১৭৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ২৩, ২০১৫ । ১০.০৩ পি এম

 

মাঝে মাঝে মনে হয় বলে দেই সব। যাকে ভাল লাগে তাকেও বলে দেই। যাকে ভাল লাগে না তাকেও। তারপর বসে বসে দেখি কিভাবে পৃথিবী ধ্বংস হয়। আমি কিভাবে বদলে যাই সবার চোখে। কিভাবে আমাকে নিয়ে কথা হয়। এই অনুভূতি খুব বাজে। যা মনে আসে করতে পারি না। যা করতে হয় তা করি। কেমন ভণ্ড লাগে নিজেকে। উপরে এক ভিতরে আরেক। উপরে মুক ও বধির সন্ন্যাসী আর ভিতরে কাউকে কাউকে খুন করে লাশ পুতে ফেলাও শেষ।

গুড নিউজ হলো অভ্যাস হয়ে গেছে। আমি পৃথিবীর সবচেয়ে নিরীহ প্রাণী হয়ে বাকি জীবন টা কাটানোর রাস্তা টা চিনে গেছি। চুপ থাকো এবং কেয়ার করা বন্ধ কর। ব্যাস, আমার চেয়ে সুখি আর কেউ নেই। কথা বললেই সমস্যার চাকা ঘোরা শুরু করবে। আর কেয়ার করলেই কষ্ট পাওয়ার ট্রেন পেয়ে যাবে সবুজ বাতি। নীল ধোয়া ছারতে ছারতে এসে পিশে রেখে যাবে আমাকে। আমার ছিন্ন হওয়া অর্ধেক টা তখনো হাসি মুখে বলবে , ঠিক আছে… ব্যাপার না… অসুবিধা নাই।

একটা মানুষের মরে যাওয়ার আগে কিছু কাজ আছে। যেগুলো তার অবশ্যই করে যাওয়া উচিত। জীবনে অন্তত একটা গাছ লাগানো উচিত, এক জন কে লিখতে পড়তে শেখানো উচিত, একটা বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখা উচিত আর তার জীবনের শিক্ষা টা সাথে করে নিয়ে না গিয়ে রেখে যাওয়া উচিত। আমার সব গুলাই করা শেষ। শুধু শেষের টা করে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। অনেক ভাল হবে যদি তিনশ পঁয়ষট্টি নম্বর লেখাটা লিখে যাওয়ার পর খাতা জমা দিয়ে বের হয়ে হয়ে যাতে পারতাম এই পরীক্ষার হল থেকে।

আমি আজকে ঢাকা আসছি। যখন পাবনা থেকে রওনা দেই তখন শেষ রাত। রাত চারটা দশ এ বাস টা দৌড়ানো শুরু করলো। আর দৌড়াতে দৌড়াতে এই কোন দিকে তাকানোর সময় নেই শহরে এসে যখন থামলো তখন সবাই দৌরাচ্ছে অলরেডি। বাস থেকে নেমে আমিও দৌড়ানো শুরু করলাম। অফিসে আসলাম। অফিস করলাম। ডেস্ক এ বসে দৌড়ালাম আরো অনেক গুলা মানুষের সাথে। ফোনে, ই মেইলে, কথায়। একটা সময় মনে হলো কেমন মাতাল লাগছে। কলিগ আপু বললো, বাসায় গিয়ে ঘুমাও। আমার অযুহাতপ্রিয় মন তাতেই হাততালি দিয়ে হাটা শুরু করলো বাসার দিকে। তাকে অনেক কশটে টেনে তুনে শরীর এ রাখলাম পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত। তারপর রিটায়ার্ড হার্ট ব্যাটসম্যান এর মত লজ্জা লজ্জা মুখ করে বাসায় চলে আসলাম। কথা ছিল আমি তামীম ভাই বনানী যাব ঘুরতে। কিন্তু ক্লান্তির চেয়ে বেশি ছিল অবসাদ। তাই আর বের হওয়া হয়নি।

আমার জন্য হতাশা চর্চা করা টা একটু কঠিন। আমি জানি আমাকে দেখে দেখে অনেকে ইন্সপায়ারড হয়। ভাব নেওয়ার জন্য বলছি না। আসল, সত্যিকার এর, জলজ্যান্ত মানুষ আমাকে বলেছে , “আপনাকে দেখে আমি ইন্সপায়ার হই”। এইটা এই জীবনের অনেক বড় পাওয়া। অফিসে গদি তে বসা মহাজনেরা যখন ইন্সপাইরেশন নিয়া বড় বড় বুলি আউরায় আর কাজের বেলায় বসে ঘণ্টা বাজায় তখন আমি আমার এই অর্জন এর কথা ভাবি। ইচ্ছা করে ওদের বলি, আপনার থেকে যদি এই ডেজিগনেশনটা আর অফিসটা মাইনাস করি, তাহলে আর কি থাকে? একটা স্বার্থপর কুৎসিত প্রতিভাহীন মানুষ ছাড়া?

কিন্তু আমি আমার হতাশা লুকিয়ে রাখলে যেটা হবে তা হল নিজের সাথে বেইমানি। আমার কাছে জীবন টাকে একটা বিশাল লাল সুইচ মনে হচ্ছে। যেই সুইচ টা আমাকে কে জানি ধরিয়ে দিয়ে কেটে পরেছে। সুইচ এর উপর লেখা ডু নট প্রেস। চাইলে সারা জীবন সুইচ টা ইগ্নোর করে কাটায় দেওয়া যায়। যত্ন করে রাখলাম, ধুলা টুলা ঝাড়লাম মাঝে মাঝেই, আগের দিন এর টিভির কাভার এর মত একটা কাভার দিয়াও রাখতে পারি। সুইচ টা টিপ দিলে যে কি হবে, তা কেউ বলতে পারে নাই। কিন্তু ভাল কিছু হবে না এইটা শিওর। নাইলে তো উপরে ডু নট প্রেস লিখে রাখতো না। কত দিন পারব জানি না। একদিন হয় তো লাল সুইচ টা টিপ দিয়ে ধ্বংস দেখার অপেক্ষা করবো। তাও তো ভাল। আমি জানবো যে, আই ট্রাইড টু সি হোয়াটস অন দি আদার সাইড।

কি যে লিখলাম এগুলা। মনের ভিতর থেইকা আওয়াজ আসতাসে,

” বাইয়া, এট্টু বুজাইয়া কওউ। ”

 

 

 

১৭৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ২২, ২০১৫ । ১১.৩৭ পি এম

 

আমরা আজকে ঈশ্বরদি এয়ারপোর্ট গেসিলাম। ঈশ্বরদী এয়ারপোর্ট এর ইতিহাস অনেক পুরোনো। ২য় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময় এইটার নাম ছিল হিজলি এয়ারবেস (Hijli Base Area)। অপারেশন মেটারহর্ন এর একটা গুরুত্বপূর্ণ বেজ ছিল এই ঈশ্বরদি। কথা যখন উঠলই একটু অপারেশন মেটারহর্ন (Operation Matterhorn) নিয়া বলি।

২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউ এস আর্মি জাপান, চায়না আর বার্মার উপর বোমা ফালানোর জন্য একটা অপারেশন এর পরিকল্পনা করে। এইটা একটা স্ট্রেটেজিক বোম্বিং অপারেশন আর ব্যাবহার করা হবে বি টুয়েন্টি নাইন (B-29 Superfortresses) বোমারু বিমান। এই কাজ এর দায়িত্ব দেয়া হইল আমেরিকার টুয়েন্টিএথ এয়ারফোর্স কে। এরাই হিরোশিমা তে আনবিক বোমা ফালানোর দায়ীত্বে ছিল। তাদের একটা উইং হইল ফিফটি এইঠথ বোম্বারমেন্ট ইউনিট। এরা ইন্ডিয়া আর বাংলাদেশে কিছু বেজ বানাইলো এই কাজ এর জন্য। এর মধ্যে একটা বেজ ছিল ঈশ্বরদি। আর অপারেশনটার নাম ছিল অপারেশন মেটারহর্ন।

আমার কাছে ঈশ্বরদী এয়ারপোর্ট অনেক ভাল্লাগসে। ছোট্ট কিউট একটা এয়ারপোর্ট। ৪৭০০ ফিট রানওয়ে। শেষ বিমান নামসিল ২০১৪ এর অগাস্ট এ। তারপর থেইকা আর কোন অপারেশন নাই এইখানে। আমরা রানওয়েতে হাইটা বেরাইসি। বইসা, লাফায়া ছবি টবি তুলসি। বেশ ফিলিংস এর বেপার সেপার হইসে।

কালকে ঢাকা ফেরত আসবো ইনশাল্লাহ। আমাদের বাস ভোর চারটা দশ এ। জোম্বির মত গিয়া বাস এ উঠব। তারপর ঢাকা নাইমা অফিসে ঢুইকা যাবো। ভাবতাসি আজকে রাতে আর ঘুমাবো নাকি সারা রাত গান বাজনা আর আড্ডা উড্ডা মাইরা কাটায় দিব।

আজকে আরেকটা ছোটখাট মজা হইসে। তামিম ভাই এর শালা অনেক সহজ সরল তাই সারাক্ষনই শালা-দুলাভাই এর মধ্যে লেগ পুলিং চলে। আমি বইসা বইসা মজা দেখি। আজকে তামিম ভাই ওর মোবাইল নিয়া কোন মেয়েরে লাভ সাইন পাঠায় দিসে, আর শালাবাবু (উনি শর্ত দিসে নাম প্রকাশ করা যাবে না) তো বিরাট লজ্জা টজ্জা পায়া শেষ। সে তারাতারি তার বান্ধবি রে ফোন দিসে, আর বলসে, শুনো, ওইটা আমি না, আমার দুলাভাই পাঠাইসে। ওই মেয়ে অইপাশ থেকে বলসে, তোমার দুলাভাই তো অনেক কিউট। আর শালাবাবু বেচারা উত্তেজিত হয়া তারাতারি বলসে, “শুন, আমার দুলাভাই এর সাথে লাইন মারতে আইসো না, উনি কিন্তু ম্যারিড, তাও আমার বোন এর সাথে”। আমরা এদিকে হাসতে হাসতে শেষ।

তামিম ভাই আবার দেশে আসবে আগামি বছর। এর আগে তো আর আসা হবে না পাবনা। পাবনা শহরও আমার অনেক ভাল্লাগসে। ইছামতি আর পদ্মার পারে ছোট খাটো ছিমছাম শহর। ভাল মানুষ এর শহরে আসলে একটা শান্তি শান্তি ভাইব পাওয়া যায়। যেইটা আমি এইখানে পাইসি। যার পুরা কৃতিত্বই তামিম ভাই এর।

প্রিয় তামিম ভাই আর উনার অসামেস্ট পরিবার, আমাকে এই তিন দিন সহ্য করার জন্য ধন্যবাদ। বিদায়। আবার দেখা হবে।

 

১৭৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ২১, ২০১৫ । ১১.৩৪ পি এম

 

পাবনায় ২য় দিন। সকাল টা শুরু হইসে অনেক সকালে। সবাই ঘুমায়া ছিল। আমি চুপ চাপ খালি পায়ে ছাদে উইঠা আসলাম। ছাদ ভরতি তাহসিন আন্টির হাজার রকম গাছ। কালকে রাত্রে বৃষ্টি হইসিল। পাতায় পাতায় পানি আটকায় ছিল। আমার সাথে সেভেন ডি টা ছিল না। পকেটে মোবাইল ছিল ওইটা দিয়া ছবি তুল্লাম কয়েকটা। একটা কাজি পেয়ারা গাছ আছে ওই টার কাছা কাছি আসলে দেখলাম একটা টুনটুনি পাখি। একটা পেয়ারা খাইতেসিল ঠুকরায় ঠুকরায়।

দাঁড়ায় দাঁড়ায় ছবিটা দেখলাম। সাথে একটা টেলি লেন্স থাকলে কেম্নে ছবিটা তুলতাম চিন্তা করলাম। তারপর টুন্টুনিটা চইলা গেলে আমিও নিচে চইলা আসলাম। সব ছবি আমি তুলতে পারবো এমন কোন কথা নাই। কিন্তু এভ্রি মিসড অপারচুনিটি মেক্স ইউ রেডি ফর দা নেক্সট ওয়ান।

নিচে আইসা দেখলাম রিটা আন্টি নাস্তা রেডি কইরা বইসা আসে। আমাকে বলল, তামিম যখন উঠবে তখন ত আর নাস্তা খাওয়ার টাইম থাকবে না। তুমি খায়া ফালাও। ঢাকায় থাকতে যতদুর ওজন কমাইসিলাম এই খানে আইসা তার ডাবল বাড়ায়া ফালাইতাসি, মাশাল্লাহ।

নাস্তার পর আমি আন্টির কাছ থেইকা একটা নেক্রা চায়া নিলাম, তারপর তামিম ভাই এর বুকশেল্ফ এর উপ্রে ঝাপায়া পর্লাম। একটা তাক এর প্রায় দুই তিনশ বই নামাইলাম, এগুলারে ঝাইরা মুইছা ভাল বই গুলা আলাদা কইরা সর্টিং করলাম। তারপর আবার তাকে সাজায়া রাখলাম। কত যে দুরদান্ত সব বই পাইসি। সব ছোটবেলার বই গুলা। তামিম ভাই এর শৈশব এ হাইটা বেড়াইতাসিলাম মনে হইতাসিল।

বই গুছানির সময় তামিম ভাই এর আম্মা তাহসিন আন্টি আইসা বসছিল। আমরা অনেক গল্প করলাম। আন্টি তামিম ভাই এর ছোটবেলার গল্প বলতাসিল। একটা মা আর ছেলের বন্ধুত্ব্ এর গল্প। একটা মা যখন বলে, তোমার পড়ালেখায় ভাল হওয়ার দরকার নাই। ভাল মানুষ হউ তাইলেই হবে। তামিম ভাই যখন ইউনিভার্সিটি তে ঢুকল, তখন উনি তামিম ভাই কে বলসিল, প্রেম তো করবাই জানি, তবে যদি রাজাকার বা জামাত এর কেউ মেয়ের ফ্যামিলি তে থাকে, তাইলে সেইটা জীবনেও আমি মানবো না, এইটা মনে রাইখ। আমি শুধু শুনলাম আর তামিম ভাই এর বড় হওয়াটা চিন্তা করার চেষ্টা করলাম। আমি কোন কম্পারিজন করি নাই। আম্মাদের মধ্যে তো কোন কম্পারিজন করা যায় না। থাক।

দুপুরে খাওয়ার পর আমি বাছাই করা কয়েকটা বই নিয়া গড়াগড়ি করতে ফুটবল সাইজ এর বিছানাটায় উঠলাম। তারপর বিছানাটা দৌড়ানো শুরু করল নাকি দিন টা জানি না, কেম্নে কেম্নে জানি উই এন্ডেড আপ উইথ অনেক অনেক উকুলেলে বাজানি আর তারপর কেম্নে কেম্নে জানি একটা ডাবস্ম্যাশ ভিডুও বানাইলাম। মজা লাগসে।

আজকে সারাদিন বাড়ির সিমানার বাইরে পা রাখি নাই। কিন্তু দিনশেষে ঝুলি তে জমসে মোবাইলে তাহসিন আন্টির অনেক গুলা ফুলের ছবি, সেভেন ডি তে অনেক গুলা পাখির ছবি, উকুলেলেতে কয়েকটা নতুন গান আর ফেসবুকে ২৬৪৯ (এন্ড কাউন্টিং) ভিউ অয়ালা একটা ভিডু। ভাল দিন, একটা ভাল দিন গেসে।

কালকে কিছু ঘুরাঘুরির প্ল্যান করতাসি। শইল্ডা এট্টু লারাচারা করা দরকার।

 

১৭৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ২০, ২০১৫ । ১১.৩৩ পি এম

 

পাবনায় বইসা নোট লিখতাসি। একটু আগে আম্মা ফোন করসিল। ফোন কইরা বলসে, তোর আর ঢাকায় আসার দরকার নাই। তামিম রে বল তোরে ভরতি কইরা দিতে। আমি বলসি জি আচ্ছা আম্মা। বলতাসি এখনি। আম্মা রাইগা মাইগা রাইখা দিসে।

ঘটনা হইল, তামিম ভাই কালকে গভির রাত্রে (রাইত শুয়া এগারোটা) ঘুমের মধ্যে ফুন্দিয়া কইল, ইথার বাই, লন পাবনা যাই। আমি ঘুমের মধ্যেই কইলাম, লঞ্জাই। এহন আমু? তামিম ভাই কইল, না অখন্না, কালকে সকালে। আট্টায় বাস। আমি আইচ্ছা বইলা আবার ঘুমায় গেলাম।

ভোর পাচটায় উইঠা চিন্তা করতাসি, আইচ্চা, সপ্নে দেখসি? না হাচাই? থাউক বেগবুগ গুছায় রাখি। সাব্ধানের মাইর নাই। ঠিক ৬ টায় তামিম্বাই ফুন্দিয়া কইল, উঠসেন? আমি কইলাম উইট্টা রেডি হয়া বয়া আসি। উনি কইল তইলে আয়া পরেন। আমি লোউর পাইরা বাসাত্তে বাইর হইলাম। তারপর সিঞ্জি তে বইসা দৌড়াইতে দোউড়াইতে তামিম্বাইগো বাসায় আয়া পড়লাম।

সেইখান থিকা বাসস্টান্ড, তারপর বাসে বইসা কম্বল মুড়ি দিয়া হা কইরা ঘুমায় গেলাম। লুলে লুলে কম্বল ভাসায় দিয়া উঠনের পর দেখলাম ফুড ভিলেজ নামে এক জায়গায় বাস থামসে। অই খানে মাত্র তিন্ডা রুডি, একবাটি মাংস আর একটা ডিম্ভাজি আর চা দিয়া হাল্কা নাস্তা খায়া আবার বাস এ উঠলাম।

বাস এ উইঠা এট্টু পরে তামিম ভাই এর আম্মা, দা কুলেস্ট আন্টি, জুস খাইতে চাইল। জুস টা আমার পায়ের কাছে রাখসিলাম। তাকায়া দেহি নাই। গরায়া কই যানি গেসে গা। পরে বহুত কাহিনি কইরা জুস উদ্ধার করা গেলেও একটু পরে জুস মুখখা গেল গা হাত থেইকা পইরা সাম্নের সিটের মহিলার নিচে আবার। এখন আমি তো আর কইতে পারি না, আপা, আপ্নের নিচে আমার মুখখা।

তাই মুখখার মায়া ত্যাগ কইরা ওই বিস্রি জরের অসুধ ফ্লেভারড জুস খানা তামিম ভাই এর শালা আদন রে ভুলায় ভালায় পুরাডা খাওয়ায় দিলাম।
পাবনা আসছি আসলে আরাম করতে। গত দুই সপ্তাহ উইকেন্ড এও অফিস কইরা কেমন জানি হাস ফাস লাগতাসিল। তাই এইখানে আইসা পরসি। উকুলেলেও নিয়া আসছি। আমি আর তামিম ভাই একটা রবীন্দ্রসংগীত উঠাইতাসি। হইলে ভিডু কইরা আপ্লোডামু।

আজকে একটা মজা হইসে। আমরা বিকালে পাবনা শহর হাটতে গেসিলাম। তখন এক্টা ছেলে ফোন দিসে। আমার সাথে দেখা করতে চায়। আমি হাইটা হুইটা আইসা তামিম ভাই রে নিয়া গেলাম দেখা করতে। গিয়া দেখি ছেলেটা তার আরো দুইজন ফ্রেন্ড কে নিয়া দাড়ায়া আসে গত একঘন্টা ধইরা। আমাদের ধইরা মিষ্টির দুকানের ভিতরে নিয়া গেল মিষ্টি খাওয়াতে। তামিম ভাই অথবা হাল্কের থাবা সাইজের রাজভোগ প্লাস মিশটি খাইতে হইসে ওদের অনুরোধে।

এখন ধুমায়া বৃষ্টি হইতাসে বাইরে। আমি আর তামিম্বাই উকু বাজায়া মিনার এর “আহারে আহারে” গাই। ভিতরটাও আহারে আহারে করতাসে। যাই গা।

 

১৭৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ১৯, ২০১৫ । ১০.৩৮ পি এম

 

আমি এই মাস থেইকা অনেক স্বাস্থ্য সচেতন হয়া গেসি। হঠাৎ ই। এক তারিখ থেইকা আমি প্রতিদিন পাঁচ কিলোমিটার হাটতাসি। কারন আমি চেষ্টা করতাসি ওজন কমাইতে। সকাল বেলা মর্নিং ওয়াকে গেলে যেমন দেখা যায় কিছু কিছু আঙ্কেল স্ব উদ্ভাবিত ব্যায়াম কইরা হাত পা মুচ্রা মুচ্রি করতাসে, ওই রকম না। আমি আগে অনেক পড়ালেখা করসি। কারন বুঝসি, তারপর শুরু করসি। পড়াশুনার মুল বিষয় ই ছিল ভুড়ি। ভুড়ি কি, ভুড়ি কেন, ভুড়ি কেন না এই সব নিয়া পড়সি ফাটায়া। তারপর শুরু করসি ভুরু কমানি কর্মসুচি।

ভুড়ি শব্দটা অবশ্য কেমন জানি। আগলি টাইপ এর । ভুড়ি অবশ্য একটা আগলি জিনিশ ই। কিন্তু আগলি বইলা এভয়েড করলে তো হবে না। তাইলে ভুড়ি থাকবো নিজের মত আমি আর থাকবো আমার মত। আমি বরং এইটা কে আদর কইরা স্ফীত মদ্যপ্রদেশ বলি।

আমার প্রথম জিজ্ঞাসা ছিল স্ফীত মদ্যপ্রদেশ ক্যান হয়। পইড়া যা বুঝলাম আমাদের শরীরে অ্যাডিপোসাইট নামে একধরনের কোষ থাকে। এগুলাকে চর্বি কোষ বা ফ্যাট সেল বলা হয়। ফ্যাট সেল বেশি থাকে পেট , কোমর আর পশ্চাতদেশে। ফ্যাট সেল বেশি থাকায় এগুলা আয়তনে বাড়ে। এই তিন জায়গায় চর্বি জমার প্রবণতাও বেশি। নেট এ যদ্দুর পড়সি,

• জেনেটিক কারণে স্ফীত মধ্যপ্রদেশ হয়।
• খাওয়া এবং ক্যালরি বার্ন এর মধ্যে ব্যালেন্স না করলে ভুড়ি হয়
• হর্মোনের তারম্যের কারণে ভুড়ি হয়
• পরিশ্রম না করলে ভুড়ি হয়
• কিছু ওষুধ থেকে ভুড়ি হয়
• হঠাত নেশা ছেড়ে দেওয়া, অপারেশন এর পর, ডেলিভারির পর মানসিক অবসাদ থেকে ভুঁড়ির বৃদ্ধি হয়।

ভুড়ি থেইকা যা যা হইতে পারে তা হইলো,

• হার্ট এটাক হইতে পারে
• ডায়বেটিস হইইতে পারে
• বাত হইতে পারে
• ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে
• বুদ্ধির বিকাশ বাধা প্রাপ্ত হয়।
• আর হাবি যাবি রকম এর রোগ হয়

এই হইল ভুড়ি রিলেটড অব্জারভেশন বা আলোচনা। এরপর শুরু হইব কেমনে ভুড়ি কমান যায় সেই পড়াশুনা। কিন্তু হাটা হাটি চালু থাকবে।

 

 

 

১৭২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ১৮, ২০১৫ । ৯.১৭ পি এম

 

বাংলাদেশ যে স্বনির্ভর হইতাসে আস্তে আস্তে তা বুঝতে হইলে খুব বেশি দূর যাইতে হয় না। আমাদের লিফট গুলাই তার বড় প্রমান। ছোটবেলায় আমরা দেখতাম সব লিফট এর সাথে একজন লিফট ম্যান থাকে। যে খুব গম্ভীর মুখে ভুরু মুরু কুঁচকায় বইসা থাকতো। আর লিফট এ যারা উঠতো তাদের জিজ্ঞেস করত “কত তে যাবেন?”

নতুন নতুন ঢাকায় আসা কেউ কেউ এইটারে ভাবতো লিফট এ উঠলে মনে হয় টেকা টুকা দেওয়া লাগে, তারা আবার উলটা জিগায়া ফালাইলতো, “কত নিবেন আপনেই কন” পরে পাসের জন এর গুঁতা খাইয়া তারাতারি স্মার্ট হওনের ট্রাই করত আর বলতো, “সাত এ দেন, রহমান স্যার এর অফিসে যাব, উনি আমার তালই আব্বা লাগেন” আর লিফটম্যান মাথা নাড়াইয়া সাত লেখা চারকোনা বাটন এ টিপ দিত।

লিফট এ উঠা লোকজন এর লিফট এর উঠার পর মনে থাকতো না তারা জানি কত তে উঠার জন্য উঠসে। পুরা লিফট এর সব লোক হা কইরা লিফট এর কপালে লেখা সংখ্যায় গুলার দিকে তাকায় থাকতো যেইখানে স্কেলের মত সব সংখ্যা লেখা থাকতো আর একটা একটা কইরা জলতো আর নিভতো। সেই অপুর্ব সংখ্যার জলা নিভা তাদের এতই সম্মোহিত কইরা রাখতো যে লিফটম্যান এর বলতে হইত, সাত এ আসছি, নামেন নামেন। আর সবাই হুর মুর কইরা নাইমা যাইত, কারন লিফট এর দরজায় বাইর হইতে গিয়া আবার যদি কেঁচা লাগে।

লিফট গুলায় আর কিছু থাকুক না থাকুক একটা টুল থাকতো মাস্ট। যেইটা লিফট ম্যান এর সিংহাসন না হইলেও ইদুরাসন তো বটেই। সেইটা খালি থাকলেও কেউ বসার সাহস পাইত না। একবার এক লিফট এ খালি লিফট ম্যান নাই বইলা আমি আর আম্মা আট তালায় হাইটা উঠসিলাম।

আর এখন সব লিফট সেলফ সার্ভিস। উইঠাই যে যার নাম্বার এ টিপ মারে। আর নাম্বার গুলাও লিফট এর ভিতরে কপাল থেইকা সইরা আসছে সাইডে। লিফট এর ভিতর মিউজিক, ফ্যান, টেলিফোন ইত্যাদি নানান আধুনিক সুযোগ সুবিধা যোগ হইসে।

যদিও আমাদের কিছু কিছু স্বভাব এখনো বদলায় নাই। আমরা লিফট আস্তে দেরি করলে কল বাটনে হুদাই জুরে জুরে টিপ তে থাকি। এস ইফ, জুরে জুরে টিপলে কল বাটনে প্রেশার সেন্সর লাগানো আছে, সেইটা সেন্স কইরা আপনেরে তুইলা নেওয়ার জন্য জনাব লিফট বাংলা সিনামার নায়কের মত “জুলেখা আ আ আ” বইলা স্লো মোশন এ দৌড় দিয়া আসবে।

কেউ কেউ উপরে নিচে দুই বাটনেই টিপ মাইরা দাঁড়াইয়া থাকে। যাতে কোন মতেই মিস না হয়। সে হয় তো নিচে যাবে। কিন্তু টিপ মারসে দুইটা তেই। লিফট এর দরজা খুলার পর সবাই যখন প্রশ্নবোধক চোখে তার দিকে তাকায় থাকে তখন সে খুবি ভাব নিয়া বলে, ও উপরে যাচ্ছে? আচ্ছা যান। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় বলি, হে মহাত্মন, আপনার এই মুল্যবান অনুমুতির জন্য আপনার চরণে শতকুটি প্রণাম।

আবার কেউ কেউ আছে যাদের দেখলে মনে হয় এই লিফট আজকে রাতের শেষ ট্রেন, এইটা চইলা গেলে আর জীবনেও লিফট আসবে না । সে হয়তো তিন কিলোমিটার দূরে এমন সময় লিফট এর দরজা খুইলা গেল। সে ওই খান থেইকা “এই লিফট আসছে, লিফট আসছেএ এ এ, ধরেন ধরেন” বইলা দৌড়ানি শুরু করে আর লিফট এর কাছে আইসা দরজায় কেঁচা খাওয়ার ভয়ে কুংফু স্টাইলে বাতাসে একটা কোপ দ্যায় । লিফট এর সেন্সর তার বাতাসি কোপ খাইয়া দরজা লাগতে গিয়াও খুইলা যায়। আর সে বেশ , হু হু, দেখসো আমি কত কুতুব, ভাব নিয়া লিফট এ উঠে।

আমি এরকম লোক দেখলে লিফট এর দরজার ওপেন বাটন এ চাপ দিয়া দাড়ায় থাকি যাতে উনারা শান্তি মত উঠতে পারে। কেউ কেউ থ্যাংকিউ দ্যায় কেউ কেউ দ্যায় না।

সবচেয়ে মজা হয় সকাল বেলা অফিস্ যাওয়ার সময় যখন ১৫ তালা থেইকা নামি আর ১৪ তালায় আইসা এইরকম কারো জন্য লিফট আটকাই, আর সে আইসা মোটামুটি লিফট এর দরজা জরাইয়া ধইরা দাড়ায়া হাঁক ডাক শুরু করে,

“এই সুহেলের মা, তাড়া তাড়ি আসো, লিফট আসছে, লিফট আসছে। সুহেলের নাস্তা খাওয়া শেষ হইসে? ওরে নিয়া তাড়াতাড়ি আসো। লিফট আসছে, লিফট আসছে। আরে আসো না তাড়াতাড়ি। লিফট যাবে গিয়া তো। আরেকটা মুজা পরে পরাইও। স্কুল এর দেরি হয়া যাবে। লিফট আসছে, লিফট আসছে”

 

১৭১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ আগস্ট ১৭, ২০১৫ । ১০.৪৬ পি এম

 

তিন দিন না হাটার পর আজকে হাটতে পারসি ফাইনালি। তিন দিন হাটি নাই কারন অফিস থেইকা বাইর হয়া লারাচারা করনেরি এনার্জি থাক্তোনা, হাটা হাটি তো দূর এর কথা। আর সাথে আমার এতদিনের জমানো আইলসামী তো আছেই। একটু কেমন জানি অপরাধী লাগতাসিল। তিনদিন ধইরা না হাইটা খালি আরাম করতাসি। ছিঃ অন মিঃ।

কিন্তু আজকে সকল অলসতা কে পেছনে ফেলে, এনার্জি পাবে পেয়ারা খেলে, কিই আছে দুনিয়ায় ভাইবা হাটা শুরু করসি। অলসতা তো থাকবোই। আইলসামির সময় আইলসামি আর হাটার সময় হাটা। আসা করতাসি আগামী দিন গুলোতেও আমি এই গা হাত পা টিপা আইলসামি ভুত এর প্রভাব থেইকা নিজেকে মুক্ত করতে পারবো।

হাটা শেষ হওয়ার পর এন্ডোমন্ডো তে ডাটা দেখতে গিয়া দেখলাম, আজকে হাটা হাটির ২ লম্বর আর ৪ লম্বর কিলোমিটার এ আমার হাটার পেস বেস ভালও। ঘটনা কি? ভাবতে গিয়া বাইর করলাম, ২ কিলোমিটার এর সময় কানে লাগানো হেডফোনে বাজতাসিল, আর্টসেল এর “এই বিদায়”। আর ৪ নাম্বার কিলোমিটার এ বাজতাসিল, কুইন্স এর “এনাদার ওয়ান বাইটস দা ডাস্ট”। এই দুই গান এর সময় পেস বাইরা গেসিল। বিশেষ কইরা কুইন্স এর গান্টার কথা আমার ইস্পেশালি মনে আসে। টুড টুড টুড কইরা যখন বেজ টা বাজা শুরু হইসিল, আমি ট্রাই করতাসিলাম তার লগে পা ফেলার সিঙ্ক করতে। আর ফলাফল, পেস বাইরা গেসিল হাটার।

হাটতে হাটতে অনেক আইডিয়া আসে মাথায়। আজকে যেমন ভাবতাসিলাম, আমরা কত হাজার বছর ধইরা প্রেজেন্টেশন বানানোর কাজে মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট এ আটকা পইরা আসি। এইটার বিকল্প কিসু বাইর হয়া না ক্যান। পাওয়ার পয়েন্ট এর গ্রাফিক্স এত বাজে লাগে আমার কাছে। এইটা আমাদের ইউনিভার্সিটির পোলাপান দের ক্রিয়েটিভিটি নষ্ট কইরা দিতাসে। এত লিমিটেশন আর আর এত ফালতু গ্রাফিকস এর সফটওয়ার টা আমাদের নতুন প্রজন্ম এর স্বাধীন ভাবে ভিজ্যুয়ালস চিন্তা করার ক্ষমতা পুরাপুরি নষ্ট কইরা দিতাসে এইটা বুঝার মত , প্রতিবাদ করার মত পর্যন্ত আমাদের কেউ নাই। আমরা এই ধারনা নিয়া বড় হই, Algerian একটা সুন্দর ফন্ট। এইটারে বড় কইরা বোল্ড কইরা টাইটেল দিলে সেইটা ভাল লাগে দেখতে। পারসোনালি কেউ প্রফেশনাল কোন কাজে Algerian ফন্ট টা ইউজ করসে দেখলে আমার তারে গুলি করতে ইচ্ছা করে। আমাদের কেউ একবার এর জন্য ও বলে না, Algerian, Times New Roman, Calibri এগুলা ভাল ফন্ট না। এগুলা আমাদের মাইক্রোসফট বলতাসে ভাল ফন্ট, কিন্তু আসলে এগুলা দুনিয়ার আগলি ফন্ট।

তারপর ভাবলাম, আমাদের দেশে এত এত আইটি এর লোকজন, এত প্রোগামার, এত গ্রাফিক্স ডিজাইনার, এত ওয়ার্ড প্রেস এর থিম ডেভলপার, আমাদের কি উচিত ছিল না একটা পাওয়ার পয়েন্ট এর বিকল্প সফটওয়ার বাইর করা। যেইটা তে সুন্দর দেখতে ফন্ট ব্যবহার করা যাবে, Auto Shapes এর মত বিদঘুটে শেপ এর বদলে সুন্দর সুন্দর ইনফোমার্শিয়াল টাইপ শেপ ব্যবহার করা যাবে। আমাদের প্রেজেন্টেশন গুলা হবে সিম্পল, স্লিক আর সুন্দর। মাঝে মাঝে অফিসের প্রেজেন্টেশন গুলা দেখতে আমার কান্দা আসে। কিছু কিছু প্রেজেন্টেশন এর কালার কম্বিনেশন দেখলে মনে হবে, একটা জলহস্তী আর একটা গণ্ডার উইড খাইয়া হাই হয়া মেক আউট করসে আর তখন এই জিনিষ পয়দা করসে।

কোথাউ এমন কোন আইন আসে যে অফিসের প্রেজেন্টশন কাঠ খোট্টা টাইপ হইতে হবে? আমরা সিম্পল করতে গিয়া ভয় এর চোটে ব্যাকগ্রাউন্ড একেবারে সাদা রাইখা দেই নাইলে খুব আর্ট এর ছোঁয়া দিসি প্রেজেন্টশন এ চিন্তা কইরা বিসরি বিসরি ক্লিপ আর্ট এড করি। দোষ টা পুরাপুরি যে প্রেজেন্টেশন বানাইতাসে তারেও দেওয়া যায় না। সে ছোটবেলা থেইকা দেইখা আসছে মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট। হোয়াট বেটার সেন্স ইউ এক্সপেক্ট?

দেশ এবং জাতিকে আগলি সেন্স অফ ভিজুইয়ালস থেইকা বাচাইতে হইলে মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট এর একটা বিকল্প অতি সত্তর প্রয়োজন।