১১৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ২২, ২০১৫ । ১১.৩০ পি.এম

ছোটদের প্লেন পরিচিতি – ৪

 

কেমন আছো মিহি?

— ভাল আছি প্যাক প্যাক মামা। তুমি কি আবার প্লেন এর গল্প বলতে এসেছ?

 

আমি তো ওই একটা গল্পই পারি মামা। হ্যাঁ কালকের গল্পটা শেষ হয় নাই যে। আর একটু বাকি আছে।

— ওই যে Fuselage এর গল্প টা না?

 

হ্যাঁ, এই তো তোমার মনে আছে । কতটুক কি বলে ছিলাম বল তো?

 

— বলেছিলা যে আমরা যেটাকে প্লেন এর বডি বলি সেইটাকে আসলে বলে Fuselage । আর Fuselage এ Cockpit থাকে, Landing Gears  থাকে, Wings গুলা লাগানো থাকে Fuselage এর সাথে আর একদম শেষে থাকে প্লেন এর Tail.

 

আরে গুড। এই তো অনেক মনে আছে। ককপিটে কারা থাকে মনে আছে?

— আছে তো । বাম পাশে পাইলট আর ডান পাশে কো পাইলট। বাম পাশের জন সবসময় ওই প্লেন এর ক্যাপ্টেন।

 

ঠিক ঠিক। আর ল্যান্ডিং গিয়ার?

— ওইটাও মনে আছে। ল্যান্ডিং গিয়ার দুই প্রকার। সামনে যেটা থাকে সেটার নাম Nose Gear আর Fuselage এর মাঝামাঝি তে যেটা থাকে সেটার নাম Undercarriage.

 

 

ভেরি গুড মিহি গার্ল। আমাদের Fuselage এর গল্প টা প্রায় শেষ। আসো আমরা দেখি Fuselage এ আর কি কি থাকে। এই দেখো

 

— ওয়াও। কত্ত নতুন দাগ দাগ আর লেখা লেখা। আরো তো কঠিন হয়ে গেল মামা।

 

একটু তো হবেই। আমরা আগাচ্ছি না? আচ্ছা কঠিন লাগলে কি করতে হয় বলেছিলাম?

— ছোট ছোট জিনিষ গুলার দিকে মনযোগ দিতে হয়। তাহলে পুরা বড় জিনিষ টা সোজা হয়ে যায়।

 

ইয়েস। তাহলে আমরা ছোট ছোট জিনিষ গুলা দেখি। ককপিট এর পিছনে প্লেনে ঢুকার একটা দরজা থাকে যাকে বলে Passenger Door। এরকম দরজা পিছনের দিকেও থাকতে পারে  যদি প্লেন টা একটু বড় হয় আর সেইটা হয় তখন প্লেন এর Rear Door।

— দরজার কত নাম। আর আমরা যে বসেছিলাম ওইটাকে কি বলে মামা?

 

ওইটাকে বলে Passenger Seating Area. এই এরিয়াটা দুই রকম হইতে পারে। যদি শুধু মাঝখানে একটা হাটার জায়গা আর দুই পাশে বসার সিট থাকে  তাহলে সেই প্লেন টাকে বলে Single Aisle(আইল) Aircraft. আর যদি দুইটা বা তার বেশি হাটার জায়গা বা Aisle (আইল) থাকে তাহলে সেই প্লেন টা কে বলে Wide Body Aircraft ।

— আর মা যে আমাদের ব্যাগ গুলাকে উপরে রেখেদিয়েছিল অগুলা কে কি বলে মামা?

 

অগুলে বলে Over Head Storage । যাত্রীবাহী প্লেন এ দুই রকমের স্টোরেজ এরিয়া থাকে। এক হইল এই Over Head Storage. যেগুলাতে যাত্রীদের হাতে বহন করা হাল্কা জিনিষপত্র রাখা হয়। আর আরেকটা হল Baggage Compartments। যেইটা থাকে Fuselage এর নিচের দিকে। ছবি তে দ্যাখো।

— কত কিছু থাকে এক টা মাত্র প্লেন এ। আর মামা প্লেন এর বাইরের একটা জানালায় চারকোনা দাগ দেয়া ছিল আর লেখা ছিল Emergency Door. ওইটা কি?

 

ওইটা হইল প্লেন যদি কোন বিপদে পরে তাহলে অগুলা নিজে নিজেই খুইলা যায় আর যাত্রীরা যাতে নিরাপদে বের হয়া আস্তে পারে।

— এগুলা কি একটাই থাকে মামা ?

 

না না। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে একটা প্লেন এ যাত্রী সংখ্যার অনুপাতে Emergency Door থাকতে হয়। যাত্রী বেশি হলে Emergency Door  বেশি থাকবে। সে জন্য একটা Boeing 737-800 এর চেয়ে একটা Boeing 737-900 এ Emergency Door বেশি থাকে যদিও দুইটাই B737।

— এগুলা কি বল মামা? আমি ত ছোট একটা। এই সব হিবিজিবি বুঝি না তো।

 

বুঝে যাবা তো মামা। আমি আছি না? টু স্পয়েল ইউ 😀 যাই হোক, Fuselage এ আরো থাকে Toilet। তারপর থাকে প্লেন এর ক্রু দের কাজ এর জিনিশ, যাত্রীদের জন্য খাবার,কম্বল,ওষুধ ইত্যাদি রাখার যায়গা যেটার নাম হল Galley.

 

Fuselage নিয়া গল্প এইটুক ই। এর পর Wings আর Wings এ কি কি থাকে সেইটার আলাপ করব নে, আচ্ছা?

–ইয়েই। Wings । আচ্ছা মামা। বা বাই ।

 

বা বাই মিহি কলিজা টা ।

১১৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ২১ ২০১৫ । ১০.৫৮ পি.এম

ছোটদের প্লেন পরিচিতি – ৩

 

ও মিহি, আগের দিন আমরা কি কি শিখেছিলাম মনে আছে?

— মনে আছে তো প্যাক প্যাক মামা। আগের দিন শিখেছিলাম সব প্লেন দেখলেই তিনটা জিনিষ বাইর কইরা ফালানো যায়।

 

বাহ, গুড । বল তো তিনটা জিনিষ কি?

— Fuselage, Wings আর Tail। আর এই ছবিটা দেখেছিলাম

ওয়াও, ভেরি গুড। আজকে আমরা তাইলে আরেকটু ভিতরে ঢুকি?

— আমরা প্লেন এর ভিতরে ঢুকবো? উউউউউউ। তাহলে ওহিকেও নিয়ে আসি।

 

হি হি, আচ্ছা নিয়ে আসো। আমরা আসলেই আজকে প্লেন এর ভিতরে ঢুকব। মানে আজকে আমরা Fuselage এর ভিতরে ঢুকবো, আর দেখব Fuselage  এ কি কি থাকে।

— উফ। Fuselage এ কি কি থাকে মামা?

 

বলতেসি মিহি। তুমি আগে এই ছবি টা দ্যাখ।

— ওয়াও। কি সুন্দর লাল প্লেন।

 

 

হ্যাঁ। সাদা লাল। ডিসি টেন এর কালার স্কিম 🙂

— ডিসি টেন কি মামা?

 

ডিসি টেন আমার একটা প্রিয় প্লেন। তোমাকে আরেকদিন বলবো নে ডিসি টেন এর গল্প। আজকে শুধু Fuselage এর গল্প বলি।

— আচ্ছা বল। একদম প্রথম থেকে বলবা কিন্তু ?

 

প্রথম থেকে বলব তো মিহি বেবি। Fuselage এর একদম শুরু তে থাকে Cockpit. এইখানে পাইলট রা বসে।

— আর ককপিট এর জানালা থাকে আমি দেখেছি। আর ককপিট এর নিচে চাক্কা থাকে। চাক্কাটা প্লেন উড়ে গেলে ঠুশ করে ভিতরে ঢুকে যায়।

 

একদম ঠিক। ককপিট এর বাইরে যে জানালা থাকে সেটাকে বলে Windshield.

— Windshield তো আমাদের গাড়ির ও আছে মামা।

 

হ্যাঁ। উইন্ডশিল্ড যে কোন কিছু তেই থাকতে পারে তো। আর ককপিটের ভিতরে তুমি যদি দাঁড়াও আর Windshield এর দিকে মুখ করে দাঁড়াও তাহলে দেখবা যে দুই জন পাইলট বসে আছে। একজন বাম পাশে। একজন ডান পাশে।

— দুইজন পাইলট কেন মামা? আর দুইজন ই কি পাইলট? নাকি একজন পাইলট আর একজন তার ফ্রেন্ড?

 

নাহ। দুই জন ই পাইলট। প্লেন চালানো ব্যাপারটা কত ইম্পরট্যেন্ট ব্যাপার না? কত মানুষ, কত তাদের মালপত্র। কোন ভুল হলে বা একজন যদি অসুস্থ হয়ে যায় চালানোর সময় তাহলে কত অসুবিধা হবে না?

— হু হু। হবে তো। এই পাইলট দের কি বলে মামা? রোল ওয়ান আর না রোল টুঁ?

 

 

হি হি। না । তুমি যদি ককপিট এর ভিতরে Windshield এর দিকে মুখ করে দাড়াও, তাহলে বাম পাশের জন হল ক্যাপ্টেন, আর ডান পাশের জন হল কো পাইলট। কো পাইলট একজন ফার্স্ট অফিসার ও হতে পারেন আবার একজন ক্যাপ্টেন ও হতে পারেন। এইটা ডিপেন্ড করে কে কত সিনিয়র, কার পদবী কি তার উপর।

— ও বুঝসি। আর নিচের চাক্কা টা?

 

নিচের চাক্কাটা একটা Landing Gear মামা। ওইটার নাম Nose Gear

— Landing Gear, Nose Gear এগুলা কি প্যাক প্যাক মামা?

 

Landing Gear হল প্লেন এর সাথে লাগানো চাক্কা, যেগুলা প্লেন যখন মাটিতে থাকে তখন প্লেন যাতে চলা চল করতে পারে তখন কাজে লাগে।

— আচ্ছা প্যাক প্যাক মামা, এটা কে Landing Gear বলে কেন? প্লেন তো টেক অফ ও করে। Take Off Gear বলে না কেন?

 

ভাল কথা জিজ্ঞেস করসো তো। এইটার একটা ইতিহাস আছে। প্রথম প্রথম যখন প্লেন আবিষ্কার করার ট্রাই করতেসিল মানুষ, তখন তো ল্যান্ডিং গিয়ার বলতে কিছু ছিল না। ইনফ্যাক্ট রাইট ব্রাদারস দের প্লেন The Wright Flyer এও কোন ল্যান্ডিং গিয়ার ছিল না। কিন্তু মানুষ দেখলো যে প্লেন গুলা উঁচু কোন যায়গা, পানিতে ভাসা বড় নৌকা, ঢালু প্ল্যাটফরম ইত্যাদি থেকে টেক অফ করানো গেলেও নামার সময় মাটির সাথে লেগে Fuselage এর ক্ষতি হয়। তাই এক জন বুদ্ধি করে Fuselage এ চাক্কা লাগায় দিল আর নাম দিল Landing Gear. ব্যাস এর পর থেকে নাম হয়ে গেল Landing Gear.

— এখন বুঝতে পারসি মামা। তাইলে ককপিট এর নিচে থাকে একটা Landing Gear । আর Fuselage এর মাঝখানের জায়গায় মানে Wings এর কাছে থাকে আরো দুইটা ল্যান্ডিং গিয়ার?

 

 

এই তো বুঝতে পারসো। তাইলে আমরা বুঝলাম যে প্লেন এর ল্যান্ডিং গিয়ার দুই প্রকার। Under carriage আর Nose Gear । ককপিট এর নিচের চাক্কাটা কে বলে Nose Gear. ।. আর প্লেন এর মাঝা মাঝি পাখার কাছে যেটা থাকে সেটা কে বলে Under Carriage । কিছু প্লেন এ Under Carriage টা Wings এও লাগানো থাকে Fuselage এর ভার কে ব্যালেন্স করার জন্য।

— তুমি কত্ত কিসু বলে ফেলছো। আজকে আর এই গল্প শুনবো না মামা। সব ভুলে যাব নাহলে।

 

আচ্ছা ঠিক আসে। আজকে এইটুক ই থাক। শুধু বল যে আজকে আমরা কি কি শিখলাম?

— আজকে তো আমরা অনেক কিছু শিখলাম। Windshield, Cockpit, Captain, Co Pilot, First Officer, Nose Gear, Under Carriage আর Landing Gear

 

 

 

ভেরি গুড মিহি বাবুটা 🙂

১১৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ২০, ২০১৫ । ১১.০৩ পি.এম

ছোটদের প্লেন পরিচিতি – ২

 

আচ্ছা মিহি বলতো, একটা প্লেন এ কি কি থাকে?

— এটা তো সোজা। প্লেন এ তো লাইট থাকে, আনটিরা থাকে, আন্টিরা আমাকে ছবি আঁকার জন্য ক্রেয়ন দ্যায়, তারপর খেতে দ্যায়। আর মা থাকে, বাবা থাকে। তারপর জানালা থাকে জানালা। তারপর টয়লেট থাকে। মা বলছে এতবার টয়লেট এ গেলে পাইলট আংকেল বকা দিবে।

 

ঠিক। কিন্তু এগুলা তো প্লেন এর ভিতরে থাকে। প্লেন বাইরে থেকে কেমন আর প্লেন এর বাইরের কুনটাকে কি বলে তুমি জান?

— আমি তো জানি না প্যাক প্যাক মামা। আমাকে একটু শিখায় দিবা?

 

শিখাবো তো। এই দেখো জেট প্লেন এর বাইরে থেকে যা দেখা যায় সেগুলার নাম

— ইইইইই। এত কত হিবিজিবিজিবিজিবই। এগুলা  আমি শিখবো না। এগুলা কঠিন।

তুমি কি জান? আমি যখন প্রথম বার দেখসিলাম, তখনো মনে হইসিল এগুলা কেমনে মনে রাখবো, এত্ত কিছু? কিন্তু একটা জিনিষ বুঝতে কঠিন লাগলে কি করতে হয় জান?

 

— কি করতে হয় মামা?

তখন জিনিষ টাকে মনে করতে হয় অনেক গুলা ছোট ছোট জিনিষ দিয়া বানানো। তারপর ছোট ছোট জিনিষ গুলা শিখা শুরু করতে হয়। অগুলা তো ছোট, তাই শিখাও সহজ। এগুলা শিখা হইলে তারপর দেখবা এখন পুরা জিনিষটাই পারো। আর একটুও কঠিন লাগবে না তখন।

 

— আমরা কি প্লেন ও এইভাবে শিখবো মামা?

হ্যাঁ। আমরাও এই ভাবেই শিখবো তো। প্রথমে মুল জিনিষ টা শিখব, তারপর প্রত্যেকটার আলাদা আলাদা ডিটেইল শিখব।

 

— ডিটেইল মানে কি প্যাক প্যাক মামা?

ডিটেইল মানে হইল বেশি বেশি কথা। প্রথমে আমরা প্লেন নিয়া কম কম কথা শিখব। তারপর কম কম কথা ভাল ভাবে শিখা হইলে বেশি বেশি কথা শিখব , আচ্ছা?

 

— আচ্ছা। এখন আমাকে প্লেন শিখাও

শিখাবো। তুমি আগের ছবিটা দেখসিলানা?

 

— হ্যাঁ এ এ। ওই  যে হিবিজিবি হিবিজিবির মাঝখানে একটা কমলা কালার এর প্লেন।

ঠিক। ওই ছবিটাই। আমি ওইটা থেকে বেশি বেশি কথা গুলা বাদ দিয়ে দিসি আর কম কম কথা রাখসি। এখন দ্যাখ ছবিটা

 

 

— হ্যাঁ, এখন তো হিবিজিবি আর নাই। শুধু প্লেন টা আর তিনটা লেখা।

তুমি ঠিক বলেছ মিহি। তুমি ইংলিশ পড়তে পার? বলত এখন প্লেন টার চারদিকে কি কি লেখা

 

— আমি পড়তে পারি তো। এইখানে লেখা Fuselage, Wing আর আমমম Tail

ভেরি গুড মিহি। এই তো পেরেছ। একটা প্লেন এর এই তিনটা অংশ থাকবেই। তাই এই তিনটা অংশই প্লেন এর মুল অংশ বলা যায়। Fuselage, Wing আর Tail. বাকি যা আছে সব এই তিনটার সাথেই/ভিতরেই/নিচেই/উপরেই লাগানো হয়।

 

— ইয়েএএএই, আমি প্লেন এর তিনটা জিনিষ শিখে গেছি। Fuselage, Wing আর Tail।

তুমি তো গুড গার্ল , সে জন্য শিখে গেছো। আরেকদিন গল্প করার সময় আমরা এই তিনটা পার্ট নিয়া আলাদা আলাদা কথা বলব নে। এখন তুমি ঘুমায় যাও।

 

–আচ্ছা প্যাক প্যাক মামা, গুডনাইট

গুডনাইট মিহি বেবি।

১১২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ১৯, ২০১৫ । ৮.৩১ পি.এম

ছোটদের প্লেন পরিচিতি – ১

আচ্ছা মিহি, তোমার প্লেন ভাল্লাগে?
— লাগে তো পেক পেক মামা। আমরা তো অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার সময় প্লেন এ উঠেছিলাম

আমারো প্লেন অনেক ভাল্লাগে। তুমি প্লেন এ উঠে কি দেখেছো?
— জানালা দেখেছি। আর সিটবেল্ট বাধতে হয়, আর আন্টি টা আমাকে ক্রেয়ন দিয়েছিল আকতে।

বাহ। তুমি বড় হয়ে প্লেন চালাতে চাও?
— হুউউ। আমি তো পাইলট হব। আর প্লেন চালিয়ে বাংলাদেশে এসে পরবো

বা বা বা, খুব মজা হবে। তুমি প্লেন দেখেছো বাইরে থেকে?
— দেখেছি তো মামা। আমি আর অহি জানালার কাচটার কাছে গিয়েছিলাম আর দেখেছি তিন্টা প্লেন দাড়িয়েছিল।

আর প্লেন এর পাখা দেখেছো?
— হেএএ। দুইটা পাখা ছিল। এরকম এরকম *দুই হাত দুই দিকে ছরানো*

অফ তোমাকে তো একদম প্লেন এর মত দেখাচ্ছে মামা।
— ওয়াও, আমি প্লেন হয়ে গেছি?

হ্যা, হয়ে গেছো তো। এখন প্লেন এর মত দোউড় দিলেই উড়তে পারবা?
— প্লেন এর মত দোউড় দিলে কি হবে মামা?

তার আগে তুমি বলতো, প্লেন এর পাখা গুলা কি তোমার হাত এর মত গোল গোল নামি চেপ্টা চেপ্টা?
— গোল গোল না তো, পেন্সিল বক্স এর মত চেপ্টা চেপ্টা

ঠিক বলেছো মিহি। ইঞ্জিনিয়ার আংকেল রা আছে না, ওরা তো প্লেন বানানোর সময় এমন ভাবে বানিয়েছে যাতে এই পাখার উপরে বাতাস কম চাপ দ্যায় আর নিচে বেশি চাপ দ্যায়।
— পাখার নিচে বেশি চাপ দিলে কি হবে মামা?

এই দেখো দেখাই। তোমার হাত এর নিচে বেশি চাপ দিয়ে তোমাকে উপরে উঠিয়ে ফেল্লাম। আবার হাত এর উপর বেশি চাপ দিয়ে নিচে নামিয়ে ফেল্লাম।
— হি হি, আবার উঠাউ আবার

অরে এত শক্তি নাই রে, বুড়া হইতাসি না। তাইলে এখন তুমি বল, প্লেন এর পাখার নিচে বাতাস বেশি চাপ দিলে কি হবে?
— প্লেন উপরে এ এ উঠে যাবে

এইতো বুঝে গিয়েছো। গুড গার্ল। এই ভাবে পাখা বা Wings এর উপর বাতাস এর চাপ বা Wind Pressure এর কম বেশি করার কারনেই প্লেন উপরে উঠে আর নিচে নামে
— কিন্তু মামা, প্লেন তো সাম্নেও যায়। তখন কি করে?

কেন প্লেন এর চাক্কা আছে না? প্লেন এর ইঞ্জিন ঘুরে আর চাক্কা ঘুরে আর প্লেন সাম্নে যায়। :p
— কিন্তুউউ, আকাশে উঠে গেলে তো চাক্কা থাকেই না, তখন কিভাবে সামনে যায় মামা?

প্লেন এর Wings এর নিচে দুইটা গোল গোল ইঞ্জিন লাগানো দেখেছিলা?
— দেখেছি তোওওও। এক্টা প্লেন এ চারটাও লাগানো ছিল। ভিতরে ফ্যান এর মত। আর এক্টা প্লেন এর পাখার নিচে দুইটা আর লেজের কাছে এক্টা লাগানো ছিল। আর এক্টা প্লেন এ ফ্যান দুইটা দেখা যাচ্ছিল। আম্মু বলেছে অগুলার নাম প্রপেলার।

বাহ, ভেরি গুড মিহি। তোমার আম্মুর মাথা খারাপ হইলেও মানুষ ভাল দেখি। তুমি ঠিক দেখেছ। অগুলাই প্লেন এর ইঞ্জিন। কিছু দেখতে গোল গোল, ভিতরে ফ্যান এর মত। এগুলা কে বলে জেট ইঞ্জিন আর কিছু হইল প্রপেলার। এক এক প্লেন এ এক এক রকম ইঞ্জিন থাকে। কিছু প্লেন এ এক্টা প্রপেলার ইঞ্জিন থাকে, কিছু প্লেন এ দুইটা জেট ইঞ্জিন থাকে। কিছু প্লেন এ চারটা জেট ইঞ্জিন থাকে।
— ইঞ্জিন দিয়ে প্লেন কি করে মামা?

প্লেন করে কি চলার সময় অনেক জোরে জোরে ইঞ্জিন ঘুরায়। তাতে সাম্নের বাতাস টান দিয়া নিয়া আইসা ইঞ্জিন এর পিছন দিক দিয়া বাইর কইরা দ্যায়। নিউটন নামে এক্টা আনকেল এর কথা বলসিলাম মনে আছে?
— মনে আছে তো, আপেল খায় যে খালি

হি হি, আপেল খায় না তো। আচ্ছা যাই হোক উনি তো অনেক কিছু বলে গেছেন। এক নাম্বার, দুই নাম্বার এরকম অনেক কথা। তার মধ্যে তিন নাম্বার কথা হইল, উনি বলে গেছেন যে, তুমি যদি কিছু তে ধাক্কা দাও তাইলে উল্টা দিক থেইকাও এক্টা সমান ধাক্কা আসবে
— অই জন্যই তো অহি আমাকে মারলে আমিও অহি কে মারি। কিন্তু আমি তো আস্তে মারি। অহি তো আমার ছোট বোন, সে জন্য

সবাই তো তোমার মত লক্ষী মেয়ে না মিহি। প্লেন এর ইঞ্জিন ও না। আর বাতাস ও তোমার মত লক্ষী না। সে জন্য বাতাস যখন অনেক জোরে ইঞ্জিন এর পিছন দিক দিয়া বের হয় তখন সে সমান সমান ধাক্কা ইঞ্জিন কেও দ্যায়। আর ইঞ্জিন তো প্লেন এর সাথে লাগানোই। তাই প্লেন ও সাম্নের দিকে আগায়।
— উহু প্লেন ও লক্ষী তো। আমি আর প্লেন দুইজন ই লক্ষী আচ্ছা?

আচ্ছা। মিহি আর প্লেন আর দুইজন ই লক্ষী। তো এই লক্ষী প্লেনটাকে প্লেন এর ইঞ্জিন রানওয়ের উপর দিয়ে দৌড়ায় দৌড়ায় নিয়ে যায়। এক্টু আগে বলসিনা যে প্লেন এর পাখা ইঞ্জিনিয়ার আংকেল রা এমন ভাবে বানায় যাতে পাখার উপরে বেশি জায়গা আর নিচে কম জায়গা জাইতে হয় বাতাস কে। আর উপরের বাতাস আর নিচের বাতাস গিয়া মিলে পাখার পিছনে। এইটার কারনে পাখার নিচে বাতাসের চাপ বারতে থাকে আর একসময় এই ধাক্কাই প্লেন কে বাতাসে উঠায় ফালায়।
— ইয়েএএএই প্লেন টা উড়ে এ এ গেলোওওও

আজকে এই টুকুই আচ্ছা? প্লেন এর বাকি গল্প আরেকদিন করব নে?
— আচ্ছা পেক পেক মা মা, বাই বাই, লাভিউ মামা।

লাভ ইউ টু বাচ্চাটা 🙂

১১১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ১৮, ২০১৫ । ১১.১৬ পি.এম

এই নোট লেখা শুরু করলাম সি এন জি তে বইসা। কুন জীবনে বাসাবো পৌছামু আল্লায় জানে। চাক্কা এক ঘুরান্তি দিতে না দিতেই জ্যাম। হা কইরা এক দফা ঘুম ও দিয়া ফালাইসি। উইট্টা দেহি জেই বিলবোর্ড টা সি এন জির সাম্নে ছিল ঐ টা এখন সাইডে আইসে। তাই আবার ঘুম আহনের আগে ভাব্লাম লেখা লেখি করা যাক।

বাসাবো যাইতাসি প্রথম ইফতার টা একসাথে করতে। বাবা, আম্মা অপেক্ষা কইরা থাকে। ভইন ও দেশে নাই। যাই এক্টু।

রেডিও তে খেলা শুন্তাসি। মনে হইতাসে বাংলাদেশ আজকে জিত্তা যাইব।

সি এন জি অলা মামায় স্কোর জিগাইল। পাশের রিকশার চাউলের বস্তার উপ্রে বইসা থাকা ছেলেটাও জিগাইল, তার রিকশা ওলাও বেশ এক্সাইটেড। আমি, সি এন জি মামা, রিকশা মামা আর বস্তা মামা মিল্লা “বারত আজকে হারবে” বিষয়ে আলাপ আলুচনা করলাম।

বাসায় আসছি। আম্মা দেখি খুবি বিপদে আসে। খেলাও চলে আবার জি বাংলার সিরিয়াল ও চলে। বেচারি দুই টার ব্রেক এর মধ্যে সিনক করার ট্রাই করতাসে অনেক। আমি আইসা সেই সমস্যার সমাধান করসি। জি বাংলা দেখাই অফ কইরা দিসি। উনার এক্টু মুন্টুন খারাপ হইসে।

টাইগার রা, আমার আম্মার জন্য এক্টু জিত্তা ফেল তো আজকে।

১১০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ১৭, ২০১৫ । ১০.২২ পি.এম

এয়ারবাস কোম্পানির তৈরি করা প্রথম প্লেন ছিল Airbus A300। একটা প্লেন এর তৈরি হওয়ার ডেট আর সেইটা কমারশিয়ালি ফ্লাই করার ডেট এক না। প্রথম টা মেনুফেকচারার বানায় যাতে হেইডা দেখাইয়া এয়ারলাইন্স গুলা থিকা অর্ডার আনতে পারে। তারপর অর্ডার মত বানানির পর প্রথম যেদিন সেইটা আকাশে উড়ে সেইটা ওই জাত এর প্লেন এর অপারেশন এ আসার ডেট।

A300 বানানি শেষ হইসে ১৯৭২ সালে আর কমার্শিয়াল সার্ভিস এ আসছে ৩০শে মে, ১৯৭৪। প্রথম কাস্টময়ার এয়ার ফ্রান্স। আর হইবই না ক্যান। এয়ারবাস কোম্পানির এর জন্মই তো ফ্রান্স এ। ২০০৭ এর জুলাই মাসে Airbus A300 আর বানানই হইব না বইলা ঘোষণা করে এয়ারবাস। অর্থাৎ এখন জেডি চলতাসে চলুক। আর বানানোর দরকার নাই। এইটা যখন বাজারে আসে তখন এর কম্পিটিশন দারাইসিল DC-10, Tristar এদের সাথে। উহারা কেউই এখন আর জীবিত নাই।

আমি বাংলাদেশে A300 আস্তে দেখসি কেবল মাত্র একটা এয়ারলাইন্স এর। সেইটা হইল কুয়েত এয়ারলাইন্স। আগে যখন অনেক ভোরে চোখ মুছতে মুছতে স্পটিং এ যাইতাম তখন দিন্ডা শুরুই হইত কুয়েত এয়ারলাইন্স এর A300 দিয়া। তিনটা রেজিস্ট্রেশন আস্তো। 9K-AMA, 9K-AMB ar 9K-AMC

A300 এর একটা প্রধান বইশিষ্ট হইল এইটা দুনিয়ার প্রথম দুই ইঞ্জিন এর ওয়াইড বডি এয়ারক্র্যাফট। ওয়াইড বডির সংজ্ঞা তো আগে একটা লেখায় দিসি, তবু বলি, যে প্লেন এ সিট এর দুই পাশে রাস্তা থাকে অর্থাৎ ডাবল আইল থাকে তারে বলে ওয়াইড বডি এয়ারক্র্যাফট। A300 দুনিয়ার প্রথম প্লেন যার এক একটা পার্টস এয়াবাস কোম্পানির বিভিন্ন পার্টনার দেশে তৈরি হইসে। তারপর আইন্না সব জুরা লাগানি হইসে। এমনে কইরা এয়ার বাস কোম্পানি হিসান কইরা দেখাইসে যে এক জায়গায় উথপাদন করলে যেই খরচ, এক এক পার্টস এক এক দেশে থিকা বানায়া আইন্না জুরা লাগাইলে তার থেইকা কম পরে।

A300 এর কয়েকটা ভ্যারিশন আসে। এগুলা হইল, A300B1, A300B2, A300B4, A300-600 আর A300F

A300 সব মিলায় প্রায় ২৬৬ জন যাত্রী নিতে পারে। আর এর রেঞ্জ হইল ফুল্লই লোড অবস্তায় সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার এর মত (৭৫৪০ কিমি)। এয়ারক্র্যফট এর রেঞ্জ মানে একবার ফুয়েল লইলে এইডা কদ্দুর যাইতে পারে তার পরিমাণ।

আর ইচ্ছা করতাসে না লিখতে। এদ্দুর ই থাক । আরো জানতে চাইলে গুগল করা লাগবে। থাক, গুগুলেত্তে বেশি না বুঝি।

১০৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ১৬, ২০১৫ । ১১.২৩ পি.এম

প্যারিস এর Le Bouret এ গতকাল থিকা শুরু হইসে International Paris Air Show 2015 এই শো চলব এই মাসের ২১ তারিখ পর্যন্ত। মজার জিনিষ হইল এই প্যারিস এয়ার শো এর সাথে Airbus কোম্পানি ফর্ম হওয়ার একটা বড় সম্পর্ক আসে। আগের লেখা গুলায় আমি বোয়িং এর ইতিহাস এর গল্প বলসি। বোয়িং এর একটা প্লেন, বোয়িং ট্রিপল সেভেন নিয়াও বলসি। মার্কেটের ২য় প্লেয়ার এয়ারবাস নিয়াও বলা দরকার মনে করতাসি। তাইলে তারপর এয়ারবাস এর প্লেন গুলা নিয়া নিয়াও একে একে লেখা যাবে।

এয়ারবাস এর ইতিহাস বলা শুরু করার আগে একটা সাধারণ কনফিউশন দূর করা ভাল। অনেকে মনে করেন এয়ারবাস একটা এয়াক্রাফট এর টাইপ। বিদেশ ফেরত একজন কে জিজ্ঞেস করসিলাম, সে কোন এয়ারক্র্যাফট এ দেশে আসছে? উনি বলসিলেন, কি জানি, বাস এর মত সিট, এয়ারবাস? আমি তারপর আরো কিছু টুক টাক প্রশ্ন কইরা বাইর করসি যদিও কোন এয়ারক্র্যাফট কিন্তু ঘটনা টা মনে রাখসি। উনি পারে নাই দেইখা আমার বিন্দুমাত্র উপহাস আসে নাই উনার প্রতি। এইটা খুবি স্বাভাবিক। নীলক্ষেত এ ফিসিক্স এর বই বেঁচে এরম কাউরে যদি আমি জিগাই, আচ্ছা বলেন তো CERN এর Large Hadron Collider এর কাজ কি? আর উনি যদি না পারে তাইলে বেকুব কে? উনি না আমি? তাই এয়ারবাস বিষয়ক কনফিউশন দূর করা আমার পবিত্র দায়িত্ব। এইটা পইড়া কারো কনফিউশন দূর না হইলে সেই দোষ পুরাপুরি আমার লেখার।

যাই হোক, এয়ার বাস হইল ইউরোপের কয়েকটা বড় বড় প্লেন বানানোর কোম্পানির একটা কনসরটিয়াম। মানে হইল গিয়া ইউরোপ এর কিছু কোম্পানি এক সাথে হয়া টেকা টুকা ইনভেস্ট কইরা একটা সমিতি মত কইরা বিরাট বিরাট কিছু প্রজেক্ট রান করায়া বিরাট কিছু প্লেন তৈরি করসে, যা কিনা একা তৈরি করার মত সামরথ ছিল না কারো। এই সমিতি বা ভদ্র ভাষায় কনসরটিয়াম এর নাম ই “Airbus Company”

১৯৫৯ সালের দিকে Hawker Siddeley নামের একটা কোম্পানি একটা যাত্রীবাহী বিমান এর ডিজাইন প্রস্তাব করে। বিমান এর নাম মাশাল্লাহ বিশাল। Armstrong Whitworth AW.660 Argosy। বোয়িং ৭৪৭ এর সাথে ককপিট টার মিল আসে কিন্তু। এইডা মূলত মিলিটারির অনুরধে ট্রান্সপোর্ট প্লেন হিসাবে ডিজাইন করা হইলেও Hawker Siddeley একটা ডিজাইন প্রেসেন্টেশন কইরা দেখান যে যদি কয়েকটা কোম্পানি এক হয়া এইটারে একতা যাত্রীবাহী বিমান হিসাবে বানায় তাইল এইখানে ব্যাবসা আসে।

১৯৬৫ সালে প্যারিস এয়ার শো চলাকালীন সময়ে বিমান প্রস্তুতকারক কোম্পানি গুলা ইনফরমালি আলোচনা শুরু করে কিভাবে প্রায় ১০০ যাত্রী বহন করতে পারে এমন বিমান লো কষ্ট এ বানানো যায়।

১৯৬৬ সালে কয়েকটা কোম্পানি এই লক্ষ্যে এক সাথে কাজ শুরু করে। কোম্পানি গুলা হইল, Sud Aviation, later Aérospatiale (France), Arbeitsgemeinschaft Airbus, later Deutsche Airbus (Germany) আর Hawker Siddeley (UK) । তিনটা দেশ এর ফান্ডিং পাওয়ার পর শুরু হয় গবেষণা।

১৯৬৯ সালে ব্রিটিশ রা মনে করে এই প্রজেক্ট এ থাইকা আমাগো ফায়দা নাই। তাই তারা এই বছর ই বাইর হয়া যায়। তাদের শেয়ার গুলা সব কিনা ন্যায় জার্মানি।

১৮ই ডিসেম্বর ১৯৭০ সালে এয়ারবাস কোম্পানি অফিসিয়ালি তার যাত্রা শুরু করে।এর পিছনে চালিকা শক্তি হিসাবে ছিল তিন টা দেশের সরকার। ফ্রান্স, জার্মানি আর ইউ কে। এয়ারবাস তখন একটা নন অফিশিয়াল টার্ম ছিল, যা কিনা তখন কার লোকেরা ছোট ছোট প্লেন বুঝাইতে হেল্প করত।

এয়ারবাস এর প্লেনগুলার মডেল গুলা সব শুরু হয়া 3 দিয়া। A300. A310, A319, A320, A321, A330, A340, A380. এর মধ্যে এয়ারবাস কোম্পানির সব চেয়ে প্রথম প্রজেক্ট ছিল Airbus A300. সেই গল্প আরেকদিন বলব নে।

নেক্সট যেদিন পেলেন নিয়া লিখব সেদিন Airbus er কোন এর প্লেন নিয়া লিখব।

১০৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ১৫, ২০১৫ । ৯.৪৮ পি.এম

আমার শীত কাল পছন্দ না। কন কনে ঠাণ্ডা আমি সহ্য করতে পারি না। শীতকাল শুরুর আগে সন্ধ্যা বেলা যেই ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা বাতাস টা শুরু হয় ওইটার গন্ধ আমার ভিতরে কেমন খালি খালি কইরা দিয়া যায়। মনে হয় এখনি বাসায় যাইতে হবে এখনি। শীতকালের শীত বাদে বাকি এলিমেন্ট আবার আমার ব্যাপক পছন্দ। মুখ দিয়া ধুয়া বাইর হওয়া। সিগারেট খাইতাছি ভাব নিলেও কেউ পাত্তা পুত্তা দ্যায় না যদিও। জানে যে আমি খাই না। তারপর কম্বল। আহা কম্বল। শীতকাল গেলেগাও কম্বল এর প্রতি ভালবাসা শেষ হয় না।

আমার পছন্দ বর্ষা। সবচেয়ে পছন্দ বর্ষা। আমার জন্ম হইসে বর্ষা কালে। তখন আষাঢ় মাস ছিল। আমি যেই রাশি (কর্কট) সেইটা একটা ওয়াটার সাইন। তাই বর্ষা ঋতুর সাথে আমার হাত ধরা ধরি ছোট বেলা থেইকাই। বৃষ্টি নামলে আমার কেমন পাগল পাগল লাগে। আমি আকাশের দিকে হাত বাড়াই, আর আকাশ আমার দিকে মেঘ বাড়ায়।
আজকে পহেলা আষাঢ়। আষাঢ় কে স্বাগত জানানোর মত কিছু করতে পারি নাই। ভাবসিলাম কবি গুরু যেহেতু বলসেন মেঘ নীল বেশ পরা যাক। আলমারি ঘাইটা দেখি সব হয় কালা গেঞ্জি নাইলে লাল গেঞ্জি। আর কুনু কালার এর গেঞ্জি নাই। ডুবুরির মত মাথা ডা চুবাইয়া দিয়া হাত দিয়া সরায় সরায় তলা থিকা একটা নীল মত গেঞ্জি বাইর করলাম। ওইটা পরার পর দেখি উপরে দিয়া সুন্দর ফিট হইলেও মহান গেঞ্জি বুকের নিচে নাইমা শেষ হয়া গেসে। আর আমার সুগোল ভুড়িডা ভারটিকাল গম্বুজ এর অনবদ্য নিদ্রশন সরূপ সামনের দিকে সগর্বে বাইর হয়া রইসে। এই সুডু বেলার গেঞ্জি এই খানে কেমনে আসলো সে এক বিরাট রহস্য। এই ভাবে ত আর অফিস যাওন যায় না। আজকে তাই অফিস যাই নাই। বেক পেইন ছিল। সুজা হয়া বয়া থাকতে পারতামও না অফিস গেলে। তাই ছুটি নিসি।

আষাঢ় মাসের প্রথম দিন ভাল গেসে। হঠাত আষাঢ় মাসটাকে বেশ আশার মাস মনে হইতাসে। যিনি দুয়া করসিলেন, “ভালবাসা তোমার ঘরে বৃষ্টি হয়ে নেমে আসুক” তার দুয়া কবুল হইসে। আমি নামাজ পরা শুরু করসি। উনি তো আমার উপর রহমত কম করেন নাই। উনার কাছে এইবার ফেরত যাই একটু।

পারে লয়ে যাও আমায়…

১০৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ১৪, ২০১৫ । ১১.৫২ পি.এম

বাংলায় ঢাকা বিমানবন্দরের ইতিহাস

৩য় এবং শেষ পর্ব

১৯৬৫ সাল থেকে PIA পূর্ব পাকিস্তান এর বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুট এ Sikorsky হেলিকপ্টার দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। বাংলাদেশের ভিতর এটাই ছিল প্রথম আকাশ পথে কোন এয়ারলাইন্স এর আভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা। এদিকে তেজগাঁও এয়ারপোর্ট এ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে এর উপর চাপ বাড়তে থাকে এবং স্বাভাবিক ভাবেই গ্রাউন্ড হেন্ডলিং, কারগো ইত্যাদি সুযোগ সুবিধা সব রকম চাহিদা পরিপূর্ণ ভাবে পুরন করতে হিমশিম খেতে থাকে।

১৯৬৬ সালে কুর্মিটোলার উত্তর দিক এর জায়গাটা ২য় বিমানবন্দর এর জন্য নির্বাচন করা হয় এবং একটি টার্মিনাল ভবন এবং রানওয়ে নির্মাণ এর জন্য ফরাসি কারিগরি সহায়তায় টেন্ডার আহবান করা হয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তখনো এই রানওয়ে এবং টার্মিনাল ভবন নির্মানাধিন ছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় কিলো ফ্লাইট এবং ইন্ডিয়ান বিমান বাহিনী পাকিস্তানী বাহিনীর বিমান, রসদ ও সেনা চলাচল বন্ধের উদ্দ্যেশ্যে আকাশ পথে যেসব আক্রমণ চালায় তাতে এই নতুন বিমানবন্দর প্রজেক্ট এর অনেক জায়গা আঘাত প্রাপ্ত হয়।

স্বাধীনতার পর দেখা যায় যে এই প্রজেক্ট এর কনসাল্টেন্ট এবং নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রজেক্ট টি পরিত্যাক্ত রেখেই দেশ ত্যাগ করেছেন। এই অবস্থায় স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত ন্যায় এই বিমানবন্দর কেই দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর হিসাবে গড়ে তোলা হবে। এজন্য ফ্রান্স এর Aéroports de Paris নামক প্রতিষ্ঠান কে নতুন কনসাল্টেন্ট হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়।

১৯৮০ সালে এই বিমানবন্দর টির মুল রানওয়ে এবং প্রথম টার্মিনাল ভবন টি নির্মাণ শেষ হয়। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই বিমান বন্দর এর উদ্বোধন করেন। তখন এর নাম করন করা হয়েছিল “Dacca International Airport”

১৯৮০ সালে উদ্বোধন হলেও প্রজেক্ট এর কাজ তখনো পুরোপুরি শেষ হয় নি। পুরো প্রজেক্টটি শেষ হতে আরো তিন বছর লেগে যায় এবং ১৯৮৩ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই প্রজেক্ট এর সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে দেশের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক পটভূমি তে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান কে হত্যা করা হয়। তাই তার স্মরণে ১৯৮৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দুস সাত্তার বিমানবন্দরটির পুনঃউদবোধন করেন এবং এর নাম করন করেন “Zia International Airport”

১৯৯২ সালে টার্মিনাল এরিয়া আরো বড় করা হয় এবং বোর্ডিং ব্রিজ এবং তার ইকুইপমেন্ট যোগ হয় এই বিমানবন্দরে।
২০১০ সালে বিমানবন্দর টির নাম পরিবর্তন করে Shahjalal International Airport রাখা হয়।

২০১২ সালে আমি এই এয়ারপোর্ট এ প্লেন স্পটিং শুরু করি। আপনি যদি আরো ডিটেইল ডাটা সহ ইনফরমেশন চান তাহলে উইকিপেডিয়ার এই পেজ https://en.wikipedia.org/wiki/Shahjalal_International_Airport টা ভিজিট করতে পারেন। ডান দিকে খেয়াল করলে কিছু বিমান এর ছবি দেখতে পারবেন যার অধিকাংশ গুলা এই অধম এর তোলা যা আমার জন্য অনেক গর্বের বিষয়।

১০৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ১৩, ২০১৫ । ৮.০০ পি.এম

আজকে একটা ভাল কাজ করসি। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভারসিটির গলি তে উল্টা পাশ থেইকা আশা এক্টা সি এন জির এক চাক্কা গরতে পইরা এক সাইড কাইত হয়া গেল। ভিত্রে দুই জন নানা আর নানি ছিল। তারা ভয়ে অস্থির। সবাই দেখি দাড়ায় দাড়ায় তামশা দেখে আর সি এন জি অলা কেন দেইখা চালাইলো না তা নিয়া বিজ্ঞ মতামত দ্যায়। সি এন জি দেয়াল এর দিকে কাইত হয়া যাওয়ায় দরজা খুইলা বাইর ও হইতে পারতাসে না।

আমি রিকশা থেইকা নাইমা গিয়া পিছন থেইকা ঠেলা শুরু করলাম।এইটা সিনামা বা গেঞ্জির এড হইলে এক ঠেলা তেই সি এন জি এক হাতে উঠায় ফালাইতাম। আর নাইকা দৌড় দিয়া আইসা চুমা দিত, নাইলে ভাব সাব লয়া ছেন্ডো গেঞ্জি দেখায়া কইতাম “আসল পুরুষের পছন্দ, ছেন্ডো।”

কিন্তু আফসুস। অনেক ঠেলা ঠেলি কইরাও এট্টুও লারাইতে পারলাম না। মজার জিনিষ হইল এক্টু পরে দেখি আরেক্টা ছেলে আইসা ঠেলা ঠেলি তে হাত লাগাইসে। তারপর আরেকজন দাড়িওয়ালা হুজুর। তারপর আরো লোকজন। ভিকারুন্নিসা স্কুল ছুটি হইসিল তখন। কইথিকা স্কুল ড্রেস পরা কতগুলা পিচ্চি আইসা ওরাও ঠেলা শুরু করল। আমরা সবাই মিল্লা সি এন জি টাকে ঠেইলা উঠায় দিলাম। আর সমবেত তামশা দেখক জনতা হাত তালি দিল।

ব্যাপারটা করতে পাইরা ভাল্লাগসে অনেক। কিন্তু ঘটনার এক্টু পর থেইকা প্রচন্ড ব্যাক পেইন শুরু হইসে। এখন লম্বা হয়া শুয়া শুয়া “গ্রেট এরোপ্লেন্স অফ দা ওয়ারল্ড” পড়ি। কাল্কে অফিস যাইতে পারুম কিনা বুঝতাসি না।