১৫০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুলাই ২৭, ২০১৫ । ১১.০০ পি.এম

 

অখন বাজে রাইত নয়ডা সাত। আমি জি ই সি মোড় এর জি ই সি কনভেনশন সেন্টার এ অবস্থিত। জামাই বউ কেউই এখনো আসে নাই। আশা করতাসি আজকের মধ্যে ওরা আইসা পৌছাবে। কালকে আসলে খেলুম্না। কাইল্কা আমার ফ্লাইট ভুরবেলা।

আজকে একটু উলটা দিকে যাইতাসি। পত্যেকদিন তো ঘুম থেইকা উইঠা কি কল্লাম অম্নে লিখি। আজকে এখন থিকা দিনের শুরুর দিকে যাই। একটু চেঞ্জ হইল। চেঞ্জ ইইজ গুড।

আমি আর মুগ্ধ হোটেল থেইকা এইখানে হাইটা হাইটা আসছি। রাত্রে বেলা রাস্তা পার হইতে আমার কিমুন যানি ধান্দা লাগে। আংশিক রাইত কানা আসে মুনে লয়। তাই আমি অল্মোস্ট মুগ্ধর পাঞ্জাবির কুনা ধইরা ধইরা আয়া পর্সি। মুগ্ধ যেই গাড়ীর সামনে দিয়া দৌর দিসে, আমিও অই গাড়ির সামনে দিয়া দৌর দিসি। একটু পরে মুগ্ধর ফোনে ফোন আসছে, “গাড়ির সামনে দিয়া এইভাবে পার হস ক্যান, গাধা”. আর মুগ্ধ বলসে, “সরি আব্বা”

আমরা হোটেল এ গেজাইতাসিলাম আর বাতিঘর থেইকা কেনা বই এর ফটুক সেশন করতাসিলাম। আমি মুগ্ধ আর ইহাব এর সাথে প্ল্যান কইরা একটা বড় জিনিস কিনার প্ল্যান করসি। কি জিনিস সেইটা এখন বলা যাইব না। ষাঁড় প্রাইজ।

হোটেলে আসার আগে আমরা বাতিঘর এ ছিলাম। চিটাগাং এ আমার পছন্দের জায়গা গুলার একটা হইল এই বই এর দুকান্টা। এইখানে আসলে আমার মন ভালা লাগে। আজকেও এত্ত গুলা বই কিন্সি। একটা সেট দেখসি টিন্টিন এর কালেক্টরস এডিশন, সব গুলা টিন টিন এর সংকলন। মাত্র তের হাজার টাকা। কিনি নাই। হাতায় হুতায় রাইখা আশ্চি।

বাতিঘর এ আসার আগে আমরা রিও নামে একটা কফি শপ এ বইসিলাম। আমি ত রাশার মত লেভেলের কফি লাভার না, তাই আমি নতুন কফি শপ এ আইলে মোকা ওর্ডার দেই। ক্যাফে রিওর মোকারে আমি ১০ এর মধ্যে ৮ দিমু। ব্রাউনিও খাইসি। জুসি না তেমন। এক্টূ ড্রাই।

রিও তে আসছি আমরা সি এন জি দিয়া। আমরা পাচ জন একটা সি এন জি তে কইরা আসছি। তারমধ্যে ইহাব এর মত ওয়াইড এংগেল লোক ও আসিল। কেম্নে পাচ জন আইটা গেলাম, সে এক বিরাট আইশ্চজ্জ জনক ঘটনা। আমরা আসছি জামান নামের এক হোটেল থেইকা। এইখানে আমরা লাঞ্চ করসি আজকে। খাবার দিতে অনেএএএক লেট করসে কিন্তু খিচুরিটা জবরদস্ত আসিলো। মুরগীর মাংস ছিল আর আলু গুলাকে পালক পনির এর পনির এর মত কিউব কিউব কইরা হাফ ভাইজা দিসে। হাল্কা দুই পেলেট খিচুরি মেরে দিলুম। অনেক ঝাল ছিল। তয় মজা ছিল।

ঘুম থেইকা উইঠা আসছিলাম ব্রাঞ্চ খাইতে দুফুর এক্টার দিকে। এর আগে উঠসি দুইবার। একবার সকাল ১১ টায় আরেকবার ভুর ৭ টায়। তারপর আবার ঘুমায় গেসিলাম। ৭ টার দিকে হুটেলের রুম সার্ভিস থিকা ফোন্দিয়া কইল স্যার আপনাদের ব্রেকফাস্ট কি রুমে দিয়া যাব? আপ্নারা কয়জন। আমি এক চোখ খুইলা দেখলাম আমার পায়ের কাছে ২ জন, বাম পাশে একজন আর ডাইন পাশে ফেরদুইচ্চা ঘুমায়। আমি বল্লামম। হ পাচজনের নাস্তা পাঠায় দেন। নাস্তা দিয়া গেল রুমে। অদের অনেক খন গলা ফাটায়া ফিস ফিস কইরা ডাক্লাম। কিন্তু কেউ কুন সারা শব্দ করেনা। কেম্নে করব। আমরা আড্ডাই মারসি ভুর ৫ টা পর্যন্ত। নাস্তা তো আর নষ্ট হইতে দেওয়া যায় না। তাই ব্রিহত্তর সার্থে আমি ই সব নাস্তা খায়া দেশ ও জাতীকে উদ্ধার করলাম।

খাওয়া শেশে বিকট শব্দ কইরা ঢেকুর উঠাইলাম। তাতেও কারও ঘুম ভাংগে নাই। ফেরদুইচ্চা হাল্কা জরায় ধরার ট্রাই করসিল কিন্তু সুবিধা করতে পারে নাই। ওরে একটা বালিশ আগায় দিসি বেচারা তাতেই গাল ঘসা ঘসি করতে করতে ঘুমায় গেল।

 

১৪৯/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুলাই ২৬, ২০১৫ । ৯.২০ পি.এম

 

ফেরদুইচ্চার গায়ে হলুদ এ বয়া বয়া নোট লিখি। এহনো শুরু হয় নাই কিছু। আমার মনে হয় যদি রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করি তাইলে হয়ত আর আজকে নোট লেখা হবে না। তাই এখনি লিখা ফালাই। আমি আজকে সকালে চিটাগাং আসছি। ফেরদৌস আর লরার বিবাহ খাইতে। আজকে আকদ পড়ানো হইসে একটু পরে গায়ে হলুদ এ যাবো। আর কালকে বিয়া।

আসার সময় বিরাট প্যাসপুস লাগসিল। আরেকটু হইলে ফ্লাইট মিস হয়া যাইত। ঘটনা হইল, ফেরদৌস গাড়ি পাঠাইসে ভোর পাচটায়। কথা ছিল গাড়ী আমাড়ে সুভাস্তু থিকা উঠাবে, তারপর আমরা ফেরদৌস রে মিরপুর থিকা উঠাবো। দেন আমরা এয়ারপোর্ট যাবো।

সব ই ঠিক ছিল, ড্রাইভার ফোন দিসে ঠিক পাচটায়, ভাইয়া আমি আস্তেসি নামেন। আমি রেডি ই ছিলাম। তালাতুলা মাইরা নাইমা আইসা ড্রাইভার রে ফুন্দিমু, আর লাইগা গেল ডিসেস্টার। ফোন এর ডায়ালার হ্যাং করসে। না পারতাসি কল করতে না পারতাসি ধরতে। এদিকে সময় চইলা যাইতাসে। গাড়ীও খুইজা পাইতাসি না। এখন কি করুম? একা একাই যামুগা এয়ারপোর্ট এ? ফেরদুস রে কেম্নে খবর পাঠামু তাইলে।

হঠাত মনে পরল ফেসবুক এ ট্রাই করি। ওরে কইলাম অবস্থা। ও আমারে একটা জায়গায় দার করাইল। ড্রাইভার আমারে না পায়া ওরে তুলতে গেসিল গা। সেই গাড়ি আবার বেক কইরা আইসা আমারে তুল্ল, দেন ফেরদৌস রে পিক্কল্লাম। দেন এয়ারপোর্ট।

ঢাকার সকাল বেলার লাইট অনেক সুন্দর ছিল আজকে। একদম ঝকঝক করতাসিল সব। আমাদের টেক অফ অনেক স্মুথ ছিল। টেন থাউজেন্ড ফিট পর্যন্ত একদম ক্লাউডলেস স্কাই। ঝামেলা টা শুরু হইল আমরা যখন প্রবাব্লি ফেনির উপর। অনেক রেইন ক্লাউড আর মাঝখানে মাঝখানে এয়ার পকেট। ল্যান্ডিং এর সময় অল্মোস্ট ৯০ ডিগ্রি ক্রসউইন্ড। পাইলট দুইজন এর খবর হয়া গেসে টাচডাউন করাইতে। ড্যাশ এইট এর মত প্লেন রানওয়ের একেবারে শেষে গিয়া থামসে। তারপর ব্যাক্ট্রেক কইরা আইসা টেক্সিওয়েতে ঢুকসে। চিটাগাং এয়ারপোর্ট এয়ারপোর্ট এর লেংথ ইজ লাইক টেন থাউজেনড ফিট। তইলে কত খানি রানওয়ে লাগসে থামতে, আল্লাহ। গেসিল আজকে আরেকটু হইলে।

এইখানে আজকে সারাদিন বৃষ্টি। কুত্তা বিলাই স্টেজ পার হিয়া গরু মহিষ স্টেজ এ গেসে গা। এয়ারপোর্ট থিকা ফিরার সময় একটা মজা হইসে। একটা সি এন জি গরতে পইরা কাইত হয়া গেসিল। ভিতরের আপা এত ভয় পাইসে। দরজা খুলতাসিল না উনার সাইড এর। উনি পাল্ডা সুদ্ধা সি এন জির দরজা খুইলা পানির উপ্রে দিয়াই যেই দোউট্টা দিল দরজাটা হাতে নিয়া। ব্রাভো।

রাস্তায় বৃষ্টির কারনে অনেক জ্যাম ছিল। বাই দা টাইম আমরা ফেরদুস এর বাসায় পৌছাইসি আমি খুদার্ত, শিতার্ত, মুতার্ত সব। আন্টি মনে হয় বুঝসিল। মায়ের মন তো। আমারে এক ডিব্বা রুডি আর দুই বাটি গরুর মাংস দিয়া বহায় দিল। আমি হাল্কা খায়া লাইলাম আরকি সব।

আমাগো গাড়ির আবার হর্ন নষ্ট। সেই জন্য উনার দুক্ষের শেষ নাই। আমি বুদ্ধি দিলাম, একটা সি এন জি ভাড়া কইরা সামনে চালাইতে কন। আর ফুনে যুগাযুগ রাখেন। যায়গামত খালি ঠেলা দিবেন পিসে দিয়া আর ফুনে কইবেন হর্ন দে, হর্ন দে। বেচারা গাড়ি। হর্নি হইতে চাইতাসে, হর্নি হইতে পারতাসে না।

তারপর হোটেল এ আয়া গইরানি। দুপুরে আরেক দফা হাল্কা লাঞ্চ। এইবার তিন রকম ভাবে রান্ধা গরুর মাংস। খায়া দায়া মসজিদে আইলাম। মসজিদের নাম জামাতুল আলফালাহ। এইখানে হুজুর দেখি উর্দু বলে। বিয়া পড়ানির সময় ফেরদুস এর শশুর কে বলসে, কাহো, দে দিয়া। আর উনিও বলসে, দে দিয়া। আমি ছবি তুলার সময় এই হুজুর অনেক ভুরু কুচকানি দিসে আমার দিকে।

অনেক ভাল্লাগসে মসজিদ টা। অনেক বাতাস আর শান্তি শান্তি লাগে। এই মসজিদ এর সাম্নেই ডেল স্টেইন সেল্ফি উঠাইসিল ফুটবল খেলান্তিস গো লগে। আজকেও খেলতাসিল দেখসি পোলাপান, পাশে বিশাল সাইনবোর্ড, “এখানে খেলাধুলা করা নিষেধ”

এখন লেখা থামাই। এট্টু পরে বডি ইয়েলোয়িং অনুষ্ঠান শুরু হইব। তামশা দেখি গা।

 

১৪৮/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুলাই ২৫, ২০১৫ । ১১.৩৬ পি.এম

 

দীর্ঘ ঈদ এর ছুটির পর আবার সুভাস্তুর বাসায় ফেরত আসছি। সেই লাস্ট ১৬ তারিখে গাট্টি বুচকা বাইন্ধা বাসাবো গেসিলাম। সেইখান থেইকা নেপাল। এখন আবার বাসাবো হয়া, জিকো ভাই এর বাসায় খিচুরি ডিম্ভাজি খায়া সুভাস্তুর বাসায় আইসা পরসি। আমার ঈদের ছুটি এখনো শেষ হয় নাই। কালকে ভোর বেলা ৭ টার ফ্লাইট এ সিডাং যামু, কালকে পরশু থাকুম। দেন মঙ্গলবার সকালের ফ্লাইটে ঢাকায় আইসা অফিসে ঢুকুম। তারপর শুরু হইব কাজ আর কাজ। তার আগে বাইচা লই একটু।

বাসায় ঢুইকা আমি সবাইকে হেলো বলসি। হেলো বাসা। হেলো আমার বুকশেলফ, হেলো আমার মডেল প্লেন গুলা, হেলো ফ্রিজ, হেলো আমার বিছানা। ওরা আমাকে দেইখা খুব খুশি হইসে। খালি লেজ নাই বইলা নাড়াইতে পারতাসে না। ভাবতে কেমন অদ্ভুত লাগে। এই ইট আর কংক্রিট এর ভীষণ অরণ্যে আমার একটা গুহা আছে। আমি রাত নামলে এইখানে আইসা ঢুকতে পারি। আগুন জ্বালাইয়া মাংস পুড়ায়া খাইতে পারি। হু হা হু হা করতে করতে দুই হাত দিয়া বুকে কিল দিতে দিতে লিটারেলি উদ্দাম নৃত্ত করতে পারি। নিজের সৌভাগ্য গুলা বুঝতে পারলে জীবন অনেক সুখের লাগে।

কালকে আমার অনেক সকালে উঠতে হবে। গাড়ি আসবে সাড়ে পাঁচ টায়, তারপর ফেরদৌস কে উঠাইতে হবে তারপর এয়ারপোর্ট যাইতে হবে। ওয়েদার নিয়া একটু চিন্তায় আছি। কিন্তু প্লেনে উঠার এক্সাইটমেনট এ চিন্তা গেসে গা। কালকে যাওয়ার সময় আবারো Dash-8 Q400 পাবো। আর ফেরার সময় A310. ইচ্ছা কইরা A310 এর সময়ে টিকেট কাটসি কারন গতবার ফেরার সময় 777 পাইসিলাম 😀 আই হোপ বিমান ওইদিন S2-ADF টারে পাঠায় কারন এই টা এখন একমাত্র প্লেন যেইটায় এখনো বিমানের পুরানা লিভারি টা আছে।

লিভারি হইল একটা প্লেন এর পেইন্ট স্কিম। বডি তে করা লোগো,লেখা আর আর্টওয়ারক মিলাইয়া পুরা ডিজাইনটাকেই বলে হয় লিভারি। বিমান এ একজন তিন রকম লিভারি আছে। ছয়টা 777, দুইটা Dash-8 আর একটা A310 (S2-ADK) একটা লিভারি তে যেইটা কিনা লাল সবুজ রিবন এর লিভারি, দুইটা 737 আছে সবুজ লিভারি তে যেইটা স্বয়ং বোয়িং এর ডিজাইন কইরা দেওয়া, আর বিমান এর পুরানা কালার স্কিম এ আছে একটা A310 (S2-ADF) . আমি চাই এইটাকে। পুরান লিভারি টাকে। শুন্তাসি চিটাগাং এ নাকি ব্যাপক বৃষ্টি হইতাসে। আই হোপ আমরা ল্যান্ড করতে পারবো কালকে। পাইলট ইজিপশিয়ান না হইলে বাংলায় কইতাম, উস্তাদ, সি প্লেনের থন খুইলা চাক্কার তোলে ফ্লোট লাগায় লন, জামাই লয়া বর যাত্রী যাইতাসি, ইজ্জত এর কুশ্চেন।

ফেরদুস-লরার বিয়া নিয়া গত কয়েক মাস ব্যাপী ব্যাপক জল্পনা কল্পনা আর পরি-কল্পনা হইতাসে। আমাদের একটা গুপন চ্যাট আসে যেইটার আমি নাম দিসি দৈনিক সিডাং। ওই খানে খাওন দাওন, লোরার সুন্দরি বান্ধবিরা, মরার বৃষ্টি কেন থামেনা ইত্যাদি জনগুরুত্ত পূর্ণ বিষয়াদি নিয়া আলাপ আলুচনা হইতাসে। ফেরদুইচ্চা ঘোষণা দিসে বৃষ্টি না থামলে অয় নৌকা দিয়া হইলেও বিয়া করতে যাইব। দুনিয়ার পরথম পাঞ্জাবি এর লগে লুঙ্গি কাছা মারা বরযাত্রী হিসাবে যাউন যায় কিনা সেইটা নিয়া একটা যুগান্তরকারি আইডিয়া দিসিলাম। কিন্তু লোরা হুমকি দিসে লুঙ্গি পইরা গেলে বিয়া তে ঢুকতে দিব না। আফসুস। আপাতত বেশি ফুটা ওলা বেল্ট লওয়া যাইতাসি। খাইতে খাইতে এডঝাসট করা হবে। লোরার বাপ বিশাল মেজবানি খাবার দাবার এর আয়োজন করসে বইলা প্রকাশ্য সূত্রে খবর পাওয়া গেসে।

আমার মনে হয় একটা বিয়া তে অভারল মুড সেট করার ব্যাপারে জামাই বউ এর বিশাল ভূমিকা থাকে। আমি খালি লোরা আর ফেরদুইচ্চার খুশি দেখি আর আমার ডাবল খুশি লাগে। দুইটা মনে হইতাসে বিয়াতে এমন গ্লো করব যে ফটো তুলতে হইলে ফটোগ্রাফার গো আন্ডার এক্সপোজ কইরা তুলতে হইব। আর আমি বুক ফুলাইয়া পাঞ্জাবির বুতাম ছিরা লামু আর কমু আমি না থাকলে তো এই দুইজন এর দেখাই হইত না। আই এম দা লিঙ্ক। আই এম দা ঘোটক পেলেন ভাই 😀

 

১৪৭/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুলাই ২৪, ২০১৫ । ১০.২৩ পি.এম

 

মৃত্যু চিন্তা আমার খুব একটা আসে না। ব্যাপারটা খুব ইন্টারেস্টিং লাগে। কি আছে ওইপার? বিশেষ কইরা জান্নাত জাহান্নাম ব্যাপারটা খুব ভাল্লাগে। জান্নাত এর সুযোগ সুবিধা শুইনা আপ্লুত হই। কি কি চামু তখন তার লিস্ট করতে ভাল্লাগে। আর জাহান্নাম এর শাস্তি এর কথা শুইনা আগে অনেক ভয় পাইতাম, আইডিয়াল স্কুল এ পড়ার সময়, এখন কেন জানি কিছু লাগে না। আচ্ছা দিব নে শাস্তি, পোড়াইব নে কি আর করা, এমন মনে হয়।

যারা জাহান্নাম আর মরতে একদিন হবে বইলা আমারে হেদায়াত করতে আসে তারা খুব হতাশ হয়। যদিও আমি সরাসরি তর্কে যাই না কখনো তাদের সাথে। আমি নাস্তিক না। আবার নিয়মিত নামাজ পড়া মুসলমান ও না। নামাজ না পড়লে আমার গিলটি লাগে। কিন্তু কারো কথায় নামাজ পরতেও চাই না। মন থেইকা আসলে তখন পড়তে চাই। মন এই ব্যাপারে খুবি সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট দিতাসে আমারে।

এই জীবনে মানুষ যা চাবে তার সবকিছু পাবে না এই ব্যাপারটা মাইনা নিতে কোন লজিক ছাড়াই কষ্ট হয় আমার। ক্যান পাবে না? একটু না হয় পাইলই। সব কিছু কেমন টাকা পয়সায় আইসা ঠেকে। টাকা নাই তাই ছেলেটা ফ্লাইং স্কুল এ ভর্তি হইতে পারবে না। টাকা নাই তাই মেয়েটা বাইরে পড়তে যাইতে পারবে না। ক্যান, টাকা আমাদের নিয়ন্ত্রন করবে ক্যান? আজকেও আমার বাপ আমারে বলসে, আমি ঘুরাঘুরি কইরা টাকা উড়াইতাসি। টাকা জমাই না ক্যান। টাকা জমায়া কি হবে আসলে? এইটা সবাই বুঝে, আমি বুঝি না ক্যান। সবাই কত জমায় টমায় ফালায়, ফ্ল্যাট গাড়ি, ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র কইরা ফালায়। আমার এগুলা আছে কিন্তু সবার মত বড় স্কেল এ নাই। আর আমি তাতে কোনো সমস্যাও নাই। কিন্তু আমি আজকে শুন্সি আমি একটা ব্যাক্কল, আমার সারাজীবন এম্নেই উড়নচন্ডি কাটবে, তারপর শেষ বয়সে ধুইকা ধুইকা যাবে। আচ্ছা কি আর করা, গেলই না হয়। আমি কোন প্রতিবাদ করি নাই। থাক। আব্বা তো, বলুক। কষ্ট লাগে আরকি তবু।

গতকাল ঢাকায় আসার পর থেইকা বাসাবো তেই আছি। আমি নেপাল থেইকা বাসার জন্য তেমন কিছু আনতে পারি নাই। টাকার জন্য না, কিছু আনার মত পাই নাই তাই। আম্মারে বলসি তোমাকে নিয়া যাবো নে, তখন যা কিনার কিন্নো। আমার বিদেশ থেইকা কেউ কিছু আনছে ব্যাপারটাই এত জোস লাগে। ছোটবেলায় বিদেশ থেইকা মামা রা ফিরতো আর তাদের স্যুটকেস খুলা বেপারটা একটা ঈদ এর মত বেপার সেপার ছিল। সবাই ঘিরা বসতো আর মামা একটা একটা কইরা জিনিষ বাইর কইরা দিয়া বলতো, এইটা তোমার জন্য, এইটা অমুকের জন্য এমন। আর সব কিছুতে কেমন বিদেশ বিদেশ গন্ধ। একেবারে গেদা কালের যেই অল্প কয়টা স্মৃতি মনে আছে তার মধ্যে একটা হইল মামার আনা বিদেশি জিনিষ পত্র আমি স্মেল নিতাসি একটা একটা কইরা অনেক্ষন।

স্পিকিং অফ অনেক্ষন, বিখ্যাত ছড়াকার অনিক্ষাণ কয়দিন আগে আমার জন্য বারথডে গিফট পাঠাইসেন। আমি যে কি অবাক হইসি। উনি আমেরিকা গেসিলেন যে সেইখানে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স এর জিনিষ্পত্র আমার জন্য আলাদা কইরা রাইখা দিসিলেন। আবার একটা মডেল প্লেন এর সেট ও দিসেন। সাথে একটা ছোট চিঠি। চিঠি পইড়া মন ভাল হয়া যায়। আর সব কিছু তে বিদেশ এর সেই গন্ধটা। আল্লাহ উনার হায়াত দারাজ করুক। উনি যখন আরো বিখ্যাত হয়া যাবে তখন আমি এই চিঠির ফটকপি বিক্রয় কইরা কুটিপুতি হয়া যামু। মু, হা, হা।

খুব কাছের লোকজন সবাই জানে যে ছোটবেলায় আমি খুব অল্প তেই কাইন্দা দিতাম। হয়তো বিদেশ থেইকা কোন আত্মীয় আসছে তাই আম্মা আব্বা গেসে দেখা করতে। আমি আম্মা কে ফিস ফিস কইরা জিজ্ঞেশ করলাম, আম্মা, আমার জন্য কি আনছে? আম্মা বলতো, চুপ থাক আদেখলা। ওদের বাসার জন্য আনছে। তোর জন্য আনবো ক্যারে? আমি ঠোট কাম্রায়া কোন মতে কান্দা সাম্লাইসিলাম। আর নাক টান্তে টান্তে আর লাল হয়া যাওয়া চোখ মুছতে মুছতে বাসায় ফিরার সময় মনে মনে ঠিক করসিলাম, একদিন আমিও বিদেশ যাবো। আর এক সুটকেশ ভর্তি খালি আমার জন্যি জিনিষ আনবো। আর বাইর কইরা কইরা নিজেরে দিব, এই নাও ইথার, এইটা তোমার, এই নাও ইথার ওইটা তোমার, এই নাও ইথার, সব তোমার।

দুনিয়া ভাইংগা কান্দা আসা ওই বেক্কল পিচ্চিটার জন্য কষ্ট লাগে প্রায় ই।

 

১৪৬/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুলাই ২৩, ২০১৫ । ১১.৩৬ পি.এম

 

আজকে ঢাকা শহর এ ফিরসি। সকাল বেলা হোটেল এর ফ্রি ব্রেকফাস্ট খায়া দায়া শেষ বারের মত থামেল এলাকায় হাটতে বাইর হইসিলাম। ইচ্ছা করতাসিল সব দুকানে ঢুইকা দুকান্দার এর লগে হাত মিলায়া বইলা আসি, অকে সি ইউ। তয় কইত্তে আইসে লুক দিব ভাইবা আর যাই নাই।

এর মধ্যে রাশা হঠাত স্পট করল আরে এতো মুস্তাফিজ। নেপালের একটা পত্রিকায় মুস্তাফিজ এর ছবি ছাপা হইসে আর কি কি জানি লিখসে হিবিজিবি। এত ভাল্লাগসে দেখতে। পেপারুলা রে বলসি, আই এম ফ্রম হিজ কান্ট্রি, বাংলাদেশ। পেপারুলা নির্লিপ্ত মুখে বলসে, ফাইভ রুপিজ। দুরু। আবেগ এর বেলুনে আলপিন এর গুতা।

হোটেল এ ফিরা দেখি আমাগো ইফ ইউ আর হেপি ড্রাইভার হারি দাড়ায়া দাড়ায়া কেলাইতাসে। আমরা ওরে এগারটায় আস্তে বলসিলাম, সে ঠিক এগারোটায় আইসা পরসে। জিনিষ পাতি সকালেই গুছায় থুইসিলাম। বিসমিল্লাহ কয়া রউনা দিয়া দিলাম এয়ারপোর্ট এ।

এয়ারপোর্ট এ আসলে আমি কেমন উত্তেজিত হয়া যাই সেইটা কেবল সাথে যারা থাকে তারা দেখসে। ঝরের বেগে চেকিন আর ইমিগ্রেশন শেষ কইরা এয়ারপোর্ট এর এপ্রোন এর দিকে মুখ করা জানালার লগে চিপকায় গেলাম। রাশা বেচারারে থুইয়াই আয়া পরসি। ওয় কইসে তুই ছবি তুল, আমি এট্টু হাইটা হুইটা দেখি এয়ারফুট্টা।

অনেক গুলা নতুন রেজিস্ট্রেশন পাইসি। কিছু এয়ারলাইন্স দেখসি যেগুলা একেবারেই নেপাল এর রিজিওনাল। বুদ্ধা এয়ার, ইয়েতি এয়ারলাইন্স এরম। আমরা যেইটা দিয়া দেশে আসুম সেই বাংলাদেশ বিমান এর বোয়িং 737-800 (এন জি) টা ল্যান্ড করল টাইম মতই। বিদেশের এয়ারপোর্ট এ বাংলাদেশের প্লেন দেখলে এত খুশি লাগে এইটা আগে বুঝি নাই। লাকিলি আজকে বিমান S2-AFM পাঠাইসে। আমরা যখন নেপাল আসি তখন পাথাইসিল S2-AFL. বিমান এর এই দুইটাই 737-800 আসে। আর আমি প্রাউডলি কইতে পারি, আমি দুইটাতেই উঠসি।

ফ্লাইট খুবি দুর্দান্ত ছিল, সিকিউরিটি রিজন এ সব কইতেও পারুম না, ছবিও পাব্লিশ করতে পারুম না। কিন্তু সারা জীবন গল্প করার মত অভিজ্ঞতা হইসে সব। আমরা যখন পদ্মা আর যমুনা নদীর সংযোগ স্থল জায়গা টা পার হইতাসিলাম তখন হঠাত ই একটা ডাবল রেইনবো পড়ল সামনে। ছবি তুলতে পারসি আলহামদুলিল্লাহ 🙂

আমরা যখন ঢাকায় ল্যান্ড করলাম, দেখলাম যে আমাদের ঠিক সামনে একটা বিমানের ট্রিপল সেভেন গেটে পার্ক করার জন্য আগাইতাসে। টাইম দেইখা বুঝলাম যে রিয়াদ ফ্লাইট। রাশা রে কইলাম আমরা যদি ট্রিপল সেভেন এর পেসেঞ্জার রা নামার আগে ইমিগ্রেশন এ যাইতে না পারি তইলে আমাগো বাইর হইতে খবর আসে। তাই নামা মাত্রই দৌড়াইতে দৌড়াইতে আয়া পরলাম ইমিগ্রেশন করতে।

ইমিগ্রেশন অফিসার গুলা দেখলাম ভালই আন্তরকিতা নিয়া কাজ করতাসে। কিন্তু তাদের সাপোর্টিং টুল গুলায় প্রব্লেম। কম্পিউটার হ্যাং করে, স্কেন মেশিন কাজ করে না ঠিক মত। উনারা নিজেরাও বিরক্ত। আমার পাস্পোর্ট স্ক্যান করতে চার বার এটেম্পট নিতে হইসে। রিয়াদ ফেরত এক ভাই চারপাশ খুবি অবাক হয়া দেখতাসিল। তার সামনে ক্লিয়ার হয়া গেসিল কিন্তু উনার খেয়াল নাই। ইমিগ্রেশন এর লোক্টা উনারে মজা কইরা বলল, কি ভাই, আমার সাথে রাগ করসেন? আমার কাছে আসবেন না? ভাল্লাগসে ব্যাপার টা।

এয়ারফুট থিকা বাইর হয়া বাসাবো আইসা পরসি। আম্মা এজ ইউজুয়াল আমারে খাওয়ায় খাওয়ায় ভোটকা বানায় ফালাইসে। লরতে চরতে পারতাসি না। আজকে কালকে আসি এইখানেই। রবিবার আবার পেলেন এ চইরা সিডাং যামু। ফেরদুইচ্চার বিয়া।

ইয়েই ফেরদুইচ্চার বিয়া লাগসে, ইইয়েই।

 

১৪৫/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুলাই ২২, ২০১৫ । ১১.৫৩ পি.এম

 

দিন টা হঠাত ইন্টারেস্টিং হয়া শেষ হইতাসে। মজা লাগতাসে অনেক। আমি রুম এ শুয়া শুয়া ফেবু গুতাইতাসিলাম। রাশা নিচে গেসিল হাটাহাটি করতে। হঠাত দেখি খাট দোল খায়। বুঝলাম ভুমিকম্প। আমি জানি রাশা নাই রুমে তারপরও ডাকা ডাকি শুরু করলাম রাশা রাশা এই রাশা। তারপর খেয়াল হইল, আরে অয় ত নাই। তারপর ভাব্লাম আচ্ছা এখন যদি নিচে যাই তাইলে তো রাশা আইসা খুজবে। এর চেয়ে থাকি। আর কি কি নিয়া নামুম চিন্তা করি। একটু পরে রাশা নিচে থেইকা ফোন দিল, অয় আসত না হাটফেল করসত? নিচে আয়।

নিচে গিয়া দেখি সবাই বইসা আসে লবি তে। বিদেশি আপারা ভয় পাইসে বেশ। কাপ্তাসিল পুরা হাত পা অগোর। আলাপ সালাপ করলাম। রাশা সবাইকে জিজ্ঞেস করল, যদি কখনো শুধু একটা জিনিশ নিয়া বাইর হইতে হয় তাইলে কি নিয়া বাইর হবেন? আমি এবং বিদেশি আপারা বলল, মোবাইল। আপারা রাশা রে জিজ্ঞেস করল, তুমি কি নিয়া বাইর হবা? রাশা বলসে আমি এক হাতে আমার ফেন্ডার গিটার আর আরেক হাতে আমার লেস পল গিটার নিয়া বাইর হব।

তারপর জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা যদি সেকেন্ড আর একটা জিনিষ নিয়া বাইর হইতে বলা হয়, তাইলে কি নিবা? আমি একটা নিরীহ সরল উত্তর দিলাম, “আমম, ফোন এর চার্জার নিয়া দৌড় দিমু?” আর সবাই ঘর কাপায়া হাইসা উঠল হুদাই। হাসা হাসির কারনে টেন্সড ভাইব টা অনেক কমল রুম এর। বাংলাদেশ মাত্র এক ঘন্টা বিশ মিনিট লাগে যাইতে শুইনা হেরা বেশ জেলাস হইল।

ভুমিকম্প টা ছিল ৫.১ রিক্টার স্কেল এর। আর এপিসেন্টারটা ছিল আমরা এখন যেখানে আসি তার থেইকা কাছেই, কাঠমান্ডু ভ্যালি তে। আমার ক্যান জানি ভয় লাগতাসে না কোনো। মজা লাগতাসে। আমার ঝড় এর সময় ও মজা লাগে। ঠাডা পরার সময়ও মজা লাগে। হোয়াটস রঙ উইথ মি।

আজকে উঠসি অনেক ভোর এ। পাচ টার সময়। কালকে রাত্রে নাগরকোট এ অনেক ঝড় বৃষ্টি হইসে। কারেন্ট ছিল না। জেনারেটর ও ছারে নাই। ওয়াই ফাই ও ছিল না। ভাবতেসিলাম যেহেতু রাত্রে বৃষ্টি হইসে, সকালে আকাশ পরীষ্কার থাকার কথা। হয়তো সান রাইজ দেখা যাইতেও পারে।

সান রাইজ দেখা যায় নাই। মেঘ ছিল অনেক। কিন্তু দিগন্তের একটা দিকে তাকায় পুরা ফ্রিজ হয়া গেলাম। পাহাড়ের চুড়া দেখা যাইতেসে। বিশাল বিশাল চুড়া। বরফ মাখা মাথা এক একটা। মাত্র পাচ মিনিট এর জন্য ছিল, তারপরি মেঘ আইসা গিল্লা ফেল্লো সব।

আজকে দুপুর এ কাঠমান্ডু তে আইসা পরসি। বিকালে হোটেল এর ছাদে গেসিলাম। যেদিকেই তাকাই দিগন্তে খালি পাহাড় আর পাহাড়। কি সুন্দর মাশাল্লাহ। পাহাড় গুলার দিকে তাকায় থাকলে দেখা যায় মেঘ গুলা কেমন ডাইভ দিয়া ডাইভ দিয়া পার হয়। কালকে ভোর এ উইঠা যাবো আবার ছাদ এ। যদি ছবি পাই দু একটা।

ব্যাগ বুগ আজকে আর গুছাইতে ইচ্ছা করতাসে না। কালকে ফ্লাইট এর আগে তারাহুরা কইরা গুছাবো নে। মজা হবে।

 

 

১৪৪/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুলাই ২২, ২০১৫ । ১.১০ পি.এম

 

[নেট ছিল না গতকাল। তাই গতকাল এর লেখা নোট আজকে পোস্ট করতে হইতাসে]

নাগরকোট এর ২য় দিন আজকে। দা ডে স্টারটেড এট ফাইভ এ এম টুডে। আমি আর রাশা গতকাল অনেক রাত পর্যন্ত উকুলেলে বাজাইসি। তাই ভাবসিলাম আজকে উঠতে দেরি হইব। কিন্তু না। আমি যখন চোখ খুললাম তখন ঘরের মধ্যে ঘুটঘুইট্টা অন্ধকার আর একটা আরাম আরাম ঠান্ডা।

আমার খাট এর পাশেই জানলা। আমি হাত টা বাড়ায়া পর্দা সরায় একটু উকি দিলাম বাইরে। দেখি অনেক নিচের ভ্যালি তে আর পাহাড়ের গায়ের গ্রাম গুলার আলো তখনো নিভে নাই। আমার মনে হইতেসিল, আকাশে তো মেঘ, তারা দেখা যাবে না। তাই আমাদের ক্ষতিপুরণ এর জন্য তারা গুলা নাইমা আসছে মাটিতেই।

ওয়েবসাইট বলসিল সান রাইজ সাড়ে পাচ টায়। আমি ছয়টার দিকে উইঠা আইসা চুপ চাপ বইসা থাকলাম বারান্দায়। খালি পা থাকায় পাথরের ফ্লোর এ পা রাখতে মজা লাগতেসিল। আকাশ আলো হওয়া শুরু হইসে তখন। দেখলাম কিভাবে আকাশের সিলিং এর আলোটা জালায় দিয়া পাহাড়ে দিন আসে। বইসা বইসা ঝিমানি আসতাসিল যখন তখন আমি রুমে গিয়া আবার ঘুমায় গেলাম।

দুই ঘন্টা পর উইঠা একটা এক ঘন্টা ব্যাপি খানা দিলাম। বাফে ব্রেকফাস্ট আসিল। আমি খাওয়া শুরু করার পর বেডারা ভয়ে বাফে অফ কইরা গেসে গা। আফসুস। আগের মত খাইতে পারি না।

খাওয়ার পর বিকট শব্দ কইরা ঢেউক উঠায়া রাশা রে কইলাম, দোস্ত আমরা বেশি আরাম কইরা লাইসি। টাইম টু বার্ন সাম কে’স। ল জাই। আমরা যেই পাহাড় টার উপ্রে আসি ওইটা থিকা নামার একটা ট্রেইল আসে। ওইডা দিয়া অর্ধেক রাস্তা নামনের পর বুঝলাম আর নামলে উইঠা আস্তে পারুম না আজকে। তাই ফিরতি পথ ধরলাম। আমাগো হোটেল পর্যন্ত আইতে আইতে জিব্লা বাইর হয়া গেল। এরুম কষ্ট উফ। ফিটনেস এর অবস্থা এত খারাপ আমার। ঢাকায় আইসা কিছু করতেই হইব এই ব্যাপারে।

লাঞ্চ এর জন্য আমরা পেচাইন্না পেচাইন্না রাস্তা ডা দিয়া নাইমা ছোট লোকালয় টায় আসলাম। চৌরাস্তার মোড় এ একটা ছোট রেস্টুরেন্ট ছিল। পুরা ফ্যামিলি মিল্লা চালায়। নাম “নাগরকোট ফুড হোম”। আমরা ফ্রাইড বাফেলো মমো আর মিক্সড চাউমিন অর্ডার দিয়া বইসা বইসা মানুষ দেখলাম।

এখানে প্রচুর বাইকার কাপল আসে। বৃষ্টির সময়ের জন্য জয়েন্ট রেইনকোট আছে। দুই জন মাথা গলায় দিয়া আরামে চলা ফেরা করা যায়। নাগোরকোট রে আমার বেশ একটা উইকেন্ড এস্কেপ মনে হইসে। কাঠমুন্ডু থেইকা দুই ঘন্টার ডিস্টেন্স। ফুড সস্তা। গ্রেট ভিউ। আমরা রোড সাইড ক্যাফে তে খাইতে খাইতে প্রতি মিনিট এ একটা কইরা বাইকার কাপল দেখসি। মেয়েটা কেমন চিপকায় থাকে ছেলেটার পিঠে। আমার অনেক হিংসা লাগতাসিল। ইচ্ছা করতাসিল দুই এক্টারে ঠেইল্লা রাস্তা থিকা পাহাড়ের ঢালে হালায়া দেই। কিন্তু রাশা বলসে “হপ ব্যাটা”।

লাঞ্চ এ একটা মজা হইসে। আমরা যেখানে খাইতে বসছি সেইখানে মুরগি শেষ হয়া গেসিল। এক মহিলা বাইর হয়া কি জানি কইল। একটা পিচ্চি বাইর হয়া একটা ইয়াব্বরো মোরগ এর পিছে দোউড়ানি শুরু করল। একটু পর আশে পাশের সব পিচ্চি নাইম্মা গেল মোরগ ধরতে। এই দুকান ওই দুকান এর চিপা দিয়া মোরগ দোউড়ায় আর সবাই পিছে পিছে দোউড়ায়। একটু পরে বিজয় অর্জন হইল। মোরগ ধইরা আইনা কাইটা কাউট্টা আমাদের চাউমিন এর লগে রাইন্ধা দিল। মিক্সড চাউমিন টা এত জোস কইরা রান্সে। চাউমিন এর ভাজে ভাজে চিকেন আর বাফেলোর মাংস। আর উপরে ডিম্ভাজি শ্রেড কইরা দিয়া দিসে। সাথে একদম ফ্রেশ টমেটো থেইকা তৈরি ঘরে বানানো টমেটো সস। ভাবতেই এখন মুবাইলের উপর দুই ফোটা লুল পইড়া গেল। স্লারপ্প স্লারপ্প।

খায়া দায়া হোটেল এ ফিরত আইসা আমাদের মনে অনেক রঙ লাগসে। আমরা উকুলেলে নিয়া হোটেল এর টেরেস এর কাঠের বেঞ্চ গুলায় বসছি। তারপর অনেক খন জ্যাম ট্যাম করসি। মুবাইল দিয়া ভিডুও করসি একটা। লাইন ভাল থাকলে আপ্লোডানির ট্রাই করুম।

সন্ধায় রুমে আইসা আর তেমন কিছু করার ছিল না। টিভি দেখার ট্রাই করলাম। নেপালি নাটক হইতাসিল একটা চ্যানেল এ। আমরা নিজেগো মত সেইটার বাংলা কইরা নিসি। নাইকা বলসে, “না কাঞ্চন না, আমি বাট্টু বলে তুমি আমাকে ছেরে ঝেও না” আর নায়ক বলসে ” আমি তোমাকে কোলে পিঠে কোরে মানুষ করতে পারভো না, তাই খুদাপেজ”

ডিনার টা ভাল ছিল আজকে। আমরা নেপালি থালি খাইসি। অনেক কিছু দ্যায়। আবার খাওয়ার পর মিষ্টান্ন এর ব্যাবস্থাও আছে। আমরা সব চাইটা পুইটা খায়া লাইসি। ওদের আর কষ্ট কইরা থালা বাসুন ধুইতে হইব না।

কালকে আমরা কাঠমান্ডু ফেরত যামু। আমাগো ড্রাইভার হারি রে ফুন্দিসিলাম। সে সব কথার শেষে বলে “ইফ ইউ আর হেপি”।

শুনেন কালকে আমাদের নিতে আসবেন।
-ইয়েস স্যার, ইফ ইউ আর হেপি।

ঠিক এগারোটার মধ্যে আশবেন।
– সিউর স্যার, ইফ ইউ আর হেপি।

আর শুনেন কালকে ২০০ রুপি কম নিবেন। আমরা তো পুরান কাস্টমার
– হে হে স্যার, ইফ ইউ আর হেপি, আই হেপি।

 

১৪৩/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুলাই ২০, ২০১৫ । ১০.১৩ পি.এম

 

নাগোরকোট এর হোটেল এর লবি তে বইসা বইসা এই নোট লিখতাসি। এখন রাত নয়টা বাজে। ঢাকার হিসাবে এখন মাত্র সন্ধ্যা শুরু, ঢাকার আমি বাসায় ফিরার কথা একবার ভাইবা আবার নাহ টাইম আসে ভাইবা ঘড়ির কথা ভুইলা গেসি। অথচ এইখানে মনে হইতাসে মধ্য রাত।

বাইরে বৃষ্টি হয় টিপ টিপ। আমরা একটু আগে ডিনার কইরা লবি তে আইসা চেগায়া গেসি। এই হোটেল ইট্টু বড়লোকি হুটেল তো, লবি তে ওয়াই ফাই ফ্রি কিন্তু রুমে ইউজ করলে টেকা দিতে হইব। আম্রাও কি কম চালু। আমরা হুটেল লবির সুফা রে খাট মনে কইরা হুইত্তা পরসি বিসমিল্লাহ বইলা। ফিরি ওয়াই ফাই উশুল কইরা ছারুম। রাশা রে কইসি মুবি ডাউনলোড মার, কি আছে দুনিয়ায় আর কি আছে নেপালে।

আমাদের কাঠমুন্ডু থেইকা রোউনা দেওয়ার কথা ছিল এগারুটায়। ওই ভাবেই গাড়ি ঠিক করা ছিল। আমরা হুটেলের ফিরি ব্রেকফাস্ট খায়া দায়া রুমে আইসা আরেকদফা গইরানির পর ফাইনালি যখন রউনা দিসি তখন ঘড়ি তে বাজে ১২ টা। ড্রাইভার এর নাম হারি। কিন্তু তার কুন কিছু তে কুনু তারা/হারি নাই। আর সে হাড়ির মত মুখ কইরাও রাখে না। কাঠমুন্ডু থিকা বাইর হয়া রাস্তায় একটা জায়গায় জ্যাম এর মত লাগসিল। সে “দেয়ার ইজ এনাদার ওয়ে” বইলা আমাদের আরেক দিক দিয়া ঘুরায় টুরায় নিয়া গেল। এই জন্য এক্সট্রা টেকা টুকা দেওয়া লাগে নাই।

আমার ডেস্টিনেশন এর চেয়ে জার্নি টা বেশি টানে। তাই আমি পুরা রাইড টা অনেক উপভোগ করসি। বাতাস অনেক পরিষ্কার আর আকাশ বেশী নীল। সবুজ রঙ টা আমাদের দেশ এর মতই কিন্তু আমাদের যেমন সবুজের শেড গুলা থোকা থোকা হয়া থাকে দিগন্তের এক এক জায়গায়, এইখানে ওই রকম না। এইখানে বর্ষা কাল বইলা একটা নতুন পাতার চকচকা সবুজ সব জায়গায় আর সেইটা পাহাড়ের ধাপে ধাপে উইঠা গেসে উপরে। যেসব জায়গায় মেঘের ছায়া পরসে অই জায়গা গুলা কেমন কাল তিলের মত হয়া থাকে। আবার তিল টা নরেও। কেমন সবুজ সমুদ্রে কাল ডিঙি লাগে তখন।

আমরা একটা এন্সিয়েন্ট সিটির মধ্যে দিয়া যাইতেসিলাম। জায়গাটার নাম ভক্তপুর। কাঠমুন্ডু তে ভুমিকম্পের তেমন এফেক্ট চোখে পরে নাই। কিন্তু এইখানে ভালই চোখে পরসে। আমার মনে হইতাসিল একটু আগে সিটি করপোরেশন এইখানে উচ্ছেদ অভিজান চালাইসে। এই বিল্ডিং এর একটু ভাংগা, আরেক্টার পুরাই ভাঙা, ইট এর স্রোত থাইমা আছে কোথাউ, এইরকম।

বেশি মজা লাগসে যখন আমরা পেচায় পেচায় পাহাড়ে উঠা শুরু করলাম। কল্পনা করতাসিলাম এইটা একটা ডিজনি মুভির পাহাড় আর আমরা একটা ধুয়া ছারতে ছারতে যাওয়া ট্রেন। সাদা ধুয়া ছারতে ছারতে কোন আইস্ক্রিম এর মত পেচায় পেচায় উঠতাসি। পাহাড়ের ঢালু তে দেখলাম স্টেপ স্টেপ করা আর ওইখানে ধান চাষ করসে লুকজন। রাশা বলসে এইগুলা বলে “টেরেসিং/Terracing”. ধান গাছের জন্য জইমা থাকা পানি লাগে। ঢালু থাকলে তো পানি জম্বে না। গড়ায়া নিচে যাবে গিয়া। সেউ জন্য এই শিষ্টেম। মাইন্সের কত বুদ্দি। পাহাড়, আকাশ, সবুজ আর পাহাড়ি রাস্তায় ইস্পিডে চলা গাড়ি… সব মিলায় আমার এত খুশি লাগতাসিল যে নিজেরে মনে হইতাসিল একটা কুত্তা যে কিনা জানলা দিয়া মাথা বাইর কইরা হা কইরা আসি আর আমার জিব্লা সিনামার নাইকার উড়নার মত উড়তাসে।

নাগোরকোট আইসা খুশি হয়া গেসি। হোটেল টা অনেক জোস। কাঠমুন্ডুর হোটেল এর মত ওইরম ফ্রেন্ডলি না, আর একটু কমার্শিয়াল ভাব সাব বেশি। কিন্তু রুমের বারান্দা দিয়া যত দূর চোখ যায় অনেক নিচে পাহাড় আর পাহাড়। আর মনে হয় হাত বাড়ায়া একটু লারাচারা করলে মেঘে লাইগা হাত ভিজ্জা যাবে।

সাড়ে তিনটার দিকে আমরা বাইর হইলাম আশ পাশ টা রেকি করতে আর সস্তায় খাই দাই করতে। ঢাল বায়া নাইমা একটা বাজার মত যায়গা আসে। ওইখানে খাই দাই আর ফ্রি ওয়াই ফাই আসে। যাইতে ত কিছু লাগে নাই কিন্তু উইঠা আইতে খবর।

রুমে আয়া এরুম ঘুম দিসি উইঠা দেহি আটটা বাজে। আমি আর রাশা ভাব্লাম গিয়া কিছু হাল্কা পাতি খায়া আসি। বাইরয়া দেখি বিষ্টি পরে তখন ও টিপ টিপ। কিন্তু কিছুদুর গিয়া দেখি এমুন ঘুটঘুইট্টা অন্ধকার। কিসসু দেহা যায় না। ডর লাগতাসিল অনেক। তাই আবার হোটেল এ আয়া নিচের কেফে তে হাল্কা খায়া এখন নোট লিখি লবি তে চাগায়া।

রিসিপশন এর বেডায় লুক দিতাসে। উঠায়া দিব কিনা কে জানে। তারাতারি পোস্ট মারি।

 

১৪২/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুলাই ১৯, ২০১৫ । ১১.৪৮ পি.এম

 

বিদেশ বইসা লেখা প্রথম নোট। আজকে স্থানীয় সময় বেলা দুইটা আর বাংলাদেশ সময় শুয়া দুইটায় আমরা নেপাল আয়া নামছি। জার্নি টা খুবি দুর্দান্ত ছিল। সিকিউরিটি রিজনে সব বলতে পারতাসি না তয় শুধু এইটুক বলতে পারি ককপিট থেইকা ভিউ টা খুবি মারাত্মক ছিল।

এয়ারপোর্ট এ বেশি টাইম লাগে নাই 🙁 আফসুস। আমি ভাবসিলাম আরেকটু থাকুম। আহা এয়ারফুট। ঠুশ ঠাশ সিল মাইরা ছাইরা দিসে। প্রি পেইড ট্যাক্সি দিয়া আইসা পরসি হোটেল এ। আমাগো হোটেল এর নাম হোটেল ফ্রেন্ডস হোম। ছোটখাট ছিমছাম হোটেল। ৫০% ডিস্কাউন্ট এ ট্রিপ এডভাইসর থেইকা বুকিং দিয়া আসছিলাম। বেশ ভাল ইউজার রেটিং পাওয়া হোটেল। নাথিং ফ্যান্সি কিন্তু ব্রেকফাস্ট ফ্রি, ওয়াই ফাই ফ্রি, আর কি লাগে।

রুমে আইসা এট্টু গইড়ায় টইড়ায় আমরা পাটি পাটি হা হা করতে বাইর হইলাম। এই এলাকার নাম “থামেল”। আমরা কুন ম্যাপ ট্যাপ এর ঝামেলায় যাই নাই। যেদিক মুঞ্চাইসে হাটা দিসি। আমি চাইতেসিলাম যাতে রাস্তা হারায় ফেলি। একটা অচেনা শহরে রাস্তা হারায় ফেলা বেপারটা কত থ্রিলিং হইত। কিন্তু হারাই নাই।

হাত্তে হাত্তে একদম গলি টলির ভিতরে ঢুইকা গেসিলাম। আমার কাসে খুবি শাখারিবাজার টাইপ লাগসে। ঘুইরা টুইরা একটা চত্তর মত জায়গায় আসলাম। কত রকম মানুষ। কিছু দেখতে ইন্ডিয়ান দের মত, কিছু বাংলাদেশি দের মত, কিছু চাইনিজ দের মত। গলি হইলেও সামনে যদি একটা গাড়ী ঘুরায় তাইলে আরেকটা গাড়ি হর্ন বাজায়া মাথা খারাপ কইরা ফালায় না। চুপ চাপ অপেক্ষা করে। এইটা ভাল্লাগসে।

আমরা গলির একটা দুকানে ঢুইকা মমো খাইলাম। ফ্রাইড মমো আর স্টীমড মমো। মজা লাগসে। দুই পেলেট খায়া লাইসি এক বসায়। তখন বাইরে ঝুম বৃষ্টি। খায়া বাইর হয়া দেখি বিষ্টি এট্টু কমসে। দুইজন দুই ছাতা লয়া আবার গলি ঘুরান্তিস দিলাম।

একটা জায়গা পার হউনের সময় কিছু লুকজন আয়া আমারে কইল ফিস ফিস কইরা কইল গুড গার্ল, গুড গার্ল। আমি তো খুশি হয়া গেসিলাম আবার কনফিউজড ও হইসিলাম। আমারে গুড গার্ল কইল কেরে। অনেক পরে বুঝসি ওরা আসলে কি কইতে চাইসিল। তউবা তউবা।

স্পিকিং অফ তউবা তউবা, নেপালে মদের দোকান অনেক। কিন্তু ড্রানক লুকজন দেখি নাই। আর কিছু জায়গায় দেখলাম “আন্ডারগ্রাউন্ড শো গার্লস”, “ড্যান্স বার” এগুলা লেখা। বাইরে দিয়া গেলে চিপা দিয়া রঙ বেরং এর লাইট দেখা যায় আর জোরে মিউজিক এর আওয়াজ পাওয়া যায়। যদিও ভিত্রে যাওয়ার সাহস হয় নাই।

আমাগো হুটেলে চা কফি কম্পলিমেন্টরি আর আনলিমিটেড। তাই বাইরে চা কফি না খায়া হুটেলে আবার আইসি ফিরি চা খাইতে। মসল্লা চা খায়া, আবার রুমে আয়া গইড়ানি। নয়ডা বাজে মনে হইল ডিনার খাইতে যাওয়া দরকার।

আমাদের হোটেল থেইকা যেখানে খাওয়া সাজেস্ট করসিল, ওইখানে গিয়া দেখি ওইটা খুবি ফ্যান্সি একটা রেস্টুরেন্ট আর ওইখানে ইউরোপিয়ান কুজিন পাওয়া যায়। নেপাল আয়া ইউরোপিয়ান কুজিন খাইব কুন বেক্কল এ। এইটা কক্সবাজার গিয়া কে এফ সি খাওয়ার মত একটা স্টুপিডিটি হইব। তাই আমরা একটা লোকাল হোটেল খুইজা বাইর করসি। বিশাল ঝাল দেওয়া মুরগি, আর ভাত ভাজি দিয়া খায়া দায়া আয়া পরসি আবার হুডেলে।

এই মুটামুটি নেপালে প্রথমদিন। কালকে আমরা নাগোরকোট যাবো। ওইখানে দুই দিন থাকার প্ল্যান।

 

১৪১/৩৬৫

লেখার তারিখঃ জুলাই ১৮, ২০১৫ । ১০.৪৮ পি.এম

সোওওওওওউ … ঈদ শেষ। হোয়াট এ বামার , হাহ? এত দিন ধইরা এত হাইপ, এত প্ল্যান, এত রুটিন চেঞ্জ, এত পিয়ার প্রেশার সব শেষ। ইউ নো, কল মি এ পেসিমিস্ট, কিন্তু আমার কাছে ঈদ একটা ওভার রেটেড থিং মনে হয়। একটা দিন এর জন্য কত কিসু। আর কানের কাছে ক্রমাগত পিড়িং পিড়িং বাজে ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। এই দিন খুশি হইতেই হবে। মাস্ট, না হইলে তুমি একটা ক্রিপ। আর বলা হয় ঈদ মানে সামথিং টু সেলিব্রেট। কিন্তু আমি খুইজাই পাই না হোয়াট ইজ দেয়ার টু সেলিব্রেট? আর রুজা রাখা লাগবে না, আর শেষ রাইতে উইঠা খাইতে হবে না, আর ঘুমের রুটিন উলটা পালটা হবে না? এই টা?

ছোট বেলায় যখন ঈদের দিন কান্তাম (কোনও বিশাল আবেগি কারণে না, হয়ত পইড়া গিয়া উষ্ঠা খাইসি অথবা নামাজ পরতে গিয়া আবেগে মুইত্তালছি আর বাবা সারা রাস্তা বকতে বকতে আনছে) আম্মা বলতো, আল্লাহ ইথু, ঈদের দিন কাঁদতে হয় না। আজকে আমি দেখসি আমার আম্মা ঈদের দিন কান্তাসে। আগের ঈদ এ আমার মৃত নানুর জন্য কানসিল, এই ঈদে আমার অস্ট্রেলিয়া চইলা যাওয়া বইনের জন্য কানসে। দ্যাট টেন ইয়ার ওল্ড মি, এখন আম্মা কে দেখলে হয় তো অবাক হয়া তাকাইয়া থাকতো। কি অদ্ভুত, কান্দে ক্যান?

আমি ঘুমাইতাসিলাম। সেহরি উঠতে হয় নাই, তাই আন্তনগর ট্রেন এর মত বিরতিহীন চলতাসিল ঘুমের গাড়ি। হঠাত কি জানি হইল, সব পরিষ্কার মনে নাই, আবছা আবছা মনে আসে , বাবা চিল্লাইতাসিল, এখনো ঘুম থেইকা উঠে নাই, জামাত শুরু হয়া যাইতাসে, আর আমি গোসল করতাসি, আর পাঞ্জাবি টাঞ্জাবি পইড়া বাবার পিছে পিছে জম্বির মত দৌড়াইতাসি।

মসজিদে গিয়া জায়নামাজ বিছাইয়া বসার পর আমার খেয়াল হইল, আমি আর বিছানায় নাই। একটা খালি মসজিদ এর প্রথম কাতারে আমি আর বাবা বইসা আসি। মসজিদ এর মুয়াজ্জিন হুজুর ঝারা মুছা করতাসে। আমি ঘড়ির দিকে তাকাইলাম , সকাল না থুক্কু ফ্রিকিং ভোর ছয়টা তের বাজে। আমি জানি যে ঈদের জামাত সারে সাতটায়। বাবার দিকে তাকাইলাম। বাবা খুবি লজ্জা লজ্জা গলায় বলল, পরে আসলে জায়গা পাইতাম না। একটা দীর্ঘশ্বাস ফালায়া আসে পাসে দেখতে থাকলাম। কি আর করব। রাগ তো করতে পারি না । বাবা তো।

নামাজ পড়ার ঘটনা এত ঘুরায় ফিরায় লেখার কারণ হইল, দ্যাট ওয়াজ প্রিটি মাচ মাই ঈদ। এরপর বাসায় আইসা খাটে উইঠা বসছি। হ্যাড এ লঙ রান অফ “হাউ আই মেট ইউর মাদার” সিজন নাইন। ফাইনালি অফিশিয়ালি আই হ্যাভ সিন অল দ্যা এপিসোডস। টেড মোজবির বউ টা কত জোস। আহা। কত কিছু শিখলাম এই সিরিজ টা থেইকা। কালকে থেইকা নতুন সিরিজ, গেম অফ থর্ন্স মে বি?

স্পিকিং অফ কালকে, আগামীকাল আমি আর মহান রাশা বাংলাদেশ বিমানে কইরা নেপাল যাইতাসি ইনশাল্লাহ। এখন পর্যন্ত জানি যে যেখানেই থাবো ওয়াই ফাই ইন্টারনেট থাকবে। কোন ট্র্যাকিং টুর না এইটা। আরামের টুর। আরাম করার টুর। দেখা যাক কি আছে কপালে। আই হোপ আমার ৩৬৫ প্রজেক্ট টা ওইখানে গিয়াও কন্টিনিউ করতে পারবো।