২০১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৫ | ১২.৩৭ এম

ছোটদের পিয়ানো শিক্ষা ২

 

আগের লেখায় আমি বলসিলাম পিয়ানোর এক একটা “কি” আসলে এক একটা “নোট”। একটা সাদা কি এর ঠিক ডান পাশে যদি একটা কাল “কি” থাকে তাইলে সেইটা সাদা নোট টার শার্প নোট। যেমন একটা সাদা কি তে নোট যদি হয় “সি”/C (কোন নোট টা সি সেইটা আমরা একটু পরেই দেখবো) তাইলে ঠিক তার ডান পাশের কালো কি টাই হইল সি শার্প/C# ( সি হ্যাশ না কিন্তু)। আবার উলটা দিক থেইকাও কালো কি গুলার নাম করা হয়। যেমন একটা সাদা কি তে নোট যদি হয় D, তাইলে ঠিক তার বাম পাশের কালো কি টাকেই বলা যাবে ডি ফ্ল্যাট/Db

 

আজকে আমরা শিখব কি বোর্ড এ সি থেইকা বি পর্যন্ত নোট গুলা কেমনে থাকে। আমরা আরো শিখবো এই নোট গুলাকে কিভাবে রিটেন মিউজিক বা স্টাফ নোটেশন দিয়া প্রকাশ করা হয়। তাইলে চলেন জীবনের প্রথম পিয়ানো নোট শিখি। যার নাম সি/C.

 

 

একটু এক্সারসাইজ করা যাক। আপনার সামনে যদি পিয়ানো থাকে, বা না থাকলে গুগল কইলা একটা পিয়ানোর কি গুলার ছবি বাইর কইরা দেখেন। এই বার এর মধ্যে থেইকা দুই টা কালো কি পাশা পাশী এরকম বের করেন। তিনটা পাশা পাশী কালো কি হইলে হবে না। কালো কি হইতে হবে। দুইটা পাশাপাশি কালো কি এর একবারে বামের কালো কি টার উপর হাত/চোখ রাখি। এই কালো কি টার ঠিক বামে যেই সাদা কি টা আছে তার নাম “সি” । সি হইল এইটা,

 

 

 

খেয়াল করলে দেখা যাবে, এইরকম দুইটা দুইটা কালো কি অনেক থাকতে পারে একটা কি বোর্ড এ। এই প্রত্যেকটা কালো কি এর বাম পাশের টাই সি। অনেক শময় নাম্বারিং করা হয় সি গুলাকে। একদম বাম পাশের প্রথম সি টার নাম C1, িউতার পাশের টা C2 . তার পরের অক্টেভ এর সি এর নাম C3 এইরকম.। সি এর ডান পাশের কালো নোট টার নাম C#.

 

 

আজকে এই টুক ই থাক। আর লিখতে ইচ্ছা করতাসে না। আগামী দিন এর লেখায় লিখিত মিউজিক/Stuff Notation কিভাবে পড়তে হয় ওইটা নিয়া লিখার ইচ্ছা রাখি।

 

২০০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫ | ১১.০৩ পি এম

 

পৃথিবী তে দুই ধরনের মানুষ আছে। এক, সেই ধরনের মানুষ যারা যা শুরু করে তারা তা শেষ করে। আর দুই, …

আই ওয়ান্ডার আমি কোণ টাইপ এর (খিক খিক)। জীবনে যে কত গুলা আন ফিনিশড প্রজেক্ট আছে, তা ভাবলে কেমন জানি অস্থির লাগে। এগুলা শেষ করা দরকার। কিন্তু কবে শেষ করব জানিনা। এগুলা মাঝে মাঝে আবার বাইচা থাকার প্রেরণাও দ্যায়। মনে হয়, কত কিছু করা বাকি, জীবন তো এখনো শুরুই করলাম না।

যেমন ধরা যাক প্রজেক্ট ৩৬৫ এর কথা। এই লেখা লেখা প্রজেক্ট ৩৬৫ শুরু করার আগে আমি ছবি দিয়া একটা প্রজেক্ট শুরু করসিলাম। প্রতিদিন একটা ছবি তুলতাম স্কয়ার ফরমেট এ, আর বিশাল গিয়ান গর্ভ ক্যাপশন লিখতাম ওগুলার। ভালাই লাগতো, প্রতিদিন ভিজুয়াল খুঁজার একটা টান কাজ করত ভিত্রে। সেই প্রজেক্ট এর ১৫০ + সাম্থিং পর্যন্ত করার পর আমি বান্দরবন যাই বেড়াইতে। ওই খানে তো নেট নাই। তাই পোস্ট ও করতে পারি নাই। সেই যে গ্যাপ পরলো। আর তো শেষ করলাম না প্রজেক্ট টা।

কত গুলা লেখা লেখির প্রজেক্ট শুরু করসিলাম তারপর। ফটোগ্রাফির বেসিক্স নিয়া লেখা “ফটোগ্রাফির প্রথম পাঠ”, “ফটোগ্রাফির দ্বিতীয় পাঠ”… এই রকম “ফটোগ্রাফির নবম পাঠ” পর্যন্ত। তারপর ১০, ১১ লেখা হইসে আলাদা ভাবে, পাবলিশ ও হইসিল গ্রাস হপার্স এর স্কুল এর পেজ এ, কিন্তু এক সাথে আর করা হয় নাই সব গুলা পর্ব।

বাংলায় এভিয়েশন এর ইতিহাস কোথাউ নাই। শুরু করসিলাম “উড়তে শেখা” সিরিজ টা। চার পর্ব পর্যন্ত লিখসি। এই ফেসবুক এর নোট এই, তারপর আর লেখা হয় নাই। প্রায় ই মনে করি, আবার শুরু করি। মাথায় কিছুক্ষণ খেলা করে জিনিশ টা। তারপর আবার ফিরা যাই রেগুলার কাজ এ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস নিয়া লেখা শুরু করসিলাম। তাও আবার কোন ব্লগ বা নোট এ না। স্ট্যাটাসে। সেগুলাও আর লেখা হয় নাই। কত মজার মজার জিনিষ পরসিলাম। কত ছবি, কত গল্প। পড়তে পড়তে এই ঘটনার সাথে ওই ঘটনার কানেকশন বাইর কইরা উত্তেজিত হয়া যাইতাম। কিন্তু আর লেখা হয় নাই। সেই উত্তেজনা টা মিস করি প্রায় ই।

“কিলো ফ্লাইট”। মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাসের একটা কত এক্সাইটিং আর অসাধারণ ব্যাপার। সেইটার ইতিহাস বাংলায় লেখা শুরু করসিলাম এই নোট এই। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গঠন হওয়ার ইতিহাস থেইকা শুরু কইরা এলুয়েট হেলিকপ্টার এর প্রথম মিশন ওরফে “কিলো ফ্লাইট” এর প্রথম মিশন পর্যন্ত লিখসিলাম। ওটার বিমান এর মিশন গুলা নিয়া লেখা বাকি। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান এর গল্প লেখা বাকি। কবে লিখবো এগুলা আই হ্যাভ নো আইডিয়া। কিন্তু লেইখা যাইতে চাই অবশ্যই। পিপল নিডস টু নো।

পিয়ানো শিখা শুরু করসি সেই কবে এ এ থেইকা। প্রথমে রোমেল ভাই (ওয়ারফেজ) এর কাছে ৩ মাস শিখলাম। অফিস কইরা প্র্যাকটিস করা হইত না ঠিক মত আর উনার সামনে গিয়া এক্সকিউজ দেখাইতে লজ্জা লাগতো। তাই আস্তে আস্তে ছাইরাই দিলাম যাওয়া। ২০১৪ এ আইসা আবার মনে হইসিল নাহ পিয়ানো শিখা আবার শুরু করতে হবে। ভর্তি হইলাম সাউন্ড অফ মিউজিক এ। ছয়মাস শিখা লেভেল ওয়ান পাশ দিসি আমি। আমার লন্ডন কলেজ অফ মিউজিক এর সার্টিফিকেট আসে ডিস্টিংশন মার্ক্স ওয়ালা। ভাবসিলাম অনেক দূর যামু। কিন্তু তারপর অফিসে কাজের ব্যাস্ততা বাড়লো, আর গুলশান এক গিয়া গিয়া ক্লাস করা হইল না। ইদানীং হাত পা আবার কাম্রাইতাসে, ইচ্ছা করতাসে আবার গিয়া শুরু করি।

আঁকা আঁকি শেখার স্বপ্ন টা তো এখন স্বপনই রয়া গেল। আমি ঘুমাই ই থাকলাম। আমার কাছে যেই পরিমাণ আঁকা আঁকি শিখার বই আসে, একটা ছোট খাট লাইব্রেরি বানায় ফেলা যাইব। কিন্তু আঁকা আঁকি কি শিখতে পারসি? নাহ। পেন্সিল হাতে নিলে ভয় লাগে কাগজে আঁক দিতে। একদিন পারবো নিশচই।

গিটার টা আরো শিখা বাকি। রাশার মত এরকম ওস্তাদ গিটারিস্ট বন্ধু রাইখা আমি কত অশিক্ষিত থাকলাম।

কত উৎসাহ নিয়া হারমোনিকা শেখা শুরু করসিলাম, ডায়াটোনিক, ক্রোমাটিক হারমোনিকাও ছিল। কিন্তু কিছুদূর আগায়া তারপর উকুলেলে কিনার পর আর হারমোনিকা বাজানোই হয় না। চারুকলার সামনে থেইকা কেনা বাশিটা মাঝে মাঝে হাতে নেই। সব গুলা ছিদ্র বন্ধ কইরা ফু দেই, আওয়াজ বাইর করতে পারি। তারপর আবার রাইখা দেই। হয়তো একদিন পারবো ।

বুকশেলফের না পড়া বই গুলা মনে হয় হাসি তামাশা করে আমারে নিয়া। কত বই পড়া বাকি। হার্ডডিস্ক এ কত গিগা গিগা মুভি দেখা বাকি। কত ইন্টারেস্টিং ইন্টারেস্টিং বাছাই করা ই বুক নামাইসি এক সময়। সব চোখে পড়লেই অপরাধী লাগে নিজেরে। এগুলা কবে পইড়া শেষ করব?

আমি কলেজে থাকতে অনেক ভাল চিঠি লিখতাম। পোলাপান দূর দূরান্ত থেইকা আসতো আমার কাছে তাদের গার্লফ্রেন্ড এর কাছে চিঠি লিখা দেওয়ার জন্য। এখন আর চিঠি লিখতে ইচ্ছা করলেও প্রাপক এর ঠিকানা নাই, প্রাপক ই নাই, তাই লেখা হয় না।

এই যে লোকজন জানে আমি প্লেন এর ছবি তুলি। ২০১২ এর তোলা আগস্ট এ তোলা ছবির পর আমি আর কোন ছবি ই পাবলিশ করি নাই। অথচ কত কত ফোল্ডার ভর্তি করা ছবি। মাঝে মাঝে ভাবি একটা এসিস্ট্যান্ট নিমু। তারে শিখায় দিমু, সে খালি ছবি প্রসেস করবে। টেকা টুকাও দিমু। কিন্তু পরে মনে হয়, হুর, কে করবে এই কাজ। তাই ছবি শুধু জমছেই।

এই অতৃপ্তি টা অদ্ভুত। এই অস্থিরতা টা কাইন্ড অফ বেশি বেশি। আমার মাথার ভিতরের ইনার ভয়েস আমারে ধমক দ্যায়, আরে ব্যাটা যা যা করতে চাস, কইরা লাইলেই তো হয়। এত ঘ্যান ঘ্যান করছ কেলা। কথা সত্য। কিন্তু তবু যা করছি, তার চেয়ে যা করি নাই তার হিসাব নিতে নিতেই জীবন শেষ হয়া যাইতাসে।

 

১৯৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫ | ১২.৪৫ এ এম

 

বাসায় আসলাম মাত্র, একটি হাফ টেনশন্ময় দিন হঠাত কইরা অ্যাডাময় সন্ধ্যা এবং খাওয়াদাওয়া ময় রাত দিয়া শেষ হইল। সকালে যখন অফিসে গেলাম ক্যাসপার কে এত দুর্বল লাগতেসিল। ওকে পটি ট্রেইন করতে বার বার যেখানে বসায় দিসিলাম ওই খানেই ঘুমায় যাইতেসিল। আর কিছু খাইতেসিল না। আমি ভাবসি সারাদিন টিকবে তো আজকে? আল্লাহ তো আমার আসে পাশে ভালবাসার মানুষ বেশি রাখতে চায় না ক্যান জানি, একেও কি নিয়া যাবে?

ওর চারপাশে খাবার রাইখা ওর চারপাশে নরম কাপর দিয়া দিলাম যাতে আরামে শুইতে পারে। তারপর ফিস ফিস কইরা বাই ক্যাসপার, প্লিজ টিকে থাকিস বইলা অফিসের জন্য বাইর হইলাম। অফিসে যতক্ষণ ছিলাম সারাক্ষণ টেনশন লাগতাসিল এত। মিটিং ছিল একটা। মিটিং এ বইসা লোকজন আল্লায় জানে কি কি সব ভ্যাটর ভ্যাটর করতেসিল। কিছুই মাথা দিয়া ঢুকে নাই। খালি মনে হইতাসিল কখন এইগুলা শেষ হবে, কহন ৫টা বাজবে আর বাসায় যাবো আর ক্যাসপার কে দেখবো।

মিটিং এ বইসাই ডিসিশন নিলাম, হুর, স্ক্রু ৫ টা, আমি এখনি যাব। কপাল ই এমন, মিটিং এ বলা হইল, লেটস হ্যাভ লাঞ্চ টু গেদার। আমি ঠিক করলাম, হুততর লাঞ্চ ফাঞ্ছ , আমার বাসায় যাইতে হবে, আমার ক্যাসপার এর কাছে যাইতে হবে। আমি অদের বললাম আমার বাসায় সমস্যা হইসে, গটা গো। বইলা দৌড়াইতে দৌড়াইতে বাসায় আইসা পরসি। টেনশন এ এমন লাগতাসিল মনে হইতাসিল দম আটকায় যাবে। আস্তে আস্তে দরজা খুইলা ভিতরে ঢুইকা দেখি যেখানে ঘুম পারাইয়া রাইখা গেসিলাম ওই খানে নাই। ধরাস কইরা উঠলো ভিতর টা। রুমে ঢুকতেই দেখি উনি হাত পা ছড়াইয়া আয়েশ কইরা বিছানার কোনায় শুইয়া আমার দিকে ড্যাব ড্যাব কইরা তাকায় আসে। কি যে রিলিভড লাগসে তখন। মনে হইল ঘাম দিয়া জর ছারসে।

ক্যাসপার কে খাওয়ায় দাওয়ায় আবার অফিসে চইলা আসছি। সন্ধ্যার পর সুষম ভাই ফোন দিয়া বলল নর্থ এন্ড এ আসেন, কফি খাই। ততক্ষণে অফিস শেষ। বাইর হউনের তাল করতাসিলাম। পত্রপাঠ হাজির হয়ে গেলুম উত্তরশেষ কফি ভাজি করন দোকানে।

নর্থ এন্ড এ আড্ডা উড্ডা মাইরা সুষম ভাই এর বাইক এর পিছনে চইরা গেলাম চিটাগাং এক্সপ্রেস। খাইয়া দায়া উলটাইয়া লাইলাম সব। জিয়া ভাই আসছিল। বাংলাদেশ এর এক নাম্বার ফ্যাশন ফটোগ্রাফার উনি। অথচ এক ফোটা গর্ব বা ভাব নাই তার। আমি একটা জিনিশ খুব বিশ্বাস করি। বিনয় ছাড়া ট্যালেন্ট কোন ট্যেলেন্ট ই না। জঙ্গলে যেই গাছের যত বেশি ফল, সেই গাছ তত বেশি নিচু। মাথা উঁচা কইরা থাকে শুধু বাঁশঝাড়।

আজকে নোট এর রুটিন এর উলটা পালটা করসি কিছু। ১২ টার মধ্যে না পোস্ট কইরা , এখন ১২,৪৫ এ করতে যাইতাসি। মাঝে মাঝে চেঞ্জ ইজ গুড।

 

১৯৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৫ | ১২.০০ এ এম

 

আজকের দিন এর হাইলাইট একটাই। ক্যাসপার। আমার বিড়াল ছানা। সব মন খারাপ সব হতাশা সব ডিপ্রেশন কই যে উবে গেসে কখন নিজেও জানি না। কি যে লক্ষী ও । আর অনেক আদুরে। ছোট ছোট পা নিয়া গুট গুট কইরা সারা বাসা হাইটা বেড়ায়। আবার বেশি দূর যায় না। একটু পরে আইসা আবার আমার সাথে ঘেশলা ঘেশ্লি করে।

ওকে পাওয়ার কাহিনী টা বলি একটু। আমি অফিস থেইকা ফিরতেসিলাম। সুভাস্তু তে লিফট পর্যন্ত আস্তে হয় বেজমেন্ট দিয়া। যেখান দিয়া গাড়ি গুলা উঠে ওই টা দিয়া নামার পর দেখি রাস্তার মধ্যে একটা ছোট্টওওওও বাবু বিড়াল বইসা আসে। আর ওই পাশ থেইকা একতা পাঁজারও আস্তাসে। পাজারোর যে হাইট তাতে এতো ছোট বিড়াল জীবনেও দেখবে না ড্রাইভার। আমি দুই হাত উঁচা কইরা দৌড় দিয়া গেলাম। ড্রাইভার ভাল ছিল। গাড়ি থামায় দিসিল আমার হাত নারানি দেইখা। আমার দৌড় দেইখা দারোয়ান ভাবসে কি জানি হইসে। এই দারোয়ান ভাল আসে। আমারে দেখলেই বিশাল সালাম দ্যায়। আমার পিছে পিছে উনিও না বুইঝা বাশি ফু দিতে দিতে দৌড় দিল। লোকজন জড় হয়া গেল কি জানি হইসে ভাইবা। আমি গাড়ি তামার পর বইসা ওর দিকে হাত বাড়ায় দিলাম। কি আশ্চর্য ও চুপ চাপ আমার দিকে চইলা আসলো।

ওকে সাইডে আনার পর গাড়ি যাওয়ার রাস্তা হইল। যাওয়ার সময় দেখি ড্রাইভার আর গাড়ির লুকজন বিরাট ভুরু কুঁচকানি লুক দিতাসে। আমিও আমার বিখ্যাত ভ্যাবলা মার্কা হাসি দিলাম। অদের ভুরু আরো কুঁচকায় গেলো। যারা বাসি শুইনা তামশা দেখতে জরো হইসিলো তারাও দেখি, ও বিড়ালের বাইচ্চা, ভাইজানের মনে হয় মাথায় সমস্যা এই টাইপ এর কথা বলতে বলতে চইলা গেল। থাকলাম শুধু আমি আর ও।

রাস্তার পাশের একটা খালি পারকিং এ বইসা পরলাম মাটিতেই। ওর গলার নিচে হাত বুলাইতে বুলাইতে বললাম, কিরে ভয় পাইসিশ? আরে ব্যাপার না, এই সব পাজারোর বেইল আসে? ভয় পাইশ না। আমি আসি না। ও দেখি হাত পা ছড়ায়ে আমার কোলে শুয়া পড়ল। আর ভড়ড়ড় ভড়ড়ড় আওয়াজ করতে লাগলো। আমি বুঝলাম ওকে এইখানে রাইখা যাওয়া আর আমার পক্ষে সম্ভব না।

বুকের সাথে লাগায় রাইখা নিয়া আসলাম বাসায়। দুধ আর রুটি কিনা আনলাম। ওরুর জন্য কেনা খাবার এর বাটি ছিল। সেইটাতেই দিলাম দুধ। আর পাউরুটি ছিরা ছিরা কিছু দিলাম দুধের সাথে আর কিছু দিলাম দুধের বাটির আসে পাশে। ও যেভাবে খাইলো , বুঝলাম অনেক খিদা লাগসিল বাচ্চা টার।

এখন ও আমার সাথে গা ঘেঁষায় ঘুমাচ্ছে। মাঝে মাঝে উইঠা দ্যাখে আমি আছি কিনা। তারপর আমার আঙ্গুল চেটে দ্যায়। আবার ঘুমায় যায়। আমি মনে হয় বুঝতেসি বাচ্চা কাচ্চা ভালমত খায়ে দায়ে ঘুমাইতে দেখলে বাবা মার মনে কেমন শান্তি শান্তি অনুভূতি টা হয়।

ওর রঙ সাদা আর লেজটা কালো। ওর এমন হঠাত আভির্ভাব আমার লাইফ এ। আর কালপুরুষ দার ছেলেটার প্রতি অনেক অনেক ভালবাসা। সব মিলায় ওর নাম রাখসি ক্যাসপার।

ও এখনো বিপদ মুক্ত না। অনেক ছোট তো, আর দুর্বল অনেক। আমি যার কাছ থেকে বিড়াল বিষয়ক পরামর্শ নেই সেই মহান জান্নাত প্রিয়ম আপু বলসেন ও এখনো শঙ্কা মুক্ত না। এত দিন খাইতেই পায় নাই ঠিক মত। জানি না আবারো আমাকে কষ্টের সাগরে ভাসাবে কিনা। কিন্তু দেখা যাক। আমি যতটা পারি আগলায় রাখবো ওকে। বাকি টা আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন।