৬০/৩৬৫

লেখার তারিখঃ এপ্রিল ২৮, ২০১৫ । ১০.৪৬ পি.এম

আজকে লিখতে বসছি অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight) নিয়া। আমি এত এক্সাইটেড যে এখনো গুজ বাম্প হইতাসে। পুরা ব্যাপার টা নিয়া রিসার্চ করার পর আমার মনে হইসে আমি যদি টাইম লাইনের মত ডেট ধইরা ধইরা ঘটনার প্রগ্রেস লিখি তাইলে ব্যাপার টা ভাল মত ব্যাখ্যা করা যাবে। আর একটা লেখায় এত বিশাল ঘটনা লেখার ক্ষমতা আমার নাই । তাই আজকে প্রথম পর্ব আর আরেকদিন ২য় পর্ব লেখার প্ল্যান করসি।

এর আগের লেখা গুলায় বলসি যে ১৯৭০ এর নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ মেজরিটি আসন পাওয়ার পরও পাকিস্তানী সামরিক শাসক এবং ভুট্টো সহ অন্যান্য পশ্চিম পাকিস্তানী নেতাদের কারোই ইচ্ছা ছিল না বাঙ্গালি দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর এর। এদিকে দেশের মানুষও ক্রমেই ফুঁইসা উঠতাসিল এই অন্যায় এর বিরুদ্ধে। ২২শে ফেব্রুয়ারি প্রণীত অপারেশন ব্লিটজ (Operation Blitz) এর কথা আগের লেখায় বলসি। কিন্তু ঘটনা এত দ্রুত মোড় নিচ্ছিল যে পাকিস্তানী রা আরো হিংস্র একটা প্ল্যান এর দিকে আগায় যাচ্ছিল। যার নাম অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight).

১৫ মার্চ, ১৯৭১

সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবের সাথে আলোচনার জন্য ঢাকা আসেন। তার সফরসঙ্গী হন তার উচ্চ পদস্থ সামরিক সহকরমী রা

১৬ ও ১৭ মার্চ, ১৯৭১

ইয়াহিয়া এবং শেখ মুজিবের মধ্যে অফিসিয়াল মিটিং হয় ।
১৭ই মার্চ সন্ধ্যায় মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এই মিটিং এর রেজাল্ট জানতে লিউটেনেন্ট জেনারেল টিক্কা খান এর কাছে জান। টিক্কা খান তারে বলেন, “তুমি যা জান, আমি তত টুকুই জানি”। খাদিম হোসেন রাজা বলেন, “But sir, as a man on the spot, it is your right to know the progress of the discussion so that you don’t fall into any situation without any alert”। টিক্কা খান এর মনে হয় ঠিক ই তো। সে সন্ধ্যায়ই টিক্কা খান এর গাড়ি প্রেসিডেন্ট হাউজে প্রবেশ করে। জানা যায়, ইয়াহিয়া খান তাকে বলেন, “বেজন্মাটা (মুজিব) ঠিক মত আচরণ করছে না। তুমি তৈরি হউ ”। টিক্কা খান রাত দশটায় খাদিম হোসেন রাজা কে বলেন, “Khadim, Go Ahead”

১৮ই মার্চ, ১৯৭১

জিওসি’স অফিসে মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী আর মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা বসলেন খুব ভোরেই।অপারেশনের কোডনেম ঠিক করা হয়েছে অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight) । রাও ফরমান আলী নিজ হাতে ১৬ প্যারায় , ৫ পৃষ্ঠার একটি নীল কাগজের অফিস প্যাডে সামান্য একটি লিড পেন্সিল দিয়ে অপারেশনের খসড়া পরিকল্পনা তৈরী করলেন।

২০শে মার্চ, ১৯৭১

রাও ফরমান আলী অপারেশন সার্চলাইটের মূল উদ্দেশ্য আর পরিধি ঠিক করে দিলেন মেজর জেনারেল খাদিমকে। জেনারেল খাদিম এর মধ্যে ডিটেইলিং করেন। জেনারেল খাদিম ধরে নিলেন অপারেশনের শুরুতেই বাঙ্গালী মিলিটারী ইউনিটসমূহ অন্যান্য প্যারামিলিটারী ইউনিট সমূহের সাথে বিদ্রোহ করতে পারে, তাই তাদের যেকোন মূল্যে নিরস্ত্র অথবা দরকার হলে অপারেশন শুরুর আগেই নির্মূল করতে হবে। সেই সাথে রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করতে হবে প্রেসিডেন্টের সাথে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক চলাকালেই। খসরা পরিকল্পনা থেকে ডিটেইল সহ তৈরি হয় অপারেশনাল অর্ডার।

বিকালে ঢাকা সেনানিবাস এর ফ্ল্যাগ স্টাফ হাউজে অপারেশনাল অর্ডার টি চীফ অফ স্টাফ আব্দুল হামিদ খান এবং লিউট্যানেন্ট জেনারেল টিক্কা খান কে পড়ে শোনানো হয়। বেশ কিছুক্ষন আলোচনার পর জেনারেল হামিদ বাঙ্গালী ইউনিট সমূহকে নিরস্ত্র করবার পরিকল্পনা বাদ দিলেন, এর বদলে তাদের যথাসম্ভব নিস্ক্রিয় করে রাখবার আয়োজন করতে বললেন। আর প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ফোনে তার সাথে বৈঠক চলাকালে রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতারের পরিকল্পনা বাদ দিতে বললেন। ঠিক হল অপারেশনের শুরুতেই রাজনৈতিক নেতাদের যাকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখান থেকেই যতজনকে পারা যায় গ্রেফতার করতে হবে।

২০ – ২৫ মার্চ, ১৯৭১

পরিকল্পনা মোতাবেক ২৪ এবং ২৫ মার্চ জেনারেল হামিদ, জেনারেল মিঠঠা, কর্নেল সাদউদ্দীন এবং আরো অনেকে হেলিকপ্টারে করে নানা গ্যারিসনে গেলেন এবং অপারেশনে সংশ্লিষ্ট নানা কমান্ডারদের ব্রিফিং দিলেন এবং অন্যান্য পশ্চিম পাকিস্তানী অফিসারদের অপারেশন সম্পর্কে জানালেন। জেনারেল ফরমান যশোর সেনানিবাসে গেলেন। জেনারেল খাদিম কুমিল্লা আর চট্টগ্রাম সেনানিবাসে গেলেন অপারেশনের কোঅর্ডিনেশনের জন্য।

সম্পূর্ন গোপনীয়তা বজায় রাখা হল অপারেশন শুরুর আগ পর্যন্ত। কেবল মাত্র অল্প কিছু পশ্চিম পাকিস্তানী লেঃ কর্নেল পর্যায়ের কর্মকর্তা ২৫ তারিখের মধ্যে সম্পূর্ণ অথবা আংশিক পরিকল্পনা জানতে পারলেন কিন্তু তাও কেবলমাত্র জরূরী দরকার বোধ হলেই। যদিও অনেক বাঙ্গালী কর্মকর্তা সম্পূর্ণ পশ্চিম পাকিস্তানী সেনাকর্মকর্তাদের নিয়ে ব্রিফিং এর ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে পড়েন, কিন্তু ব্রিফিং রুমের ভেতরের কথা একবিন্দুও কেউ জানতে পারলেননা চূড়ান্ত আঘাত আসার আগ পর্যন্ত।

বঙ্গবন্ধু ২৪শে মার্চ তার সাথে দেখা করতে আসা প্রথম সারির নেতাদের সবার সাথেই আলাদা আলাদাভাবে সংক্ষেপে কথা সারেন এবং তাদের ঢাকার বাইরে সরে যেতে নির্দেশ দেন। এ থেকে অনুমান করা যায় উনি এ ব্যাপারে কিছুটা হলেও আঁচ করতে পেরেছিলেন। এছাড়াও গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার, যিনি বিমান বন্দরের ডিরেক্টর অপারেশন্স ছিলেন, উনার ভাষ্যমতে উনি ২৫শে মার্চ সন্ধ্যার দিকে একটি বিমানে ইয়াহিয়া খানকে পশ্চিম পাকিস্তান চলে যেতে দেখেন কেবল ২-৩ জন সহযাত্রী সহ। যা উনার বর্ননামতে উনি সেই তথ্য আওয়ামী লীগের কার্য্যালয়ে পৌছে দিয়েছিলেন। যা উনার কাছেও পৌছাবার কথা।

প্রথম পর্ব শেষ। আগামী পর্বে সমাপ্য।

তথ্য সূত্রঃ

বইঃ

বিট্রেয়াল অফ ইস্ট পাকিস্তান – এ এ কে নিয়াজী
ইস্ট পাকিস্তানঃ দ্যা এন্ড গেম- ব্রিগেডিয়ার রেহমান সিদ্দিকী
দ্যা ওয়ে ইট ওয়াজ – ব্রিগেডিয়ার জেড এ খান
বিহঙ্গের ডানা – মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া
ট্রিবিউট টু মিট্টি মাসুদ – ইকতেদার খান
উইটনেস টু সারেন্ডার – সিদ্দিক সালিক
এ নেশন্স শেম – ভাইস এডমিরাল আহসান
ম্যাসাকার- রবার্ট প্যাইন
ট্রাজেডি অফ এররস-ইস্ট পাকিস্তান ক্রাইসিস-(১৯৬৮-৭১)
বাংলাদেশ এট ওয়ার – জেঃ শফিউল্লাহ
এ টেল অফ মিলিয়ন্স- মেজর রফিকুল ইসলাম
এ কে খন্দকারের আত্মজীবনী
বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী

ইন্টারনেট

http://en.wikipedia.org/wiki/Operation_Searchlight
http://en.wikipedia.org/wiki/1971_Bangladesh_genocide
http://www.genocidebangladesh.org/
http://bangladeshcontinual.blogspot.com/2011/03/operation-searchlight-dark-night-of.html

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *