২২০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ অক্টোবর ০৬ , ২০১৫

ছোটদের ফটোগ্রাফি শিক্ষা ৪

আর একটা ছোট্ট জিনিষ বাকি এক্সপোজার নিয়া আলোচনার আর সেইটা হইলো ISO

আই.এস.ও (ISO)

ছোট্ট নাম হইলেও এর ক্ষমতা ব্যাপক। আই.এস.ও নামের ইতিহাস না বইলা সরাসরি চইলা যাই জিনিষটা কি সেইটাতে ।

আই.এস.ও হইলো ফ্লিম বা সেনসর কতটা Light Sensitive বা আলোক সংবেদী সেইটা । একটা ফ্লিম যদি “বেশী আলোক সংবেদী” হয় তাইলে কি হইবো? তাইলে ওইটা কম আলো পাইলেই আলোর সাথে রিয়েকশন ঘটাইতে পারবো। আর যদি “কম আলোক সংবেদী” হয় তাইলে কি হইবো? তাইলে এইটাতে রিয়েকশন ঘটাইতে হইলে অনেক বেশি “পরিমান” আলো বেশি “সময়” ধইরা ফেলা লাগবো। আশা করি সময় আর পরিমান ক্যামারায় কি দিয়া কন্ট্রোল করন যায়, সেইটা এখন জানেন। মনে না থাকলে কই, “পরিমান” কন্ট্রোল করন যায় Aperture দিয়া আর সময় কন্ট্রোল করন যায় Shutter Speed দিয়া।

জিনিষটা অনেকটা এইরকম যে, আমার অনেক কাতুকুতু। কেউ আমারে কাতুকুতু দেওনের ভাব কইরা চোখের সামনে আঙ্গুল নারাইলেও আমি লাফ দিয়া উঠি। অথচ গন্ডাররে এই কামটা করতে গেলে আপনারে পাত্তাও দিবনা। এর মানে হইলো আমি বেশি কাতুকুতু সংবেদী, আমারে হাসাইতে হইলে কম কাতুকুতু দিলেই চলে। আর গন্ডার মামু কম কাতুকুতু সংবেদী, তারে হাসাইতে বেশী কাতুকুতু দেওন লাগে ।

যাউকগা আই.এস.ও তে ফিরা আসি। ফ্লিম ক্যামেরার ক্ষেত্রে , আই.এস.ও জিনিষটা হইলো ফ্লিমের একটা প্রপার্টি। ফ্লিম কেনার সময় দোকানদাররে হ্য়তো বলতে শুনসেন ১০০ পাওয়ারের ফ্লিম, ২০০ পাওয়ারের ফ্লিম। ফ্লিমের গায়েও লেখা থাকে।এই ১০০ বা ২০০ ই হইলো ওই ফ্লিমটার আই.এস.ও। ডিজিটালের ক্ষেত্রেও একি জিনিষ শুধু ফ্লিমের জায়গায় সেনসর থাকে।

আই.এস.ও এর মান যা যা হইতে পারে তা হইলো

১০০

২০০

৪০০

৮০০

১৬০০

৩২০০ ইত্যাদি।

খেয়াল করেন এপারচার আর শাটার স্পিডের মতো, আই এস ও বাড়াইলে বা কমাইলে এক্সপোজার ডাবল বা অর্ধেক হওয়ার ব্যাপারটা এইখানেও আছে।

আই.এস.ও ১০০ মানে কম আলোক সংবেদী আর ৮০০ মানে বেশী আলোক সংবেদী। তো যেখানে অনেক বেশী আলো আছে (যেমন বিয়া বাড়ি বা সূর্যোজ্জল দিন) ওই খানে তো আমার বেশী লাইট সেন্সিটিভিটির দরকার নাই, তাই আমরা আই.এস.ও ১০০ বা ২০০ ব্যবহার করি। আবার ধরেন ঘুমন্ত আন্ধার রাইতে জলন্ত মুমবাতির ফটুক তুলতে গেলে আই.এস.ও বাড়ায়া ৮০০/১৬০০ করন লাগতে পারে। কারন কম তেলে করকরা ভাজার মত তখন কম আলোতে বেশি ফটুক দরকার।

আই.এস.ও বাড়ানির একটা সাইড এফেক্টও আসে। সেইটা হইলো, আই.এস.ও যতো বাড়াইবেন, ছবিতে grain বা noise ততো বেশি আসবে। তাই আই.এস.ও বাড়ানির সময় খিয়াল কইরা বাড়াইতে হইব।

একটা Canon G12 ক্যামেরায় ISO বাড়ানোর এফেক্ট এই রকমঃ

Aperture এবং Shutter Speed একি রাইখা শুধু ISO চেঞ্জ করলে দেখেন ছবিতে আলো কেম্নে বাড়তাসে। কারন তখন সেন্সর বেশি আলো ধরতে পারতাসে।

সেম ফ্রেম এর ছবি বিভিন্ন ISO তে। নয়েজ বাড়ার ব্যাপারটা খেয়াল করেনঃ

এই ছিল এক্সপোজার কন্ট্রোল করার তিনটা এলিমেন্ট। Aperture, Shutter Speed আর ISO. এই তিন এলিমেন্ট রে মাখায়া মুখায়া কেম্নে একটা ফটো রে কারেক্ট এক্সপোজার এ তুলন যায় তা আমরা আগামি লেখায় শিখবো।

২১৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ অক্টোবর ০৫ , ২০১৫

ছোটদের ফটোগ্রাফি শিক্ষা ৩

গত দুই টা লেখায় আমরা শিখসি Exposure কি আর Exposure এর যে তিনটা নিয়ন্ত্রক আছে তার প্রথম টা যা ছিল Aperture. আজকে শিখবো ২য় টা যা হইল Shutter Speed ।

শাটারস্পিড (Shutter Speed)

আপনের বাসায় জানলা আসে না ? ওই জানালায় পরদা আসে না? অ্যাপারচার যদি হয় এই জানালার সাইজ তাইলে শাটার হইলো সেই জানালার পরদা । যেই আলু মিয়া (Light) লেন্সের গ্লাস এর ভিতর দিয়া আইসা, অ্যাপারচার টারে পাস করার পর, ক্যামরার ভিতরে আসলো, তিনি কতক্ষণ ক্যামরার ভিতরে থাকবেন সেইটা ঠিক কইরা দেয় শাটার স্পিড ওরফে “পর্দার গতি” ভাইজান।

এইডাতো আবুলেও (মাল ছাড়া আবুল) বুঝে যে, পর্দা যদি অল্প সময় খুইলা রাখি তাইলে ঘরে আলো কম সময় ধইরা ঢুকবো, আর পরদা যদি সারা জীবনের লাইগ্গা খুইল্লা রাখি তাইলে দিনের বেলায় আলো ঢু্কতেই থাকবো, মানে বেশি সময় ধইরা ঢুকবো। (আর রাইতে ঢুকবো মশা ) ।

শাটার স্পিডের একক হইলো সেকেন্ড (second)। যদি কই, শাটার স্পিড 1/4 second তার মানে হলো, আলোটা ১ সেকেন্ডের ৪ ভাগের এক ভাগ সময় মাত্র ক্যামেরার সেনসর অথবা ফ্লিমের উপর পড়বে।

আবার যদি শাটার স্পিড হয় 8 second তাইলে সেনসর অথবা ফ্লিমের সামনের পর্দাটা ৮ সেকেন্ড ধইরা খুলা থাকবো। অনেক সময় একটা কথা শুইনা থাকবেন কাউরে কাউরে কইতে যে “ফটুকটা স্লো শাটার স্পিডে তোলা হইসে”। স্লো শাটার স্পিড মানে হইলো এট্টু আইলশা টাইপের শাটার এর স্পিড যেই শাটার কিনা বন্ধ হইতেই চায়না। খুলার পর অনেক সময় ধইরা খুলা থাকে, আস্তে ধীরে লাগে, তাই এইটারে বলে স্লো শাটার স্পিড।

একটা ক্যামারায় শাটার স্পিডগুলা সাধারনত এইরকম থাকে :

1/8000 s
1/4000 s
1/2000 s
1/1000 s
1/500 s
1/250 s
1/125 s
1/60 s
1/30 s
1/15 s
1/8 s
1/4 s
1/2 s
1 s
2 s
4 s
8 s
B – এইডা মানে বাল্ব। এইডা সিলেক্ট কইরা যতক্ষন বাটন টিপ্পা রাখবন ততক্ষন শাটার খুলা থাকবো, বন্ধ হইবো না। ছাইড়া দিলেই বন্ধ হয়া যাইবো।


উপরের ভ্যালু গুলা এক্টু খিয়াল কইরা দেখেন, উপরে বা নিচে যাইতে শাটার স্পিড হয় ডাবল হইতাসে, না হয় অর্ধেক হইতাসে। যেমন ১/২ সেকেন্ড থেইকা বারলে হয় ১ সেকেন্ড (Double Speed) আর ১/২ সেকেন্ড থেইকা কমলে হয় ১/৪ সেকেন্ড (Half Speed)। এই অর্ধেক আর ডাবল হউনের সম্পর্কটা অ্যাপারচারেও আসে। আগের লেখা টা বাইর কইরা দেইখেন খেয়াল কইরা। সামনে যখন আই.এস.ও নিয়া কথা কমু তখন দেখবেন ওইহানেও একই তামশা।

এই এক ধাপ এক্সপোজার বাড়ানি বা কমানি রে বলে এক্সপোজার এক স্টপ বাড়ানি বা এক স্টপ কমানি। উপরের প্যারাগ্রাফ টা যদি বুইঝা থাকেন তাইলে এই টা নিশ্চই বুঝসেন যে, এক্সপজার এক স্টপ বাড়ানো বা কমানো মানে এক্সপোজার দ্বিগুণ বা অর্ধেক করা। ডিজিটাল ক্যামেরায় এই দ্বিগুণ বা অর্ধেকের মধ্যে আরো কিছু স্টপ থাকে। এগুলারে বলে হাফ স্টপ। যেমন ১/১৫ সেকেন্ড এর ১/৩০ সেকেন্ড এর মদ্ধ্যে আছে ১/২০ আর ১/২৫। এই ১/২০ আর ১/২৫ হইলো গিয়া হাফ স্টপ অথবা কোয়ার্টার স্টপ।

এই তো গেলো শাটার স্পিড কি বা হুয়াটিজ শাটার স্পিড। এখন তাইলে আসি এই শাটার স্পিড দিয়া আমাদের কি ফায়দা তা নিয়া।

শাটার স্পিড কমায় বাড়ায় ফটুতে অনেক রকম মজা করন যায়। ধরেন একটা ব্যস্ত রাস্তায় আপনে যদি স্লো শাটার স্পিড দিয়া ফটুক তুলেন তাইলে দেখবেন গাড়ি গুলার হেড লাইট আর টেল লাইট একটা লম্বা শাদা আর লম্বা লাল রেখার মতো তৈরি করসে। অনেকটা এইরম:

আবার শাটার স্পিড বাড়ায় দিয়া (ধরেন 1/125 sec) যদি কনো ঝরনার ফটুক তুলেন তাইলে পানি গুলা বরফের লাহান ফিরিজ হয়া গেসে। যেমুন:

Shutter Speed এর বারানি কমানির কারনে কি হয় তার আরো কিছু উদাহরন এইখানে দিলাম ব্যাপারটা ক্লিয়ার করার জন্য। ছবি গুলা এক্টূ সময় নিয়া দেখেন

তাইলে এই পর্যন্ত আমরা কি শিখলাম? অ্যাপারচার দিয়া আলোর পরিমান (Amount of Light) কন্ট্রোল করন যাইতাসে আর শাটার স্পিড দিয়া কন্ট্রোল করন যাইতাসে এই আলোটা কত সময় ধইরা সেনসর/ফ্লিমের উপর পরবো (Time of Exposure)।

এরপরের লেখায় আই.এস.ও নিয়া লিখুম নে।

২১৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ অক্টোবর ০৩ , ২০১৫

ছোটদের ফটোগ্রাফি শিক্ষা ২

আগের পোস্টে লিখসিলাম এক্সপোজার কি তা নিয়া।এক্সপোজার কন্ট্রোল করা হয় তিনটা জিনিষ দিয়া: অ্যাপারচার (Aperture), শাটার স্পিড (Shutter Speed) আর আই.এস.ও (ISO) । এই তিন বস্তু কি খায় না মাথায় দেয় …এই ডা আজকা আমরা দেখমু।

আগের পোস্টে লিখসিলাম এক্সপোজার কি তা নিয়া।এক্সপোজার কন্ট্রোল করা হয় তিনটা জিনিষ দিয়া: অ্যাপারচার (Aperture), শাটার স্পিড (Shutter Speed) আর আই.এস.ও (ISO) । এই তিন বস্তু কি খায় না মাথায় দেয় …এই ডা আজকা আমরা দেখমু।

অ্যাপারচার (Aperture)

অ্যাপারচার এর খাস বাংলা হইলো গিয়া ফুটা। ক্যামেরায় যে লেন্স থাকে সেইখানে প্রথমে থাকে কিছু কাচের জিনিষপাতি (Glass Elements) তার ঠিক পিছনেই থাকে অ্যাপারচার । মাইনে হইল, আপ্নে যদি একটা ক্যামেরা হাতে লন আর তার লেন্সটা চোখের সামনে ধইরা দুরবিন এর লাগান চোখ দ্যান তাইলে আপ্নের চোখের ঠিক সাম্নেই থাকবো গ্লাস এলিমেন্টস, তারপর থাকবো একটা ফুটা। এইডাই হইল ওই ল্যান্স এর অ্যাপারচার।

অ্যাপারচার যতো বড় হইবো মানে ফুটা যতো বড়ো হইবো, ক্যামেরার ভিতরে ততো বেশি আলো ঢুকবো । আবার অ্যাপারচার ছুডু হইলে আলো ঢুকবো কম কম। তার মানে দাড়াইলো যে ক্যামেরার ভিতরে কি “পরিমান”(How Much Light) আলো ঢুকবো, সেইটা আমরা নিয়ন্ত্রন করতে পারি এই অ্যাপারচার দিয়া।


মজার জিনিষ হইলো, অ্যাপারচারের ব্যাপারটায় একটু ঘিরিঙ্গি লাগায় দিসে এর স্রষ্ঠারা। ঘিরিঙ্গিটা হইলো, অ্যাপারচার বুঝানোর জন্য যে ভ্যালুটা দেওয়া থাকে, ওইটার সাথে ফুটার সাইজের সম্পর্ক পুরা উল্টা। মানে অ্যাপারচার ভ্যালু যত বাড়বো, ফুটার সাইজ ততো ছোট হইবো আর অ্যাপারচার ভ্যালু যত কমবো, ফুটার সাইজ ততো বড় হইবো।


এইডা শিখার পরের কয়দিন অনেক ধান্দা লাগতো মাথার ভিতর। ভ্যালু বেশি মানে ফুটা ছোট… না কি জানি…সব কেরম আউলায় যাইতো। কিন্তু পরে বুঝলাম আমি শুধু খিয়াল রাখুম আমার কি দরকার? অ্যাপারচার বড় না ছোট? .. এইটাই মেইন… ভ্যালুটা ওই অনুযায়ি বাড়ানি কমানি তো যাইবোই।


অ্যাপারচার বাড়ায়া কমায়া ছবিতে অনেক তেলেসমাতি করন যায়। যেইটারে কয় ডেপথ অফ ফিল্ড (Depth of Field)। যেই কারনে বেশির ভাগ মানুষ ফটোগ্রাফি শিখতে চায়, সেই ঘুলা করনের ব্যাপারটা কিন্তু এই ডেপথ অফ ফিল্ড দিয়া হয়। এইডা বুঝলে আপ্নে সাব্জেক্টের সামনে পিসে কট্টূক ঘুলা হইব তা নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন। কিন্তু আজকে ডি.ও.এফ ব্যাখ্যা করুম না, তাইলে যা শিখলেন তা পেস পুস লাইগা যাইতে পারে। আরেকদিন এই ভেপারে আলুচনা হইবেক ।

একটা সহজ উদহারণ দেই। ধরেন আপনারে একটা সুক্ষ জিনিস আকতে দেয়া হলো। আপনার সামনে মোটা তুলি আছে আবার চিকন তুলিও আছে। আপনে জিনিসটা আকার সময় কোন তুলিটা ব্যবহার করবেন। নিশ্চয়ই চিকনটা। কেননা মোটা টা দিয়া আঁকলে রংটা ছড়াইয়া যাবে, সুক্ষভাবে জিনিসটা আঁকা যাবে না। তাই কোন ছবির শার্পনেসের জন্য ফুটাটা বা অ্যাপারচার যত ছোট হবে, আলো তত তিক্ষ্ণ হবে আর ছবি তত সুক্ষ হবে।

অ্যাপারচার এর সুচক হইলো f . অনেক সময় f এর পরে একটা “/” ও দেয়া হয়। f যতো কম, ফুটা ততো বড়। f এর ভ্যালু কি কি হইতে পারে, ক্যামেরার লেন্স এ সেইটা কেমন দেখায় আর তার লগে লগে ছবির কি চেঞ্জ হয় তার কয়ডা ছবি এইখানে দিলাম। আমরা যখন লেন্স এর প্রকারভেদ পরবো তখন এই “বাইয়া, ফোটর পিসে ঘুলা করব কেম্নে” ব্যাপারটা আরো ক্লিয়ার করবো। আপাতত ছবি দেইখা উপরে যা বইলা আসছি তা মিলায় দেখেন ঠিক আসে কিনা :

অ্যাপারচার এর ভেলু গুলার সাথে ফুটা বড় ছোট হওয়ার সম্পর্ক। ভ্যাল্য যত কম, ফুটা তত বড়

ফুটা / অ্যাপারচার বড় ছোট হইলে লেন্স এর ভিত্রে কেমুন দেখা যায় তার ছবি

অ্যাপারচার পরিবর্তনের সাথে সাথে ছবি তে কি পরিবর্তন আসে তার উদাহরন

আজকা তাইলে এই পর্যন্তই থাক। শাটার স্পিড আর আই.এস.ও শিখুমনে পরের পুস্টে।

২১৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ অক্টোবর ০২ , ২০১৫

ছোটদের ফটোগ্রাফি শিক্ষা ১

ফটোগ্রাফির প্রথম নিয়ম হইলো, নিয়ম ভাঙা। কিন্তু একটা নিয়মরে ভাইঙ্গা চুইরা, খিচুরি বানায়া, সেইটা থেইকা তেহারি বাইর কইরা নিয়া আসার আগে, জানতে হইবো আসল নিয়মটা কি আসিলো। নাইলে নিয়ম ভাঙ্গাটাও ঠিক জুইতের হইবো না।

আমার এই লেখার উদ্দেশ্যটাও কিন্তু সেইটা। যাদের একটা ফটো তুলার পর মনের ভেতর অন্য রকম একটা আনন্দ হয়, তারা আর কি কি ভাবে এই আনন্দ আরো বেশী কইরা পাইতে পারে, তার কায়দা কানুন গুলান একটু চিনায়া দেওয়া। আপাতত আপনের ক্যামেরা আসে কি নাই ওইটা নিয়া চিন্তা কইরেন না, কারন এখন যা কমু তা পড়তে হইলে ক্যামেরা জীবনে একবার দেখলেও চলবো, ক্যামেরা থাকনটা আবশ্যক না। তাইলে আসেন আর প‌্যাচাল না পাইরা ফটোগ্রাফির নিয়মের দুনিয়ায় প্রথম পা ফালাই।

এক্সপোজার (Exposure)

ফটোগ্রাফি জীবনের প্রথম এবং শেষ পর্যন্ত এই শব্দটা আপনার অসংখ্যবার শুনতে হইবো। তাই আমি মনে করি এইটা দিয়াই ফটোগ্রাফির টার্ম শিক্ষা শুরু করা উচিত।

ফটো কি? ফটো জিনিষটা হইলো আলোর একটা খেলা। ফ্লিম ক্যামেরার কথা যদি চিন্তা করেন তাইলে, আলো যখন সাবজেক্টের উপর থেইকা প্রতিফলিত হইয়া আইসা, ফ্লিমের উপর পরে তখন এর উপর আলোক সংবেদী (photo sensitive) একটা বিক্রিয়া হয় আর যেইটা তৈরী হয় আমরা সেইটারে বলি ফটো। আর এই যে ফ্লিমের আলোর সংস্পর্শে আসা টা এইটারে বলে, “ফ্লিমটা আলোতে এক্সপোজ হইলো” ।

ডিজিটাল ক্যামেরায় যেহেতু ফ্লিমের কারবার নাই, তাই এইখানে এক্সপোজ হওয়া মানে হইলো ভিতরে সেনসরটার উপর আলো পড়া। ডিজিটাল আর ফ্লিম ক্যামেরা কেমনে কাম করে সেইটা নিয়া আরেকদিন লেখার ইচ্ছা রাখি। ওহন এক্সপোজারে ফেরত যাই।

তো সেনসর বা ফ্লিমের উপর আলো পড়াটারে যদি এক্সপোজার কই তাইলে এই আলোটারে কন্ট্রোল করার কায়দাটারেই আমরা বলতে পারি এক্সপোজার কন্ট্রোল করা । আলো যদি বেশী পরে তাইলে বলা হয় ওভার এক্সপোজ হইসে আর যদি কম পরে তাইলে বলা হয় আনডার এক্সপোজ হইসে। ছবি ওভার এক্সপোজ হইলে সাদা সাদা বেশি লাগে আর আনডার এক্সপোজ হইলে মনে হয় দুনিয়া বড়ই আন্ধাইর।

এক্সপোজার কন্ট্রোল করা হয় তিনটা জিনিষ দিয়া: অ্যাপারচার (Aperture), শাটার স্পিড (Shutter Speed) আর আই.এস.ও (ISO) ।

এই তিন বস্তু কি খায় না মাথায় দেয় …সেইটা নেক্সট পোস্টে কমুনে। আর এঈ লেখা আজকে লিখি নাই। ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৫ এ লিখসিলাম। ব্লগ এ লেখার কারনে দরকার এর সময় খুইজা পাই না। তাই এই খানে লেখা গুলারে পর্যায়ক্রমে নিয়া আসার ডিসিশন নিসি।

২১৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ অক্টোবর ০২ , ২০১৫

আমার কাছে বাংলাদেশের সব অঞ্ছলের ভাষা ভাল্লাগে। আমি ট্রাই করি সব ভাষা থেইকা কিছু না কিছু শিখতে। অনেক সময় মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য এইগুলা এত পারফেক্ট ভাবে ব্যবহার করা যায় যা কিনা যেই ভাষায় কথা বলি তা দিয়া যায় না। যেমন, তরে ঝারু দিয়া পিডামু বলার চেয়ে নোয়াখালির ভাষায় তরে হিসা দি হিডামু বলাটা কত ফিলিংস লাগে। আবার আয়হায়, কি বলস এগুলা এর চেয়ে চিটাগাং এর ভাষায় অবুক, এইয়া কিয়া কস বললে মনে হয় ঠিক মত বুকের বাতাস বাইর করলাম।

আমার দাদাবাড়ি নানাবাড়ি কিশোরগঞ্জ। এই টা আগে বৃহত্তর ময়মনসিংহ এর অংশ ছিল। তারপর ভাইঙ্গা আলাদা জেলা হইসে। কিন্তু ভূ খন্ডের সীমা রেখা দিতে পারলেও সংস্কৃতি কে তো আর বেড়া দিয়া আটকায়া রাখা যায় না। সে বেড়া পার হয়া এই পারে আসবেই। তাকে রাখা না রাখা মানুষের নিজের ব্যাপার। তাই কিশোরগঞ্জের মানুষেরা ময়মনসিংহ এর ভাষা অনেক টা নিজেদের মধ্যে এডপ্টেড অবস্থায় পাইসে, আর অনেক কিছু নিজেরা নিজেদের মত বানায় নিসে। আমি ভাষাবিদ হইলে হয় এই সব এর ব্যুতপতি গত অর্থ এবং তার আলোকে একটি নিরীক্ষাধর্মি আলুচনা ও টক শো এর মাধ্যমে বেপার গুলা খোলসা করতে পারতাম। কিন্তু সে সুযোগ নাই। তাই আম্মা খালার কাছে শুনে শুনে শিখে ফেলা কিছু কিশোরগঞ্জের ভোকাবুলারি নিচে দেওয়া হইল। কুনদিন কিশুর গঞ্জে গেলে এইডা প্রিন্ট কইরা নিয়া যাওয়াই বুদ্ধিমান এর কাজ হবে।

শব্দ – অর্থ – বাক্যে ব্যবহার

কুইরা – অলস – তুই এত কুইরা ক্যারে, হারাদিন খালি হুইত্তা থাহস

হুইত্তা থাকা – শুয়ে থাকা – ওহন আর গিয়া কি কর্বি, হুইত্তা থাক এইহানো।

হাবাং – সারকাস্টিক ওয়েতে কোন কিছু কে পচানো – এহ, যবর হাবাং এর অনুষ্ঠান, আরেকটু থাকলে মারাই যাইতাম।

তব্দা – হ্যাং খাওয়া – কিরে এরম তব্দা মাইরা রইসস ক্যারে, মুহো রাও নাই?

মগা – স্টুপিড – হালায় আস্তা মগা একটা

মাইগগা — মেয়ে মেয়ে টাইপ – অই পোলাডা পুরাই মাইগগা, দ্যাখ ক্যাম্নে হাডে।

আইচ্চা – ওকে – আইচ্চা আইতাসি, খাড়া।

থুক্কু – সরি – আমার মন গলে পানি থুক্কু মঙ্গলে পানি পাওয়া গেসে।

ও মায়া মায়া গো — ওউ মাই গড – ও মায়া মায়া গো, কত বুইত্তা ব্যাডা ডা

হগ লে – মাত্র – তুই হগ লে এদ্দুর আইসস? আয় তাড়াতাড়ি।

বাদে — পরে — হের বাদে কি হইল?

ছালুন — তরকারি — মুরগির ছালুন দিয়া দুইলা বাত কায়া লাও।

সৌরা — তরকারির ঝোল – দুইলা সৌরা দেও সে, মাহায়া বাত কায়াম।

এহাবেহা — আকাঁবাকাঁ — এরম এহা বেহা কি লেকসস এডি। টিক কইরা ল্যাক।

দুক্কু — আঘাত – মেয়া বাই, দুক্কু পাইসুইন?

ব্যাদ না — ব্যাথা – ফেডে ব্যাদ না করতাসে

পাও — পা – পাও না দুইয়া ঘর ঢুক্লে তুমার খবর আসে আইজ

আত – হাত – আত পাও ব্যাদ না করতাসে

হাগ — শাক – হাগ রাঞ্চনি আইজকা?

মইচ — মরিচ – কি মইচ দিলা, এট্টুও জাল নাই

বগলো — কাছে – বুড়িগঙ্গা কই? ঢাকার বগলো।

ভুইত্তা — বড় – অ আম্মা দেহ আয়া, ইথার নামের ইয়া ভুইত্তা এক ব্যাডা আইসে

আবুডা — বাচ্চা কাচ্চা /শিশু – এরুম ভাব ধরসস ক্যারে, তুই জেন এক্কেরে আবু ডা।

খেতা – কাথা – খেতা মুরি দিয়া আর কত হুইত্তা থাকবি, উট এইবার।

মুইত্তা দিসে — প্রস্রাব করেছে – আবু ডা খেতায় মুইত্তা দিসে

আইগ্গা দিছে –পায়খানা করেছে – আবু ডা খেতাত আইগ্গা দিসে

ইচা মাছ — চিংড়ী – আইজকা ইচা মাস রাঞ্ছনি?

হাছুন — ঝাড়ু – হাছুন ডা আন সে, ঝারু দিয়াম।

আক করা — হা করা – এরম আক কইরা চায়া আসস ক্যারে, কতা ক।

ব্যাড়া ছ্যাড়া লাগসে – ঝামেলা হয়েছে – তরে পাডানি ই বুল অইসে, অহন ব্যারা ছ্যারা লাগসে একটা

হুইনগা দেহ — শুকে দেখ / ঘ্নান নাও – হাসা কইতাসি না মিসা কইতাসি তুমি নিজেই হুইনগা দেহ

কোম্বালা – কখন – আরে তুই, তুই কুম্বালা আইলি

হাইঞ্জা – সন্ধা – হাইঞ্জার আগে সুজা বাসাত আবি।

কুইচ্চা মুরগি — ডিম দেয়া শেষ মুরগী – কিরে এরুম কুইচ্চা মুরগীর লাহান ঝিমাস ক্যারে।

বেহেই — সবাই – বেহেই করলে তর ও হেইডা করন লাগবো?

হাতেকুতেও – কখনোই – এরম ইশটাইল তো আম্রার হাতেকুতেও দেখসিনা।

লুডা লইসে – ফেইল করেছে – হ্যাতে তো ইলেকশন এ এইবার লুডা লইসে

কাইজ্জা – ঝগড়া – তরা দুইডা এতু কাইজ্জা করস ক্যারে খালি

আলুগুডা – গোলআলু – পড়ালেহা না করলে পরীক্ষাত আলুগুডা ফাইবা।

হাপ – সাপ – জানস না? হেরে ত হাপে কামরাইসে।

পুসকুনি — পুকুর — পুসকুনিত্তে দুইডা ডুব দিয়া আয় তাত্তারি।

বেইল — দিন এর বেলার সময়টা – কত বেইল ওইসে, অখনো ঘুমাস? উট উট

আইনদার — অন্ধকার – এই আইন্দার এর বিত্রে কই যাস?

পাগার — ডোবা – পাগার অ ফারা দিলে ফাও এ প্যাক লাগবো

প্যাক — কাদা – কইসিলাম না ফাও এ প্যাক লাগব?

চুক্কা — টক – এই কমলাডি এট্টূও মুজানা, হুদা চুক্কা

হুগায়া যাওয়া — শুকিয়ে যাওয়া – না খাইতে খাইতে হুগায়া যাইতাসি, আফসুসস

কিরম – কিরকম – কিরম যে একটা লাগতাসে আমার মন এর বিত্রে, বুঝায়া কইতারুম না

কোনসুম — কোন সময় – আমি তাইলে কোনসুম আসুম?

আসুইন – আছেন – মেয়া বাই বাইত আসুইন?

খাইসুইন – খাইছেন – মেয়া বাই খাইসুইন?

তগর – তোদের – তগর কুরবানি শ্যাশ?

বিলাই – বিড়াল – বিলাই মেও, কাডা কাও, ফয়সা দিলে , দুক্কু পাও

চহি — চৌকি – চহির তলাত বিলাইডা বয়া আসিলো।

অইলদা – হলুদ – তর চখ মুক এরম অইলদা লাগতাসে ক্যারে? ঝন্ডিস অইসে?

২১৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৩০ , ২০১৫

মানুষের সাথে মিশতে পারা একটা বড় আর্ট। আর একটা বড় এডভেঞ্চার ও । আমি এই খানে আর্টিস্ট ও না। এদ্ভেঞ্চারার ও না। আমি দর্শক। আমি দেখি কিছু কিছু মানুষ কি সুন্দর কইরা অন্য একটা মানুষের সাথে মিশা যায়। আমি দেখি আর শেখার চেষ্টা করি। ঠিক কি কারনে সে খুব তারাতারি আরেকটা মানুষ কে কম্ফোরটেবল করে ফেলতে পারসে তার সাথে। আমি একটা জিনিষ খুব বিশ্বাস করি। মানুষ যত দেখি মানুষ তত হই। ইন্ট্রোভার্ট হওয়া দোষ এর কিছু না। কিন্তু আমি ইন্ট্রোভার্ট, কেউ আমার সাথে মিশতে আসলে আমি সিলিং এর দিকে তাকায় থাকি এরকম হইলে জীবন থেইকা অনেক কিছু মিস হয়া যাবে।

আমি অনেক ইন্ট্রোভার্ট কিন্তু আমি নিজের দরজা জানালা বন্ধ করে রাখি না। আমাদের যখন পাঠশালায় এনভাইরনমেন্টাল পোর্ট্রেচার এর ক্লাস হইত তখন শিবলী ভাই পুরা দুই টা ক্লাস ব্যয় করসিল আমাদের সাব্জেক্ট এর সাথে কেম্নে কানেক্ট করতে হবে তার উপর। তখন অনেক কিছু শিখসি। আর ক্লাস এর বাইরেও যারা এই মিশতে পারা শিল্পের শিল্পী তাদের দেখে দেখেও অনেক কিছু শিখসি।

যেমন একজন নতুন মানুষের সাথে যখন পরিচয় হয় তখন আমরা একটু কনফিউজ থাকি আমাদের কোন ভার্শন টা তারে দেখাবো। আমাদের প্রত্যেকেরই অনেক গুলা ভার্শন বা সংস্করন থাকে। একটা ছেলে বা মেয়ের হোম এডিশন যেমন তার ফ্রেন্ড এডিশন তেমন হবে না, আবার মিটিং এ ফেসবুক ফ্রেন্ড ফর দা ফার্স্ট টাইম এডিশন ও হবে পুরাই আলাদা। তাই ইন্ট্রোভার্ট, গিক এবং নার্ড দের প্রথম এঙ্কাউন্টার টু এ স্ট্রেঞ্জার যেই প্রব্লেম টা হয় তা হইল এই চিন্তা টা যে “ও তো আমারে চেনে না, তাইলে কি ওর সাথে স্মার্ট হওয়ার ট্রাই করব, অনেক ফ্রেন্ডলি এটিচিউড দেখাবো নাকি ভাবমুর্তি বজায় রাখার জন্য ভাব নিয়া মুর্তি হয়া থাকবো”। নিজের কোন ভার্শন তার কাছে প্রকাশ করা হবে তা সময়মতো ঠিক করতে না পারলে আমরা বাইছা নেই বোবা ভার্শন হয়া যাওয়ার। “ও আচ্ছা আচ্ছা”, “বাহ ভালো তো” , “ সেটাই সেটাই” এসবের আড়ালে বাজতে থাকে কি মুসিবতের ভিত্রে পড়লাম, আম্মু বাসায় যাবো।

এই অবস্থা থেইকা উত্তরনের তরিকা হইল , বি কিউরিয়াস এবাউট দা আদার পার্সন। আস্ক কোসচেন্স। কিন্তু জেরা করার মত না। যদি তার দেয়া উত্তরে আপনার নিজের জীবনে রিলেটেড কিছু থাকে, শেয়ার সাথে সাথে। তাইলে দেখা যায় কথা আগাইতাসে অনেক। যেমন আমি যখন দেখি আমার সাথে যিনি আছেন তার একটা ছোট বেবি আছে বাসায়, আমি জিজ্ঞেস করি, ও কি হাটতে পারে? কথা বলতে পারে? ব্যাস নেক্সট এক ঘন্টার জন্য নিশ্চিন্ত। বাবুটা কার সামনে কবে কি করসিল, সে যে কত বুঝে, সে যে কি আশ্চর্য এক টাইম পাস সবকিছু “বানের পানির লাহান” আসতেই থাকবে। ব্যাপার টা যে বাইচ্চা কাইচ্চা নিয়াই হইতে হবে তা না। আমি ট্রাই করি, আরেকজন এর প্যাশন টা জানতে, দেন ঐ ব্যাপারে কথা বলতে আরেক পক্ষের কখনোই ক্লান্তি আসে না।

আরেকটা তরিকা এবং খুবি ইম্পরটেন্ট তরিকা হইল কারো সাথে মিশার সময় নিজেরে কম হ্যাডম মনে করা। সে যদি একবার এই ফিলিংস টা পায় যে আপনি মনে মনে কিছু একটা পাকাইতাসেন যা সে ঠিক ধরতে পারতাসে না, তাইলে গেল আপ্নের তার সাথে মিশা। বিমান বাহিনীর ফাইটার প্লেন গুলা যখন ল্যান্ড করতে আসে তখন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার তারে ওলয়েজ জিজ্ঞেস করে, “হোয়াটস ইউর ইন্টেনশন্স”। সে কি ল্যান্ড করবে? নাকি টাচ এন্ড গো করবে? নাকি লো ফ্লাই কইরা যাবে গিয়া, এইটা জানা টা দরকার । সিভিল এয়ারলাইন্স রে কিন্তু জিজ্ঞেস করে না যে তার ইন্টেনশন কি। কারন তার ইন্টেনশন এক্টাই। যাত্রি আর মাল সামানা নিয়া নিরাপদে ল্যান্ড করা। মানুষের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা সেম। প্রথমেই নিজের ইন্টেনশন ক্লিয়ার করতে হবে। তারে বুঝাইতে হবে যে আমি এমন, আমি কোন উদ্দ্যেশ্য নিয়া তোমার সাথে কথা বলতাসি অর্থ্যাৎ আমার মতলব টা কি। তাইলে এটলিস্ট অপর পক্ষ বুঝতে পারবে যে আমি ধান্দাবাজ পক্ষ না মিত্র পক্ষ।

আর কেই যদি মিশতে চাওয়ার পরও এভয়েড করে তাইলে তারে তার মত থাকতে দেওয়া উচিত। এইটা বুঝতে পারাটাও দরকার। নাইলে বেপার টা চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়া তার লগে চিপকায় যাওয়ার কন্টিনিউয়াস চেষ্টা করাটা ইজ এবনরমাল। সব মানুষের সাথে একেবারে মিশা যায়া একাকার হইতে হইব এমন তো কথা নাই। আমি তো আর ভোটে দাড়াইতাসি না।

তবে যে আমার সাথে মিশতে আস্তাসে কিন্তু আমি ইণ্টারেস্টেড না তারেও বেপারটা অনেক রেস্পেক্ট নিয়া বুঝায়া দিতে হইব যাতে সে মনে না করে যে এইখানে তার কোণ ফল্ট আছে। যেমন কিছু লোক আছে যারা পাশে দিয়া গেলে ন্যাচেরালি আমি সালাম দেই। এইটা এমন না যে মোসাহেবি অভ্যাস থেইকা দেই। এইটা ন্যাচারালি আসে ভিতর থেইকা কারন তাদের কিছু না কিছু গুন আমি অনেক শ্রদ্ধা করি। । কিন্তু মেজাজ খারাপ হয় তখন যখন পাশ দিয়া যাওয়ার সময় সালাম দিলাম, আমি শিউর যে সে শুন্সে, কিন্তু সালামের জবাব দিলে তার ভাবমুর্তি নষ্ট হয়া যাবে ভাইবা সে জবাব দেওয়া প্রয়জন মনে করে নাই। আমার দিকে স্থির চোখে তাকায়া গেল গিয়া। কত ভাব।

এগুলারে আমার অসহ্য লাগে। নিজের উপরেই রাগ উঠে ক্যান সালাম দিতে গেসিলাম। নিজেরে রাশার ভয়েসে নিষেধ করি, হপ ব্যাটা। তোর এত ত্যাল ক্যান। কিন্তু মন আমার কথা শুনলে তো হইতই।

২১৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৩০ , ২০১৫

আহমেদ ছফার “সূর্য তুমি সাথী” শেষ করলাম আজকে। অফিস থেইকা ফিরসি তাড়াতাড়ি। তখনো বাইরে বিকেলের আলো ছিল। আমার বই পড়া হচ্ছে না এই গিলটি ফিলিং থেকে মুক্তি পাবার জন্য ভাবলাম মাত্র তিন চ্যাপ্টার পড়সি, আজকে যখন সময় আছে হাতে, ডুব দেয়া যাক। সুর্য যতক্ষণ সাথি ছিল সুর্যের আলোয় পড়লাম। কমতে কমতে যখন কম আলো তে আর চোখ ছোট ছোট করা যাচ্ছিল না তখন লাইট জ্বালিয়ে বাকিটা শেষ করলাম। একটা ভাল উপন্যাস শেষ করার অনুভূতি টা ঘাম দিয়ে জর ছাড়ার মত। জর টাতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। এখন কেমন কি যান নেই নেই লাগছে।

“সূর্য তুমি সাথী” উপন্যাস টা লেখা হয় ১৯৬৭ সালে। আহমেদ ছফার প্রথম উপন্যাস। আমি পড়া শুরু করি কোরবানি ঈদ এর দিন আর শেষ করলাম আজকে। মানে পাঁচ দিন লাগলো শেষ করতে। অনেক গুলা অনুভূতি এক সাথে হচ্ছে। সব চেয়ে বেশি যেটা হচ্ছে তা হচ্ছে, আরেকবার পড়লে হয়তো আরও অনেক ডিটেইল চোখে পড়বে।

প্লট হিসাবে “সূর্য তুমি সাথী” তুমি উপন্যাস এ নতুন কিছু নেই। শ্রেণী বৈষম্যের হাতে নিপীড়িত মানুষের দুঃখ গাঁথা, এক হবার বাসনা। ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হওয়া মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর পদ্মা নদীর মাঝি তেও একই রকম পটভূমি আমরা দেখতে পাই। কিন্তু সাধারণ জিনিশের মধ্য থেকেও অদেখা অসাধারণ কে বের করে আনা একজন জাদুকর এর দায়িত্ব এবং আহমেদ ছফা একজন জাদুকর।

উপন্যাসের প্রত্যেকটা দৃশ্য শুরু হবার আগে লেখক যেভাবে বিস্তারিত ভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ডিটেইল এর প্রতি লক্ষ রেখে তার পরিবেশটা তৈরি করেছেন তা খুব কম লেখকের মধ্যেই পেয়েছি আমি। এখানে সংলাপ এর চেয়ে সংস্পর্শ বা পাঠকের সাথে চরিত্র গুলার যে কানেকশন তৈরির প্রতি নজর ছিল লেখকের তা খুব ভাল ভাবেই বোঝা যায়।

কিছু কিছু দৃশ্যে রক্ত এমন গরম হয়ে ওঠে যে মনে হয় এখনো ড্রাগনের মত আগুন বের হবে নাক দিয়ে। সেই ১৯৬৭ সালে বসে যিনি রেসিজম এর বিপক্ষে লিখতে পারেন, তিনি কি রকম আধুনিক ছিলেন কল্পনা করা যায়?

ও আজকে আরেকটা কাজ করসি। এই যে নোট গুলা লিখি প্রতিদিন , এগুলো কে এক জায়গায় ছাপার অক্ষরে দেখতে কেমন লাগবে তা ভাবতেসিলাম। মনে হয় জনতা কি বলে জানা দরকার। তাই ফেসবুক বাসীর কাছে আবেদন জানাইসিলাম যে তারা বই হিসাবে পাওয়ার ইচ্ছা আছে কিনা। সবার কমেন্টে ভাইসা যাওয়ার মত অবস্থা হইসে এত এত কমেন্ট আসছে। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা তাদের মতামত দেয়ার জন্য।

বই বাইর করবো কিনা আমি এখনো ঠিক করি নাই। আগে ৩৬৫ প্রজেক্ট তো শেষ হোক।

২১৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৯ , ২০১৫

আজকে যামুনা ফুতুর পার্ক এ সিনামা দেখতে গেসিলাম। অফিসে বইসা বইসা হাল্কা পাতলা কাজ এর ভান করতাসি এমন সময় হঠাত মুগ্ধ এর ফোন। কইল ও আর পুন্যা (মুগ্ধর বউ, আমার বইন) সিনেমা দেখতে আস্তাসে আমি যাতে আসি। আমি লগে লগে রাজি হয়া গেসি। মন কেমন মেন্দা মাইরা ছিল মেঘ হওয়া বৃষ্টি না হওয়া দিন এর মত । আর এমনি তেও বাসায় ফিরতে ইচ্ছা করে না কোন কোন দিন।

শো ছিল ৫ ১০ এ। আমি পৌনে পাচটায় বাইর হওয়া বসুন্ধরার সাইড এর গেট টা দিয়া ঢুকতে গেসি দেখি ঢং কইরা ওই গেট বন্ধ কইরা রাখসে। সেই মেইন রোড এ ঘুইরা বড় গেট দিয়া ঢুকতে হইসে পরে। অনেক মানুষ জন হইসে দেখলাম। জীবনের যাতা কলে ফিরত যাওয়ার আগে সবাই বেশ মজা কইরা লইতাসে। ফুতুর পার্ক এর সামনে যেই টর্চার মার্কা রাইড গুলা আছে ওগুলাতেও দেখলাম অনেক ভিড়। ধর্ম বর্ন জেন্ডার নির্বিশেষে সবাই গলা ফাটাইয়া চিল্লাইতাসে। ক্যান যে উঠে মানুষ এই সব টর্চার মেশিন এ।

যাক গা পৌঁছাইলাম। মুগ্ধ, পুন্যা, মুগ্ধর শালা রাফাত এর লগে জাবরা জাব্রি করলাম। এরপর সন্দর কইরা লাইন কইরা ঢুকাল্ম আর ঢুইকাই লাইন ভাইঙ্গা কে যে কুন্দিক দৌড় দিল। আমাগো হলের নাম ছিল “থ্রিল”। মাগার কুন থ্রিল ই খুইজা পাইতাসিলাম না। পরে সেই গোলক ধাঁধা মার্কা করিডর এর কুন চিপা ছুপা দিয়া পাইলাম আর দৌড়াইতে দৌড়াইতে ঢুকলাম।

সিনেমার নাম ছিল “Transporter Refueled”. ভালাই লাগসে। তয় জেসন স্ট্যাথাম ছাড়া আর কাউরে এ জায়গায় একশত ভাগ মিলা গেসে লাগে না। সিনেমার মধ্যে কুন ডিপ থোট দেওনের বালাই নাই। দেখলাম, মজা লাগলো, ভুইলা গেলাম ক্যাটাগরির সিনেমা। নায়িকা গুলা সন্দর আসিল। সব চেয়ে ভালাল্গসে প্লেন ওলা সিন টা। আহা। একটা বিজনেস জেট কনফিগারেশন এর বোয়িং ৭৩৭ আসে। সেইটা ৩০০ না ৪০০ সিরিজের অবশ্য ধরতে পারি নাই।

মুভি দেখনের পর আমরা বেজমেন্ট এ নামসি গাড়ি তে উঠতে আর মুগ্ধ ওর গাড়ি হারাইয়া ফালাইসিলো। ফুতুর পার্ক এর পারকিং বিশাল কিন্তু পার্কিং এর নাম্বার গুলা কনফিউজিং। মুগ্ধ যেই জায়গায় গাড়ি রাখসিল তার নম্বর আসিল পি ওয়ান হেইচ টুএনল্ভ। কিন্তু ফুতুর পার্ক ওয়ালা তামশা কইরা আবার বেশ কয়েকটা জোন করসে ভিত্রে। গ্রিন জোন, রেড জোন ইত্যাদি। কুন কালারে যে রাখসে তা তো কারো মনে নাই। পরে আমরা গাড়ি ঢুকার গেট এ গেলাম। আর মুগ্ধ রে বললাম এইবার মুখ দিকে ভ্রু ভ্রু আওউয়াজ করতে করতে ভাব, কেমনে চালাইয়া আইসা কই রাখসিল।

একটু খুইজা দেখা গেল গাড়ি জায়গা মতই আসে। আমরা মুগ্ধর গাড়ি তে কইরা নর্থ এন্ড এ আইসিলাম কফি খাইতে। ওই খানে আবার মহান রাশা আমাদের সাথে জয়েন করসিল। আমি তো কথা বার্তা কম কই, তয় ওদের কথা শুইনা মনে হইসে ওরা আড্ডা টা বেশ ভালা পাইসে।

মন ভাল ছিল না। মন অন্ধকার ছিল। হঠাত কইরা চাঁদ উইঠা সব ঠিক ঠাক করে দিসে।

২১২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৫ 

আমার ঈদ এর ছুটি শেষ। কালকে থেইকা অফিস আবার। আবারো রুটিন করে মন খারাপ হওয়া। রুটিন করে মন ভাল হওয়া। চার পাশে বৃত্ত এঁকে দেয়া অসীম এর মধ্যে খুব ভাল আছি ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়া অগভীর রাতেই। সবাই হয়তো কাল্কেই ফিরবে না। প্রথম প্রথম কাজ কর্ম ও কম থাকবে। তারপর একদিন মনে হবে, নাহ, অনেক ছুটি হোলো, এইবার কাজ শুরু করা যাক। তখন আমার মনে হবে, ভ্যাকেশন এ যাওয়া দরকার। কত দিন যাই না।

বাসাবো বাসা থেইকা আসার পর সব কিছু ক্যামন জানি চুপ চাপ লাগতাসে। বাসাবো বাসায় এমন কোণ চিল্লা চিল্লি এর মধ্যে ছিলাম না। পুরা বাসায় সব মিলায়া ৪ জন মানুষ। ৪ জন মানুষ মিল্লা আর কতই বা নয়েজ করবে। কিন্তু তবু মনে হইতাসে চারিদিকে চুপ চাপ। এইটা ফাঁকা ঢাকার জন্যও হইতে পারে ।রাত্রে খাইতে গেলাম যখন হোটেলে, রাস্তা দিয়া হাটতে হাটতে দেখলাম আর বুঝলাম চাদের আলোর চেয়ে সোডিয়াম আলোর ক্ষমতা বেশি । জোঝনা খুব বেশি পাত্তা পুত্তা পাইতাসে না শহর এর কাছে।

ক্যাসপার কেও নিয়া আসছি বাসায়। জান্নাত প্রিয়ম ওকে গোসল টোসল করায়া দিসে। আবার গলায় একটা ঘন্টি ও বাইন্ধা দিসে। ক্যাস্পার যেখাই যাক, টুন টুন আওয়াজ হয়। ক্যাস্পার এখণো বাবু তো, ওর গলায় হইতাসিল না ঘন্টি টা। তাই পেটে বাইন্ধা রাখা হইসে আপাতত। ও যে কি আল্লাদি হইতাসে দিন দিন। গুটি গুটি পা এ হাইটা আসে তারপর ঢুশ কইরা ঘুমায় যায় হাত পা ছড়ায়া আমার বুকের ওপরে।

আজকে বলার মত আর কিছু ঘটে নাই।