২৭১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ ডিসেম্বর ১৯, ২০১৫

আমি কালকে নোট লিখি নাই। আগের দিন রাইতে ভাবসি সকালে লিখুম। সকালে ভাবসি রাইতে লিখুম নে। রাইতে বালিশে খালি মাথা ডা রাখসি এক মিনিট এর লাইগা আর ঢুশ কইরা ডুইবা গেসি ঘুমে।

শুক্রবার সকালে ভোর সাতটায় মহান রাশা ফুন্দিয়া কইসে আব্বে তুই এহনো ঘুমাস, শুক্রবার ভোর বেলা কেউ ঘুমায়? আয় আয় ঢাকা হোটেল এ আয়। চা চু খাই। বৃহস্পতিবার অফিসেত্তে বাইরইসি রাইত ১১ টায়। শুক্রবার ও অফিসে যাওনের কথা ৯ টায়। তাই ভোর বেলা ঘুম ভাঙ্গাইলে এই কে আছিস, আমার কামান্টা নিয়ে আয় মুড এ থাকনের কথা ছিল আমার। কিন্তু যার সকাল হয় দুপুর এক্টায় সেই রাশা ভোর বেলা আয়া পরসে এই ঘটনায় আমি এতই অবাক হইসি যে তাত্তারি উইটঠা দোউড় দিসি হোটেল এ। গিয়া দেখি হে বেশ উড়া ধুরা চুল লয়া নুরানি হাসি দিয়া বয়া রইসে টেবিল এ।

আমরা রুডী, ছ্যুপ, কলিজা, চা খায়া উড়ায়া দিলাম। তারপর বাসায় আইসা রেডি রুডি হয়া গেলাম অফিসে। গিয়া দেখি মোটামুটী সবাই ই আইসা পরসে। আমাদের একটা অনেক বড় কাজ আসছে। সবার ছুটি ক্যান্সেল করা হইসে। নেক্সট অনতত সাত দিন এম্নেই যাইবো। যাক গা কি আর করা। এই সব সময় বুঝা যায় কে কত স্ট্রেস নিতে পারে আর চাপ এর মধ্যে কে কত ভাল কাজ করতে পারে। আমরা সবাই ই সিভি তে লিখি Can work under pressure, hard working ইত্যাদি। কেডা যে সত্যিই সেইটা এই সব সময় সেইটা বাইর হয়। বুঝা যায় কে যে Working Hard আর কে যে Hardly Working. অনেক স্বার্থপর চিন্তা ভাবনাও আসে এই সময় ঘাড় গুইজা কাজ করতে করতে। যারা ছুটিতে আছেন সেই সব কলিগ দের উপর অনেক অভিমান হয়। যদিও জানি তাদের অনেক কারন আছে থাকতে না পারার। কিন্তু তবু যুদ্ধের সময় ছুটিতে নাচতে নাচতে দেশের বাড়িতে যাওয়া সৈনিক টার দিকে তার ফেলো সোলজার রা যেভাবে তাকায়, তাদের দিকে আমরা অম্নেই তাকাই। মুখে কিছু বলি না। থাক। লেটস বি রেস্পেক্টফুল।

বছর টা অনেক ল্যাটকায়ে গড়া গড়ি কইরা শেষ করার ইচ্ছা ছিল। জানি না সেইটা কতটুক করা যাবে। ডিসেম্বর মাস টারে শুক্রবার শুক্রবার লাগে। একটা নিয়ম থাকলে ভাল হইত। ডিসেমবর এর ১৫ তারিখ এর পর থেইকা ৩১ তারিখ পর্যন্ত সব অফিস বন্ধ রাখতে হবে। হারা বছর কাম ত করসেই, বছরের শেষ টা একটু আরাম করুক মানুষ। বিশাল ছুটি শুরু হইত বিজয় দিবস দিয়া। কি দারুন হইতো ব্যাপার টা। অফিসের কাজ করতে করতে বিদেশি গো হেপি হলিডেজ গ্রিটিংস দেইখা আর তাগো দিকে ল্যাপ্টপ (অয়ারল্যাস মাউস সহ) ছুইড়া মারতে ইচ্ছা করতো না।

২৭০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ ডিসেম্বর ১৭, ২০১৫

আজ ১৭ই ডিসেম্বর। আজকে প্রথম পাইলটেড প্লেন এর ১১২ তম বার্ষিকী। ১৯০৩ সালের এই দিনে উইলবার এবং অরভিল রাইট সুচনা করেন প্রথম পাওয়ারড ফ্লাইট এর। যদিও তার আগে হট এয়ার বেলুন এবং জ্যাপ্লিন কে পাওয়ার দিয়ে চালানো কে পাওয়ারড ফ্লাইট বলা যাবে কিনা তা নিয়া বিতর্ক আসে, তবু ইনারাই প্রথম তিনটা এক্সিস ( X,y আর z এক্সিস) রে কন্ট্রোল কইরা তাদের আবিষ্কৃত গ্লাইডারে ইঞ্জিন যুইরা দিয়া আর সেই পেলেন রে আকাশে সফলতার সাথে উড়ায়া সুচনা করেন এক নয়া যুগের।

রাইট ব্রাদারস আর তাদের কাহিনি নিয়া অনেক কিসু লিখতে মুঞ্চাইতাসে, কিন্তু লুকজন পড়তে গেলে ঘুমায়া পড়ব তাই নিজের উত্তেজনারে দমন কইরা রাখলাম। যার কবিতা ভাল্লাগে না, তারে গীতাঞ্জলী পইড়া হুনানি টাইপ ব্যাপার হইব একটা। তবু কিসু কই, ইচ্ছা করতাসে অনেক, ওই দিন এর গল্প টা কউনের. এইটা একটা জয় এর গল্প, মানুষের নিজেকে অতিক্রম করার গল্প।

উইলবার রাইট একবার বলসিলেন, “It is possible to fly without motors, but not without knowledge and skill.” তাদের কাজ কামেও এই কথার মাজেজা বুঝন যায়। তিনারা দুই বাই যহন ঠিক করলাইন যে আকাশে উইড়াই ছাড়বাইন, তহন হেরা এই বিষয়ে পড়ালেহা আরম্ভ করলাইন। হেরা আসিল সাইকেল বানানির মেস্তুরি, তাই পুরা বিষয় ডাই এগো কাসে নতুন আসিল। এরা Cayley এর এরোনিটিক্স এর কাজ সম্পর্কে পড়লেন, Otto Lilienthal এর Hand Glider বিষয়ক লেখা গুলা পড়লেন, Langley এর থিউরি গুলা পড়তে পড়তে ভাজা ভাজা করলেন। তারা আম্রিকার তখনকার আমলের রেইলওয়ে ইঞ্জিনিয়ার Octave Chanute ( যারে কিনা এখন Aviation এর অন্যতম Pioneer বলা হয়) এর সাথে তাদের আইডিয়া গুলাও শেয়ার করলেন। শুরু হইল তাদের পেলেন বানানির কাম কাইজ।

১৯০০ সালে তারা তাদের প্রথম গ্লাইডার বানান যেইটা ঘুড্ডির মত উড়াইতে হইত। এইটার উইং স্প্যান বা ডানার ব্যাপ্তি ছিল ১৭ ফিট। টেস্ট করার জন্য তারা নর্থ ক্যারলাইনার কিটি হক কে বাইছা নিলেন। কারনে এইহানে বালির মরুভুমি আসিল আর বাতাস ও থাক্তো বহুত। তাগো এই গ্লাইডার এর পরীক্ষা সফল হইসিল।

১৯০১ সাল। এক বছর ধইরা তারা আগের গ্লাইডার টার আরো কিছু ভুং ভাং উন্নতি করলেন আর বানাইলেন আরেকটা গ্লাইডার। এইডা আগেরটার চাইতে বড়। ডানার ব্যাপ্তি ২২ ফিট। কিন্তু এইডা তাদের মন মত কাম করল না। দুই ভাই এতই হতাশ হইসিলেন যে উইলবার তার ডাইরি তে লিখসিলেন “It would be a thousand years before humans would learn to fly.”

১৯০২ সাল। তারা আবারো ফিরা গেলেন কিটি হক এ। নতুন একটা গ্লাইডার লয়া। এইটা আগেরটার চেয়ে আরো বড়। উইং স্প্যান ৩২ ফিট। সাথে নতুন যোগ করসেন Rudder বইলা একটা নতুন জিনিশ । এইবার তাদের গ্লাইডার আশানুরূপ কাম করল। তারা এখন তইরি তাগো গ্লাইডারে মটর লাগাইয়া এইডারে ডিঙ্গি নৌকা থিকা কলের জাহাজ বানানির।

১৯০৩ সাল। ইতিমধ্যে তারা তাদের পেলেন এর জন্য একটা ১২ হরস পাওয়ার এর ইঞ্জিন বানাইসেন। আরো বানাইসেন দুনিয়ার প্রথম বিমানের প্রপেলার আর যেইটা বাইসাইকেল এর চেইন দিয়া যুক্ত ছিল ইঞ্জিন্টার সাথে। সেপ্টেম্বর মাসে তারা কিটি হক এ আবার আসেন তাদের বানানো নতুন পেলেন নিয়া। এইটার উইংস্প্যান ৪০ ফিট। ওজন ৩১৭ কেজির একটু বেশি।

১৪ই ডিসেম্বর, ১৯০৩ সাল। দুই ভাই কয়েন টস করলেন। জিতল উইলবার। কিন্তু উনি চালাইতে গিয়া এট্টু উলটা পালটা কইরা লাইলেন আর পেলেন আয়া গোত্তা খাইল বালির লগে। বাড়ি বুড়ি খায়া যা নষ্ট হইল পেলেন এর, ঠিক করতেই গেল গা তিন দিন।

১৭ই ডিসেম্বর, ১৯০৩ সাল। দ্বিতীয় প্রচেষ্টা। এইবার চান্স পাইসে অরভিল। হে জানত উইলবার এর কি ভুল হইসিল। তাই খুব খিয়াল কইরা পেলেন ছাইরা দিল সকাল ১০ টা ৩৫ মিনিট এ। আর আল্লাহর রহমতে আর কুনু পেস পুস না লাগায়াই ১২০ ফিট উইড়া গিয়া সুন্দর মত নাইমা পড়ল মাটিতে। দুই ভাই মিল্লা ঝিল্লা আরো তিনবার ( মতান্তরে চাইর বার আর যেহেতু এক এক বই এ এক রকম লিখসে তাই আমিও শিউর না) পেলেন ডা চালাইসিলেন। বুঝাই যায় চালাইতে হেগো সিরাম মজা লাগতাসিল আর তারা আস্তে আস্তে চালানিতে ওস্তাদ ও হয়া উঠতাসিলেন। শেষ বার হেরা অতিক্রম করসিলেন ৮৫২ ফিট।

রাইট ভাই গো পেলেন এর নাম আসিল The Flyer. The Flyer আর কখনোই উড়বে না কারন শেষ বার উড়নের পরে বাতাসের ধাক্কায় অইডা উল্ডায় যায় আর Damaged Beyond Repair হয়া যায়। হেরা কিন্তু অইডা বেইচ্চা কডকডি খায় নাই। Washington DC এর Smithsonian Air and Space Museum এ যত্ন কইরা রাইখা দিসে।

আরো একটা মজা হইসে যে কিছু কিছু ব্লগ এ লিখসে অইডা নাকি আসল “The Flyer” না। কিন্তু আমি ওই মিউজিইয়াম এর কিউরেটর এর সাথে যুগাযুগ করসি আর তিনি জানাইসেন যে ওই টাই রিয়েল The Flyer.

আমার কপালে আসে কিনা জানি না, আপ্নেগো কারো সৌভাগ্য হইলে আম্রিকা গিয়া দেইখা আইসেন আর আমার জন্য একটা ফটুক তুইলা নিয়া আইসেন।

দুনিয়ার সকল পেলেন এর জন্য ভালবাসা…

২৬৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ ডিসেম্বর ১৬, ২০১৫

আমাদের আটকায় রাখবা? পারবা না

সুন্দরবন এ তেল ঢাইল্লা, কয়লা ফালায়া ছারখার করবা? আম্রা লুংগি চিপ্পা তুমগো তেল বাইর করুম, গাছ যাব্রায়া ধইরা খারায়া থাকুম কাটতে আইলে।

রাস্তার উন্নয়ন না কইরা জ্যাম লাগায়া রাখবা? আমরা দুই চাক্কার সাইকেল দিয়া তোমাগো চাইর চাক্কার ঘুষের গাড়ি রে ছারায়া আগায় যাবো।

পাস করার পর চাকরি দিবা না? আমরা অনলাইন এ কাজ কইরা বিদেশ থিকা টাকা নিয়া আসবো।

বাংলা মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির বারোটা বাজায়া হিন্দি গান শিখায়া বড় করবা এই প্রজন্ম রে? আমরা আইটিউন্স এ বাংলা গান বিক্রি করব। প্রত্যেক্টা কান এ বাজবে বাংলা গান, আর হিন্দি শুনলেই মুখ বাকাবো।

এফ ডি সি রে তোমার কুরুচির শোকেস বানায়া থুবা? আমরা ইন্ডিপেনডেন্ট ডিজিটাল সিনেমা বানাবো। আর আমাদের দেখাদেখি বানাবে সবাই।

তোমরা দেশ বেইচা খায়া ঢেকুর তুলবা আর বলবা এই দেশ রে দিয়া কিসসু হবে না? আমরা স্পেশাল অলিম্পিকস এ সোনা জিত্তা আনুম আরর দেখায় দিমু আসলে প্রতিবন্ধী কে।

আমাদের কৃষকদের হাইব্রিড বিজ এর নামে বিষ খাওয়ায় দিবা আর সেচের সময় বিদ্যুত না দিয়া তোমাগো মারকেট এ লাল নীল বাত্তি জালাবা? আমাদের কৃষকভাইরা তাদের হাতের জাদু দিয়া ফসল ফলায়া যাবে যাতে তোমরা এসি রুম এ টাই নারায়া বলতে পারো, আম্রা তো দেশ কে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি।

আমাদের আটকানোর জন্য যা যা করা যায় করতে থাকো। আমরা দেশের জন্য বুক ভরা ভালবাসা আর মাথা ভরা বুদ্ধি নিয়া সব বাধা উড়ায় দিয়া আগায় যাবো।

আমাদের আটকায় রাখবা? পারবা না। কেউ কখনো পারে নাই। আমরা বাংলাদেশ এর গৌরবিত, গর্বিত নাগরিক। তোমাদের বিরুদ্ধে আমাদের ৩৬৫ দিন ই বিজয় দিবস।

২৬৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ নভেম্বর ২৪, ২০১৫

ফাকিবাজি করতে করতে অভ্যাস খারাপ হয়া গেসে। তাই কালকে রাতে নোট না লিখাই ঘুমায় গেসিলাম। মানুষ মদ খায়া মাতাল হয় আর আমি ঘুম পাইলে মাতাল হই। দিন-দুনিয়া-মুনিয়া কিছুই তখন আটকায় রাখতে পারে না। এমন বেহুশের মত ঘুমাই যে ঘুম থেইকা উঠার পর কেমন অপরাধি লাগে। চেক কইরা দেখি কোন কল আশ্ছিল কিনা, মেসেজ আসছিল কিনা। কারন আমার ঘুমের মধ্যে খুব স্বাভাবিক গলায় কথা বার্তা বলা, মেসেজ এর রিপ্লাই দেওয়ার অভ্যাস আসে। সকালে উইঠা এগুলার কিছুই মনে করতে পারি না।

একবার হইসে কি, ইউনিভার্সিটি তে পড়ার সময়, সেকেন্ড ইয়ার এ তখন। পরের দিন সি প্লাস প্লাস পরীক্ষা। আমি পইড়া টইড়া ঘুমাইতে গেসি। আমাদের ক্লাস এর বেশির ভাগ লোকজন এরি প্রোগামিং নিয়া কোন আগ্রহ ছিল না। এদের মধ্যে অনেকেই আবার পুরা কোড মুখস্থ কইরা যাইতো। খালি প্রব্লেম টা কমন পড়লেই হইল , ধুম ধাম লিখা দিয়া আস্তো। এরম একটা কি জানি প্রব্লেম ছিল যেইটা স্যার বলসিল পরীক্ষায় দিতে পারে। পোলাপান রাত জাইগা পড়ত। এরম ই একজন মাসুম বাচ্চা আমারে রাত দুইটায় ফোন দিসে সেই প্রব্লেম এর সমাধান টা করসি নাকি আর করলে কোড টা যাতে তারে বলি। আমি তখন গভীর ঘুমে। কিন্তু তারে আমি পুরা কোড মুখে মুখে বলসি , সে লিখে নিসে, তারপর নাকি অনেক থ্যাঙ্কস, ক্লাস এর কেউ এইটা সল্ভ করে নাই, তুই বস ইত্যাদি বইলা রেখে দিসে।

পরের দিন, ভার্সিটি গিয়া আমি ওই মাসুম বান্দার কাছেই গিয়া বলসি, দোস্ত, অমুক প্রব্লেম টা তো স্যার বলসিল আস্তে পারে পরীক্ষায়,তোরা কেউ করসস? করলে আমারে একটু দে, আমি একবার চোখ বুলাই। সাথে সাথে পুরা ক্লাস সাইলেন্ট হয়া গেল। মনে হইল ঘরে ফেরেশ্তা ঢুক্সে। আর সবাই এমন লুক দিল , এরম লুক মনে হয় মিরজাফর এর দিকে সিরাজুদ্দোউলাও দ্যায় নাই।

মাসুম পোলা ডা আস্তে আস্তে কইল, “তুমি কালকে রাতে কোড টা বইলা দেওয়ার পর সেইটা সারা ক্লাস এ ছড়ায়া গেসে। আমরা সবাই ওইটাই পইড়া আসছি। আর তুই এহন এই কথা কস? ফাইজলামি পাইসস?”

এরকম যে কত হইসে। আমি কারে জানি ঘুমের মদ্ধে বলসিলাম, ডিম সিদ্ধ করার পর খোসা ফালায় দিবা না। আলাদা কইরা ভিজায় রাইখা রাতের বেলা খাবা। স্কিন ভাল থাকবে । দেখবা ডিম এর স্কিন কত স্মুথ।

স্বপ্ন দেইখা ঘুসি মাইরা হাতের নাকলস ছিল্লা ফালাইসি যে কত বার। একবার দেশের বাড়ি তে গন বিছানায় ঘুমাইসি সব কাজিন রা। মাঝরাতে উইঠা দেখি এক কাজিন আর এক কাজিন রে বাতাস করতাসে, মাথায় পানি ঢালতাসে। জিগাইলাম আয় হায় কি হইসে ওর? এই পিচ্চি ভাইয়া না আমার পাশেই ঘুমায় ছিল? উত্তর আসলো আমি নাকি তারে ঘুমের মধ্যে এমন কনি মারসি, যে পোলা এখন শ্বাস নিতে পারতাসে না ঠিক মত।

ঘুম কি অদ্ভুত রহস্যময় একটা একটা জিনিষ। আমি বড় হয়া সুপার হিরো হইলে নাম রাখুম ঘুম ম্যান। ঘুম ম্যান খুবি নিরিহ ব্যাড এস সুপার হিরো। বিপদ আসলেই ঘুমায় যায়। জরুরী সময় আসলেই ঘুমায় যায়। প্রেমিকার মনে প্রেম প্রেম ভাব উঠলেই ঘুমায় যায়। আর পরের দিন অপরাধি অপরাধি গলায় বলে, না ইয়ে মানে, কালকে রাত্রে ফোন দিসিলা? আমি কি কথা বলসিলাম? উলটা পালটা কিছু বলসি?

কত ভাল ঘুম ম্যান। সাইধা সাইধা ঝারি খায়।

২৬৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ নভেম্বর ২২, ২০১৫

এই মুহুর্তে পাশে টিভি চলতেসে। টিভি তে জেইল গেইট দেখাইতেসে। অনেক পুলিশ। আর রিপোর্টার লোক্টা অনেক খন থেইকা একি বর্ননা বার বার দিয়া যাইতাসে। কিন্তু বার বার বললেও শুনতে খারাপ লাগতাসে না। কেমন জানি ঈদ ঈদ লাগতাসে।আমি টিভি ছাইরা লিখতে পারি না ভাল মত। বার বার মনোযোগ ওই দিকে যায় গিয়া। কিন্তু আজকে টিভি বন্ধ কইরা রাখতেই অস্থির লাগতাসে। তাই ছাইরা রাখসি।

একটা খেলায় যখন বাংলাদেশ জিত্তে থাকে তখন শেষ পর্যন্ত না দেইখা যেমন পারা যায় না তেমন একটা অবস্থা হইসে এখন। বাংলাদেশ জিতে যাচ্ছে আসলেই। আমি ডে কেল্কুলেটর এ হিসাব করলাম। ২৬শে মার্চ ১৯৭১ থেইকা আজকে ২১শে নভেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত মোট ১৬২১২ দিন । আরো বড় আকারে বললে ৪৪ বছর ৭ মাস ২৭ দিন। এই এতদিন এর মধ্যে অনেক গুলা দিন কালো কালো দেখা যাবে । যে দিন গুলায় অনেক মুক্তিযোদ্ধা যখন দুইটা রাজাকার, স্বাধীনতা বিরোধী, খুনি এর গাড়িতে পতাকা দেইখা হাতের মুঠা শক্ত কইরা ফালাইসে আর মনে মনে বলসে “আল্লাহ, তুমি এর বিচার কইরো আল্লাহ, তোমার উপরেই ছাড়লাম এর বিচার এর ভার”। আল্লাহ উনাদের দোয়া কবুল করসেন।

পরকালে আল্লাহ উনাদের মাফ করবেন না জাহান্নামে লাত্থি মাইরা পাঠাবেন সেইটা ডিসাইড করার মালিক আল্লাহ। কিন্তু ইহকালে তারা যে দেশ এর সাথে বেঈমানি করসে সেইতা প্রতিষ্ঠিত কইরা তাদের আল্লাহর কাছে পাঠানোর দায়িত্ব টা আমাদের ই ছিল। আলহামদুলিল্লাহ সেইটা বাংলাদেশের মানুষ করতে পারসে। যুদ্ধপরাধিদের বিচারে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরি আর মুজাহিদ এর দোষ প্রমান হয়া ফাসির আদেশ হইসে। কিছুক্ষন এর মধ্যেই সেই আদেশ কার্যকর করা হবে।

আমার মনে হয় এই দুইজন এর বিচার এবং চুড়ান্ত শাস্তির ব্যাবস্থা করতে পাইরা সরকার বিশাল গাটস এর পরিচয় দিসে। নাইলে আন্তর্জাতিক প্রেসার কম ছিল না এই দুই জন এর পিছনে। আফটার অল দিন শেষে মানি টকস আর আমি শিওর এই জিনিশ করতে গিয়া অনেক কিছু রিস্ক এর মধ্যে ফালাইসিলো সরকার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে কাজটা করতে পারসে সেই জন্য সরকার আর এই বিচার সংশ্লিষ্ট সবাই অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার দাবিদার।

২৬৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ নভেম্বর ২১, ২০১৫

আজ শুক্রবার। ফেসবুক ছাড়া ৩য় দিন কাটাইলাম। স্টিল ভাল লাগা যায় নাই। এইটা যে কি দরকার ছিল। শান্তি লাগতাসে। এইটা একটা সময়পযোগি ঘটনা হইসে। আমার জন্য এই ব্রেক টা খুবি দরকার ছিল। নিজে থেইকা তো আইডি ডিএক্টিভেট করার মত কারন ছিল না। আবার ৩৬৫ প্রজেক্ট এর কারণে ফেসবুক এ না আইসাও পারা যাইতো না। তাই এইরম সরকার কর্তৃক ফেসবুক বন্ধ কইরা দেওয়া তে আমি যারপরনাই আহলাদিত, উচ্ছসিত এবং প্রফুল্লিত।

আজকে আমি আর অ ঢাকা লিট ফেস্টিভাল এ গেসিলাম। কিন্তু ঢুক্তে পারি নাই। গেটের বাইরে রেজিস্ট্রেশন কইরা ঢুকা লাগে। অইটা ৬ টায় বন্ধ হয়া যায়। থাক গা। বাইরে থেইকা লাইট লুইট দেইখা চইলা আসছি। এইটার গতবার এর নাম ছিল হে ফেস্টিভাল। তখন গেসিলাম রাশার লগে। তহন রেজিস্ট্রেশন লাগে নাই। বেশ একটা কন্সার্ট কন্সার্ট ফিল হইসে। রেজিস্ট্রেশন কইরা টিকিট লয়া ঢুকুম বই মেলা দেখতে যার বেশির ভাগ বই ই আমি পড়ি নাই। থাক, ধইরা নিলাম নিরাপত্তার খাতিরে এইটা দরকার আসে। আমি আসলে ইংলিশ বই অত বেশি পড়ি নাই তো, তাই আমারে ঢুক্তে দ্যায় নাই দেইখা অত খারাপ লাগে নাই। একুশে বই মেলায় এরম করলে মইরাই যাইতাম দুঃখখে।

আজকে ফেরদুইচ্চার বাসায় ডিনার এর দাওয়াত ছিল। খাইয়া ফাটায়া লাইসি। ফেরদৌস যা জোস রান্তে পারে। পুরাই ফিংগার লিকিং গুড। ফেরদুস কইসিল রাতে থাইকা যাইতে , কিন্ত ওর বাসা ভর্তি অপরিচিত লুকজন, তাই আইসা পরসি বাসায়।

আমি একটা অনেক ভাল ইবুক এপ পাইসি আজকে। নাম PocketBook. বই পড়তে ইচ্ছা না করলে বই পইড়া শুনায়। পিডিএফ/ইপাব/মোবি সব ফরমেট সাপোর্ট করে। শব্দের অর্থ না বুঝলে হাইলাইট কইরা সার্চ দেয়া যায়। আবার পছন্দের অংশ সেভ কইরা রাখা যায়। আমি প্রত্যেক শুক্র আর শনিবার অনেক এপ নামাই আর ঘাটাঘাটি কইরা দেখি কেমন লাগে। ভাবতাসি এগুলা নিয়া একটা লেখা লিখবো কিনা।

২৬৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ নভেম্বর ২০, ২০১৫

ফেসবুক ছাড়া ২য় দিন। ভালই লাগতাসে। যে কোন কিছু তে আনডিভাইডেড এটেনশন দেওয়া যাইতাসে। আমি শুন্সি বেশির ভাগ লোকজন ই প্রক্সি, ভিপিএন ইত্যাদি দিয়া ঢুইকা পরসে ফেসবুকে অল্রেডি। আমার সমস্যা হইতাসে না। ইন ফ্যাক্ট শান্তি লাগতাসে।

আমি বুঝতাসি কারো কারো জন্য ফেসবুক এ ঢুকা টা একটা প্রয়োজনীয় জিনিষ। আমি আজকে বাসাবো আসছি। আমার আম্মা আমাকে বলসে, আমি কোনভাবে তার ট্যাব দিয়া ফেসবুকে ঢুকার ব্যবস্থা কইরা দিতে পারবো কিনা। আমি গতাতুনগতিক ভাবে জবাব দিসিলাম যে ফেসবুক তো সরকার বন্ধ কইরা দিসে ব্লা ব্লা। আমার আম্মা আমার আক্কেল গুরুম কইরা বলসে ক্যান? প্রক্সি দিয়া এক্টূ সিস্টেম কইরা দে না? তোর খালা তো ঢুক্সে । আমি তারে বুঝানোর ট্রাই করলাম কয়দিন ফেসবুকে না ঢুক্লে কি হয় হ্যান ত্যান। কিন্ত জগতের কারো পক্ষে মনে হয় নিজের মা এর সাথে তর্কে জয়ী হওয়া পসিবল না। আম্মা বলসে, তোরা তো সারাদিন কাজ কর্ম নিয়া ব্যাস্ত থাকস, টাইম কাইটা যায়। আমি এক্টু নাত্নী গুলার ছবি দেখি ফেসবুকে। একটু শান্তি পাই। এমন করস ক্যান। দে না একটু ঠিক কইরা।

আমার একটু গিলটি লাগ্লো। আর মনে হইল সেম টাইপ এর আরগুমেন্ট আমি জি বাঙলা আর স্টার জলসার সিরিয়াল দেখা নিয়া করসিলাম। কিন্তু জিত্তে পারি নাই। তখন যুক্তি দিসিল, বাংলাদেশের নাটক সব বানায় ইয়ং পোলাপান এর কথা চিন্তা কইরা। আমরা আগের দিনের মানূষ, আমাদের এগুলা ভাল্লাগে না। আর নাটক কি দেখুম, খালি এড আর এড।

কথা খুবি সত্য। কেউ যখন একটা জিনিষ এ অভ্যস্ত হয়া যায় যেইটা তার তেমন ক্ষতি করতাসে না তখন তাকে সেইটা না করতে বলার আমি কে। আমি অনেক আতলামি যুক্তি দেখাইতে পারি। কিন্তু আল্টীমেটলি যার যার লাইফ তার তার। এখন কেউ যদি আমারে আইসা বলে ইনফ্যাক্ট বলসেও কেউ কেউ যে আপ্নে খালি পেলেন এর ছবি তুলেন ক্যান, বোরিং লাগে দেখতে দেখতে, আর কত। তাইলে আমার কেমন লাগবে?

আমিও কি ফেসবুকে মারাত্মক এডিক্টেড ছিলাম না একসময়। এই নোট লেখা শুরু করসিলাম তো ফেসবুক এডিকশন কাটানোর উদ্যোগ থেইকাই। তাইলে হু এম আই টু সে, কয়দিন ফেসবুক না চালাইলে কি হয়? উচিত না আমার একেবারেই এই রকম জাজমেন্টাল হওয়া উচিত না। আই হোপ পিপল আর এঞ্জয়িং ইট, আফটার অল নিষিদ্ধ জিনিষ এর মজা টা বোনাস হিসাবে পাওয়া যাইতাসে। সাচ রেবেলস উই আর।

আমার আর ১০০ টা নোট লিখলে এই প্রজেক্ট শেষ হবে। কেমন আজিব লাগে ভাবতে। এতদুর আস্তে পারবো ভাবি নাই।

২৬৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ নভেম্বর ১৯, ২০১৫

এই মুহুর্তে এই নোট যখন লিখতেসি তখন বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যান করে রাখা হইসে অনির্দিষ্ট কালের জন্য। এই নোট লিখতে রাখতাসি এখন অফলাইন এ। পরে সু্যোগ পাইলে পোস্ট করুম। অন্য সময় হইলে আমার অনেক অস্থির লাগতো। কিন্তু এখন যে কি শান্তি লাগতাসে। মনে হইতাসে ভাল হইসে। খুবই ভাল একটা কাজ হইসে। এইরকম প্রত্যেক মাস এ হঠাত হঠাত বন্ধ কইরা দেওয়া উচিত।

আমরা আনপ্লাগড থাকতে ভুইলা যাইতেসি। আমরা ভুইলা যাইতাসি ফেসবুক ছাড়াও আরো অনেক অনেক কিছু আছে জীবনে। যেগুলা এবং যারা ভার্চুয়াল না। জীবন্ত , প্রানবন্ত মানুষ। যাদের সাথে টাইপ করে না মুখ দিয়ে কথা বলা যায়। আমার কল্পনা করতে ভাল লাগতাসে যে অনেক দিন পর প্রিয় বন্ধুকে হয় তো ফোন দিসে কেউ। “কিরে কি করিস? ফেসবুক তো ডাউন। কেমন লাগতেসে? নতুন সিনেমা দেখসিস কোন?”। শুরু হয়া গেলো কনভারসেশন।

রেস্টুরেন্ট এ অর্ডার নিতে আসা ওয়েটার অবাক হয়া দেখলো তার কাস্টোমার রা যার যার ফোন এর দিকে তাকায়া নাই। তারা কথা বলতেসে। গুড অল্ড ফ্যাশন্ড ওয়ান টু ওয়ান টক। শেষ কবে এই জিনিষ দেখসিল তার মনে নাই। আমরা সোশাল অকোয়ার্ডনেস এরানোর জন্য সোশাল নেটওয়ার্ক এ মুখ লুকায়া দিন দিন কত সোশালি অকোয়ার্ড হয়া যাইতাসি সেইটা নিজেরাও রিয়েলাইজ করি না আন্টিল আমরা নিজেদের ফোন টা একটু নামায়া রাখি।

হয়তো কোন মা অবাক হয়া দেখতাসে তার নিশাচর ছেলে টা বা মেয়েটা হটাত আজকে একটা গল্পের বই হাতে নিয়া শুইতে গেসে বিছানায় আর অভ্যাস না থাকায় এক পাতা পইড়াই অভ্যাস না থাকার কারণে বই এর উপরেই ঘুমায় গেসে। বই এর উপর লুল পইড়া ভাইসা যাইতাসে।

আমি জানি হিরোয়িঞ্ছি হেরোয়িন না পাইলে যেমন ডি টক্সিফিকেশন এ ভোগে সেরকম ভুগতেসে এখন হাজার হাজার মানুষ। একটু পর পর মোবাইল টা হাতে চলে আস্তেসে, ফেসবুক এপ টাতে টিপ পরে যাইতেসে নিজের অজান্তেই। আই হোপ এই সময় টা মানুষ জন রিয়ালাইজ করতেসে যে নিউজফিড এর দিকে সম্মোহিতের মত তাকায়া থাকাটাই জীবনের সব না।

অনেক লোক টেকনোজির ফাক ফোকর বের করতে বসে গেসে। প্রক্সি সাইট, ভি পি এন এপ সব নামানো শেষ। চিপা গলি দিয়া ফেসবুকে ঢুক্তে পাইরা ব্যাপক আনন্দ ও পাইতাসে অনেকে। কিন্তু ক্যানো। একটা রাত, কিংবা হয়তো আরো কয়েকটা দিন এবং রাত ফেসবুক এ না আসলে কি কমে যাচ্ছে জীবনের? আমার তো মনে কমার বদলে বাড়ছে আরো অনেক কিছু। সৃজনশীলতা চর্চার সুযোগ বাড়ছে, মন স্থীর করার সুযোগ বাড়ছে, অসমাপ্ত অনেক কাজ শেষ করার সুযোগ বাড়ছে, “খুজে পাওয়া নিজেকে আবার” এর সুযোগ বাড়ছে।

এই বেড়ে যাওয়ার সুযোগ টা নেওয়া উচিত। মনোযোগ অনেক মুল্যবান একটা রিসোর্স মানুষের। আর একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই রিসোর্স টা লিমিটেড ও। মানে আমি বলতে চাচ্ছি আমাদের একটা নিদ্দ্রিষ্ট পরিমান মনোযোগ জন্ম ন্যায় ভিতরে। এর বেশির ভাগ টাই যদি আমরা ফেসবুকে দিয়ে দেই তাহলে অন্য সব কিছু তে কম পরবে এটাই সত্য।

ফেসবুকের এই হঠাত ব্যান কে স্বাগত জানাই এবং আমাদের মত তারাহুরান্তিস এবং মাল্টীটাস্কিংবাজ দের মনে এবং জীবনে যেন স্থীরতা আসে সেই প্রার্থনা করি।

২৬৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ নভেম্বর ১৮, ২০১৫, ১২.৫৪ এ এম

আজকে এলুয়েট থ্রি হেলিকপ্টার এর এখন পর্যন্ত পাওয়া শেষ দিন এর মিশন গুলা নিয়া লিখব। এরপর ওটার বিমানের মিশনের গল্পে চলে যাবো। কি পরিমান দেশ প্রেম থাকলে সারাদিন এবং সারারাত একটা পুরানো রেট্রোফিটেড (কোন কিছু যা একটা জিনিষের জন্য ডিজাইন্ড না তবু সেটাতে জোর করে বসানো হয়, তখন সেটাকে বলে রেট্রোফিট করা) অস্ত্র শস্ত্র বসানো হেলিকপ্টার নিয়া যুদ্ধ কইরা যাওয়া যায় তা এই গুলা না পড়লে আমি জান্তেও পারতাম না। কিলো ফ্লাইট নিয়া এই সব লেখার সকল ক্রেডিট মেজর কামরুল হাসান ভূইয়া এর। তিনি এত ডিটেইলে বর্ননা না কইরা গেলে আমি এগুলা জীবনেও জানতে পারতাম না। কারন আমাদের শিক্ষার সিলেবাস যারা তৈরি করেছেন তারা এই সব ঘটনা আমাদের জানানোর চেয়ে “যমুনা পাড়ি ছাগল পালন” “গরু মোটা তাজা করন” “ আধুনিক পেপে চাষ” ইত্যাদি সম্পর্কে জানানো বেশি ইম্পরট্যান্ট মনে করসেন।

১১ই ডিসেম্বর, ১৯৭১

১। ফাইনাল অফেন্সিভ এর অংশ হিসাবে ভারত নরসিংদী তে হেলিকপ্টারে করে সৈন্য নামানোর প্ল্যান করে। কিলো ফ্লাইটের Alouette III কে আর্মড এস্কোর্ট দেয়ার অনুরোধ করা হয়। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী তখনো নরসিংদী তে অবস্থান করছিল। ফ্লা অ বদরুল আলম এবং ক্যাপ্টেন সাহাব হেলিপ্টার নিয়ে পাকিস্তানিদের উপর ক্রমাগত রকেট আক্রমন চালান। এই যুদ্ধে হেলিকপ্টারে বেশ কয়েকটি গুলিও লাগে।

২। সকালে এই মিশন শেষ করে ফেরত আসার এবং রি লোড করার কিছুক্ষনের মধ্যেই অয়ারলেস এ ভারতীয়রা আবারো হেলিকপ্টার এর সাপোর্ট চায়। স্কো লী সুলতান মাহমুদ এবং ফ্লা অ বদরুল আলম দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে পৌছান আর পাকিস্তানিদের উপর রকেট আক্রমন শুরু করেন। এই সময় অয়ারল্যাস এ ভারতীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে বার্তা আসে “গো ব্যাক, গো ব্যাক, দি পাকিস্তানিজ হ্যাড স্পটেড ইউ এন্ড প্রিপেয়েরিং ফর হেভি ফায়ারিং” । কিন্তু তারপরও পাইলটদ্ব্য় আক্রমন কন্টিনিউ করার ডিসিশন নেন। মেশিন গানার কেও গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয় কিন্তু কিছুক্ষণ পর মেশিন গান টি জ্যাম হয়ে যায়। এই আক্রম্নে ২০ জন্য পাকিস্তানী সৈন্য নিহত আর বহু হতা হত হয়।

৩। ১১ই ডিসেম্বর রাতে ১৪ টি ভারতীয় Mi-4 হেলিকপ্টার এবং তাদের অন বোর্ড সৈন্য দেরকে Armed Escort করে স্কো লী সুলতান মাহমুদ এবং ফ্লা লে সিংলা নিরাপদে নিয়ে আসেন। ভারতীয় হেলিকপ্টার গুলো তে কোন অস্ত্র ছিল না।

এই ছিল কিলো ফ্লাইটের Alouette III হেলিকপটার এর দুঃসাহসী অভিজান সমূহ। আজকে এই পর্যন্তই থাক। আরো কিছু পড়ালেখা কইরা নেই। তারপর কিলো ফ্লাইট এর আরেক এয়ারক্রাফট সম্পর্কে লেখার স্পর্ধা করবো।

২৬২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ নভেম্বর ১৬, ২০১৫, ১১.৫৯ পি এম

মুক্তি যুদ্ধে বাংলাদেশের একমাত্র বিমান বাহিনির ইউনিট “কিলো ফ্লাইট” এর এল্যুয়েট ত্রি হেলিকপ্টার আর তার মিশন গুলা নিয়া লিখতাসিলাম। আজকে এর আরো একটা দিন এর মিশন নিয়া লিখতাসি। এরপর আর লেখার মত একটা দিন ১২ই ডিসেম্বর এর ইনফরমেশন পাইসি। ওই টা কালকে লিখবো। তাইলে এল্যুয়েট ত্রি হেলিকপ্টার এর অভিজান গুলা নিয়া লেখা শেষ হবে।। এরপর একটু গ্যাপ দিয়া ডিএইচসি থ্রি অটার বিমান এর মিশন গুলা নিয়া লিখব ইনশাল্লাহ।

১০ই ডিসেম্বর, ১৯৭১

১। এই দিন রাতে হেলিকপ্টার থেকে ভারতীয় সৈন্য নামানো হবে। তাই এল্যুয়েট এর উপর দ্বায়িত্ব পরে ড্রপ জোন নির্বাচন এর। কিলো ফ্লাইট এর আরেক বিমান ডিসি ত্রি এর ভারতীয় পাইলট স্কো. লী. সঞ্জয় কুমার চৌধুরী আর স্কো লী সুলতান মাহমুদ হেলিকপ্টার দিয়ে রেকি করে রায়পুরা থানার একটি চর নির্বাচন করেন।

২। খবর আসে ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের আক্রমন এর মুখে পাকিস্তানী রা পালাচ্ছে। সকাল ১১.৪০ এ পলায়নপর পাকিস্তানিদের উপর রকেট এবং মেশিনগান দ্বারা হেলিকপ্টার থেকে আক্রমন চালান স্কো. লী সুলতান মাহমুদ এবং ফ্লা. লে. সিংলা।

৩। স্কো. লী সুলতান মাহমুদ এবং ক্যাপ্টেন সাহাব আগরতলা থেকে ব্রাহ্মনবাড়ীয়া এলাকায় ২টি মিশন করেন।

৪। ক্যাপ্টেন সাহাব এবং ফ্লা. লে সিংলা দাউদকান্দিতে একটি মিশন করেন পিছু হটতে থাকা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর উপর

৫। ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি মিগ ২১ ভুপাতিত হয় ঢাকার কেরানিগঞ্জ এ। ক্যাপ্টেন সাহাব এবং ফ্লা. লে সিংলা কে পাঠানো হয় সেই পাইলট কে রেস্কিউ করতে। কিন্তু তারা ল্যান্ড করতে ব্যার্থ হন এবং পাইলট কেও আর ট্রেস করতে পারেন নি। পরে জানা যায় পাইলট কে রাজাকার রা হত্যা করেছে।