২৯১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ১৪, ২০১৬, ৩:৪১ পি এম

আমার পেলেন ওয়ালা সিনেমার কালেকশন – ১১ থেকে ২০
My Aviation Movie Collection – 11 to 20

আমি খুইজা খুইজা পেলেন এর সাথে সম্পর্ক আসে এরকম সিনেমা কালেক্ট করতাসি। এর মধ্যে অনেক দূষ্প্রাপ্য সিনেমাও আছে। প্রতি ১০ টা সিনেমা দেখা শেষ হওয়ার পর একটা পোস্ট করুম ঠিক করসি। এই লিস্ট কোন টপ টেন মার্কা লিস্ট না। জাস্ট আমি যেই সিরিয়ালে সিনেমা গুলা দেখতাসি সেই সিরিয়ালে পোস্ট করা হইল। This list is not in any particular order, just the sequence in which I am watching them


11. The Great Waldo Pepper (1975)

image

12. Amelia (2009)

image

13. Baggage Claim (2013)

image


14. Red Eye (2005)

image

15. One Six Right (2005 Documentary)

image

16. Into the White (2012)

image

17. Dr. Strangelove or: How I Learned to Stop Worrying and Love the Bomb (1964)

image


18. Top Gun (1986)

image

19. The Aviator (2004)

image

20. The Flyboys (2008)

image

২৯০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুন ৮, ২০১৬, ১:৩৮ পি এম

এই নোট গুলা যখন লিখা শুরু করসিলাম তখন আবিয়াইত্তা , আগার্লফ্রেইন্ডা আসিলাম। এখন আমার একটা বউ আছে। নোট আমাকে দিয়েছে গার্লফ্রেন্ড, দিয়েছে বউ। মু হা হা। এখন আমি হুদাই উপদেশ বিতরন এর জন্য এলিজেবল।আমাদের জন্য দু আ করভেন। আমাগো রিচিপশন এখনো হয় নাই। আবার রুজা শুরু হইসে। আমরা বড়ই মনঃ কষ্টে আসি।


যাউকগা, আমার বাপ আমারে কইসে “এইসব ফটোকপি কইরা দিন যাইব না, এইবার সংসারে মন দাও”। আমি মনে মনে ভাবলাম, আমি যহন ক্যামেরা থিকা হার্ডডিস্ক এ ছবি নামাই তখন তো আসলে “ফটো কপি” ই করি 😀 জাউকগা, কি কইতে আইসিলাম আর কি কইতাসি। আসল কথায় আসি।

আম্রা সবাই ফটোগ্রাফার হইতে চাই। কিন্তু ফটোগ্রাফি ব্যাপারটা দুনিয়াতে এখন এত আগায় গেসে যে, এই শিল্পটার সাথে জড়িত আরো অনেক গুলা পেশা তইরি হইসে যেগুলাতে “ফটোগ্রাফার” না হয়াও ফোটগ্রাফির মত সমান মজা, মর্যাদা আর টিয়া ফুইশা ইনকাম করন যায়। আমি কইতাসি না যে ফটোগ্রাফার হয়েন না, কিন্তু ফুটবল খেলার সময় ১১ জন ই জেমুন গোল দ্যায় না, কন্সারট এ সব ব্যান্ড মেম্বার রাও জেমুন গিটার বাজায় না, তেমুন আমাগোর দেশেও এখন হাই টাইম যে আমরা ফটোগ্রাফার এর পাশা পাশি কিছু এই সব লুকজন ও তৈরি করি। এইটা ফটোগ্রাফি গ্রুপ গুলা এই সব স্পেশালিস্ট তৈরি করতে পারে। আবার শুধু এই কাজ গুলার জন্য আলাদা আলাদা কম্পানি হইতে পারে।



ফটো রিটাচার

আপ্নে ফোটশপ খুব ভালা পারেন? আপ্নের মাউসের গুতায় সাধারন ছবিও অসাধারন হয়া যায়? তইলে আপ্নে একটা প্রফেশনাল ফটো রিটাচিং সার্ভিস চালু করেন না কেন? আমরা যারা ফটোশপ অই রম হাই ফাই লেভেলে পারি না, তারা ঠেকায় পরলে আপ্নের সার্ভিস নিলাম। আপ্নে ফটোর ধরন, সংখ্যা, পোস্ট প্রসেস এর মাত্রা ইত্যাদি বিবেচনা কইরা একটা রেট করলেন। কিছু বান্ধা কাস্টমার হইলে কাজ আরও ভাল হইব কারন ততদিন এ আপ্নে জানেন কার কেমন ছবির টেস্ট। অনেকেই আসে যারা বিয়ার ছবি তুইলা আইনা আর অইডি লয়া বইতে মুঞ্চায় না 😛 হেরা ত আপ্নেরে পাইলে চুম্মা দিয়া লয়া লইব। এমুন ও হইতে পারে একটা ট্রেন্ড দারায় যাইব যে “আমি অমুক ভাই রে দিয়া ফটো রিটাচ করাইসি, তুই কারে দিয়া করাইসস?”

ফটো এডিটর

অনেক ছবি তুইলা আন্সেন কিন্তু কুন্টা রাখবেন আর কুন্টা ফালায় দিবেন বুঝতাসেন না? আপনার দরকার ওমুক ফটো এডিটিং কম্পানির হেল্প। এখানে সুল্ভ মুল্যে ভালা ছবি বাছাই কইরা দেওয়া হয় 😛

আশা করি বুঝতাসেন ফটো এডিটর এর কাজ টা কি। বেশির ভাগ ফটোগ্রাফার নিজের ছবি নিজেই বাছাই বা এডিট করে। কিন্তু অনেক সময় এরম দরকার পরে যে বাছাই করার টাইম নাই অথবা বাছাই করার জ্ঞ্যান নাই। তখন ফটো এডিটর এর শরণাপন্ন হইতে পারি। খালি পত্রিকা অপিশেই কেন ফটো এডিটর থাকব? এর বাইরেও থাকতে পারে।

লোকেশন ফাইন্ডার

ইনারা ঘুরতে খুব পছন্দ করেন কিন্তু ফটো লয়া তত মাথা ব্যাথা নাই। এরম কিছু ফ্রেণ্ড আমাদের থাকেই। হয়াই নট আমরা তারে কই যে ভাই, তুমি আইজকা থিকা আমার লোকেশন ফাইন্ডার। তুমার ঘুরাঘুরির খরচা আমি দিমু, তুমি আমারে লোকেশন এর খোজ দা সারচ দিবা। দুইজন এর উপকার হইল।

ফোটো ক্রিটিক

এইটা লয়া কউনের খুব বেশি কিছু নাই। আপ্নে ছবি তুলতে অতো টা আগ্রহি না কিন্তু আপ্নে ফোটো খুব ভাল পড়তে পারেন। আরট, আরট এর হিস্ট্রি এই সব নিয়া আপ্নের জ্ঞ্যান অনেক। একটা ছবি দেইখা আমরা যখন ওয়াও আর জূষ ছাড়া আর কিছু কইতারি না আপ্নে তখন এইটা “মিনিমিলাস্টিক কম্পোজিশন” হইসে না “সুরিএল কালার” হইসে সেইটা চিন্তা করেন… তইলে প্লিজ এই মাসুম (!!) পোলাপান গুলারে একটু দয়া করেন। আপ্নে ওয়ার্কশপ এ আইসা আমাদের “Portfolio Review” কইরা দিয়া জান। আপ্নেরে যথাসাধ্য সম্মানি দেয়া হবে।

ফটো স্কাউট

এদের কাজ হবে দেশের সম্ভাবনাময় ফোটগ্রাফার দের উঠায় নিয়া আসা। তাদের উপযুক্ত গাইড দেওয়া জাতে তারা হতাশ না হয়া ফটোগ্রাফির চর্চা টা বজায় রাখে। অনেকে আসে যারা খুব ভাল ফটো তুলে কিন্তু নিজের কেমেরা নাই। আবার এমন লোক আসে যাদের ক্যামেরা আসে একটা, কিন্সিল খুব শখ কইরা কিন্তু ছবি তুলার টাইম পাইতাসে না। ফটো স্কাউট গো কাজ হইব এই দুই গ্রুপ এর মধ্যে একটা বিশ্বাস এর ক্ষেত্র তৈরি করা। কারন দামি ইকুইপমেন্ট এর ব্যাপার আসে এইখানে।

আমি তো খালি ৫ টা কইলাম। চিন্তা করলে এরুম বহুত বাইর করন যাইব। লাইট ডিজাইনার, কোরিওগ্রাফার, প্রিন্ট স্পেশালিষ্ট ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই খালি ফটো কপি না কইরা এগুলাও এট্টু হন, বহুত মাইন্সের দুয়া পাইবেন, টেকাটুকা তো আসেই।

২৮৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ১৮, ২০১৬, ৯:০৭ পি এম

হয়তো একটি রিভিউ

বুক রিভিউঃ হয়তো একটি প্রেমের উপন্যাস – মারুফ রেহমান।

বইটা পড়া শেষ হইসে অনেক আগেই কিন্তু রিভিউ লিখব লিখব বইলা আর লেখা হয় নাই। ইন ফ্যাক্ট অনেক বার লিখতে বসছি। “নাহ, কিছুই হইতাসে না” বইলা বন্ধ কইরা দিসি। আজকে আমার সীমাহীন আইলসামির মাঝখান দিয়া একটু লেখা লেখির মুড আসছে। তাই ভাব্লাম এক টানে নামায় দেই রিভিউ টা।

বলতে লজ্জা লাগতাসে কিন্তু এইটা আমার পড়া মারুফ ভাই প্রথম বই। এর আগের গুলা কিন্সি কিন্তু “আসেই তো, পড়ুম নে” বইলা বই এর স্ট্যাক এ জমা হইসে, তার পর অন্য বই এর নিচে চুপ চাপ হারায় গেসে। কিন্তু এই বইটা ঠিক রাইখা দেওয়ার মত না। নাম এর মধ্যেই একটা রহস্য আছে। “হয়তো একটি প্রেম এর উপন্যাস” ক্যান? “অবশ্যই একটি প্রেমের উপন্যাস” না ক্যান এইসব ভাবসি। ভাবতে ভাবতে কয়েকদিন ব্যাগ এ নিয়া ঘুরসি। তারপর কোন এক ফজর নামাজ এর পর পড়া শুরু করসি আর পড়া শেষ করসি তিন দিন পর।

এই বইটার গল্পটা ঠিক নাটকে দেখা প্রেম এর গল্প এর মত স্মুথ না। সারাক্ষন ই কেমন একটা অসস্তি লাগে পড়তে পড়তে আবার ঠিক পড়া বাদ দিয়া যাওয়াও যায় না। এর একটা কারন এর চরিত্র গুলা অনেক বেশি বাস্তব। নায়ক টা জোর কইরা চাপায় দেয়া ব্যাড বয় ইমেজ মার্কা না আবার নাইকাটা অনিন্দ্য সুন্দরি জাতীয় ক্রাশ মার্কাও না। ইনফ্যাক্ট নায়ক নাইকা টাইপ ব্যাপার গুলা এদের মধ্যে হইতে হইতেও হয় না। এরা দোষ গুন মিলায় থাকা দুই টা চরিত্র। যাদের মনে হয় আমাদের পরিচিত সার্কেল এরি কেউ।

কাহিনির প্রয়োজনে বেশ কিছু পার্শ্ব চরিত্র আসছে। লেখক খুব কারিশ্মা দিয়া এদের একে একে আন্সেন গল্পের মধ্যে। যদিও বেশ ডার্ক টাইপ এর চরিত্র এক একটা। একটা জমাট উপন্যাস পড়ার সময় মানুষ খুব তাড়াতাড়ি কোনও একটা চরিত্রের মধ্যে নিজেকে খুইজা পায় আর সেই চরিত্রের সাথে মিশা গিয়া আগাইতে থাকে। তার হাসি কান্নায় হাসে কাদে , তার মৃত্যু তে হাহাকার করে।

কিন্তু এই বই পড়তে গিয়া আমি বার বার আইডেন্টি ক্রাইসিস এ পড়সি। যখনি আমার মনে হওয়া শুরু হইসে আরে এতো আমার মত পুরা, তখনি কাহিনী পল্টি খাইসে আর আমি “দুরু, এরম করলো ক্যান” মনে কইরা অন্য চরিত্রের দিকে মনোযোগ দিসি। আমার মনে হয় এইটা মারুফ ভাই ইচ্ছা কইরা করসে। যাতে কোন একটা চরিত্রের প্রতি আমরা স্বার্থপর না হয়া যাই আর সেই চরিত্রের আমাদের ইচ্ছা মত কিছু না করতে পারার ব্যার্থতায় উপন্যাস টাই যাতে ব্যার্থ না হয়া যায়।

এই বই এর যে জিনিষ টা খারাপ লাগসে তা হইসে এর শেষটার আগের যায়গাটা। যেইখানে সাধারনত লেখকরা সব পাকানো জট ছাড়ায় দিয়া পাঠক কে সব প্রশ্নের উত্তর দ্যান এবং তারপর উপন্যাস ধাবিত হয় তার নাটকিয় একজিট এর দিকে। কিন্তু এই উপন্যাস এর শেষ এর দিকে আইসা আমার মনে হইসে মারুফ ভাই অনেক তাড়াহুড়া কইরা শেষ কইরা দিসেন। এই শেষ টা আরেকটু লজিকাল, আরেকটু মাখায় মাখায় শেষ করলে মনে হয় আরো ভাল লাগতো।

সব মিলায় ইহা একটি ভাল উপন্যাস। এইটা পইড়া লেখকের বাকি বই গুলাও পড়নের ইচ্ছা হইসে। দেখি শইল্ডারে বুব থুক্কু বুক শেলফ এর দিকে নিতে পারি কিনা।

২৮৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ মে ২, ২০১৬, ৬:৩৪ পি এম

আমার পেলেন ওয়ালা সিনেমার কালেকশন – ১ থেকে ১০
My Aviation Movie Collection – 1 to 10

আমি খুইজা খুইজা পেলেন এর সাথে সম্পর্ক আসে এরকম সিনেমা কালেক্ট করতাসি। এর মধ্যে অনেক দূষ্প্রাপ্য সিনেমাও আছে। প্রতি ১০ টা সিনেমা দেখা শেষ হওয়ার পর একটা পোস্ট করুম ঠিক করসি। এই লিস্ট কোন টপ টেন মার্কা লিস্ট না। জাস্ট আমি যেই সিরিয়ালে সিনেমা গুলা দেখতাসি সেই সিরিয়ালে পোস্ট করা হইল।

This list is not in any particular order, just the sequence in which I am watching them

1. Flightplan (2005)

image

আমার রেটিংঃ ১০ এ ৫

2. Flyboys (2006)

image

আমার রেটিংঃ ১০ এ ৫

3. Flight (2012)

image

আমার রেটিংঃ ১০ এ ১০

4. Battle of Britain (1969)

image

আমার রেটিংঃ ১০ এ ১

5. The Spirit of St. Louis (1957)

image

আমার রেটিংঃ ১০ এ ৫


6. Hell’s Angels (1930)

image

আমার রেটিংঃ ১০ এ ৫


7. Zero Hour! (1957)

image

আমার রেটিংঃ ১০ এ ৫

8. Airplane! (1980)

image

আমার রেটিংঃ ১০ এ ১০

9. Red Tails (2012)

image

আমার রেটিংঃ ১০ এ ১০

10. Band of Brothers (2001 Mini-Series)

image

আমার রেটিংঃ ১০ এ ১০

২৮৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২১, ২০১৬, ১০:০৫ পি এম

একজন শিল্পীর কাজ হলো অনুভূতি সৃষ্টি করা। মাধ্যম টা ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু সবার উদ্দ্যেশ্য এক। শিল্পী রা যতই বলুক তাদের সৃষ্টি তাদের অনুভুতি প্রকাশের মাধ্যম কিন্তু দিন শেষে যখন আমরা রিসিভার এন্ড এ, তখন সৃষ্টিকর্মটি আসলে একটি “অনুভূতি জাগানিয়া”ই হয়ে যায়।

এই জন্য সব সৃষ্টি সবার কাছে শিল্প হয়ে ওঠে না। এই জন্য শিল্প কর্মের সমালোচনা করা যায়, শিল্পীর নয়। আপনি যখন একজন শিল্পীর কাছ থেকে তার সৃষ্ট কর্ম কিনছেন তখন যে মূল্যটি দিচ্ছেন তা তার ওই সৃষ্ট কর্ম টি সৃষ্টির জন্য তার দেয়া এফোরট এর তার নির্ধারিত মূল্য দিচ্ছেন। এটা কখনোই তার প্রতিভার মূল্য নয়।

প্রতিভাকে জাগতিক কিছু দিয়ে মূল্য দেয়া সম্ভব নয়। প্রতিভার মূল্য দিতে হয় তার প্রতি আপনার শ্রদ্ধা দিয়ে। তার সৃষ্টিশীলতার প্রতি আপনার নিঃর্শত ভালবাসা দিয়ে।

আমাদের বড় হয়ে ওঠার প্রসেস এ শিল্পের প্রতি এপ্রোচ টা শেখানো হয় তার তুলনামূলক মূল্যমান দিয়ে। এই পেইন্টিং এর দাম বেশি এইটার পেইন্টার বড় আর্টিস্ট , উনি কার্টুন আকেন তাই উনি ছোট আর্টিস্ট, উনি বিয়েতে ছবি তুলতে অনেক টাকা ন্যান তাই উনি বড় ফটোগ্রাফার, উনি গায়ে হলুদ এ গান গান তাই উনি “খ্যাপ আর্টিস্ট”. এইরকম ইত্যাদি।

আমাদের এই ধারাটা ভাংতে হবে। শিল্পকর্মের সমালোচনা করতে হবে, শিল্পীর নয়। কারন একজন আর্টিস্ট চাইলেই আমাদের অনুভূতি বদলে দিতে পারেন। আর মনে রাখতে হবে টাকা দিয়ে আপনি একটি শিল্প কর্ম কিনছেন, শিল্পী কে নয়।

২৮৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ১০, ২০১৬, ০৬:৫০ এ এম

[Spoiler Alert : সিনেমা এখনো না দেখে থাকলে/ দেখার প্ল্যান থাকলে, না পড়াই ভাল]

আমরা কালকে “কৃষ্ণপক্ষ” দেখতে গেসিলাম। যমুনা ফিউচার পার্কের হলে শনিবার দুপুর ২.৩৫ এর শো। ১.৩০ এ যখন কাউন্টার এর সামনে আসলাম দেখলাম প্রায় ফাকা কাউন্টার আর ওইপারে এক কোনায় কয়েকজন বিরস বদনে বইসা আসে। কারন কোন এক কারনে বেটমেন বনাম সুপারমেন এর শো ক্যান্সেল হইসে। অনেক লুকজন টিকিট ফেরত দিয়া গালাগালি করতে করতে ফেরত যাইতাসে।

ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “ভাই, কৃষ্ণপক্ষ এর টিকেট?”। সে বিরক্ত কন্ঠে জবাব দিল, “এখন দিতেসি না, পরে আসেন।”

ভয়ে আর জিগাই নাই। নিচে এট্টু ঘুরাঘুরি কইরা এপেক্স জুতার দুকানের সেল এ দুই জোড়া জুতা কিন্না যখন উপরে আইলাম তহন বাজে ২ টা। আবার বুকে সাহস নিয়া জিগাইলাম “বাইয়া, টিকেট?” এই বার কাজ হইল। আর উনাদের মন খারাপের কারন ও বুঝা গেল।

উনি জানাইলো কোন এক কারনে যমুনা ফিউচার পার্ক এর এসি কাজ করতাসে না ঠিকমত। আমি জিগাইলাম একবারেই কি এসি নাই? উনি জানাইল, “স্যার আছে, তয় এসির পাওয়ার কম”। আমি ভাব্লাম জিগামু তইলে নন এসির টিকিট দ্যান। ডরে আর জিগাইনাই। দুই পিস টিকিট কিন্না অ রে বগল দাবা কইরা সিনেমা হলের দরজার কাসে আইসা দাড়াইলাম।

আইসা দেখি বেটমেন বনাম সুপারমেন এর বিশাল কাট আউট লাগাইসে। আমি ভাব্লাম বিদেশি সিনেমার লাইগা এত আর কৃষ্ণপক্ষ এর তো একটা পোস্টার ও চোখে পরল না ঠিক মত। যাউকগা ইনফ্রাস্ট্রাকচার এর অভাব আর অসহযোগিতার এর লাইগা এই দেশের সিনেমারে কবে কে ঠেকায়া রাখতে পারসে। লাগবো না এসি, দিল ঠান্ডা হইলেই হইল।

ঢুক্লাম সময় এর অনেক আগেই। পুরা হলে আমরা ছাড়া আর চার পাচ জন ছিল। যার মধ্যে দুই জন লাইট নিভা মাত্র চুম্মা চাটি তে এতই ব্যস্ত ছিল যে জাতীয় সংগীত এর সময়ও উইঠা দাঁড়ায় নাই। কিছু কই নাই। থাকগা সিনেমা দেখতে আসছি, অমানুষ মানুষ করতে তো আসি নাই।

শুরু হইল সিনেমা। একটা ছোট গ্রাম্য বিয়ার অনুষ্ঠান এর সিন দিয়া। আমি প্রতিটা সিন খুব মনোযোগ দিয়া দেখসি। মারুফ ভাই আমাদের ডাইরেক্টর এর ছোট খাট হিন্টস গুলা ধরতে শিখাইসিলেন। অগুলা খুজার ট্রাই করসি। বিরতি বা ইন্টারমিশনটা খুব পার্ফেক্ট টাইম এ ছিল। অ এর “এরপর কি হইল, বল না, ও কি মরে গেসে, ও কি মরে গেসে” শুইনা বুঝতে পারসি যে সিনেমার ডিরেক্টর গল্প টা বলতে পারাতে সফল।

নায়ক রিয়াজের অভিনয় নিয়া ত বলার কিছু নাই। স্বাভাবিক অভিনয় ছিল। কিন্তু নায়িকা মাহিয়া মাহি ডুবাইসেন। উনি যতখন ফটোগ্রাফ হয়া ছিলেন আই মিন মুখ বন্ধ কইরা ছিলেন ততখন ভালই লাগতাসিল সিনেমাটোগ্রাফার এর মুন্সিয়ানার কারনে। কিন্তু মুখ খুল্লেই বা হাত পা নাড়ানো লাগে এমন কিছু সিন আসলেই উনাকে খুবি স্টিফ লাগসে আমার কাছে। পাশে থেইকা অ জিজ্ঞেস করসিল “আর কোন নাইকা ছিল না দুনিয়ায়?”

আমি অ রে খুব ভাব সাব নিয়া বুঝাইলাম, “দেখ, কমার্শিয়াল সিনেমা তে একটা আই ক্যান্ডি লাগে। নাইলে লোকজন ত রিয়াজের স্যান্ডো গেঞ্জি পরা বডি দেখতে আসবে না। আসবে মাহির নাম শুইনা। আর একটা বৃষ্টি ভেজা গান ও আসে”। গান টা অশ্লিল লাগে নাই অবশ্য। ভালই ছিল গান এর দৃশ্যায়ন গুলা।

পার্শ্ব চরিত্র গুলার মধ্যে নায়িকার বাবার অভিনয় ভাল লাগে নাই। পুলিশের এক্স আইজি এর এমন করুন কিন্তু রাগি ভাব ভংগি মানায় নাই। যদিও তার স্ক্রিন টাইম ও কম। নায়কের দুলাভাই চরিত্রটা একটা ডার্ক টাইপ এর চরিত্র। রেসিসম কইরা বলতাসি না। যিনি করসেন সেই আজাদ আবুল কালাম ও ডার্ক, চরিত্রটাও ডার্ক। উনার অভিনয় ভাল ছিল। নায়ক এর বন্ধুবান্ধব রাও অতি অভিনয় বা ভাড়ামি করেন নাই, তাই ছন্দপতন ঘটে নাই কোথাউ।

পরিচালক হিসাবে শাওন এর প্রথম ছবি বইলাই হয়ত তিনি কিছুটা সেফ খেলতে চাইসেন। হিউমার কম রাখসেন কিন্তু যেটূকু রাখসেন তা বেশ subtle। আর থিম এর দিক থেইকা সিনেমাটাই যেহেতু ডার্ক, তাই হিউমার বেশি না থাকাতেই ভাল হইসে। অনেক মনে রাখার মত বা উচ্চ মার্গিয় সিম্বলিক কোন দৃশ্য না থাকলেও যা ছিল তাতেই অনেক যত্নের ছাপ খেয়াল করা গেছে। কিছু ডিটেইল এর প্রতি লক্ষ্য রাখলে ভাল হইত আরো। যেমন একটা গানের দৃশ্যে একজন কে দুই হাত দিয়ে মুঠি করে ধরে হারমোনিকা বাজাতে দেখা গেসে আর আমার খুত খুতা চোখে মনে হইসে, কিন্তু হারমোনিকা তো এভাবে বাজায় না। আবার অন্যদিক এ অফিসের দৃশ্যে দুলাভাই হুদাই ল্যাপটপ এ এম এস ওয়ার্ড খুইলা কাজ করার ভান করেননাই। স্ক্রিন এ আউটলুক মেইল ক্লায়েন্ট খোলা ছিল। আমি খেয়াল করসি।

নায়িকার বড় বোন এর চরিত্রে মৌটুসি বিশ্বাস অনবদ্য অভিনয় করেছেন। মাঝে মাঝে মনে হইতেসিল এই মেয়েটা এত জামাই পাগল ক্যান, বিরক্তিকর। তখন বুঝসি উনি চরিত্রটার রুপদানে সফল। ফেরদৌস এর একটা ছোট ভুমিকা আছে, নায়িকার বিয়ের প্রার্থি হিসাবে একটি বেইল নাই চরিত্রে। উনি উনার এজ ইউজুয়াল কারিশমা দিয়া তাতে ভালই উত্রায় গেসেন।

তবে সব কিছু ছাড়ায় গেসে নায়কের বড় বোন এর চরিত্রে তানিয়া আহমেদ এর অভিনয়। পুরা সিনেমাটাকে উনি মোটামুটি একাই টেনে অনেক উপড়ে নিয়ে গেছেন যদিও পোস্টার এর কোথাউ তার উপস্থিতি তেমন ভাবে নাই। শাওন তার সিক্রেট উইপেন কে এমন ভাবে ব্যবহার করেছেন যে তানিয়া যে সকল দৃশ্যে ছিলেন পর্দায় চোখ যেন সুপার গ্লু দিয়ে আটকানো ছিল। অনেক দৃশ্যেই একটা সংলাপ ও না বলে শুধু ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন দিয়ে, চোখ দিয়ে এত টা ঘৃনা, এতটা দুঃখ, এত টা অসহায়ত্ব ফুটিয়ে তোলা যায় তা তানিয়ার অভিনয় কে না দেখলে বোঝা যাবে না। পুরা সিনেমায় যদি একজন মাত্র অভিনেতাও দর্শকের মনে ছাপ ফেলতে পারেন তা হচ্ছেন তানিয়া।

শেষ দৃশ্য টা হলে বসে খুব বেশি নাটকিয়তা মনে হইসিল। আই সি ইউ এর ডাক্তার কে নায়িকা বললো “আমি কি নায়কের সাথে একটু একা থাকতে পারি?” আর ডাক্তার বের হয়ে গেল? আর হস্পিটাল এর রুম এ এত ধুপধুয়া আসলো কইত্থে? এও কি বাস্তবে সম্ভব। কিন্তু এত ঘন্টা পরে এসে মনে হইতাসে, না ঠিক ই আসে।

আমার অপরিপক্ক মন সিনেমার অন্তর্নিহিত অর্থের চেয়ে লিটারেল মিনিং বেশি খুজতেসিল। তাই শেষ দৃশ্যটা তখন বুঝি নাই। এখন বুঝসি।

আসলেই তো এইটা একটা জীবন মৃত্যুর মাঝখানের সেই রহস্যময় জায়গাটার একটা দৃশ্যায়ন ছিল। এইখানে এইরকম কুয়াশা কুয়াশা ভাব তো থাক্তেই পারে। হেলথ মনিটরিং ইকিইউপমেন্ট গুলা বন্ধ দেখানোটাও হয়তো ইচ্ছে করেই ছিল। এই দৃশ্যের পরে নায়িকা হয়তো একা হয়ে যাবে, তার পৃথিবী ধোয়াটে হয়ে যাবে। বাইরের এবং ভিতরের আর পর্দার সাম্নের সব গুলা মানুষের জীবনে হয়তো নেমে আসবে এক গভীর “কৃষ্ণপক্ষ”।

২৮৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৬ ২০১৬, ১১:৩৯ পি এম

রাগ করা আসলে খুব সহজ। খুউউব ই সহজ। এক্সপেক্টেশন অনুযায়ী কিছু একটা হয় নাই, রাগ করে ফেললাম। কেউ আমার ভুল ধরায় দিসে, কত্ত বড় সাহস, রাগ করে ফেললাম। দেশের কোন সমস্যা সমাধান হইতাসে না, সরকারি সব কাজ খারাপ, বিরোধী দল এর সব কাজ খারাপ, সবাই চোর-বাটপার-ধান্দাবাজ, রাগ করে ফেললাম। পেপারে কোটি কোটি টাকা লুটপাট, দুর্নীতি করার খবর, আমার তো লাখ লাখ টাকাও নাই, ক্যান নাই, রাগ করে ফেললাম।

রাগ জিনিষ টা এমন যে এর হাতে আত্মসমর্পন কইরা দিলে এ আস্তে আস্তে পুরা মন এর দখল তো ন্যায় ই, পুরা শরীর এরও দখল নিয়া ন্যায়। পরে এক্সপেলেনেশন দিতে হয়, সরি, রাগের মাথায় হুশ ছিল না। যে লোক টা ফ্লোর এ একটা পিপড়া দেখলেও সাইড এ পা ফেলে সেই দেখা যায় রাগ উঠলে আরেকজন রে থাবর দিয়া গালে দাগ কইরা ফেলসে। আর রাগের মাথায় মানুষ কি কি করে তা আমরা সবাই সিনেমা, টিভি, বাস্তব জীবনে দেখসি তাই আর ওই দিকে না যাই। হাত মুঠি করা, দাত কিড়মিড় করা, ফোশ ফোশ কইরা শ্বাস ফালানি, মিন মিন করা মেয়েটার গলার ভয়েস এর হঠাত ভলিউম আপ হয়া যাওয়া, এগুলা খেয়াল করলেও বুঝা যায় যে রাগ শরীরের দখল নিয়ে নিসে। তখন “রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন” মার্কা কথা বার্তা বুঝাইতে গেলে উলটা “বুঝাতে গেলেন তো মাইর খেলেন” সিচুয়েশন হয়া যাইতে পারে।

কঠিন কাজ টা হইল, রাগ হইলেও রাগ কে নিজের মন আর শরীর এর দখল নিতে না দেওয়া। এইটা আজকে ওয়াদা কইরা, কালকে থেইকাই হয়া যাবে না। কিংবা মাথায় নিদ্রা কুসুম, নিদ্রা হাফ বয়েল্ড ইত্যাদি মাখলেও হবে না। জিনিষ টারে নিজের সিস্টেম এ আনতে হবে সময় নিয়া। না রাগ হওয়া চর্চা করতে হবে। তবে সবার প্রথম স্টেপ হইল, নিজের কাছে নিজেরে স্বীকার করতে হবে যে, ইয়েস, আই হার্ট পিপল হয়েন আই এম এংরি। “ভালইসে রাগ করসি” এই এটিচিউড এর মানে হইল সেই মানুষটা মনবিজ্ঞান এর ভাষায় “ডিনায়াল” স্টেজ এ আসে। এই স্টেজ এ আটকায় গেলে সামনে আগানো যাবে না।

আরেকটা জিনিষ আমরা চর্চা করি তা হইল রাগ চেনেলাইজ করা। মানে একজন এর কাসে বকা খায়া আরেকজন এর উপর সেই রাগ টা ঢাইলা দেওয়া। যেহেতু আমি এই কাজ টা কোনদিন করি নাই তাই আমি ভাল জানি না এই সময় তারা কি ভাবে। কিন্তু আমার মনে হয়, ইনারা চিন্তা করে এই ভাবে, আমি বকা খাইসি, আমি রিগ্রেট ফিল করতাসি, যতখন না আরেকজন রেও আমি এই রিগ্রেট ফিলিংস টা না করামু ততখন সে বুঝবে না আমি কিসের মধ্যে দিয়া যাইতেসি। তাই তারেও আমার মিসারেবল ফিল করাইতে হবে। ব্যাপার টা এমন যে কেউ আমার গায়ে আইসা আগুন লাগায় দিয়া গেল, আমি তারপর কয়েকজন এর গায়ে আগুন লাগায়া দিয়া দাঁড়ায় দাঁড়ায় পুড়লাম আর তাদের দিকে তাকায় তাকায় বল্লাম, দ্যাখ শালারা, দ্যাখ পুড়তে কেমন লাগে দ্যাখ।

আগুন ছড়াইতে দেওয়া যাবে না। নিজে পুড়তে হবে। যে মন থেকে ঠিক হইতে চায় সে আপ্নারে পুড়তে দেখলে নিজেই সতর্ক হয়া যাবে। বাংলাদেশে রাগ জিনিষ টাকে খুব সমীহ করা হয়। ওরে ঘাটাইও না, ওর রাগ বেশি। আমি সারাজীবন শুনতে শুনতে বড় হইসি, লোকজন রে ঝাড়ির উপর না রাখলে কাজ হয় না। হয়তো আসলেও হয় না কোন কোন ক্ষেত্রে কিন্তু ইট ডাজ নট হ্যাভ টু বি দিস ওয়ে। কাজ হয় না কারন আমাদের অভ্যাস ঝাড়ি খাওয়ার পরে সিরিয়াস হওয়া। এই অভ্যাস পালটাইতে হবে।

রাগ যে হয় তাকে সবাই ভয় পায়। কিন্তু একজন এর ভয় এর পাত্র হয়া কি লাভ? একজন আমাকে ভয় পায়া একটা কাজ করল, আর একজন আমার প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ থেইকা কাজ করলো। দুইটার আউটপুট হয়তো আপাতত সেম হবে, কিন্তু দুইদিন পর যে আমার রাগ কে ভয় পায়া কাজটা করলো তার কাজ হবে যতটুকু করতে বলা হইসে ততটুকুই। আর যে শ্রদ্ধা বোধ আর ভালবাসা থেইকা করলো সে ভাববে এই খানে আর কি নতুন ভ্যালু এডিশন করা যায়, আর নতুন কি করা যায় এই কাজ টার সাথে ।

এই খানে বলে রাখি, আমি কোন মনবিজ্ঞান এর থিউরি থেইকা এই সব বলতাসি না। আমি শুধু চিন্তা করতাসি আমি কিভাবে রাগ নিয়ন্ত্রন এ রাখি, তাতে আমার কি লাভ হয় আর সেগুলাই লিখতাসি। আমি রাগ হই, প্রচুর রাগ হই, কিন্তু আমাকে শেষ কবে কেউ রাগতে দেখসে কেউ মনে করতে পারবে না। আমার মনে হয় ইটস অল এবাউট, রাগ কে কত টা ঘৃনা করি আমি আর কতটা বিশ্বাস করি যে এ রিয়েকশন ডাজ নট সল্ভ এনিথিং, বাট পেশেন্স ডু।

রাগ আর জিদ কে একসাথে মিলায় ফেললে হবে না। আমার ভাল করার জিদ থাকতে পারে, আমার কিছু পাওয়ার জন্য জিদ চেপে যাইতে পারে। দ্যাটস নরমাল দ্যাটস কল্ড ডিটারমিনেশন। কিন্তু এংগার, এই ডিটারমিনেশন এর রাস্তা থেইকা অনেক দূরে নিয়া যায়।

অনেক রকম মেমে দেখি ইন্টারনেট এ, ফেসবুকে যার সামারি হইল, রাগী মানুষ গুলা আসলে ভাল মানুষ হয়, আর না-রাগী মানুষ গুলা হয় মিচকা শয়তান। তারপর ড্যাশ দিয়া হুমায়ুন আহমেদ লিখে দিলেই হয়া গেল কাজ। সবাই আহা উহু, শেয়ার শেয়ার, এক্কেরে মনের কথা ইত্যাদি বলা শুরু করে । এগুলা রাগি মানুষের রাগ কে জাস্টিফাই করার বাহানা ছাড়া আর কিছু না। স্মোকিং এর ছবি অনেক গ্ল্যামারাস কইরা তোলাই যায়, কিন্তু দ্যাট ডাজনট মিন যে স্মোকিং ইজ গুড, তাই না?

আমার বরং রাগি মানুষ গুলার উপর করুনা হয়। আহারে কত দুর্বল মানুষ গুলা। নিজের উপর কোনো নিয়ন্ত্রন ই নাই।

২৮৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৫ ২০১৬, ০৬:৪৯ এ এম

আমার কোন কবিতার খাতা নাই। যখন যা মনে আসে মোবাইলেই লেখা হয়। তাই কোন কিছুই একসাথে থাকে না। আমাকে যখন মরনোত্তোর কবিতা পদক দেয়ার কথা চিন্তা করা হবে, তখন পদকে কমিটির বস কে পদক কমিটির কর্মচারী পান চাবাইতে চাবাইতে বলবে, “ছার, উনার ফেচবুক তো খালি আবজাব দিয়া বর্তি। কবিতা তো খুইজ্জা ফাইতাসি না ছার”।

এই তিনটা বিভিন্ন বছরে আজকের দিনে লেখা। আজকের দিনে কি জানি একটা আছে। আজকের দিনে কবিতা খুইজ্জা পাওয়া যায়।

ঘোলা চাঁদ টাকে
করে দিতে পারি
চকচকে
রাজপথে এনে দিতে পারি
পা ডুবানোর ঘাস
কুচি করা নীল কাগজ
মুঠো ভরে এনে
বলে দিতে পারি
এইবার দাও ফুঃ
তবু একশো বছর
কান পেতে থাকি
শুনবো বলে
এক্টা ছোট্ট ” হু “

আকাশ বুঝি তোমার মত?
ঘুম ভাংতেই দুপুর হয়
আবছা আলোয় গা জড়িয়ে
ঘাসের পায়ের নুপুর হয়

মেঘ ও নাকি এক্টা তুমি?
রং ছাড়া ই ফর্সা হয়?
ভাসতে ভাসতে হাসতে হাসতে
চৈত্র হঠাৎ বর্ষা হয়?

আমার স্বপ্নের হাতে কড়া,
তবু চোখ ধরেছে হাত
না হয় আকাশ দেখেই কাটিয়ে দেব,
শেষ তো হবে রাত ।
জানি শেষ তো হবে রাত

২৮৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৪ ২০১৬, ০৬:০৩ পি এম

স্পেশ শাটল এর আদ্যপান্ত্য – ১

আমার স্পেস শাটল খুব ভাল্লাগে। কি সুন্দর একটা প্লেন এর মত জিনিষ। আমি এইটারে প্লেন ই ভাবতাম। কিন্তু একদিন জানতে পারলাম আমার ধারনা ভুল। তারপর আগ্রহ আরো বাইরা গেল। মনে হইল এই জিনিষ টা সম্পর্কে জানতে হবে। আমি কিছু কিছু পড়ালেখা করতাসি নেট থেইকা আর সামনে আরো করবো। একবারে বেশি পড়তে পারি না। মাথায় কুলায় না। আর তা ছাড়া অফিসের ব্যাস্ততাও থাকে। তাই ভাবলাম যা যা পড়তেসি তা সাথে সাথে লিখে রাখি। তাইলে আমার পড়াটাও ভাল হবে।

এই পর্ব টা স্পেস শাটল নিয়া একজন মানুষ যে কিছুই জানে না স্পেস শাটল নিয়া তাকে একটা মোটামুটি ধারনা দেয়া হবে। তারপর আস্তে আস্তে আমি ভিতরে ঢুকবো। আমার কাছে যে কোণ নতুন কিছু শেখার পদ্ধতি এটাই। প্রথমে পুরোটা সম্পর্কে একটা অভারওল ধারনা। তারপর শাখা প্রশাখায় ঢোকা। নাহলে গলি পথেই কেটে যাবে সারা জীবন, গন্তব্যে আর পৌছানো হবে না। এই লেখায় আমি মূলত আমেরিকান স্পেস প্রোগ্রাম এর রেফারেন্স এই কথা বলবো। সময় পাইলে এবং পড়ালেখা করতে পারলে রাশিয়ান স্পেস প্রোগ্রাম নিয়াও লিখবো কখনো। তাহলে শুরু করা যাক?

স্পেস শাটল বলতেই আমাদের সামনে একটা সাদা কালো প্লেন এর মত জিনিষ এর ছবি ভাসে। কিন্তু স্পেস শাটল মানেই এই প্লেন এর মত জিনিষ টা না। স্পেস শাটল কয়েকটা জিনিষ এর সমন্বয়ে তৈরি একটা সিস্টেম। এই সিস্টেম এ কি কি জিনিষ থাকে তাতে যাওয়ার আগে এর ইতিহাস টা একটু জানি।

১৯৬৯ সাল। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট তখন রিচার্ড নিক্সন। রাশিয়ার সাথে স্পেস রেস তখন তুঙ্গে। অল্রেডি তাদের ইউরি গেগারিন স্পেস এ ঘুরে আসছেন। তাই আমেরিকার নেক্সট টার্গেট চাঁদে মানুষ পাঠানো। এই লক্ষ্যে নাসা এর এপলো প্রোগ্রাম ও চলছে পুর্ন গতিতে। কিন্তু এপলো প্রোগ্রাম এর একটা বড় সীমাবদ্ধতা ছিল। এতে ব্যবহার করা রকেট পরের মিশনে ব্যবহার এর কোন উপায় ছিল না। ওয়ান টাইম ইউজ টাইপ এর। এত টাকা দিয়া একটা জিনিষ বানায়া একবার ব্যবহার করলেই শেষ, এইডা কিছু হইল?

তাই প্রেসিডেন্ট নিক্সন এর আদেশে ভাইস প্রেসিডেন্ট স্পাইরো এগ্নিউ (Spiro Agnew) রে প্রধান কইরা একটা টাস্কফোর্স গঠন করা হইল। এদের কাজ হইল এরা বার বার ব্যবহার করা যায় এরম সিস্টেম প্রপোজ করবে। এই টাস্ক ফোর্স ১৯৬৯ সালের সেপ্টেম্বর এ নিচের কয়টা জিনিষ প্রস্তাব করলো

১। একটা পারমানেন্ট স্পেস স্টেশন সিস্টেম( মনে রাখতে হবে সাল টা ১৯৬৯। তখনো মির বা ইণ্টারনেশনাল স্পেস স্টেশন কোন টাই বানানো হয় নাই )

২। একটা লো আর্থ অরবিট (পৃথিবী থেকে ১০০ থেকে ২০০ নটিকাল মাইল / ১৯০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার উপরে কাজ করবে এরকম) স্পেস শাটল সিস্টেম।

৩। একটা স্পেস টাগ সিস্টেম (মাল গাড়ী আরকি) যা কিনা পৃথিবী থেইকা চাঁদ এর অরবিট এ যাতায়াত করবে।

৪। একটা নিউক্লিয়ার পাওয়ারড স্পেস ভেহিকল।

এই টাস্ক ফোর্স যখন এই সব প্রস্তাবনা বানাইতাসিল সেই সময় জুলাই,১৯৬৯ সালে এপলো এগারো চাঁদ এ অবতরন কইরা সারা পৃথিবী তে একটা তোলপাড় ফালায় দ্যায়। আমেরিকার প্রসাশন মনে করে তাদের উদ্দ্যেশ্য সফল হইসে। তাই প্রেসিডেন্ট নিক্সন এই টাস্ক ফোর্স এর দেওয়া প্রায় সব প্রস্তাবনাই নাকচ কইরা দ্যান। শুধু ২ নাম্বার টা অর্থাৎ স্পেস শাটল প্রোগ্রামে সরকারি ফান্ডিং দেওয়ার ব্যাপারটা অনুমোদন করেন। শুরু হয় স্পেস শাটল প্রোগ্রাম যার অফিশিয়াল নাম হয় STS ( Space Transportation System)

১৯৬৯ সালে শুরু হইলেও স্পেস শাটল এর প্রথম টেস্ট ফ্লাইট হয় ১৯৮১ সালে। আর ১৯৮২ সাল থেইকা পুর্নাংগ ফ্লাইট শুরু হয়। ১৯৮১ সাল থেইকা ২০১১ পর্যন্ত ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেইকা স্পেস শাটল দিয়া মোট ১৩৫ টা মিশন লঞ্ছ করা হয়। এই সব মিশনে স্পেস শাটল মহাশুন্যে অনেক স্যাটেলাইট, আন্ত গ্রহ প্রোব, হাবল টেলিস্কোপ নিয়া যায়, মহাকাশে বিভিন্ন সাইন্টিফিক এক্সপেরিমেন্ট করে আর ইণ্টারনেশনাল স্পেস স্টেশন এর তৈরি এবং মেরামত এ সাহায্য করে। স্পেস শাটল ফ্লিট এর মোট মিশন টাইম ১৩২২ দিন, ১৯ ঘণ্টা, ২১ মিনিট আর ২৩ সেকেন্ড।

একটা স্পেস শাটল এর তিনটা পার্টঃ

image

১। একটা ওরবিটার ভেহিকল ( Orbital Vehicle বা OV)
২। এক জোড়া সলিড রকিট বুস্টার (Solid Rocket Booster বা SRB)
৩। একটা বুইত্তা মারা এক্সটারনাল ট্যাঙ্ক (External Tank বা ET)

স্পেস শাটল কে লম্বা লম্বি ভাবে লঞ্চ করা হয়। লঞ্চ এর সময় SRB দুইটা আর OV এর তিনটা মেইন ইঞ্জিন এক সাথে কাজ করে। এরা ফুয়েল পায় ET থেইকা যার ভিতরে থাকে লিকুইড হাইড্রোজেন আর লিকুইড অক্সিজেন। অরবিট এর পৌছানোর আগে SRB দুইটা মুল সিস্টেম থেইকা খইসা পরে। আর অরবিট এর ঢুকার ঠিক আগ মুহুর্তে ET ও খইসা পরে। এরপর অরবিটার তার দুইটা ইঞ্জিন যারে বলে অরবিটাল মেনুভারিং সিস্টেম(Orbital Maneuvering System -OMS) গুলা ব্যাবহার কইরা অরবিট এ ঘুরা ফিরা করে। এই গুলা ইউজ কইরাই অরবিটার টা পৃথিবীর এটমোসফিয়ার এ ঢুকে আর গ্লাইড কইরা আইসা ল্যান্ড করে।

image

ল্যান্ড করনের পর সবাই নাইম্মা গেলে এইটা রে একটা বিশেষ ভাবে মডিফাইড Boeing 747 দিয়া আবার কেনেডি স্পেস সেন্টার এ নিয়া যাওয়া হয় পরবর্তি মিশন এর জন্য ব্যবহার করার জন্য।

image

অরবিটার গুলার আবার নাম আসে। প্রথম বানানো অরবিটার এর নাম ছিল Enterprise. এইটা খালি এপ্রোচ আর ল্যান্ডিং টেস্ট করার জন্য বানানো হইসিল, এইটা অরবিট এ ঘুরা ফিরা করতে পারতো না। তারপর চার টা ফুল ফাংশনাল অরবিটার বানানো হইসিল যাদের নাম যথাক্রমে, Columbia, Challenger, Discovery আর Atlantis । এর মধ্যে দুইটা ওরবিটার এক্সিডেন্ট এ ধ্বংস হয়া যায়ঃ ১৯৮৬ সালে Challenger আর ২০০৩ সালে Columbia । ১৯৯১ সালে Challenger কে রিপ্লেস করার জন্য Endeavor নামের পাঁচ নম্বর অরবিটার টা বানানো হয়।

জুলাই এর ২১ তারিখ, ২০১১ সালে Atlantis এর শেষ ফ্লাইট এর মাধ্যমে স্পেস শাটল প্রোগ্রাম এর সমাপ্তি হয়।

২৮২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ৩, ২০১৬, ০৭:২৩ এ এম

“যতটুকু চাই, দিতে হবে”
বলে,
আকাশের দিকে
হাত উঠাই
হাত মুঠো করে
ফুল হাতা শার্ট
মনে মনে রাগ
হাত গুটাই।

উনি হেসে ফেলে
হাতে এনে দেন
এক ফোটা জল,
রাখ্।
চোখ মাটি মাখে,
মন ভিজে মেঘ;
অনেক পেয়েছি
থাক্।

সব ইচ্ছা গুলো পুরন করা হবে না। সব স্বপ্ন গুলো সকাল দেখবে না। তাই বলে কি সব থেমে যাবে? কত বড় ইচ্ছার কাছে ছোট ছোট ইচ্ছা হেরে যায় প্রতিদিন। কত কিছু হাতে নিয়েও রেখে দিতে হয় আবার শেল্ফ এ। কি হবে পেয়ে। আমার মনে হয় না কোন ইচ্ছে কখনো মরে। শুধু অভিমানে ডুব দ্যায় মন এর নিচের দিকে। ঠান্ডা তলানী তে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকে।

তারপর কোন কোন দিন বড় ইচ্ছা, এর ইচ্ছা, ওর ইচ্ছার ফাঁক দিয়ে উকি দ্যায় সাহস করে। আচ্ছা পুরন করেই ফেলি না। এত ভেবে কি হবে। কিছু ইচ্ছাকে তখনো উঠিয়ে আনতে পারি না। হাত বাড়াই, হাত সরিয়ে নেই। অভিমানি ইচ্ছে টা আবারো রওনা দ্যায় গভীরের দিকে। তার দিকে দ্বীর্ঘশ্বাস পাঠিয়ে ভাবি, একদিন, কোন একদিন।

আমি নিজেকে বোঝাই, আল্লাহ কারো ইচ্ছাকেই “না” বলেন না। কাউকে সাথে সাথে “হ্যা” বলে দেন, কাউকে বলেন “হ্যা, কিন্তু এখন না’ আর কাউকে বলেন, “আরে পাগলা, তোর জন্য এর চেয়ে ভাল কিছু রেডী কইরা রাখসি”।

আমার মনে হয় ঈমান মানে এইটাই। সর্বক্ষেত্রে তার উপর বিশ্বাস। যদি তিনি আছেন বইলা মানি, তাইলে তিনি যে আমার জন্য কোনটা ভাল, তা আমার চেয়েও ভাল জানেন সেইটাতেও বিশ্বাস রাখি।

এখন যাই, সকালের সাথে মিশে যাই।