একটা বিহিত কর। আর হে খুব সান্ত্বনা দিত আমারে। এখনি ব্যবস্থা নিতাসি, উনি বেশি বার বারসে, আজকেই শিক্ষা দিমু এই সেই। কামের কান কিছুই করত না, কিন্তু আমার ভাল্লাগতো ভাবতে যে আহা জাস্টিস ইজ স্টিল হেয়ার।

একবার হইসে কি আমরা তখন ৫/৬ এ পরি আর ভইন দা পেইন মইম্যা পরে কেলাস টেন এ। অভিও কি জন্য জানি ঢাকায়। মইম্যা এই খুশি তে অর ভিকারুন্নিসা ইশকুল এর কেমিস্ট্রি ল্যাব থিকা এক বোতল সালফিউরিক এসিড চুরি কইরা আইনা আমাগো দিসিল।

আমি আর অভি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা করতাম তো লাইক হারপিক আর শ্যাম্প্যু মিশাইয়া তার লগে হাল্কা কোক মিলাইয়া তার মধ্যে দুই চিমটি ডিটারজেন্ট ছাইরা দিলে সেইটা অনেক উইয়ারড একটা স্মেল হয় , এই ধরনের কাল জয়ী সব গবেষণা।

তো সালফিউরিক এসিড নিয়া গবেষণা কইরা আমরা বাইর করলাম যে এইডা র মধ্যে এক ফোটা পানি দিলে কি জোরদার রিয়েকশন হয়। একটু বেশি জোরদার হোয়াতে ফ্লোর এ অনেক খানি এসিড পইড়া গেসিল আমি আসে পাশে কিছু না পায়া সুমন ভাই এর জাইঙ্গা দিয়া ওই এসিড মুইছা আমার সুন্দর জায়গা মত থুইয়া দিসি।

রাত্রে বেলা আমি আর অভি খেলতাসি এমন সময় আম্মা দুইজন রেই কান ধইরা আইন্না নিয়া গেল দেখি সুমন ভাই উনার সেই অন্তর বস্ত্র হাতে নিয়া দাঁড়াইয়া আসেন । কোন এক অজানা (!) কারণে অন্দর বস্ত্র খানার গায়ে অদ্ভুত সব ফুটা তৈরি হইসে। আম্মা খামাকাই চর মাইরা কইল এই সব এক্সপেরিমেন্ট আর না করতে। আমার এত গায়ে লাগলো ব্যাপার টা। বিজ্ঞান এর পথে বাধা সুমন ভাই বিচার দিল আম্মার কাছে? উনারে কে বলসি এই সব বৈজ্ঞানিক গবেষণার জায়গার পাশে অন্দর বস্ত্র রাখতে।

পরের দিক এই গায়ে লাগা বেপারটা দানা বাধতে বাধতে ক্ষোভ এর পর্যায়ে গেল গাঁ। আমি অভি রে ডাইকা বললাম, শোন সুমন ভাই রে একটা উচিত শিক্ষা দিতে হবে। তুই খালি দরজার কাসে পাহারায় থাকবি। আমি যা করার করুম। অইভ্যা তো আমি যাই কই তাতেই রাজি। শুরু হইল অপারেশন রিভেঞ্জ।

সুমন ভাই লুকায় লুকায় সিগারেট খাইত। আব্বা আম্মা সিগারেট খাওয়ার ঘোর বিরোধী তাই সবাই ঘুমায় গেলে বারান্দায় গিয়া খাইত। আমি করলাম কি , মইম্যার বায়োলজি প্রেক্টিকাল সেট থেইকা একটা টুইজারস চুরি করলাম। আমি জানতাম সুমন ভাই কোথায় সিগারেট এর প্যাকেট লুকায় রাখে। টুইজারস দিয়া খুব সাবধানে সিগারেট গুলার অর্ধেক তামাক বাইর করলাম। শবে বরাত এর বাইচা যাওয়া তারাবাতি থেইকা তারাবাতির মশলা গুলা আলাদা করসিলাম আগেই। প্রত্যেকটা সিগারেট এর ভিতর দুই দানা কইরা তারাবাতির মশলা ভরলাম। তার আগে টাইমিং হিসাব কইরা নিসিলাম যে প্রত্যেক টান এ কত খানি সিগারেট পুরে আর ওই তারাবাতির দানা পর্যন্ত আসতে কত খন সময় লাগে। তারপর তারাবাতির মশলার উপর আবার বাইর করা তামাক গুলা দিয়া হাত দিয়া সাবধানে সিগারেট এর শলা গুলারে স্মুথ বানায় দিলাম যাতে দেখলে বুঝা না যায় যে কিছু টেম্পারিং করা হইসে এগুলায়। পুরা বেপারটা তে দরজায় পাহারায় ছিল অভি আর প্লেনিং আর এক্সিইকিউশন এ আমি।

রাত হইল, পড়া থেইকা ছুটি পাওয়া গেল। আস্তে আস্তে বাসার সবাই ঘুমায় গেল। আমি আর অভি মটকা মাইরা পইরা থাকলাম। অইভ্যা হালায় বেশি রিয়েকশন দেখাইতে গিয়া নাক ডাকাও শুরু করসিল। আমি ওরে ফিসফিস কইরা কইলাম, আব্বে চুপ থাক , অন্য দিন তো ডাকস না এত। ধরা খাবি। একটু পরেই নারা চারা শুইনা টের পাইলাম সুমন ভাই বারান্দায় যাইতাসেন। আমরা চিতা বাঘের মত নিঃশব্দে পিছু নিলাম। সিগারেট ধরানো হইল। লাল আলোটার উঠানামা শুধু দেখতাসিলাম আর মনে মনে হিসাব করতাসিলাম। আর ৫ বার টান, আর ২ বার , আর ১ বার।

হুশষশশ। বারান্দা আলো কইরা দিয়া জইলা উঠলো সাদা তারাবাতির মসলা টা । সুমন ভাই কেউ টাইপ একটা কি জানি আওইয়াজ কইরা সেগারেট টা হাত থেইকা ছাইরা দিল আর আমাদের প্রতিশোধ এর অস্ত্র পূর্ণ জেল্লায় তারাবাতি ছড়াইতে ছড়াইতে বিল্ডিং এর নিচে হারাইয়া গেল। অইভ্যা বেক্কল ডা ওই দিন ঠা ঠা ঠা কইরা হাইসা না উঠলে জীবনেও বুঝতো না এই তারা মার্কা সিগারেট এর কাহিনী ডা কি।

এই ব্যক্কল আবার এখন পি, এইচ, ডি করে আম্রিকায়। আজকে আইসিল দেখা করতে বাসার নিচে। আমরা হাল্কা ঘুরা ঘুরি করসি গুলশান ডি সি সি মার্কেট এ। অইভ্যার একটা ১.৫ বছরের ছেলে পিচ্চিও আছে। নাম টা এত সুন্দর পিচ্চিরঃ আর্য অনুরণন
। আমি তো দেখি নাই অর পিচ্চি, তাই অরে জিগাইলাম , কিরে তোর পিচ্চি কত বড় হইসে? এই বেকুব হালায় আমারে হাত দিয়া দেখায়, এই যে এএএতত বড়। এত টুক সাইজ। এত কেজি। পরে বয়স কত জিগানো তে বুঝসে।

অভির সবচেয়ে বড় গুন হইল ও হিন্দি কম বুঝে আর যা বুঝে এরুম উলটা পালটা বুঝে। যেমন অর মতে “মুঝে ছোর দো” মানে হইল গিয়া “আমার মুজা ছাইরা দাও”। একবার বুয়েটের ফ্রেন্ড রা মিল্লা ইন্ডীয়া কই জানি ঘুরতে গেসে। যেখানে ইন্ডিয়ান দের টিকেটের দাম এক রকম আর বিদেশি দের প্রায় ডাবল। অর ফ্রেন্ড রা অরে অনেক বুঝায় সুঝায় নিসে যে তুই কুন কথা কবি না। যা বলার আমরাই বলব। তাইলে অরা বুঝবে না যে আমরা ইন্ডিয়ান না। কিন্তু মহান অভি আশে পাশের এত হিন্দি বলা দেইখা উত্তেজিত হইয়া গেল। ভাবল , না এই বার কিছু একটা কইরা দেখাইতেই হবে। হে বাইছা বাইছা সব থুইয়া এক ইন্ডিয়ান মহিলা পুলিশের লগে ফ্লারট করতে গেল। হে গিয়া কইসে, “তুম হারা নাম কাহা হ্যাঁয়” । আর পুলিশ আনটি তো , কি? নাম কাহা হ্যাঁয়? খারা তরে খাইসি, কইততে আইসস মফিজ কুনহাঙ্কার ইত্যাদি হিন্দি চিল্লা চিল্লি । অভির ফ্রেন্ড রা ওই দিন পারলে অরে ফালায়া থুইয়া আয়া পরে। খালি ভোঁটকায় কানবো বইলা কিছু কয় নাই।

এই মহান ভোঁটকা সোমবারে আম্রিকা ফেরত যাইব গা। হুদাই। আম্রিকা আবিষ্কার হউনের কুন দরকার আসিল? অভি, ভালা হয়া থাকিস । দেশের নাম ডুবাইস না। সাদা বেডি দেখলে হা কইরা তাকায় থাকিস না। ছেলের যত্ন নিস। মনে রাখিস হি ইজ নট এ টয়।

৯১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২৯, ২০১৫ । ৮.৫৬ পি.এম

দুপুর ১.৪৫

শ্রীমংগল থেইকা রউনা দিসি। ট্রেন যদিও ৫ টায় কিন্তু কয়েকজন কলিগ এক্টা গাড়ি ভাড়া কইরা আগেই রউনা দিয়া দিসে। আমারে বস জিগাইল জাবা? আমি লাফ দিয়া রাজি হয়া গেলাম। এই স্যাড প্লেস থেইকা যত তাড়াতাড়ি ভাগা যায়। আমি পুল এ নামসিলাম শেষ মেষ। সিন্থেটিক শর্টস পইরা। বুদবুদাইন্না পানি তেও বয়া আসিলাম। নিজেরে বড়লুক বড়লুক লাগে নাই।

বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি। চা বাগানে বৃষ্টির শব্দ কেমন আলাদা। মনে হয় চা গাছে মুখ ডুবায়া ভুলুলুলুলু কইরা মাথা নারাই।

আমরা মাঝখানে এক্টা জায়গায় থামাইসিলাম গাড়ি। পিচ্চি পিচ্চি আনারস কিন্সি। কিউট আসে দেখতে। খাইতে নাকি ভাল।

সন্ধ্যা ৬.৩৫

ঢাকায় ঢুকসি। পুরবাচল এর রাস্তা টায় এর আগে জীবনেও আসি নাই। শর্টকাট এ তারাতারি আইসা পরসে বসুন্ধরার পিসে দিয়া। আসতে আসতে দেখতাসিলাম আরবানাইজেশন। কত বিশাল বিশাল জায়গায় খালি প্লট, আর খাম্বা বসায়া রাখসে। এইখানে একদিন বাড়ি ঘর হয়া ভইরা যাবে। আরো কত মানুষ এর সুখ দুঃখ আর ভালবাসার গল্প তৈরি হবে, ভাংবে, পাল্টাবে। কি লাভ এই সবে, কি দরকার এই সব এর?

আকাশটা পুরাই অন্য গ্রহের আকাশ মনে হইতাসিল আজকে। আর দা লাইট। আহা চিতকার কইরা “কি সুন্দর” বলার মত সোনালী সোনালী আলো। কেমন হিপ্টনাইজ হয়া তাকায় ছিলাম আকাশের দিকে।

এই আকাশ দেখতে দেখতে আজকে ভাবসি, ডিসিশান ফাইনাল। চান্নি পসর রাইতে মরতে চাই না। ঘুম ঘুম সূর্য ওঠার টাইম এও না। এইরকম এক্টা হলুদ বিকালে মইরা গেলে জোস হইত। আত্মা আকাশে উঠবে না পাতালে নাম্বে তো জানিনা, যেদিকেই যাউক, হলুদ আলো দেখতে দেখতে যামু।

রাত ৯.৪০

বাসায় ঠিক ঠাক মতই পৌছাইসি পৌনে ৮ টার দিকে। এহন খিদা লাগসে। তারাতারি গাড়িতে উঠনের তারা থাকায় লাঞ্চ ও করি নাই গ্রেন্ড সুলতান এ। তয় আজকে ব্রেকফাস্ট এত খাইসি, এত খাইসি যে অসুবিধা হয় নাই। কত যে আইটেম আসিল ব্রেকফাস্ট এ। সে এক এলাহি কারবার সারবার।

এই নোট পোস্ট দেই তারাতারি। রান্তে যামু।

৯০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২৮, ২০১৫ । ৯.০৯ পি.এম

সকাল ৭.৫৫

টেরেনে বয়া বয়া এই নুট লিখতাসি। আমাগো টেরেন ভুর ৬ ডা পাচ পঞ্চাশ বাজে ছারসে। অপিশ থিকা আমরা শ্রীমংগল এর গ্রেন্ড চুল টান রিছর্ট এ মুজমাস্তি করতে যাইতাছি। বাংলাদেশ রেলওয়ে এর পক্ষ থিকা আমাগো তিন্ডা বগি দিছে। ভেচেলর গো লিগা এক বগি, যারা বউ পুলাপান লয়া যাইতাসে তাগো লিগা এক বগি আর ভচ মচ আর খাউন দাউন এর লিগা এক বগি। আমি ভেচেলর বগিতে বয়া খাউন দাউন এর বগির দিকে তাকায়া বয়া আসি।

আমাগো এক্টু আগে নাস্তা দিসে খাইতে। সুইস বেকারির পেকেট ধরায় দিসে একটা। আমি অতি দ্রুত নিজের টা শেষ কইরা “নাস্তা কি?” মুখ কইরা বয়া রইসি। তাই আমারে আরেক্টা দিসে। নাস্তার পর কলা মলা লিচু মিচু দিসে। একজন জিগাইতাসিল এই কে কে কলা পায় নাই কে কে কলা পায় নাই। এট্টু পরে অন্য বগি থিকা বাইরের পাব্লিক ও আয়া পরসে আমি পাই নাই আমি পাই নাই করতে করতে। নিঃস্বার্থ কলা বিতরন, হুয়াটিজ বানানা পোগ্রাম অইখানেই শ্যাষ।

দুপুর ৩.২০

রুম এ গইড়াই। লাঞ্চ বেশি মজা লাগে নাই। তাই খাইতারিনাই বেশি। আম্রা ঠিক করসি রইদ টা এট্টু কইম্মা আইলে ৪ টার দিকে পুলে নামুম। তিন জন এর রুম এইটা। দুই কলিগ বিশাল নাক ডাকায়া ঘুমাইতাসে। আমি জানলার দিকে খাট লইসি। ছুমিং পুল দেহা যায়, চা বাগানের পাহাড় দেখা যায়। কেমেরা আন্সি কিন্তু ছবি তুলতে ইচ্ছা করতাসে না। ইচ্ছা করতাসে চুপি চুপি পাহাড়ে গিয়া আসে পাসে কেউ আছে কিনা দেইখা নিয়া আ আ আ আ আ আ আ আ আ আ আ আ এবং আ বইলা চিল্লায়া সব রাগ অভিমান অশান্তি বাইর কইরা দেই।

রাত ৮.৪৬

বিকালে নিচে গেসিলাম। ইচ্ছা ছিল পুল এ নামার। মাত্র পা নামাইসি আর কইত্তে এক ব্যাডা আইসা কইল, সরি স্যার, পুলে কটন এর কিছু পইরা নামা যাবে না স্যার। আপ্নাকে সিন্থেটিক এর কিছু পড়ে নামতে হবে। আমি বড়লোকি জায়গায় গিয়া খুবি জড়সড় হয়া থাকি। এম্নেই ভাল্লাগতাসিল না কিছু। অইলোক তার যা দায়িত্ব তাই করসে, কিন্তু আমার অভিমান অদের পুলের চেয়েও বড়। আমার রুমে শর্টস ছিল, সিন্থেটিক এর ট্রাউজার ও ছিল। কিন্তু আমি ঠিক করলাম ধুর, আর নাম্বই না পুল এ। বাকি সবাই আগেই নাইমা গেসিল। আমিও জোর কইরা নাইমা গেলে হয়তো কিছুই বলত না। কিন্তু আমার মনে হইল, আমার লগেই খালি এডি হইব। আমি আচ্ছা ঠিকাছে বইলা চুপচাপ চাইত্তালার রুমে আইসা পড়লাম। আর জানলার ধারের এক্টা বরডার এর মত জায়গা আসেসে অইহানে পা উডায়া বয়া অদের ঝাপা ঝাপি দেখলাম।

দুই ঘন্টা পর একজন ফোন করল, পয়শাল, আমাদের এক্টু তোয়ালে দিয়া যাবা এক্টা? কিছু বলি নাই। দিয়া আসছি চুপ চাপ। ফেসবুকে সবার জ্যাকুযি তে বসা ছবিও পোস্ট করসি এক্টা। থাকুক। সবার এক্টা সুখের ছবি থাকুক।

দিস হেস ওলয়েজ বিন মাই স্টোরি। গেটিং রিজেক্টেড এভ্রিহয়ার। আই শুড বি গেটিং ইউজড টু ইট বাই নাউ। বাট এভ্রি টাইম, ইট জাস্ট কাটস এ লিটিল ডিপার। এন্ড ইয়েস ইট হার্টস।

ঠিকাছে আল্লাহ, ঠিক আছে। ইফ ইউ থিনক ইটস বেস্ট ফর মি। ঠিক আছে।

৮৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ২৭, ২০১৫ । ১০.৩৬ পি.এম

মহান রাশা ধইরা এক্টা গায়ে হলুদ এ লয়া আসছে। আর এখন অরে এক্লা থুইয়া যাইতেও পারতাছি না। পুরা অনুষ্ঠানে খালি রাশা রে চিনি আর জামাইটারে ক্লাস থ্রি তে আইডিয়াল ইস্কুল এ দেখসিলাম। এই শেষ। তার উপ্রে নট এট অল ড্রেসড ফর দা হলুদ। অপিশ থিকা ধইরা লয়া আইসে। এক্টু পরে লুকজন ভাই, বোরহানি নিয়া আসেন তো বল্লেও অবাক হউনের কিছু থাকবো না।

আম্রা বয়া বয়া মাইন্সের দিকে অকয়ারড স্টেয়ার করি। এক স্কারফ পরা আণ্টী ডিজের লগে লগে মাথা বেং করতাসে। মজা লাগতাসে দেখতে। কিছু থতমত আত্মীয় সজন এক্কেরে কুনার টেবিল এ দল পাকায়া বয়া রইসে। অনেক দিন পর কুন বিয়া শাদি রিলেটেড। অনুষ্ঠান এ আসলাম। আর শিউর হইলাম, আই স্টিল হেইট ইট।

কাল্কে ভুর বেলা আমার ট্রেন। ৬.৩০ বাজে। অপিশের লুকজন এর লগে শ্রিমংগল জাইতাসি। গ্রেন্ড সুলতান রিজোরট নামে এক খান বড়ুলুকি জায়গা আসে। অইখানে দুই দিন এর প্রোগ্রাম। আল্লায় বাচাইলে শুক্কুর বার রাইতে ঢাকা আয়া পরুম। আমি জাই না এইসব আউটিং এ। এইবার কি ভাইবা জানি রাজি হইলাম।

বন্ধুর দিকে তাকায়া খালি বয়া রইসি। এট্টু পরে ঘুমায় যাওয়ার বেপক চান্স আসে। জামাই বউ এর দিকে তাকায়া আলা জিব্বা বাইর কইরা বিকট হাই তুলাডা ঠিক হইব কিনা বুঝতাসি না।

কি যে হইতাসি দিন দিন। মানুষ ই ভাল্লাগে না আর। জংগলে জামু গা। লেংটি পইরা পাহাড়ের কিনারায় বয়া সুর‍যাস্ত দেখুম। দি প্রাউড এপিটোম অফ সোশাল অকওয়ারডনেস হয়া সুখে শান্তিতে বসবাস করুম।

৮৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ২৬, ২০১৫ । ১১.৩৪ পি.এম

আমার একটা খালাত ভাই আছে। তারিক ইকবাল অভি। আম্রিকায় পি এইচ ডি করে এহন। আমার এক বছরের ছোট। কিন্তু সার্টিফিকেটে আমার চেয়ে বড়। আমি আর ও একই ক্লাস এ পড়তাম, কিন্তু আলাদা স্কুল এ। ও বড় হইসে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ এ। আমি ঢাকায়। ছোট বেলায় ও ছিল আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। আমি চিঠি লিখখা পোস্ট কইরা খালার অফিসের ঠিকানায় পাঠাইতাম। অইভ্যা আবার সেই চিঠির জবাব দিত ( আমরা তখন “মেইল” এর “রিপ্লাই” দেওয়া টার্ম গুলাই জানতাম না, আমরা জবাব দিতাম, রিপ্লাই না)। মোহনগঞ্জে জাফর ইকবাল এর নতুন বই পাওয়া যাইত না বইলা আমি “জারুল চৌধুরীর মানিক জোড়” বই টা প্রায় অর্ধেক টা অর কাছে চিঠি তে লিখা পাঠাইসিলাম। বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হইলে ও ঢাকা আসতো নাইলে আমি যাইতাম মোহনগঞ্জ। হে আসিল বিরাট ভাল স্টুডেন্ট। জীবনে সেকেন্ড হয় নাই এরম। আর আমি মিডীওকার। আমার আম্মার কাছে প্রায়ই শুনা লাগতো “অভি কি পুলাউ কুরমা খায়? আর তুই ভাত খাস? তাইলে ও ফার্স্ট হয় আর তুই পারস না ক্যান?”

এস এস সি এর পর আমরা কেমনে কেমনে জানি দুইজন ই নটরডেম এ চান্স পায়া গেলাম। আমরা তখন মাত্রই বাসাবো তে মুভ করসি। আমার বাপ চাইত্তালা বাড়ী কিনসে একটা বাসাবো তে। আমরা থাকতাম তিন তালায়। বাবা কইল, তোমাদের পাঁচ তালায় ছাদের এক পাশে একটা রুম কইরা দেই, দুই জন এ থাকো, পড়ালেখা কর, নিচে তো গেঞ্জাম, মেহমান আসে খালি। উপরে থাকো নিরিবিলি। আমরা তো পারলে বাপ এর সামনেই ঢেন্স শুরু কইরা দেই। কিন্তু মুখ খুবি গম্ভীর কইরা বললাম, জি, আপনি যা ভাল মনে করেন। তারপর আবার দুইজন মনে মনে হাই ফাইভ করলাম।

নটরডেম এ থাকার টাইম টা ওয়াজ দি বেস্ট একাডেমিক লাইফ আই এভার হ্যাড। ইভেন দো আমি জীবনেও ফাটাফাটি ভালছাত্র ছিলাম না। কিন্তু নটরডেম এর মত মজা আমি ভার্সিটি তেও পাই নাই। আমি আর অভি পাঁচতালায় থাকা শুরু করলাম। ক্লাস এ যাই, আসি , সব স্যার এর বাসা আমাদের কমন , খালি বায়োলজি বাদ এ। কারন অইভ্যার বাপ অরে মেডিকেল এ পড়াইবই আর আমি বায়োলজি ভয় পাইতাম, কারন আমি ছবি আঁকতে পারি না। তাই কম্পিউটার নিসিলাম।

পাঁচতালায় থাকতে যে কত মজা হইসে সেইটা এই নোট এ লিখা শেষ করন যাইব না। কিছু কাহিনী কই তাইলে হয়ত কিছু টা আন্দাজ করন যাইব।

আমাদের ঠিক নিচের তালায় মানে চার তালায় একটা ছোট ফ্যামিলি থাকতো। জামাই বই দুই জন ই চাকরি করে। খায়াদায়া রাইত সাড়ে দশটা বাজতেই গভীর রাত ওদের। আর আমাদের তখন পারটি শুরু হউনের টাইম হইসে। ওদের বাসায় টি এন টি ফোন ছিল। আর লাইন টা গেসিল, ঠিক আমাদের পাঁচ তালার জানালার সামনে দিয়া। আমরা করলাম কি, একটা ফোন সেট কিনলাম। তামার তার কিনলাম কয়েক গজ। তারপর এক রাতে ওই তার টারে কাইটা আবার জুরা লাগাইয়া রাখলাম।

প্রত্যেক দিন আমরা ওয়েট করতাম চার তালার ফ্যামিলি ঘুমাইসে কিনা। ঘুমাইলেই ওদের লাইন ডিস্কানেক্ট কইরা আমাদের রুম এ নিয়া আসতাম লাইন। তার পর এর ফোন ওরে ফোন। অইভ্যার এখন বউ, তখনকার গারলফ্রেন্ড থাকতো ময়মনসিংহ। আমরা ময়মনসিংহ এন ডাব্লিউ ডি কলও করসি। হোস্টেল এ ফোন কইয়া খুব জরুরি দরকার বইলা , অইভ্যা আলাপ করত, ভাত খাইস? কিদ্দিয়া খাইস? মশা বেশি? তোমাদের ওইখানে কয়টা বাজে এখন? তারপর সারা বাংলাদেশে যত পরিচিত অপরিচিত আছে সবাইরে ফোন কইরা তোমাদের ওই খানে গরম কেমন টাইপ আলাপ সালাপ চলতো।

পরের মাস এ আমরা নিচে গেসি ভাত খাইতে দেখি চাইর তালার আনটি আম্মার সাথে আলাপ করতাসে দরজায় দাঁড়ায়া, “বুঝসেন ভাবি, কি যে ভুতুড়ে বিল আসা শুরু করসে, আমরা তো বাসায় ই থাকি না। আমরা নাকি সারা বাংলাদেশে ফোন করি” । আমি আর অভি একে অন্যের দিকে তাকায় ও নাই, যদি বুইঝা যায় ওই চিন্তা কইরা।

আমাদের পাঁচ তালার ছাদ থেইকা সামনের বাসার ড্রইং রুম দেখা যাইত। ওই খানে একটা মেয়েও দেখা যাইত। যার নাম আমরা জানতাম না। আমাদের খুব শখ হইল, ওই মেয়ের নাম জানতে হবে। অভি আবার দুই দিন এর মাথায় অই বাসার টি এন টি নাম্বার যোগার কইরা ফালাইল।

ঈদের দিন আগের দিন রাতে আমরা ছাদে বইসা ফোন দিলাম ওই বাসায়। দেখলাম মেয়েটার মা ধরল ফোন। আমি বললাম, আমরা একুশে টিভি থেকে বলছি। আমাদের নতুন অনুষ্ঠান এর নাম হেলো হেলো ক্রিং ক্রিং। আমরা আপনাকে তিনটা প্রশ্ন করব, যদি পারেন তো এরোমেটিক কস্মেটিক্স এর সৌজন্যে আপনার জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। বইসা বইসা দেখলাম ওই বাসায় দৌড়া দৌড়ি পইড়া গেসে। ওই তোর বাপেরে ডাক। ওই সাউন্ড কমা টিভির এই সব শোনা যাইতাসে।

ফোন এ আসল ওই মেয়েটা আর বলল, জি আমরা রেডি বলেন বলেন। এই বার অভি বলল, টাইটানিক এর পরিচালকের নাম কি? মেয়েটা চাষি নজরুল ইসলাম টাইপ কি জানি একটা বলল। অভি তো সাথেই সাথেই হ্যাঁ হ্যাঁ উত্তর সঠিক হয়েছে। এবার ২য় প্রশ্ন, বাংলাদশের জাতীয় পশু কি? মেয়েটা গরু, খাসি, কাচ্চি, বোরহানি কি কি জানি বলসিল, অভি আরো উৎসাহ নিয়া বিলকুল সঠিক হয়েছে , দুর্দান্ত জবাব। এইবার ৩য় প্রশ্ন, সোডিয়াম বেঞ্জয়েট এর রাসায়নিক সূত্র কি? আমি তো অভীর দিকে হুয়াদ্দাফাক লুক দিলাম। এইডা কি জিগাইসস হালা। অইভ্যা দেখি নির্লিপ্ত, কয় আরে সুজা তো NaC7H5O2 । আমি ফিসফিস কইরা কইলাম, আব্বে হালা সবাই কি তোর মত বিজ্ঞানী নাকি? অয় কইল দেখনা মজাডা।

আমরা দেখলাম ওইদিকে আবারো দৌড়া দৌড়ি শুরু হয়া গেসে, ওই কেমিস্ট্রি বই আন, ওই খুঁজ তারাতারি এইসব চলতাসে। অভি আবার কইল, আমাদের সময় বেশি নেই, আর এক মিনিট। ওই মেয়েটা হাঁপাইতে হাঁপাইতে ভাই একটু একটু, তারপর ABCDEFG টাইপ কি জানি একটা কইল। অভি শেষ হওয়ার আগেই, উত্তর সঠিক, আমাদের আজকের বিজয়ীর নাম… (কি নাম বলসিল আজকে আর মনে নাই… ধরি নাম ছিল ব্লা ব্লা)। মেয়েটা বলল ব্লা ব্লা। হ্যাঁ দর্শক মণ্ডলী আমাদের আজকের বিজয়ীর নাম ব্লা ব্লা। আপনার ঠিকানায় পৌঁছে যাবে আকর্ষণীয় পুরশকার। তারপর লাইন কাইটটা দিলাম। তার পর আমরা ওদের বাসার ঠিকানায় এক্টা সুন্দর কইরা লেখা চিঠি আর একটা ইকোণো ডি এক্স কলম পাঠাইসিলাম, কলম এ কালি ছিল না, ইউজড। চিঠি তে লিখসিলাম যে আমরা আসলে ভুয়া কিন্তু আপনার গলা সুন্দর, জীবনে উন্নতি করবেন যদি সাধারণ গিয়ান বাড়ান আরেট্টু।

আরেকটা ছোট ঘটনা দিয়া এই অইভ্যা বিষয়ক সৃতি চারণ থামাই আজকের মত। আমি আর অভি ফিরতাসিলাম নটরডেম থেইকা রিকশায়, আমাদের রিকশা অলা বেশ জোয়ান, ইয়ং পোলা ছিল একটা। হঠাত পাশে দিয়া আরেকটা রিকশা গেল। রিকশায় ভিকারুন্নিসা কলেজের তিনটা মেয়ে। খিল খিল কইরা হাসতে হাসতে পাশে দিয়া গেল গা। ওদের রিকশা ওয়ালা ছিল বুইড়া এক বেডা। অইভ্যা আমাদের রিকশা ওলা রে বলল, হুর মিয়া তুমি জোয়ান হয়া আমাদের দুই জন রে নিয়া পারো না, আর ওই বেটা বুইড়া তোমার আগে গেল গা। রিকশা ওলা কিচ্ছু কইল না তখন। বাসায় আসলাম। নামলাম। ভাড়া দিলাম। যাওয়ার সময় রিকশা ওয়ালা গম্ভীর মুখে বলল,

“ওই তিন জন হইলে আমিও পারতাম”

৮৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ২৫, ২০১৫ । ১১.০৭ পি.এম

আগের কয়েকটা লেখায় আমি মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী কেমনে গঠিত হইল বলসি, কেমনে বিমান বাহিনীর জন্য বিমান সংগ্রহ হইল বলসি আর বলসি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম ইউনিট যা মুক্তিযুদ্ধে অংশ ন্যায় সেই কিলো ফ্লাইট এর কথা। আজকে কিলো ফ্লাইট এর প্রথম মিশন অর্থাৎ বাংলাদেশ এর সীমার ভিতরে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর স্থাপনার উপর, আমাদের প্রথম বিমান আক্রমণ এর কাহিনী বলার চেষ্টা করব।

সকল তথ্যের উৎস আগের লেখা গুলায় বলসি অনেক বার। তাই শুধু শুধু আর ক্লাটারড করলাম না লেখা টা। তথ্য সূত্র আগের বই আর ইন্টারনেট এর লিঙ্ক গুলাই। ভাল হয় যদি ব্যাকগ্রাউন্ড এ চল চল চল গান টা ছাইড়া নেন। না ছাড়লেও ক্ষতি নাই। পইড়া আমার লিখার সময়ের মত গুজবাম্প হইসে কিনা জানায়েন 🙂

আগের লেখায় বলসি যে কিলো ফ্লাইট এ বিমান ছিল তিনটা । তার মধ্যে যে Alouette-III হেলিকপ্টার টা ছিল সেইটাকে ২ রা ডিসেম্বর, ১৯৭১ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অস্থায়ী ঘাটি ডিমাপুর থেইকা কইলাশহর নিয়া আসা হয়। এই দিনেই হেলিকপ্টার এর পাইলট দুইজন হেলিকপ্টার টাকে আগরতলা থেইকা ৭০ কি,মি পূর্বে তেলিয়ামুড়া তে নিয়া যান। হাই কমান্ড এর ডিসিশন ছিল পরের দিন অর্থাৎ ৩ রা ডিসেম্বর রাত এ দুইজন বৈমানিক হেলিকপ্টার টা নিয়া উড়বেন এবং প্রাইমারি টার্গেট এ আক্রমণ চালাবেন। প্রাইমারি টার্গেট নির্ধারণ করা হয় নারায়ানগঞ্জের গোদনাইল তেলের ডিপো। বিমান টি পরিচালনার দায়িত্তে ছিলেন স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ এবং ফ্লাইং অফিসার বদরুল আলম জিডি (পি)। সাথে থাকবেন মেশিন গান চালানোর জন্য একজন গানার। গানার এর কাছে এক বস্তা মুক্তিযোদ্ধা আর দেশের মানুষদের উজ্জীবিত করতে লিফলেট দেওয়া হইল। বলা হইল লিফলেট ফেলার সময় জাতে বস্তার গিট্টু খুইলা তারপর ফালায়। গানার মিয়া এই বস্তা কি করসিল সেই বেপারে এই কাহিনীর শেষে জানতে পারবেন। আমি অনেক ট্রাই করলাম গানার এর নাম জানতে কিন্তু কোথাও কোন রেকর্ড নাই। তাই আপাতত আমরা তাকে গানার ই বলবো।

আমাদের পাইলট রা প্রস্তুত হইতে থাক মুক্তিযুদ্ধের প্রথম এরিয়াল মিশনের জন্য এই ফাকে দুই জন সম্পর্কে একটু সংক্ষেপে বইলা রাখি।

স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ একজন অসাধারণ মুক্তিযোদ্ধা। কিলো ফ্লাইট এর অধীনায়ক ছিলেন তিনি। কিলো ফ্লাইট এ যোগ দেয়ার আগে তিনি পশ্চিম পাকিস্তান থেইকা প্রায় শূন্য হাতে পালায় চইলা আসেন আর সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরে যোগ দেন। চট্টগ্রাম এর মদনাঘাট এর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস কইরা দিয়া পূরা চট্টগ্রাম ব্ল্যাক আউট কইরা দেন এই সুলতান মাহমুদ। এই অপারেশন এ তার পায়ে গুলি লাগে। কিন্তু তারপর ও তিনি বিমান বাহিনী গঠিত হওয়ার খবর পাইয়া চইলা আসেন আর কিলো ফ্লাইট এর অধিনায়ক এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ফ্লাইং অফিসার বদরুল আলম জিডি (পি) পাকিস্তান বিমান বাহিনীর অন্যতম টেলেন্টেড ফাইটার পাইলট ছিলেন। তিনি প্রথম বাঙালি যিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সুপার সনিক স্কোয়াড্রন এ সিলেক্টেড হন। এয়ার টু সার্ফেস রকেট আক্রমণে তার রেকর্ড কয়েকবছর পুরা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর কেউ ভাঙতে পারে নাই। তিনি ছিলেন F-6 বিমান এর স্কোয়াড্রন এ। মজার জিনিশ হইল এই স্কোয়াড্রন নিয়া পড়তে গিয়া আমি পাইসি ২৫নং স্কোয়াড্রন এর মটো ছিল “চির উন্নত মম শীর” । তিনি চাইলেই ফাইটার স্কোয়াড্রন এর অনেক উপরের পোস্ট এ যেতে পারতেন। কিন্তু ১৯৭০ সালের উপকূলীয় জলচ্ছাস এর পর পাকিস্তান বিমান বাহিনী দুইটা H-19 হেলিকপ্টার পাঠায় উদ্ধার কাজে। তিনি দেশের সেবা করার জন্য এই হেলিকপ্টার এর বৈমানিক হিসাবে চইলা আসেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হইলে তাকে পশ্চিম পাকিস্তান এ বদলী করা হয়। কিন্তু তিনি অনেক কষটে পালায়া আইসা যোগ দেন কিলো ফ্লাইট এ, Alouette-III হেলিকপ্টার এর পাইলট হিসাবে।

মুল কাহিনী তে ফেরত আসি। ৩রা ডিসেম্বর, ১৯৭১। রাত বারোটার একটু আগে হেলিকপ্টার স্টার্ট দেওয়া হইল। ইতিমধ্যে এই সাধারণ লাইট ট্রান্সপোর্ট হেলিকপ্টার কে কাস্টমাইজ কইরা যুদ্ধের উপযোগী করা হইসে। এর সাথে লাগানো হইসে দুই পাশে ৭+৭ ১৪ টা রকেট সহ রকেট পড, মেশিন গান আর পাইলট দের নিচে পুরু ইস্পাতের পাত যাতে গোলাগুলির সময় গুলি আইসা না লাগে। আবার নেয়া হইসিল লিফলেট এর বস্তা।

এত কিছু লাগানোর ফলে হেলিকপ্টার এর সেন্টার অফ গ্রাভিটি গেল চেঞ্জ হয়া। টেক অফ করতে পারতেসিল না দুই পাইলট এর অনেক চেষ্টার পর ও । তাইলে কি এত দিনের সব প্রশিক্ষণ, এত ত্যাগ সব ব্যারথ হয়া যাবে? প্রথম মিশন এবরট করা লাগবে শেষ মেষ টেক অফ না করতে পারার কারণে?

এত সোজা? আমরা তো বাঘ। বাঘ রে কে আটকায়ে রাখতে পারসে বাধা দিয়া? স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ আর ফ্লাইং অফিসার বদরুল আলম জিডি (পি) সেই অসম্ভব কে সম্ভব করলেন। এই ওয়েট নিয়াও আকাশে উড়ল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর Alouette-III হেলিকপ্টার।

উড়ার পর দেখা দিল আরেক সমস্যা। দিনের বেলা হইলে এই হেলিকপ্টার এ সাধারণত ভিজুয়াল ফ্লাইট করা হয়। অর্থাৎ নিচের নদী নালা, মাঠ ঘাট দেইখা চালানো যায়। কিন্তু ডিসেম্বর এর শীত এর রাত। ঘন কুয়াশা। কিচ্ছু দেখা যাচ্ছিল না। বেশি নিচু দিয়ে উড়তে গেলেও গাছ এর সাথে ধাক্কা লাগতে পারে। সুলতান মাহমুদ স্যার বলসেন, ওই দিন পূর্ণিমা ছিল। চাঁদ আর মুখস্ত বিয়ারিং ( অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ) এর উপর ভরসা কইরা তারা হেলিকপ্টার নিয়া বাংলাদেশের সীমানায় ঢুকলেন।

স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ জানতেন যে তিনি যখন ২নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করছিলেন তখন ক্যাপ্টেন হায়দার দাউদকান্দি-কুমিল্লা রোড এর উপর ইলিয়ট গঞ্জ ব্রিজ উড়ায় দিসিলেন। একটু খুঁজতেই উপর থেইকা পায়া গেলেন সেই ভাঙ্গা ব্রিজ । এইবার এই মার্কার ধইরা আরেকটু আগাইলেন।

২য় বাধা আসলো দাউদকান্দির কাছে শহিদ নগর জায়গাটা তে। এই খানে একটা চিকন রেডিও রিলে টাওয়ার ছিল । পাইলট রা সতর্ক না থাকলে আরেকটু হইলেই এই টাওয়ার এ ধাক্কা লাগতো আর প্রথম মিশন ওই খানেই শেষ হয়া যাইত।

পাইলট দুইজন বুদ্ধি কইরা ঢাকার দিকে যাওয়ার হাইওয়ে ফলো করতে করতে আগাইতে থাকলেন। হেলিকপ্টার পৌঁছাইল শীতলক্ষা নদীর কাছে। তার পর ই নারায়নগণ্জ আর তারপর ই টার্গেট তেলের ডিপো। এই খানে আসলো ৩য় বাধা টা।

স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ আর ফ্লাইং অফিসার বদরুল আলম জিডি (পি) হঠাত খেয়াল করলেন যে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর দিয়া গেসে ৩৩,০০০ কেভির হাই টেনশন বৈদ্যতিক তার। সেই তার এর উপর দিয়ে অথবা নিচ দিয়া হেলিকপ্টার নিয়া পার হইতে হবে। চিন্তা করার সময় কয়েক সেকেন্ড। সুলতান মাহমুদ ডিসিশন নিলেন নিচে দিয়ে পার হবেন (যেহেতু লোডেড হেলিকপ্টার তাই উপর দিয়ে যাইতে গেলে যদি এনাফ লিফট না পাওয়া যাইত তাইলে প্রব্লেম হইত)। রুদ্ধশ্বাস কয়েক সেকেন্ড পার হইল। গানার মিয়া শিউর লিফলেট এর বস্তা জড়াইয়া ধইরা দুয়া পরতাসিল। তারা নিরাপদে হেলিকপটার নিয়া পার হয়া আসলেন তার এর নিচ দিয়া।

কয়েক মিনিট এর মধ্যে তারা গোদনাইলে তেলের ডিপোর কাছে আইসা পরলেন। কুয়াশা নাই। পূর্ণিমায় আলোয় দেখা যাইতাসে টার্গেট। দুই পাইলট হেলিকপটার টাকে এক চক্কর ঘুরাইয়া আইনা এক জোড়া রকেট ফায়ার করলেন টার্গেট এর দিকে। কয়েক সেকেন্ড এর জন্য সময় থমকায় গেল। আর একদম বুলস আই। প্রথম শট এই লক্ষ ভেদ করলেন আমাদের দুই বৈমানিক। ৩০ ফুট উঁচা পর্যন্ত উঠসিল আগুনের শিখা।

আরেক টা সার্কেল ঘুইরা আসলেন তারা। হেলিকপ্টার টাকে এইবার আরো একটু লো তে নামায় আনলেন। সামনে আবারো টার্গেট। ১৪ টার থেইকা রকেট বাকি ১২ টা। তারা ১২ টা রকেট এই বার এক সাথে ফায়ার করলেন টার্গেটের দিকে। এইবারও সব গুলা রকেট লক্ষ্যভেদ করল। আগুনের শিখা এত বড় হইসিল যে আরেকটু হইলে হেলিকাপ্টার টাই আগুনের মধ্যে পড়ত। মিশন সাকসেসফুল। টার্গেট টারমিনেটেড। এইবার আবারো সব বিপদ মাথায় নিয়া ফল ব্যাক টু বেজ।

ফেরার সময় গর্বে আনন্দে ভরপুর পাইলট রা গানার কে জিজ্ঞেস করলেন,

— কিরে লিফলেট ফালাইসিলি ঠিক মত?
>> জি স্যার
— বস্তার মুখ খুইলা নিসিলো তো
>> ইয়ে মানে উত্তেজনায় বস্তার মুখ খুলতে ভুইলা গেসিলাম স্যার
— আয় হায়। আচ্ছা বস্তা টা ফালাইসিলি তো জায়গা মত? পাকিস্তানী আর সাধারণ মানুষ বুঝবে তো যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আসছিল?
>> জি স্যার। এক্কেরে আগুনের মধ্যে ফালায় দিসি স্যার।

সেদিন পাইলট দের হাসির শব্দ মনে হয় হেলিকপ্টার এর শব্দ কেও ছাড়ায়া গেসিল।

৪টা ডিসেম্বর ভোরের আলো ফোটার আগেই তারা নিরাপদে তেলিয়ামুড়ায় ল্যান্ড করেন। শেষ হয় কিলো ফ্লাইট এর বহু দুঃসাহসিক অভিযান এর প্রথম টা। বাকি অভিযান গুলা নিয়াও একে একে লিখার আশা রাখি। দুয়া কইরেন জাতে শেষ করতে পারি লিখা। অনেকে জানেই না যে মুক্তিযুদ্ধে আমাদের একটা এয়ার ফোরস ছিল। কি অদ্ভুত। তাই আমার মনে হয় এক জন কে ইন্সপায়ার করতে পারলেও আমার অর্জন ওই টাই।

এই বারুদ জাতির জন্য একজন মানে একটা দেশলাই । আমাদের শুধু সেই দেশলাইটা খুইজা বাইর করা লাগবে।

৮৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ২৪, ২০১৫ । ১১.৩৯ পি.এম

রাইত দশটা বাজলে কি জানি একটা হয় মাথার ভিতর। এক দিকে আমি ফ্রিক আউট করতে থাকি এইটা ভাইবা যে, আয়হায়, দশটা তো বাইজ্জা গেসে। আর মাত্র দুই ঘণ্টা। আজকের লেখা তো লিখলাম না। তইলে কি প্রজেক্ট ৩৬৫ ফেইল করব? এই যে এত দূর যে আইলাম, এই যে ৮৫ বার এর মত নিজেরে বাধ্য করলাম লিখতে, এইটার কি কোন দাম ই নাই তাইলে? ইতিহাস কি জানবে যে ইথার ভালই লেখা শুরু করসিল কিন্তু ৮৫ এর পর হেতের ঘুম পাইসে তাই আর লেহে নাই?

আরেকদিকে ঘুমে দুনিয়া আন্ধাইর হয়া আসে। মাথা কাজ করা বন্ধ কইরা দ্যায়। চোখের পাতা ভারি হয়া লাইগ্যা যাইতে থাকে আর নিজেরে এত দুর্বল লাগে যে একটু পরে আবিষ্কার করি রাইত ১০ টার সময় লিখতে লিখতে যে একটু চোখ বন্ধ করসিলাম চিন্তা ব্রেক নিতে ঐটা আসলে আমার ব্রেন আমার লগে চিটিং করসে। একটু খানির চোখ বন্ধ করা মানে এখন রাইত ১১ টা ২০ বাজে আর আমার হাতে মাত্র ৪০ মিনিট আসে আজকের লেখা টা লেখার। পুরাই পরীক্ষার হলে লাস্ট ১০ মিনিট এ ২৫ মার্ক্স এর রচনা লেখার মত অবস্থা (৮০/৯০ দশকের পোলাপান উড আন্ডারস্ট্যান্ড রচনা লেখা কি জিনিষ, সৃজনশীল পদ্ধতি তে রচনা লিখতে হয় কিনা আমি জানি না)।

আজকেও এই জিনিষ হওয়াতে আমি ভাবা শুরু করলাম কি আজিব, এরম হইতাসে ক্যান। আমি মনে হয় নিজেরে বেশি স্ট্রেস দিয়া ফালাইতাসি। লেখা লেখি করাটা এত রুটিন কইরা ফালাইসি যে এখন শুধু লিখতে হইব, দিন এর কোটা পুরা করতে হইব তাই লিখতাসি। এরম কিছু? এরম যদি আসলেই সত্যি হয় তাইলে আমার উচিত লেখা লেখি ই বাদ দিয়া দেওয়া। কারন আর যাই হোক আমি কোন রুটিন মাফিক ফরমায়েশি লেখার লেখক হইতে চাই না। আমি লিখি আমার ভাল লাগে তাই আর যা ভাল লাগে তাই নিয়া। যখন এই ভাল লাগা টা চইলা গিয়া কোটা পুরন করার দায়িত্ব বোধ চইলা আসবে তখন ই আমার উচিত থামায়া দেওয়া।

কিন্তু আমি ভাইবা দেখলাম জীবনের আর সব যুদ্ধের মত এইটাও আমার ব্রেইন এর একটা কৌশল যাতে লেখা লেখি বাদ দিয়া আরাম করি তার জন্য। আমাদের ব্রেইন একটা আদুরে বিড়াল এর মত। নতুন একটা কিছু করা মানে অরে দিয়া আমরা হাল চাষ করাইতাসি। সুযোগ পাওয়া মাত্র এইটা নিজেরে রেস্ট দিতে চায়। আর জীবনেও যাতে হাল চাষ করতে না হয় তাই আমাদের বিভিন্ন ভুং ভাঙ বুঝানো শুরু করে। । কিন্তু আমি দেখসি যে যারা আসলেই জীবনে কিছু করসে তাদের ব্রেইন টগবগে ঘোড়ার মত। তারা আদুরে বিড়াল টারে ট্রেইনিং দিতে দিতে এমন অবস্থায় নিসে যে এই টা এখন যে কোন অবস্থায় দৌড়াইতে প্রস্তুত।

আমিও তাই চেষ্টায় আসি আমার সুপার আইলসা সেলফ টারে অলসতা কাটানির ট্রেনিং দিতে। আইলসামি সবার ই আসে, কম আর বেশি। এইটা পুরাপুরি আমাদের উপর যে আমরা কতখন আইলসামি টারে এঞ্জয় করুম আর কখন এইটারে ঘরের কোনায় ছুঁইরা ফেলায়া দিয়া কর্মে আত্মনিয়োগ করুম।

নাইলে সারা জীবন নায়িকা শাবানার মত আচল মুখে গুইজা দিয়া কান্তে হবে আর বলতে হবে, আমি তো অনেক কিছুই করতে চাইসিলাম লাইফে কিন্তু আমার সামি আমারে করতে দ্যায় নাই । এই সামির নাম আইল-সামি।